সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আমেরিকা

প্রচণ্ড তাপপ্রবাহে যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা দিবসের প্যারেড বাতিল, নিরাপত্তার স্বার্থে

বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ: জুলাই ৪, ২০২৬ ৭:৬
আমেরিকার হয়ে যাওয়া প্যারেডের ছবি সংগৃহীত আমেরিকা বাংলা
আমেরিকার হয়ে যাওয়া প্যারেডের ছবি সংগৃহীত আমেরিকা বাংলা

যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা দিবস উদযাপনের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসির জাতীয় স্বাধীনতা দিবস প্যারেড শেষ মুহূর্তে বাতিল করা হয়েছে। শুক্রবার গভীর রাতে আয়োজক কমিটি এ ঘোষণা দেয়।

 

আয়োজকদের ভাষ্য, তীব্র তাপপ্রবাহের কারণে জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় অংশগ্রহণকারী, দর্শক, স্বেচ্ছাসেবক ও কর্মীদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করেই প্যারেড বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। দীর্ঘ পর্যালোচনা এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা শেষে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়।

 

আজ শনিবার সকাল সাড়ে ১০টায় রাজধানীর ইন্ডিপেনডেন্স অ্যাভিনিউয়ের তৃতীয় স্ট্রিট থেকে দ্বাদশ স্ট্রিট পর্যন্ত প্যারেডটি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। তবে আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাসে অনুভূত তাপমাত্রা ১১০ থেকে ১১৫ ডিগ্রি ফারেনহাইট পর্যন্ত পৌঁছানোর আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়, যা দীর্ঘ সময় খোলা আকাশের নিচে অবস্থানকারীদের জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ।

 

কর্তৃপক্ষ বাসিন্দা ও দর্শনার্থীদের অপ্রয়োজনীয়ভাবে রোদে না থাকার, পর্যাপ্ত পানি পান করার, শিশু ও বয়স্কদের প্রতি বিশেষ যত্ন নেওয়ার এবং অসুস্থতা অনুভব করলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে।

 

এদিকে তাপপ্রবাহের প্রভাবে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঞ্চলে স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আরও কয়েকটি অনুষ্ঠানেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। কোথাও অনুষ্ঠান সংক্ষিপ্ত করা হয়েছে, কোথাও সময় পরিবর্তন করা হয়েছে, আবার কোথাও সম্পূর্ণ বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

 

স্বাধীনতা দিবসের ঐতিহ্যবাহী এই প্যারেড বাতিল হওয়ায় রাজধানীতে জড়ো হওয়া হাজারো দর্শনার্থী ও অংশগ্রহণকারীর পরিকল্পনায় পরিবর্তন এসেছে। তবে আয়োজকদের মতে, মানুষের নিরাপত্তাই ছিল তাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
যুক্তরাষ্ট্রে ট্রান্সজেন্ডার তরুণদের চিকিৎসায় মেডিকেইড তহবিল বন্ধ করল ট্রাম্প প্রশাসন
যুক্তরাষ্ট্রে ট্রান্সজেন্ডার তরুণদের চিকিৎসায় মেডিকেইড তহবিল বন্ধ করল ট্রাম্প প্রশাসন

