ম্যানহাটনে একযোগে অভিযান, কোটি কোটি ডলারের নকল বিলাসবহুল পণ্য জব্দ
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সিটির ম্যানহাটনে একযোগে পরিচালিত অভিযানে কোটি কোটি ডলার মূল্যের নকল বিলাসবহুল ব্র্যান্ডের পণ্য জব্দ করেছে নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগ (NYPD)। পুলিশের ভাষ্য, শহরের বিভিন্ন এলাকায় পরিচালিত সমন্বিত অভিযানে বিপুল পরিমাণ জাল ব্র্যান্ডের পণ্য উদ্ধার করা হয়েছে।
প্রাথমিক তথ্যে জানা গেছে, অভিযানে নকল হ্যান্ডব্যাগ, জুতা, পোশাক, ঘড়ি, অলংকার ও অন্যান্য বিলাসবহুল ব্র্যান্ডের পণ্য জব্দ করা হয়েছে। এসব পণ্যে আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন বিভিন্ন ব্র্যান্ডের লোগো ও ট্রেডমার্ক অবৈধভাবে ব্যবহার করা হয়েছিল বলে অভিযোগ পুলিশের।
এনওয়াইপিডি জানিয়েছে, একই সময়ে ম্যানহাটনের একাধিক স্থানে অভিযান চালানো হয়। জব্দ করা পণ্যের বাজারমূল্য কয়েক মিলিয়ন ডলার বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত কতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বা কার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
পুলিশের দাবি, নকল পণ্যের এই অবৈধ ব্যবসা শুধু ক্রেতাদের প্রতারিত করে না, বরং বৈধ ব্যবসা, মেধাস্বত্ব এবং সরকারের রাজস্ব ব্যবস্থারও ক্ষতি করে। তাই এ ধরনের অপরাধ দমনে অভিযান অব্যাহত থাকবে।
তদন্তকারীরা এখন জব্দ করা পণ্যের উৎস, সরবরাহ চক্র এবং এর সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্তে কাজ করছেন। মামলার তদন্ত শেষ হলে এ বিষয়ে আরও বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রে প্রতারণার শিকার শিক্ষার্থীদের জন্য বড় ধরনের স্বস্তির খবর এসেছে। ফেডারেল আপিল আদালতের এক রায়ে প্রায় ১ লাখ ৭০ হাজার ঋণগ্রহীতার স্টুডেন্ট লোন মাফের পথ নিশ্চিত হয়েছে। এসব ঋণগ্রহীতা এমন কলেজে পড়াশোনা করেছিলেন, যেসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রতারণা বা গুরুতর অসদাচরণের অভিযোগ রয়েছে। ‘সুইট বনাম ম্যাকমাহন’ মামলায় নবম সার্কিট কোর্ট অব আপিলের তিন বিচারকের একটি প্যানেল সর্বসম্মতভাবে শিক্ষা বিভাগের সময় বাড়ানোর আবেদন প্রত্যাখ্যান করেছে। শিক্ষা বিভাগ আদালত নির্ধারিত সময়সীমা আরও বাড়ানোর চেষ্টা করেছিল। আদালতের সিদ্ধান্তের ফলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদনগুলোর সিদ্ধান্ত না হওয়া ঋণগ্রহীতাদের জন্য চুক্তি অনুযায়ী পূর্ণ ঋণমুক্তির পথ বহাল থাকছে। মামলাটির মূল বিষয় ছিল ‘বরোয়ার ডিফেন্স টু রিপেমেন্ট’ ব্যবস্থা। এই ব্যবস্থার আওতায় কোনো শিক্ষার্থী যদি প্রমাণ করতে পারেন যে তার কলেজ প্রতারণা করেছে বা গুরুতর অসদাচরণ করেছে, তাহলে নির্দিষ্ট শর্তে সেই শিক্ষার্থীর ফেডারেল স্টুডেন্ট লোন বাতিলের সুযোগ রয়েছে। কিন্তু অনেক শিক্ষার্থীর অভিযোগ ছিল, তারা ঋণ মওকুফের জন্য আবেদন করলেও শিক্ষা বিভাগ দীর্ঘদিন ধরে সেসব আবেদনের যথাযথ সিদ্ধান্ত নেয়নি। ২০১৯ সালে শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে ‘সুইট বনাম ম্যাকমাহন’ মামলা করা হয়। পরে ২০২২ সালে একটি সমঝোতার মাধ্যমে নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে বরোয়ার ডিফেন্সের আবেদন নিষ্পত্তির নিয়ম করা হয়। সমঝোতার আওতায় নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সিদ্ধান্ত না হলে নির্দিষ্ট শ্রেণির আবেদনকারীদের জন্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে পূর্ণ ঋণমুক্তির বিধান রাখা হয়। নতুন সিদ্ধান্তের আওতায় মূলত ২০২২ সালের ২৩ জুন থেকে ১৬ নভেম্বরের মধ্যে আবেদন করা পরবর্তী পর্যায়ের আবেদনকারীদের একটি বড় অংশ রয়েছে। যেসব আবেদনকারী নির্দিষ্ট তালিকাভুক্ত কলেজে পড়েছেন এবং ২৮ জানুয়ারি ২০২৬-এর নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে তাদের আবেদনের সিদ্ধান্ত পাননি, তারা সমঝোতা অনুযায়ী পূর্ণ সুবিধা পাওয়ার অধিকারী। শিক্ষা বিভাগ আগে যুক্তি দিয়েছিল, এত বিপুলসংখ্যক আবেদন নির্ধারিত সময়ে পর্যালোচনা করা সম্ভব হয়নি। বিভাগ আরও সময় চেয়েছিল এবং জানিয়েছিল, বাকি আবেদনগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে মওকুফ করতে হলে প্রায় ১১ বিলিয়ন ডলারের স্টুডেন্ট লোন বাতিল করতে হবে। এর পাশাপাশি আগে পরিশোধ করা অর্থ ফেরত দেওয়ার খরচও হতে পারে। কিন্তু আদালত শিক্ষা বিভাগের সময় বাড়ানোর আবেদন গ্রহণ করেনি। ফলে সমঝোতায় নির্ধারিত সময়সীমা অনুযায়ী যোগ্য ঋণগ্রহীতাদের ঋণমুক্তির প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার বাধ্যবাধকতা বহাল থাকছে। এই সুবিধা শুধু বাকি স্টুডেন্ট লোন বাতিলের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। যোগ্য ঋণগ্রহীতারা সমঝোতার শর্ত অনুযায়ী আগে পরিশোধ করা অর্থ ফেরত এবং সংশ্লিষ্ট ঋণের কারণে ক্রেডিট রিপোর্টে থাকা নেতিবাচক তথ্য সংশোধনের সুবিধাও পেতে পারেন। প্রিডেটরি স্টুডেন্ট লেন্ডিংবিরোধী সংগঠন প্রজেক্ট অন প্রিডেটরি স্টুডেন্ট লেন্ডিংয়ের তথ্য অনুযায়ী, ‘সুইট’ সমঝোতার আওতায় এখন পর্যন্ত অন্তত ২৩ বিলিয়ন ডলারের স্টুডেন্ট লোন থেকে ঋণমুক্তির সুবিধা নিশ্চিত হয়েছে এবং মোট ৫ লাখের বেশি ঋণগ্রহীতা এর আওতায় সুবিধা পেয়েছেন বা পাওয়ার অধিকারী হয়েছেন। নতুন করে প্রায় ১ লাখ ৭০ হাজার