বিশ্ব

মার্কিন হামলার জবাবে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের হামলা

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ২৬, ২০২৬ ২৩:৫৬
মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন স্থাপনায় হামলার দাবি ইরানের। ছবি: সংগৃহীত
মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন স্থাপনায় হামলার দাবি ইরানের। ছবি: সংগৃহীত

হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) দাবি করেছে, মার্কিন হামলার জবাবে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালানো হয়েছে।

 

তাসনিম নিউজ এজেন্সির বরাত দিয়ে আইআরজিসি জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের "আগ্রাসনের" প্রতিক্রিয়ায় তাদের নৌবাহিনী এ হামলা চালায়। বিবৃতিতে বলা হয়, মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সেনা মোতায়েন থাকা বিভিন্ন স্থাপনাকে লক্ষ্য করে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।

এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানায়, হরমুজ প্রণালিতে সিঙ্গাপুরের পতাকাবাহী একটি বাণিজ্যিক কার্গো জাহাজে ড্রোন হামলার জবাবে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন সংরক্ষণাগার এবং উপকূলীয় রাডার স্থাপনায় বিমান হামলা চালানো হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, ওই ড্রোন হামলা যুদ্ধবিরতি চুক্তির স্পষ্ট লঙ্ঘন।

 

আইআরজিসি অবশ্য বেসামরিক জাহাজে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তেহরানের দাবি, ইরানকে দোষারোপ করার উদ্দেশ্যে "ফলস ফ্ল্যাগ" হামলার চেষ্টা করা হচ্ছে।

ইরানের দাবি, সম্প্রতি দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের (এমওইউ) শর্ত বিভিন্ন উসকানিমূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রই লঙ্ঘন করেছে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের হামলা অব্যাহত থাকলে আরও কঠোর জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছে আইআরজিসি।

 

অন্যদিকে, মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেছেন, ইরান যদি যুদ্ধবিরতি নিয়ে কোনো আপত্তি জানাতে চায়, তবে আলোচনার পথ খোলা রয়েছে। তবে সহিংসতার জবাব সহিংসতায়ই দেওয়া হবে বলেও সতর্ক করেন তিনি।

তাৎক্ষণিকভাবে ইরানের দাবিকৃত পাল্টা হামলায় কোনো মার্কিন ঘাঁটির ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের তথ্য স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি। একইভাবে যুক্তরাষ্ট্রও এ বিষয়ে বিস্তারিত কোনো বিবৃতি দেয়নি। তবে হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা আবারও বেড়ে যাওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

বিশ্ব

View more
সিরিয়ার ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট বাশার আল–আসাদ
সিরিয়ায় সাবেক প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের মৃত্যুদণ্ড

