যুক্তরাষ্ট্রে ২ বছরের শিশুকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে ভারতীয় বংশোদ্ভূত বাবা গ্রেপ্তার
উত্তর ক্যারোলাইনা অঙ্গরাজ্যে নিজের দুই বছর বয়সী সন্তানকে হত্যার চেষ্টা এবং গুরুতর নির্যাতনের অভিযোগে এক ভারতীয় বংশোদ্ভূত ব্যক্তির বিরুদ্ধে একাধিক ফৌজদারি মামলা দায়ের করেছে পুলিশ। শিশুটির মাথার খুলিতে প্রাণঘাতী আঘাত, মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ এবং মেরুদণ্ডে একাধিক ভাঙনের মতো গুরুতর আঘাতের কথা জানিয়েছেন চিকিৎসকেরা।
আদালতের নথি অনুযায়ী, অভিযুক্তের নাম কিরণ নেথা পাসুনুরি (৪১)। গত ২ জুন উত্তর ক্যারোলাইনার ওয়েক কাউন্টিতে এ ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত অবস্থায় শিশুটিকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকেরা তার মাথায় জীবনসংকটাপন্ন আঘাতের পাশাপাশি মস্তিষ্কে বড় ধরনের রক্তক্ষরণ শনাক্ত করেন। পরে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে শিশুটির মাথার খুলির একটি অংশ অপসারণ করতে হয়।
তদন্তসংশ্লিষ্ট নথিতে বলা হয়েছে, শিশুটির চোখের রেটিনায়ও রক্তক্ষরণ হয়েছিল। এছাড়া মেরুদণ্ডের একাধিক কশেরুকায় কমপ্রেশন ফ্র্যাকচার বা চাপজনিত ভাঙন ধরা পড়ে। চিকিৎসকদের মতে, এ ধরনের আঘাত সাধারণত তীব্র বাহ্যিক চাপ বা সহিংস আঘাতের ফলে হয়ে থাকে।
ঘটনার প্রায় তিন সপ্তাহ পর, ২৫ জুন পাসুনুরিকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর ২৭ জুন তার বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টার অভিযোগের পাশাপাশি গুরুতর শারীরিক ক্ষতি করার উদ্দেশ্যে শিশু নির্যাতনের দুটি এবং অবহেলার মাধ্যমে গুরুতর শারীরিক ক্ষতি করার দুটি ফৌজদারি অভিযোগ আনা হয়।
আদালতের তথ্য অনুযায়ী, অভিযুক্ত বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। তার জামিনের পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়েছে দুই লাখ মার্কিন ডলার। চলতি সপ্তাহে তিনি প্রথমবারের মতো ওয়েক কাউন্টি আদালতে হাজির হন। মামলার পরবর্তী শুনানির তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে আগামী ২০ জুলাই।
তদন্তকারীরা এখনো নিশ্চিত করতে পারেননি, বাবা ও শিশুর মধ্যে ঠিক কী ঘটেছিল বা কী কারণে শিশুটি এত গুরুতরভাবে আহত হয়। তবে চিকিৎসকেরা তদন্তকারীদের জানিয়েছেন, আঘাত পাওয়ার পর শিশুটিকে হাসপাতালে নিতে উল্লেখযোগ্য বিলম্ব হয়েছে। অর্থাৎ আঘাত লাগা এবং চিকিৎসা শুরু হওয়ার মধ্যে দীর্ঘ সময় পার হয়ে যায়, যা তার শারীরিক অবস্থাকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।
