আমেরিকা

ছবি: সংগৃহীত
মার্কিন পাইলটদের ঘাঁটিতে বিধ্বংসী হামলা ইরানের, একাধিক যুদ্ধবিমান ক্ষতিগ্রস্ত

মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক উপস্থিতির ওপর স্মরণীয় এক আঘাত হানার দাবি করেছে ইরান। দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জানিয়েছে, সৌদি আরবে অবস্থানরত ২০০ জন মার্কিন পাইলট এবং ফাইটার জেট ক্রুদের আবাসিক এলাকায় সরাসরি হামলা চালানো হয়েছে।  তেহরানের দাবি অনুযায়ী, এটি পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন স্থাপনার ওপর তাদের অন্যতম বড় এবং বিধ্বংসী অভিযান। আইআরজিসি-র অ্যারোস্পেস ফোর্সের ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ মজিদ মুসাভি এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, এই বিশেষ অভিযানে একটি মার্কিন 'অ্যাওয়াকস' (AWACS) নজরদারি বিমান সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে। এছাড়া হামলায় আরও বেশ কিছু মার্কিন যুদ্ধবিমান মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। সম্প্রতি আমেরিকা ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পাল্টাপাল্টি জবাব হিসেবে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালাচ্ছে ইরান। ক্রমাগত এই হামলার মুখে নিরাপত্তা শঙ্কায় মার্কিন সেনারা তাদের নিয়মিত ব্যারাক ও ঘাঁটি ছেড়ে বিভিন্ন হোটেল এবং অফিস স্পেসে আশ্রয় নিতে বাধ্য হচ্ছে বলে জানা গেছে। এই সংঘাতের ফলে পুরো মধ্যপ্রাচ্যে এখন চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ১, ২০২৬ 0
মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ
বোমা দিয়েই হবে আলোচনা, মিত্রদের ভূমিকায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ হেগসেথের

মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ ইরানের সাথে চলমান উত্তেজনা এবং মিত্রদেশগুলোর ভূমিকা নিয়ে চরম অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। এক চাঞ্চল্যকর বক্তব্যে তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, ওয়াশিংটন এখন আর কেবল আলোচনার টেবিলে সীমাবদ্ধ থাকতে রাজি নয়।  হেগসেথের মতে, ইরানের ভেতরে প্রভাবশালী কোনো পক্ষের সাথে আমেরিকার যোগাযোগ চলছে এবং সেই আলোচনা বর্তমানে বেশ সক্রিয় ও বাস্তবমুখী। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের শর্ত মেনে ইরান যদি চুক্তিতে আসতে চায়, তবেই কেবল ওয়াশিংটন নমনীয় হবে। অন্যথায় হেগসেথের কঠোর হুঁশিয়ারি— “আমরা এখন থেকে বোমার মাধ্যমেই সমঝোতা করব।” হেগসেথ কেবল ইরানের ওপরই নয়, বরং আমেরিকার দীর্ঘদিনের মিত্রদেশগুলোর ওপরও ক্ষোভ ঝেড়েছেন। বিশেষ করে ব্রিটিশ রয়্যাল নেভি কেন এখনো হরমুজ প্রণালীতে সরাসরি সম্পৃক্ত হচ্ছে না, তা নিয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন। তার মতে, আমেরিকা যেখানে সারা বিশ্বের স্বাধীনতার জন্য এই যুদ্ধে নেমেছে, সেখানে ন্যাটো (NATO) মিত্রদের এমন অনীহা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। সংবাদ সম্মেলনে হেগসেথ সরাসরি যুদ্ধের ময়দানে মার্কিন সেনা বা 'বুটস অন দ্য গ্রাউন্ড' মোতায়েনের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেননি। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ইরানকে বাগে আনতে যেকোনো ধরনের সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার পথ খোলা রাখা হয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ৩১, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত।
এবার মার্কিন সামরিক জাহাজে ইরানের হামলা

ওমানের সালালাহ বন্দর থেকে বেশ কিছুটা দূরে গভীর সমুদ্রে একটি মার্কিন সামরিক সহায়তা জাহাজে সফলভাবে লক্ষ্যভেদ করেছে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী। ইরানের প্রভাবশালী সামরিক শাখা ‘ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস’ (IRGC)-এর খাতাম আল-আম্বিয়া সদর দপ্তরের পক্ষ থেকে এই অভিযানের কথা নিশ্চিত করা হয়েছে। ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সিতে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে মুখপাত্র জানান, নির্দিষ্ট দূরত্ব বজায় রেখে অত্যন্ত নিখুঁতভাবে এই হামলা পরিচালনা করা হয়েছে। তবে হামলার ক্ষয়ক্ষতি সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।  বিবৃতিতে ইরান পুনরায় স্পষ্ট করে বলেছে যে, তারা ওমানের জাতীয় সার্বভৌমত্বের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। ওমানকে একটি ‘ভ্রাতৃপ্রতিম ও বন্ধুপ্রতীম’ দেশ হিসেবে উল্লেখ করে তেহরান জানায়, এই অভিযান কোনোভাবেই ওমানের ভৌগোলিক অখণ্ডতাকে বিঘ্নিত করেনি।  আন্তর্জাতিক জলসীমায় মার্কিন সামরিক উপস্থিতির জবাব দিতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২৮, ২০২৬ 0
বিশ্বের কোটি মানুষের কাছে আমেরিকা ছিল “স্বপ্নের দেশ”
স্বপ্নের আমেরিকা এখন অনিশ্চিত? নিরাপদ বিকল্প হয়ে উঠছে কানাডা

