প্যালেস্টাইন ইসলামিক জিহাদকে অর্থ পাঠানোর অভিযোগে নিউইয়র্কের নারী গ্রেপ্তার
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের আয়রনডেকোয়েট (Irondequoit) এলাকার বাসিন্দা ৩৭ বছর বয়সী ক্যাথরিন বেথ ওয়াশবার্নকে প্যালেস্টাইন ইসলামিক জিহাদ (পিআইজে) নামে যুক্তরাষ্ট্রের তালিকাভুক্ত একটি বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠনকে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার চেষ্টার অভিযোগে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির বিচার বিভাগ।
মার্কিন বিচার বিভাগ (DOJ) জানিয়েছে, ওয়াশবার্নের বিরুদ্ধে একটি ফৌজদারি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, তিনি ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে এমন এক ব্যক্তির কাছে অর্থ পাঠিয়েছেন, যিনি নিজেকে গাজায় সক্রিয় প্যালেস্টাইন ইসলামিক জিহাদের একজন সদস্য হিসেবে পরিচয় দিয়েছিলেন। যুক্তরাষ্ট্রের আইন অনুযায়ী, বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত কোনো গোষ্ঠীকে জেনেশুনে অর্থ বা অন্য ধরনের সহায়তা দেওয়া কিংবা দেওয়ার চেষ্টা করা ফেডারেল অপরাধ।
বিচার বিভাগের অভিযোগ অনুযায়ী, ওয়াশবার্ন ডাইরেক্ট অ্যাকশন মুভমেন্ট ফর প্যালেস্টিনিয়ান লিবারেশন (DAMPL) নামে একটি উগ্রপন্থী সংগঠনের নেতৃত্বের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। সংস্থাটি ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের ইসরায়েলে হামলার পর গঠিত হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। তদন্তকারীদের দাবি, সংগঠনটি শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির পরিবর্তে নাশকতা ও সম্পত্তি ধ্বংসের মতো কর্মকাণ্ডকে সমর্থন করে।
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি ও মার্চ মাসে এফবিআইয়ের যৌথ সন্ত্রাসবিরোধী টাস্কফোর্স (JTTF) তল্লাশি চালিয়ে ওয়াশবার্নের ইলেকট্রনিক বার্তা উদ্ধার করে। এসব বার্তায় তিনি নিজেকে পিআইজের যোদ্ধা পরিচয় দেওয়া এক ব্যক্তির সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখতেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
তদন্তকারীদের দাবি, এক বার্তায় ওয়াশবার্ন লিখেছিলেন, তিনি গাজায় থাকলে সশস্ত্র প্রতিরোধে অংশ নিতেন। এছাড়া ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামলার প্রসঙ্গ টেনে তিনি প্রশংসাসূচক মন্তব্যও করেছিলেন বলে অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে। বিচার বিভাগের ভাষ্য অনুযায়ী, উদ্ধার হওয়া আরও কিছু বার্তায় ইসরায়েল ও ইহুদিদের বিরুদ্ধে ঘৃণামূলক মন্তব্যও পাওয়া গেছে।
আর্থিক লেনদেনের বিশ্লেষণে তদন্তকারীরা জানতে পারেন, ওয়াশবার্ন প্রায় ৮০টি পৃথক ক্রিপ্টোকারেন্সি লেনদেনের মাধ্যমে মোট ৩০ হাজার ১১৬ ইউএসডিসি (USDC), অর্থাৎ সমপরিমাণ মার্কিন ডলার, ওই ব্যক্তির ব্যবহৃত একটি অ্যাকাউন্টে পাঠিয়েছিলেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
মার্কিন বিচার বিভাগ প্রকাশিত মামলার নথিতে ওয়াশবার্নের একটি ছবিও রয়েছে, যেখানে তাকে হামাসের একটি পতাকার সামনে দুটি হ্যান্ড গ্রেনেড হাতে দেখা যায়। তবে ছবিটি তদন্তের নথির অংশ হিসেবে প্রকাশ করা হয়েছে; এটি নিজেই কোনো অপরাধ প্রমাণ করে না।
মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা বিভাগের সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল জন এ. আইজেনবার্গ বলেন, বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠনকে সহায়তা দেওয়ার অভিযোগে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে এফবিআই জানিয়েছে, সন্ত্রাসী সংগঠনের অর্থায়নের পথ বন্ধ করতে তারা বিচার বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
বিচার বিভাগ জানিয়েছে, অভিযোগ প্রমাণিত হলে ওয়াশবার্নের সর্বোচ্চ ২০ বছরের কারাদণ্ড এবং ২ লাখ ৫০ হাজার মার্কিন ডলার জরিমানার বিধান রয়েছে।
তবে এটি একটি ফৌজদারি অভিযোগ (Criminal Complaint) মাত্র। এখনো আদালতে ক্যাথরিন বেথ ওয়াশবার্নের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি। যুক্তরাষ্ট্রের আইন অনুযায়ী, আদালতে দোষী সাব্যস্ত না হওয়া পর্যন্ত তিনি আইনগতভাবে নির্দোষ হিসেবে বিবেচিত হবেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreকয়েক বছর আগেও যুক্তরাষ্ট্রে আইটি খাতে ক্যারিয়ার শুরু করার জন্য তিন থেকে ছয় মাসের প্রশিক্ষণকে অনেকেই দ্রুত চাকরিতে প্রবেশের একটি কার্যকর পথ হিসেবে দেখতেন। ডেভেলপমেন্ট, কিউএ, সাইবার সিকিউরিটি কিংবা ডেটাবেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের মতো ক্ষেত্রে স্বল্পমেয়াদি প্রশিক্ষণ নিয়ে অনেক নতুন অভিবাসী ও ক্যারিয়ার পরিবর্তনকারী মূলধারার চাকরিতে প্রবেশ করেছেন। কিন্তু কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের দ্রুত বিস্তার, প্রযুক্তি খাতে নিয়োগের পরিবর্তন এবং সাম্প্রতিক চাকরির বাজারের অস্থিরতা সেই পথকে আগের তুলনায় অনেক কঠিন করে তুলেছে। তবে এই অর্থে আইটি খাতে চাকরির সুযোগ শেষ হয়ে যাচ্ছে এমন নয়। যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরোর ২০২৪ থেকে ২০৩৪ সালের পূর্বাভাস অনুযায়ী, সফটওয়্যার ডেভেলপার, কিউএ অ্যানালিস্ট ও সফটওয়্যার টেস্টারদের চাকরি সম্মিলিতভাবে ১৫ শতাংশ বাড়তে পারে। একই সময়ে আইটি সিকিউরিটি এনালিস্টদের চাকরি বাড়ার পূর্বাভাস ২৮ দশমিক ৫ শতাংশ। অর্থাৎ প্রযুক্তি খাতের চাহিদা থাকছে, কিন্তু কোন ধরনের দক্ষতার চাহিদা থাকবে এবং একজন নতুন কর্মী সেই চাহিদার সঙ্গে কতটা মানিয়ে নিতে পারবেন, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন। প্রায় পাঁচ বছর আগের পরিস্থিতির সঙ্গে বর্তমান সময়ের পার্থক্যটি নিজের অভিজ্ঞতা দিয়ে তুলে ধরেছেন ভার্জিনিয়ায় বসবাসকারী নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক আইটি পেশাজীবী। তিনি জানান, তখন তিন থেকে চার মাসের প্রশিক্ষণ নিয়ে অনেকেই ডেভেলপার, সিকিউরিটি ইঞ্জিনিয়ার কিংবা ডেটাবেস সংশ্লিষ্ট কাজে প্রবেশের সুযোগ পেতেন। অনেকেই সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে আইটি খাতে মূলধারার চাকরিতে ঢুকে পরে অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন। তার মতে, সেই সময়ে স্বল্পমেয়াদি প্রশিক্ষণ অনেকের জন্য আইটি ক্যারিয়ারে প্রবেশের দরজা খুলে দিয়েছিল। তবে সাম্প্রতিক চাকরির বাজারের অস্থিরতায় সেই চিত্র বদলে গেছে। এখন শুধু নতুনদের জন্য নয়, আগে থেকেই কয়েক বছর অভিজ্ঞতা থাকা এবং ছাঁটাইয়ের কারণে চাকরি হারানো অনেক পেশাজীবীর জন্যও নতুন চাকরিতে ফিরে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। ভার্জিনিয়ার