টেক্সাসে গরম গাড়িতে ১৫ মাসের শিশুপুত্রকে রেখে মৃত্যুর ঘটনায় হত্যার দায়ে মায়ের ২৫ বছরের কারাদণ্ড
টেক্সাসের ফ্রিসকো শহরে গরমে একটি গাড়ির ভেতরে ১৫ মাস বয়সী শিশুপুত্রকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা রেখে মৃত্যুর ঘটনায় তার মা ভ্যানেসা এসকিভেলকে হত্যার দায়ে দোষী সাব্যস্ত করেছে আদালত। কলিন কাউন্টির একটি জুরি তাকে ২৫ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে। রায়টি সোমবার (৬ জুলাই) ঘোষণা করা হয়।
আদালতে উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, ঘটনাটি ঘটে ২০২৫ সালের ১৬ আগস্ট। ওই দিন এসকিভেল ফ্রিসকোর একটি ম্যাসাজ ও ফেসিয়াল স্পায় কাজে যাওয়ার সময় তার ১৫ মাসের ছেলেকে এমন একটি গাড়িতে রেখে যান, যার শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা (এসি) সচল ছিল না। বাইরে তখন তাপমাত্রা ছিল ৯৫ ডিগ্রি ফারেনহাইটের বেশি। তদন্তে জানা যায়, শিশুটি দুই ঘণ্টারও বেশি সময় গাড়ির ভেতরে ছিল।
প্রসিকিউটরদের উপস্থাপিত প্রমাণ এবং গ্রেপ্তার-সংক্রান্ত নথিতে বলা হয়, কাজ শেষে গাড়িতে ফিরে এসেও এসকিভেল সরাসরি হাসপাতালে না গিয়ে পথে একটি ম্যাকডোনাল্ডস রেস্তোরাঁয় থেমেছিলেন। পরে তিনি শিশুটিকে প্লানোর মেডিকেল সিটি হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। হাসপাতালের নথি অনুযায়ী, শিশুটির শরীরের অভ্যন্তরীণ তাপমাত্রা তখন ১০৬ ডিগ্রি ফারেনহাইটেরও বেশি ছিল।
তদন্তে আরও উঠে আসে, হাসপাতালে নেওয়ার পর এসকিভেল প্রথমে পুলিশ ও চিকিৎসকদের কাছে ভিন্ন তথ্য দিয়েছিলেন। তবে কর্মস্থলের সময়সূচি, নজরদারি ফুটেজ এবং অন্যান্য প্রমাণে নিশ্চিত হওয়া যায় যে, শিশুটি দীর্ঘ সময় গাড়ির ভেতরেই ছিল। এরপর ফ্রিসকো পুলিশ তার বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করে।
প্রায় এক বছর বিচারিক প্রক্রিয়া চলার পর কলিন কাউন্টির জুরি তাকে হত্যার দায়ে দোষী সাব্যস্ত করে এবং আদালত ২৫ বছরের কারাদণ্ডের রায় দেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির তরুণী আলায়না রিওজি-বোডাইন যখন হাইস্কুলের শেষ বর্ষে উঠেছিলেন, তখন তার সামনে ছিল ব্যস্ত কিন্তু স্বাভাবিক একটি বছর। স্থানীয় সমুদ্রসৈকতে লাইফগার্ড হিসেবে কাজ করার পাশাপাশি ট্রায়াথলনের প্রস্তুতিও নিচ্ছিলেন তিনি। কিন্তু হঠাৎ অস্বাভাবিক ক্লান্তি তাকে অসুস্থ করে তোলে। একটি প্রতিযোগিতার আগের দিন বাবাকে তিনি জানান, তার মনে হচ্ছে তিনি মারা যাচ্ছেন। এর এক মাস পর তার মা ডান কাঁধের হাড়ের কাছে গলফ বলের মতো একটি গুটি দেখতে পান। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর ২০২১ সালের সেপ্টেম্বরে মাত্র ১৭ বছর বয়সে স্টেজ-২ হজকিন লিম্ফোমা ধরা পড়ে তার। ক্যানসারের চিকিৎসা শুরু হলেও নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তিত ছিলেন আলায়না। চিকিৎসকদের সঙ্গে আলোচনা করে ভবিষ্যৎ সন্তান ধারণের সম্ভাবনা সংরক্ষণের জন্য তিনি ডিম্বাণু হিমায়িত করে রাখেন। চিকিৎসার সময় চুল হারানো নিয়েও তিনি উদ্বিগ্ন ছিলেন। তাই কেমোথেরাপির সময় চুল পড়া কমাতে কোল্ড ক্যাপ ব্যবহারের জন্য চিকিৎসকদের সঙ্গে আলোচনা করেন। তখন লিম্ফোমার ক্ষেত্রে এই পদ্ধতি অনুমোদিত ছিল না। এরপরও তিনি