যুক্তরাষ্ট্রে স্বাস্থ্যসেবার বাড়তি খরচে বিপাকে সাধারণ নাগরিক, কমছে ওবামাকেয়ারের গ্রাহক
যুক্তরাষ্ট্রে নতুন কেন্দ্রীয় তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের একই সময়ের তুলনায় চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে প্রায় ৩০ লাখ মানুষ 'অ্যাফোর্ডেবল কেয়ার অ্যাক্ট' বা ওবামাকেয়ার স্বাস্থ্যবীমা সুবিধা হারিয়েছেন। শুক্রবার মার্কিন স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগের (এইচএইচএস) প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালে এই স্বাস্থ্যবীমার আওতায় থাকা ২ কোটি ২১ লাখ মানুষের সংখ্যা এ বছর ১৩ শতাংশ কমে ১ কোটি ৯২ লাখে দাঁড়িয়েছে। সরকারের দাবি, ভুয়া বা প্রতারণামূলক নিবন্ধনের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার কারণেই এই পতন ঘটেছে। তবে স্বাস্থ্য বিশ্লেষকদের মতে, গত ১ জানুয়ারি থেকে কেন্দ্রীয় সরকারের ভর্তুকির মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় বীমার খরচ হঠাৎ করে কয়েক গুণ বেড়ে গেছে, যার ফলে সাধারণ মানুষের পক্ষে প্রিমিয়ামের অর্থ পরিশোধ করা আর সম্ভব হচ্ছে না।
স্বাস্থ্য গবেষণাকারী অলাভজনক সংস্থা কেএফএফ-এর ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং এসিএ প্রোগ্রামের পরিচালক সিনথিয়া কক্স জানিয়েছেন, এই পরিস্থিতির কারণে অসংখ্য প্রকৃত গ্রাহক তাদের স্বাস্থ্যবীমার সুরক্ষা হারিয়েছেন। বীমা পরিকল্পনা ছেড়ে দেওয়া মানুষদের ওপর চালানো জরিপের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, লাখ লাখ মানুষ যখন প্রিমিয়ামের ক্ষেত্রে দ্বিগুণ বা তিনগুণ খরচ বৃদ্ধির সম্মুখীন হয়েছেন, ঠিক তখনই তারা এই অপরিহার্য বীমা সুবিধা হারিয়েছেন। এপ্রিলে সংকলিত এই নতুন তথ্যে মূলত ফেব্রুয়ারি মাসের সার্বিক চিত্র তুলে ধরা হয়েছে, যেখানে নির্ধারিত গ্রেস পিরিয়ড শেষ হওয়ার পর বিল পরিশোধে গ্রাহকদের ব্যর্থতা এবং এর প্রভাবে মোট নিবন্ধনের নিম্নমুখী প্রবণতার প্রথম সরকারি প্রমাণ পাওয়া গেছে।
এর আগে জানুয়ারি মাসে প্রকাশিত এক সরকারি পরিসংখ্যানে দেখা গিয়েছিল যে, গত বছরের তুলনায় এ বছর প্রায় আট লাখ মানুষ কম ওবামাকেয়ারের জন্য নিবন্ধন করেছেন, যা গত চার বছরের মধ্যে প্রথম নিম্নমুখী প্রবণতা ছিল। কেএফএফ আশঙ্কা করছে, বছরের বাকি সময়জুড়ে এই সংখ্যা আরও কমতে পারে এবং তা ১ কোটি ৭৫ লাখে নেমে আসতে পারে। মেডিক্যালের জন্য যোগ্য নন অথচ কর্মক্ষম এমন মানুষদের জন্য সরকারের এই ফ্ল্যাগশিপ স্বাস্থ্যবীমা কর্মসূচির জন্য এটি একটি বড় ধাক্কা। মূলত চুক্তিভিত্তিক কর্মী, কৃষক, খামারি এবং অন্যান্য পেশাজীবী, যাদের নিয়োগকর্তার মাধ্যমে স্বাস্থ্যবীমা পাওয়ার সুযোগ নেই, তাদের কাছে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এটি অত্যন্ত জনপ্রিয় একটি বিকল্প হয়ে উঠেছিল।
