আমেরিকা

মেডিকেয়ার–মেডিকেইডে অপ্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও বিলিং: বাংলাদেশি কমিউনিটির জন্য যা জানা জরুরি

বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ: জুন ২৬, ২০২৬ ১৪:১২
ছবি: এআই-নির্মিত প্রতীকী ছবি
ছবি: এআই-নির্মিত প্রতীকী ছবি

যুক্তরাষ্ট্রে সম্প্রতি মেডিকেয়ার ও মেডিকেইড কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে একের পর এক বড় জালিয়াতির ঘটনা প্রকাশ্যে আসছে। ফেডারেল তদন্তে বিভিন্ন চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান, হোম হেলথ এজেন্সি, থেরাপি সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান এবং স্বাস্থ্যসেবা সংশ্লিষ্ট কিছু প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অপ্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেখিয়ে বা অতিরঞ্জিত বিল জমা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এসব ঘটনার পর স্বাস্থ্যসেবা খাতে স্বচ্ছতা এবং রোগীদের সচেতনতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে!

 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মিশিগানে বাস করেন বাংলাদেশি চিকিৎসক বলেন, এ ধরনের অনিয়মের সবচেয়ে বড় কারণগুলোর একটি হলো অনেক রোগীই বুঝতে পারেন না তাদের নামে কী ধরনের চিকিৎসা বা সেবা দেখিয়ে মেডিকেয়ার কিংবা মেডিকেইডে বিল পাঠানো হচ্ছে। যেহেতু অধিকাংশ ক্ষেত্রেই রোগীকে সরাসরি কোনো অর্থ পরিশোধ করতে হয় না, তাই অনেকেই বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে যাচাই করেন না। অথচ প্রতিটি বিল শেষ পর্যন্ত সরকারি তহবিল থেকে পরিশোধ করা হয়, যা মূলত করদাতাদের অর্থ।

 

সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন তদন্তে উঠে এসেছে, কিছু অসাধু প্রতিষ্ঠান চিকিৎসাগতভাবে প্রয়োজনীয় নয় এমন পরীক্ষা-নিরীক্ষা, থেরাপি বা হোম হেলথ সেবা দীর্ঘদিন চালিয়ে যাওয়ার মাধ্যমে সরকারি স্বাস্থ্যবীমা কর্মসূচিতে বড় অঙ্কের বিল জমা দিয়েছে। যদিও সব চিকিৎসক, নার্স, থেরাপিস্ট বা হোম হেলথ প্রতিষ্ঠান এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত নয়, তবুও কিছু অসাধু চক্র পুরো ব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থা নষ্ট করছে।

 

উদাহরণ হিসেবে ধরা যাক, একজন রোগীর সামান্য আঘাত বা পায়ে মচকানোর মতো সমস্যার জন্য সীমিত চিকিৎসাই যথেষ্ট হতে পারে। কিন্তু যদি দীর্ঘ সময় ধরে বাড়িতে বিভিন্ন ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা, মূল্যায়ন বা থেরাপি প্রদান করা হয়, তাহলে রোগীর অধিকার রয়েছে জানতে চাওয়ার—এসব সেবা কেন প্রয়োজন, কে অনুমোদন দিয়েছেন এবং তার নামে ঠিক কত অর্থের বিল সরকারি বীমা কর্মসূচিতে পাঠানো হচ্ছে।

 

একইভাবে হোম হেলথ বা পুনর্বাসনমূলক থেরাপির ক্ষেত্রেও রোগী ও পরিবারের সদস্যদের সতর্ক থাকা জরুরি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চিকিৎসার প্রয়োজন শেষ হওয়ার পরও যদি মাসের পর মাস একই ধরনের সেবা চলতে থাকে, তাহলে রোগীর উচিত চিকিৎসক বা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কাছে এর যৌক্তিকতা জানতে চাওয়া। অনেক সময় রোগী না বুঝেই এমন কাগজপত্রে স্বাক্ষর করেন, যার মাধ্যমে তার নামে বিভিন্ন সেবার বিল করা সম্ভব হয়।

