যুক্তরাষ্ট্রে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব (বার্থরাইট সিটিজেনশিপ) বাতিলের প্রচেষ্টা সুপ্রিম কোর্টে ব্যর্থ হওয়ার পর এবার তথাকথিত ‘বার্থ ট্যুরিজম’ বা সন্তানকে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব পাইয়ে দিতে বিদেশিদের দেশটিতে গিয়ে সন্তান জন্ম দেওয়ার প্রবণতার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে দেশটির বিচার বিভাগ (ডিওজে)। এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তি ও সংগঠনের বিরুদ্ধে তদন্ত ও বিচারকে অগ্রাধিকার দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে ফেডারেল কৌঁসুলিদের। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট ৬-৩ ভোটে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব সীমিত করার উদ্যোগ খারিজ করে দেয়। আদালতের রায় বহাল থাকার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বিচার বিভাগ একটি স্মারক জারি করে দেশজুড়ে ফেডারেল কৌঁসুলিদের নির্দেশ দেয়, যাতে তারা ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি (ডিএইচএস)-এর সঙ্গে সমন্বয় করে বার্থ ট্যুরিজম-সংক্রান্ত জালিয়াতি ও প্রতারণার তদন্তকে অগ্রাধিকার দেন। সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল কলিন ম্যাকডোনাল্ড স্মারকে বলেন, প্রতি বছর হাজারো বিদেশি ভ্রমণের প্রকৃত উদ্দেশ্য গোপন করে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেন এবং সেখানে সন্তান জন্ম দিয়ে শিশুর জন্য মার্কিন নাগরিকত্ব নিশ্চিত করার চেষ্টা করেন। বিচার বিভাগের ভাষ্য, এই ধরনের প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থা অপব্যবহার করা হচ্ছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের আইনে কোনো বিদেশি নাগরিকের দেশটিতে সন্তান জন্ম দেওয়া নিজেই অপরাধ নয়। অপরাধ তখনই ঘটে, যখন কেউ ভিসার আবেদন বা অভিবাসন সংক্রান্ত নথিতে ভ্রমণের প্রকৃত উদ্দেশ্য গোপন করেন বা মিথ্যা তথ্য দেন। এ ধরনের ক্ষেত্রে ভিসা জালিয়াতি, অর্থপাচার, পরিচয় জালিয়াতি কিংবা আর্থিক প্রতারণার মতো আইনে মামলা করা যেতে পারে। অন্তর্বর্তীকালীন অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্ল্যাঞ্চ বলেন, বিচার বিভাগের লক্ষ্য জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব নয়, বরং আইন লঙ্ঘনের মাধ্যমে পরিচালিত বার্থ ট্যুরিজম নেটওয়ার্ক বন্ধ করা। তিনি জানান, এ কাজে বিচার বিভাগ, হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ইনভেস্টিগেশনস (এইচএসআই) এবং এফবিআই যৌথভাবে কাজ করবে। তবে এই উদ্যোগ নিয়ে ভিন্নমতও রয়েছে। ক্যালিফোর্নিয়ার সান দিয়েগোভিত্তিক অভিবাসন আইনজীবী অ্যান্ড্রু নিয়েটর মনে করেন, বিচার বিভাগের সীমিত জনবল ও সম্পদ রয়েছে। তার ভাষায়, যদি প্রসিকিউটরদের বড় অংশ অভিবাসন-সংক্রান্ত মামলায় ব্যস্ত রাখা হয়, তাহলে মাদক পাচার, সংঘবদ্ধ অপরাধ ও চাঁদাবাজির মতো গুরুতর অপরাধের তদন্তে প্রভাব পড়তে পারে। এদিকে, গত মাসে প্রকাশিত পেন স্টেট বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণায় বলা হয়েছে, ২০১৪ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে মোট জন্মের ০ দশমিক ৩ শতাংশেরও কম বার্থ ট্যুরিজমের সঙ্গে সম্পর্কিত। গবেষকদের হিসাব অনুযায়ী, বছরে প্রায় ৫ হাজার থেকে ১০ হাজার শিশু এভাবে জন্ম নেয়। গবেষণায় আরও বলা