মামলাটি নিয়ে উত্তর ক্যারোলাইনার আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তদন্ত অব্যাহত রেখেছে। শিশুটির বর্তমান শারীরিক অবস্থার বিষয়ে কর্তৃপক্ষ বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী ও পরিচিত চাকরির খোঁজে থাকা বাংলাদেশিদের জন্য ইউএস পোস্টাল সার্ভিস বা ইউএসপিএস হতে পারে গুরুত্বপূর্ণ একটি কর্মক্ষেত্র। শুধু মেইল ডেলিভারি নয়, ড্রাইভার, মেইল প্রসেসিং, কাস্টমার সার্ভিস, মেইনটেন্যান্সসহ বিভিন্ন ধরনের পদে প্রতিষ্ঠানটি সারা বছর প্রয়োজন অনুযায়ী নিয়োগ দেয়। বর্তমানে ফুল টাইম, পার্ট টাইম ও সিজনাল চাকরির সুযোগও রয়েছে। ইউএসপিএসের অফিসিয়াল তথ্য অনুযায়ী, চাকরিতে নিয়োগের সময় সাধারণভাবে আবেদনকারীর বয়স কমপক্ষে ১৮ বছর হতে হয়। তবে হাইস্কুল ডিপ্লোমা থাকলে ১৬ বছর বয়সেও নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে যোগ্য হওয়া যায়। ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাসের ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট নিয়ম রয়েছে। আবেদনকারীকে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক, লফুল পার্মানেন্ট রেসিডেন্ট অর্থাৎ গ্রিন কার্ডধারী অথবা আমেরিকান সামোয়া বা যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি স্থায়ী আনুগত্য থাকা কোনো টেরিটরির নাগরিক হতে হবে। এখানে একটি বিষয় বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। শুধু অ্যাসাইলাম বা রিফিউজি স্ট্যাটাস থাকলেই ইউএসপিএসের চাকরির যোগ্যতা পূরণ হয় না। ইউএসপিএসের বর্তমান নিয়োগ নীতিতে শুধুমাত্র অ্যাসাইলাম, রিফিউজি বা কন্ডিশনাল পার্মানেন্ট রেসিডেন্ট স্ট্যাটাস থাকা ব্যক্তিদের চাকরির জন্য অযোগ্য বলা হয়েছে। ফলে আবেদন করার আগে নিজের ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাস যোগ্যতার সঙ্গে মিলিয়ে নেওয়া জরুরি। প্রাথমিক যোগ্যতার পাশাপাশি আবেদনকারীর সাম্প্রতিক চাকরির ইতিহাস যাচাই করা হতে পারে। ক্রিমিনাল ব্যাকগ্রাউন্ড চেক, ড্রাগ স্ক্রিনিং ও মেডিকেল অ্যাসেসমেন্টও নিয়োগ প্রক্রিয়ার অংশ হতে পারে। যেসব পদের সঙ্গে গাড়ি চালানোর দায়িত্ব রয়েছে, সেসব ক্ষেত্রে বৈধ ড্রাইভার লাইসেন্স ও গ্রহণযোগ্য ড্রাইভিং রেকর্ড প্রয়োজন হতে পারে। প্রযোজ্য ব্যক্তিদের সিলেক্টিভ সার্ভিস রেজিস্ট্রেশনের শর্তও পূরণ করতে হয়। ইউএসপিএসে বহুল নিয়োগ পাওয়া পদের মধ্যে রয়েছে সিটি ক্যারিয়ার অ্যাসিস্ট্যান্ট, রুরাল ক্যারিয়ার অ্যাসোসিয়েট, মেইল হ্যান্ডলার অ্যাসিস্ট্যান্ট, পিএসই