যুক্তরাষ্ট্রে বিমানবন্দরে কোনো ব্যাখ্যা ছাড়াই সাংবাদিকের ফোন জব্দ, ভ্রমণকারীদের অধিকার নিয়ে বাড়ছে প্রশ্ন
যুক্তরাষ্ট্রে ইরান সফর শেষে ফেরার পর অনুসন্ধানী সাংবাদিক ম্যাক্স ব্লুমেনথালের দুটি মোবাইল ফোন জব্দ করার ঘটনাকে কেন্দ্র করে নতুন করে আইনি বিতর্ক শুরু হয়েছে। ওয়াশিংটন ডালেস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে মার্কিন কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশন (সিবিপি) কর্মকর্তারা কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা ছাড়াই তার ফোন দুটি জব্দ করে এক সপ্তাহ নিজেদের হেফাজতে রাখেন বলে অভিযোগ উঠেছে। পরে ফোন ফেরত দেওয়া হলেও, ওই সময়ে ফোনগুলোর সঙ্গে ঠিক কী করা হয়েছিল, তা জানতে আদালতের শরণাপন্ন হয়েছে সাংবাদিকের পক্ষে মামলা পরিচালনাকারী সংস্থা।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক আমেরিকান-আরব অ্যান্টি-ডিসক্রিমিনেশন কমিটি (এডিসি) জানিয়েছে, ফোনগুলো জব্দ ও সংরক্ষণের পুরো প্রক্রিয়া সম্পর্কে সিবিপির কাছ থেকে ফরেনসিক তথ্য এবং হেফাজতের নথি (চেইন অব কাস্টডি রেকর্ড) আদালতের মাধ্যমে সংগ্রহ করতে তারা আবেদন করেছে। সংস্থাটির দাবি, কেবল ফোন ফেরত দিলেই বিষয়টি শেষ হয়ে যায় না। ফোনগুলো সরকারি হেফাজতে থাকার সময় কোনো তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে কি না, সেটিই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।
ঘটনার সূত্রপাত হয় যখন ব্লুমেনথাল ইরান সফর শেষে যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে ওয়াশিংটন ডালেস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান। তিনি জানান, সিবিপি কর্মকর্তারা তার দুটি মোবাইল ফোন জব্দ করেন। তবে তার সঙ্গে থাকা ল্যাপটপ ও ক্যামেরা জব্দ করা হয়নি।
ব্লুমেনথালের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কর্মকর্তাদের স্পষ্টভাবে জানান যে তিনি একজন সাংবাদিক এবং ইরানে শুধুমাত্র পেশাগত দায়িত্ব পালন করতেই গিয়েছিলেন। তিনি বলেন, তার ফোনের পাসকোড দিলে গোপন সূত্র, ব্যক্তিগত যোগাযোগ এবং সাংবিধানিক অধিকার ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এরপরও কর্মকর্তারা তাকে জানান, প্রয়োজনে বিশেষ যন্ত্রের মাধ্যমে ফোন থেকে তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করা হবে।
কমিটি টু প্রোটেক্ট জার্নালিস্টস (সিপিজে)-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ব্লুমেনথাল বলেন, “আমি সেখানে শুধু সাংবাদিকতার কাজ করেছি। আমি যা করছিলাম, তা পুরোপুরি সাংবাদিকতার দায়িত্বের অংশ ছিল।”
এদিকে, এডিসি আদালতে জরুরি আবেদন করার এক দিন পর, গত ১৭ জুলাই সরকার ব্লুমেনথালের ফোন দুটি ফেরত দেয়। আবেদনপত্রে বলা হয়েছিল, ফোন জব্দ ও দীর্ঘ সময় ধরে আটকে রাখা যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের প্রথম ও চতুর্থ সংশোধনী এবং প্রাইভেসি প্রোটেকশন অ্যাক্ট-এর পরিপন্থী।
