নিউইয়র্কে অর্ধেক ভাড়ায় বাস-সাবওয়েতে যাতায়াত, আরও ৩ লাখ ৪০ হাজার মানুষ পাবেন সুবিধা
নিউইয়র্ক শহরের স্বল্প আয়ের মানুষদের জীবনযাত্রার ব্যয় কমাতে এবং গণপরিবহনে যাতায়াতকে আরও সাশ্রয়ী করতে একটি নতুন আইন পাস করেছে নিউইয়র্ক সিটি কাউন্সিল। ‘ফেয়ার ফেয়ারস’ বা ন্যায্য ভাড়া কর্মসূচির অধীনে সাবওয়ে, বাস ও প্যারাট্রানজিটে অর্ধেক ভাড়ায় যাতায়াতের সুবিধা পেতে আবেদন প্রক্রিয়া আরও সহজ ও দ্রুত করতে এই বিলটি পাস করা হয়।
আগামী ২০২৭ অর্থবছরের বাজেটের অংশ হিসেবে স্পিকার জুলি মেনিন এবং সিটি কাউন্সিল এই কর্মসূচির ইতিহাসে সবচেয়ে বড় সম্প্রসারণের জন্য তহবিল নিশ্চিত করেছে। এর ফলে যোগ্যতার মাপকাঠি ফেডারেল দারিদ্র্যসীমার ১৫০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২০০ শতাংশে উন্নীত করা হয়েছে। নতুন এই সিদ্ধান্তের কারণে অতিরিক্ত ৩ লাখ ৪০ হাজার নিম্ন আয়ের বাসিন্দা অর্ধেক ভাড়ায় যাতায়াতের সুযোগ পাবেন। সব মিলিয়ে এখন শহরটির প্রায় ১৩ লাখ মানুষ এই সুবিধার আওতায় আসছেন।
বর্তমানে এই সুবিধার যোগ্য নিউইয়র্কবাসীদের মধ্যে মাত্র ৪০ শতাংশ এই কর্মসূচিতে যুক্ত রয়েছেন। সচেতনতার অভাব এবং আবেদন প্রক্রিয়ার জটিলতার কারণেই মূলত অংশগ্রহণের হার এত কম। এই হার বাড়াতেই কাউন্সিল মেম্বার ক্রিস্টাল হাডসন ‘ইন্ট্রোডাকশন ২৪৮-এ’ শীর্ষক বিলটি উত্থাপন করেন।
নতুন এই আইনের মাধ্যমে সোশ্যাল সার্ভিসেস কমিশনারকে একটি সহজ ও সাবলীল রেজিস্ট্রেশন ব্যবস্থা তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নতুন নিয়মে, যারা বর্তমানে ‘সাপ্লিমেন্টাল নিউট্রিশন অ্যাসিসট্যান্স প্রোগ্রাম’ (স্ন্যাপ) বা নগদ আর্থিক সহায়তা গ্রহণ করছেন, তারা সুবিধাটি নবায়নের সময় শুধু একটি বক্সে টিক চিহ্ন দিয়েই খুব সহজে ‘ফেয়ার ফেয়ারস’ কর্মসূচিতে যুক্ত হতে পারবেন।
এছাড়া যেসব যোগ্য ব্যক্তি এখনও এই কর্মসূচির বাইরে রয়েছেন, তাদের তথ্য সংগ্রহ করে সুবিধার কথা জানাতে নিউইয়র্ক স্টেট অফিস অব টেম্পোরারি ডিসঅ্যাবিলিটি অ্যাসিস্ট্যান্সসহ অন্যান্য সরকারি সংস্থার সঙ্গে সমন্বয়ের কথাও বিলে উল্লেখ করা হয়েছে।
সিটি কাউন্সিলের স্পিকার জুলি মেনিন বলেন, জীবনযাত্রার অতিরিক্ত ব্যয় শহরের সাধারণ মানুষকে বিপর্যস্ত করে তুলেছে, বিশেষ করে গণপরিবহনের খরচ শ্রমজীবী পরিবারগুলোর ওপর বড় একটি বোঝা। তিনি আরও জানান, নতুন এই আইনের মাধ্যমে আবেদন প্রক্রিয়া সহজ করা হবে, যাতে যোগ্য নিউইয়র্কবাসীরা নিজেদের পকেট খালি না করেই গণপরিবহনে যাতায়াত করতে পারেন।