হয়েছে, প্রচলিত ধারণার বিপরীতে এসব জন্মের বড় অংশ হিস্পানিক, বিশেষ করে মেক্সিকান মায়েদের মাধ্যমে হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের ১৪তম সংশোধনী মূলত দাসপ্রথা বিলুপ্তির পর মুক্তিপ্রাপ্ত দাসদের সন্তানদের নাগরিকত্ব নিশ্চিত করার জন্য ছিল, বিদেশি ধনীদের সন্তানদের জন্য নয়। তবে আদালত তার এই ব্যাখ্যা গ্রহণ করেনি এবং দীর্ঘদিনের সাংবিধানিক নীতিই বহাল রেখেছে। বিচার বিভাগের স্মারকে অতীতে বার্থ ট্যুরিজম পরিচালনাকারী কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে সফল বিচারের উদাহরণও তুলে ধরা হয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে বিদেশি নাগরিকদের অর্থের বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্রে সন্তান জন্ম দেওয়ার ব্যবস্থা করে দেওয়ার অভিযোগে মামলা হয়েছিল এবং কয়েকজন দোষী সাব্যস্ত হয়ে কারাদণ্ডও পেয়েছেন। তবে নতুন নির্দেশনার আওতায় মূল লক্ষ্য ব্যক্তি নাকি এ ধরনের ব্যবসা পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান, সে বিষয়ে বিচার বিভাগ বিস্তারিত কিছু জানায়নি। শুধু বলা হয়েছে, যারা এ ধরনের অবৈধ কার্যক্রম পরিচালনা বা এর প্রচার ও বাণিজ্যিক সুবিধা প্রদান করবে, তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব সীমিত করার নির্বাহী আদেশ বাতিল করলেও তথাকথিত ‘বার্থ ট্যুরিজম’ বা সন্তানকে যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম দিয়ে নাগরিকত্ব পাওয়ার উদ্দেশ্যে ভ্রমণের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে দেশটির বিচার বিভাগ (ডিওজে)। ভিসা আবেদনের সময় প্রকৃত উদ্দেশ্য গোপন করে যুক্তরাষ্ট্রে এসে সন্তান জন্ম দেওয়ার ঘটনাগুলোকে প্রতারণা হিসেবে বিবেচনা করে কঠোর আইন প্রয়োগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার বিচার বিভাগের জালিয়াতি দমন শাখার সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল কলিন ম্যাকডোনাল্ড ফেডারেল প্রসিকিউটরদের উদ্দেশে পাঠানো এক স্মারকে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ব্যবস্থাকে প্রতারণার মাধ্যমে ব্যবহার করার যেকোনো প্রচেষ্টা তদন্ত ও বিচারের আওতায় আনতে হবে। বিশেষ করে যারা ভিসা আবেদনে ভ্রমণের প্রকৃত উদ্দেশ্য গোপন করেন, তাদের বিরুদ্ধে বিদ্যমান ফৌজদারি আইন কঠোরভাবে প্রয়োগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ম্যাকডোনাল্ড বলেন, অনেক ‘বার্থ ট্যুরিজম’ কার্যক্রমেই মিথ্যা তথ্য দিয়ে ভিসা নেওয়া হয়, যা যুক্তরাষ্ট্রের প্রচলিত ফৌজদারি আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। স্মারকে অতীতে পরিচালিত কয়েকটি মামলার উদাহরণও তুলে ধরা হয়েছে। ২০২৪ সালে ‘ইউএসএ হ্যাপি বেবি’ নামে একটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে চীনা নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে সন্তান জন্ম দেওয়ার ব্যবস্থা করার অভিযোগে মাইকেল ওয়েই ইউয়ে লিউ ও জিং ডং দম্পতির প্রত্যেককে ৪১ মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। অভিযোগ ছিল, তারা বিপুল অর্থের বিনিময়ে গ্রাহকদের ভুয়া তথ্য ব্যবহার করে মার্কিন ভিসা পেতে সহায়তা করতেন। এর আগে ২০২২ সালে নিউইয়র্কভিত্তিক ইব্রাহিম আকসাকালকে স্বাস্থ্যসেবা জালিয়াতি ও প্রতারণার ষড়যন্ত্রের অভিযোগে ২৭ মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। তিনি