 

বিশেষ করে বাংলাদেশি অভিবাসী কমিউনিটির অনেক প্রবীণ ব্যক্তি ভাষাগত সীমাবদ্ধতার কারণে চিকিৎসা সংক্রান্ত নথিপত্র পুরোপুরি বুঝতে পারেন না। এ সুযোগে কেউ যেন তাদের নামে অপ্রয়োজনীয় সেবা দেখিয়ে বিল করতে না পারে, সে বিষয়ে পরিবারকেও সচেতন থাকতে হবে।

 

মিশিগানে থাকেন বাংলাদেশি সেই চিকিৎসক পরামর্শ দিয়ে বলেন, চিকিৎসা গ্রহণের আগে ও পরে নিজের চিকিৎসা পরিকল্পনা সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা রাখা, অপ্রয়োজনীয় মনে হলে প্রশ্ন করা এবং নিয়মিত মেডিকেয়ার বা মেডিকেইডের বিলিং বিবরণ পর্যালোচনা করা উচিত। যদি এমন কোনো সেবা বা চিকিৎসার বিল দেখা যায় যা রোগী বাস্তবে গ্রহণ করেননি, তাহলে দ্রুত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো প্রয়োজন।

 

মেডিকেয়ার ও মেডিকেইডের অর্থ কোনো ব্যক্তিগত প্রতিষ্ঠানের নয়; এটি জনগণের করের অর্থ। তাই অপ্রয়োজনীয় চিকিৎসা, অতিরঞ্জিত বিলিং বা প্রতারণামূলক দাবি শুধু সরকারের আর্থিক ক্ষতিই করে না, বরং পুরো স্বাস্থ্যব্যবস্থার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে এবং প্রকৃত রোগীদের জন্য বরাদ্দকৃত সম্পদের ওপরও চাপ সৃষ্টি করে।

 

সচেতনতা, প্রশ্ন করার মানসিকতা এবং নিজের চিকিৎসা-সংক্রান্ত তথ্য নিয়মিত যাচাই করার অভ্যাসই পারে এ ধরনের অনিয়ম প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার ভুয়া দাবি করে অনুদান সংগ্রহের অভিযোগে গ্রেপ্তার ফ্লোরিডার এক নারী। ছবি: সংগৃহীত
ক্যানসারের রোগী সেজে ২০০ জনের বেশি মানুষের কাছ থেকে ৪০ হাজার ডলার হাতিয়ে নিলেন ফ্লোরিডার এক নারী

