নিউইয়র্কে মানসিক রোগী মেয়ের ছুরিকাঘাতে মা খুন, কাজ থেকে ফিরে লাশ দেখলেন বাবা
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের কুইন্সে এক মর্মান্তিক ও নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাওয়ার মাত্র দুই দিনের মাথায় এক মানসিক ভারসাম্যহীন মেয়ের ছুরিকাঘাতে তাঁর ৬০ বছর বয়সী মা আউশা রামলাখান খুন হয়েছেন। কাজ থেকে ঘরে ফিরে স্ত্রীর রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করেন নিহতের স্বামী ওয়াজির ওসমান।
ভয়াবহ এই ঘটনাটি ঘটেছে কুইন্সের সাউথ ওজোন পার্ক এলাকায়। নিহতের স্বামী ওয়াজির ওসমান জানান, শনিবার বিকেল আনুমানিক সাড়ে ৩টার দিকে তিনি যখন কাজ শেষ করে বাড়ি ফিরছিলেন, তখন বাড়ি থেকে মাত্র এক ব্লক দূরে রাস্তায় তাঁর ৩০ বছর বয়সী মেয়ের সঙ্গে তাঁর দেখা হয়। সে সময় তাঁর মেয়ের আচরণে কিছুটা অস্বাভাবিকতা লক্ষ্য করেন তিনি।
এরপর ঘরে প্রবেশ করতেই তিনি শোবার ঘরে তাঁর স্ত্রীকে রক্তাক্ত অবস্থায় মৃত পড়ে থাকতে দেখেন। পুলিশ জানিয়েছে, নিহতের শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন রয়েছে। ঘটনার পরপরই ঘাতক মেয়েকে আটক করেছে স্থানীয় পুলিশ।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত ওই তরুণী দীর্ঘ দিন ধরে গুরুতর মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন। ঘটনার মাত্র দুই দিন আগেই তাঁকে স্থানীয় একটি হাসপাতালের মানসিক ওয়ার্ড থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছিল। হাসপাতাল থেকে বের হওয়ার পরই তিনি এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটান। এই ঘটনায় পুরো এলাকায় গভীর শোক ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রে বসবাস বা কাজের সময় কোনো পুরোনো ব্যাংক হিসাব, বকেয়া বেতন, বীমার অর্থ কিংবা অন্য কোনো আর্থিক সম্পদ রেখে এসেছেন কি না, তা হয়তো আপনার জানা নেই। এমনকি বহু বছর আগে ঠিকানা বদলানোর কারণে কোনো প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হলেও সেই অর্থ আপনার নামে থেকে যেতে পারে। দেশটির অদাবিকৃত সম্পদ কর্তৃপক্ষের তথ্য বলছে, যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় প্রতি সাতজনের একজনের নামে কোনো না কোনো অদাবিকৃত সম্পদ থাকতে পারে। অদাবিকৃত সম্পদ বলতে এমন টাকা বা সম্পদকে বোঝায়, যার মালিকের সঙ্গে দীর্ঘ সময় কোনো প্রতিষ্ঠান বা আর্থিক সংস্থার যোগাযোগ থাকে না। নির্দিষ্ট সময় ধরে মালিকের পক্ষ থেকে কোনো কার্যক্রম না থাকলেও কোনো কোনো ক্ষেত্রে সেই অর্থ সংশ্লিষ্ট রাজ্য সরকারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে প্রকৃত মালিক চাইলে নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ায় তা ফেরত নেওয়ার সুযোগ পান। এই সম্পদের ধরনও অনেক রকম হতে পারে। কারও পুরোনো চাকরির বেতন হয়তো নগদায়ন করা হয়নি। কারও ভুলে যাওয়া ব্যাংক হিসাব থাকতে পারে। আবার কোনো ব্যক্তির নামে থাকতে পারে শেয়ার, বিদ্যুৎ বা অন্যান্য সেবার জন্য জমা রাখা অর্থ, কর ফেরতের টাকা কিংবা বীমা পলিসি থেকে পাওনা অর্থ। শুধু নগদ অর্থ নয়, নিরাপদ আমানত বাক্সে থাকা কিছু সম্পদও অদাবিকৃত সম্পদের আওতায় পড়তে পারে। ফলে