তুর্কি ভাষার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে গর্ভবতী নারীদের যুক্তরাষ্ট্রে সন্তান জন্ম দেওয়ার পরিকল্পনা প্রচার করতেন এবং কীভাবে গর্ভধারণের তথ্য গোপন রাখতে হবে সে বিষয়ে পরামর্শ দিতেন। এছাড়া ২০২০ সালে চাও ‘এডউইন’ চেন পরিচালিত ‘ইউ উইন ইউএসএ’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধেও একই ধরনের অভিযোগ প্রমাণিত হয়। প্রতিষ্ঠানটি প্রতি গ্রাহকের কাছ থেকে সর্বোচ্চ ৮০ হাজার ডলার পর্যন্ত আদায় করত এবং ৫০০-এর বেশি গ্রাহককে যুক্তরাষ্ট্রে সন্তান জন্ম দিতে সহায়তা করেছিল বলে অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় চেনকে ৩৭ মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র সরকার ‘বার্থ ট্যুরিজম’-এর মাধ্যমে বছরে কত শিশু জন্ম নিচ্ছে, সে বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো পরিসংখ্যান প্রকাশ করে না। তবে অভিবাসনবিষয়ক গবেষণা প্রতিষ্ঠান মাইগ্রেশন পলিসি ইনস্টিটিউটের হিসাবে, প্রতিবছর প্রায় ২৬ হাজার শিশুর জন্ম এ ধরনের ভ্রমণের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। অন্যদিকে সেন্টার ফর ইমিগ্রেশন স্টাডিজের দাবি, শুধু পর্যটক ভিসায় আসা নারীদের কাছেই বছরে প্রায় ৩৩ হাজার শিশুর জন্ম হয়। এছাড়া অস্থায়ী ভিসাধারী ও অবৈধভাবে অবস্থানরত অভিবাসীদের কাছেও আরও কয়েক লাখ শিশুর জন্ম হয়। এদিকে বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে ভারপ্রাপ্ত অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্ল্যাঞ্চ ‘বার্থ ট্যুরিজম’কে দ্রুত বিস্তার লাভ করা একটি শিল্প হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, “কেউ যদি গর্ভবতী অবস্থায় শুধুমাত্র সন্তানকে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক বানানোর উদ্দেশ্যে এখানে আসে, তাহলে সেটি আইন লঙ্ঘনের শামিল। আমরা এটি বন্ধে কাজ করছি এবং তা করেই ছাড়ব।” এর আগে সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্প প্রশাসনের সেই নির্বাহী আদেশ বাতিল করে, যাতে অবৈধ অভিবাসী ও অস্থায়ীভাবে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত বিদেশিদের যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া সন্তানদের জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব না দেওয়ার নির্দেশনা ছিল। আদালতের ওই রায়ের পরই ‘বার্থ ট্যুরিজম’ ঠেকাতে বিদ্যমান আইন আরও কঠোরভাবে প্রয়োগের ঘোষণা দেয় মার্কিন বিচার বিভাগ।
যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব বহাল রেখে বৈধ কাগজপত্রবিহীন বা অস্থায়ী ভিসাধারী অভিবাসী বাবা-মায়ের যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া সন্তানদের নাগরিকত্ব অস্বীকার করার ট্রাম্প প্রশাসনের নির্বাহী আদেশ বাতিল করার পর এ সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান কওয়ামে মামদানি। ৩০ জুন দেওয়া এক বিবৃতিতে মেয়র মামদানি বলেন, সুপ্রিম কোর্টের এই রায় যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানে দেড় শতাব্দীরও বেশি আগে অন্তর্ভুক্ত একটি মৌলিক প্রতিশ্রুতিকে পুনর্ব্যক্ত করেছে। তিনি বলেন, আমেরিকার মাটিতে জন্ম নেওয়া প্রত্যেকেই মার্কিন নাগরিক। একজন মানুষের ত্বকের রঙ, বাবা-মায়ের জন্মস্থান, ধর্মীয় পরিচয় বা বাড়িতে কোন ভাষায় কথা বলা হয়, নাগরিকত্ব