দীর্ঘদিন ধরে বিশ্বের কোটি মানুষের কাছে আমেরিকা ছিল “স্বপ্নের দেশ”—এর পেছনে ছিল বাস্তব ও শক্তিশালী কিছু কারণ। বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতি, বহুজাতিক কোম্পানিতে কাজের সুযোগ, উচ্চ বেতনের চাকরি, উন্নত প্রযুক্তি ও গবেষণার পরিবেশ—সবকিছুই মানুষকে আকৃষ্ট করেছে আমেরিকার দিকে।   বিশেষ করে আইটি, স্বাস্থ্যসেবা, ইঞ্জিনিয়ারিং ও ব্যবসায়িক খাতে ক্যারিয়ার গড়ার সুযোগ যুক্তরাষ্ট্রকে করেছে অনন্য। পাশাপাশি শক্তিশালী ডলার, বিশ্বমানের বিশ্ববিদ্যালয় এবং পরিশ্রম করলে দ্রুত উন্নতির বাস্তব উদাহরণ—এই সবকিছু মিলিয়েই বহু বছর ধরে অভিবাসীদের কাছে যুক্তরাষ্ট্র ছিল সাফল্য ও সম্ভাবনার প্রতীক।   তবে সাম্প্রতিক সময়ে সেই চিত্রে ধীরে ধীরে পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। অভিবাসনপ্রত্যাশীদের একটি বড় অংশ এখন যুক্তরাষ্ট্রের পরিবর্তে কানাডা কে বেশি নিরাপদ ও বাস্তবসম্মত বিকল্প হিসেবে বিবেচনা করছেন।   বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রে ভিসা প্রক্রিয়ার জটিলতা ও দীর্ঘসূত্রিতা এই পরিবর্তনের অন্যতম প্রধান কারণ। কর্মভিত্তিক ভিসা, গ্রিন কার্ড বা স্থায়ী বসবাসের ক্ষেত্রে অনেক আবেদনকারীকে বছরের পর বছর অপেক্ষা করতে হচ্ছে। পাশাপাশি ভিসা প্রত্যাখ্যানের হার বৃদ্ধি এবং নীতিমালার ঘনঘন পরিবর্তন অনেকের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি করছে।   অন্যদিকে, কানাডা তুলনামূলকভাবে সহজ ও পরিকল্পিত অভিবাসন ব্যবস্থা গড়ে তুলেছে। দক্ষ কর্মীদের জন্য এক্সপ্রেস এন্ট্রি এবং বিভিন্ন প্রভিন্সিয়াল প্রোগ্রামের মাধ্যমে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে স্থায়ী বসবাসের সুযোগ দিচ্ছে দেশটি। ফলে যারা দ্রুত স্থায়ী হতে চান, তাদের কাছে কানাডা এখন বেশি আকর্ষণীয় হয়ে উঠছে।   এছাড়া স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা এবং সামাজিক নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও কানাডা অনেক অভিবাসীর কাছে এগিয়ে রয়েছে। পরিবার নিয়ে স্থায়ীভাবে বসবাসের জন্য দেশটিকে অনেকেই বেশি উপযোগী মনে করছেন। কম রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং অভিবাসীবান্ধব নীতিমালা কানাডাকে আরও গ্রহণযোগ্য করে তুলছে।   তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্র এখনও বিশ্বের সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক শক্তি এবং সুযোগের কেন্দ্র। তাই দেশটির আকর্ষণ পুরোপুরি কমে যায়নি। বরং বর্তমান বাস্তবতায় অভিবাসনপ্রত্যাশীরা এখন দুটি বিষয়ের মধ্যে সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ২৮, ২০২৬ 0
বাগদাদে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস
ইরাকে জরুরি সতর্কতা: মার্কিন নাগরিকদের অবিলম্বে দেশ ছাড়ার নির্দেশ

মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তজনা ও নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে ইরাকে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের অবিলম্বে দেশ ত্যাগের নির্দেশ দিয়েছে বাগদাদে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস।  বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ, ২০২৬) এক বিশেষ নিরাপত্তা বার্তায় দূতাবাস জানায়, ইরান-ঘনিষ্ঠ সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো ইরাকজুড়ে মার্কিন নাগরিক এবং ওয়াশিংটন সংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলোতে ‘ব্যাপক আকারে’ হামলা চালিয়েছে। দূতাবাসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ইরাকের কুর্দিস্তান অঞ্চলসহ বিভিন্ন এলাকায় এই হামলার বিস্তার ঘটেছে। ইরাকি আকাশসীমায় বর্তমানে মিসাইল, ড্রোন এবং রকেট হামলার চরম ঝুঁকি থাকায় নাগরিকদের বাগদাদের দূতাবাস বা এরবিলের কনস্যুলেট জেনারেলের দিকে না আসার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। নিরাপত্তা বার্তায় আরও বলা হয়, ইরাকের আকাশপথ বর্তমানে বন্ধ রয়েছে এবং বাণিজ্যিক বিমান চলাচল স্থগিত করা হয়েছে। এই অবস্থায় দেশ ছাড়তে ইচ্ছুক নাগরিকদের জর্ডান, কুয়েত, সৌদি আরব এবং তুরস্কের সীমান্ত ব্যবহার করে স্থলপথে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।  মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্ট ইরাককে ‘লেভেল ফোর’ বা ‘ভ্রমণ নিষিদ্ধ’ দেশের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানিয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২৬, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত।
মার্কিন যুদ্ধবিমানে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, ভিডিও প্রকাশ

মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে মার্কিন যুদ্ধবিমানে হামলার এক চাঞ্চল্যকর দাবিকে কেন্দ্র করে। ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডস কোর (আইআরজিসি) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, দেশটির দক্ষিণ উপকূলীয় সিস্তান-বালুচিস্তান প্রদেশের কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ চাবাহার বন্দর এলাকায় তারা একটি মার্কিন এফ-১৮ যুদ্ধবিমান লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। বিবিসি ফার্সির বরাত দিয়ে জানা গেছে, গতকাল ইরানি গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বেশ কিছু ভিডিওতে মার্কিন এই শক্তিশালী যুদ্ধবিমানটিকে চাবাহারের আকাশে উড়তে দেখা যায়। বিবিসির ফ্যাক্ট-চেকিং বিভাগ ভিডিওগুলো যাচাই করে নিশ্চিত করেছে যে, এর মধ্যে অন্তত একটি ভিডিও চাবাহার বন্দর এলাকার টিস সেতুর কাছে ধারণ করা হয়েছে। ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, উড়ন্ত এফ-১৮ বিমানটিকে লক্ষ্য করে প্রতিরক্ষামূলক ক্ষেপণাস্ত্র ছোঁড়া হচ্ছে এবং এক পর্যায়ে বিমানটির লেজের অংশে শক্তিশালী বিস্ফোরণ ঘটে। তবে বিস্ফোরণের পর বিমানটি বিধ্বস্ত হয়েছে কি না, সে বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো অকাট্য প্রমাণ বা ভিডিও ফুটেজ সামনে আসেনি। এদিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) ইরানের এই দাবিকে সরাসরি নাকচ করে দিয়েছে। এক পাল্টা বিবৃতিতে তারা জানায়, ওই অঞ্চলে তাদের কোনো যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হয়নি। আকাশসীমার এই সংঘাতের খবরটি নিয়ে বর্তমানে আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক জল্পনা শুরু হয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২৬, ২০২৬ 0
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত
ট্রাম্পের জনপ্রিয়তায় বড় ধরনের ধস

