আমেরিকা

টেক্সাসে মিশর ফুটবল দলের কর্মকর্তার সঙ্গে পুলিশের ধাক্কাধাক্কি, পরে বৈঠকে মিটমাট

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ৫, ২০২৬ ২০:৩২
ভাইরাল ঘটনার পর ডালাস পুলিশ ও মিশর দলের প্রতিনিধিদের মধ্যে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ছবি: সংগৃহীত
ভাইরাল ঘটনার পর ডালাস পুলিশ ও মিশর দলের প্রতিনিধিদের মধ্যে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ছবি: সংগৃহীত

টেক্সাসের ডালাসে বিশ্বকাপ চলাকালে মিশর জাতীয় ফুটবল দলের এক কর্মকর্তার সঙ্গে পুলিশের ধাক্কাধাক্কির ঘটনায় সৃষ্টি হওয়া উত্তেজনার অবসান হয়েছে। ভাইরাল হওয়া ওই ঘটনার পর ডালাস পুলিশ ও মিশর দলের প্রতিনিধিরা বৈঠকে বসেন। আলোচনার মাধ্যমে ভুল বোঝাবুঝির অবসান ঘটে এবং উভয় পক্ষ সৌহার্দ্যের প্রতীক হিসেবে উপহার বিনিময় করে।

 

ঘটনাটি ঘটে ২ জুলাই ডালাসে মিশর দলের হোটেলে। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে এক পুলিশ কর্মকর্তার সঙ্গে মিশর দলের টিম ডিরেক্টর ইব্রাহিম হাসানের উত্তপ্ত বাকবিতণ্ডা ও ধাক্কাধাক্কির দৃশ্য দেখা যায়। সে সময় দলের কয়েকজন খেলোয়াড় ও কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন।

 

মিশর দলের দাবি, একজন খেলোয়াড় ভক্তদের সঙ্গে ছবি তুলছিলেন। এ সময় পুলিশ সদস্য অপ্রয়োজনীয়ভাবে হস্তক্ষেপ করেন এবং টিম ডিরেক্টর ইব্রাহিম হাসানকে ধাক্কা দেন। অন্যদিকে ডালাস পুলিশ জানায়, হোটেল কর্তৃপক্ষের অনুরোধে তারা সেখানে গিয়েছিল এবং পরিচয়পত্র (ক্রেডেনশিয়াল) যাচাইকে কেন্দ্র করেই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পরে ঘটনাস্থলেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।

 

ঘটনার ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। এরপর শনিবার ডালাস পুলিশ জানায়, তারা মিশর দলের প্রতিনিধি ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছে। বৈঠকে উভয় পক্ষ জার্সি ও স্মারক উপহার বিনিময় করে এবং সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টির সমাধান হয়।

 

মিশর দলের প্রধান কোচ হোসাম হাসানও পরে জানান, পুলিশ তাদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছে এবং তিনি বিষয়টিকে সমাপ্ত বলে মনে করছেন। একই সঙ্গে তিনি বিশ্বকাপ আয়োজনে নিরাপত্তা ব্যবস্থার প্রশংসা করেন।

 

তবে ঘটনাটি নিয়ে প্রশ্ন পুরোপুরি থেমে যায়নি। ডালাস সিটি কাউন্সিলের সদস্য অ্যাডাম বাজালদুয়া ভাইরাল ভিডিওর প্রেক্ষিতে ঘটনাটির পূর্ণাঙ্গ ও নিরপেক্ষ তদন্তের আহ্বান জানিয়েছেন।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
ডিটেনশনে থাকা নারী ছবি:সংগৃহীত
গর্ভবতী নারী সপ্তাহের পর সপ্তাহ ডিটেনশনে, ইমিগ্রেশন আইনজীবীর প্রতারণায় দিশেহারা পরিবার