অন্যদিকে, বিলটির প্রস্তাবক কাউন্সিল মেম্বার ক্রিস্টাল হাডসন বলেন, স্বয়ংক্রিয়ভাবে অন্তর্ভুক্তির এই উদ্যোগ একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ, যা মানুষের মূল্যবান সময় বাঁচাবে এবং সরকারি সেবাকে আরও জনবান্ধব করে তুলবে। বিলটিতে সুবিধাভোগীদের তালিকাভুক্তি ও ব্যবহার নিয়ে প্রতি বছর সিটি কাউন্সিলে প্রতিবেদন জমা দেওয়া এবং ভবিষ্যতে শহরের সব কল্যাণমূলক কর্মসূচিতে স্বয়ংক্রিয় তালিকাভুক্তির সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের জন্য একটি সমীক্ষা পরিচালনারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreফাস্ট ফুডের দুনিয়ায় ম্যাকডোনাল্ডস এক বিশ্বজোড়া নাম, যার শাখা রয়েছে ৪৫ হাজারের বেশি এবং প্রতিদিন প্রায় সাত কোটি মানুষ এখানে খাবার খান। এই বিশাল নেটওয়ার্কের মধ্যেই অসাধারণ এক সাফল্যের ইতিহাস গড়েছেন যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশি শাহাব হায়দার। প্রবাসজীবনের শুরুতে নতুন দেশে টিকে থাকার লড়াইয়ে অন্য অনেক অভিবাসীর মতো এই ম্যাকডোনাল্ডসেই সাধারণ একজন কর্মী হিসেবে যোগ দিয়েছিলেন তিনি। আর আজ দীর্ঘ পথপরিক্রমায় তিনি ও তার মেয়ে ইয়াসমিন হায়দার যুক্তরাষ্ট্রে ১৭টি ম্যাকডোনাল্ডস রেস্টুরেন্টের গর্বিত মালিক ও পরিচালক। একসময় যেখানে তিনি নিজেই চাকরির জন্য ঢুকেছিলেন, বর্তমানে তাদের সেই সুবিশাল ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে কর্মসংস্থান হয়েছে ৭৫০ জনেরও বেশি মানুষের। বাংলাদেশ থেকে প্রায় সাত হাজার মাইল পাড়ি দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমানো শাহাবের এই অভাবনীয় উত্থানের গল্প ম্যাকডোনাল্ডস তাদের ‘গোল্ডেন অপরচুনিটিজ’ বা সোনালি সুযোগ শীর্ষক প্রচারণায়ও বিশেষভাবে তুলে ধরেছে। সাফল্যের এই চূড়ায় পৌঁছানোর পথটি মোটেও সহজ ছিল না, এর পেছনে রয়েছে বছরের পর বছর ধরে নিরলস পরিশ্রম। টানা সাত বছর ম্যাকডোনাল্ডসে কর্মী হিসেবে কাজ করার সুবাদে তিনি একটি রেস্টুরেন্টের ভেতরের খুঁটিনাটি সবকিছু গভীরভাবে রপ্ত করেছিলেন। গ্রাহকসেবা থেকে শুরু করে খাবারের মান, পরিচ্ছন্নতা এবং কর্মীদের সমন্বয়—সবকিছুই ছিল তার প্রতিদিনের কাজের অংশ। চাকরিটিকে কেবল জীবিকা উপার্জনের মাধ্যম হিসেবে না দেখে, তিনি একে রেস্টুরেন্ট ব্যবসা শেখার সবচেয়ে বড় স্কুল হিসেবে কাজে লাগিয়েছিলেন। একপর্যায়ে তার জীবনের সবচেয়ে বড় মোড়টি আসে, যখন তার সামনে রেস্টুরেন্ট মালিক হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়। ‘হায়দার ইনভেস্টমেন্টস’ নামে নিজের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তুলে মিনেসোটার ক্রিস্টাল শহরে প্রথম ম্যাকডোনাল্ডস রেস্টুরেন্টটি চালু করেন তিনি। পূর্ব অভিজ্ঞতার কারণে প্রথম ব্যবসাটি সফলভাবে দাঁড় করাতে তার খুব একটা বেগ পেতে হয়নি। এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি শাহাবকে। ক্রিস্টাল শহর থেকে শুরু