গত বছর মার্কিন কংগ্রেসে ডেমোক্র্যাট এবং কিছু রিপাবলিকান এই ভর্তুকি নবায়নের জোর দাবি জানালেও তা নিয়ে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়। আসন্ন নভেম্বরের নির্বাচনের আগে স্বাস্থ্যসেবার এই ক্রমবর্ধমান ব্যয় মার্কিন ভোটারদের জন্য অন্যতম প্রধান উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসে নতুন শিক্ষাবর্ষের প্রথম দিনেই এক হাইস্কুল শিক্ষার্থীর কাছে বন্দুক পাওয়ার পর তাকে আটক করেছে স্কুল পুলিশ। বুধবার সকালে সাউথ লস অ্যাঞ্জেলেসের সান্টি হাইস্কুলে এ ঘটনা ঘটে। নিরাপত্তার জন্য কিছু সময় পুরো স্কুল লকডাউন রাখা হলেও পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে ক্লাস আবার শুরু হয়। লস অ্যাঞ্জেলেস স্কুল পুলিশ ডিপার্টমেন্ট জানিয়েছে, কয়েকজন শিক্ষার্থীর মধ্যে একটি ঝামেলার পর স্কুল কর্তৃপক্ষ প্রশাসনিকভাবে তল্লাশি চালায়। সেই তল্লাশির সময় এক শিক্ষার্থীর কাছে আগ্নেয়াস্ত্র পাওয়া যায়। এরপর ওই শিক্ষার্থীকে হেফাজতে নেয় স্কুল পুলিশ। ঘটনার সঙ্গে জড়িত শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদেরও বিষয়টি জানানো হয়। কর্তৃপক্ষ শিক্ষার্থীর বয়স ও পরিচয় প্রকাশ করেনি। ঘটনাটি ঘটে লস অ্যাঞ্জেলেস ইউনিফায়েড স্কুল ডিস্ট্রিক্টের শিক্ষার্থীদের নতুন শিক্ষাবর্ষের প্রথম দিনেই। ফলে ক্যাম্পাসে বন্দুক পাওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়তেই স্কুলের ভেতরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়। পুলিশ ও স্কুল কর্তৃপক্ষের উপস্থিতিতে সান্টি হাইস্কুল কিছু সময় লকডাউনে রাখা হয়। স্থানীয় সময় সকাল ১০টা ৪৫ মিনিটের মধ্যে লকডাউন তুলে নেওয়া হয় এবং শিক্ষার্থীরা নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী ক্লাসে ফিরে যায়। ঘটনায় কাউকে গুলি করা হয়েছে বা কোনো শিক্ষার্থী আহত হয়েছে এমন তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে স্থানীয় কয়েকটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বন্দুকটি কী অবস্থায় পাওয়া গেছে এবং সেটি আগে কোনোভাবে ফায়ার হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। স্কুল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ক্যাম্পাসে বিপজ্জনক কোনো বস্তু নিয়ে আসা নিষিদ্ধ। এমনকি দেখতে অস্ত্রের মতো বা বিপজ্জনক বস্তু বলে মনে হতে পারে এমন জিনিসও স্কুলে না আনতে শিক্ষার্থীদের সতর্ক করা হয়েছে। লস অ্যাঞ্জেলেস স্কুল পুলিশ ডিপার্টমেন্ট এক বিবৃতিতে বলেছে, শিক্ষার্থী ও ক্যাম্পাসের নিরাপত্তাকে তারা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে নেয়। অভিভাবকদেরও সন্তানদের সঙ্গে দায়িত্বশীল আচরণ এবং বিপজ্জনক কার্যকলাপ এড়িয়ে চলার গুরুত্ব নিয়ে কথা বলার আহ্বান জানানো হয়েছে। স্কুলের প্রথম দিনেই এমন ঘটনা ঘটায় ক্যাম্পাস নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন স্কুলে আগ্নেয়াস্ত্র সংশ্লিষ্ট ঘটনার প্রেক্ষাপটে স্কুলে অস্ত্র প্রবেশ ঠেকাতে নিরাপত্তা ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। সান্টি হাইস্কুলে পাওয়া বন্দুকটি কোথা থেকে এসেছে, শিক্ষার্থী কেন সেটি স্কুলে এনেছিল এবং তার বিরুদ্ধে কী ধরনের অভিযোগ আনা হবে, সে বিষয়ে তদন্ত চলছে।
আগস্ট থেকে অনেক বাংলাদেশীর ইবিটি সুবিধা বন্ধের ঝুঁকি, রয়েছে নতুন ৩ শর্ত
১৬ বছর পর একই দিনে যুক্তরাষ্ট্রের তিন অঙ্গরাজ্যে তিনজনের মৃত্যুদণ্ড
হঠাৎ করে দৌড়ে এসে লন্ডন ব্রিজ থেকে পানিতে ঝাঁপ, কিশোরের মৃত্যু