ইরান যুদ্ধ এবং বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধির জেরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জনপ্রিয়তায় বড় ধরনের ধস নেমেছে। রয়টার্স/ইপসোস-এর সাম্প্রতিক এক জরিপ অনুযায়ী, ট্রাম্পের জনসমর্থন কমে এখন ৩৬ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যা তার পুনরায় ক্ষমতা গ্রহণের পর সর্বনিম্ন। চার দিনব্যাপী পরিচালিত এই জরিপে দেখা গেছে, মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা ৪০ শতাংশ থেকে ৪ শতাংশ পয়েন্ট কমেছে। হরমুজ প্রণালীতে অস্থিরতা এবং ইরানের ওপর মার্কিন হামলার পর থেকেই সাধারণ মার্কিনিদের মধ্যে ক্ষোভ দানা বাঁধতে শুরু করেছে।  জরিপে অংশ নেওয়া ৬১ শতাংশ নাগরিকই ইরানের ওপর মার্কিন সামরিক হামলার বিপক্ষে তাদের অবস্থান জানিয়েছেন, যেখানে মাত্র ৩৫ শতাংশ এই পদক্ষেপকে সমর্থন করেছেন। বিশেষ করে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। জ্বালানি তেলের দাম আকাশচুম্বী হওয়ায় ট্রাম্পের অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনায় আস্থা রাখছেন মাত্র ২৫ শতাংশ ভোটার।  উল্লেখ্য, ১,২৭২ জন প্রাপ্তবয়স্ক মার্কিন নাগরিকের ওপর পরিচালিত এই অনলাইন জরিপে ৩ শতাংশ মার্জিন অফ এরর বা ত্রুটির মাত্রা ধরা হয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২৫, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
আমেরিকার ২৫০ সেরা উদ্ভাবকের শীর্ষে ইলন মাস্ক: ফোর্বস

বিশ্ববিখ্যাত বিজনেস ম্যাগাজিন ফোর্বস আমেরিকার ২৫০ জন সর্বশ্রেষ্ঠ উদ্ভাবকের একটি বিশেষ তালিকা প্রকাশ করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপনের অংশ হিসেবে প্রকাশিত এই তালিকায় বর্তমান সময়ের প্রভাবশালী সব উদ্যোক্তা ও বিজ্ঞানীদের স্থান দেওয়া হয়েছে।   তালিকার শীর্ষস্থানটি দখল করেছেন টেক বিলিওনিয়ার ইলন মাস্ক যাকে টেসলা, স্পেসএক্স এবং নিউরালিংকের মতো বৈপ্লবিক সব প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে এই অনন্য স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। এই তালিকায় শীর্ষ দশে ইলন মাস্কের পাশাপাশি রয়েছেন জেফ বেজোস, বিল গেটস এবং এনভিডিয়ার জেনসেন হুয়াং এর মতো বিশ্বখ্যাত ব্যক্তিত্বরা। ওপেনএআই এর সিইও স্যাম অল্টম্যানও এই তালিকায় নিজের জায়গা করে নিয়েছেন।   ফোর্বস জানিয়েছে যে এই তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করার ক্ষেত্রে সৃজনশীলতা, বাণিজ্যিক প্রভাব এবং শিল্পক্ষেত্রে আমূল পরিবর্তনের ক্ষমতাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বিশেষ বিষয় হলো এই তালিকার এক-তৃতীয়াংশেরও বেশি স্থান দখল করেছেন নারী এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উদ্ভাবকরা যা আমেরিকার বৈচিত্র্যময় উদ্ভাবনী শক্তির বহিঃপ্রকাশ ঘটায়। ফোর্বসের এই প্রতিবেদন অনুযায়ী আমেরিকার অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি ও বিশ্বজুড়ে দেশটির প্রযুক্তিগত আধিপত্যের পেছনে এই উদ্ভাবকদের অবদান অনস্বীকার্য। আধুনিক ইন্টারনেট ব্যবস্থা থেকে শুরু করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং বায়োটেকনোলজির মতো খাতে যারা পৃথিবীকে নতুন দিশা দেখিয়েছেন তারাই এই তালিকায় অগ্রাধিকার পেয়েছেন।   বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন এই তালিকাটি আগামীর তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য এক বিশাল অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করবে এবং বৈশ্বিক প্রযুক্তি বাজারে আমেরিকার অবস্থান আরও সুদৃঢ় করবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২৩, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
বৃদ্ধ ডেলিভারি ড্রাইভারের কষ্ট দেখে কাঁদল আমেরিকা, অনুদান এল লাখ লাখ ডলার

যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসি অঙ্গরাজ্যে ৭৮ বছর বয়সী এক ডেলিভারি ড্রাইভারের সংগ্রামের গল্প পুরো আমেরিকাকে নাড়িয়ে দিয়েছে। ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওর পর সাধারণ মানুষের সহানুভূতিতে তার জন্য উঠেছে লাখ লাখ ডলার অনুদান।   জানা গেছে, রিচার্ড পুলি নামের এই বৃদ্ধ দীর্ঘদিন ধরে ডোরড্যাশে ডেলিভারি ড্রাইভার হিসেবে কাজ করছেন। সম্প্রতি পূর্ব টেনেসির এক বাসিন্দার বাসার রিং ডোরবেল ক্যামেরায় ধারণ করা একটি ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে দেখা যায়, ৭৮ বছর বয়সী পুলি ধীরে ধীরে সিঁড়ি বেয়ে উঠে একটি স্টারবাকস অর্ডার পৌঁছে দিচ্ছেন। তার পরিশ্রম ও আন্তরিকতা দেখে ভিডিওটি দ্রুত ভাইরাল হয়ে যায়।   ভিডিওটি পোস্ট করেন গ্রাহক ব্রিটানি স্মিথ। তিনি জানান, এত বয়সেও পুলির পরিশ্রম দেখে তিনি আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন এবং অন্যদেরও সাহায্যের জন্য আহ্বান জানান। পরে একটি অনলাইন ফান্ডরেইজার চালু করা হলে অল্প সময়ের মধ্যেই সেখানে প্রায় ৯৬৫ হাজার ডলার জমা পড়ে।   রিচার্ড পুলি জানান, তার স্ত্রী আগে একটি ইন্স্যুরেন্স কোম্পানিতে কাজ করতেন, কিন্তু চাকরি হারানোর পর তাদের সংসারে আর্থিক সংকট শুরু হয়। স্ত্রীর চিকিৎসার খরচ ও নিয়মিত বিল পরিশোধ করতে গিয়ে তাকে আবার কাজ শুরু করতে হয়, যদিও তিনি অনেক আগেই অবসর নিয়েছিলেন।   এত বড় অঙ্কের অনুদান পাওয়ার পরও পুলি বলেন, তিনি এখনও কাজ ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেননি। তার ভাষায়, যতদিন শারীরিকভাবে সক্ষম থাকবেন, ততদিন কিছু না কিছু কাজ করতে চান।   এই ঘটনাকে অনেকেই আমেরিকায় মানবিকতার এক অনন্য উদাহরণ হিসেবে দেখছেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় হাজার হাজার মানুষ মন্তব্য করে বলেছেন, একজন পরিশ্রমী বৃদ্ধের প্রতি মানুষের ভালোবাসা ও সহানুভূতি এখনও বেঁচে আছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২২, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত।
নতুন রেকর্ড, যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানি তেলের দাম দেড় বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে বিগত দেড় বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। আমেরিকান অটোমোবাইল অ্যাসোসিয়েশনের (AAA) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, আজ দেশটিতে প্রতি গ্যালন রেগুলার গ্যাসের দাম ৪ সেন্ট বেড়ে ৩.৮৮ ডলারে দাঁড়িয়েছে। বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, ২০২২ সালের ১৭ অক্টোবরের পর এটিই যুক্তরাষ্ট্রে তেলের সর্বোচ্চ মূল্য। এর আগে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর বিশ্ববাজারে তেলের দামে যে রেকর্ড উল্লম্ফন দেখা দিয়েছিল, বর্তমান পরিস্থিতি সেই ভয়াবহতাকেও মনে করিয়ে দিচ্ছে। বিশেষত, ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর মাত্র ১৯ দিনের ব্যবধানে যুক্তরাষ্ট্রে গ্যাসের দাম প্রতি গ্যালনে ৯০ সেন্ট পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে দেশটির আটটি অঙ্গরাজ্যে প্রতি গ্যালন তেলের গড় দাম ৪ ডলার ছাড়িয়ে গেছে।  ক্যালিফোর্নিয়া, হাওয়াই এবং ওয়াশিংটনের মতো তিনটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গরাজ্যে এই দাম ৫ ডলারের গণ্ডি অতিক্রম করেছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ১৯, ২০২৬ 0
শত বছরের পুরনো আইন স্থগিত স্থগিত করলেন ট্রাম্প, কী এই জোন্স অ্যাক্ট?

ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট ও মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে আনতে এক শতাব্দী প্রাচীন নৌ-পরিবহন আইন ‘জোন্স অ্যাক্ট’ (Jones Act) সাময়িকভাবে স্থগিত করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আগামী ৬০ দিনের জন্য এই আইনটি শিথিল করার ফলে এখন থেকে বিদেশি পতাকাবাহী জাহাজগুলো আমেরিকার এক বন্দর থেকে অন্য বন্দরে তেল, গ্যাসসহ প্রয়োজনীয় পণ্য পরিবহন করতে পারবে। হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, “বর্তমান যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে তেল, প্রাকৃতিক গ্যাস, সার এবং কয়লার মতো অতি প্রয়োজনীয় সম্পদগুলো যাতে দ্রুত মার্কিন বন্দরগুলোতে পৌঁছাতে পারে, সেজন্যই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।” কী এই জোন্স অ্যাক্ট? ১৯২০ সালে পাস হওয়া ‘মার্চেন্ট মেরিন অ্যাক্ট’, যা ‘জোন্স অ্যাক্ট’ নামে পরিচিত, অনুযায়ী আমেরিকার অভ্যন্তরীণ জলপথে পণ্য পরিবহনের জন্য ব্যবহৃত জাহাজগুলোকে অবশ্যই আমেরিকায় নির্মিত হতে হবে, মার্কিন নাগরিকদের মালিকানাধীন হতে হবে এবং জাহাজের কর্মীদের অধিকাংশকেই মার্কিন নাগরিক হতে হবে। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর মার্কিন নৌ-শিল্পকে সুরক্ষা দিতে এই আইন করা হয়েছিল। তবে জাতীয় নিরাপত্তা বা জরুরি প্রয়োজনে প্রেসিডেন্ট এই আইন স্থগিত করার ক্ষমতা রাখেন। কেন এই জরুরি পদক্ষেপ? ইরান যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জ্বালানি সরবরাহ মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে। এর ফলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম হু হু করে বাড়ছে। বর্তমানে অপরিশোধিত ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেল প্রতি ১০৯ ডলারে ঠেকেছে, যা যুদ্ধের আগে ছিল মাত্র ৭০ ডলার। আমেরিকায় সাধারণ গ্যাসোলিনের দামও প্রায় ২৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এই পরিস্থিতিতে অভ্যন্তরীণ সরবরাহ ব্যবস্থা সচল রাখতেই বিদেশি জাহাজের ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। মিশ্র প্রতিক্রিয়া ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তকে বাজার বিশ্লেষকরা ইতিবাচক হিসেবে দেখলেও অভ্যন্তরীণ নৌ-শিল্প মালিকরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। ‘আমেরিকান মেরিটাইম পার্টনারশিপ’ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, এই পদক্ষেপের ফলে মার্কিন শ্রমিকরা কাজ হারাতে পারেন এবং দীর্ঘমেয়াদে এটি মার্কিন নৌ-শিল্পের ক্ষতি করবে। তবে জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই শিথিলতা খুচরা বাজারে তেলের দাম গ্যালন প্রতি ৩ থেকে ১০ সেন্ট পর্যন্ত কমাতে সাহায্য করতে পারে। উল্লেখ্য, ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’র আওতায় মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক তৎপরতা বৃদ্ধির পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ অর্থনীতি সামাল দিতে ভেনেজুয়েলা ও রাশিয়ার ওপর থেকেও কিছু নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার ইঙ্গিত দিয়েছে ওয়াশিংটন। আন্তর্জাতিক শক্তি সংস্থাও (IEA) তাদের জরুরি মজুদ থেকে রেকর্ড পরিমাণ তেল বাজারে ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে বিশ্ব অর্থনীতিতে এর প্রভাব আরও ভয়াবহ হতে পারে এবং ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই পদক্ষেপ সেই চাপ সামলানোর একটি প্রাথমিক চেষ্টা মাত্র।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ১৯, ২০২৬ 0
জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মেয়ার্জ
ইরানে হামলার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের উপরে অসন্তুষ্ট জার্মানি: বিস্ফোরক মন্তব্য চ্যান্সেলরের