নির্ধারণে এসব বিষয়ের কোনো প্রভাব নেই। মেয়র বলেন, এই বিষয়টি কখনোই বিতর্কের হওয়ার কথা ছিল না। তার ভাষায়, ফেডারেল প্রশাসন সংবিধানের অন্যতম স্পষ্ট নিশ্চয়তাকে পরিবর্তনের চেষ্টা করেছিল, যাতে তারা নির্ধারণ করতে পারে কে এই দেশের অন্তর্ভুক্ত এবং কে নয়। আদালত সেই প্রচেষ্টা প্রত্যাখ্যান করেছে। তিনি আরও বলেন, নিউইয়র্ক সিটি জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের শক্তির একটি জীবন্ত উদাহরণ। অভিবাসী পরিবারের সন্তানরাই আজ শহরের শিক্ষক, নার্স, নির্মাণ শ্রমিক, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, শিল্পী, সরকারি কর্মচারী এবং সাধারণ প্রতিবেশী হিসেবে সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন। নিউইয়র্কে বসবাসরত অভিবাসী পরিবারগুলোর উদ্দেশে মেয়র বলেন, পাঁচটি বরোজুড়ে বসবাসকারী প্রতিটি অভিবাসী পরিবারকে তিনি স্পষ্টভাবে জানাতে চান, তারা এই শহরেরই অংশ এবং তাদের সন্তানরাও এখানকারই অংশ। তিনি বলেন, কোনো আদালত তাদের মানবিক মর্যাদা কেড়ে নিতে পারে না। কোনো রাজনৈতিক এজেন্ডাও এই সত্য পরিবর্তন করতে পারবে না যে, যুক্তরাষ্ট্রের বৈচিত্র্যই দেশটির সবচেয়ে বড় শক্তি। বিবৃতির শেষাংশে মেয়র মামদানি অঙ্গীকার করেন, যতদিন তিনি নিউইয়র্ক সিটির মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন, ততদিন শহর অভিবাসীদের অধিকার রক্ষা করবে, তাদের মর্যাদা সমুন্নত রাখবে এবং আরও উন্নত আমেরিকা গড়ে তোলার প্রচেষ্টায় তাদের পাশে থাকবে।
যুক্তরাষ্ট্রে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব (বার্থরাইট সিটিজেনশিপ) নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রতিক রায়কে কঠোর ভাষায় সমালোচনা করেছেন দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। তবে রায়টি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য পুরোপুরি হতাশাজনক নয় বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি। তাঁর দাবি, বিভক্ত এই রায় ভবিষ্যতে বিষয়টি পুনর্বিবেচনার সুযোগ রেখে দিয়েছে। মঙ্গলবার ফক্স নিউজ-এর অনুষ্ঠান দ্য ইনগ্রাহাম অ্যাঙ্গেল-এ দেওয়া সাক্ষাৎকারে ভ্যান্স বলেন, অনেক রক্ষণশীল সমর্থক এই রায়ে হতাশ হলেও তিনি এর মধ্যে একটি "বড় ইতিবাচক দিক" দেখছেন। ভ্যান্সের ভাষ্য, অনেক আইন বিশেষজ্ঞ ধারণা করেছিলেন, সুপ্রিম কোর্টে এই মামলায় ট্রাম্প প্রশাসন আরও বড় ব্যবধানে হারতে পারে। কিন্তু আদালতের বিভক্ত অবস্থান প্রমাণ করে, জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের বর্তমান ব্যাখ্যা নিয়ে বিচারপতিদের মধ্যেও মতভেদ রয়েছে। তিনি বলেন, "অনেকে ভেবেছিলেন রায় ৭-২ বা ৮-১ হবে। কিন্তু ৫-৪ ব্যবধানের রায় দেখাচ্ছে, বিষয়টি এখনও বিতর্কের বাইরে নয়।" এর আগে সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্পের সেই নির্বাহী আদেশ বাতিল করে, যেখানে অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে থাকা অভিবাসী এবং অস্থায়ীভাবে দেশটিতে আসা বিদেশি নাগরিকদের সন্তানদের জন্মসূত্রে স্বয়ংক্রিয় নাগরিকত্ব না দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। আদালতের সংখ্যাগরিষ্ঠ বিচারপতিরা মত দেন, এই আদেশ যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের ১৪তম সংশোধনীর সঙ্গে সাংঘর্ষিক। প্রধান বিচারপতি জন রবার্টসের সঙ্গে বিচারপতি অ্যামি কোনি ব্যারেট, সোনিয়া