ওই পেশাজীবী মনে করেন, নতুনদের জন্য এখন শুধু একটি প্রশিক্ষণ শেষ করাই যথেষ্ট নয়। যে ক্ষেত্রে প্রশিক্ষণ নেওয়া হচ্ছে, সেই পদের বর্তমান চাহিদা, এআইয়ের প্রভাব এবং প্রশিক্ষণ শেষে বাস্তবে কী ধরনের কাজ পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, সেগুলো আগে বুঝে সিদ্ধান্ত নেওয়া জরুরি। নিউইয়র্কের জিসান নামের এক ব্যক্তি এই পরিবর্তনের আরেকটি বাস্তব চিত্র তুলে ধরেছেন। যুক্তরাষ্ট্রে নতুন আসার পর তিনি অন্যদের কাছ থেকে শুনেছিলেন, মাত্র কয়েক মাসের আইটি প্রশিক্ষণ নিয়ে অনেকে নিয়মিত চাকরিতে ঢুকেছেন। কেউ ডেভেলপার, কেউ সিকিউরিটি সংশ্লিষ্ট কাজে গেছেন। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই তিনিও আইটি পেশায় প্রবেশের জন্য প্রশিক্ষণ নেন। প্রশিক্ষণ শেষ করেও অবশ্য তিনি চাকরি পাননি। জিসান জানান, প্রায় এক বছর ধরে চাকরির চেষ্টা করছেন, কিন্তু এখনো কাঙ্ক্ষিত আইটি চাকরি পাননি। ফলে প্রশিক্ষণ শেষ করার পরও চাকরি না পাওয়ার অনিশ্চয়তা তাকে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করছে। জিসানের অভিজ্ঞতা দেখাচ্ছে, কয়েক মাসের প্রশিক্ষণ এখন আর চাকরিতে প্রবেশের নিশ্চয়তা নয়। বিশেষ করে কোনো বাস্তব কাজের অভিজ্ঞতা ছাড়া নতুন প্রার্থীদের জন্য প্রতিযোগিতার মাত্রা বেড়েছে। জর্জিয়ার আতিকের অভিজ্ঞতাও একই পরিবর্তনের আরেকটি দিক তুলে ধরে। তিন থেকে চার মাসের প্রশিক্ষণের পর তিনি আইটি খাতে চাকরিতে ঢুকেছিলেন। কিছুদিন কাজ করার পর প্রায় এক বছর আগে সেই চাকরি চলে যায়। এরপর দীর্ঘ সময় ধরে চেষ্টা করেও আর আইটি চাকরিতে ফিরতে পারেননি। বর্তমানে তিনি অ্যামাজনের ডেলিভারি ড্রাইভার হিসেবে কাজ করছেন। তিনটি অভিজ্ঞতার মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ মিল রয়েছে। আগে স্বল্পমেয়াদি প্রশিক্ষণকে আইটিতে প্রবেশের দরজা হিসেবে দেখা গেলেও এখন প্রশিক্ষণ, চাকরি এবং চাকরি ধরে রাখার বাস্তবতার মধ্যে ব্যবধান বেড়েছে। এর পেছনে এআইয়ের প্রভাব একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এআই অনেক পুনরাবৃত্তিমূলক ও নিয়মভিত্তিক কাজ দ্রুত করতে পারছে। ফলে নিয়োগদাতারা শুধু নির্দিষ্ট একটি প্রযুক্তি জানেন এমন কর্মীর বদলে এমন প্রার্থী খুঁজছেন, যিনি প্রযুক্তির পাশাপাশি সমস্যা বিশ্লেষণ, স্বয়ংক্রিয়করণ, এআই ব্যবহার এবং বাস্তব ব্যবসায়িক সমস্যা সমাধানে সক্ষম। তবে প্রযুক্তি খাত নিয়ে পুরোপুরি হতাশ হওয়ার কারণও নেই। শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরো বলছে, এআই ও অন্যান্য প্রযুক্তির ব্যবহার কিছু পেশায় কর্মসংস্থান কমাতে পারে, আবার অন্য অনেক পেশায় নতুন কর্মসংস্থানের চাহিদা তৈরি করতে পারে। তথ্য নিরাপত্তা, ডেটা সায়েন্স এবং সফটওয়্যার উন্নয়নের মতো কয়েকটি ক্ষেত্রে আগামী দশকেও উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস রয়েছে।
দীর্ঘ ডিউটিতে থাকা নিউইয়র্ক পুলিশের সদস্যদের পাশে সহকর্মীরা, ডাইকমানে খাবার নিয়ে পিবিএ ক্যান্টিন
ক্যাপ্টেন জ্যাক স্প্যারো হয়ে আবারও ফিরছেন জনি ডেপ? চলছে জোর আলোচনা
কিমকে খুশি করতে দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে সামরিক মহড়া কমাচ্ছেন ট্রাম্প
