যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিদিন গড়ে ৮ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু, দুর্ঘটনা থেকে আত্মহত্যা কোন কারণে কত প্রাণ ঝরে?
বিশ্বের অন্যতম উন্নত চিকিৎসা ব্যবস্থা, আধুনিক প্রযুক্তি এবং শক্তিশালী জরুরি সেবা থাকা সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিদিন গড়ে আট হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়। এর বেশির ভাগই হৃদরোগ, ক্যানসার, বার্ধক্যজনিত জটিলতা ও অন্যান্য স্বাভাবিক স্বাস্থ্যগত কারণে হলেও প্রতিদিন শত শত মানুষের প্রাণ ঝরে সড়ক দুর্ঘটনা, বন্দুক-সংক্রান্ত সহিংসতা, আত্মহত্যা, মাদকের অতিরিক্ত সেবন এবং অন্যান্য প্রতিরোধযোগ্য কারণে।
যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (সিডিসি)-এর প্রকাশিত জাতীয় মৃত্যুর পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশটিতে বছরে ৩০ লাখেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়। সেই হিসাবে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৮ হাজার ৪০০ জন মানুষের জীবনাবসান ঘটে।
সিডিসির তথ্য বলছে, যুক্তরাষ্ট্রে মৃত্যুর প্রধান কারণ হৃদরোগ। এরপর রয়েছে ক্যানসার। তবে তৃতীয় সর্বোচ্চ কারণ হলো অনিচ্ছাকৃত দুর্ঘটনা, যার মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনা, মাদকের অতিরিক্ত সেবন, বিষক্রিয়া, পড়ে যাওয়া এবং বিভিন্ন ধরনের দুর্ঘটনা অন্তর্ভুক্ত। এসব কারণে বছরে প্রায় দুই লাখ মানুষের মৃত্যু হয়, যা প্রতিদিন গড়ে পাঁচ শতাধিক।
বন্দুক-সংক্রান্ত সহিংসতা যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম বড় জননিরাপত্তা সংকট হিসেবে বিবেচিত হয়। বিভিন্ন সরকারি ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের তথ্য অনুযায়ী, আগ্নেয়াস্ত্র-সংক্রান্ত ঘটনায় প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১২০ জন মানুষের মৃত্যু হয়। এর মধ্যে হত্যাকাণ্ডের পাশাপাশি আত্মহত্যার ঘটনাও উল্লেখযোগ্য অংশজুড়ে রয়েছে।
আত্মহত্যার সংখ্যাও উদ্বেগজনক। সিডিসির তথ্য অনুযায়ী, প্রতিদিন গড়ে ১৩০ জনের বেশি মানুষ আত্মহত্যা করেন। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা, একাকীত্ব, মাদকাসক্তি, আর্থিক চাপ এবং সামাজিক বিচ্ছিন্নতা আত্মহত্যার ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে।
একইভাবে হত্যাকাণ্ডেও প্রতিদিন গড়ে অর্ধশতাধিক মানুষের মৃত্যু হয়। এসব ঘটনার বড় অংশেই আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারের তথ্য উঠে এসেছে। যদিও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কিছু শহরে হত্যাকাণ্ডের হার কমেছে, তবুও বন্দুক-সংক্রান্ত সহিংসতা এখনো যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম আলোচিত সামাজিক ও নিরাপত্তাজনিত সমস্যা।
সড়ক দুর্ঘটনাও প্রাণহানির বড় কারণ হয়ে রয়েছে। ন্যাশনাল হাইওয়ে ট্রাফিক সেফটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এনএইচটিএসএ)-এর তথ্য অনুযায়ী, প্রতিবছর প্রায় ৪০ হাজার মানুষ সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান। অতিরিক্ত গতি, মদ্যপ বা মাদকাসক্ত অবস্থায় গাড়ি চালানো, মোবাইল ফোন ব্যবহার এবং অসতর্ক চালনা এসব দুর্ঘটনার প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত।