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার ভুয়া গল্প সাজিয়ে ২০০ জনের বেশি মানুষের কাছ থেকে ৪০ হাজার ডলারেরও বেশি অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে এক নারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তদন্তকারীদের দাবি, অনুদান হিসেবে পাওয়া এই অর্থ তিনি চিকিৎসার জন্য নয়, ব্যক্তিগত ঋণ পরিশোধে ব্যবহার করেছেন।   ফ্লোরিডার কলিয়ার কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় (CCSO) জানিয়েছে, অভিযুক্তের নাম মারিবেথ এলেন জোনস (৫১)। তিনি বোনিটা স্প্রিংসের বাসিন্দা এবং একটি আবাসিক কমিউনিটিতে কার্যক্রম পরিচালকের দায়িত্বে ছিলেন।   তদন্তে জানা গেছে, ২০২২ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে তিনি বাসিন্দাদের কাছে দাবি করেন যে তিনি ক্যানসারে আক্রান্ত। অভিযোগ রয়েছে, বিশ্বাসযোগ্যতা তৈরি করতে তিনি নিজের চুল কেটে ফেলেন, যাতে দেখে মনে হয় তিনি কেমোথেরাপির প্রস্তুতি নিচ্ছেন। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নিজের শারীরিক অবস্থাও আরও খারাপ হচ্ছে বলে বিভিন্ন মানুষকে জানাতেন।   তার এই দাবিতে সহানুভূতিশীল হয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা তার জন্য একটি গুফান্ডমি (GoFundMe) তহবিল সংগ্রহ অভিযান চালু করেন। ওই অনলাইন তহবিলের অর্থ সরাসরি তার ব্যক্তিগত ব্যাংক হিসাবে জমা হতো। এর বাইরে অনেকেই তাকে নগদ অর্থ ও ব্যক্তিগত চেকের মাধ্যমেও আর্থিক সহায়তা দেন।   তদন্তে আরও বেরিয়ে আসে, এটিই প্রথম নয়। এর আগেও ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার একই দাবি করে অন্তত দুটি পৃথক গুফান্ডমি প্রচারণার সুবিধাভোগী ছিলেন তিনি। তদন্তকারীদের ভাষ্য, চিকিৎসা ব্যয়ের নামে সংগ্রহ করা অর্থের কোনো অংশই ক্যানসারের চিকিৎসায় ব্যবহার করা হয়নি। বরং তিনি ব্যক্তিগত ঋণ ও অন্যান্য দেনা পরিশোধে সেই অর্থ ব্যয় করেছেন।   কলিয়ার কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এভাবে নেপলস এলাকার অন্তত ২৩৮ জন বাসিন্দার কাছ থেকে ৪০ হাজার ডলারের বেশি অর্থ প্রতারণার মাধ্যমে হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে।   তদন্ত শেষে আদালত থেকে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হলে চলতি সপ্তাহে মারিবেথ এলেন জোনস নিজেই নেপলস জেল সেন্টারে আত্মসমর্পণ করেন। তার বিরুদ্ধে ২০ হাজার থেকে ১ লাখ ডলারের মধ্যে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে গুরুতর চুরির (গ্র্যান্ড থেফট) মামলা করা হয়েছে, যা ফ্লোরিডা আইনে দ্বিতীয় ডিগ্রির গুরুতর অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হয়।   তবে তিনি আইনজীবী নিয়োগ করেছেন কি না বা আদালতে তার প্রথম শুনানি কবে হবে, সে বিষয়ে এখনো কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি কর্তৃপক্ষ। কলিয়ার কাউন্টির শেরিফ কেভিন রামবস্ক বলেন, "এটি অত্যন্ত নিন্দনীয় একটি ঘটনা। কারণ মানুষ আন্তরিকভাবে বিশ্বাস করেছিল, একজন জীবন-মৃত্যুর লড়াইয়ে থাকা মানুষকে তারা সাহায্য করছে। সেই মানবিকতাকেই কাজে লাগিয়ে প্রতারণা করা হয়েছে।"   তিনি আরও বলেন, "এ ধরনের প্রতারণা শুধু আর্থিক ক্ষতিই করে না, প্রকৃত অসুস্থ মানুষের জন্য পরিচালিত বৈধ তহবিল সংগ্রহ কার্যক্রমের ওপরও মানুষের আস্থা নষ্ট করে।" এদিকে অনলাইন তহবিল সংগ্রহকারী প্রতিষ্ঠান গুফান্ডমি জানিয়েছে, তাদের প্ল্যাটফর্মে প্রতারণার কোনো স্থান নেই। মারিবেথ জোনসের নামে পরিচালিত সব তহবিল সংগ্রহ কার্যক্রম সরিয়ে ফেলা হয়েছে এবং ভবিষ্যতে তার নামে কোনো তহবিল সংগ্রহের সুযোগও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।   প্রতিষ্ঠানটি আরও জানায়, তাদের 'গিভিং গ্যারান্টি' কর্মসূচির আওতায় অনুদানদাতাদের ৪১ হাজার ডলারের বেশি অর্থ ফেরত দেওয়া হয়েছে।   এ ঘটনার পর অনলাইনে অনুদান দেওয়ার আগে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে কলিয়ার কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়। কর্তৃপক্ষ বলছে, অনুদান দেওয়ার আগে ঘটনার সত্যতা যাচাই করা, আয়োজকের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং সম্ভব হলে সরাসরি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি, হাসপাতাল বা নিবন্ধিত দাতব্য প্রতিষ্ঠানে অর্থ দেওয়াই নিরাপদ।