যদিও সরকারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, ফোন দুটি থেকে কোনো তথ্য নেওয়া বা পরীক্ষা করা হয়নি, তবুও এডিসি এই ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট নয়।
সংস্থাটির সভাপতি ও আইনি পরিচালক জেনিন ইউনেস বলেন, “শুধু ফোন ফেরত দিয়ে সরকার এই গুরুতর সাংবিধানিক অভিযোগের জবাব এড়িয়ে যেতে পারে না। যদি ফোনের তথ্যে প্রবেশই না করা হয়ে থাকে, তাহলে এক সপ্তাহ ধরে ফোন দুটি নিজেদের কাছে রাখার কারণ কী ছিল, সেটিরও ব্যাখ্যা দিতে হবে।”
এডিসির মতে, ফোন দুটি জব্দ করার ঘটনায় আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে এসেছে। ব্লুমেনথালের সঙ্গে থাকা ল্যাপটপ ও ক্যামেরা রেখে শুধুমাত্র ফোন জব্দ করা হয়েছিল। এতে ধারণা করা হচ্ছে, কর্মকর্তাদের আগ্রহ ছিল তার ব্যক্তিগত যোগাযোগ, সংবাদসূত্র এবং সাংবাদিকতার সঙ্গে সম্পর্কিত সংবেদনশীল তথ্যের দিকে।
এই মামলার শুনানিতে এডিসি আদালতের কাছে সরকারের আবেদন খারিজ করে পূর্ণাঙ্গ প্রমাণ উপস্থাপনের নির্দেশ দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে। একই সঙ্গে তারা সংশ্লিষ্ট ফরেনসিক রেকর্ড ও হেফাজতের নথি প্রকাশেরও দাবি করেছে।
সংস্থাটি বলছে, এই মামলার গুরুত্ব শুধু একজন সাংবাদিকের ব্যক্তিগত অধিকারের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। ভবিষ্যতে সীমান্তে সাংবাদিকদের ইলেকট্রনিক ডিভাইস জব্দের ক্ষেত্রে কী ধরনের আইনি সীমা থাকবে এবং গোপন সংবাদসূত্র কতটা সুরক্ষা পাবে, সেই প্রশ্নেও এই মামলার রায় গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত তৈরি করতে পারে।
এডিসি আরও উল্লেখ করেছে, ব্লুমেনথাল একা ইরান সফর করেননি। তার সঙ্গে আরও কয়েকজন মার্কিন সাংবাদিক ছিলেন। কিন্তু তাদের পরিবর্তে শুধুমাত্র তাকেই জিজ্ঞাসাবাদ ও ফোন জব্দের মুখে পড়তে হয়।
ব্লুমেনথাল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দাবি করেন, তার সাংবাদিকতার ধরন এবং প্রকাশিত প্রতিবেদনের কারণেই তাকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। এডিসির ভাষ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে ফেরার কয়েক দিন আগে রাজনৈতিক কর্মী ও সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমর্থক লরা লুমার এক্সে ব্লুমেনথালকে গ্রেপ্তারের আহ্বান জানান এবং ইরান সফরের অর্থায়ন নিয়ে তদন্তের দাবি তোলেন। পরে বিমানবন্দরে সিবিপির জিজ্ঞাসাবাদেও একই ধরনের প্রশ্ন করা হয়েছিল বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এডিসির আইনজীবীদের মতে, যদি রাজনৈতিক চাপের পর কোনো সাংবাদিকের ডিভাইস জব্দ করে এক সপ্তাহ আটকে রাখা হয় এবং পরে কোনো ব্যাখ্যা ছাড়াই ফেরত দিয়ে বিষয়টি শেষ করার চেষ্টা করা হয়, তাহলে তা সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং নাগরিকদের সাংবিধানিক অধিকারের জন্য উদ্বেগজনক নজির হয়ে উঠতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ব ভার্জিনিয়ার ফেডারেল জেলা আদালতে চলমান এই মামলার ফলাফল শুধু ম্যাক্স ব্লুমেনথালের ফোন জব্দের ঘটনার ব্যাখ্যাই নয়, ভবিষ্যতে সীমান্তে সাংবাদিকদের