নিজের নামে অদাবিকৃত সম্পদ আছে কি না খুঁজতে গেলে শুধু ব্যাংক হিসাবের কথা মাথায় রাখলেই হবে না। যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিবছর অদাবিকৃত সম্পদের বিপুল পরিমাণ অর্থ প্রকৃত মালিকদের কাছে ফেরত দেওয়া হয়। দেশটির অদাবিকৃত সম্পদ কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ অর্থবছরে বিভিন্ন রাজ্য ৪৪৯ কোটি ডলারের বেশি অদাবিকৃত সম্পদ মালিকদের ফেরত দিয়েছে। একই সময়ে আরও বিপুল পরিমাণ অর্থ ও সম্পদ অদাবিকৃত অবস্থায় রয়ে গেছে। তবে কারও নামে অদাবিকৃত অর্থ থাকলেই সেখানে বড় অঙ্কের টাকা থাকবে—এমন নয়। কারও ক্ষেত্রে পরিমাণ খুব কম হতে পারে, আবার কারও নামে একাধিক সম্পদও থাকতে পারে। মূল বিষয় হলো, অনেক মানুষ জানেনই না যে তাদের নামে কোনো অর্থ বা সম্পদ আটকে আছে। বিশেষ করে যারা জীবনের বিভিন্ন সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক রাজ্যে বসবাস করেছেন, কাজ করেছেন বা ব্যবসা করেছেন, তাদের ক্ষেত্রে একাধিক জায়গায় খোঁজ নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। কারণ একজন ব্যক্তির নামে এক রাজ্যে থাকা সম্পদ অন্য রাজ্যের রেকর্ডে থাকতে পারে। তাই বর্তমানে যেখানে থাকছেন শুধু সেই রাজ্যে নয়, আগে যেসব রাজ্যে বসবাস বা কাজ করেছেন, সেসব জায়গাতেও খোঁজ নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। অদাবিকৃত অর্থ খোঁজার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো সঠিক সরকারি ব্যবস্থা ব্যবহার করা। যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি তথ্য অনুযায়ী, দেশটির অধিকাংশ অদাবিকৃত অর্থ রাজ্য সরকারগুলোর কাছে থাকে। প্রতিটি রাজ্যের নিজস্ব অদাবিকৃত সম্পদ কর্মসূচি রয়েছে। সেখানে নিজের নাম ও প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে খোঁজ করা যায়। এই অনুসন্ধানের জন্য সাধারণত কোনো অর্থ দেওয়ার প্রয়োজন নেই। সরকারি ব্যবস্থার মাধ্যমে নিজের নামে অদাবিকৃত সম্পদ আছে কি না বিনা খরচে যাচাই করা যায়। কারও নামে সম্পদ পাওয়া গেলে সেটি দাবি করার জন্য সংশ্লিষ্ট রাজ্যের নির্ধারিত নিয়ম অনুসরণ করতে হয়। তবে সব ধরনের পাওনা অর্থ একই জায়গায় পাওয়া যাবে না। পুরোনো বেতন, পেনশন, কর ফেরত, ব্যাংক বন্ধ হয়ে যাওয়ার পরের অর্থ, সঞ্চয়পত্র কিংবা বিনিয়োগের অর্থের জন্য আলাদা সরকারি ব্যবস্থায় খোঁজ নিতে হতে পারে। অর্থাৎ আপনার নামে অদাবিকৃত সম্পদ আছে কি না যাচাই করার সময় সম্পদের ধরন অনুযায়ী সঠিক সরকারি দপ্তর বা ব্যবস্থাটি ব্যবহার করা জরুরি। যারা যুক্তরাষ্ট্রে আগে বসবাস করেছেন কিন্তু পরে অন্য রাজ্যে বা অন্য দেশে চলে গেছেন, তাদের জন্য বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। ঠিকানা পরিবর্তনের পর পুরোনো কোনো প্রতিষ্ঠান যদি আপনার সঙ্গে যোগাযোগ করতে না পারে, তাহলে নির্দিষ্ট সময়ের পর সেই সম্পদ অদাবিকৃত হিসেবে রাজ্য সরকারের কাছে চলে যেতে পারে। এ ক্ষেত্রে পুরোনো ঠিকানা, আগের কর্মস্থল, ব্যাংক হিসাব এবং বসবাসের ইতিহাস মনে করে সংশ্লিষ্ট রাজ্যগুলোর সরকারি অদাবিকৃত সম্পদের তালিকায় নিজের নাম খুঁজে দেখা যেতে পারে। পরিবারের কোনো সদস্যের নামে এমন সম্পদ থাকার সম্ভাবনাও থাকলে