যুক্তরাষ্ট্রে ট্রান্সজেন্ডার শিশু ও কিশোরদের 'জেন্ডার-অ্যাফার্মিং কেয়ার' বা লিঙ্গ রূপান্তর সংক্রান্ত চিকিৎসায় ফেডারেল মেডিকেইড ও সিএইচআইপি (CHIP) তহবিল বন্ধ করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। নতুন এই নিয়মের ফলে এখন থেকে বয়ঃসন্ধি বিলম্বিত করার ওষুধ (পিউবার্টি ব্লকার), হরমোন থেরাপি এবং এ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য শারীরিক চিকিৎসায় কোনো ধরনের ফেডারেল অর্থায়ন ব্যবহার করা যাবে না। সেন্টারস ফর মেডিকেয়ার অ্যান্ড মেডিকেইড সার্ভিসেস (সিএমএস)-এর ঘোষণা অনুযায়ী, আগামী ১৩ অক্টোবর থেকে দেশজুড়ে এই নিয়ম কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে।   তবে যেসব ট্রান্সজেন্ডার শিশু-কিশোর ইতোমধ্যে হরমোন থেরাপি নিচ্ছে, তাদের স্বাস্থ্যঝুঁকির কথা বিবেচনা করে হঠাৎ চিকিৎসা বন্ধ না করে সর্বোচ্চ ছয় মাস পর্যন্ত ধীরে ধীরে তা কমিয়ে আনার সুযোগ রাখা হয়েছে নিয়মে। সিএমএস তাদের নির্দেশনায় আরও স্পষ্ট করেছে যে, জেন্ডার ডিসফোরিয়া বা লিঙ্গ পরিচয় নিয়ে মানসিক টানাপোড়েন সংক্রান্ত মানসিক স্বাস্থ্যসেবা এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়বে না। অর্থাৎ, কাউন্সেলিং বা মানসিক চিকিৎসা চালিয়ে যেতে কোনো বাধা থাকবে না।   এদিকে, ট্রাম্প প্রশাসনের এই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের পর এটি কার্যকর হওয়া ঠেকাতে দেশজুড়ে আইনি পদক্ষেপ শুরু হয়েছে। গত ১ অক্টোবর নিউ হ্যাম্পশায়ারের চারটি পরিবার এই নিয়মের বিরুদ্ধে ফেডারেল আদালতে মামলা দায়ের করে তা বাতিলের আবেদন জানিয়েছে।   এর আগে ২১টি অঙ্গরাজ্যের অ্যাটর্নি জেনারেল এবং পেনসিলভানিয়ার গভর্নরও যৌথ ও পৃথকভাবে এই নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে আইনি লড়াই শুরু করেন। বর্তমানে পুরো বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন থাকায় আগামী ১৩ অক্টোবর নিয়মটি আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হওয়ার আগে বিচারক কোনো স্থগিতাদেশ দেন কি না, সেটিই এখন মার্কিন রাজনীতি ও মানবাধিকার অঙ্গনে মূল আলোচনার বিষয়।

প্রকাশ: অক্টোবর ৩, ২০২৬ ১৬:৪২
যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চশিক্ষায় ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ব্যক্তিগত দান, মিয়ামিতে নতুন ক্যাম্পাসে ৩ বিলিয়ন ডলার

যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চশিক্ষায় ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ব্যক্তিগত দান, মিয়ামিতে নতুন ক্যাম্পাসে ৩ বিলিয়ন ডলার

যুক্তরাষ্ট্রে এইচ-১বি ভিসা পুরোপুরি বাতিল চান জেডি ভ্যান্স, উঠছে সস্তা শ্রমের অভিযোগ

যুক্তরাষ্ট্রে এইচ-১বি ভিসা পুরোপুরি বাতিল চান জেডি ভ্যান্স, উঠছে সস্তা শ্রমের অভিযোগ

অভিবাসী পরিবারের মেয়ে আনুম জেহরা, ইউনিভার্সিটি অব মেরিল্যান্ডের ‘স্টুডেন্ট অব দ্য ইয়ার’

অভিবাসী পরিবারের মেয়ে আনুম জেহরা, ইউনিভার্সিটি অব মেরিল্যান্ডের ‘স্টুডেন্ট অব দ্য ইয়ার’

যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইওতে হিন্দু মন্দিরে হা মলা, ইটের আঘাতে ভাঙল জানালার কাচ
যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইওতে হিন্দু মন্দিরে হা মলা, ইটের আঘাতে ভাঙল জানালার কাচ

যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইও অঙ্গরাজ্যের গ্রেটার ক্লিভল্যান্ড এলাকায় একটি হিন্দু মন্দিরে অতর্কিত হামলার ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার দুপুর দেড়টার দিকে রিচমন্ড হাইটসের শ্রী স্বামীনারায়ণ ভাদতাল ধাম হিন্দু মন্দিরে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে দুর্বৃত্তরা। মাত্র কয়েক মুহূর্ত স্থায়ী এই হামলায় মন্দিরের জানালার কাচ চুরমার হয়ে যায়।   হামলার সময় মন্দিরের ভেতরে পুরোহিত ও বেশ কয়েকজন পুণ্যার্থী উপস্থিত থাকলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। তবে উপাসনালয়ে এমন অপ্রত্যাশিত হামলায় স্থানীয় হিন্দু-আমেরিকান সম্প্রদায়ের মধ্যে নতুন করে চরম নিরাপত্তা শঙ্কা দেখা দিয়েছে।   হিন্দু আমেরিকান ফাউন্ডেশন (এইচএএফ) এবং কোয়ালিশন অব হিন্দুস অব নর্থ আমেরিকা (কোহনা) এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। এইচএএফ ইতোমধ্যে বিষয়টি মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই এবং নাগরিক অধিকার সংস্থাগুলোকে অবহিত করে মন্দির কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করছে।   এইচএএফ-এর নির্বাহী পরিচালক সুহাগ শুক্লা এই হামলাকে সম্ভাব্য 'বিদ্বেষমূলক অপরাধ' বা হেট ক্রাইম হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি জানান, অনলাইনে হিন্দু আমেরিকানদের বিরুদ্ধে ছড়ানো বিদ্বেষ কীভাবে বাস্তবে সহিংসতার রূপ নিতে পারে, এই হামলাই তার প্রমাণ। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে স্থানীয় পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করলেও এখন পর্যন্ত কোনো সন্দেহভাজনকে শনাক্ত বা গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। প্রশাসনের পক্ষ থেকেও এখন পর্যন্ত হামলার পেছনের উদ্দেশ্য বা এটি ধর্মীয় বিদ্বেষপ্রসূত কি না, তা আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি।   যুক্তরাষ্ট্রে অক্টোবর মাসটি 'হিন্দু হেরিটেজ মান্থ' হিসেবে পালিত হয় এবং আর দুই সপ্তাহ পরেই শুরু হতে যাচ্ছে নবরাত্রি উৎসব। ঠিক এমন সময়ে হামলার এই ঘটনা স্থানীয় হিন্দু কমিউনিটির মধ্যে গভীর উদ্বেগ তৈরি করেছে। কোহনা অবিলম্বে রিচমন্ড হাইটসের মেয়র এবং স্থানীয় পুলিশকে এই হামলার নিন্দা জানিয়ে দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে হিন্দু মন্দিরগুলোতে হামলার ঘটনা এটিই প্রথম নয়। এর আগে ২০২২ সালে কুইন্সের শ্রী তুলসী মন্দিরে মহাত্মা গান্ধীর মূর্তি ভাঙচুর, ২০২৩ সালে ক্যালিফোর্নিয়ার নেওয়ার্কে এসএমভিএস শ্রী স্বামীনারায়ণ মন্দিরে বিদ্বেষমূলক গ্রাফিতি এবং ২০২৪ ও ২০২৫ সালে নিউইয়র্ক ও ক্যালিফোর্নিয়ায় বাপস (BAPS) মন্দিরেও ভাঙচুর ও অবমাননাকর বার্তা লেখার ঘটনা ঘটেছিল। ধারাবাহিক এসব ঘটনার কারণে যুক্তরাষ্ট্রের বুকে হিন্দু ধর্মীয় সাইটগুলোর সার্বিক নিরাপত্তা নিয়ে জোরালো দাবি তুলেছে অধিকার সংগঠনগুলো।

প্রকাশ: অক্টোবর ৩, ২০২৬ ১৪:৫৭
হলিউডে কর্মীর মন খারাপ ভেবে কাছে গেলেন টম ক্রুজ, নেটদুনিয়ায় প্রশংসা

হলিউডে কর্মীর মন খারাপ ভেবে কাছে গেলেন টম ক্রুজ, নেটদুনিয়ায় প্রশংসা

যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে এক বছরে ৮ হাজারের বেশি ধ র্ষণের অভিযোগ, শীর্ষে ইউনিভার্সিটি অব উটাহ

যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে এক বছরে ৮ হাজারের বেশি ধ র্ষণের অভিযোগ, শীর্ষে ইউনিভার্সিটি অব উটাহ

নিউইয়র্ক সিটিতে হ্যালোউইন ও শরৎকালীন উৎসব উপলক্ষে আয়োজিত বর্ণিল প্যারেড ও উৎসবমুখর পরিবেশ। ছবি: সংগৃহীত

হ্যালোউইনে নিউইয়র্কের ১৬০ সড়ক গাড়িমুক্ত, শিশুদের জন্য থাকছে মিষ্টি, খেলাধুলা ও নানা বিনোদন

যুক্তরাষ্ট্রে ফিলিস্তিনপন্থী সমকামীদের নিয়ে ট্রাম্পের উপহাস, ‘গেইজ ফর প্যালেস্টাইন’ স্লোগান ঘিরে বিতর্ক
যুক্তরাষ্ট্রে ফিলিস্তিনপন্থী সমকামীদের নিয়ে ট্রাম্পের উপহাস, ‘গেইজ ফর প্যালেস্টাইন’ স্লোগান ঘিরে বিতর্ক

আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর সাম্প্রতিক এক প্রচারণামূলক বক্তৃতায় এলজিবিটিকিউ (LGBTQ) সম্প্রদায়ের তীব্র সমালোচনা করেছেন। বিশেষ করে, ফিলিস্তিনের প্রতি সমর্থন জানিয়ে সমকামীদের দেওয়া ‘গেইজ ফর প্যালেস্টাইন’ (Gays for Palestine) স্লোগানটিকে রীতিমতো উপহাসের ছলে উড়িয়ে দিয়েছেন তিনি।   ট্রাম্প বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, ফিলিস্তিনিদের প্রতি সমকামীদের সমর্থনের কোনো যৌক্তিকতা তিনি খুঁজে পান না। বিশ্বের ওই অংশে সমকামীদের প্রতি কেমন আচরণ করা হয়, সেদিকে ইঙ্গিত করে তিনি ব্যঙ্গাত্মক সুরে প্রস্তাব দেন, সমকামীদের সেখানে আলোচনার জন্য পাঠানো উচিত। তিনি মন্তব্য করেন, "আমি আজ এটা দেখলাম এবং বললাম, একটু দাঁড়ান। গেইজ ফর প্যালেস্টাইন। আপনারা কি জানেন পৃথিবীর ওই অংশে সমকামীদের সঙ্গে তারা কী করে?! চলুন তাদের কোনো একদিন আলোচনার জন্য সেখানে পাঠাই। দেখবেন, তাদের আর কখনোই ফিরে পাওয়া যাবে না!"   ট্রাম্পের এই বিতর্কিত মন্তব্য এমন এক সময়ে এলো, যখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয় এবং আন্তর্জাতিক সংঘাতের কারণে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা চলছে। এই পরিস্থিতি সামাল দিতে এবং আসন্ন নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির আধিপত্য ধরে রাখতে তিনি বেশ কিছু আর্থিক প্রণোদনারও ঘোষণা দিয়েছেন।   এসব প্রতিশ্রুতির মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো, মেডিকেয়ারের আওতাভুক্ত দুই কোটিরও বেশি আমেরিকানকে মাসিক প্রিমিয়ামের খরচ মেটাতে এককালীন ৯০ ডলার প্রদান। আগামী অক্টোবরের শুরুতেই এই অর্থ সরাসরি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে বা চেকের মাধ্যমে পৌঁছে দেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে। এর জন্য ‘মেডিকেয়ার ইমপ্রুভমেন্ট ফান্ড’ থেকে প্রায় ২০০ কোটি ডলার বরাদ্দ করা হয়েছে।   পাশাপাশি, ‘অ্যাফোর্ডেবল কেয়ার অ্যাক্ট’ (ACA)-এর আওতায় স্বাস্থ্য বীমা কেনা প্রায় দশ লাখ আমেরিকানকে অতিরিক্ত ফি ফেরত হিসেবে ৫০০ ডলার করে দেওয়ার ঘোষণাও দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। এর বাইরে, রিপাবলিকান পার্টি কংগ্রেসের উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারলে প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিকদের ৫,০০০ ডলার করে দেওয়ার যে প্রস্তাব তিনি গত মাসে দিয়েছিলেন, তারও পুনরাবৃত্তি করেন এই বক্তৃতায়। তবে, অর্থনীতিবিদ এবং রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা তাঁর এই ৫,০০০ ডলার প্রদানের প্রতিশ্রুতি নিয়ে গভীর সন্দেহ প্রকাশ করেছেন।

প্রকাশ: অক্টোবর ৩, ২০২৬ ১৩:১
ফ্লোরিডার মিয়ামি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের সময় রানওয়ে থেকে ছিটকে পড়া অ্যামাজন প্রাইম এয়ারের কার্গো বিমান। ছবি: সংগৃহীত

বাতাসের তথ্য না জেনেই অবতরণ, মিয়ামিতে অ্যামাজনের কার্গো বিমান বিধ্বস্ত

যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসির ন্যাশনাল মলে প্রদর্শিত নতুন স্টার্টআপ প্রতিষ্ঠান ‘আপলিফট’-এর দুর্যোগকালীন প্রস্তুত ঘর। ছবি: সংগৃহীত

ট্রাকে বহনযোগ্য ঘরেই মিলবে বিছানা-বাথরুম-রান্নাঘর, যুক্তরাষ্ট্রে নতুন উদ্যোগ

কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০২৪ সালের সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনাটি অনুসন্ধানের মাধ্যমে আবার সামনে আনা দ্য কর্নেল ডেইলি সানের প্রধান সম্পাদক সোফিয়া দাস। ছবি: সংগৃহীত

কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ে গ্যাং রেইপের অভিযোগ সামনে আনতে ভূমিকা রাখলেন মুসলিম শিক্ষার্থী সোফিয়া

0 Comments