যুক্তরাষ্ট্রে ইমিগ্রেশন ডিটেনশনে থাকা গর্ভবতী বোনকে মুক্ত করতে আইনজীবীর পেছনে ৩ হাজার ডলার খরচ করেছিলেন কেলি ওকাম্পো। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই অর্থ দিয়ে বোনকে ডিটেনশন থেকে বের করা তো সম্ভব হয়নি, বরং তিনি দাবি করছেন, পুরো ঘটনাটিই ছিল একটি প্রতারণা।   বোনকে ডিটেনশন থেকে মুক্ত করার আশায় কেলি একজন আইনজীবীর সহায়তা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। এজন্য তিনি ৩ হাজার ডলার পরিশোধ করেন। তার আশা ছিল, আইনজীবী আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তার গর্ভবতী বোনকে দ্রুত মুক্ত করতে পারবেন।   কিন্তু সেই আশা পূরণ হয়নি। অর্থ দেওয়ার পরও তার বোন ডিটেনশনেই থেকে যান। পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে গিয়ে কেলি বুঝতে পারেন, তিনি যে আইনি সহায়তার জন্য অর্থ দিয়েছিলেন, সেটি নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন রয়েছে।পরে নিজের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে গিয়ে কেলি বলেন, “এটা ছিল প্রতারণা।”   ঘটনাটি যুক্তরাষ্ট্রে ইমিগ্রেশন ডিটেনশনে থাকা ব্যক্তিদের পরিবারের জন্য আইনি সহায়তা নেওয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকার প্রয়োজনীয়তাও সামনে এনেছে। বিশেষ করে ডিটেনশনে থাকা স্বজনকে দ্রুত মুক্ত করার আশায় পরিবারগুলো অনেক সময় জরুরি ভিত্তিতে আইনজীবীর সন্ধান করে এবং বড় অঙ্কের অর্থ পরিশোধ করে।   তবে কোনো আইনজীবীকে অর্থ দেওয়ার আগে তার লাইসেন্স, পরিচয়, আইনজীবী হিসেবে কাজের অনুমোদন এবং দেওয়া আইনি সেবার শর্ত যাচাই করা গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে অর্থ পরিশোধের ক্ষেত্রে লিখিত চুক্তি ও রসিদ রাখাও প্রয়োজন।   কেলি ওকাম্পোর ঘটনায় ঠিক কীভাবে প্রতারণাটি ঘটেছে এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে কোনো আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না, তা নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। ফলে এ ঘটনায় কাউকে অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করার আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক তথ্যের অপেক্ষা করা প্রয়োজন।

সামিয়া ইসলাম প্রকাশ: আগস্ট ২০, ২০২৬ ৮:২৯
অভিযুক্ত স্ত্রী ছবি:সংগৃহীত

ফ্লোরিডায় গাড়ি চালানোর সময় তর্কের জেরে স্বামীর কান কামড়ে ছিঁড়ে ফেলেন স্ত্রী

ক্যালিফোর্নিয়ার মানচিত্র ছবি:সংগৃহীত

হরমুজ প্রণালী আমেরিকার হলে ক্যালিফোর্নিয়াও ইরানের, ট্রাম্পকে তেহরানের পাল্টা জবাব

ভিসার প্রতীকী ছবি:সংগৃহীত

নিউজিল্যান্ডে অভিবাসীদের স্থায়ী বসবাসের পথে নতুন বেতন নিয়ম, ২৪ আগস্ট থেকে কার্যকর

টেক্সাসের সরকারি স্কুলে অভিবাসী শিক্ষক নিয়োগ নিষিদ্ধ করতে চান গভর্নর
টেক্সাসের সরকারি স্কুলে অভিবাসী শিক্ষক নিয়োগ নিষিদ্ধ করতে চান গভর্নর