মেইল প্রসেসিং ক্লার্ক, পিএসই সেলস অ্যান্ড সার্ভিসেস বা ডিস্ট্রিবিউশন অ্যাসোসিয়েট, মোটর ভেহিকল অপারেটর, অটোমোটিভ টেকনিশিয়ান এবং বিভিন্ন মেইনটেন্যান্স ও কাস্টডিয়াল পদ। বেতন পদ, লোকেশন এবং চাকরির ক্যাটাগরি অনুযায়ী পরিবর্তিত হয়। উদাহরণ হিসেবে ২০২৬ সালে ক্যালিফোর্নিয়ার কিছু নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে সিটি ক্যারিয়ার অ্যাসিস্ট্যান্টের ঘণ্টাপ্রতি বেতন ২১ ডলারের বেশি, মেইল হ্যান্ডলার অ্যাসিস্ট্যান্টের প্রায় ১৯ ডলার এবং পিএসই সেলস অ্যান্ড সার্ভিসেস বা ডিস্ট্রিবিউশন অ্যাসোসিয়েটের বেতন ঘণ্টায় ২১ ডলারের বেশি ছিল। তবে এটিকে দেশজুড়ে সব পদের নির্দিষ্ট বেতন হিসেবে ধরা যাবে না। আবেদনকারীদের সংশ্লিষ্ট জব পোস্টিংয়ে উল্লেখ করা বেতনই চূড়ান্ত হিসেবে দেখতে হবে। অনেকের কাছে ইউএসপিএস চাকরির বড় আকর্ষণ বেতনের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি বেনিফিট। বিশেষ করে ক্যারিয়ার কর্মীরা যোগ্যতা অনুযায়ী হেলথ বেনিফিট, লাইফ ইন্স্যুরেন্স, রিটায়ারমেন্ট সুবিধা, থ্রিফট সেভিংস প্ল্যান বা টিএসপি, অ্যানুয়াল লিভ এবং সিক লিভের মতো সুবিধা পেতে পারেন। টিএসপি ফেডারেল কর্মীদের অবসরকালীন সঞ্চয় ব্যবস্থার মতো একটি পরিকল্পনা। যোগ্য কর্মীদের ক্ষেত্রে ইউএসপিএস বেসিক পের একটি নির্দিষ্ট অংশ স্বয়ংক্রিয়ভাবে কন্ট্রিবিউট করে এবং নির্দিষ্ট নিয়মে কর্মীর নিজের কন্ট্রিবিউশনের বিপরীতেও অর্থ যোগ হতে পারে। তবে সব নন-ক্যারিয়ার বা অস্থায়ী পদের বেনিফিট ক্যারিয়ার পদের মতো নয়। তাই চাকরির অফার গ্রহণের আগে সংশ্লিষ্ট পদের বেনিফিট আলাদাভাবে যাচাই করা গুরুত্বপূর্ণ। আবেদন করতে ইউএসপিএসের অফিসিয়াল ক্যারিয়ার পোর্টালে গিয়ে প্রথমে পছন্দের পদের নাম ও লোকেশন দিয়ে চাকরি খুঁজতে হবে। প্রতিষ্ঠানটি বর্তমানে নতুন অনলাইন জব অ্যাপ্লিকেশন সিস্টেম চালু করছে। ফলে কিছু চাকরির আবেদন নতুন ইউএসপিএস ক্যারিয়ারস সিস্টেমে নেওয়া হচ্ছে, আবার কিছু পদ এখনো পুরোনো ই-ক্যারিয়ার সিস্টেমের মাধ্যমে পরিচালিত হতে পারে। মেইল হ্যান্ডলার অ্যাসিস্ট্যান্ট, সিটি ক্যারিয়ার অ্যাসিস্ট্যান্ট, পিএসই মেইল প্রসেসিং ক্লার্ক এবং পিএসই সেলস অ্যান্ড সার্ভিসেস বা ডিস্ট্রিবিউশন অ্যাসোসিয়েটের মতো কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পদের জন্য নতুন ইউএসপিএস ক্যারিয়ারস সিস্টেম ব্যবহারের নির্দেশনা রয়েছে। কোন সিস্টেমে আবেদন করতে হবে তা সংশ্লিষ্ট জব পোস্টিংয়ে উল্লেখ থাকে। কিছু এন্ট্রি লেভেল পদের জন্য ভার্চুয়াল এন্ট্রি অ্যাসেসমেন্ট