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ডাটা সেন্টার তৈরির জন্য বিপুল অঙ্কের প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়ে খবরের শিরোনামে এসেছেন যুক্তরাষ্ট্রের কেনটাকির দুই সাধারণ নারী কৃষক। প্রায় ২৬ দশমিক ৪ মিলিয়ন (২ কোটি ৬৪ লাখ) মার্কিন ডলারের চোখ ধাঁধানো প্রস্তাব পাওয়ার পরও নিজেদের ২০০ বছরের পুরোনো পারিবারিক কৃষিজমিতে এআই হাব গড়ে তুলতে দিতে সাফ অস্বীকৃতি জানিয়েছেন মা ও মেয়ে। সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ডেলসিয়া বেয়ার এবং তাঁর মা ইদা হাডলস্টন শুরুতে জমি বিক্রিতে রাজি হয়েছিলেন। তবে যখনই জানতে পারেন যে সেখানে এআই বট পরিচালনার জন্য ডাটা সেন্টার তৈরি করা হবে, তখনই তারা তাৎক্ষণিকভাবে চুক্তি বাতিল করেন। প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রায় অন্ধ ডেলসিয়া বেয়ারের ৪৬৩ একর জমির জন্য প্রতি একরে ৪৮ হাজার ডলার এবং লাঠিতে ভর দিয়ে চলা তাঁর মা ইদার ৭১ একর জমির জন্য একরপ্রতি ৬০ হাজার ডলার—সব মিলিয়ে ২৬ দশমিক ৪৮ মিলিয়ন ডলারের প্রস্তাব দিয়েছিল নাম প্রকাশ না করা একটি এআই কোম্পানি। সংশ্লিষ্টদের ধারণা, প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে প্রযুক্তি জায়ান্ট 'মেটা'র সম্পৃক্ততা রয়েছে। তবে চুক্তি বাতিলের পর ডেলসিয়া কোম্পানিটির প্রতিনিধিদের স্পষ্ট জানিয়ে দেন, তারা যেন আর কখনো ফিরে না আসেন। জমি বিক্রি না করার বিষয়ে ডেলসিয়া জানান, কেবল একটি এআই হাব তৈরির জন্য পারিবারিক জমি ছেড়ে দিলে পরকালে বা বিচার দিবসে তাকে স্রষ্টার কাছে জবাবদিহি করতে হতে পারে—এমন নৈতিক ও ধর্মীয় অনুভূতি থেকেই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এদিকে ডাটা সেন্টার নির্মাণকে কেন্দ্র করে মেসভিল শহরের বাসিন্দারা দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছেন। স্থানীয় অনেকেই সম্ভাব্য অর্থনৈতিক অগ্রগতির কথা চিন্তা করে কোটি কোটি ডলারের বিনিময়ে নিজেদের জমি বিক্রি করতে রাজি হয়েছেন। তবে ডেলসিয়াসহ এলাকার বেশ কয়েকজন বাসিন্দা এই প্রকল্পের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা পর্যন্ত দায়ের করেছেন। এই বিষয়ে মেটা জানিয়েছে, ওই অঞ্চলে প্রকল্পের বিষয়ে এখনও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলের সাধারণ কৃষক হয়েও বিশাল অঙ্কের অর্থের মোহ ত্যাগ করে প্রযুক্তি পরাশক্তির বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে নিজেদের অবস্থানে অনড় থাকার এই ঘটনা ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
দ্বন্দ্ব ভুলে ফের একজোট ট্রাম্প-মাস্ক, মিডটার্ম নির্বাচনে রিপাবলিকানদের জন্য ১২ কোটি ডলার দিচ্ছেন ইলন
নিউইয়র্কে বিনা বেতনে কাজ করিয়ে ১০ লাখ ডলার মজুরি আত্মসাতের অভিযোগ, স্টার্টআপ প্রতিষ্ঠাতার বিরুদ্ধে মামলা
যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি শিক্ষার্থীদের ভিসায় কড়াকড়ি, বাতিল হচ্ছে ‘ডিউরেশন অব স্ট্যাটাস’