ইলেকট্রনিক ডিভাইস তল্লাশি ও জব্দের ক্ষেত্রে আইনি সীমারেখা নির্ধারণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreমার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পসহ একাধিক শীর্ষ সরকারি কর্মকর্তাকে অনলাইনে হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগে ফ্লোরিডার এক বাসিন্দাকে দুই বছরের ফেডারেল কারাদণ্ড দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের একটি আদালত। যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ (ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস) জানিয়েছে, ফ্লোরিডার টালাহ্যাসির ৩৬ বছর বয়সী দিয়েগো এম. ভিলাভিসেনসিও গত এপ্রিলে চারটি অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। এর মধ্যে ছিল অঙ্গরাজ্যের সীমানা অতিক্রম করে হুমকি পাঠানোর দুটি অভিযোগ, একজন ফেডারেল কর্মকর্তার কাজে বাধা বা প্রতিশোধমূলক হুমকির একটি অভিযোগ এবং প্রেসিডেন্টকে হুমকি দেওয়ার একটি অভিযোগ। বিচার বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, গত ২০ জুলাই তার সাজা ঘোষণা করা হয়। এসব অভিযোগে সর্বোচ্চ ২৫ বছরের কারাদণ্ড হতে পারত। তবে আদালত তাকে দুই বছরের কারাদণ্ড দেন। আদালতের নথি অনুযায়ী, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর থেকে কয়েক মাস ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রাম্প, সাবেক ফেডারেল রিজার্ভ চেয়ার জেরোম পাওয়েল এবং ক্যালিফোর্নিয়ার সাবেক কংগ্রেস সদস্য এরিক সোয়ালওয়েলকে লক্ষ্য করে একাধিক হুমকিমূলক পোস্ট করেন ভিলাভিসেনসিও। বিচার বিভাগের ভাষ্য, ২০২৫ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর তিনি এক্সে জেরোম পাওয়েলকে উদ্দেশ্য করে দুটি পোস্ট দেন। এর একটিতে পাওয়েলের মাথার দিকে তাক করা লাল নিশানার একটি ছবি ব্যবহার করা হয় এবং লেখা হয়, তাকে ২৩ সেপ্টেম্বর গুলি করে হত্যা করা হবে। আরেকটি পোস্টেও একই ধরনের ছবি দিয়ে লেখা হয়, 'জেরোমই পরের লক্ষ্য'। পরদিন তিনি এরিক সোয়ালওয়েলের একটি পোস্টের জবাবে তার এবং তার পরিবারের বিরুদ্ধে প্রাণনাশের হুমকি দেন। একই সঙ্গে সোয়ালওয়েলকে সরাসরি বার্তা পাঠিয়ে নির্দিষ্ট একটি তারিখে তাকে গুলি করে হত্যা করা হবে বলেও দাবি করেন। এর কয়েক মাস পর, ২০২৬ সালের ২৫ জানুয়ারি অনলাইন ফোরাম ফোরচ্যানে একটি পোস্টের জবাবে ভিলাভিসেনসিও লেখেন, তিনি ফ্লোরিডায় অবস্থিত ট্রাম্পের মার-আ-লাগো রিসোর্টে গিয়ে ট্রাম্প ও আরও কয়েকজনের ওপর গুলি চালাতে চান। এই পোস্টের পর বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার নজরে আসে। মামলার তদন্তে অংশ নেওয়া এফবিআইয়ের জ্যাকসনভিল ফিল্ড অফিসের বিশেষ দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জেসন কার্লি বলেন, প্রেসিডেন্ট বা অন্য কোনো ফেডারেল কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সহিংসতার হুমকি যুক্তরাষ্ট্রে গুরুতর অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হয়। এমন হুমকির ঘটনা তদন্ত এবং সম্ভাব্য