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার বহুল আলোচিত হাই স্পিড রেল প্রকল্প নতুন করে বড় ধরনের অর্থ সংকটের মুখে পড়েছে। নতুন অর্থায়নের ব্যবস্থা করা না গেলে ২০২৭ সালের ডিসেম্বরের মধ্যেই প্রকল্পটির হাতে থাকা বর্তমান তহবিল শেষ হয়ে যেতে পারে বলে সতর্ক করেছেন ক্যালিফোর্নিয়া হাই স্পিড রেল প্রকল্পের ইন্সপেক্টর জেনারেল বেঞ্জামিন বেলন্যাপ। আগামী পাঁচ বছরে প্রকল্পটির অর্থায়ন ঘাটতি দাঁড়াতে পারে প্রায় ৯৫০ কোটি ডলার। ক্যালিফোর্নিয়া হাই স্পিড রেল অথরিটির সংশোধিত ২০২৬ বিজনেস প্ল্যান পর্যালোচনা করে এই সতর্কতা দিয়েছেন ইন্সপেক্টর জেনারেল। ফক্স ১১ লস অ্যাঞ্জেলেসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রকল্পটির জন্য দীর্ঘমেয়াদে মোট ৩ হাজার ৯৩০ কোটি ডলারের সম্ভাব্য অর্থের উৎস চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে রাজ্যের ক্যাপ অ্যান্ড ইনভেস্ট কর্মসূচি থেকে বছরে ১০০ কোটি ডলার পাওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে। সমস্যা হচ্ছে, নির্মাণকাজের সবচেয়ে ব্যয়বহুল সময়ে যে গতিতে অর্থ প্রয়োজন হবে, সেই গতিতে এসব উৎস থেকে টাকা আসবে না। ইন্সপেক্টর জেনারেলের হিসাব অনুযায়ী, নতুন ফাইন্যান্সিং নিশ্চিত করা না গেলে ২০২৭ সালের ডিসেম্বরের মধ্যেই বর্তমান অর্থের ভাণ্ডার শেষ হয়ে যেতে পারে। শুধু ২০২৭-২৮ অর্থবছরেই নির্মাণকাজ নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী চালিয়ে যেতে অতিরিক্ত ২২০ কোটি ডলার প্রয়োজন হতে পারে। ২০২৭-২৮ থেকে ২০৩১-৩২ অর্থবছরের মধ্যে সব মিলিয়ে অর্থায়ন ঘাটতি প্রায় ৯৫০ কোটি ডলারে পৌঁছানোর আশঙ্কা রয়েছে। এই ঘাটতি পূরণে রাজ্য সরকারের অভ্যন্তরীণ ঋণ, রেভিনিউ বন্ড এবং বেসরকারি বিনিয়োগসহ কয়েকটি বিকল্প নিয়ে আলোচনা চলছে। কিন্তু ঋণের মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহ করলে প্রকল্পের খরচ আরও বাড়বে। ইন্সপেক্টর জেনারেলের পর্যালোচনা অনুযায়ী, ঋণের সুদ বাবদ অতিরিক্ত ৩৬০ কোটি থেকে ৬৬০ কোটি ডলার পর্যন্ত ব্যয় হতে পারে। এই সম্ভাব্য সুদের খরচ ক্যালিফোর্নিয়ার সেন্ট্রাল ভ্যালি অংশের জন্য হাই স্পিড রেল অথরিটির বর্তমান ৩ হাজার ৫৭০ কোটি ডলারের ব্যয় হিসাবের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত নেই। ইন্সপেক্টর জেনারেলের পর্যালোচনায় প্রকল্পের সম্ভাব্য ব্যয়ের আরও কয়েকটি বিষয় সামনে এসেছে। এর মধ্যে রয়েছে কন্টিনজেন্সি বাজেটে প্রায় ১২০ কোটি ডলারের ঘাটতি, তৃতীয় পক্ষের কাছ থেকে পাওয়ার প্রত্যাশায় রাখা প্রায় ৮১ কোটি ৬০ লাখ ডলারের নির্মাণ ব্যয় এবং স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বিদ্যমান চুক্তির আওতায় প্রয়োজনীয় অবকাঠামোর জন্য আরও প্রায় ১৭০ কোটি ডলার। প্রকল্পের ব্যয় কমাতে নির্মাণ পরিকল্পনাতেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। বর্তমানে পছন্দের পরিকল্পনায় মার্সেড থেকে বেকার্সফিল্ড অংশের দৈর্ঘ্য ১৭১ মাইল থেকে কমিয়ে ১৬২ মাইল করার কথা রয়েছে। মার্সেডের পরিকল্পিত স্টেশন শহরের কেন্দ্রস্থলের পরিবর্তে শহরতলিতে সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে। একই