মাদকের অতিরিক্ত সেবনও যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একটি দীর্ঘমেয়াদি জনস্বাস্থ্য সংকট। বিশেষ করে ফেন্টানিলসহ শক্তিশালী কৃত্রিম ওপিওয়েডের কারণে গত কয়েক বছরে বিপুলসংখ্যক মানুষের মৃত্যু হয়েছে। যদিও সাম্প্রতিক সময়ে এ ধরনের মৃত্যুর হার কিছুটা কমার ইঙ্গিত মিলেছে, তবুও প্রতি বছর হাজার হাজার মানুষ অতিরিক্ত মাদক সেবনের কারণে প্রাণ হারাচ্ছেন।
পারিবারিক সহিংসতার ঘটনাও দেশটিতে উদ্বেগের বিষয়। যদিও এ ধরনের ঘটনায় প্রতিদিন কতজন মারা যান, সে বিষয়ে আলাদা কোনো জাতীয় দৈনিক পরিসংখ্যান প্রকাশ করা হয় না। কারণ এসব মৃত্যু সাধারণত হত্যাকাণ্ড, শিশু নির্যাতন বা অন্যান্য অপরাধের পরিসংখ্যানের সঙ্গে অন্তর্ভুক্ত থাকে। তারপরও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলো বলছে, প্রতিবছর হাজারো গুরুতর অপরাধ ও প্রাণহানির ঘটনার পেছনে পারিবারিক বিরোধ ভূমিকা রাখে।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিদিনের এই বিপুল প্রাণহানি কমাতে শুধু উন্নত চিকিৎসা ব্যবস্থা যথেষ্ট নয়। মানসিক স্বাস্থ্যসেবার সম্প্রসারণ, মাদক নিয়ন্ত্রণ, সড়ক নিরাপত্তা জোরদার, বন্দুক-সংক্রান্ত সহিংসতা প্রতিরোধ এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। তাদের মতে, প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা আরও কার্যকর করা গেলে প্রতিবছর হাজার হাজার মানুষের জীবন রক্ষা করা সম্ভব।
যুক্তরাষ্ট্রের বিশাল জনসংখ্যার তুলনায় অধিকাংশ মৃত্যুই স্বাভাবিক বা স্বাস্থ্যগত কারণে হলেও প্রতিদিন ঘটে যাওয়া শত শত প্রতিরোধযোগ্য মৃত্যু দেশটির জনস্বাস্থ্য ও জননিরাপত্তার জন্য এখনো বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে রয়েছে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে ১৯১৩ সালকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বছর হিসেবে দেখেন অনেক ইতিহাসবিদ ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক। ওই বছর সংবিধানের দুটি গুরুত্বপূর্ণ সংশোধনী কার্যকর হওয়ার পাশাপাশি প্রতিষ্ঠিত হয় ফেডারেল রিজার্ভ ব্যবস্থা। এসব পরিবর্তন যুক্তরাষ্ট্রের করব্যবস্থা, সিনেট নির্বাচন এবং আর্থিক ব্যবস্থায় দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলে। মতামতধর্মী এই নিবন্ধের লেখকের মতে, ১৯১৩ সাল থেকেই যুক্তরাষ্ট্রে সীমিত সরকারের ধারণা ধীরে ধীরে দুর্বল হতে শুরু করে। তবে এই ব্যাখ্যাটি লেখকের নিজস্ব রাজনৈতিক ও ঐতিহাসিক দৃষ্টিভঙ্গি। ১৯১৩ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি ১৬তম সংশোধনী অনুমোদিত হয়। এর মাধ্যমে কংগ্রেস রাজ্যগুলোর মধ্যে জনসংখ্যার অনুপাতে ভাগ না করেই আয় থেকে ফেডারেল কর আদায়ের সাংবিধানিক ক্ষমতা পায়। ন্যাশনাল আর্কাইভসের তথ্য অনুযায়ী, সংশোধনীটি ১৯০৯ সালে কংগ্রেসে পাস হওয়ার পর ১৯১৩ সালে প্রয়োজনীয় সংখ্যক রাজ্যের অনুমোদন পায়। এরপর ৮ এপ্রিল ১৯১৩ অনুমোদিত হয় ১৭তম সংশোধনী। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটররা জনগণের সরাসরি ভোটে নির্বাচিত হতেন না; রাজ্য আইনসভাগুলো সিনেটর নির্বাচন করত। ১৭তম সংশোধনীর মাধ্যমে এই ব্যবস্থা বদলে যায় এবং জনগণ সরাসরি সিনেটর নির্বাচনের অধিকার পায়। লেখকের দৃষ্টিতে, এই পরিবর্তনের ফলে ফেডারেল সরকারের ওপর রাজ্য আইনসভাগুলোর সরাসরি প্রাতিষ্ঠানিক প্রভাব কমে যায়। তবে ১৭তম সংশোধনীর পেছনে অন্য কারণও ছিল। ন্যাশনাল আর্কাইভস বলছে, বিভিন্ন রাজ্যে সিনেটর নির্বাচন নিয়ে দীর্ঘ অচলাবস্থা, রাজনৈতিক প্রভাব ও দুর্নীতির অভিযোগ সরাসরি নির্বাচনের দাবিকে জোরালো করেছিল। ১৯১৩ সালের তৃতীয় বড় পরিবর্তন আসে ২৩ ডিসেম্বর। প্রেসিডেন্ট উড্রো উইলসন ফেডারেল রিজার্ভ আইন স্বাক্ষর করেন। এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংকিং ব্যবস্থা হিসেবে ফেডারেল রিজার্ভ সিস্টেম প্রতিষ্ঠিত হয়। ফেডারেল রিজার্ভ প্রতিষ্ঠার পেছনে ১৯০৭ সালের আর্থিক সংকট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল। ফেডারেল রিজার্ভের নিজস্ব ইতিহাস অনুযায়ী, ওই সংকটের পর আর্থিক ব্যবস্থাকে আরও স্থিতিশীল করার প্রয়োজনীয়তা থেকে নতুন কেন্দ্রীয় ব্যাংকিং ব্যবস্থার উদ্যোগ জোরালো হয়। বর্তমানে ফেডারেল রিজার্ভ যুক্তরাষ্ট্রের মুদ্রানীতি পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সুদের হার, অর্থ ও ঋণের প্রবাহসহ অর্থনীতির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে এর সিদ্ধান্তের প্রভাব পড়ে। নিবন্ধের লেখক প্রশ্ন তুলেছেন, অর্থনীতি ও সরকারের এত গুরুত্বপূর্ণ ক্ষমতা কতটা এমন প্রতিষ্ঠানের হাতে থাকা উচিত, যেগুলো সরাসরি নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের নিয়ন্ত্রণে আসে না। একই সঙ্গে তিনি আয়কর ব্যবস্থা, সরকারি ব্যয় এবং সরকারের আকার নিয়েও নতুন করে ভাবার আহ্বান জানিয়েছেন। লেখকের মতে, ১৯১৩ সালের পরিবর্তনগুলো যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় সরকারকে আরও শক্তিশালী করেছে এবং রাজ্যগুলোর ভূমিকার ভারসাম্য বদলে দিয়েছে। তিনি ১৬তম ও ১৭তম সংশোধনী নিয়ে পুনর্বিবেচনার কথাও বলেছেন। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান পরিবর্তনের বিষয়টি শুধু রাজনৈতিক মতামতের নয়, বরং একটি সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার বিষয়। ১৬তম ও ১৭তম সংশোধনী বর্তমানে সংবিধানের অংশ এবং এগুলো পরিবর্তন করতে আবারও সংবিধান সংশোধনের নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রে বয়স্ক মানুষের সংখ্যা বাড়ছে, অথচ কমছে আবাসন নির্মাণ, ঘাটতি ১০ লাখ ইউনিট ছাড়ানোর শঙ্কা
লিঙ্গ পরিবর্তন অস্ত্রোপচারের পর স্বামীর চিকিৎসার নল খুলতে চেয়েছিলেন স্ত্রী, নিহত নিউইয়র্ক টাইমস কর্মকর্তা
যুক্তরাষ্ট্রের ছয় অঙ্গরাজ্যে বাড়ির ইন্স্যুরেন্স বছরে ৫ হাজার ডলার ছাড়িয়েছে