ফ্লোরিডা প্রতিনিধি প্রকাশ: আগস্ট ১০, ২০২৬ ২১:৩৫
আলাস্কা উপকূলে ভাসমান একটি নৌযানকে সাহায্য না করার অভিযোগ উঠেছে মার্ক জাকারবার্গের বিলাসবহুল ইয়ট 'লঞ্চপ্যাড'-এর বিরুদ্ধে। ছবি: সংগৃহীত

সাগরে বিপদে নারী ও শিশু, কাছে থেকেও সাহায্যে এগিয়ে আসেনি জাকারবার্গের প্রমোদতরি!

ট্রাম্প প্রশাসনের সময়ে ১ লাখ ৭৫ হাজারের বেশি ভিসা বাতিলের তথ্য প্রকাশ করেছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর। ছবি: সংগৃহীত

১ লাখ ৭৫ হাজারের বেশি বিদেশির ভিসা বাতিল করল যুক্তরাষ্ট্র, আরও কঠোর হচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসনের ভিসা নীতি

নতুন অভিবাসী ও চাকরিপ্রার্থীদের জন্য সরাসরি চাকরি খোঁজা ও আবেদন প্রস্তুতির সুযোগ রয়েছে নিউইয়র্কে। ছবি: সংগৃহীত

অনলাইনে চাকরি খুঁজতে সমস্যা? নিউইয়র্কে যেভাবে সরাসরি গিয়ে বিনামূল্যে চাকরির আবেদন করতে পারবেন

মাত্র ৮৭ হাজার ডলারে বাড়ি, তবু জনশূন্য হয়ে পড়ছে নিউইয়র্কের ইউটিকা। ছবি: সংগৃহীত
নিউইয়র্কের যে শহরে মাত্র ৮৭ হাজার ডলারে মিলছে বাড়ি, তবু কেন মানুষ ছেড়ে যাচ্ছে শহরটি?