সঙ্গে ডাউনটাউন বেকার্সফিল্ডের উত্তরে রেললাইন নির্মাণের একটি অংশ সাময়িকভাবে স্থগিত রাখার কথাও রয়েছে। ইন্সপেক্টর জেনারেলের মতে, সাম্প্রতিক যে ব্যয় সাশ্রয়ের হিসাব দেখানো হচ্ছে, তার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ এসেছে কাজের পরিমাণ কমানোর মাধ্যমে। অর্থাৎ শুধু নির্মাণ দক্ষতা বাড়িয়ে খরচ কমানো হয়নি, কিছু অবকাঠামো ও কাজের পরিধিও পরিবর্তন করা হয়েছে। প্রকল্পের সময়সূচি নিয়েও নতুন অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। সরকারি নথিতে প্রাথমিক যাত্রীসেবা চালুর সময় নয় মাস পিছিয়ে ২০৩২ থেকে ২০৩৩ সালের মধ্যে নেওয়া হয়েছে। তবে ইন্সপেক্টর জেনারেলের ঝুঁকিভিত্তিক পরিসংখ্যান মডেল বলছে, পরিস্থিতি প্রতিকূল হলে প্রকল্পের এই অংশ শেষ হতে ২০৩৪ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। ট্রেন কেনার পরিকল্পনাতেও পরিবর্তন এসেছে। আগস্টে প্রকাশিত নোটিশ অনুযায়ী, প্রথম ধাপে ছয়টি ট্রেনসেট কেনার পরিকল্পনা কমিয়ে তিনটিতে আনা হয়েছে। সম্ভাব্য লিজ পারচেজ ব্যবস্থার অধীনে ট্রেন সরবরাহের সময়সীমা ২০৩০ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। ক্যালিফোর্নিয়ার হাই স্পিড রেল প্রকল্পের অর্থায়ন পরিস্থিতি আরও জটিল হয় ফেডারেল সরকারের সঙ্গে বিরোধের পর। ২০২৫ সালে ফেডারেল সরকার প্রকল্পটির প্রায় ৪০০ কোটি ডলারের অনুদান বাতিল করে। ক্যালিফোর্নিয়া কর্তৃপক্ষ ওই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে মামলা করলেও পরে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে মামলাটি প্রত্যাহার করে নেয়। হাই স্পিড রেল অথরিটি জানিয়েছে, ভবিষ্যতে আবারও ফেডারেল সরকারের সঙ্গে অর্থায়নের অংশীদারত্ব গড়ে তোলার আশা রয়েছে। ইন্সপেক্টর জেনারেল বেলন্যাপ রাজ্যের আইনপ্রণেতা ও গভর্নরকে দেওয়া চিঠিতে প্রকল্পের ব্যয় ও সময়সূচি সম্পর্কিত তথ্য উপস্থাপনের পদ্ধতি নিয়েও সমালোচনা করেছেন। তার কার্যালয়ের অভিযোগ, গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য যথেষ্ট স্বচ্ছভাবে উপস্থাপন করা হয়নি, ফলে আইনপ্রণেতাদের জন্য কার্যকর তদারকি কঠিন হয়ে পড়েছে। অন্যদিকে ক্যালিফোর্নিয়া হাই স্পিড রেল অথরিটি জানিয়েছে, তারা গঠনমূলক তদারকিকে গুরুত্ব দেয় এবং প্রকল্পটি বাস্তবায়নে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। কর্তৃপক্ষের দাবি, প্রকল্পটি এখন রেললাইন বসানোর পর্যায়ে এগোচ্ছে এবং বেসরকারি খাত ও রাজ্যের বিভিন্ন অংশীদারের সঙ্গে সহযোগিতার মাধ্যমে বাস্তব অগ্রগতি হচ্ছে। ক্যালিফোর্নিয়া হাই স্পিড রেল মূলত সান ফ্রান্সিসকো ও লস অ্যাঞ্জেলেসকে দ্রুতগতির ট্রেন নেটওয়ার্কে যুক্ত করার বৃহৎ পরিকল্পনার অংশ। তবে প্রকল্পটি বছরের পর বছর ধরে ব্যয় বৃদ্ধি, সময়সূচি পিছিয়ে যাওয়া এবং অর্থায়নের অনিশ্চয়তার মুখে রয়েছে। বর্তমানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে, ২০২৭ সালের শেষ নাগাদ বর্তমান তহবিল ফুরিয়ে যাওয়ার আগেই প্রয়োজনীয় নতুন অর্থের ব্যবস্থা করা সম্ভব হবে কি না।
দেশ ছাড়ছেন যুক্তরাষ্ট্রের ধনীরা! ‘গোল্ডেন ভিসা’ নিয়ে কোথায় পাড়ি জমাচ্ছেন তারা?