বা ভিইএ দিতে হয়। এর মধ্যে মেইল ক্যারিয়ার পদের জন্য ভিইএ ৪৭৪, মেইল হ্যান্ডলার পদের জন্য ৪৭৫, মেইল প্রসেসিং পদের জন্য ৪৭৬ এবং কাস্টমার সার্ভিস ও সংশ্লিষ্ট পদের জন্য ৪৭৭ ব্যবহৃত হয়। এই পরীক্ষাকে হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই। ইউএসপিএসের নিয়ম অনুযায়ী, কোনো আবেদনকারী নির্দিষ্ট একটি ভিইএ পরীক্ষায় পাস না করলে সাধারণভাবে একই পরীক্ষাটি আবার দিতে ১২ মাস অপেক্ষা করতে হতে পারে। তবে অন্য ধরনের পদের জন্য প্রয়োজনীয় ভিন্ন ভিইএ পরীক্ষায় আবেদন করা যেতে পারে। আবেদন জমা দেওয়ার পর প্রার্থীর যোগ্যতা যাচাই, প্রয়োজনীয় অ্যাসেসমেন্ট, বিভিন্ন প্রি-এমপ্লয়মেন্ট চেক এবং পদের শর্ত অনুযায়ী পরবর্তী নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। যোগ্য প্রার্থীরা পরবর্তী ধাপে চাকরির অফার ও প্রয়োজনীয় ব্যাকগ্রাউন্ড বা অন্যান্য যাচাই প্রক্রিয়ায় যেতে পারেন। চাকরিপ্রার্থীদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা হলো, ইউএসপিএসের চাকরির জন্য আবেদন করতে কোনো আবেদন ফি লাগে না। ইউএসপিএস নিজেও স্পষ্টভাবে সতর্ক করে যে পোস্টাল চাকরির আবেদন করার জন্য টাকা দেওয়ার প্রয়োজন নেই। তাই ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ বা অন্য কোনো মাধ্যমে টাকা নিয়ে ইউএসপিএসের চাকরি নিশ্চিত করে দেওয়ার প্রস্তাব এলে তা থেকে দূরে থাকা উচিত। বিশেষ করে নতুন ইমিগ্র্যান্ট ও গ্রিন কার্ডধারী বাংলাদেশিদের জন্য ইউএসপিএসের অনেক এন্ট্রি লেভেল পদ ভালো একটি চাকরির পথ হতে পারে। তবে একই নামের চাকরিতেও লোকেশনভেদে বেতন, কাজের সময়, ড্রাইভিংয়ের প্রয়োজন, অ্যাসেসমেন্ট এবং বেনিফিট আলাদা হতে পারে। তাই আবেদন করার সময় শুধু পদের নাম নয়, পুরো জব পোস্টিং এবং যোগ্যতার শর্ত ভালোভাবে পড়েই অ্যাপ্লিকেশন জমা দেওয়া সবচেয়ে নিরাপদ।
গাড়িতে ইঞ্জিন বন্ধ হওয়ার পরও আগুনের ঝুঁকি! যুক্তরাষ্ট্রে ১৫ লাখের বেশি গাড়ি রিকল
অপারেশনের সময় পটাশিয়াম দেওয়ার পর পরই প্যারালাইজড বৃদ্ধা, হাসপাতালের বিরুদ্ধে পরিবারের অভিযোগ
রকেট বানিয়ে নাসার চ্যালেঞ্জে অংশ নেওয়ার সুযোগ, আবেদন শেষ ১৪ সেপ্টেম্বর
যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ফার্ম তাদের যোগ্য গাড়ির ইন্স্যুরেন্স গ্রাহকদের মধ্যে ৫ বিলিয়ন ডলারের এককালীন ক্যাশব্যাক দেওয়া শুরু করেছে। কোম্পানির ১০০ বছরের বেশি ইতিহাসে এটিই সবচেয়ে বড় ডিভিডেন্ড কর্মসূচি। দেশজুড়ে ৪ কোটি ৯০ লাখের বেশি ইন্স্যুরেন্স করা গাড়ির গ্রাহক এই অর্থ ফেরতের আওতায় আসতে পারেন। কারা এই টাকা পাবেন - ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে যেকোনো সময়ে স্টেট ফার্ম মিউচুয়াল অটোমোবাইল ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির ব্যক্তিগত গাড়ির ইন্স্যুরেন্স পলিসি চালু থাকলে গ্রাহক এই ডিভিডেন্ড পাওয়ার যোগ্য হতে পারেন। তবে নির্ধারিত ন্যূনতম অর্থের শর্তও প্রযোজ্য। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ২০২৫ সালের মধ্যে পলিসি থাকলে বর্তমানে স্টেট ফার্মের গ্রাহক না থাকলেও ডিভিডেন্ড পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। কত টাকা পাওয়া যাবে - প্রতিটি গাড়ির জন্য গড়ে প্রায় ১০০ ডলার করে দেওয়ার কথা জানিয়েছে স্টেট ফার্ম। তবে সবার জন্য একই পরিমাণ অর্থ নয়। ২০২৫ সালে কত প্রিমিয়াম পরিশোধ করা হয়েছে এবং কোন রাজ্যে পলিসিটি ছিল, তার ওপর ডিভিডেন্ডের পরিমাণ নির্ভর করবে। বিভিন্ন রাজ্যে এই হার ভিন্ন হওয়ায় কারও পাওয়া অর্থ ১০০ ডলারের বেশি, আবার কারও কম হতে পারে। আলাদা করে আবেদন করতে হবে না - এই অর্থ পাওয়ার জন্য গ্রাহকদের কোনো আবেদন বা আলাদা করে ক্লেইম জমা দিতে হবে না। স্টেট ফার্ম জানিয়েছে, যোগ্য গ্রাহকদের ধাপে ধাপে অর্থ পাঠানো হচ্ছে এবং পুরো বিতরণ প্রক্রিয়া কয়েক মাস ধরে চলবে। যাদের স্টেট ফার্মের কাছে ইমেইল ঠিকানা রয়েছে, তারা ডিভিডেন্ড পাওয়ার বিষয়ে ইমেইল এবং অর্থ গ্রহণের নির্দেশনা পেতে পারেন। যাদের নিবন্ধিত ইমেইল ঠিকানা নেই, তাদের ডাকযোগে চেক পাঠানো হবে। কেন গ্রাহকদের টাকা ফেরত দিচ্ছে স্টেট ফার্ম - স্টেট ফার্মের ২০২৫ সালের আর্থিক ফল প্রত্যাশার চেয়ে ভালো হওয়ায় এই ডিভিডেন্ড দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কোম্পানির মতে, গাড়ি মেরামতের খরচ কমে আসা এবং দুর্ঘটনার হার কমার মতো বিষয়গুলো তাদের গাড়ির ইন্স্যুরেন্স ব্যবসায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। এটি শুধু ক্যাশব্যাক নয়, একই সময়ে স্টেট ফার্ম ৪০টি রাজ্যে গাড়ির ইন্স্যুরেন্সের প্রিমিয়াম গড়ে প্রায় ১০ শতাংশ কমিয়েছে। কোম্পানির হিসাবে, এসব হার কমানোর ফলে গ্রাহকদের বছরে প্রায় ৪.৬ বিলিয়ন ডলার সাশ্রয় হচ্ছে। স্টেট ফার্মের এই অর্থ ফেরত কোনো ইন্স্যুরেন্স ক্লেইমের টাকা বা আদালতের কোনো নিষ্পত্তির অর্থ নয়। এটি স্টেট ফার্ম মিউচুয়ালের যোগ্য গ্রাহকদের জন্য এককালীন ডিভিডেন্ড। অর্থাৎ ২০২৫ সালে যোগ্য গাড়ির ইন্স্যুরেন্স পলিসি থাকা গ্রাহকদের মধ্যে যারা শর্ত পূরণ করছেন, তাদের কাছেই এই অর্থ পাঠানো হচ্ছে।