সিরিয়ার ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট বাশার আল–আসাদকে মানবতাবিরোধী অপরাধসহ গৃহযুদ্ধকালীন বিভিন্ন অপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন দেশটির একটি আদালত। মঙ্গলবার দামেস্কের চতুর্থ ফৌজদারি আদালত অনুপস্থিতিতে দেওয়া রায়ে তাঁর ছোট ভাই ও সাবেক সামরিক কর্মকর্তা মাহের আল–আসাদকেও মৃত্যুদণ্ড দেন। একই মামলায় সাবেক নিরাপত্তা কর্মকর্তা আতেফ নাজিবকেও মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।    আদালতের রায়ে বাশার আল–আসাদকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড, নির্যাতন, নির্বিচারে গ্রেপ্তার এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য দায়ী করা হয়েছে। ২০১১ সালে দক্ষিণাঞ্চলীয় দারা প্রদেশে সরকারবিরোধী আন্দোলন দমনে সংঘটিত বিভিন্ন অপরাধও মামলার গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল। আদালতের মতে, ওই সময় সংঘটিত অপরাধের মধ্যে শিশু হত্যার ঘটনাও রয়েছে।    আতেফ নাজিব ছিলেন বাশার আল–আসাদের ঘনিষ্ঠ আত্মীয় এবং দারা প্রদেশে রাজনৈতিক নিরাপত্তা বিভাগের সাবেক প্রধান। ২০১১ সালের আন্দোলনের শুরুতে বিক্ষোভকারীদের ওপর দমন-পীড়নে তাঁর ভূমিকা ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড, নির্যাতন এবং নির্যাতনের ফলে মৃত্যুর মতো গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছিল।     ২০১১ সালে সিরিয়ার সরকারবিরোধী গণআন্দোলনের সূচনা হয়। দেয়ালে সরকারবিরোধী স্লোগান লেখার অভিযোগে কয়েকজন কিশোরকে গ্রেপ্তার ও নির্যাতনের ঘটনা সে সময় ব্যাপক ক্ষোভ তৈরি করে। পরবর্তী সময়ে সেই বিক্ষোভ দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে এবং শেষ পর্যন্ত দীর্ঘ প্রায় ১৪ বছরের গৃহযুদ্ধে রূপ নেয়।    বাশার আল–আসাদ ২০০০ সালে তাঁর বাবা হাফেজ আল–আসাদের মৃত্যুর পর সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট হন। প্রায় ২৫ বছর ক্ষমতায় থাকার পর ২০২৪ সালের ডিসেম্বর মাসে বিদ্রোহীদের দ্রুত অগ্রযাত্রায় তাঁর সরকারের পতন ঘটে। ক্ষমতা হারানোর পর তিনি সিরিয়া ছেড়ে রাশিয়ায় চলে যান এবং বর্তমানে সেখানেই অবস্থান করছেন।    বাশার ও মাহের আল–আসাদ আদালতে উপস্থিত ছিলেন না। তাঁদের অনুপস্থিতিতেই বিচার কার্যক্রম পরিচালিত হয়। সিরিয়ার নতুন নেতৃত্ব এর আগে রাশিয়ার কাছে তাঁদের হস্তান্তরের দাবি জানিয়েছে। তবে রাশিয়ায় অবস্থান করায় মৃত্যুদণ্ডের এই রায় বাস্তবায়ন নিয়ে বড় প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।    এই রায় সিরিয়ার গৃহযুদ্ধের সময় সংঘটিত মানবাধিকার লঙ্ঘনের দায় নির্ধারণে দেশটির নতুন সরকারের নেওয়া সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপগুলোর একটি। তবে সাবেক সরকারের অন্যান্য কর্মকর্তা ও নিরাপত্তা সদস্যদের বিরুদ্ধেও বিচারপ্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে। আতেফ নাজিবের বিচার ছিল ক্ষমতাচ্যুত আসাদ সরকারের উচ্চপর্যায়ের কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নতুন সিরিয়ায় শুরু হওয়া প্রথম গুরুত্বপূর্ণ প্রকাশ্য বিচারগুলোর একটি।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ১১, ২০২৬ ৬:৪৬
ভবিষ্যৎ চুক্তির উদ্দেশ্যে ১৭০০ ফিলিস্তিনির মরদেহ আটকে রেখেছে ইসরায়েল

ভবিষ্যৎ চুক্তির উদ্দেশ্যে ১৭০০ ফিলিস্তিনির মরদেহ আটকে রেখেছে ইসরায়েল

যুদ্ধের ক্ষতিপূরণসহ একাধিক শর্ত ইরানের, হরমুজ প্রণালি নিয়ে মহাবিপদে যুক্তরাষ্ট্র

যুদ্ধের ক্ষতিপূরণসহ একাধিক শর্ত ইরানের, হরমুজ প্রণালি নিয়ে মহাবিপদে যুক্তরাষ্ট্র

গাজা পরিকল্পনা নিয়ে মতবিরোধের মধ্যেও নেতানিয়াহুর সঙ্গে সম্পর্ক ‘খুব ভালো

গাজা পরিকল্পনা নিয়ে মতবিরোধের মধ্যেও নেতানিয়াহুর সঙ্গে সম্পর্ক ‘খুব ভালো’: ট্রাম্প

গাড়িতে বিস্ফোরক ডিভাইস রেখে লিবিয়ার সামরিক গোয়েন্দা প্রধানকে হত্যা
গাড়িতে বিস্ফোরক ডিভাইস রেখে লিবিয়ার সামরিক গোয়েন্দা প্রধানকে হত্যা