সোটোমেয়র, এলেনা কাগান এবং কেতানজি ব্রাউন জ্যাকসন সংখ্যাগরিষ্ঠ মতের পক্ষে ছিলেন। অন্যদিকে বিচারপতি ব্রেট ক্যাভানফ আলাদা মত দিয়ে বলেন, নির্বাহী আদেশটি ১৪তম সংশোধনী লঙ্ঘন না করলেও ১৯৪০ ও ১৯৫০-এর দশকের ফেডারেল আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। সাক্ষাৎকারে ভ্যান্স বলেন, এই রায়ের পর যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থা আরও কঠোরভাবে পরিচালনা করা প্রয়োজন। তাঁর দাবি, বিদেশ থেকে গর্ভবতী নারীরা শুধু সন্তানকে যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম দেওয়ার উদ্দেশ্যে দেশটিতে এলে ভবিষ্যতে নাগরিকত্বের সুযোগ পেতে পারেন, যা তিনি "অযৌক্তিক" বলে উল্লেখ করেন। তিনি আরও বলেন, এই রায়ের কারণে অভিবাসন নীতিতে আরও সতর্ক হওয়ার প্রয়োজন রয়েছে। একই সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক ও আইনি লড়াই চালিয়ে যাওয়ারও অঙ্গীকার করেন তিনি। ভ্যান্সের ভাষায়, "আমাদের লড়াই চালিয়ে যেতে হবে, কারণ এই সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের সুযোগ এখনও রয়েছে।" জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব দীর্ঘদিন ধরেই যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে বিতর্কিত একটি বিষয়। ট্রাম্প প্রশাসন দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নেওয়ার পর এ নীতিতে পরিবর্তন আনার উদ্যোগ নেয়। তবে সংবিধানের ১৪তম সংশোধনীর ব্যাখ্যা নিয়ে আদালত ও আইন বিশেষজ্ঞদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই মতপার্থক্য রয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের সর্বশেষ রায়ের পর বিষয়টি আবারও যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে। ট্রাম্প প্রশাসন ভবিষ্যতে এ বিষয়ে নতুন আইনি বা নীতিগত পদক্ষেপ নেয় কি না, সেদিকেই এখন নজর পর্যবেক্ষকদের।
মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব (বার্থরাইট সিটিজেনশিপ) নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের অবস্থানের বিপক্ষে রায় দেওয়ার পর এবার বিষয়টি কংগ্রেসের মাধ্যমে আইনে পরিবর্তনের আহ্বান জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মঙ্গলবার হোয়াইট হাউসের ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে ট্রাম্প বলেন, সুপ্রিম কোর্ট জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব বহাল রাখলেও কংগ্রেস চাইলে আইন প্রণয়নের মাধ্যমে এই নীতিতে পরিবর্তন আনতে পারে। তিনি কংগ্রেসকে অবিলম্বে এ বিষয়ে কাজ শুরু করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, এমন উদ্যোগে তিনি “পূর্ণ ও সর্বাত্মক সমর্থন” দেবেন। বিবৃতিতে ট্রাম্প দাবি করেন, বর্তমান জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব ব্যবস্থা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য “ব্যয়বহুল ও অন্যায্য”। তাঁর মতে, এ নীতিতে পরিবর্তন আনতে দীর্ঘ সাংবিধানিক সংশোধনের প্রয়োজন নেই; কংগ্রেস আইন পাস করলেই তা সম্ভব। এর আগে মঙ্গলবার মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্প প্রশাসনের জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব সীমিত করার নির্বাহী আদেশ কার্যকর করার পথ বন্ধ করে দেয়। আদালত নিম্ন আদালতের সেই স্থগিতাদেশ বহাল রাখে, যার ফলে নির্বাহী আদেশটি আপাতত