ভার্জিনিয়ায় কর্মস্থলে যাওয়ার পথে আইসিইর হাতে আটক অভিবাসী, হাসপাতালে পরীক্ষায় মিলল মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ
ছেলেকে বাঁচাতে নদীতে ঝাঁপ, নিজের জীবন দিয়ে সন্তানকে বাঁচালেন মা
বিক্রি কমে বন্ধ হচ্ছে ট্রাম্পের দুই বড় দোকান, কমেছে ক্রেতার ভিড়
নবজাতক সন্তানকে বুকে বেঁধে গভীর রাতে জিমে গিয়ে ব্যায়াম করার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের মা ও ইনফ্লুয়েন্সার অ্যাঞ্জেলা হোলম। ভিডিওতে তাকে শিশুকে সঙ্গে নিয়ে ট্রেডমিলে হাঁটা এবং ওজন তোলার ব্যায়াম করতে দেখা যায়। ঘটনাটি নিয়ে কেউ শিশুর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন, আবার কেউ প্রসবের পর নিজের শরীর ও মানসিক সুস্থতার জন্য সময় বের করার প্রশংসা করেছেন। ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, রাত ৯টার পর হোলম একটি নির্জন পার্কিং এলাকা দিয়ে শিশুকে নিয়ে জিমে প্রবেশ করেন। পরে শিশুটিকে বুকে বিশেষ ক্যারিয়ারে বেঁধে ট্রেডমিলে হাঁটতে এবং অন্যান্য ব্যায়াম করতে দেখা যায়। ভিডিওটি ২ দশমিক ২ মিলিয়নের বেশি বার দেখা হয়েছে বলে নিউইয়র্ক পোস্ট জানিয়েছে। হোলম পাঁচ সন্তানের মা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মাতৃত্ব ও পারিবারিক জীবন নিয়ে নিয়মিত ভিডিও প্রকাশ করেন। ভাইরাল ভিডিওতে ব্যবহৃত শিশুবহনকারী ক্যারিয়ারটি তার নিজের তৈরি ও বিক্রি করা পণ্য বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তার অনলাইন অ্যাকাউন্টগুলোতেও মাতৃত্ব, সন্তানদের যত্ন এবং দৈনন্দিন জীবনের নানা বিষয় নিয়ে নিয়মিত কনটেন্ট প্রকাশ করা হয়। তবে ভিডিওটি প্রকাশের পর অনেক দর্শক শিশুকে সঙ্গে নিয়ে ট্রেডমিলে ব্যায়াম করাকে ঝুঁকিপূর্ণ বলে মন্তব্য করেন। তাদের আশঙ্কা, ব্যায়ামের সময় মা হঠাৎ ভারসাম্য হারিয়ে পড়ে গেলে শিশুটিও গুরুতরভাবে আহত হতে পারে। বিশেষ করে ট্রেডমিল, ওজন তোলার সরঞ্জাম ও জিমের অন্যান্য যন্ত্রপাতির আশপাশে ছোট শিশুকে রাখার বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তারা। শিশুদের জিমে ব্যায়ামের জায়গায় রাখার ঝুঁকি নিয়ে এর আগেও সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা। যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ইনডিপেনডেন্ট হেলথ ক্লাব অ্যাসোসিয়েশন বলেছে, ব্যায়ামের জায়গায় ছোট শিশুদের জন্য পড়ে যাওয়ার ঝুঁকি, ভারী ওজন, ধারালো প্রান্ত এবং কোনো যন্ত্র নষ্ট হয়ে যাওয়ার মতো নানা বিপদ থাকতে পারে। সংস্থাটি পরামর্শ দিয়েছে, শিশুকে ব্যায়ামের যন্ত্রপাতি থেকে দূরে এবং নিরাপদ, নির্দিষ্ট জায়গায় রাখা