ইরান ইস্যুতে এবার সরাসরি ওয়াশিংটনের ওপর ক্ষোভ ঝাড়লেন জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মেয়ার্জ। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান অভিমুখে মার্কিন-ইসরায়েলি যে সামরিক অভিযান শুরু হয়েছে, তা নিয়ে জার্মানির পক্ষ থেকে গভীর উদ্বেগ ও প্রশ্ন তোলা হয়েছে। চ্যান্সেলর মেয়ার্জ আজ বুন্দেসট্যাগে (জার্মান পার্লামেন্ট) দেওয়া এক ভাষণে স্পষ্ট করে বলেন, এই অভিযানের পেছনে কোনো সুনির্দিষ্ট বা দূরদর্শী কৌশল জার্মানির নজরে পড়েনি। মেয়ার্জ জানান, এই অভিযানের আগে ওয়াশিংটন বার্লিনের সাথে কোনো প্রকার আলাপ-আলোচনার প্রয়োজন মনে করেনি। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, "আমেরিকা যদি আগে আমাদের সাথে পরামর্শ করত, তবে আমরা অবশ্যই এই ধরনের পদক্ষেপ না নেওয়ার পরামর্শ দিতাম।" চ্যান্সেলর আরও যোগ করেন, এই সামরিক অভিযান সফল করার মতো কোনো বিশ্বাসযোগ্য পরিকল্পনা এখনও বিশ্ববাসীর সামনে উপস্থাপন করতে পারেনি যুক্তরাষ্ট্র। এদিকে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে বাণিজ্যিক জাহাজ সুরক্ষায় ন্যাটোর সহযোগিতা চেয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে হরমুজ প্রণালীতে জার্মান যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর বিষয়টি নাকচ করে দিয়েছেন মেয়ার্জ।  ইরান ইস্যুতে প্রথমে কিছুটা নীরব থাকলেও বর্তমানে নিজ অবস্থানে অনড় ও কঠোর মনোভাব পোষণ করছেন এই জার্মান নেতা। বিশেষ করে যখন ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আলোচনা চলছিল, ঠিক সেই মূহুর্তে এই হামলা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ১৮, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত।
ইজরায়েলকে গোপন তথ্য পাচার! ইরানে গ্রেপ্তার ২০ ‘বিশ্বাসঘাতক’

মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি এখন বারুদের স্তূপের ওপর দাঁড়িয়ে। একদিকে আমেরিকার ভয়াবহ বোমাবর্ষণ, অন্যদিকে ইরানের পাল্টা আঘাত—সব মিলিয়ে এক চরম অস্থিরতা বিরাজ করছে। এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই চাঞ্চল্যকর দাবি করেছে তেহরান। ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের হয়ে কাজ করা এবং অত্যন্ত সংবেদনশীল সামরিক তথ্য পাচারের অভিযোগে দেশটির উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল থেকে ২০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পশ্চিম আজারবাইজান প্রদেশের সরকারি কৌঁসুলির দপ্তর থেকে জানানো হয়েছে, ধৃত ব্যক্তিরা ইরানের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটি ও নিরাপত্তা বিভাগের গোপন নথি তেল আভিভের কাছে পৌঁছে দিচ্ছিল। যদিও সমালোচকদের দাবি, কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ ছাড়াই এই গণগ্রেপ্তার চালানো হয়েছে। তবে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, সম্প্রতি ইরানের সুনির্দিষ্ট প্রতিরক্ষা চেকপয়েন্টগুলোতে ইসরায়েলি নিখুঁত হামলা প্রমাণ করে যে, ভেতর থেকেই কেউ তথ্য সরবরাহ করছে। শনিবার ভোরে ইরানের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ খার্গ দ্বীপে আমেরিকার ভয়াবহ হামলার পর থেকেই পাল্টাপাল্টি উত্তেজনা তুঙ্গে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই অভিযানকে ‘ইতিহাসের অন্যতম ভয়ংকর বোমাবর্ষণ’ হিসেবে অভিহিত করে দাবি করেছেন, ওই দ্বীপের সমস্ত সামরিক অবকাঠামো গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এর জবাবে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (IRGC) সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন ও কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে মিসাইল হামলা চালিয়েছে। যুদ্ধের এই আবহে বিশ্ব অর্থনীতিও বড়সড় ঝুঁকির মুখে। ইরান ইতিমধ্যেই হরমুজ প্রণালীতে মিসাইল মোতায়েন করে রেখেছে, যা বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের প্রধান ধমনী। পাশাপাশি ইয়েমেনের হাউথি বিদ্রোহীরা বাব এল-মান্ডেব প্রণালী বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দেওয়ায় বিশ্বজুড়ে তীব্র জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা করা হচ্ছে। সব মিলিয়ে এক মহাপ্রলয়ের অপেক্ষায় প্রহর গুনছে মধ্যপ্রাচ্য।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ১৫, ২০২৬ 0
টার্মিনাল হাই অল্টিচিউড এরিয়া ডিফেন্স বা থাড
দক্ষিণ কোরিয়া থেকে ‘থাড’ সরিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র, ক্ষুব্ধ চীন

উত্তর কোরিয়ার হুমকি মোকাবিলায় দক্ষিণ কোরিয়ায় মোতায়েন করা নিজেদের সবচেয়ে উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ‘টার্মিনাল হাই অল্টিচিউড এরিয়া ডিফেন্স’ বা থাড (THAAD) সরিয়ে নিচ্ছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। দক্ষিণ কোরিয়া থেকে এসব সরঞ্জাম তড়িঘড়ি করে মধ্যপ্রাচ্যে সরিয়ে নেওয়ার এই পদক্ষেপ এশীয় অঞ্চলে ওয়াশিংটনের নিরাপত্তা প্রতিশ্রুতি নিয়ে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট-সহ আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের সাথে চলমান উত্তেজনা এবং ক্রমবর্ধমান ক্ষেপণাস্ত্র হামলা মোকাবিলায় মধ্যপ্রাচ্যে নিজেদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করতে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে পেন্টাগন। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে ইরান সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোর ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার তীব্রতা বেড়ে যাওয়ায় সেখানে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সংকট দেখা দিয়েছে। বর্তমানে বিশ্বে যুক্তরাষ্ট্রের মাত্র আটটি থাড ব্যাটারি রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধক্ষেত্রে জরুরি প্রয়োজন মেটাতে দক্ষিণ কোরিয়ার সিওংজু (Seongju) ঘাঁটিতে থাকা থাড ইন্টারসেপ্টরগুলো সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। দক্ষিণ কোরিয়া সরকার এই সিদ্ধান্তে সরাসরি অসন্তোষ প্রকাশ করেছে। দেশটির প্রেসিডেন্ট লি জে-মিয়ং এক মন্ত্রিসভা বৈঠকে জানান, তারা এই স্থানান্তরের বিরোধিতা করলেও মার্কিন সামরিক সিদ্ধান্তের ওপর তাদের নিয়ন্ত্রণ সীমিত। তবে দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, থাড সরিয়ে নিলেও উত্তর কোরিয়াকে ঠেকানোর মতো সক্ষমতা তাদের নিজস্ব প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার রয়েছে। অন্যদিকে, চীন শুরু থেকেই দক্ষিণ কোরিয়ায় থাড মোতায়েনের বিরোধী। বেইজিংয়ের দাবি, এই ব্যবস্থার শক্তিশালী রাডার চীনের অভ্যন্তরীণ সামরিক কার্যক্রম নজরদারি করতে সক্ষম। থাড সরিয়ে নেওয়ার খবর আসার পর চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পুনরায় তাদের আগের অবস্থানে অনড় থাকার কথা জানিয়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, এই ঘটনা এশিয়ার মিত্রদের মধ্যে একটি শক্তিশালী বার্তা দিচ্ছে যে, সংকটকালীন সময়ে যুক্তরাষ্ট্র তার নিজস্ব প্রয়োজনে যেকোনো অঞ্চল থেকে সামরিক সমর্থন প্রত্যাহার করতে পারে। দক্ষিণ কোরিয়ার পাশাপাশি জাপান ও তাইওয়ানও তাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে ভাবতে শুরু করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের এই কৌশলগত পরিবর্তন এশীয় প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে চীনের আধিপত্য বিস্তারের পথ আরও সুগম করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। একই সময়ে, উত্তর কোরিয়া এই সুযোগে তাদের ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা এবং উস্কানি আরও বাড়িয়ে দিতে পারে বলেও সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ১৪, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত।
ইরানে মার্কিন-ইসরায়েলি আগ্রাসনের ১৫তম দিন : মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের তীব্রতা বাড়ছেই