জাতীয় শোক দিবস ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শাহাদতবার্ষিকী উপলক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে পৃথক কর্মসূচি পালন করেছেন আওয়ামী লীগ এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। জ্যাকসন হাইটসে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় মশাল হাতে শপথ নেওয়ার পাশাপাশি আগামী ডিসেম্বরে শেখ হাসিনার সঙ্গে দেশে ফেরার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন দলের নেতারা। তারা দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রায় এক হাজার নেতাকর্মী ইতোমধ্যে বাংলাদেশে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের উদ্যোগে আয়োজিত এই আলোচনা সভা শুরু হয় জাতীয় সংগীত পরিবেশন ও বিশেষ প্রার্থনার মধ্য দিয়ে। অনুষ্ঠানের একপর্যায়ে উপস্থিত নেতাকর্মীদের হাতে মশাল তুলে দেওয়া হয় এবং যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান তাদের শপথবাক্য পাঠ করান। এ সময় বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাস ও বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক আদর্শ রক্ষায় ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার অঙ্গীকার করেন উপস্থিত নেতাকর্মীরা। আলোচনা সভায় অডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বক্তব্য রাখেন দলটির সভাপতি ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এছাড়া দলের সাবেক সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম বাবু, সাবেক মন্ত্রী এনামুল হক শামীমসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারাও এতে বক্তব্য দেন। সভায় সবচেয়ে বেশি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল নেতাকর্মীদের বাংলাদেশে ফেরার বিষয়টি। দলটির নেতারা দাবি করেন, আগামী ডিসেম্বরে শেখ হাসিনা দেশে ফিরবেন এবং তার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত উল্লেখযোগ্যসংখ্যক আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীও বাংলাদেশে যাবেন। এক নেতা তার বক্তব্যে বলেন, জীবনের ঝুঁকি নিয়ে শেখ হাসিনা দেশত্যাগ করেছিলেন; আগামী ডিসেম্বরে তিনি বাংলাদেশে ফিরবেন এবং পৃথিবীর যে যেখানে আছেন, সবাই তার সঙ্গে দেশে যাবেন। আরেক নেতা দেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে জানান, তারা সাধারণ মানুষের ওপর নির্যাতন ও নিপীড়ন দেখতে চান না এবং শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আবারও দেশ পরিচালনার প্রত্যাশা করেন। তবে ডিসেম্বরে শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তনের বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক সময়সূচি বা সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার তথ্য অনুষ্ঠানে তুলে ধরা হয়নি। এদিকে, জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে জ্যাকসন হাইটসের নবান্ন রেস্টুরেন্টের সামনে রক্তদান, জায়নামাজ ও খাবার বিতরণের মতো আলাদা কর্মসূচি পালন করেন স্থানীয় আওয়ামী লীগ-সংশ্লিষ্ট নেতাকর্মী ও এলাকাবাসী। শাকিল মিয়ার সভাপতিত্বে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে নিউইয়র্কের সিটি বাসে যাতায়াতকারী মানুষের মধ্যে প্রায় এক হাজার জায়নামাজ বিতরণ করা হয় বলে জানান আয়োজকেরা। মূলত, ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত দলটির নেতাকর্মীদের নতুন করে সংগঠিত হওয়ার স্পষ্ট বার্তা হিসেবেই দেখা হচ্ছে মশাল হাতে শপথ গ্রহণ ও ডিসেম্বরে শেখ হাসিনার সঙ্গে দেশে ফেরার এই ঘোষণাকে।
স্যাক্রামেন্টোয় ইমিগ্রেশন আইনজীবীর অফিসে আইসিই পরিচয়ে সশস্ত্র ব্যক্তিদের হানা, ওয়ারেন্ট না থাকায় ব্যর্থ অভিযান
মিশিগানে গভীর জঙ্গল থেকে তিন দিন পর জীবিত উদ্ধার মা-ছেলে, বেঁচেছিলেন গাছের ছাল-পিঁপড়া খেয়ে