যুক্তরাষ্ট্রে ক্রেডিট কার্ডের দেনা বেড়ে ১.২৬ ট্রিলিয়ন ডলার, সর্বকালের সর্বোচ্চ রেকর্ডের কাছাকাছি
নিউইয়র্কে বাংলাদেশিদের জন্য ফ্রিতে ইংরেজি শেখার সুযোগ! সাথে চাকরির প্রশিক্ষণও
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের ডালাস শহরের বিলি আর্ল ডেড মিডল স্কুলে ২০১৭ সালে আয়োজিত একটি ছোট উদ্যোগ আজও মানুষের হৃদয় ছুঁয়ে যায়। ‘ব্রেকফাস্ট উইথ ড্যাডস’ নামে বিশেষ এই অনুষ্ঠানের উদ্দেশ্য ছিল শিক্ষার্থীদের জীবনে বাবা বা পুরুষ অভিভাবকের ইতিবাচক উপস্থিতিকে গুরুত্ব দেওয়া। তবে স্কুল কর্তৃপক্ষ জানত, অনেক শিক্ষার্থীর সঙ্গে অনুষ্ঠানে আসার মতো বাবা, দাদা বা অন্য কোনো পুরুষ অভিভাবক নেই। সে কারণেই স্থানীয় কমিউনিটির কাছে সহায়তার আহ্বান জানানো হয়। আয়োজকদের ধারণা ছিল, অন্তত ৫০ জন স্বেচ্ছাসেবক এগিয়ে এলে যেসব শিক্ষার্থীর সঙ্গে কেউ থাকবে না, তাদের পাশে দাঁড়ানো সম্ভব হবে। কিন্তু বাস্তবে যা ঘটেছিল, তা ছিল প্রত্যাশার অনেক বাইরে। স্কুলের আহ্বানে সাড়া দিয়ে প্রায় ৬০০ জন স্বেচ্ছাসেবক উপস্থিত হন। এত মানুষের অংশগ্রহণে নির্ধারিত স্থান পরিবর্তন করে পুরো আয়োজন স্কুলের জিমনেসিয়ামে নিতে হয়। সকালের নাশতার টেবিলে স্বেচ্ছাসেবকেরা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সময় কাটান, তাদের কথা মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং উৎসাহ দেন। কেউ কেউ ছেলেদের নেকটাই বাঁধার কৌশলও শেখান। কয়েক ঘণ্টার এই আয়োজনে প্রতিটি শিক্ষার্থী অনুভব করার সুযোগ পায় যে, তারা একা নয়; তাদের পাশে রয়েছে পুরো কমিউনিটি। শিক্ষার্থীদের মানসিক বিকাশে পরিবার ও সমাজের ইতিবাচক ভূমিকা কতটা গুরুত্বপূর্ণ, এই উদ্যোগ তারই একটি উদাহরণ হয়ে আছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, শিশু ও কিশোরদের আত্মবিশ্বাস গড়ে তুলতে পরিবারের পাশাপাশি সমাজের দায়িত্বশীল মানুষের উপস্থিতিও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বিলি আর্ল ডেড মিডল স্কুলের এই আয়োজন পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে ব্যাপকভাবে আলোচিত হয়। অনেকেই এটিকে এমন একটি উদ্যোগ হিসেবে দেখেছেন, যেখানে অর্থ বা বিশেষ কোনো সামর্থ্যের চেয়ে সময় দেওয়া এবং পাশে দাঁড়ানোর মানসিকতাই সবচেয়ে বড় অবদান হয়ে উঠেছে। স্কুল কর্তৃপক্ষের প্রত্যাশা ছিল মাত্র ৫০ জন মানুষ সাড়া দেবেন। কিন্তু প্রায় ৬০০ জনের উপস্থিতি প্রমাণ করে, একটি ছোট উদ্যোগও কখনো কখনো পুরো কমিউনিটিকে একত্র করতে পারে। এই ঘটনাটি এখনও অনেকের কাছে মানবিকতা, সামাজিক দায়বদ্ধতা এবং শিশুদের প্রতি ভালোবাসার এক অনুপ্রেরণামূলক উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হয়।
দুই সন্তানকে কাছে পেতেই পদ ছাড়ছেন হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট