জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব বাতিলের বিল আবারও উত্থাপন করলেন ওহাইওর সিনেটর, সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর নতুন বিতর্ক
যুক্তরাষ্ট্রে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব (Birthright Citizenship) নিয়ে বিতর্ক নতুন মোড় নিয়েছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশকে অসাংবিধানিক ঘোষণা করে সুপ্রিম কোর্টের রায় দেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব বাতিলের একটি বিল আবারও কংগ্রেসে উত্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছেন ওহাইও অঙ্গরাজ্যের রিপাবলিকান সিনেটর বার্নি মোরেনো।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম এনবিসি৪ (WCMH)-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্ট ৬-৩ ভোটে ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশ বাতিল করে। ট্রাম্প দায়িত্ব নেওয়ার প্রথম দিনই ওই আদেশে স্বাক্ষর করেছিলেন। তার যুক্তি ছিল, যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নিলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে নাগরিকত্ব পাওয়ার সাংবিধানিক অধিকার অবৈধভাবে অবস্থানকারী বা অস্থায়ী ভিসাধারী অভিবাসীদের সন্তানদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হওয়া উচিত নয়।
সুপ্রিম কোর্টের এই রায়ের পর বুধবার সিনেটর বার্নি মোরেনো একই উদ্দেশ্যে একটি বিল পুনরায় উত্থাপনের ঘোষণা দেন।
মোরেনো যে বিলটি পুনরায় উত্থাপন করেছেন, সেটি প্রথম ১৯৯৩ সালে প্রস্তাব করেছিলেন তৎকালীন ডেমোক্র্যাট সিনেটর হ্যারি রিড। বিলটির উদ্দেশ্য ছিল যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের ১৪তম সংশোধনীর নাগরিকত্ব সংক্রান্ত ধারা ব্যাখ্যা করে অবৈধ অভিবাসীদের সন্তানদের জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের সুযোগ সীমিত করা।
নতুন করে উত্থাপিত বিলে শুধু জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের বিষয়ই নয়, অবৈধ অভিবাসনের জন্য আরও কঠোর শাস্তি, প্রতি বছর অভিবাসী গ্রহণের সংখ্যা কমানো এবং আশ্রয়প্রার্থীদের সুযোগ সীমিত করারও প্রস্তাব রাখা হয়েছে।
বার্নি মোরেনো বলেন, তিনি হ্যারি রিডের প্রস্তাবিত "ঠিক একই বিল" আবারও কংগ্রেসে আনছেন।
তার ভাষায়, "ডেমোক্র্যাট পার্টিতে চরমপন্থীদের প্রভাব বাড়ার আগে তাদের নেতা হ্যারি রিড জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের অবসান, অবৈধ অভিবাসীদের ভোটাধিকার রোধ এবং অবৈধ শ্রম ব্যবহারকারী নিয়োগকর্তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য একটি চমৎকার বিল এনেছিলেন। আমি চাই, এবার এই বিলের ওপর ভোট হোক।"
তবে এই বিলের ইতিহাস ভিন্ন। ১৯৯০-এর দশকে বিলটি কমিটিতেই আটকে যায়। পরে ২০০৬ সালে হ্যারি রিড নিজেই এ ধরনের বিল আনার জন্য প্রকাশ্যে দুঃখ প্রকাশ করেন।