কার্যকর করা যাচ্ছে না। ট্রাম্প প্রশাসনের ওই নির্বাহী আদেশে বলা হয়েছিল, কোনো শিশুর বাবা-মায়ের কেউই যদি মার্কিন নাগরিক বা বৈধ স্থায়ী বাসিন্দা (গ্রিনকার্ডধারী) না হন, তাহলে যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া সেই শিশুকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে মার্কিন নাগরিক হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হবে না। এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে একাধিক অঙ্গরাজ্য, নাগরিক অধিকার সংগঠন ও অভিবাসী অধিকারকর্মীরা আদালতের শরণাপন্ন হন। মামলাকারীদের দাবি ছিল, ট্রাম্পের এই নির্বাহী আদেশ যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের চতুর্দশ সংশোধনী (১৪তম সংশোধনী)-এর পরিপন্থী। মার্কিন গৃহযুদ্ধের পর প্রণীত এই সংশোধনীতে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে জন্ম নেওয়া এবং দেশটির আইনগত এখতিয়ারের আওতাভুক্ত প্রত্যেক ব্যক্তি জন্মসূত্রে মার্কিন নাগরিকত্ব পাওয়ার অধিকারী। রায়ে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি জন রবার্টস ১৮৯৮ সালের ঐতিহাসিক United States v. Wong Kim Ark মামলার নজির উল্লেখ করেন। ওই রায়ে আদালত বলেছিল, বিদেশি নাগরিকের সন্তান হলেও যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে জন্ম নিলে তিনি জন্মসূত্রে মার্কিন নাগরিকত্বের অধিকারী। প্রধান বিচারপতি তাঁর পর্যবেক্ষণে বলেন, এক শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে এই সাংবিধানিক ব্যাখ্যাই অনুসরণ করা হচ্ছে এবং জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব সীমিত করার মতো কোনো সুস্পষ্ট সাংবিধানিক ভিত্তি আদালত খুঁজে পায়নি। তবে সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পরও ট্রাম্প বিষয়টি থেকে সরে আসছেন না। বরং তিনি এখন কংগ্রেসের মাধ্যমে নতুন আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, আইনসভা চাইলে জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের বর্তমান ব্যবস্থা পরিবর্তন করা সম্ভব। বিশ্লেষকদের মতে, আদালতের রায়ে ট্রাম্প প্রশাসনের নির্বাহী উদ্যোগ আপাতত স্থগিত থাকলেও জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক ও আইনি বিতর্ক এখনো শেষ হয়নি। বিষয়টি নিয়ে কংগ্রেসে নতুন করে আলোচনা শুরু হলে তা আগামী দিনের অভিবাসন নীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ একটি অত্যন্ত বিতর্কিত ও বর্ণবাদী চিঠি শেয়ার করেছেন। রেডিও সঞ্চালক মাইকেল সেভেজের লেখা ওই চিঠিতে দাবি করা হয়েছে, ভারত ও চীনের মতো দেশ থেকে মানুষ কেবল যুক্তরাষ্ট্রে সন্তান জন্ম দিতে আসে। এর মাধ্যমে তারা জন্মসূত্রে মার্কিন নাগরিকত্ব আইনের অপব্যবহার করছে বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়। সেভেজ তার লেখায় ভারত ও চীনকে ‘নরক’ হিসেবে অভিহিত করে অভিযোগ করেন, অভিবাসীরা গর্ভাবস্থার নবম মাসে যুক্তরাষ্ট্রে আসে এবং শিশু জন্ম দিয়ে মুহূর্তেই নাগরিকত্ব লাভ করে। পরবর্তীতে ওই শিশুর সূত্র ধরে তারা পুরো পরিবারকে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে আসে। ট্রাম্প এই পোস্টটি এমন সময়ে শেয়ার করলেন যার ঠিক একদিন আগেই তিনি জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব নিয়ে একটি ভুল তথ্য দিয়েছিলেন। সিএনবিসি-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র