হওয়া এই ব্যবসা ধীরে ধীরে মিনিয়াপোলিস-সেন্ট পলসহ টুইন সিটিজের বিভিন্ন এলাকায়, যেমন ম্যাপল গ্রোভ ও ব্রুকলিন পার্কে ছড়িয়ে পড়ে। একটি-দুটি করে বাড়তে বাড়তে ২০২০ সাল নাগাদ তার পরিচালিত রেস্টুরেন্টের সংখ্যা ১৭টিতে গিয়ে দাঁড়ায়। বাবার দেখানো এই সফলতার পথে পরবর্তীতে যুক্ত হন মেয়ে ইয়াসমিন হায়দার। ২০১৩ সালে মাত্র দুটি রেস্টুরেন্ট নিয়ে ব্যবসা শুরু করে ইয়াসমিনও নিজেকে সফলভাবে প্রতিষ্ঠিত করেন। শাহাবকে যেখানে একদম শূন্য থেকে শুরু করতে হয়েছিল, সেখানে ইয়াসমিনের জন্য বাবার দীর্ঘ অভিজ্ঞতা ও গড়ে তোলা শক্ত ভিত্তি বড় একটি সুবিধা হিসেবে কাজ করেছে। প্রবাসজীবনে অনেককেই যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে সাধারণ কাজ দিয়ে জীবন শুরু করতে হয়। কিন্তু সেই প্রথম কাজটাই যে কারও জীবনের শেষ পরিচয় হতে পারে না, সততা ও পরিশ্রম দিয়ে যে নিজের ভাগ্য সম্পূর্ণ বদলে দেওয়া যায়—শাহাব হায়দারের এই অবিশ্বাস্য উত্থান তারই এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
নিউইয়র্কে ডিজেল বাসের বদলে রাস্তায় বৈদ্যুতিক স্কুল বাস, ৯ মিলিয়ন ডলারের উদ্যোগ
নিউইয়র্কে অর্ধেক ভাড়ায় বাস-সাবওয়েতে যাতায়াত, আরও ৩ লাখ ৪০ হাজার মানুষ পাবেন সুবিধা
আইসিই’র নির্বিচার গ্রেপ্তার ঠেকাতে মার্কিন সিনেটে নতুন বিল প্রস্তাব
যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব উইসকনসিন-ম্যাডিসনের (ইউডব্লিউ-ম্যাডিসন) একটি ছাত্র সংগঠনের বেসমেন্ট থেকে ভয়ংকর র্যাগিং বা 'হেজিং'-এর শিকার অন্তত ৩০ জন তরুণকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। 'আলফা এপসিলন পাই' নামের ওই ফ্র্যাটার্নিটির আস্তানায় অভিযান চালিয়ে তাদের অর্ধনগ্ন ও জখম অবস্থায় পাওয়া যায়। তবে সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য হলো, এই সংগঠনটিকে এক দশক আগেই বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস থেকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছিল। মূলত একগুচ্ছ নিয়মভঙ্গ এবং বেপরোয়া আচরণের কারণেই তাদের বিরুদ্ধে ওই কঠোর ব্যবস্থা নিয়েছিল বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। বিশ্ববিদ্যালয়ের রেকর্ড অনুযায়ী, ২০১৩ সালে এই ফ্র্যাটার্নিটির একটি পার্টিতে মাত্রাতিরিক্ত মদ্যপানের কারণে ১৭ বছর বয়সী এক কিশোরসহ দুজনকে জরুরি ভিত্তিতে হাসপাতালে নিয়ে ‘ডিটক্স’ বা বিষমুক্ত করতে হয়েছিল। এই গুরুতর ঘটনার পর ইউডব্লিউ-ম্যাডিসন কর্তৃপক্ষ সংগঠনটিকে নজরদারিতে বা প্রবেশনে রাখে। কিন্তু নজরদারিতে থাকা অবস্থায় এবং মদ পানের ওপর নিষেধাজ্ঞা থাকার পরও তারা অন্তত চারবার একই ধরনের অপরাধমূলক ও নিয়মবহির্ভূত কাজে জড়িয়ে পড়ে। বারংবার নিয়ম