নিউইয়র্কের আপস্টেটের শহর ইউটিকায় যেন চলছে নতুন বাসিন্দা খোঁজার এক মরিয়া চেষ্টা। নিউইয়র্ক সিটির আকাশছোঁয়া জীবনযাত্রার ব্যয়ের বিপরীতে এই শহরটি নীরবে রাজ্যের অন্যতম সাশ্রয়ী আবাসন বাজারে পরিণত হয়েছে। একাধিক মার্কেট ট্র্যাকারের তথ্য অনুযায়ী, এলাকাভেদে এখানকার একেকটি বাড়ির গড় মূল্য মাত্র ৮৭ হাজার থেকে ১ লাখ ৫৭ হাজার ডলারের মধ্যে। মাসিক ভাড়াও শুরু হয় মাত্র ৯০০ ডলার থেকে। সামগ্রিকভাবে নিউইয়র্ক রাজ্যের গড়ের চেয়ে ইউটিকার জীবনযাত্রার ব্যয় প্রায় ২৮ থেকে ৩৩ শতাংশ কম।   নিউইয়র্ক সিটির লাগামহীন ব্যয়ের কারণে যারা শহর ছাড়তে বাধ্য হচ্ছেন, তাদের কাছে এই পরিসংখ্যানকে স্বপ্নের মতো মনে হতে পারে। নিউইয়র্ক সিটি থেকে চার ঘণ্টার দূরত্বে অবস্থিত এই শহরে জীবনযাত্রার খরচ এত কম হওয়া সত্ত্বেও একটি বড় প্রশ্ন থেকেই যায়—কেন এই শহরের জনসংখ্যা ক্রমশ কমছে?   জিলো (Zillow)-এর তথ্যমতে, গত এক বছরে ইউটিকার বাড়ির দাম প্রায় ৯ শতাংশ বাড়লেও এখানকার একটি বাড়ির গড় দাম ২ লাখ ১৩ হাজার ৪১২ ডলার। যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় পর্যায়ে একটি বাড়ির গড় মূল্য যেখানে প্রায় ৩ লাখ ৭০ হাজার ডলার, সেখানে ইউটিকার এই দামকে নিতান্তই নগণ্য বলা চলে।   শহরের আবাসন বাজারের এই সস্তা দরের বেশ কিছু বাস্তব উদাহরণ রয়েছে। স্প্রিং স্ট্রিট ওয়েস্টে অবস্থিত পাঁচ বেডরুম ও এক বাথরুমের একটি সিঙ্গেল-ফ্যামিলি বাড়ির তালিকাভুক্ত মূল্য মাত্র ৮৯ হাজার ৯০০ ডলার। এছাড়া তিন বেডরুমের একটি বাড়ি বিক্রি হচ্ছে ৯৯ হাজার ৯০০ ডলারে। শহরের একটু দামি এলাকার কথা বিবেচনা করলেও, মোহক স্ট্রিটে ২ হাজার ৫৩২ স্কয়ার ফুটের পাঁচ বেডরুম ও আড়াই বাথরুমের একটি বাড়ির দাম হাঁকা হয়েছে ২ লাখ ৯৯ হাজার ৯০০ ডলার।   কিন্তু মুদ্রার উল্টোপিঠের চিত্রটা বেশ হতাশাজনক। এত সস্তায় আবাসন সুবিধা পাওয়ার পরও মানুষ ইউটিকা ছেড়ে অন্যত্র চলে যাচ্ছেন। বর্তমানে শহরটির জনসংখ্যা বছরে প্রায় ০.৭৪ শতাংশ হারে কমছে। ২০২০ সালের আদমশুমারির পর থেকে শহরটির জনসংখ্যা ৪ শতাংশেরও বেশি হ্রাস পেয়েছে। নিউইয়র্ক সিটির বাইরের আপস্টেট মিউনিসিপ্যালিটিগুলোর মধ্যে ইউটিকা থেকে সবচেয়ে বেশি মানুষ স্থানান্তর হয়েছে, যার সংখ্যা প্রায় ১ হাজার ৫০০ জন।   নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মোহক ভ্যালির এক প্রবীণ রিয়েল এস্টেট এজেন্ট এই পরিস্থিতি সম্পর্কে বলেন, "এটি হয়তো আপনার কেনা সবচেয়ে সস্তা বাড়ি হবে, কিন্তু আপনার সন্তানদের এখানে থাকার জন্য রাজি করানোটা হবে সবচেয়ে কঠিন কাজ।" সাউদার্ন টিয়ার বা ক্যাপিটাল রিজিয়নের সাথে ইউটিকার তুলনা করে সম্ভাব্য ক্রেতাদের কাছে তিনি পরিস্থিতিটি এভাবেই তুলে ধরেন। তার মতে, "এখানে বাড়ির দাম কোনো সমস্যা নয়। দাম ছাড়া বাকি সবকিছুই আসলে সমস্যা।"   শহরবাসীর এই প্রস্থানের শেকড় লুকিয়ে আছে কয়েক দশক আগের ইতিহাসে। ‘রাস্ট বেল্ট’ এলাকার অন্যান্য শহরের মতো ইউটিকাকেও শিল্পকারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ার চরম খেসারত দিতে হচ্ছে। জেনারেল ইলেকট্রিক (GE) এবং লকহিড মার্টিনের মতো বড় বড় প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের কারখানা বন্ধ করে শহরতলিতে চলে যাওয়ার ফলে ইউটিকা তার মূল অর্থনৈতিক শক্তি হারিয়ে ফেলে। বিপুল সংখ্যক চাকরি হারানোর কারণে শহরের কর রাজস্ব কমে যায় এবং অনেক বাসিন্দা চরম দারিদ্র্যের মুখে পড়েন।   ২০২৪ সালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ইউটিকার মানুষের ব্যক্তিগত আয়ের মধ্যমা (মিডিয়ান ইনকাম) ছিল মাত্র ৩০, ৭৮৫ ডলার, যেখানে একটি পরিবারের আয়ের মধ্যমা প্রায় ৫২,০০০ ডলার; যা নিউইয়র্ক রাজ্যের গড়ের চেয়ে অনেক নিচে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম বিভাগের (Department of Labor) তথ্যানুযায়ী, এই শহরের বেকারত্বের হার ৪.৫ থেকে ৬ শতাংশের মধ্যে ওঠানামা করছে। সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, এখানকার দারিদ্র্যের হার ২৭ শতাংশেরও বেশি, যা জাতীয় গড়ের প্রায় দ্বিগুণ।   অর্থনৈতিক এই দৈন্যদশার কারণেই মূলত সস্তায় বাড়ি পাওয়ার পরও মানুষ শহর ছাড়ছেন। সম্প্রতি নিজের বাড়ি বিক্রির জন্য তালিকাভুক্ত করেছেন এমন এক বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, "ব্রুকলিনে একটি বাড়ি কিনতে শুধু ডাউনপেমেন্ট হিসেবে যে টাকা দিতে হয়, সেই টাকায় আপনি এখানে আস্ত একটি বাড়ি পেয়ে যাবেন। কিন্তু ভাড়ায় খাটানোর জন্য বাড়ি কেনা যায়, এখানে নিজেরা থাকার কোনো কারণ কাউকে বোঝানোই এখানকার সবচেয়ে বড় সমস্যা।"