ক্ষতি প্রতিরোধে এফবিআই ও তাদের অংশীদার সংস্থাগুলো সবসময় কাজ করে যাচ্ছে। অন্যদিকে, টালাহ্যাসিতে ইউএস সিক্রেট সার্ভিসের আবাসিক দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সেথ রেইস্টার বলেন, প্রেসিডেন্ট এবং সিক্রেট সার্ভিসের সুরক্ষাধীন ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের হুমকি সহ্য করা হবে না। তার ভাষায়, এই মামলার রায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলোর সমন্বিত কাজের প্রতিফলন। কারাদণ্ড শেষ হওয়ার পর ভিলাভিসেনসিওকে আরও তিন বছর আদালতের তত্ত্বাবধানে থাকতে হবে। এর প্রথম এক বছর তাকে গৃহবন্দি অবস্থায় কাটাতে হবে। পাশাপাশি তার মানসিক স্বাস্থ্য মূল্যায়ন ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা গ্রহণ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রবেশন অফিস তার কম্পিউটার ব্যবহারের ওপরও নজরদারি করবে। যুক্তরাষ্ট্রে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সরকারি কর্মকর্তা ও নির্বাচিত প্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে অনলাইনে হুমকি দেওয়ার ঘটনা নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। এমন অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার অবস্থানে রয়েছে দেশটির বিচার বিভাগ ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো।
যুক্তরাষ্ট্রে বিমানবন্দরে কোনো ব্যাখ্যা ছাড়াই সাংবাদিকের ফোন জব্দ, ভ্রমণকারীদের অধিকার নিয়ে বাড়ছে প্রশ্ন
যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীতে চাকরি করলে কী কী সুবিধা মেলে, আবেদন করবেন কীভাবে?
দুজনেই বুয়েটের শিক্ষার্থী, তবু ছিলেন অপরিচিত; যুক্তরাষ্ট্রে পিএইচডি করতে গিয়ে পরিচয়, প্রেম, তারপর বিয়ে
যুক্তরাষ্ট্রের সাউথ ফ্লোরিডায় ডাকবাক্স থেকে গ্রাহকের ২,৬০০ ডলারের বিজয়ী লটারির টিকিট চুরির অভিযোগে এক ডাককর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ফ্লোরিডা লটারি কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্যমতে, অভিযুক্ত ওই নারী যুক্তরাষ্ট্রের ডাক বিভাগের (ইউএসপিএস) কর্মী। তিনি গ্রাহকের চিঠি থেকে অত্যন্ত সুকৌশলে টিকিটটি চুরি করে নিজেই সেই লটারির অর্থ তুলে নিয়েছিলেন। গত ২৩ জুলাই ফ্লোরিডা লটারি এবং ইউএসপিএস-এর স্পেশাল এজেন্টদের এক যৌথ তদন্তের পর ২৮ বছর বয়সী লাকায়শা লকার্ট নামের ওই কর্মীকে হলিউড এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার বিরুদ্ধে গুরুতর চুরি, চোরাই সম্পত্তি লেনদেন, অর্থ আদায়ের জন্য মিথ্যা দাবি এবং ডাক চুরির মতো একাধিক অভিযোগ আনা হয়েছে। আদালতের নথি ও ফ্লোরিডা লটারির প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত জুন মাসে টাম্পা শহরের এক নারী 'পিক ফোর' (Pick 4) লটারির একটি টিকিট কিনে ২,৬০০ ডলার জেতেন। এক আত্মীয়ের শেষকৃত্যের খরচ বহনে সাহায্য করার জন্য তিনি ওই বিজয়ী টিকিটটি ফোর্ট লডারডেলের ঠিকানায় চিঠির মাধ্যমে পাঠিয়েছিলেন। কিন্তু সেটি আর গন্তব্যে পৌঁছায়নি। টিকিটটি