ভাঙার কারণে অবশেষে ২০১৫ সালে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আলফা এপসিলন পাই-এর সঙ্গে সব ধরনের সম্পর্ক ছিন্ন করে তাদের আনুষ্ঠানিকভাবে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। তা সত্ত্বেও, জাতীয় পর্যায়ের অনুমোদনের সুযোগ নিয়ে তারা ক্যাম্পাসের বাইরে নিজেদের কার্যক্রম চালিয়ে আসছিল। সবশেষ গত বুধবার রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ম্যাডিসন পুলিশ ওই ফ্র্যাটার্নিটির একটি বাড়িতে অভিযান চালায়। পুলিশ জানায়, বাড়িটির নোংরা ও ৮১ ডিগ্রি ফারেনহাইটের চরম উত্তপ্ত একটি বেসমেন্ট থেকে ওই ৩০ জন তরুণকে (যাদের বেশিরভাগের বয়স ১৮ বছর) উদ্ধার করা হয়। তাদের গায়ে খাবার, সস এবং অন্যান্য তরল পদার্থ মাখানো ছিল এবং অনেকের শরীরেই শারীরিক নির্যাতনের স্পষ্ট ক্ষতচিহ্ন পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় অবৈধভাবে র্যাগিং পরিচালনা এবং বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগে ফ্র্যাটার্নিটির ২০ বছর বয়সী সভাপতি এবং সহ-সভাপতিকে গ্রেপ্তার করে ডেন কাউন্টি জেলে পাঠানো হয়েছে। নিষিদ্ধ হওয়ার পরও কীভাবে এমন একটি সংগঠন এত বছর ধরে শিক্ষার্থীদের ওপর নির্যাতন চালিয়ে আসছিল, তা নিয়ে বর্তমানে তীব্র সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রে ভিসা করিয়ে দেওয়ার নামে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ, আইনজীবী গ্রেপ্তার
যুক্তরাষ্ট্রে এফবিআই সার্ভার হ্যাক, ৩৮ হাজার কর্মীর তথ্য চুরির দাবি হ্যাকারদের
যুক্তরাষ্ট্রে এইচ-১বি ভিসায় ১ লাখ ৩ হাজার ডলারের ফি, ট্রাম্পের প্রস্তাবে আপত্তি টেক জায়ান্টদের
যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই) বন্দি আটকে রাখার ধারণক্ষমতা দ্রুত বাড়ানোর তাড়াহুড়োয় লাখ লাখ ডলার করদাতার অর্থ অপচয় করেছে। সরকারি পর্যবেক্ষক সংস্থা ‘গভর্নমেন্ট অ্যাকাউন্টেবিলিটি অফিস’ (জিএও)-এর প্রকাশিত এক নতুন প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের গণ-বহিষ্কার নীতি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আইসিই দীর্ঘমেয়াদি ব্যয়ের হিসাব ছাড়াই একের পর এক ডিটেনশন সেন্টার বা বন্দিশালা কিনেছে। এমনকি যেসব ওয়্যারহাউস বা গুদামঘর তারা আর ব্যবহার করবে না বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, সেগুলো কিনতেও তাদের অন্তত ২ কোটি (২০ মিলিয়ন) ডলার লোকসান হয়েছে। ফেডারেল ব্যয়ের রেকর্ড অনুযায়ী, জানুয়ারির এক দিনেই আইসিই এত বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় করেছে যা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের দুই মেয়াদের অন্য কোনো দিনেই দেখা যায়নি। হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের এক মুখপাত্র জানান, বন্দিশালা অধিগ্রহণের জন্য আইসিই শুরুতে ‘শিকাগো টাইটেল ইন্স্যুরেন্স’-এর মাধ্যমে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার অগ্রিম প্রদান করে। পরবর্তীতে মাত্র দুই মাসের মধ্যে আইসিই ১.