নিউ ইয়র্ক প্রতিনিধি প্রকাশ: আগস্ট ১০, ২০২৬ ২০:৩০
ক্যালিফোর্নিয়ায় জ্বালানি ট্যাংকারে ভয়াবহ আগুন, ঘণ্টার পর ঘণ্টা বন্ধ হাইওয়ে। ছবি:সংগৃহীত

ক্যালিফোর্নিয়ায় জ্বালানি ট্যাংকারে ভয়াবহ আগুন, ঘণ্টার পর ঘণ্টা বন্ধ হাইওয়ে

নিউইয়র্ক সিটি কাউন্সিলের আবাসন ও ভূমি ব্যবহার সংক্রান্ত গণশুনানি। ছবি:সংগৃহীত

নিউইয়র্কে আবাসন ও ভূমি ব্যবহার নিয়ে একাধিক গণশুনানি, নজরে সাশ্রয়ী আবাসন

কুইন্সের ফ্লাশিং ও অ্যাস্টোরিয়ার বহুজাতিক খাবারের ব্যবসা ও রেস্তোরাঁ এলাকা। ছবি:সংগৃহীত

কুইন্সে বাড়ছে নতুন রেস্তোরাঁ, বৈচিত্র্যময় খাবারে জমে উঠছে অভিবাসী কমিউনিটির ব্যবসা

নিউইয়র্কের ৩১ লাখ অভিবাসী শহরের অর্থনীতি, শ্রমবাজার, ব্যবসা ও সেবাখাতে রাখছেন গুরুত্বপূর্ণ অবদান, গড়ে তুলছেন বহুজাতিক নগর সমাজ।
নিউইয়র্কের অর্থনীতির চালিকাশক্তিতে ৩১ লাখ অভিবাসী