সংঘাতের দাবানল ছড়িয়ে পড়ছে গোটা মধ্যপ্রাচ্যে। ইরান বনাম আমেরিকা-ইসরায়েল জোটের সরাসরি যুদ্ধ আজ তৃতীয় সপ্তাহে পদার্পণ করল।  পারস্য উপসাগরের ভূ-রাজনীতি এখন খাদের কিনারায়, যেখানে একদিকে তেহরানের কঠোর হুঁশিয়ারি আর অন্যদিকে ওয়াশিংটনের বিধ্বংসী সামরিক অভিযান বিশ্ব অর্থনীতি ও নিরাপত্তাকে চরম ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিয়েছে। খারাগ দ্বীপে মার্কিন বোমাবর্ষণ ও জ্বালানি যুদ্ধের হুমকি ইরানের তেল রপ্তানির প্রাণকেন্দ্র 'খারাগ দ্বীপে' মার্কিন বিমান বাহিনী ব্যাপক হামলা চালিয়ে সামরিক স্থাপনাগুলো গুঁড়িয়ে দিয়েছে।  ইরানের ৯০ শতাংশ তেল এই দ্বীপ দিয়েই রপ্তানি হয়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, আপাতত তেল অবকাঠামো রক্ষা করা হলেও হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন ঘটালে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাল্টা জবাবে আইআরজিসি সংযুক্ত আরব আমিরাতের মার্কিন ঘাঁটিগুলোকে 'বৈধ লক্ষ্যবস্তু' হিসেবে ঘোষণা করেছে। মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ এক চাঞ্চল্যকর দাবি করেছেন। তাঁর মতে, ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি হামলায় গুরুতর আহত হয়েছেন। আমেরিকা তাঁর তথ্যের জন্য ১০ মিলিয়ন ডলার পুরস্কার ঘোষণা করেছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই যুদ্ধে ইরানে এ পর্যন্ত ১,৪৪৪ জন নিহত এবং ১৮,৫৫১ জন আহত হয়েছেন। লেবাননেও ইসরায়েলি হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন ৭৭৩ জন। যুদ্ধ এখন আর ইরান-ইসরায়েলের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। কাতার, বাহরাইন ও ওমানে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটছে। সৌদি আরব পাঁচটি ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি করেছে। ওমানে ড্রোন পতনে দুইজন নিহত হওয়ার পর আঞ্চলিক নেতৃত্ব যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়েছেন। নিরাপত্তার খাতিরে বাহরাইন ও সৌদি আরবে অনুষ্ঠিতব্য 'ফর্মুলা ওয়ান' রেস স্থগিত করা হয়েছে। মার্কিন সামরিক তৎপরতা ও বিশ্ব অর্থনীতিতে ধস পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আমেরিকা মধ্যপ্রাচ্যে ১০ হাজার ইন্টারসেপ্টর ড্রোন এবং ২,৫০০ মেরিন সেনাসহ যুদ্ধজাহাজ 'ইউএসএস ত্রিপোলি' মোতায়েন করেছে। এদিকে যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্ববাজারে তেলের দাম আকাশচুম্বী। সংকট মোকাবিলায় কানাডা জরুরি ভিত্তিতে ২ কোটি ৩৬ লাখ ব্যারেল তেল বাজারে ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছে। ভারতসহ বিভিন্ন দেশে বিমান ভাড়ার অস্বাভাবিক বৃদ্ধি সাধারণ মানুষকে বিপাকে ফেলেছে। বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালী যদি পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়, তবে বিশ্ব এক নজিরবিহীন অর্থনৈতিক মন্দার কবলে পড়বে। কূটনৈতিক প্রভাব হ্রাসের ভয়ে অনেক দেশ এখন ওয়াশিংটনকে এড়িয়ে সরাসরি তেহরানের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা চালাচ্ছে।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ১৪, ২০২৬ 0
ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউজম
তেলের দাম বৃদ্ধি নিয়ে ট্রাম্পকে তীব্র কটাক্ষ ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নরের

২০২৮ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডেমোক্রেটিক পার্টির অন্যতম শক্তিশালী দাবিদার এবং ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউজমের নিশানায় এবার ডোনাল্ড ট্রাম্প।  বিশ্ববাজারে তেলের আকাশচুম্বী দাম বৃদ্ধি নিয়ে ট্রাম্পের একটি মন্তব্যের প্রেক্ষিতে তাকে তীব্রভাবে আক্রমণ করেছেন নিউজম। সম্প্রতি ডোনাল্ড ট্রাম্প এক পোস্টে দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের বৃহত্তম তেল উৎপাদনকারী দেশ হওয়ায় তেলের দাম বাড়লে আদতে দেশটির লাভই হচ্ছে।  ট্রাম্পের এই মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) নিউজম বিদ্রুপ করে লেখেন, “আমেরিকাবাসী, দুশ্চিন্তার কিছু নেই! আপনাদের গ্যাসোলিন বা জ্বালানির দাম বাড়ছে ঠিকই—কিন্তু এতে ট্রাম্পের প্রচুর অর্থ উপার্জন হচ্ছে। তাই সব ঠিক আছে।” মূলত সাধারণ মানুষের পকেটের টাকা খরচ করে ট্রাম্প নিজের ব্যবসায়িক বা রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিল করছেন কি না, নিউজম তার শ্লেষাত্মক বার্তার মাধ্যমে সেই প্রশ্নই তুলেছেন।  তেলের দাম বাড়লে সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস উঠলেও ট্রাম্প সেটাকে ইতিবাচকভাবে দেখায় রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তুমুল বিতর্ক।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ১৩, ২০২৬ 0
হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট
যুক্তরাষ্ট্রে হামলা করতে পারে ইরান, এফবিআই’র সতর্কবার্তা নাকচ হোয়াইট হাউসের