০৭ বিলিয়ন ডলার খরচ করে ১১টি গুদামঘর কেনে, যার মধ্যে ৭টিই এখন তারা বিক্রি করে দেওয়ার পরিকল্পনা করছে। গুদামঘরের পরিকল্পনা বাদ দেওয়ার পর জুলাই ও আগস্ট মাসে আইসিই শিকাগো টাইটেল থেকে ২.২ বিলিয়ন ডলার সরিয়ে নিয়ে বেসরকারি কারা পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান ‘কোরসিভিক’-এর কাছ থেকে চারটি ডিটেনশন সেন্টার ক্রয় করে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ‘ওয়ান বিগ বিউটিফুল বিল অ্যাক্ট’-এর মাধ্যমে কংগ্রেস আইসিই-কে ৭৫ বিলিয়ন ডলারের বিশাল তহবিল প্রদান করে, যার মধ্যে ৪৫ বিলিয়ন ডলারই বরাদ্দ ছিল ডিটেনশন সেন্টারের ধারণক্ষমতা বাড়ানোর জন্য। এই বিপুল অর্থ হাতে পাওয়ার পর আইসিই তাদের ব্যয় প্রায় দ্বিগুণ করে ফেলেছে। সিবিএস নিউজের বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত বছরের অক্টোবর থেকে এই বছরের জুলাই পর্যন্ত সংস্থাটি ১৯ বিলিয়ন ডলার ব্যয় করেছে, যা এর আগের পুরো অর্থবছরের ১১ বিলিয়ন ডলারের চেয়ে অনেক বেশি। প্রচলিত বাজেট পাসের প্রক্রিয়ার বাইরে গিয়ে এমন বিশাল তহবিল পাওয়ার কারণে কংগ্রেসের নিয়মিত নজরদারি এড়িয়ে আইসিই ইচ্ছেমতো অর্থ খরচের সুযোগ পেয়েছে বলে বাজেট বিশ্লেষকরা মনে করছেন। অপচয়ের মাত্রা কেবল গুদামঘর বা কোরসিভিকের চুক্তিতেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। জিএও-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফিমার (FEMA) মাধ্যমে আইসিই ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যকে তাদের দুটি ডিটেনশন সেন্টারের জন্য স্বাভাবিকের চেয়ে প্রায় তিনগুণ বেশি অর্থ প্রদান করেছে। এছাড়াও, এল পাসোতে সামরিক ঘাঁটিতে ডিটেনশন সেন্টার তৈরির এক পরিত্যক্ত উদ্যোগে এমন সব খাবারের পেছনে ৭.১ মিলিয়ন ডলার ব্যয় করা হয়েছে, যার কোনো প্রয়োজনই ছিল না। এমনকি গুয়ানতানামো বে-তে ৩০,০০০ বন্দি রাখার জন্য ২.৮৫ মিলিয়ন ডলার ব্যয়ে তাঁবু স্থাপন করা হলেও, সেখানে হাতেগোনা মাত্র কয়েকজন বন্দিকে রাখা হয়েছিল। সার্বিক পরিস্থিতিতে জিএও জানিয়েছে যে, এই বিপুল আর্থিক অপচয় রোধে আইসিই-এর অবিলম্বে একটি সুনির্দিষ্ট ও কৌশলগত পরিকল্পনা গ্রহণ করা একান্ত প্রয়োজন।
নিউইয়র্কে সোনা খুঁজতে ম্যানহোলে নেমেছিলেন দুই ভেনেজুয়েলান, ভাগ্যে জুটল পুলিশের হা তকড়া
যুক্তরাষ্ট্রে আইনি লড়াইয়ে ধাক্কা, পেন্টাগনের কালো তালিকা থেকে বেরোতে পারল না অ্যানথ্রপিক