ছাড়া বিশ্বের আর কোনো দেশে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব দেওয়ার নিয়ম নেই। তবে তথ্যগতভাবে এই দাবিটি সঠিক নয়। মূলত কানাডা ও মেক্সিকোসহ বিশ্বের প্রায় তিন ডজনেরও বেশি দেশে জন্মসূত্রে স্বয়ংক্রিয় নাগরিকত্ব দেওয়ার বিধান এখনও কার্যকর রয়েছে। ট্রাম্পের এই উসকানিমূলক প্রচারণা এবং বর্ণবাদী মন্তব্য শেয়ার করার বিষয়টি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, নির্বাচনি সুবিধা নিতেই তিনি আবারও কঠোর অভিবাসন বিরোধী অবস্থান নিচ্ছেন। মানবাধিকার কর্মীরা এই ধরনের মন্তব্যকে ‘বিদ্বেষমূলক’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন, যা বন্ধুপ্রতিম রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। সূত্র: এনডিটিভি
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া শিশুদের স্বয়ংক্রিয়ভাবে নাগরিকত্ব পাওয়ার দীর্ঘদিনের আইনি অধিকার বা 'বার্থরাইট সিটিজেনশিপ' বাতিলের যে কঠোর অভিবাসন নীতি ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন গ্রহণ করেছিল, তা বড় ধরনের আইনি বাধার মুখে পড়েছে। রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ট্রাম্পের এই বিতর্কিত এজেন্ডার বিরুদ্ধে একটি বিরল স্থগিতাদেশ জারি করেছে দেশটির আদালত। ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকেই ট্রাম্প প্রশাসন নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে অনথিভুক্ত অভিবাসীদের সন্তানদের জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব পাওয়া বন্ধ করার চেষ্টা চালিয়ে আসছিল। ট্রাম্পের যুক্তি ছিল, এই প্রথাটি মার্কিন সংবিধানের সঠিক প্রতিফলন নয় এবং এটি 'বার্থ ট্যুরিজম' বা অবৈধ অভিবাসনকে উৎসাহিত করছে। তবে আদালতের এই সাম্প্রতিক রুলিংয়ে বলা হয়েছে, মার্কিন সংবিধানের ১৪তম সংশোধনী অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে জন্মগ্রহণকারী যেকোনো শিশু নাগরিকত্ব পাওয়ার যোগ্য, চাই তার বাবা-মায়ের আইনি অবস্থান যাই হোক না কেন। বিচারক তার পর্যবেক্ষণে জানান, কয়েক দশকের আইনি নজির এবং সাংবিধানিক সুরক্ষা কেবল একটি নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে পরিবর্তন করা সম্ভব নয়। আদালতের এই সিদ্ধান্তকে ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন বিরোধী কঠোর অবস্থানের জন্য একটি বড় পরাজয় হিসেবে দেখা হচ্ছে। এর ফলে হাজার হাজার অভিবাসী পরিবার, যারা তাদের সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিলেন, তারা আপাতত স্বস্তি পেলেন। তবে আইনি বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, হোয়াইট হাউস এই রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করবে। ট্রাম্পের অভিবাসন এজেন্ডার অন্যতম মূল লক্ষ্য ছিল এই নাগরিকত্ব আইন পরিবর্তন করা, যা নিয়ে দেশটিতে দীর্ঘকাল ধরে রাজনৈতিক ও আইনি বিতর্ক চলছে। এর আগে ট্রাম্প প্রশাসন দাবি করেছিল যে, জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব পাওয়ার বিষয়টি বন্ধ করলে তা সীমান্তে অনুপ্রবেশ কমাতে সহায়ক হবে। কিন্তু মানবাধিকার কর্মী এবং আইনবিদরা শুরু থেকেই একে অসাংবিধানিক বলে অভিহিত করে আসছিলেন। আদালতের এই নতুন আদেশের ফলে বিষয়টি এখন সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত গড়াতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সেখানেও যদি এই স্থগিতাদেশ বহাল থাকে, তবে তা হবে ট্রাম্পের অভিবাসন নীতির জন্য এক বিশাল রাজনৈতিক ধাক্কা। যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত প্রবাসী বাংলাদেশিসহ বিভিন্ন দেশের অভিবাসীরা এই খবরকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন, কারণ এর ওপর নির্ভর করছে দেশটিতে জন্ম নেওয়া তাদের পরবর্তী প্রজন্মের ভবিষ্যৎ।