যথাসময়ে না পৌঁছালে ওই নারী সন্দেহজনক মনে করে ফ্লোরিডা লটারি কর্তৃপক্ষের কাছে একটি অভিযোগ দায়ের করেন। এরপরই ঘটনার মূল রহস্য উন্মোচনে তদন্ত শুরু হয়। তদন্তে ফ্লোরিডা লটারির এক পরিদর্শক দেখতে পান যে, গত ১৯ জুন লটারির মিয়ামি জেলা অফিস থেকে টিকিটটি ভাঙানো হয়েছে। আর এই কাজটি করেছেন খোদ লাকায়শা লকার্ট, যিনি ২০২৫ সালের এপ্রিলে ইউএসপিএস-এ যোগ দিয়েছিলেন এবং ওকল্যান্ড পার্কের একটি ডাকঘরে কর্মরত ছিলেন। গ্রেপ্তারের পর লকার্ট নিজেই টিকিট চুরি এবং ভাঙানোর কথা স্বীকার করেছেন বলে ফ্লোরিডা লটারির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে। বর্তমানে তিনি জামিনে মুক্তি পেলেও তার বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। চুরি এবং প্রতারণার ঘটনাটি দুটি ভিন্ন কাউন্টিতে ঘটায় ফ্লোরিডার ব্রোওয়ার্ড এবং মিয়ামি-ডেড—উভয় স্থানেই তার বিচারকাজ চলবে বলে জানা গেছে।
আগস্ট মাসে যুক্তরাষ্ট্রের সোশ্যাল সিকিউরিটি পেমেন্ট কবে আসবে, জেনে নিন
মেডিকেয়ার পার্ট ডি ভর্তুকি বন্ধের ঘোষণা, বাড়তে পারে মাসিক প্রিমিয়াম ও ওষুধের খরচ
নিউ জার্সিতে ১১ বছরের বোনকে বাঁচাতে গিয়ে নদীতে তলিয়ে গেল ১০ বছরের ভাই, দুই দিন পর মিলল মরদেহ
আজ বিশ্বের যেসব শহরের আকাশরেখা সুউচ্চ ভবনের সারিতে সাজানো, সেসব ভবনের নকশা ও নির্মাণ প্রযুক্তির পেছনে রয়েছে এক বাংলাদেশি প্রকৌশলীর যুগান্তকারী অবদান। তিনি ড. ফজলুর রহমান খান, যাকে বিশ্বের প্রকৌশল মহলে আধুনিক আকাশচুম্বী ভবন নির্মাণের অন্যতম পথিকৃৎ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। তাঁর উদ্ভাবিত কাঠামোগত প্রযুক্তি শুধু যুক্তরাষ্ট্র নয়, বিশ্বের নগর স্থাপত্যের ইতিহাসই বদলে দিয়েছে। ১৯২৯ সালের ৩ এপ্রিল তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের ঢাকা শহরে জন্মগ্রহণ করেন ফজলুর রহমান খান। শৈশব ও কৈশোরের একটি বড় অংশ কেটেছে বাংলাদেশে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন আহসানউল্লাহ ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ (বর্তমান বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় বা বুয়েট) থেকে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পড়াশোনা শেষ করার পর ফুলব্রাইট স্কলারশিপ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান। ইউনিভার্সিটি অব ইলিনয় অ্যাট আরবানা-শ্যাম্পেইন থেকে সিভিল ও স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে উচ্চশিক্ষা এবং পিএইচডি সম্পন্ন করে তিনি শিকাগোভিত্তিক বিশ্বখ্যাত স্থাপত্য ও প্রকৌশল প্রতিষ্ঠান স্কিডমোর, ওয়িংস অ্যান্ড মেরিল (এসওএম)-এ যোগ দেন। সেখানেই তিনি এমন একটি কাঠামোগত নকশা পদ্ধতি উদ্ভাবন করেন, যা পরবর্তীকালে আকাশচুম্বী ভবন নির্মাণে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনে। তাঁর উদ্ভাবিত ‘টিউব স্ট্রাকচারাল সিস্টেম’ ভবনের ওজন কমিয়ে, স্টিলের ব্যবহার উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস করে এবং আগের তুলনায় অনেক বেশি