তারাও একইভাবে যাচাই করতে পারেন। তবে অনলাইনে অদাবিকৃত অর্থ খোঁজার সময় সতর্ক থাকাও জরুরি। সরকারি ওয়েবসাইটের পরিবর্তে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান যদি আগে টাকা চায় কিংবা ব্যক্তিগত তথ্য দেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করে, তাহলে যাচাই ছাড়া সেখানে তথ্য দেওয়া উচিত নয়। অদাবিকৃত সম্পদ খোঁজার সরকারি ব্যবস্থা বিনা খরচে ব্যবহার করা যায়। সব মিলিয়ে, যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস, চাকরি বা ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত থাকা ব্যক্তিদের জন্য নিজের নামে অদাবিকৃত সম্পদ আছে কি না একবার যাচাই করে দেখা অযৌক্তিক নয়। পুরোনো ব্যাংক হিসাব, বকেয়া বেতন, বীমার অর্থ বা অন্য কোনো আর্থিক সম্পদ ভুলে যাওয়া বা যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার কারণে রাজ্যের কাছে পড়ে থাকতে পারে। আপনার নামে এমন কোনো অর্থ আছে কি না, তা সরকারি ব্যবস্থায় বিনা খরচে খুঁজে দেখা সম্ভব।
নিউইয়র্কে অপেক্ষমাণ ১০ হাজারের বেশি শিশুকে চাইল্ড কেয়ার ভাউচার দেবে সিটি
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা ‘অর্থহীন’, বললেন ইরানের প্রেসিডেন্ট
আলাবামার নার্সিং বোর্ডে সাইবার হামলা, নার্সদের ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁসের আশঙ্কা
যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন করতে গিয়ে অনেক শিক্ষার্থীর সামনে প্রথম দিকের খরচগুলোর একটি হলো অ্যাপ্লিকেশন ফি। একাধিক বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন করলে এই ব্যয় দ্রুত বেড়ে যেতে পারে। তবে আর্থিক অসুবিধা থাকলে কিছু বিশ্ববিদ্যালয় নির্দিষ্ট শর্তে অ্যাপ্লিকেশন ফি ওয়েভার বা ফি মওকুফের সুযোগ দেয়। আবেদনকারী যোগ্য হলে কখনো অ্যাপ্লিকেশন পোর্টালের মাধ্যমেই, আবার কখনো অ্যাডমিশন অফিসে আলাদা অনুরোধ পাঠিয়ে এই সুবিধা চাওয়া যায়। ফি ওয়েভার সব বিশ্ববিদ্যালয়ে একই নিয়মে পাওয়া যায় না। কোথাও আর্থিক প্রয়োজনের নির্দিষ্ট মানদণ্ড পূরণ করতে হয়, কোথাও আলাদা ফর্ম জমা দিতে হয়, আবার কোথাও সরাসরি অ্যাডমিশন অফিসে যোগাযোগ করতে বলা হয়। তাই আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রোগ্রামের অফিসিয়াল অ্যাডমিশন নির্দেশনা ভালোভাবে দেখা জরুরি। হার্ভার্ড কলেজের অফিসিয়াল তথ্য অনুযায়ী, অ্যাপ্লিকেশন ফি আবেদনকারী বা তাঁর পরিবারের জন্য আর্থিক চাপ তৈরি করলে ফি ওয়েভারের সুযোগ রয়েছে। কমন অ্যাপ্লিকেশনের মাধ্যমে আবেদনকারীরা আর্থিক প্রয়োজনের নির্দিষ্ট সূচক পূরণ করলে সেখান থেকেই ফি ওয়েভার চাইতে পারেন। আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রেও আর্থিক অসুবিধা থাকলে ফি ওয়েভারের সুযোগ থাকার কথা জানিয়েছে হার্ভার্ড। গ্র্যাজুয়েট পর্যায়েও একই ধরনের সুযোগ থাকতে পারে। স্ট্যানফোর্ডের কিছু গ্র্যাজুয়েট প্রোগ্রামে গুরুতর আর্থিক অসুবিধার কারণে নিড বেসড ফি ওয়েভার চাওয়া যায়। তবে সেখানে আবেদন শুরু করা, নির্দিষ্ট তথ্য পূরণ করা বা প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট জমা দেওয়ার মতো শর্ত থাকতে পারে। আবার কোনো কোনো বিভাগে ফি ওয়েভারের সংখ্যা সীমিত এবং আগে আসলে আগে বিবেচনার ভিত্তিতেও সিদ্ধান্ত হতে পারে। এ কারণে শুধু একটি সাধারণ ইমেইল পাঠালেই সব ক্ষেত্রে ফি মওকুফ হবে, এমন ধারণা ঠিক নয়। প্রথমে বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে দেখতে হবে ফি ওয়েভারের জন্য নির্দিষ্ট ফর্ম, পোর্টালের অপশন বা যোগ্যতার শর্ত আছে কি না। অফিসিয়াল প্রক্রিয়া থাকলে সেটিই অনুসরণ করা উচিত। কোনো স্পষ্ট নির্দেশনা না থাকলে তখন অ্যাডমিশন অফিসে সংক্ষিপ্ত ও পেশাদার ভাষায় জানতে চাওয়া যেতে পারে। ফি ওয়েভার অনুরোধে সাধারণত আবেদনকারী নিজের নাম, যে প্রোগ্রামে আবেদন করতে চান তার নাম, শিক্ষাগত পটভূমি এবং কেন অ্যাপ্লিকেশন ফি দেওয়া আর্থিকভাবে কঠিন হচ্ছে তা সংক্ষেপে উল্লেখ করতে পারেন। প্রয়োজন হলে আয়, আর্থিক সংকট বা প্রাসঙ্গিক পরিস্থিতির ব্যাখ্যাও দেওয়া যেতে পারে। বিশ্ববিদ্যালয় যদি প্রমাণপত্র চায়, তখন তাদের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট জমা দিতে হবে। একটি সাধারণ অনুরোধের ভাষা হতে পারে এমন, আপনি নির্দিষ্ট প্রোগ্রামে আবেদন করতে আগ্রহী, কিন্তু বর্তমান আর্থিক পরিস্থিতিতে অ্যাপ্লিকেশন ফি দেওয়া আপনার জন্য কঠিন। তাই বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতিমালা অনুযায়ী ফি ওয়েভারের সুযোগ থাকলে আপনার আবেদনটি বিবেচনা করার অনুরোধ জানাচ্ছেন। সঙ্গে প্রয়োজনীয় কোনো ফর্ম বা ডকুমেন্ট লাগলে সেটিও জানাতে বলতে পারেন। এখানে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, নিজের আর্থিক পরিস্থিতি অতিরঞ্জিত না করা এবং ভুল তথ্য না দেওয়া। বিশ্ববিদ্যালয়ভেদে ফি ওয়েভার অনুমোদনের মানদণ্ড আলাদা হতে পারে। কোনো বিশ্ববিদ্যালয় শুধু নির্দিষ্ট ক্যাটাগরির আবেদনকারীকে এই সুবিধা দিতে পারে, আবার অন্য বিশ্ববিদ্যালয় তুলনামূলক নমনীয় হতে পারে। আরেকটি বিষয় হলো সময়। কিছু বিশ্ববিদ্যালয় অ্যাপ্লিকেশন সাবমিট করার আগেই ফি ওয়েভার অনুমোদন নিতে বলে। কোথাও নির্দিষ্ট ডেডলাইনের আগেই অনুরোধ পাঠাতে হয়। তাই আবেদনের শেষ দিনে গিয়ে ফি ওয়েভার চাওয়ার পরিবর্তে আগেভাগেই নীতিমালা দেখে প্রক্রিয়া শুরু করা নিরাপদ। আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রেও সুযোগ সম্পূর্ণ বন্ধ নয়। হার্ভার্ড স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক আবেদনকারীর জন্যও অ্যাপ্লিকেশন ফি আর্থিক অসুবিধা তৈরি করলে ফি ওয়েভার চাওয়া যেতে পারে। তবে অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর যোগ্যতা ভিন্ন হতে পারে। তাই প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের নিয়ম আলাদাভাবে যাচাই করা দরকার। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কথা, অ্যাপ্লিকেশন ফি আছে বলে কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন করার পরিকল্পনা শুরুতেই বাদ দেওয়ার প্রয়োজন নেই। আগে দেখে নিন ওই বিশ্ববিদ্যালয়ে ফি ওয়েভারের সুযোগ আছে কি না, থাকলে কীভাবে আবেদন করতে হবে এবং কোন ডকুমেন্ট প্রয়োজন। সঠিক নিয়ম মেনে অনুরোধ করলে যোগ্য আবেদনকারীর জন্য এই খরচ কমানোর সুযোগ থাকতে পারে।
৩৭ বছর বয়সে আবার বিশ্ববিদ্যালয়ে, লক্ষ্য নিউরোলজিস্ট হওয়া