ক্যালিফোর্নিয়ায় ইরানের ড্রোন হামলার যে সতর্কতা জারি করা হয়েছিল, তা মূলত একটি অসমর্থিত তথ্যের ওপর ভিত্তি করে ছিল বলে জানিয়েছে হোয়াইট হাউস।  এফবিআই-এর সেই সতর্কবার্তাকে ঘিরে তৈরি হওয়া জনমনে আতঙ্ক দূর করতেই এই স্পষ্টীকরণ দেওয়া হয়েছে। হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ এক বিবৃতিতে জানান, স্থানীয় আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে দেওয়া এফবিআই-এর সেই বিশেষ সতর্কতাটি মূলত একটি একক ইমেইলের ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছিল। সেই ইমেইলে দেওয়া তথ্যটি ছিল সম্পূর্ণ যাচাইহীন বা আনভেরিফাইড। এর আগে এফবিআই-এর তথ্যের বরাত দিয়ে জানানো হয়েছিল যে, চলতি ফেব্রুয়ারির শুরুতে ইরান সমুদ্রপথে ড্রোন ব্যবহার করে ক্যালিফোর্নিয়ার বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে অতর্কিত হামলার পরিকল্পনা করছে।  তবে লেভিট এই দাবিকে সরাসরি নাকচ করে দিয়ে বলেন, "পরিষ্কারভাবে বলতে চাই: আমাদের জন্মভূমিতে ইরানের পক্ষ থেকে এমন কোনো হুমকির অস্তিত্ব নেই এবং কখনো ছিলও না।"

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ১৩, ২০২৬ 0
হোয়াইট হাউসের প্রেস সচিব ক্যারোলিন লেভিট
ইরান যুদ্ধের পর দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানির দাম কমার আশা হোয়াইট হাউসের

ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযান শুরু হওয়ার পর থেকেই আমেরিকায় জ্বালানি তেলের দাম দ্রুত বাড়তে শুরু করেছে। দেশটির কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে পেট্রোলের দাম প্রতি গ্যালন পাঁচ ডলারও ছাড়িয়ে গেছে। তবে হোয়াইট হাউস বলছে, এই মূল্যবৃদ্ধি সাময়িক এবং ভবিষ্যতে দাম কমে আসবে।   মঙ্গলবার হোয়াইট হাউসের প্রেস সচিব ক্যারোলিন লেভিট এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, বর্তমান পরিস্থিতির কারণে জ্বালানির দাম কিছুটা বেড়েছে ঠিকই, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে এর প্রভাব উল্টো হতে পারে। তার মতে, ইরানের বিরুদ্ধে পরিচালিত সামরিক অভিযানের লক্ষ্য পূরণ হলে তেল ও গ্যাসের বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে।   তিনি বলেন, ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ সফলভাবে সম্পন্ন হলে জ্বালানি বাজারে ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা যাবে এবং দাম কমে যাওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, এর ফলে এমন একটি পরিস্থিতি তৈরি হবে যেখানে ইরান আর পারমাণবিক অস্ত্র দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র বা তার মিত্রদের হুমকি দিতে পারবে না।   আমেরিকান অটোমোবাইল অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার যুক্তরাষ্ট্রে পেট্রোলের গড় মূল্য ছিল প্রতি গ্যালন ৩.৪৮ ডলার, যা সাম্প্রতিক সময়ে প্রায় ১৭ শতাংশ বেড়েছে। মঙ্গলবার এই দাম আরও বাড়িয়ে ৩.৫৪ ডলারে পৌঁছেছে, ফলে বৃদ্ধির হার দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৯ শতাংশে।   তবে অঙ্গরাজ্যভেদে দামের পার্থক্য স্পষ্ট। ক্যালিফোর্নিয়ায় যেখানে প্রতি গ্যালন পেট্রোলের দাম প্রায় ৫.২০ ডলার, সেখানে কানসাসে একই পরিমাণ জ্বালানি পাওয়া যাচ্ছে প্রায় ২.৯২ ডলারে।   বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাড়ায় পারস্য উপসাগর থেকে অপরিশোধিত তেলের সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটেছে। এর প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক বাজারেও। সোমবার এক পর্যায়ে বিশ্ববাজারে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যায়, যা ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর প্রথমবারের মতো এই স্তরে পৌঁছায়।   ইরানের সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কায় অনেক তেলবাহী ট্যাংকার বন্দরেই অপেক্ষা করছে। এতে সরবরাহ শৃঙ্খলে চাপ তৈরি হয়েছে। একই সময়ে ইরাক, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কুয়েতের মতো তেল উৎপাদনকারী দেশগুলোও সতর্কতার কারণে উৎপাদন ও রপ্তানিতে কিছুটা সংযম দেখাচ্ছে।   আরও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে হরমুজ প্রণালী ঘিরে। ইরান সেখানে মাইন পেতে নৌপথ বন্ধ করার চেষ্টা করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হয়।   এই পরিস্থিতিতে তেলবাহী জাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্র ট্যাংকারগুলোর জন্য বিশেষ বিমা সুবিধা দেওয়ার কথা জানিয়েছে। প্রয়োজনে মার্কিন নৌবাহিনী এসব জাহাজকে নিরাপত্তা দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে।   হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্ট ও তার জ্বালানি বিষয়ক দল বাজার পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং জ্বালানি খাতের শীর্ষ ব্যক্তিদের সঙ্গে নিয়মিত আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। পাশাপাশি হরমুজ প্রণালী সচল রাখতে বিভিন্ন বিকল্প ব্যবস্থাও বিবেচনায় রাখা হয়েছে।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ১১, ২০২৬ 0
হোয়াইট হাউস
ইরানের সাথে যুদ্ধ: হোয়াইট হাউসের কাছে জনসম্মুখে ব্যাখ্যা দাবি মার্কিন আইনপ্রণেতাদের

ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক অভিযান নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের গোপনীয়তার নীতিতে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মার্কিন সিনেটের প্রভাবশালী ডেমোক্র্যাট সদস্যরা।  একটি রুদ্ধদ্বার গোয়েন্দা ব্রিফিং থেকে বেরিয়ে সিনেট সশস্ত্র পরিষেবা কমিটির সদস্যরা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, যুদ্ধের এই পরিকল্পনা কেবল ক্যাপিটল হিলের গোপন কক্ষে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না; মার্কিন জনগণের সামনে এর যৌক্তিকতা স্পষ্ট করতে হবে। সিনেটর টিম কেইন এই গোপনীয়তার কঠোর সমালোচনা করে বলেন, আমরা এই পুরো বিষয়টি জনসমক্ষে আনতে চাই। সাধারণ মানুষ জানতে চায় তাদের সন্তান বা জীবনসঙ্গীদের কি আবারও যুদ্ধে পাঠানো হচ্ছে? অথচ আমি অনেক কিছু জানলেও গোপনীয়তার কারণে তা আমার ভোটারদের বলতে পারছি না। অন্যদিকে, সিনেটর এলিজাবেথ ওয়ারেন প্রশাসনের অগ্রাধিকার নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি অত্যন্ত কড়া ভাষায় বলেন, যখন স্বাস্থ্যসেবা বা শিশুদের কল্যাণে অর্থের কথা আসে, তখন ট্রাম্প প্রশাসন বলে তাদের কাছে টাকা নেই। কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যে বোমা ফেলার জন্য প্রতিদিন বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার ঠিকই খরচ হচ্ছে। এমন এক যুদ্ধের পেছনে অর্থ ঢালা হচ্ছে যার লক্ষ্য কেউ ব্যাখ্যা করতে পারছে না। আইনপ্রণেতাদের মূল দাবি একটাই—প্রশাসনকে অবশ্যই সাধারণ মানুষের কাছে জবাবদিহি করতে হবে যে, এই সামরিক অভিযানের শেষ কোথায় এবং এর মাধ্যমে আসলে কী অর্জিত হচ্ছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ১১, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত।
যুক্তরাষ্ট্রে ক্রমবর্ধমান জনরোষ, ইরানে হামলা নিয়ে বেকায়দায় ট্রাম্প প্রশাসন