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের সরকারি স্কুলগুলোতে এইচ-১বি ভিসায় বিদেশি শিক্ষক ও কর্মী নিয়োগ বন্ধ করার উদ্যোগ নিয়েছেন গভর্নর গ্রেগ অ্যাবট। আগামী বছর অঙ্গরাজ্য আইনসভায় এ বিষয়ে নিষেধাজ্ঞার প্রস্তাব তোলার কথা জানিয়েছেন তিনি।   টেক্সাসে সরকারি স্কুলগুলোতে বর্তমানে ৩৪০ জনের বেশি এইচ-১বি ভিসাধারী কর্মী রয়েছেন। তাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি কর্মী রয়েছেন ডালাস ইন্ডিপেনডেন্ট স্কুল ডিস্ট্রিক্টে বা ডালাস আইএসডিতে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, সেখানে ১৭১ জন এইচ-১বি ভিসাধারী কর্মী কাজ করছেন।   এইচ-১বি ভিসা মূলত যুক্তরাষ্ট্রে বিশেষ দক্ষতার প্রয়োজন এমন পেশায় বিদেশি কর্মীদের সাময়িকভাবে নিয়োগের সুযোগ দেয়। শিক্ষা খাতেও স্থানীয়ভাবে যোগ্য কর্মী পাওয়া কঠিন হলে স্কুল ডিস্ট্রিক্টগুলো এই ভিসার মাধ্যমে বিদেশি শিক্ষক নিয়োগ করতে পারে।   ডালাস আইএসডি জানিয়েছে, তারা মূলত যেসব পদে স্থানীয়ভাবে শিক্ষক পাওয়া কঠিন, সেসব পদ পূরণে এইচ-১বি ভিসা ব্যবহার করে। বিশেষ করে ইংরেজি-স্প্যানিশ দ্বিভাষিক শিক্ষা ও বিশেষ শিক্ষা বিভাগের শিক্ষক নিয়োগে এই কর্মসূচি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।   ডালাস আইএসডির তথ্য অনুযায়ী, বিদেশি শিক্ষকদেরও টেক্সাসের নির্ধারিত শিক্ষক সনদ, শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং ইংরেজি ভাষার দক্ষতার মতো শর্ত পূরণ করতে হয়। অর্থাৎ এই ভিসায় নিয়োগ পাওয়া শিক্ষকদের স্থানীয় শিক্ষকদের মতোই নির্দিষ্ট যোগ্যতার মানদণ্ড পূরণ করতে হয়।   তবে গভর্নর অ্যাবটের প্রস্তাবের পেছনে শুধু শিক্ষক নিয়োগের বিষয় নয়, সরকারি শিক্ষাব্যবস্থায় বিদেশি প্রভাব কমানোর বিষয়টিও রয়েছে। তিনি টেক্সাসের সরকারি স্কুলগুলোতে বিদেশি সরকার বা তাদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের উপহার ও অর্থায়নের ওপরও আরও কঠোর বিধিনিষেধ চান।   অ্যাবটের উদ্যোগের সমর্থকদের যুক্তি, করদাতাদের অর্থে পরিচালিত সরকারি স্কুলে স্থানীয় কর্মীদের চাকরির সুযোগকে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত। তবে বিরোধীদের আশঙ্কা, এইচ-১বি নিয়োগ বন্ধ হলে শিক্ষক সংকটে থাকা স্কুল ডিস্ট্রিক্টগুলো আরও চাপে পড়তে পারে।   বিশেষ করে টেক্সাসে দ্বিভাষিক শিক্ষা ও বিশেষ শিক্ষার মতো ক্ষেত্রে যোগ্য শিক্ষক পাওয়া অনেক স্কুলের জন্য ইতিমধ্যেই বড় চ্যালেঞ্জ। ফলে বিদেশি শিক্ষক নিয়োগ বন্ধ হলে এসব শূন্য পদ পূরণে স্কুল কর্তৃপক্ষকে নতুন ব্যবস্থা নিতে হবে।   এইচ-১বি নিয়োগ নিয়ে অ্যাবটের অবস্থানও নতুন নয়। এর আগে ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে তিনি টেক্সাসের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য সংস্থা ও সরকারি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে নতুন এইচ-১বি আবেদন স্থগিত রাখার নির্দেশ দিয়েছিলেন। এবার সরকারি স্কুলগুলোতেও একই ধরনের বিধিনিষেধ আনার উদ্যোগ নিচ্ছেন তিনি।   তবে প্রস্তাবটি এখনো আইনে পরিণত হয়নি। আগামী বছর টেক্সাস আইনসভায় এটি উত্থাপনের পর আইনপ্রণেতাদের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে সরকারি স্কুলে বিদেশি শিক্ষক ও অন্যান্য এইচ-১বি কর্মীদের ভবিষ্যৎ।   ফলে টেক্সাসে একদিকে স্থানীয় কর্মীদের জন্য চাকরির সুযোগ বাড়ানোর দাবি, অন্যদিকে শিক্ষক সংকট মোকাবিলায় বিদেশি কর্মীদের প্রয়োজন—এই দুই অবস্থানের মধ্যেই নতুন বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এসেছে এইচ-১বি কর্মসূচি।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ২০, ২০২৬ ৩:৫৯
নিউইয়র্কে বাড়ছে সরকারি চাকরির সুযোগ, ২০২৬ সালে এসব পদে রয়েছে নতুন সুযোগ

নিউইয়র্কে বাড়ছে সরকারি চাকরির সুযোগ, ২০২৬ সালে এসব পদে রয়েছে নতুন সুযোগ

মায়ের জন্মের মাত্র এক বছর পরই ফ্রোজেন হয়েছিল ভ্রূণ, ২৪ বছর পর সেই ভ্রূণ থেকেই জন্ম নিলেন এমা

মায়ের জন্মের মাত্র এক বছর পরই ফ্রোজেন হয়েছিল ভ্রূণ, ২৪ বছর পর সেই ভ্রূণ থেকেই জন্ম নিলেন এমা

প্রতিবন্ধী প্রাপ্তবয়স্কদের এসএসআই সুবিধা বন্ধের উদ্যোগ ট্রাম্প প্রশাসনের

পরিবারের সঙ্গে থাকাই কি বোঝা! প্রতিবন্ধী প্রাপ্তবয়স্কদের এসএসআই সুবিধা বন্ধের উদ্যোগ ট্রাম্প প্রশাসনের

ট্রাম্পের নতুন জন্মসূত্র নাগরিকত্ব নীতিতে কোন কোন দেশের মানুষ বেশি চাপে
ট্রাম্পের নতুন জন্মসূত্র নাগরিকত্ব নীতিতে কোন কোন দেশের মানুষ বেশি চাপে? বাংলাদেশিদের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা

যুক্তরাষ্ট্রে জন্মালেই নাগরিকত্ব পাওয়ার দীর্ঘদিনের নীতিকে আরও সীমিত করার উদ্যোগ নিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ৬ আগস্ট তিনি জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব এবং ‘বার্থ ট্যুরিজম’ নিয়ন্ত্রণে দুটি নতুন নির্বাহী আদেশে সই করেন। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রে সন্তান জন্ম দেওয়ার উদ্দেশ্যে ভ্রমণ করা বিদেশিদের ভিসা, প্রবেশাধিকার এবং ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ক্ষেত্রে কঠোরতার মুখে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে বাণিজ্যিক সারোগেসির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে সন্তান জন্ম দেওয়ার কিছু ব্যবস্থাকেও নতুন নাগরিকত্ব নীতির আওতায় আনা হয়েছে।    নতুন নির্বাহী আদেশের একটি নির্দিষ্ট কিছু শ্রেণির শিশুদের ক্ষেত্রে মার্কিন নাগরিকত্বের সরকারি স্বীকৃতি সীমিত করার নির্দেশ দিয়েছে। এতে এমন শিশুদের কথা বলা হয়েছে, যাদের কোনো অভিভাবকই মার্কিন নাগরিক নন এবং যাদের বাবা-মায়ের মধ্যে কেউ বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠনের সদস্য, বিদেশি সরকারের নির্দিষ্ট কর্মকর্তা বা কর্মী, অথবা সন্তানের জন্মের মাধ্যমে নাগরিকত্ব পাওয়ার উদ্দেশ্যে বাণিজ্যিক লেনদেনে যুক্ত ছিলেন। বাণিজ্যিক সারোগেসির ব্যবস্থাও এই তালিকায় স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।   অন্য নির্বাহী আদেশটি মূলত ‘বার্থ ট্যুরিজম’ ঠেকানোর দিকে নজর দিয়েছে। অর্থাৎ কেউ যদি অস্থায়ী ভিসা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের মূল উদ্দেশ্য হিসেবে সন্তান জন্ম দেওয়াকে বেছে নেন, তাহলে তাঁর ভিসা বাতিল, প্রবেশে বাধা বা ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞার মতো ব্যবস্থা নেওয়ার পথ তৈরি করা হয়েছে। এই নীতির আওতায় বার্থ ট্যুরিজমে সহায়তাকারী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।    এই পরিবর্তনের প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়তে পারে সেই দেশগুলোর নাগরিকদের ওপর, যেখান থেকে যুক্তরাষ্ট্রে সন্তান জন্ম দেওয়ার উদ্দেশ্যে ভ্রমণের ঘটনা তুলনামূলক বেশি নথিভুক্ত হয়েছে। মার্কিন কংগ্রেসের একটি শুনানিতে চীন ও রাশিয়ার নাগরিকদের বার্থ ট্যুরিজমে বড় অংশগ্রহণের কথা উঠে এসেছে। একই শুনানিতে একজন সাক্ষী চীনকে সবচেয়ে বড় এবং ভারতকে দ্বিতীয় বৃহত্তম উৎস হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন। তবে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের কাছে বার্থ ট্যুরিজম নিয়ে পূর্ণাঙ্গ সরকারি পরিসংখ্যান নেই।    ভারতীয় নাগরিকদের ক্ষেত্রেও বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারত থেকে যুক্তরাষ্ট্রে সন্তান জন্ম দেওয়ার উদ্দেশ্যে ভ্রমণের ঘটনা থাকলেও সংগঠিত বার্থ ট্যুরিজম ব্যবসার বড় অংশ ঐতিহাসিকভাবে চীন ও রাশিয়ার ধনী গ্রাহকদের কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে। নাইজেরিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া, তাইওয়ান এবং মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশের নাগরিকদেরও এ ধরনের ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত থাকার তথ্য বিভিন্ন তদন্তে উঠে এসেছে।    তবে নতুন নীতির অর্থ এই নয় যে যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া সব শিশুর নাগরিকত্ব বাতিল হয়ে যাচ্ছে। ৬ আগস্টের আদেশটি নির্দিষ্ট কিছু পরিস্থিতিকে লক্ষ্য করে তৈরি করা হয়েছে। এর আগে ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ট্রাম্প যে বিস্তৃত নির্বাহী আদেশে অবৈধভাবে বা অস্থায়ীভাবে যুক্তরাষ্ট্রে থাকা বাবা-মায়ের সন্তানদের জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব সীমিত করার চেষ্টা করেছিলেন, সেটি আরও বড় পরিসরের ছিল।    