তিনি একসময় এটিকে নিজের রাজনৈতিক জীবনের "সবচেয়ে বড় ভুলগুলোর একটি" বলে উল্লেখ করেছিলেন। পরে সাংবাদিকদের বলেন, "আমি বিষয়টি ঠিকভাবে বুঝতে পারিনি। এমন প্রস্তাব দেওয়ায় আমি বিব্রত।"
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, বার্নি মোরেনো নিজেও একজন অভিবাসী। তিনি কলম্বিয়ায় জন্মগ্রহণ করেন এবং ১৮ বছর বয়সে মার্কিন নাগরিকত্ব গ্রহণের সময় নিজের কলম্বিয়ার নাগরিকত্ব ত্যাগ করেন।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে তিনি কংগ্রেসের আরও ২৭ সদস্যের সঙ্গে সুপ্রিম কোর্টকে ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশ বহাল রাখার আহ্বান জানিয়েছিলেন। সর্বশেষ রায়ের পরও তিনি দাবি করেন, আদালত ১৪তম সংশোধনীর সঠিক ব্যাখ্যা দেয়নি এবং এ বিষয়ে এখন কংগ্রেসের উদ্যোগ নেওয়া উচিত।
সুপ্রিম কোর্টের সংখ্যাগরিষ্ঠ বিচারপতিরা রায়ে বলেন, দীর্ঘদিনের সাংবিধানিক ব্যাখ্যা অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া ব্যক্তি স্বয়ংক্রিয়ভাবে নাগরিকত্ব লাভ করেন। যদিও বিচারপতি ব্রেট কাভানাফ সাংবিধানিক ব্যাখ্যার বিষয়ে ভিন্ন মত পোষণ করলেও তিনি ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশের বিপক্ষেই ভোট দেন। তার মতে, আদেশটি বিদ্যমান ফেডারেল আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ছিল।
রায়ের পর সামাজিক মাধ্যমে বার্নি মোরেনো ট্রাম্পের বক্তব্যের প্রতিধ্বনি করে বলেন, বর্তমান নীতি তথাকথিত 'বার্থ ট্যুরিজম' বা সন্তানকে মার্কিন নাগরিকত্ব দেওয়ার উদ্দেশ্যে বিদেশিদের যুক্তরাষ্ট্রে এসে সন্তান জন্ম দেওয়ার প্রবণতাকে উৎসাহিত করছে।
সেন্টার ফর ইমিগ্রেশন স্টাডিজ-এর হিসাব অনুযায়ী, প্রতি বছর পর্যটক ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে আসা নারীদের প্রায় ৩৩ হাজার শিশু জন্মগ্রহণ করে, যা দেশটিতে মোট জন্মের প্রায় ০.৯ শতাংশ।
মোরেনো জানিয়েছেন, ওয়াশিংটনে ফিরে আনুষ্ঠানিকভাবে তিনি বিলটি আবারও কংগ্রেসে উপস্থাপন করবেন।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের হোয়াইট হাউসের নতুন উপ-প্রেসসচিব হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন সাবেক সাংবাদিক বেনি রে হারমনি। এর আগে তিনি ‘রিয়েল আমেরিকাস ভয়েস’-এর হোয়াইট হাউস সংবাদদাতা হিসেবে কর্মরত ছিলেন। শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে নতুন এই দায়িত্ব পাওয়ার কথা নিশ্চিত করেন হারমনি। ট্রাম্প প্রশাসনে যোগ দিতে পেরে উচ্ছ্বাস প্রকাশের পাশাপাশি পূর্ববর্তী কর্মস্থলে হোয়াইট হাউসের খবর সংগ্রহের সুযোগ পাওয়াকেও একটি বড় সম্মান হিসেবে উল্লেখ করেছেন তিনি। তবে হোয়াইট হাউসে যোগ দেওয়ার আগে সম্প্রতি একটি বড় বিতর্কেও জড়িয়েছিলেন বেনি