যুক্তরাষ্ট্রের মেমোরিয়াল স্লোন কেটারিং ক্যানসার সেন্টারে এটি ব্যবহার করা প্রথম শিশু রোগী হন। আলায়নার ভাষায়, এমন একটি পরিস্থিতিতে যেখানে নিজের হাতে তেমন কিছুই থাকে না, কোল্ড ক্যাপ তাকে কিছুটা নিয়ন্ত্রণের অনুভূতি দিয়েছিল। তিনি মোট আটটি কেমোথেরাপি সেশন নেন। পাশাপাশি কলেজে ভর্তির প্রস্তুতিও চালিয়ে যান। চিকিৎসায় তিনি খুব ভালো সাড়া দেন এবং কলেজের প্রথম বর্ষে তাকে ক্যানসারমুক্ত ঘোষণা করা হয়। কিন্তু সেই স্বস্তি বেশিদিন স্থায়ী হয়নি। এক বছরেরও কম সময়ের মধ্যে একটি স্ক্যানে শরীরে ছোট একটি অস্বাভাবিকতা ধরা পড়ে। পরীক্ষা করার আগেই আলায়নার মনে হয়েছিল ক্যানসার আবার ফিরে এসেছে। পরে বায়োপসিতে তার আশঙ্কাই সত্যি প্রমাণিত হয়। এবার রোগটি আগের তুলনায় বেশি আক্রমণাত্মক ছিল। নতুন চিকিৎসায় কোল্ড ক্যাপ ব্যবহার করা সম্ভব হয়নি। তাই এবার নিজের চুল নিজেই কেটে ফেলেন তিনি। এরপর শুরু হয় ইমিউনোথেরাপি ও আরও কেমোথেরাপি। চিকিৎসার পাশাপাশি পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পরীক্ষার প্রস্তুতি ও বিভিন্ন অ্যাসাইনমেন্টে নিজেকে ব্যস্ত রাখতেন তিনি। চিকিৎসার মাঝামাঝি সময়ে চিকিৎসকরা সিদ্ধান্ত নেন, তার স্টেম সেল ট্রান্সপ্লান্ট প্রয়োজন হবে। এই চিকিৎসায় উচ্চমাত্রার কেমোথেরাপির মাধ্যমে ক্যানসার কোষ ও অস্থিমজ্জার কোষ ধ্বংস করার পর রোগীর স্টেম সেল শরীরে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। এর মাধ্যমে ধীরে ধীরে নতুন রক্ত ও রোগ প্রতিরোধব্যবস্থা তৈরি হতে শুরু করে। ট্রান্সপ্লান্টের দিন আলায়নার চিকিৎসক ও নার্সরা হাসপাতালের পরিবেশটিকে উৎসবের মতো করে তোলেন। সেখানে ছিল গান, টেলর সুইফটের থিমের পোস্টার ও ‘ইরাস ট্যুর’ টি-শার্ট। কঠিন একটি চিকিৎসার মুহূর্তও এতে তার জন্য কিছুটা আনন্দময় হয়ে ওঠে। স্টেম সেল ট্রান্সপ্লান্ট সফল হওয়ার পর তাকে প্রায় ছয় সপ্তাহ আইসোলেশনে থাকতে হয়, যাতে তার রোগ প্রতিরোধব্যবস্থা পুনরুদ্ধারের সুযোগ পায়। অবশেষে ২০২৪ সালের জুলাইয়ে তার চিকিৎসা শেষ হয়। মেমোরিয়াল স্লোন কেটারিংয়ে ঘণ্টা বাজিয়ে চিকিৎসা শেষ হওয়ার মুহূর্ত উদযাপন করেন তিনি। এরপরও নিয়মিত পরীক্ষা চলতে থাকে। ২০২৬ সালের জুলাইয়ে করা স্ক্যানেও দেখা যায়, তিনি টানা দুই বছর ধরে ক্যানসারমুক্ত রয়েছেন। চিকিৎসকদের মতে, হজকিন লিম্ফোমায় আক্রান্ত কোনো রোগী পাঁচ বছর ক্যানসারমুক্ত থাকলে ভবিষ্যতে আবার রোগটি ফিরে আসার সম্ভাবনা অত্যন্ত কমে যায়। এখন আলায়না একজন ক্যানসারমুক্ত কলেজ গ্র্যাজুয়েট। চলতি বছরের মে মাসে নার্সিং ডিগ্রি শেষ করার পর তিনি পেডিয়াট্রিক অনকোলজি নার্স হওয়ার জন্য আরও প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন—যাতে একসময় ক্যানসারে আক্রান্ত শিশুদের পাশে দাঁড়াতে পারেন, যেমন তার চিকিৎসার সময় নার্সরা তার পাশে ছিলেন। পাশাপাশি তিনি আলায়না জেইন ফাউন্ডেশন পরিচালনা করছেন। প্রতিষ্ঠানটি কিশোর-কিশোরী ক্যানসার রোগীদের বিভিন্ন সহায়তা দেয়, কোল্ড ক্যাপ ব্যবহারের পক্ষে কাজ করে এবং শিক্ষার্থীদের বৃত্তিও দেয়। নিজের বর্তমান জীবন নিয়ে আলায়নার ভাষায়, তিনি এখন ভবিষ্যতের দিকে তাকিয়ে আছেন—বেঁচে থাকার পাশাপাশি নিজের জীবনকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন।