মিশিগানের ওয়ারেনে মেয়েকে গাড়ি চালানো শেখানোর সময় মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন বাংলাদেশি আমেরিকান মোহাম্মদ আব্দুর রহিম। রোববার বিকেলে নিজ বাসার সামনে ঘটে যাওয়া এ ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে পরিবার ও মিশিগানের বাংলাদেশি কমিউনিটিতে। তার পরিবারের পাশে দাঁড়াতে কমিউনিটির উদ্যোগে তহবিল সংগ্রহও শুরু হয়েছে। স্থানীয় সময় ২৭ সেপ্টেম্বর রোববার বিকেল প্রায় ৪টার দিকে ওয়ারেনের ওয়ার্নার অ্যাভিনিউয়ের ২৪ হাজার ব্লকে দুর্ঘটনাটি ঘটে। পুলিশ ও স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ৬২ বছর বয়সী আব্দুর রহিম তার ১৮ বছর বয়সী মেয়েকে গাড়ি চালানো শেখাচ্ছিলেন। গাড়ি ঘুরিয়ে পার্ক করার অনুশীলনের একপর্যায়ে গাড়িটি হঠাৎ পেছনের দিকে চলে গিয়ে তাকে ধাক্কা দেয় এবং কিছু দূর পর্যন্ত টেনে নিয়ে যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। দুর্ঘটনার সময় তার মেয়ে ঘটনাস্থলেই ছিলেন এবং তদন্তকারীদের সঙ্গে সহযোগিতা করছেন। ঘটনাটি তদন্ত করছে ওয়ারেন পুলিশ বিভাগের ট্রাফিক ক্র্যাশ রিকনস্ট্রাকশন ইউনিট। পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিক তদন্তে দুর্ঘটনার সঙ্গে মাদক বা অ্যালকোহলের সংশ্লিষ্টতার কোনো ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি। প্রত্যক্ষদর্শী বা ঘটনার বিষয়ে তথ্য থাকা ব্যক্তিদের তদন্তকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ করার আহ্বানও জানিয়েছে পুলিশ। আমেরিকা বাংলার কমিউনিটি সূত্রে নিহতের নাম মোহাম্মদ আব্দুর রহিম এবং তার বাংলাদেশি পরিচয় নিশ্চিত করা হয়েছে। পরিবার ও কমিউনিটি সূত্রে জানা গেছে, প্রায় সাত বছর আগে বড় মেয়ের মাধ্যমে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান। তিনি দুই মেয়ে ও এক ছেলের বাবা ছিলেন। তার একমাত্র ছেলে বর্তমানে বাংলাদেশে রয়েছেন বলে পরিবার সূত্রে জানা গেছে। ঢাকার ধানমন্ডিতে তাদের পারিবারিক বাড়ি রয়েছে বলেও জানা গেছে। আব্দুর রহিমের আকস্মিক মৃত্যুতে মিশিগানের বাংলাদেশি কমিউনিটিতে গভীর শোকের সৃষ্টি হয়েছে। যে বাবা মেয়েকে গাড়ি চালানো শেখাতে পাশে দাঁড়িয়েছিলেন, সেই শেখানোর সময়ই ঘটে গেল তার জীবনের শেষ দুর্ঘটনা। এদিকে পরিবারের আর্থিক সংকটও আরও গভীর হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আব্দুর রহিম ছিলেন পরিবারের প্রধান উপার্জনকারী। তার আকস্মিক মৃত্যুতে একদিকে স্বজন হারানোর শোক, অন্যদিকে জানাজা ও দাফনের খরচ, বাসাভাড়া, খাবার, বিল এবং দৈনন্দিন ব্যয়ের চাপ পরিবারের ওপর এসে পড়েছে। দুর্ঘটনার সঙ্গে জড়িত মেয়েটিও কঠিন মানসিক সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে বলে পরিবারকে সহায়তার জন্য শুরু করা তহবিল সংগ্রহের আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। পরিবারের সম্মতিতে তাদের পাশে দাঁড়াতে অনলাইনে তহবিল সংগ্রহ শুরু করা হয়েছে। সামর্থ্য অনুযায়ী আর্থিক সহায়তা করার জন্য কমিউনিটির সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে। আর্থিকভাবে সহযোগিতা করা সম্ভব না হলে তহবিল সংগ্রহের তথ্যটি অন্যদের কাছে পৌঁছে দেওয়া এবং