নিউইয়র্ক শহরের জনসংখ্যা, শ্রমবাজার ও অর্থনীতিতে অভিবাসীদের ভূমিকা দিন দিন আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। নগর কর্তৃপক্ষের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ২০২৩ সালে নিউইয়র্ক সিটিতে বিদেশে জন্মগ্রহণকারী মানুষের সংখ্যা প্রায় ৩১ লাখে পৌঁছেছে। শহরের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৩৮ শতাংশ এবং কর্মশক্তির ৪৩ শতাংশই এই জনগোষ্ঠীর।   জুন ২০২৬ সালে প্রকাশিত ‘দ্য নিউয়েস্ট নিউইয়র্কার্স’ প্রতিবেদনে নিউইয়র্কের অভিবাসী জনগোষ্ঠীর আকার, বৈচিত্র্য এবং অর্থনৈতিক অবদানের বিস্তারিত চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, অভিবাসীরা কেবল শহরের জনসংখ্যার বড় একটি অংশ নন; ব্যবসা-বাণিজ্য, স্বাস্থ্যসেবা, খাদ্যসেবা, আবাসন, পর্যটন এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ খাতেও তাদের ব্যাপক অংশগ্রহণ রয়েছে।   প্রতিবেদনের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, নিউইয়র্কে বসবাসকারী বিদেশে জন্মগ্রহণকারীর সংখ্যা যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি বড় শহরের সম্মিলিত সংখ্যাকেও ছাড়িয়ে গেছে। লস অ্যাঞ্জেলেস, হিউস্টন, শিকাগো ও সান হোসে—এই চার শহরে থাকা বিদেশে জন্মগ্রহণকারী মানুষের মোট সংখ্যার তুলনায় নিউইয়র্কের সংখ্যা বেশি।   শহরের পাঁচ বরোর প্রায় সব এলাকাতেই অভিবাসী জনগোষ্ঠীর শক্তিশালী উপস্থিতি রয়েছে। বিশেষ করে কুইন্স ও ব্রুকলিনে বিদেশে জন্মগ্রহণকারী বাসিন্দার সংখ্যা উল্লেখযোগ্য। ফ্লাশিং-মারে হিল, এলমহার্স্ট, করোনা, ইস্ট ফ্ল্যাটবুশ, গ্রেভসেন্ড ও ওয়াশিংটন হাইটসের মতো এলাকাগুলোতে বিভিন্ন দেশের অভিবাসীদের ঘনবসতি রয়েছে।   নিউইয়র্কের অভিবাসী সমাজের বৈচিত্র্যও প্রতিবেদনে বিশেষভাবে উঠে এসেছে। চীন ও ডোমিনিকান রিপাবলিক শহরের বিদেশে জন্মগ্রহণকারী জনগোষ্ঠীর প্রধান উৎসগুলোর মধ্যে রয়েছে। এরপর রয়েছে জ্যামাইকা ও মেক্সিকো। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যেও বাংলাদেশের অবস্থান উল্লেখযোগ্য। বিদেশে জন্মগ্রহণকারী সবচেয়ে বড় ১০টি জনগোষ্ঠীর তালিকায় বাংলাদেশ সপ্তম অবস্থানে রয়েছে।   অভিবাসীদের অর্থনৈতিক গুরুত্ব সবচেয়ে স্পষ্টভাবে দেখা যায় কর্মক্ষেত্রে। নগর কর্তৃপক্ষের তথ্য বলছে, নিউইয়র্কের মোট কর্মশক্তির ৪৩ শতাংশ বিদেশে জন্মগ্রহণকারী। অর্থাৎ শহরের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, ব্যবসা ও সেবাখাতে কর্মরত বিপুলসংখ্যক মানুষ অভিবাসী জনগোষ্ঠীর অংশ।   স্বাস্থ্যসেবা ও সামাজিক সহায়তা খাতে তাদের উপস্থিতি বিশেষভাবে দৃশ্যমান। এ খাতে কর্মরত প্রায় ৫ লাখ ১৯ হাজার মানুষের মধ্যে ৪৪ শতাংশ বিদেশে জন্মগ্রহণকারী। বিশেষ করে বাড়িভিত্তিক স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রমে অভিবাসী কর্মীদের ওপর উল্লেখযোগ্য নির্ভরতা রয়েছে।   খাদ্য ও পানীয়, আবাসন এবং পর্যটনসংশ্লিষ্ট কাজেও অভিবাসীদের অংশগ্রহণ অনেক বেশি। এসব খাতে কর্মরতদের প্রায় প্রতি পাঁচজনের মধ্যে তিনজন বিদেশে জন্মগ্রহণকারী। ফলে রেস্তোরাঁ, হোটেল, পর্যটনসেবা থেকে শুরু করে দৈনন্দিন নগরজীবনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রমে অভিবাসী শ্রমিকদের অবদান সরাসরি প্রতিফলিত হচ্ছে।   অভিবাসনের প্রভাব শুধু কর্মসংস্থান বা অর্থনীতিতে সীমাবদ্ধ নয়। নিউইয়র্কের ভাষাগত ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যেও এর বড় প্রভাব রয়েছে। শহরের প্রায় অর্ধেক বাসিন্দা নিজেদের বাড়িতে ইংরেজির পাশাপাশি অন্য কোনো ভাষা ব্যবহার করেন।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, নিউইয়র্কের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ বাসিন্দা হয় নিজেরাই বিদেশে জন্মগ্রহণ করেছেন, নয়তো অন্তত একজন অভিবাসী বাবা-মায়ের সন্তান। অর্থাৎ অভিবাসনের প্রভাব শহরের একটি নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠীর মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; এটি প্রজন্মের পর প্রজন্ম নিউইয়র্কের সমাজ ও সংস্কৃতিকে প্রভাবিত করছে।   নগর কর্তৃপক্ষের প্রতিবেদনটি নিউইয়র্কের অর্থনৈতিক বাস্তবতার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক সামনে এনেছে। বিপুলসংখ্যক অভিবাসী কর্মী বিভিন্ন খাতে কাজ করার পাশাপাশি ব্যবসা পরিচালনা, ভোক্তা হিসেবে বাজারকে সক্রিয় রাখা এবং শহরের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য সমৃদ্ধ করতেও ভূমিকা রাখছেন।   বিশ্লেষকদের কাছে এ পরিসংখ্যানের তাৎপর্য হলো নিউইয়র্কের অর্থনীতি ও শ্রমবাজারকে অভিবাসী জনগোষ্ঠী থেকে আলাদা করে দেখা বাস্তবসম্মত নয়। শহরের জনসংখ্যা, কর্মসংস্থান, ব্যবসা এবং সেবাব্যবস্থার সঙ্গে অভিবাসীদের অংশগ্রহণ গভীরভাবে যুক্ত। তাই নিউইয়র্কের ভবিষ্যৎ নগর অর্থনীতি ও সামাজিক কাঠামো বোঝার ক্ষেত্রেও অভিবাসী জনগোষ্ঠীর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে থাকবে।