উচ্চতার ভবন নিরাপদ ও সাশ্রয়ীভাবে নির্মাণের সুযোগ তৈরি করে। আজ বিশ্বের অধিকাংশ আধুনিক সুউচ্চ ভবনের নকশায় এই ধারণার প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ প্রভাব রয়েছে। ড. খানের সবচেয়ে বিখ্যাত কাজগুলোর একটি হলো শিকাগোর ১১০ তলা সিয়ার্স টাওয়ার, যা বর্তমানে উইলিস টাওয়ার নামে পরিচিত। ১৯৭৩ সালে নির্মিত এই ভবন দীর্ঘদিন বিশ্বের সর্বোচ্চ ভবনের মর্যাদা ধরে রেখেছিল। এর ‘বান্ডলড টিউব’ কাঠামো ছিল তাঁরই উদ্ভাবন, যা পরবর্তীকালে সুপারটল ভবন নির্মাণের নতুন মানদণ্ডে পরিণত হয়। এর আগে তিনি শিকাগোর জন হ্যানকক সেন্টারের নকশাতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। ভবনটির ‘ট্রাসড টিউব’ কাঠামো সে সময় প্রকৌশল জগতে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করে। পরবর্তীকালে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নির্মিত অসংখ্য সুউচ্চ ভবনে তাঁর ধারণা অনুসরণ করা হয়। বিশ্বের সর্বোচ্চ ভবন বুর্জ খলিফাসহ আধুনিক সুপারটল ভবনের প্রকৌশল দর্শনেও তাঁর উদ্ভাবনের প্রভাব স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়েছে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন। বিশ্বখ্যাত সাময়িকী টাইম এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছিল, ফজলুর রহমান খানের উদ্ভাবন ছাড়া আধুনিক স্কাইস্ক্র্যাপারের যুগ কল্পনা করা কঠিন। একই কারণে তাঁকে অনেক প্রকৌশলী ‘আধুনিক স্কাইস্ক্র্যাপারের জনক’ বলেও অভিহিত করেন। তাঁর অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী সংস্থা কাউন্সিল অন টল বিল্ডিংস অ্যান্ড আরবান হ্যাবিট্যাট (সিটিবিইউএইচ) তাঁর নামে ‘ফজলুর খান লাইফটাইম অ্যাচিভমেন্ট মেডেল’ চালু করেছে। আকাশচুম্বী ভবন নির্মাণে অসাধারণ অবদানের জন্য প্রতিবছর এই সম্মাননা প্রদান করা হয়। ২০১৭ সালে গুগলও তাঁর জন্মদিন উপলক্ষে বিশেষ ‘গুগল ডুডল’ প্রকাশ করে বিশ্বজুড়ে তাঁকে শ্রদ্ধা জানায়। সেখানে তাঁর উদ্ভাবনকে আধুনিক নগর স্থাপত্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে তুলে ধরা হয়। মাত্র ৫২ বছর বয়সে, ১৯৮২ সালের ২৭ মার্চ সৌদি আরবের জেদ্দায় হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন ড. ফজলুর রহমান খান। কিন্তু তাঁর উদ্ভাবিত প্রকৌশল দর্শন আজও বিশ্বের শহরগুলোর আকাশরেখায় জীবন্ত হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশি-আমেরিকানদের জন্য ড. ফজলুর রহমান খানের গল্প শুধু ব্যক্তিগত সাফল্যের ইতিহাস নয়; এটি বাংলাদেশের মেধা, উদ্ভাবন এবং বিশ্বমঞ্চে অবদানের এক অনন্য প্রতীক। আজও যখন শিকাগোর উইলিস টাওয়ার কিংবা বিশ্বের অন্য কোনো আকাশচুম্বী ভবনের দিকে মানুষ তাকায়, তখন সেই প্রকৌশল বিপ্লবের পেছনে থাকা বাংলাদেশি প্রতিভার নামটি শ্রদ্ধার সঙ্গে উচ্চারিত হয় ড. ফজলুর রহমান খান।
শতকোটি ডলারের শুল্ক ফেরত পেল অ্যাপল, কিন্তু গ্রাহকদের জন্য নেই মূল্যছাড়ের ইঙ্গিত
রেকর্ড-ব্রেকিং ইউএস অ্যারেনা ট্যুর শেষ করেই নতুন গান ‘আ হা’ প্রকাশ করলেন কার্ডি বি