পরিবারের জন্য দোয়া করার অনুরোধ জানানো হয়েছে। মোহাম্মদ আব্দুর রহিমের মৃত্যুতে শোকাহত পরিবারটির পাশে দাঁড়াতে মিশিগানের বাংলাদেশি কমিউনিটির বিভিন্ন পর্যায়ের মানুষ এগিয়ে আসছেন। একই সঙ্গে দুর্ঘটনাটির তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ঘটনার বিস্তারিত পরিস্থিতি নিয়ে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত জানায়নি পুলিশ। সহযোগিতা করতে: https://www.launchgood.com/v4/campaign/help_a_grieving_warren_family?src=6954850
নিউইয়র্কে বাংলাদেশ কনস্যুলেটে ১ অক্টোবর থেকে কনস্যুলার ফি পরিশোধে নতুন নিয়ম
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসীদের তৃতীয় দেশে ফেরত পাঠানোর পথ খুলল সুপ্রিম কোর্ট
জর্জিয়া বার পরীক্ষায় উত্তীর্ণ নাহিদুল হক খান সাহেলের মেয়ে নাওয়ার খান, আইনজীবী হিসেবে শপথ
যুক্তরাষ্ট্রে অপরাধের শিকার দেখিয়ে এক দোকানকর্মীর জন্য ইউ ভিসা পাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন সাউথ ক্যারোলাইনার বিরেনকুমার রমেশভাই প্যাটেল। সেই উদ্দেশ্যে দোকানে সাজানো ডাকাতির ঘটনায় জড়িত থাকার কথা তিনি ফেডারেল আদালতে স্বীকার করেছেন। মার্কিন বিচার বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ঘটনায় জড়িত ভারতীয় নাগরিক দোকানকর্মীকে ভারতে ফেরত পাঠানো হয়েছে। তদন্তে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ৯ মার্চ ফেয়ারফিল্ড কাউন্টির একটি দোকানে ঘটনাটি সাজানো হয়। প্যাটেল মুখ ঢেকে ডাকাতের ভূমিকায় ছিলেন। ঘটনার পর জরুরি সেবা নম্বরে ফোন করা হয় এবং পুলিশ এসে দোকানের নজরদারি ক্যামেরার ভিডিও দেখে। প্রথমে ঘটনাটি ডাকাতি মনে হলেও ভিডিও আরও খতিয়ে দেখে তদন্তকারীরা সেটি সাজানো বলে শনাক্ত করেন। পরে প্যাটেল ও দোকানকর্মী পুলিশের ঘটনার প্রতিবেদন সংগ্রহ করেন। এরপর দোকানকর্মীকে গুরুতর হামলার শিকার হিসেবে দেখিয়ে ইউ ভিসার আবেদনের জন্য প্রয়োজনীয় একটি প্রত্যয়নপত্রে শেরিফের স্বাক্ষর চাওয়া হয়। মার্কিন বিচার বিভাগের বক্তব্য, এই প্রক্রিয়ার লক্ষ্য ছিল দোকানকর্মীর জন্য অভিবাসন সুবিধা পাওয়া। ইউ ভিসা নির্দিষ্ট কিছু অপরাধের শিকার ব্যক্তিদের জন্য একটি সাময়িক অভিবাসন মর্যাদা। শর্ত পূরণ করলে এর মাধ্যমে পরে গ্রিন কার্ডের আবেদন করার পথ তৈরি হতে পারে। তাই এ ঘটনায় সরাসরি ‘গ্রিন কার্ড নেওয়ার জন্য ডাকাতি’ বললে ভিসা ও স্থায়ী বসবাসের মর্যাদার পার্থক্যটি আড়াল হয়। প্যাটেল ভিসা জালিয়াতির ষড়যন্ত্রে দোষ স্বীকার করেছেন, তবে তাঁর সাজা এখনো ঘোষণা করা হয়নি। বিচার বিভাগ জানিয়েছে, এ অপরাধে তাঁর সর্বোচ্চ ১০ বছর কারাদণ্ড হতে পারে। বিচারক সাজা ঘোষণার আগে সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদন পর্যালোচনা করবেন। দোকানকর্মীকে ইতিমধ্যে ভারতে ফেরত পাঠানো হয়েছে; প্যাটেলকে নয়।
ট্রাম্পকে ভোট দেওয়া টেক্সাসের পরিবারে ইমিগ্রেশন জটিলতায় বিচ্ছেদের শঙ্কা
কারাবন্দি নারীর অর্থ দেখভালের দায়িত্ব নিয়ে ৬৫ হাজার ডলার হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ, গ্রেপ্তার সরকারি কর্মী