লিবিয়ার পূর্বাঞ্চলীয় বাহিনী লিবিয়ান ন্যাশনাল আর্মির (এলএনএ) সামরিক গোয়েন্দা বিভাগের প্রধান ব্রিগেডিয়ার ফাওজি মানসুরি গাড়িতে বিস্ফোরণে নিহত হয়েছেন।   সোমবার সন্ধ্যায় পূর্ব লিবিয়ার বেঙ্গাজি শহরের হাওয়ারি এলাকায় নিজ বাড়ির বাইরে তার গাড়িতে বিস্ফোরক ডিভাইস বিস্ফোরিত হলে তিনি নিহত হন। বিষয়টি রয়টার্সকে নিশ্চিত করেছেন দুই নিরাপত্তা কর্মকর্তা।   নিরাপত্তা কর্মকর্তারা পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে জানান, বিস্ফোরণে ঘটনাস্থলেই মানসুরি নিহত হন। তবে হামলার পেছনে কারা রয়েছে, তাৎক্ষণিকভাবে তা জানা যায়নি।   বিস্ফোরণে কী ধরনের ডিভাইস ব্যবহার করা হয়েছিল, সে বিষয়েও নিরাপত্তা কর্মকর্তারা বিস্তারিত কোনো তথ্য দেননি।   এখন পর্যন্ত কোনো গোষ্ঠী হামলার দায় স্বীকার করেনি। হামলার উদ্দেশ্যও তাৎক্ষণিকভাবে স্পষ্ট হয়নি।   লিবিয়া দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক ও সামরিক বিভাজনের মধ্যে রয়েছে। দেশটির পূর্বাঞ্চলে এলএনএ খলিফা হাফতারের নেতৃত্বাধীন শক্তিশালী সামরিক কাঠামো হিসেবে সক্রিয়। বেঙ্গাজি এই বাহিনীর অন্যতম প্রধান ঘাঁটি।   সামরিক গোয়েন্দা বিভাগের শীর্ষ কর্মকর্তাকে লক্ষ্য করে এই হামলা পূর্ব লিবিয়ার নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন তৈরি করেছে। তবে হামলার প্রকৃত উদ্দেশ্য এবং কারা এর সঙ্গে জড়িত, তা জানতে তদন্তের ফলাফলের অপেক্ষা করতে হবে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ১১, ২০২৬ ৩:৩৯
উৎক্ষেপণের ৮৫ সেকেন্ডের মধ্যেই বিস্ফোরণ চীনের স্যাটেলাইটবাহী রকেট

আবারো চীনের ব্যর্থতা! উৎক্ষেপণের ৮৫ সেকেন্ডের মধ্যেই বিস্ফোরণ চীনের স্যাটেলাইটবাহী রকেট

১৯৮০-এর পর, প্রথমবার ৩০ কোটি ব্যারেলের নিচে নামল যুক্তরাষ্ট্রের জরুরি তেল মজুত

১৯৮০-এর পর, প্রথমবার ৩০ কোটি ব্যারেলের নিচে নামল যুক্তরাষ্ট্রের জরুরি তেল মজুত

ইরানের হুমকির ভয়ে লুকিয়ে বিমান ছেড়ে  ক্যাটারিং ট্রাকে চেপে তুরস্ক ছাড়েন ট্রাম্প!

ইরানের হুমকির ভয়ে লুকিয়ে বিমান ছেড়ে ক্যাটারিং ট্রাকে চেপে তুরস্ক ছাড়েন ট্রাম্প!

ন্যাটো সম্মেলন শেষে তুরস্ক ত্যাগের সময় নিরাপত্তার বিশেষ কৌশল গ্রহণ করেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত
ইরানের হুমকিতে ট্রাকে লুকিয়ে তুরস্ক ছাড়লেন ট্রাম্প, প্রকাশ্যে ছিল ভিন্ন নাটক

ইরানের গুপ্তহত্যার হুমকির মুখে চরম গোপনীয়তা ও নজিরবিহীন নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে গত মাসে তুরস্ক ত্যাগ করেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সাধারণ কোনো প্রটোকল নয়, বরং একটি ক্যাটারিং ট্রাকে লুকিয়ে ছোট একটি সামরিক বিমানে করে তাকে যুক্তরাজ্যে নিয়ে যাওয়া হয়। এই পুরো সময়টিতে হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল যে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার নিয়মিত ‘এয়ার ফোর্স ওয়ান’ বিমানেই ভ্রমণ করছেন। মূলত হামলাকারীদের বিভ্রান্ত করতেই এই প্রতারণামূলক ও অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ কৌশল গ্রহণ করেছিল মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো। সোমবার (১০ আগস্ট) প্রভাবশালী মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্টের এক বিশেষ প্রতিবেদনে ট্রাম্পের এই গোপন যাত্রার রোমহর্ষক তথ্য প্রকাশ্যে আনা হয়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্সও এই তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছে।   ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ন্যাটোর একটি শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে কাতারের উপহার দেওয়া একটি বিলাসবহুল ও নতুনভাবে সাজানো বোয়িং ৭৪৭ বিমানে চড়ে তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারায় পৌঁছেছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। কিন্তু সম্মেলন শেষে তার ফেরার সময় দৃশ্যপট পাল্টে যায়। মার্কিন গোয়েন্দারা ইরানের পক্ষ থেকে ট্রাম্পের ওপর হামলার গুরুতর একটি হুমকির তথ্য পান। এরপরই প্রেসিডেন্টকে নিরাপদে সরিয়ে নিতে একটি নিখুঁত ও অভিনব ছক কষা হয়। আঙ্কারা ত্যাগ করার সময় ট্রাম্প প্রথমে সবার সামনে ক্যামেরার আলোতে একটি পুরোনো ‘এয়ার ফোর্স ওয়ান’ বিমানে ওঠেন। নিজের সামাজিক মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল-এ তিনি একটি পোস্ট দিয়ে জানান যে, পুরোনো দিনের স্মৃতিচারণ এবং ব্রিটেনের আরএএফ মিলডেনহল ঘাঁটিতে অবস্থানরত মার্কিন সেনাদের প্রদর্শনের উদ্দেশ্যে তিনি এই পুরোনো বিমানটি ব্যবহার করছেন। এটি ছিল মূলত হামলাকারীদের নজর অন্যদিকে ঘোরানোর একটি সুপরিকল্পিত টোপ।   বাস্তবে ক্যামেরার আড়ালে ঘটেছিল অন্য ঘটনা। পুরোনো এয়ার ফোর্স ওয়ানে ওঠার পরপরই ট্রাম্পকে অত্যন্ত গোপনে বিমানবন্দরের একটি ক্যাটারিং ট্রাকে করে মার্কিন বিমানবাহিনীর একটি ছোট সি-৩২এ সামরিক বিমানে সরিয়ে নেওয়া হয়। এরপর ট্রাম্পকে বহনকারী সেই সি-৩২এ বিমানটি দ্রুত যুক্তরাজ্যের উদ্দেশে উড়াল দেয় এবং রাত প্রায় ১০টা ২০ মিনিটে নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছায়। অন্যদিকে, মূল টোপ হিসেবে ব্যবহৃত পুরোনো এয়ার ফোর্স ওয়ান বিমানটিতে সাংবাদিক ও হোয়াইট হাউসের কয়েকজন কর্মীকে ওঠানো হয়। নিরাপত্তার স্বার্থে ফ্লাইট চলাকালীন প্রেস কেবিনের জানালার পর্দা সম্পূর্ণ বন্ধ রাখার কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। সাংবাদিকরা জানতেনই না যে তাদের বিমানে প্রেসিডেন্ট নেই। ট্রাম্পের বিমান পৌঁছানোর কয়েক মিনিট পর ওই ডিকয় বা টোপ হিসেবে ব্যবহৃত বিমানটি যুক্তরাজ্যে অবতরণ করে। পরবর্তীতে এক প্রশ্নের জবাবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সাংবাদিকদের শুধু এতটুকুই জানিয়েছিলেন যে, তারা একটি অত্যন্ত বিপজ্জনক ফ্লাইটে ছিলেন।   মার্কিন প্রেসিডেন্টের এমন আকস্মিক ও গোপন ফ্লাইটের বিষয়ে হোয়াইট হাউসের যোগাযোগ পরিচালক স্টিভ চেউং সংবাদমাধ্যমকে বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্টের অনেক শত্রু রয়েছে যারা প্রতিনিয়ত তাকে লক্ষ্যবস্তু বানানোর চেষ্টা করছে। সরকার এবং সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা সংস্থাগুলো প্রেসিডেন্টের জীবনের সুরক্ষায় এবং সেই হুমকিগুলো মোকাবিলায় হাতে থাকা সম্ভাব্য প্রতিটি উপায় ব্যবহার করে থাকে। তবে এই গোপন অভিযান ও ইরানের নির্দিষ্ট হুমকির বিষয়ে মার্কিন প্রতিরক্ষা সদর দপ্তর পেন্টাগনের কাছ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিন ধরেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চরম ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা বিরাজ করছে। বিশেষ করে ইরানি জেনারেল কাসেম সোলেইমানি নিহতের ঘটনার পর থেকে মার্কিন শীর্ষ কর্মকর্তাদের ওপর প্রতিশোধমূলক হামলার শঙ্কা প্রকাশ করে আসছে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো। ট্রাম্পের এই রোমহর্ষক গোপন সফর সেই চলমান নিরাপত্তা ঝুঁকিরই একটি সুস্পষ্ট প্রমাণ।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ১০, ২০২৬ ২৩:৫৮
ছোট ভাইকে বুকে জড়িয়ে নিরাপদ রাখার চেষ্টা করছিল শিশুকন্যা, পরে তাদের উদ্ধার করে পুলিশ। ছবি: সংগৃহীত

জঙ্গলে ফেলে যাওয়া দুই ভাইবোনকে উদ্ধার, ছোট ভাইকে বাঁচাতে সারা রাত বুকে আগলে রাখল বোন

হোটেলে এক রাত থাকার পর শরীরজুড়ে ছারপোকার কামড়ের চিহ্ন দেখান ট্রাভেল ইনফ্লুয়েন্সার হান্না স্টিফেনসন। ছবি: সংগৃহীত

বিখ্যাত হোটেল এক রাত থাকার পর শরীরজুড়ে ছারপোকার কামড়, পেলেন লাখ টাকার ক্ষতিপূরণ

man-eating-a-donut-on-the-couch

অলসদের দিন আজ, আলসেমি করারও আছে দিবস!

0 Comments