রে হারমনি। দক্ষিণপন্থী রাজনৈতিক কর্মী চার্লি কার্ক নিহত হওয়ার পর তাঁকে নিয়ে আবেগঘন মন্তব্য করে সমালোচনার মুখে পড়েন এই সাংবাদিক। এর জেরে ‘রিয়েল আমেরিকাস ভয়েস’ তাঁকে সাময়িকভাবে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেয় এবং পরবর্তীতে তিনি নিজেই চাকরি থেকে ইস্তফা দেন। তবে সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই ট্রাম্প প্রশাসনে এমন গুরুত্বপূর্ণ এক পদে আসীন হলেন তিনি। এদিকে, সদ্য পদত্যাগী ২৮ বছর বয়সী হোয়াইট হাউসের প্রেসসচিব ক্যারোলিন লেভিট গত মে মাসে দ্বিতীয় সন্তানের মা হন। এরপর জুলাইয়ে কাজে ফিরলেও মাত্র এক মাসের মাথায় তিনি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন। লেভিট জানান, দ্বিতীয়বার মা হওয়ার পর কাজের প্রচণ্ড চাপ সামলে হোয়াইট হাউসের মতো গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় প্রয়োজনীয় সময়, শক্তি ও মনোযোগ দেওয়া তাঁর পক্ষে কঠিন হয়ে পড়েছিল। মাতৃত্ব ও পেশাগত জীবনের এই টানাপোড়েনের কারণে তাঁর আকস্মিক পদত্যাগের পরই নতুন নেতৃত্বের সন্ধানে নামে ট্রাম্প প্রশাসন এবং চূড়ান্তভাবে বেনি রে হারমনিকেই এই পদে বেছে নেওয়া হয়।
নিউইয়র্কের ব্রঙ্কসে মেট্রো-নর্থ স্টেশনের পাশে ১ বিলিয়ন ডলারের আবাসন প্রকল্প, বিক্রির অপেক্ষায় জমি
নিউইয়র্কে ম র্মান্তিক সড়ক দু র্ঘটনায় প্রাণ গেল ২৪ বছরের বাংলাদেশি আইটি ইঞ্জিনিয়ার শাহ মো. আরদির
নিউইয়র্কের ব্যয়বহুল জীবন ছেড়ে ইতালিতে ১৩ হাজার ডলারে বাড়ি, নতুন ঠিকানায় মার্কিন দম্পতি
যুক্তরাষ্ট্রের উইসকনসিন অঙ্গরাজ্যের সবচেয়ে বড় মসজিদ 'ইসলামিক সোসাইটি অফ মিলওয়াকি'-এর প্রেসিডেন্ট সালাহ সারসৌরকে দেশত্যাগের (ডিপোর্টেশন) নির্দেশ দিয়েছেন একজন মার্কিন ইমিগ্রেশন বিচারক। ফিলিস্তিনি-আমেরিকান এই নাগরিক তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছেন এবং তিনি একজন মার্কিন স্থায়ী বাসিন্দা (পার্মানেন্ট রেসিডেন্ট)। শিকাগো ইমিগ্রেশন আদালতের বিচারক জেইমি সালিনার্ডি গত বুধবার এই রায় ঘোষণা করেন। রায়ে বলা হয়েছে, স্নায়ুযুদ্ধকালীন 'ইমিগ্রেশন অ্যান্ড ন্যাশনালিটি অ্যাক্ট' অনুযায়ী সারসৌর যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতির জন্য হুমকিস্বরূপ। তবে, গ্রিন কার্ডের আবেদনে সারসৌরের বিরুদ্ধে মিথ্যা তথ্য দেওয়ার যে অভিযোগ সরকার এনেছিল, বিচারক তা খারিজ করে দিয়েছেন। সালাহ সারসৌর ইসরায়েল-অধিকৃত পশ্চিম তীরে জন্মগ্রহণ করেন এবং বেড়ে ওঠেন। যুক্তরাষ্ট্রে তাঁর বিরুদ্ধে কোনো অপরাধের রেকর্ড নেই। তবে, কিশোর বয়সে এবং পরবর্তীতে ইসরায়েলি সামরিক আদালতে তাঁর বিরুদ্ধে সামরিক বাহিনীর ওপর পাথর ও পেট্রলবোমা নিক্ষেপ এবং অস্ত্র রাখার অভিযোগ আনা হয়েছিল। সারসৌর এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এবং দাবি