উচিত। ট্রেডমিল নিয়ে উদ্বেগের পেছনে বাস্তব ঘটনাও রয়েছে। বার্মিংহাম চিলড্রেনস হাসপাতাল এনএইচএস ফাউন্ডেশন ট্রাস্টের গবেষকেরা ট্রেডমিল ব্যবহারের সময় শিশুদের আহত হওয়ার ঘটনা বিশ্লেষণ করেছিলেন। গবেষণায় ২৯ শিশুর ট্রেডমিল-সম্পর্কিত আঘাতের ঘটনা পাওয়া যায়। এসব আঘাতের মধ্যে গভীর পোড়া ও দাগের মতো গুরুতর ক্ষতও ছিল। গবেষকেরা বলেছিলেন, এ ধরনের দুর্ঘটনা প্রতিরোধযোগ্য এবং শিশুদের ট্রেডমিলের কাছাকাছি যাওয়ার সুযোগ কমানো প্রয়োজন। তবে হোলমের ভিডিও নিয়ে প্রতিক্রিয়া একতরফা ছিল না। অনেক মা ও অনুসারী তার পক্ষেও কথা বলেছেন। তাদের কেউ কেউ বলেছেন, সন্তান জন্মের পর শরীরচর্চা তাদের মানসিকভাবে ভালো থাকতে সাহায্য করেছে। কেউ কেউ নিজেদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলেছেন, সন্তানকে সঙ্গে নিয়েও তারা ব্যায়াম করেছেন। অন্যদিকে, কয়েকজন দর্শক প্রশ্ন তুলেছেন, শিশুটিকে দেখাশোনার জন্য পরিবারের অন্য কেউ থাকলে তাকে সঙ্গে নিয়ে জিমে যাওয়ার প্রয়োজন ছিল কি না। কেউ কেউ আবার রাতের বেলায় এমন ব্যায়াম করার সিদ্ধান্ত নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। ফলে ভিডিওটি শুধু শিশুর নিরাপত্তা নয়, সন্তান জন্মের পর মায়েদের নিজের জন্য সময় বের করা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যক্তিগত জীবন প্রকাশ এবং অন্যদের বিচার করার প্রবণতা নিয়েও নতুন আলোচনা তৈরি করেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হোলমের এই ভিডিওকে কেন্দ্র করে মূল বিতর্ক এখন নিরাপত্তা বনাম ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তকে ঘিরে। সন্তান জন্মের পর নিয়মিত শরীরচর্চা মায়েদের শারীরিক ও মানসিক সুস্থতার জন্য উপকারী হতে পারে। তবে শিশুকে সঙ্গে নিয়ে ট্রেডমিল বা ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহারের ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতার প্রয়োজন রয়েছে বলে নিরাপত্তা-সংক্রান্ত নির্দেশনাগুলোতে জোর দেওয়া হয়েছে। ঘটনাটি আবারও দেখিয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একজন মায়ের দৈনন্দিন জীবনের কয়েক সেকেন্ডের ভিডিওও কীভাবে মুহূর্তে লাখো মানুষের আলোচনার বিষয় হয়ে উঠতে পারে। একই সঙ্গে ভাইরাল হওয়ার আগে এমন ভিডিওতে থাকা সম্ভাব্য নিরাপত্তাঝুঁকি নিয়ে সচেতনতার প্রয়োজনীয়তাও সামনে এসেছে।
সন্তানদের নিতে এসে ফিরলেন লাশ হয়ে, টেক্সাসে স্বামীর হাতে স্ত্রীর মর্মান্তিক পরিণতি
যুক্তরাষ্ট্রে ইসলামবিরোধী বিক্ষোভ ঘিরে উত্তেজনা, সংঘর্ষে জড়াল দুই পক্ষ