ঋণগ্রহীতার জন্য এই স্বয়ংক্রিয় ঋণমুক্তি যুক্ত হচ্ছে। তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের সব স্টুডেন্ট লোন গ্রহীতার জন্য সাধারণ ঋণ মওকুফের ঘোষণা নয়। আদালতের এই সিদ্ধান্ত নির্দিষ্ট সমঝোতার আওতাভুক্ত এবং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বরোয়ার ডিফেন্সের আবেদন করা ও সংশ্লিষ্ট শর্ত পূরণ করা ঋণগ্রহীতাদের জন্য প্রযোজ্য।
‘আমরা প্রস্তুত নই’ ক্যালিফোর্নিয়ায় কোটি মানুষের জন্য ‘কেয়ামতের মতো মহাবন্যার’ আশঙ্কা, সতর্ক বিজ্ঞানীরা
১৬ বছর বয়সে ১৭০ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি, ৯ মিলিয়ন ডলারের বেশি বৃত্তির প্রস্তাব
যুক্তরাষ্ট্রে গ্রিন কার্ডের বড় পরিবর্তন, আবেদন করতে ফিরতে হতে পারে দেশে
কানাডায় কাজ, পড়াশোনা বা ভ্রমণের জন্য ভিসা বা অনুমতিপত্রের আবেদন করা বিদেশিদের অনেকের ক্ষেত্রেই অভিবাসন-সংক্রান্ত চিকিৎসা পরীক্ষা প্রয়োজন হতে পারে। তবে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে কিছু আবেদনকারীকে নতুন করে এই পরীক্ষা থেকে ছাড় দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। কানাডার অভিবাসন, শরণার্থী ও নাগরিকত্ববিষয়ক কর্তৃপক্ষের নিয়ম অনুযায়ী, আগের চিকিৎসা পরীক্ষা, কানাডায় বর্তমান অবস্থান এবং আবেদনকারীর স্বাস্থ্যঝুঁকির মতো বিষয় বিবেচনায় নিয়ে কিছু ক্ষেত্রে নতুন করে চিকিৎসা পরীক্ষা না-ও চাইতে পারে কর্তৃপক্ষ। যে চার শ্রেণির আবেদনকারী ছাড়ের জন্য বিবেচিত হতে পারেন— ১. কানাডায় স্থায়ী বসবাসের আবেদনকারী যারা কানাডায় স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদন করছেন, তাদের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে আগের চিকিৎসা পরীক্ষার তথ্য বিবেচনা করে নতুন করে পরীক্ষা না করার সুযোগ থাকতে পারে। ২. ইতোমধ্যে কানাডায় বসবাসকারী বিদেশি কানাডায় অবস্থানরত কোনো বিদেশি নতুন কোনো অভিবাসন-সংক্রান্ত আবেদন করলে, নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ সাপেক্ষে তাকে আবার চিকিৎসা পরীক্ষা করতে নাও বলা হতে পারে। ৩. গত পাঁচ বছরের মধ্যে চিকিৎসা পরীক্ষা সম্পন্ন করেছেন এমন আবেদনকারী কোনো আবেদনকারী গত পাঁচ বছরের মধ্যে অভিবাসন-সংক্রান্ত চিকিৎসা পরীক্ষা সম্পন্ন করে থাকলে, নতুন আবেদনের সময় নির্দিষ্ট শর্তে আগের পরীক্ষার ফল ব্যবহার করা যেতে পারে। ৪. আগের পরীক্ষায় জনস্বাস্থ্য বা জননিরাপত্তার ঝুঁকি কম ছিল এমন আবেদনকারী আগের চিকিৎসা পরীক্ষায় যদি আবেদনকারীর স্বাস্থ্যগত অবস্থাকে জনস্বাস্থ্য বা জননিরাপত্তার জন্য কম বা কোনো ঝুঁকি হিসেবে বিবেচনা করা হয়ে থাকে, তাহলে কিছু ক্ষেত্রে নতুন করে পরীক্ষা থেকে ছাড় দেওয়া হতে পারে। তবে এসব ক্ষেত্রে চিকিৎসা পরীক্ষা থেকে ছাড় স্বয়ংক্রিয় নয়। কানাডার অভিবাসন কর্মকর্তা প্রয়োজন মনে করলে কোনো আবেদনকারীর কাছ থেকে নতুন করে চিকিৎসা পরীক্ষা চাইতে পারেন। এ ছাড়া আবেদনকারীর নিজ দেশের পরিস্থিতি, কানাডায় কতদিন থাকার পরিকল্পনা, কী ধরনের কাজ করবেন এবং আগের কোথায় বসবাস বা ভ্রমণ করেছেন—এসব বিষয়ও চিকিৎসা পরীক্ষার প্রয়োজনীয়তা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। বিশেষ করে স্বাস্থ্যসেবা, শিশুদের দেখাশোনা কিংবা এমন কিছু পেশায় কাজ করতে গেলে অতিরিক্ত স্বাস্থ্য পরীক্ষা প্রয়োজন হতে পারে। তাই কোনো আবেদনকারী নিজেকে এই চার শ্রেণির একটির মধ্যে মনে করলেই চিকিৎসা পরীক্ষা লাগবে না—এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক হবে না। আবেদন করার আগে কানাডার সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী নিজের যোগ্যতা যাচাই করাই সবচেয়ে নিরাপদ। এদিকে কানাডার অভিবাসন ব্যবস্থায় এক্সপ্রেস এন্ট্রি নিয়েও বিভিন্ন পরিবর্তন নিয়ে আলোচনা চলছে। শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী বিদেশি কর্মী ও দক্ষ পেশাজীবীদের আকৃষ্ট করতে ভবিষ্যৎ ব্যবস্থায় নতুন অগ্রাধিকার যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
ট্রাম্পের দাতার কোম্পানির হাতে সীমান্ত দেয়াল নির্মাণের বিলিয়ন ডলারের কাজ
অভিবাসন অভিযানের প্রভাবে অনিশ্চয়তায় শিক্ষার্থীরা, পরীক্ষার ফল খারাপের আশঙ্কা শিক্ষকদের
চাকরির অফার পেয়েও হঠাৎ যোগাযোগ বন্ধ করে উধাও জেন-জি প্রার্থীরা
৮৮ বছর বয়সেও সপ্তাহে পাঁচ দিন, প্রতিদিন আট ঘণ্টা করে সুপারমার্কেটে কাজ করছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক সেনাসদস্য এড বাম্বাস। দীর্ঘ কর্মজীবনের পর অবসর নেওয়ার কথা থাকলেও আর্থিক সংকট তাকে আবারও কাজে ফিরতে বাধ্য করেছিল। কিন্তু এক অস্ট্রেলীয় কনটেন্ট ক্রিয়েটরের সঙ্গে আকস্মিক পরিচয় তার জীবনটাই বদলে দেয়। মিশিগানের ব্রাইটনের একটি মেইজার সুপারমার্কেটে কাজ করতেন বাম্বাস। তিনি ১৯৯৯ সালে জেনারেল মোটরস থেকে অবসর নেন। পরে কোম্পানির আর্থিক সংকট ও পুনর্গঠনের সময় তার অবসর সুবিধা নিয়ে বড় ধরনের পরিবর্তন আসে। নিজের স্ত্রী অসুস্থ হয়ে পড়ার পর চিকিৎসা ও সংসারের খরচ সামলাতে তিনি সম্পদ বিক্রি করেন। স্ত্রীর মৃত্যুর পরও আর্থিক চাপ কাটেনি। শেষ পর্যন্ত বয়স ৮০ পেরিয়েও তাকে আবার পূর্ণকালীন কাজে ফিরতে হয়। বাম্বাসের এই জীবনসংগ্রামের কথা জানতে পারেন অস্ট্রেলীয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর স্যাম ওয়েইডেনহোফার। যুক্তরাষ্ট্রে মানুষের সহায়তার গল্প তুলে ধরার সময় তিনি সুপারমার্কেটে বাম্বাসের সঙ্গে কথা বলেন। ৮৮ বছর বয়সেও কেন তাকে সপ্তাহে ৪০ ঘণ্টা কাজ করতে হচ্ছে, তা জানার পর ওয়েইডেনহোফার তার গল্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেন। ভিডিওটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। এরপর বাম্বাসকে আর্থিকভাবে সহায়তা করতে ওয়েইডেনহোফার একটি অনলাইন তহবিল সংগ্রহের উদ্যোগ শুরু করেন। প্রথমে লক্ষ্য ধরা হয়েছিল ১০ লাখ ডলার। কিন্তু মানুষের ব্যাপক সাড়া সেই লক্ষ্যকে দ্রুত ছাড়িয়ে যায়। কয়েক দিনের মধ্যেই তহবিলে ১০ লাখ ডলারের বেশি জমা পড়ে। পরে মোট অর্থের পরিমাণ প্রায় ১৯ লাখ ৪২ হাজার ডলারে পৌঁছায় এবং প্রায় ৬৭ হাজার মানুষ এতে অনুদান দেন। ৫ ডিসেম্বর ২০২৫ বাম্বাসকে প্রায় ১৭ লাখ ডলারের একটি চেক তুলে দেওয়া হয়। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়, এই অর্থ তাকে দীর্ঘদিনের আর্থিক চাপ থেকে বেরিয়ে এসে অবশেষে অবসর নেওয়ার সুযোগ করে দেয়। বাম্বাসের প্রায় ২ লাখ ২৫ হাজার ডলারের ঋণ ছিল। অনুদানের অর্থের একটি অংশ সেই ঋণ পরিশোধে ব্যবহার করার কথা জানানো হয়। পাশাপাশি অবসরের পর ভ্রমণ ও আবার গলফ খেলার মতো ব্যক্তিগত ইচ্ছাগুলো পূরণ করার সুযোগও তৈরি হয়। বাম্বাসের গল্প শুধু একজন প্রবীণ সেনাসদস্যের আর্থিক সংকটের কাহিনি নয়। এটি যুক্তরাষ্ট্রে বয়স বাড়ার পরও আর্থিক কারণে কাজ করে যেতে বাধ্য হওয়া প্রবীণদের বাস্তবতাকেও সামনে এনেছে। তার ক্ষেত্রে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে অচেনা মানুষের সহযোগিতা শেষ পর্যন্ত একটি কঠিন জীবনপর্বের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে। ২০২৬ সালের এপ্রিলের স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, বাম্বাস শেষ পর্যন্ত ৫ জানুয়ারি অবসর নেন। নিজের সহকর্মী ও তাকে সহায়তা করা মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাতে তিনি ছুটির মৌসুম পর্যন্ত কাজ চালিয়ে গিয়েছিলেন। পরে তিনি ওয়েইডেনহোফারের সঙ্গে মিলে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যান্য প্রবীণ সেনাসদস্যকে সহায়তার একটি নতুন উদ্যোগেও যুক্ত হন। একটি সুপারমার্কেটে হওয়া সামান্য এক কথোপকথন থেকে শুরু হয়েছিল ঘটনাটি। শেষ পর্যন্ত তা হাজার হাজার মানুষের সহযোগিতায় ৮৮ বছর বয়সী এক প্রবীণকে জীবনের কাঙ্ক্ষিত অবসরের সুযোগ এনে দেয়।
পৌনে ২ লাখ ভিসা বাতিল করল যুক্তরাষ্ট্র, সুবিধা হারাচ্ছেন বহু মানুষ
ট্রাম্প এডমিনিস্ট্রেশন এর বড় বিনিয়োগ! স্কুলের খাবারে ফিরছে পূর্ণ চর্বিযুক্ত দুধ, পুষ্টিকর খাবার