নিউ ইয়র্ক প্রতিনিধি । প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া শিশুদের জন্য সংবিধান-প্রদত্ত জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের নিশ্চয়তা বাতিলের চেষ্টা করছেন। এ নিয়ে মার্কিন সুপ্রিম কোর্টে 'ট্রাম্প বনাম বারবারা' মামলার শুনানি ১ এপ্রিল অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে আমেরিকান নাগরিক স্বাধীনতা ইউনিয়ন তার এই উদ্যোগকে অসাংবিধানিক বলে চ্যালেঞ্জ করেছে। যদি আদালত ট্রাম্পের পক্ষে রায় দেয়, তাহলে এর প্রভাব শুধু অভিবাসীদের নয়, বরং সমগ্র যুক্তরাষ্ট্রের ওপরই পড়বে—যা মারাত্মক হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। দ্বিতীয় মেয়াদের প্রথম দিনেই ট্রাম্প নির্বাহী আদেশ ১৪১৬০ স্বাক্ষর করেন, যার নাম 'আমেরিকান নাগরিকত্বের অর্থ ও মূল্য রক্ষা করা'। এই আদেশের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি কর্মভিসা, শিক্ষাভিসাধারী, ডিএসিএ সুবিধাভোগী এবং মানবিক সুরক্ষাপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের সন্তানদের জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব থেকে বাদ দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসন যুক্তি দিচ্ছে, শুধুমাত্র নাগরিক বা স্থায়ী বাসিন্দাদের সন্তানরাই 'যুক্তরাষ্ট্রের অধিক্ষেত্রের আওতাধীন'; অবৈধ বা অস্থায়ী অভিবাসীদের সন্তানরা নয়। তবে আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কোনো প্রেসিডেন্ট একতরফাভাবে সংবিধানের সংশোধনী পরিবর্তন করতে পারেন না। এই পরিস্থিতির তুলনা করা হচ্ছে চতুর্দশ সংশোধনী পাস হওয়ার আগের সময়ের সঙ্গে। ১৮৫৭ সালের 'ড্রেড স্কট বনাম স্যান্ডফোর্ড' মামলায় সুপ্রিম কোর্ট ঘোষণা করেছিল যে কৃষ্ণাঙ্গরা নাগরিক নয়। পরবর্তীতে ১৮৬৬ সালের সিনেট বিতর্ক এবং ১৮৯৮ সালের 'ইউনাইটেড স্টেটস বনাম ওং কিম আর্ক' মামলার রায়ে নিশ্চিত করা হয় যে, যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া সকল মানুষই নাগরিক। ট্রাম্পের বর্তমান প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে নাগরিকত্বের ক্ষেত্রে এক ধরনের শ্রেণিভেদ তৈরি হতে পারে, যেখানে নাগরিকত্ব জন্মস্থানের বদলে বাবা-মায়ের অভিবাসন অবস্থার ওপর নির্ভর করবে। ইতোমধ্যেই দেশের বিভিন্ন স্থানে 'আপনার কাগজপত্র দেখান' ধরনের পরিস্থিতি এবং জাতিগত প্রোফাইলিং বাড়ার অভিযোগ উঠেছে। মিনেসোটা ও ফ্লোরিডায় বৈধ মার্কিন নাগরিকদের ভুলবশত আটক করার মতো ঘটনাও ঘটেছে। ১ এপ্রিল সেসিলিয়া ওয়াং সুপ্রিম কোর্টে এই মামলায় যুক্তি উপস্থাপন করবেন। তিনি এবং তার সংগঠন সংবিধান রক্ষার পক্ষে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করেছেন, যাতে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের অধিকার ভোগ করতে পারে যা যুক্তরাষ্ট্রের পুনর্গঠন যুগের একটি মৌলিক প্রতিশ্রুতি।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।