লিউকেমিয়ায় আক্রান্ত ভাইকে বাঁচাতে অস্থিমজ্জা দিল ৫ বছরের শিশু
লিভার প্রতিস্থাপনের ৫ দিন আগে তীব্র জন্ডিস, ৬ সপ্তাহ পর বদলে গেল সেই ছবি
ফার্মেসির ভুলে ওষুধ বদল, ন্যাশভিল হাসপাতালে একাধিক রোগী প্যারালাইজড
২০২৫ সালে মার্কিন সামরিক বাহিনীতে আনুমানিক ২০ হাজার ৪৯২ জন সক্রিয় সামরিক সদস্য অনাকাঙ্ক্ষিত যৌন সংস্পর্শের শিকার হয়েছেন বলে জানিয়েছে পেন্টাগন। মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগের ফিসকাল ইয়ার ২০২৫—অর্থবছর ২০২৫-এর প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে। পেন্টাগনের দ্বিবার্ষিক গোপনীয় জরিপের ফলের ভিত্তিতে এই সংখ্যা অনুমান করা হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৩ সালে এমন অভিজ্ঞতার শিকার সামরিক সদস্যের আনুমানিক সংখ্যা ছিল ২৯ হাজার ৬১ জন। অর্থাৎ দুই বছরের ব্যবধানে সংখ্যা প্রায় ৮ হাজার ৫০০ জন কমেছে। নারী ও পুরুষ—উভয় সদস্যের মধ্যেই অনাকাঙ্ক্ষিত যৌন সংস্পর্শের হার কমেছে। সক্রিয় দায়িত্বে থাকা নারীদের ক্ষেত্রে হার ২০২৩ সালের ৬ দশমিক ৮ শতাংশ থেকে ২০২৫ সালে ৪ দশমিক ৩ শতাংশে নেমেছে। পুরুষদের ক্ষেত্রে তা ১ দশমিক ৩ শতাংশ থেকে কমে ১ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে, এসব ঘটনার রিপোর্ট করার হার বেড়েছে। ২০২৩ সালে আনুমানিক ২৫ শতাংশ ভুক্তভোগী ঘটনা কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছিলেন। ২০২৫ সালে এই হার বেড়ে ৩৩ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। অর্থাৎ ভুক্তভোগীদের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ জানিয়েছেন। তবে আনুষ্ঠানিক অভিযোগের মোট সংখ্যা বেড়েছে—এমন নয়। পেন্টাগনের হিসাবে, ২০২৫ সালে ৭ হাজার ৯৯৮টি যৌন নিপীড়নের রিপোর্ট পাওয়া গেছে। ২০২৪ সালে এই সংখ্যা ছিল ৮ হাজার ১৯৫ এবং ২০২৩ সালে ৮ হাজার ৫১৫টি। পেন্টাগন বলছে, অভিযোগ জানানোর হার বাড়াকে তারা ইতিবাচকভাবে দেখছে। কারণ এতে ভুক্তভোগীরা প্রয়োজনীয় সহায়তা ও চিকিৎসা পেতে পারেন এবং অভিযুক্তদের জবাবদিহির আওতায় আনার সুযোগ বাড়ে। তবে সামরিক বাহিনীতে যৌন নিপীড়নের ঘটনা এখনো বড় উদ্বেগের বিষয়। পেন্টাগন জানিয়েছে, যৌন নিপীড়ন ও যৌন হয়রানি সামরিক বাহিনীর সদস্যদের মধ্যে আস্থা, শৃঙ্খলা এবং সামরিক প্রস্তুতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।
‘চুক্তি করতে চায় ইরান, তবে সঠিক চুক্তির জন্য প্রস্তুত নয়’, কঠোর অর্থনৈতিক চাপের হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের
৭৯ মিলিয়ন ডলারের মেডিকেল জালিয়াতির অভিযোগে পলাতক ওসমান সাইদকে খুঁজছে এফবিআই
যুক্তরাষ্ট্রে গরুর মাংসের দাম কমাতে ৩ লাখ টন আমদানির অনুমতি দিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প
যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় ঋণ প্রথমবারের মতো ৪০ ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গেছে। ট্রেজারি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ আগস্ট ঋণের পরিমাণ ৪০ দশমিক ০৫ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছায়। এক দশকেরও কম সময়ে দেশটির মোট জাতীয় ঋণ দ্বিগুণের বেশি হওয়ায় সরকারের সুদ ব্যয় ও ভবিষ্যৎ ঋণ নেওয়ার সক্ষমতা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। জাতীয় ঋণ সরাসরি সাধারণ মানুষের ব্যক্তিগত ঋণ নয়। তবে সরকারের দীর্ঘমেয়াদি ঋণ দ্রুত বাড়তে থাকলে এর প্রভাব অর্থনীতির বিভিন্ন ক্ষেত্রে পড়তে পারে। বিশেষ করে সরকারি বন্ডের সুদের হার বাড়লে ব্যাংক ও অন্যান্য ঋণদাতাদের জন্য অর্থের খরচও বাড়ে। এর প্রভাব মর্টগেজ, গাড়ির ঋণ এবং অন্যান্য ভোক্তা ঋণের সুদের হারেও পড়তে পারে। বর্তমান ৪০ ট্রিলিয়ন ডলারের ঋণের মধ্যে প্রায় ৩২ দশমিক ৩ ট্রিলিয়ন ডলার সাধারণ বিনিয়োগকারী ও প্রতিষ্ঠানের কাছে থাকা ট্রেজারি ঋণ এবং প্রায় ৭ দশমিক ৮ ট্রিলিয়ন ডলার সরকারি সংস্থাগুলোর মধ্যকার ঋণ। ২০১৭ সালের জানুয়ারিতে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রথমবার প্রেসিডেন্ট হওয়ার সময় জাতীয় ঋণ ছিল প্রায় ১৯ দশমিক ৯৫ ট্রিলিয়ন ডলার। ঋণ বাড়ার অন্যতম কারণ হলো সরকারের ব্যয় রাজস্ব আয়ের চেয়ে বেশি থাকা। গত এক দশকে বিভিন্ন প্রশাসনের সময় বাজেট ঘাটতি, মহামারি মোকাবিলায় বড় অঙ্কের ব্যয়, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি এবং ক্রমবর্ধমান সুদ পরিশোধের কারণে সরকারের ধার নেওয়ার প্রয়োজন বেড়েছে। এরই মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি ট্রেজারি বন্ডের সুদের হারও উচ্চ পর্যায়ে রয়েছে। চলতি আগস্টে ৩০ বছরের ট্রেজারি বন্ডের ফলন ৫ শতাংশের ওপরে রয়েছে, যা মর্টগেজ বাজারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি সূচক। কারণ যুক্তরাষ্ট্রে দীর্ঘমেয়াদি মর্টগেজের সুদের হার সাধারণত ১০ বছরের ট্রেজারি বন্ডের ফলনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে ওঠানামা করে। ব্যবসায়িক ও অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, জাতীয় ঋণের চাপ দীর্ঘস্থায়ী হলে সরকারের সুদ পরিশোধের ব্যয় আরও বাড়তে পারে। এতে শিক্ষা, অবকাঠামো বা অন্যান্য সরকারি খাতে ব্যয়ের জন্য অর্থের পরিমাণ কমে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। একই সঙ্গে বেশি সরকারি ঋণ বেসরকারি খাতের জন্য ঋণের খরচ বাড়িয়ে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতেও চাপ তৈরি করতে পারে। তবে ৪০ ট্রিলিয়ন ডলারের এই সংখ্যা দিয়ে একাই যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক অবস্থার পুরো চিত্র বোঝা যায় না। অর্থনীতিবিদরা জাতীয় ঋণের পাশাপাশি অর্থনীতির আকারের তুলনায় ঋণের পরিমাণ, অর্থাৎ ঋণ ও মোট দেশজ উৎপাদনের অনুপাত এবং জনগণের হাতে থাকা সরকারি ঋণও বিবেচনা করেন। জাতীয় ঋণ কমাতে হলে সরকারের সামনে মূলত ব্যয় কমানো, রাজস্ব বাড়ানো অথবা দুটির সমন্বয়ের মতো কঠিন সিদ্ধান্ত রয়েছে। ট্রেজারি বিভাগ ইতোমধ্যে ঋণ ব্যবস্থাপনা ও বন্ড বাজারে স্থিতিশীলতা ধরে রাখতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিচ্ছে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব পদক্ষেপ দীর্ঘমেয়াদি বাজেট ঘাটতির মূল কারণ সমাধানের বিকল্প নয়।
যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়ে এখন পেপাল-ভেনমোতে টিউশন ফি পরিশোধের সুযোগ
সিলিকন ভ্যালির চাকরি ছেড়ে বাংলাদেশে চিপ ডিজাইনের প্রতিষ্ঠান গড়লেন এনায়েতুর রহমান