যুক্তরাষ্ট্রে ন্যানোটেকনোলজি গবেষণায় বাংলাদেশি অধ্যাপক জামাল উদ্দিন, পেলেন ৩ মিলিয়ন ডলারের অর্থায়ন
লস অ্যাঞ্জেলেসে বিলাসবহুল জীবনযাপন করা চীনা নারী গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে গ্রেপ্তার
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যে হাম রোগের সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় স্টেট ডিজাস্টার ইমার্জেন্সি ঘোষণা করেছেন গভর্নর ক্যাথি হোকুল। সোমবার নির্বাহী আদেশ জারি করে তিনি এই জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেন। রাজ্যের গ্রামীণ ও কম টিকাদান-প্রবণ এলাকাগুলোতে সাম্প্রতিক সময়ে সংক্রমণ দ্রুত বাড়ায় পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্বাস্থ্যকর্মীদের সক্ষমতা বাড়ানো এবং টিকাদান ও পরীক্ষা কার্যক্রম দ্রুত করার লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। জরুরি আদেশটি ৫ অক্টোবর থেকে কার্যকর হয়ে ৪ নভেম্বর পর্যন্ত বহাল থাকবে। নিউইয়র্ক স্টেটের স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ৩ অক্টোবর পর্যন্ত এ বছর রাজ্যজুড়ে ১০৮টি নিশ্চিত হাম রোগের ঘটনা শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে নিউইয়র্ক সিটিতে সাতটি এবং শহরের বাইরে ১০১টি ঘটনা ঘটেছে। সবচেয়ে দ্রুত সংক্রমণ বেড়েছে ১৫ জুলাইয়ের পর। ওই সময় থেকে কম টিকাদান-প্রবণ গ্রামীণ ১৮টি কাউন্টিতে ৯২টি সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগগুলো এসব এলাকায় এ পর্যন্ত এক হাজারের বেশি এমএমআর টিকার ডোজ দিয়েছে। কেন্দ্রীয় নিউইয়র্কের ওটসেগো কাউন্টিতে এ বছর এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। সেখানে জানুয়ারি থেকে ২০ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে বলে রাজ্যের তথ্যের ভিত্তিতে মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে। নিউইয়র্কের বাইরে প্রতিবেশী পেনসিলভানিয়াতেও পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। ২ অক্টোবর পর্যন্ত সেখানে ৯৭৭টি হাম রোগের ঘটনা ও পাঁচটি মৃত্যু রিপোর্ট করা হয়েছিল, আর ৫ অক্টোবর রাজ্যটির মোট সংক্রমণ এক হাজার ছাড়িয়ে যায়। জরুরি আদেশের আওতায় হাম, মাম্পস ও রুবেলার প্রতিরোধে ব্যবহৃত এমএমআর টিকা দেওয়ার অনুমোদিত স্বাস্থ্যকর্মীর পরিধি বাড়ানো হয়েছে। এখন চিকিৎসকদের পাশাপাশি প্যারামেডিক, উন্নত জরুরি চিকিৎসা সেবাকর্মী, ফার্মাসিস্ট ও ধাত্রীদেরও নির্দিষ্ট শর্তে টিকা দেওয়ার সুযোগ থাকবে। নিবন্ধিত নার্সরা সন্দেহভাজন হাম রোগীর পরীক্ষার নির্দেশও দিতে পারবেন। ফার্মাসিস্টদের দুই বছর বা তার বেশি বয়সী শিশুদের এমএমআর টিকা দেওয়ার সুযোগও বাড়ানো হয়েছে। গভর্নর হোকুল বলেন, হাম প্রতিরোধযোগ্য একটি রোগ এবং কোনো মানুষের এ কারণে গুরুতর অসুস্থ হওয়া বা মৃত্যুর ঘটনা কাম্য নয়। সর্বশেষ তথ্য পর্যালোচনা করে সংক্রমণ মোকাবিলায় চলমান কার্যক্রম আরও জোরদার করতে তিনি জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন। তার মতে, আরও বেশি স্বাস্থ্যকর্মীকে টিকা ও পরীক্ষা কার্যক্রমে যুক্ত করার মাধ্যমে আক্রান্ত এলাকাগুলোতে দ্রুত সেবা পৌঁছানো সম্ভব হবে। নিউইয়র্কের