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সামরিক সংঘাত নিয়ে নিজ দেশের জনগণের তীব্র চাপের মুখে পড়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। বিশেষ করে ট্রাম্পের কট্টর সমর্থক বা 'বেস' ভোটারদের পক্ষ থেকেই যুদ্ধ বন্ধের দাবি জোরালো হচ্ছে। যুদ্ধের নেতিবাচক প্রভাব সাধারণ মার্কিনিদের দৈনন্দিন জীবনে পড়তে শুরু করায় এই অসন্তোষ এখন জনরোষে রূপ নিয়েছে। প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এই যুদ্ধের সপক্ষে যুক্তি দিতে গিয়ে ইরাক যুদ্ধের প্রসঙ্গ টেনেছেন। তিনি দাবি করেছেন, ইরান আইইডি (IED) তৈরি করে মার্কিন সেনাদের আহত করেছে, তাই এই পদক্ষেপ জরুরি। তবে সাধারণ মানুষের মধ্যে এই ব্যাখ্যা খুব একটা প্রভাব ফেলতে পারছে না। মার্কিন নাগরিকদের প্রধান উদ্বেগের জায়গা হলো এই সংঘাত আর কতদিন চলবে? গত কয়েক দশকে যুক্তরাষ্ট্র অন্তত সাতটি দেশে বোমাবর্ষণ করলেও সাধারণ মার্কিনিদের তার সরাসরি মাসুল দিতে হয়নি। কিন্তু এবারের চিত্র ভিন্ন। যুদ্ধের প্রভাবে দেশটিতে জ্বালানি তেলের দাম আকাশচুম্বী হয়েছে। সামনেই চাষাবাদের মৌসুম, অথচ এই যুদ্ধকবলিত অঞ্চল থেকে সার আমদানিতে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, যা কৃষকদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। পেন্টাগন এখন মরিয়া হয়ে এই বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করছে যে, এই সংঘাত ইরাক বা আফগানিস্তানের মতো দীর্ঘস্থায়ী হবে না। কিন্তু আমেরিকানরা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, তারা এই সামরিক অভিযান সমর্থন করছে না। নিজের জনসমর্থন ধরে রাখতে ট্রাম্প প্রশাসন এখন যুদ্ধ শেষ করার পথ খুঁজছে।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ১০, ২০২৬ 0
লস অ্যাঞ্জেলেসে প্রতিবাদ
লস অ্যাঞ্জেলেসে মার্কিন-ইসরায়েলি হামলার প্রতিবাদে বিশাল বিক্ষোভ

ইরানের ওপর সাম্প্রতিক মার্কিন ও ইসরায়েলি সামরিক হামলার প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে উঠেছে আমেরিকার লস অ্যাঞ্জেলেস শহর। স্থানীয় সময় শনিবার ক্যালিফোর্নিয়ার এই গুরুত্বপূর্ণ শহরে শত শত মানুষ রাস্তায় নেমে এই সামরিক আগ্রাসনের তীব্র নিন্দা জানান। বিক্ষোভকারীরা অবিলম্বে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত বন্ধ এবং শান্তি প্রতিষ্ঠার দাবি তুলেছেন। বিক্ষোভ সমাবেশে অংশগ্রহণকারীরা ব্যানার, ফেস্টুন ও প্ল্যাকার্ড হাতে নিয়ে মিছিল করেন। তাদের হাতে থাকা প্ল্যাকার্ডগুলোতে ‘ইরানে যুদ্ধ বন্ধ করো’, ‘গণতন্ত্রের নামে আগ্রাসন নয়’ এবং ‘মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফিরিয়ে আনো’— এমন সব স্লোগান দেখা যায়। বক্তারা বলেন, যুদ্ধের মাধ্যমে কোনো সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়, বরং এটি সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ এবং আঞ্চলিক অস্থিরতাকে আরও বাড়িয়ে তুলছে। লস অ্যাঞ্জেলেস সিটি হলের সামনে আয়োজিত এই প্রতিবাদ সভায় বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন, যুদ্ধবিরোধী কর্মী এবং প্রবাসী ইরানি নাগরিকরা অংশ নেন। আন্দোলনকারীদের মতে, এই হামলা আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী এবং এর ফলে নিরীহ মানুষের প্রাণহানি ঘটছে। সমাবেশ থেকে মার্কিন প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানানো হয় যেন তারা সামরিক পথ পরিহার করে কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে উত্তেজনা প্রশমনে কার্যকর ভূমিকা পালন করে। উল্লেখ্য যে, গত কয়েকদিন ধরে ইরানের ওপর পরিচালিত এই হামলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যাচ্ছে। এর প্রতিবাদে শুধু লস অ্যাঞ্জেলেসেই নয়, বরং আমেরিকার অন্যান্য প্রধান শহরগুলোতেও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালিত হচ্ছে। বিক্ষোভকারীরা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, যদি এই সামরিক অভিযান অবিলম্বে বন্ধ না করা হয়, তবে তাদের আন্দোলন আরও বেগবান হবে।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ৮, ২০২৬ 0
জনপ্রিয় সংবাদ
ইরানের আকাশে ১৬টি চীনা সামরিক বিমানের রহস্য নিয়ে তোলপাড়

মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে।   গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব।  বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

“এপস্টেইন ফাইলের দাবি: বাইডেনকে হত্যা করে ক্লোন বানানো হয়েছে?”

এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে   জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল।   এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে।   একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই।   “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান।   এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে।   সূত্র: Royanews  

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

১২ ঘণ্টারও কম সময়ে দেশে আবারও স্বর্ণের দামে বড় পতন

দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা।   শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে।   এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা।   নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা।   এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।

Top week

ফাইল ফটো।
আমেরিকা

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২৮, ২০২৬ 0