নীলুফা নিশাত প্রকাশ: আগস্ট ১০, ২০২৬ ১৮:১১
বিমান চালানোর প্রশিক্ষণের সময় ককপিটে অ্যাঞ্জেলিনা জোলি; ছেলের অনুপ্রেরণায় পাইলট হওয়ার গল্পটি নতুন করে আলোচনায়। ছবি:সংগৃহীত

ছেলেকে মুগ্ধ করতে বিমান চালানো শিখেছিলেন অ্যাঞ্জেলিনা জোলি, দুই দশক পর পাইলট ম্যাডক্সও

বিমানবন্দরে আইসিইর হাতে আটক হওয়া মিয়ামি ইউনাইটেডের আর্জেন্টাইন ফুটবলার মাতিয়াস পোররাইন। ছবি:সংগৃহীত

চ্যাম্পিয়নশিপ ম্যাচের আগে বিমানবন্দরে আইসিইর হাতে আটক ফ্লোরিডার আর্জেন্টাইন ফুটবলার

পুলিশ কর্মকর্তা হাকিম ফারথিং।

মাতাল চালকের গাড়িচাপায় মৃত্যু, ২৪ বছর পরও হাকিমকে স্মরণ করে পুরস্কার দেয় মার্কিন পুলিশ

0 Comments