স্বাস্থ্য বিভাগ একই সঙ্গে সংক্রমণের উৎস শনাক্ত করতে মহামারি-সংক্রান্ত তদন্ত, আক্রান্ত ব্যক্তিদের সংস্পর্শে আসা লোকজনের খোঁজ এবং পরীক্ষাগারে নমুনা পরীক্ষার কার্যক্রম জোরদার করছে। রাজ্য স্বাস্থ্য কমিশনার ডা. জেমস ম্যাকডোনাল্ড জানিয়েছেন, স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগ ও আঞ্চলিক অংশীদারদের সঙ্গে সমন্বয় করে সংক্রমণ শনাক্ত ও নিয়ন্ত্রণে কাজ চলছে। তিনি হাম থেকে সুরক্ষার সবচেয়ে কার্যকর উপায় হিসেবে সুপারিশ অনুযায়ী এমএমআর টিকা নেওয়ার ওপর জোর দিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রজুড়েও চলতি বছর হাম রোগের সংক্রমণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন বা সিডিসির ১ অক্টোবর পর্যন্ত হিসাব অনুযায়ী, ২০২৬ সালে দেশটিতে ৩ হাজার ৮৮৭টি নিশ্চিত হাম রোগের ঘটনা রিপোর্ট হয়েছে। এর ৯৫ শতাংশই এমন রোগী, যারা টিকা নেননি অথবা তাদের টিকাদানের অবস্থা অজানা। সিডিসির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রে মোট ২ হাজার ২৮৯টি হাম রোগের ঘটনা শনাক্ত হয়েছিল। হাম অত্যন্ত সংক্রামক একটি ভাইরাসজনিত রোগ। আক্রান্ত ব্যক্তির কাশি, হাঁচি বা কথা বলার সময় বাতাসে ছড়িয়ে পড়া ভাইরাসের মাধ্যমে এটি দ্রুত অন্যদের মধ্যে ছড়াতে পারে। সাধারণত জ্বর, সর্দি, কাশি ও চোখ লাল বা পানি পড়ার মতো উপসর্গ দিয়ে শুরু হয়ে পরে শরীরে লালচে ফুসকুড়ি দেখা দেয়। গুরুতর ক্ষেত্রে নিউমোনিয়া, মস্তিষ্কে প্রদাহসহ নানা জটিলতা দেখা দিতে পারে। সিডিসি শিশুদের এমএমআর টিকার দুটি ডোজ নেওয়ার সুপারিশ করে। প্রথম ডোজ সাধারণত ১২ থেকে ১৫ মাস বয়সে এবং দ্বিতীয় ডোজ ৪ থেকে ৬ বছর বয়সের মধ্যে দেওয়ার পরামর্শ রয়েছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, একটি সম্প্রদায়ে টিকাদানের হার ৯৫ শতাংশের বেশি থাকলে ব্যাপকভাবে রোগ প্রতিরোধের সুরক্ষা তৈরি হয়। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রে কিন্ডারগার্টেন শিক্ষার্থীদের এমএমআর টিকাদানের হার সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কমেছে, যা হাম পুনরায় ছড়িয়ে পড়ার অন্যতম উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে। নিউইয়র্কের এই পরিস্থিতি এমন সময়ে তৈরি হয়েছে, যখন দেশটির বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে হাম রোগের বড় ধরনের প্রাদুর্ভাব দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে পেনসিলভানিয়ায় চলতি বছরের সংক্রমণ ১৯৯১ সালের পর সবচেয়ে বড় রাজ্যভিত্তিক প্রাদুর্ভাবের পর্যায়ে পৌঁছেছে। সিডিসির হিসাব অনুযায়ী, ২০২৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রে হাম রোগের সংখ্যা ইতোমধ্যে ২০২৫ সালের পুরো বছরের সংখ্যাকে ছাড়িয়ে গেছে। ফলে টিকাদানের হার বাড়ানো এবং আক্রান্ত এলাকায় দ্রুত সংক্রমণ শনাক্ত করাকে জনস্বাস্থ্য কর্মকর্তারা অগ্রাধিকার দিচ্ছেন। তথ্যসূত্র: নিউইয়র্ক স্টেট স্বাস্থ্য বিভাগ, সিডিসি ও রয়টার্স।
নিউইয়র্কে সীমান্তরক্ষীকে গুলির ঘটনায় অবৈধ অভিবাসীর ১৫ বছরের কারাদণ্ড
ফোর্ট হুড সেনাঘাঁটিতে হামলাকারী নিদাল হাসানের মৃত্যুদণ্ড ফায়ারিং স্কোয়াডে কার্যকরের অনুমোদন ট্রাম্পের