করেছেন যে, তাকে নির্যাতন করে জোরপূর্বক স্বীকারোক্তি আদায় করা হয়েছিল। তাঁর আইনজীবীরা বলছেন, ইসরায়েলি সামরিক আদালতে ফিলিস্তিনিদের বিচারের নামে যে ব্যবস্থা চালু আছে, সেখানে ৯৬ শতাংশ ক্ষেত্রেই সাজা দেওয়া হয় এবং জোর করে স্বীকারোক্তি আদায়ের দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। মার্কিন সরকারের এই পদক্ষেপকে অনেকেই রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে মনে করছেন। বিশেষ করে ২০২৩ সালের অক্টোবরে শুরু হওয়া গাজা যুদ্ধের পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রে ফিলিস্তিনিদের পক্ষে কথা বলা বেশ কয়েকজন ব্যক্তি গ্রেপ্তার ও দেশত্যাগের হুমকির সম্মুখীন হয়েছেন। 'ইসলামিক সোসাইটি অফ মিলওয়াকি' দাবি করেছে যে, সারসৌরকে তার ফিলিস্তিনি ও মুসলিম পরিচয় এবং ফিলিস্তিনিদের অধিকার নিয়ে সোচ্চার হওয়ার কারণেই টার্গেট করা হয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসন বরাবরই ফিলিস্তিনপন্থী কণ্ঠস্বরগুলোকে ইহুদিবিদ্বেষী এবং চরমপন্থীদের সমর্থক হিসেবে আখ্যায়িত করে আসছে। তবে, অধিকারকর্মীরা বলছেন, ইসরায়েলি সরকারের সমালোচনা ও ফিলিস্তিনিদের অধিকার নিয়ে কথা বলা কোনোভাবেই ইহুদিবিদ্বেষ বা চরমপন্থার সমর্থন হতে পারে না। সারসৌরকে মার্চ মাসে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই) আটক করেছিল, তবে জুনের মাঝামাঝি সময়ে এক ফেডারেল বিচারক তাঁর আটকের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুললে তাকে মুক্তি দেওয়া হয়। সারসৌর টাইপ-২ ডায়াবেটিসে ভুগছেন এবং আইসিই-এর হেফাজতে থাকার সময় তাঁর ওজন ৩০ পাউন্ডের বেশি কমে গেছে বলে তাঁর আইনজীবীরা জানিয়েছেন। সারসৌর এই রায়কে "গভীর হতাশাজনক" বলে অভিহিত করেছেন এবং এর বিরুদ্ধে আপিল করার কথা জানিয়েছেন। যতক্ষণ পর্যন্ত আইনি প্রক্রিয়া শেষ না হবে, ততক্ষণ পর্যন্ত তাঁকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বিতাড়িত করা যাবে না। সারসৌর আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, তাঁকে পশ্চিম তীরে ফেরত পাঠানো হলে তাঁর জীবন ঝুঁকির মধ্যে পড়বে।
কলেজে না পড়েও যুক্তরাষ্ট্রে বছরে ২ লাখ ডলার আয়, খুলছে নতুন ক্যারিয়ার পথ
এআই আধিপত্য ধরে রাখতে ট্রাম্পের বড় পদক্ষেপ, গঠিত হলো ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স ফোর্স’
ভার্জিনিয়ায় আজ মঞ্চস্থ হচ্ছে ‘অমানুষ’, জান্নাতুল টুম্পার নির্দেশনায় প্রথমবার তমালিকা ও সাঈদ বাবু
যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ড অঙ্গরাজ্যে অতিরিক্ত আবাসন ব্যয় দারিদ্র্যের অন্যতম বড় কারণ হয়ে উঠেছে। নতুন এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাজ্যটিতে পরিমাপ করা মোট দারিদ্র্যের প্রায় ২১ শতাংশের সঙ্গে গড়ে ওঠা আবাসন ব্যয়ের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। গবেষণাটি প্রকাশ করেছে দ্য পিউ চ্যারিটেবল ট্রাস্টস। পিউ-এর বিশ্লেষণে মেরিল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের সেই ১০টি অঙ্গরাজ্যের একটি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, যেখানে গড়ের তুলনায় বেশি আবাসন ব্যয় দারিদ্র্যের ওপর সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলছে। তালিকায় রয়েছে হাওয়াই, ক্যালিফোর্নিয়া, ওয়াশিংটন ডিসি, নিউ জার্সি, ম্যাসাচুসেটস, কলোরাডো, মেরিল্যান্ড, কানেকটিকাট, নিউইয়র্ক ও নিউ হ্যাম্পশায়ার। প্রতিবেদনটির ভিত্তি হলো যুক্তরাষ্ট্রের সম্পূরক দারিদ্র্য পরিমাপ পদ্ধতি। প্রচলিত দারিদ্র্য পরিমাপের তুলনায় এই পদ্ধতিতে পরিবারের আয় ছাড়াও সরকারি সহায়তা, কর, জীবনযাত্রার ব্যয় এবং বিশেষ করে স্থানীয় আবাসন ব্যয়ের পার্থক্য বিবেচনা করা হয়। ফলে কোনো এলাকায় বাড়ি বা ভাড়া বেশি হলে সেই অতিরিক্ত ব্যয় পরিবারের প্রকৃত আর্থিক অবস্থার ওপর কী প্রভাব ফেলছে, তা আরও স্পষ্টভাবে বোঝা যায়। মেরিল্যান্ডে ২০২২ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে এই সম্পূরক দারিদ্র্য পরিমাপ অনুযায়ী দারিদ্র্যের হার ছিল ১১ দশমিক ১ শতাংশ। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় হার ছিল ১২ দশমিক ৬ শতাংশ। অর্থাৎ জাতীয় গড়ের তুলনায় মেরিল্যান্ডের সামগ্রিক দারিদ্র্যের হার কিছুটা কম হলেও উচ্চ আবাসন ব্যয় রাজ্যের নিম্নআয়ের পরিবারগুলোর ওপর বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করছে। যুক্তরাষ্ট্রে আবাসন সংকট পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে। দেশটিতে আনুমানিক ৪০ লাখ থেকে ৭০ লাখ বাড়ির ঘাটতি রয়েছে বলে পিউ-এর বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হয়েছে। পর্যাপ্ত নতুন বাড়ি তৈরি না হওয়ায় চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকছে এবং এর ফলে ভাড়া ও বাড়ির দাম দীর্ঘমেয়াদে উঁচু থাকছে। মেরিল্যান্ডের নিজস্ব আবাসন-চিত্রও একই সমস্যার ইঙ্গিত দেয়। রাজ্যের ২০২৫ সালের আবাসন চাহিদা মূল্যায়ন অনুযায়ী, মেরিল্যান্ডে প্রায় ৭ লাখ ৬৫ হাজার ভাড়াটিয়া পরিবার রয়েছে এবং তাদের মধ্যে প্রায় ৪৭ শতাংশ আবাসন ব্যয়ের চাপে রয়েছে। অর্থাৎ এসব পরিবার তাদের আয়ের উল্লেখযোগ্য অংশ বাসস্থানের পেছনে ব্যয় করছে। রাজ্য সরকারের গবেষণায় আরও বলা হয়েছে, মেরিল্যান্ডে সাশ্রয়ী আবাসনের বড় ঘাটতি রয়েছে। ৮০ শতাংশের নিচে মধ্যম আয়সীমার পরিবারের জন্য ২ লাখ ৭৫ হাজারের বেশি সাশ্রয়ী ভাড়ার বাড়ির ঘাটতি রয়েছে বলে হিসাব করা হয়েছে। একই সঙ্গে করোনা মহামারির পর আবাসন নির্মাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়েনি। দীর্ঘমেয়াদে পরিস্থিতি সামাল দিতে মেরিল্যান্ডে প্রায় ৫ লাখ ৯০ হাজার নতুন আবাসিক ইউনিট প্রয়োজন হবে বলে রাজ্যের আবাসন চাহিদা মূল্যায়নে বলা হয়েছে। বর্তমান নির্মাণের গতি বজায় থাকলে এই প্রয়োজন পূরণ করা কঠিন হবে। রাজ্য সরকারের প্রতিবেদনে স্থানীয় ভূমি-ব্যবহার নীতি, কম ঘনত্বের নির্মাণ এবং অন্যান্য নিয়ন্ত্রক বাধাকেও আবাসন সরবরাহ কম থাকার অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। পিউ-এর বিশ্লেষণ অনুযায়ী, আবাসন সরবরাহ বাড়িয়ে ভাড়া কমানো গেলে দারিদ্র্য উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব। গবেষণায় দেখা গেছে, সংশ্লিষ্ট রাজ্যগুলোতে মূল্যস্ফীতি সমন্বিত ভাড়া প্রায় ২০ শতাংশ কমানো সম্ভব হলে দারিদ্র্য ১৮ থেকে ২৬ শতাংশ পর্যন্ত কমতে পারে এবং শিশু দারিদ্র্য কমতে পারে ২১ থেকে ৩৮ শতাংশ পর্যন্ত। শুধু খাদ্য সহায়তা বা নগদ সহায়তা বাড়ালেই নিম্নআয়ের পরিবারের আর্থিক সংকট পুরোপুরি দূর করা সম্ভব নয়। কারণ পরিবারের আয়ের বড় একটি অংশ যদি বাড়িভাড়া বা আবাসন ব্যয়ে চলে যায়, তাহলে অন্যান্য প্রয়োজনীয় খরচ মেটানোর জন্য অর্থ কমে যায়। পিউ-এর গবেষণাও দেখিয়েছে, উচ্চ আবাসন ব্যয় সরকারি দারিদ্র্যবিরোধী কর্মসূচির কিছু ইতিবাচক প্রভাবকে দুর্বল করে দিতে পারে। মেরিল্যান্ডে এই সংকটের প্রভাব শুধু নিম্নআয়ের ভাড়াটিয়াদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। রাজ্যের তথ্য অনুযায়ী, ২০০০ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের পরিবারের জন্য গড় দামের বাড়ি কেনার সক্ষমতা ৭৫ শতাংশ থেকে কমে ৪৯ শতাংশের নিচে নেমে এসেছে। একই সময়ে বাড়ির দাম ও ভাড়ার চাপ বাড়তে থাকায় মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্যও আবাসন ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠেছে। পিউ-এর গবেষণার মূল বার্তা হলো, দারিদ্র্য কমাতে আয় বাড়ানোর পাশাপাশি আবাসন ব্যয় কমানো এবং পর্যাপ্ত নতুন বাড়ি নির্মাণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। মেরিল্যান্ডের ক্ষেত্রে সাশ্রয়ী আবাসন নির্মাণ বাড়ানো, জমি ব্যবহারের বিধিনিষেধ পর্যালোচনা এবং আবাসন সরবরাহের ঘাটতি কমানো হলে নিম্নআয়ের পরিবারগুলোর ওপর অর্থনৈতিক চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব হতে পারে। ফলে মেরিল্যান্ডের জন্য আবাসন সংকট এখন শুধু রিয়েল এস্টেট বা ভাড়ার বাজারের সমস্যা নয়; এটি দারিদ্র্য, পারিবারিক ব্যয় এবং সামগ্রিক জীবনযাত্রার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত একটি বড় অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ হিসেবে সামনে এসেছে।
জিম্মি উদ্ধারে নতুন বিশেষ দূত নিয়োগ ট্রাম্পের, দায়িত্ব পেলেন বেলারুশে সফল আলোচক জন কোয়েল
‘স্নেকহেড’ কি সত্যিই খাওয়া যায় না? যুক্তরাষ্ট্রে থাকা বাংলাদেশিদের জন্য যা জানা জরুরি