ওই আগের উদ্যোগের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা হয়। শেষ পর্যন্ত ৩০ জুন ২০২৬ মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের ‘ট্রাম্প বনাম বারবারা’ মামলার রায়ে ২০২৫ সালের নির্বাহী আদেশের নাগরিকত্ব সীমিত করার বিধানকে সংবিধানের চতুর্দশ সংশোধনীর সঙ্গে সাংঘর্ষিক হিসেবে প্রত্যাখ্যান করা হয়। আদালতের রায়ে যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া শিশুদের নাগরিকত্বের সাংবিধানিক সুরক্ষার বিষয়টি পুনরায় সামনে আসে।   এর কয়েক সপ্তাহ পর নতুন নির্বাহী আদেশ দিয়ে ট্রাম্প প্রশাসন এবার তুলনামূলকভাবে নির্দিষ্ট কয়েকটি পরিস্থিতিকে লক্ষ্য করেছে। এর মধ্যে বার্থ ট্যুরিজম ও বাণিজ্যিক সারোগেসি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।   নতুন নীতির কারণে যুক্তরাষ্ট্রে সন্তান জন্ম দেওয়ার পরিকল্পনা করা বিদেশি পরিবারের জন্য ভিসা যাচাই আরও কঠোর হতে পারে। বিশেষ করে ভিজিটর ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সন্তান জন্ম দেওয়ার উদ্দেশ্য গোপন করলে তা ভিসা জটিলতা তৈরি করতে পারে। এর আগে থেকেই মার্কিন ভিসা নীতিতে মূল উদ্দেশ্য হিসেবে সন্তান জন্ম দেওয়ার জন্য ভ্রমণকে অনুমোদিত পর্যটন উদ্দেশ্য হিসেবে বিবেচনা করা হয় না।    মার্কিন প্রশাসনের নতুন পদক্ষেপের ফলে বার্থ ট্যুরিজমকে ঘিরে গড়ে ওঠা হাসপাতাল বুকিং, বাসস্থান, ভিসা পরামর্শ এবং অন্যান্য সেবা দেওয়া বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপরও নজরদারি বাড়তে পারে। একই সঙ্গে সারোগেসির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে সন্তান জন্ম দেওয়া বিদেশি পরিবারের ক্ষেত্রে নাগরিকত্বের সরকারি নথি পাওয়ার বিষয়েও নতুন আইনি প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।   তবে নতুন নির্বাহী আদেশগুলোর বাস্তব প্রয়োগ নিয়েও আইনি লড়াইয়ের সম্ভাবনা রয়েছে। কারণ জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের সাংবিধানিক সুরক্ষা, ফেডারেল আইন এবং প্রেসিডেন্টের নির্বাহী ক্ষমতার সীমা নিয়ে সুপ্রিম কোর্ট ইতোমধ্যে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত দিয়েছে। ফলে ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন পদক্ষেপও আদালতে চ্যালেঞ্জ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।   বাংলাদেশি পরিবারগুলোর জন্যও বিষয়টি নজরে রাখার মতো। বিশেষ করে যারা ভিজিটর ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণ, সন্তান জন্মদান বা সারোগেসির পরিকল্পনা করছেন, তাঁদের ক্ষেত্রে ভ্রমণের উদ্দেশ্য, ভিসার শর্ত এবং বর্তমান মার্কিন অভিবাসন নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। নতুন নির্বাহী আদেশের আওতায় কোন পরিস্থিতিতে কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে, তা বাস্তবে নির্ধারিত হবে প্রশাসনিক নির্দেশনা ও পরবর্তী আদালতের সিদ্ধান্তের মাধ্যমে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ২০, ২০২৬ ১:৩৯
মুসলিম রিপোর্টারকে সাধারণ বেসিনেই পা ধোয়ার নির্দেশ কর্মীদের

ডালাস বিমানবন্দরে ওজু নিয়ে বিতর্ক, মুসলিম রিপোর্টারকে সাধারণ বেসিনেই পা ধোয়ার নির্দেশ কর্মীদের

অবৈধ অভিবাসীদের কর সুবিধা দাবি ঠেকাতে আইআরএসের নতুন পদক্ষেপ

অবৈধ অভিবাসীদের কর সুবিধা দাবি ঠেকাতে আইআরএসের নতুন পদক্ষেপ

আমেরিকায় স্কুল ডিস্ট্রিক্টের ওয়েবসাইটে চাকরি খুঁজছেন?

আমেরিকায় স্কুল ডিস্ট্রিক্টের ওয়েবসাইটে চাকরি খুঁজছেন? আবেদন করার সহজ নিয়ম জানুন

0 Comments