ক্যালিফোর্নিয়ার লেক তাহোতে দুর্ঘটনাজনিত পানিতে ডুবে প্রাণ হারানো ৩২ বছর বয়সী ব্যক্তির পরিচয় প্রকাশ
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া ও নেভাদা সীমান্তবর্তী জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র লেক তাহোতে পানিতে ডুবে মারা যাওয়া ব্যক্তির পরিচয় প্রকাশ করেছে কর্তৃপক্ষ। নিহতের নাম ইয়াদেসা আগা (৩২)। তিনি টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের অস্টিন শহরের বাসিন্দা ছিলেন এবং বেড়াতে এসে এ দুর্ঘটনার শিকার হন।
ওয়াশো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় জানায়, গত সোমবার সন্ধ্যায় লেক তাহোর পূর্ব তীরের স্যান্ড হারবার এলাকায় পানিতে উদ্ধার অভিযানের খবর পেয়ে জরুরি সেবাকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। এর আগেই উপস্থিত লোকজন অচেতন অবস্থায় আগাকে তীরে তুলে আনেন। পরে চিকিৎসাকর্মীরা প্রাণ ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করলেও ঘটনাস্থলেই তাঁকে মৃত ঘোষণা করা হয়।
কর্তৃপক্ষ ঘটনাটিকে দুর্ঘটনাজনিত পানিতে ডুবে মৃত্যু হিসেবে তদন্ত করছে। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, আগা সন্ধ্যার দিকে তীর থেকে দূরের পাথুরে অংশের দিকে সাঁতার কাটতে গিয়ে পানির নিচে তলিয়ে যান। ময়নাতদন্তের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন প্রকাশের পর মৃত্যুর চূড়ান্ত কারণ নিশ্চিত করা হবে।
লেক তাহোর পানি গ্রীষ্মকালেও অত্যন্ত ঠান্ডা থাকে। বিশেষজ্ঞদের মতে, হঠাৎ ঠান্ডা পানিতে নামলে শরীরের পেশির নিয়ন্ত্রণ হারানো, দ্রুত শ্বাস-প্রশ্বাস এবং শীতঘাতজনিত প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে, যা প্রতি বছর এ অঞ্চলে কয়েকটি দুর্ঘটনাজনিত ডুবে মৃত্যুর অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreইতালিতে স্থায়ীভাবে বসবাসের স্বপ্ন দেখা প্রবাসী ও অভিবাসীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে এসেছে। দেশটির অভিবাসন আইনে নির্দিষ্ট কিছু শর্ত পূরণ করলে পাঁচটি শ্রেণির বিদেশি নাগরিক স্থায়ী বসবাসের অনুমতি পাওয়ার সুযোগ পান। ইতালির অভিবাসন–সংক্রান্ত নিয়মাবলি ও সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্থায়ী বসবাসের অনুমতি পেতে আবেদনকারীদের বৈধভাবে ইতালিতে বসবাস, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, আয়ের প্রমাণ এবং নির্ধারিত অন্যান্য শর্ত পূরণ করতে হয়। স্থায়ী বসবাসের জন্য যোগ্য পাঁচটি প্রধান শ্রেণি হলো: প্রথমত, ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাইরের কোনো দেশের নাগরিক, যিনি বৈধভাবে টানা অন্তত পাঁচ বছর ইতালিতে বসবাস করেছেন এবং বৈধ আবাসন অনুমতি, পর্যাপ্ত আয় ও ইতালীয় ভাষার মৌলিক জ্ঞান প্রমাণ করতে পারেন। দ্বিতীয়ত, ইউরোপীয় ইউনিয়নের কোনো সদস্য দেশের নাগরিক এবং তার পরিবারের সদস্যরা, যারা ইতালিতে নিরবচ্ছিন্নভাবে অন্তত পাঁচ বছর বৈধভাবে বসবাস করেছেন, তারাও স্থায়ী বসবাসের অধিকার অর্জন করতে পারেন। তৃতীয়ত, আন্তর্জাতিক সুরক্ষা বা শরণার্থী মর্যাদা পাওয়া ব্যক্তিরাও নির্ধারিত শর্ত পূরণ করলে দীর্ঘমেয়াদি বসবাসের অনুমতির জন্য আবেদন করতে পারেন। চতুর্থত, ইতালীয় নাগরিক বা বৈধভাবে বসবাসরত ব্যক্তির পরিবারের সদস্যরা, পারিবারিক পুনর্মিলনের আওতায় প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ করলে স্থায়ী বসবাসের সুযোগ পেতে পারেন। পঞ্চমত, দীর্ঘদিন বৈধভাবে কাজ বা অন্য অনুমোদিত কারণে ইতালিতে অবস্থানরত এবং আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণকারী বিদেশি নাগরিকরাও স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদন করতে পারেন। স্থায়ী বসবাসের অনুমতি পেলে ইতালিতে দীর্ঘমেয়াদে বসবাস ও কাজ করার সুযোগ আরও স্থিতিশীল হয়। পাশাপাশি শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা এবং বিভিন্ন সামাজিক সুবিধা গ্রহণও সহজ হয়। তবে এটি ইতালির নাগরিকত্ব নয়; নাগরিকত্ব পেতে আলাদা আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হয়। ইতালির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, প্রতিটি আবেদন ব্যক্তিগত পরিস্থিতি ও প্রযোজ্য আইনের ভিত্তিতে যাচাই করা হয়। তাই আবেদন করার আগে সর্বশেষ সরকারি নির্দেশনা ও যোগ্যতার শর্ত ভালোভাবে যাচাই করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
বহুতল ভবন থেকে লাফিয়ে আত্মহত্যা করলেন মনোরোগ বিশেষজ্ঞ
ইসরায়েলকে ঘৃণা করলে মিলবে না যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা, কড়া বার্তা ট্রাম্প প্রশাসনের
যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা বন্ড নীতির আওতায় এলো আরও ৫ দেশ
যুক্তরাষ্ট্রে নিজের একটি বাড়ির স্বপ্ন অনেক অভিবাসী পরিবারের কাছেই বড় লক্ষ্য। তবে পর্যাপ্ত সঞ্চয় বা ডাউন পেমেন্টের অর্থ জোগাড় করতে না পারায় অনেকেই সেই স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে প্রথমবার বাড়ি কিনতে আগ্রহীদের জন্য ফেডারেল, অঙ্গরাজ্য এবং স্থানীয় পর্যায়ে বিভিন্ন আর্থিক সহায়তা কর্মসূচি চালু রয়েছে, যার সুবিধা যোগ্য বাংলাদেশি-আমেরিকানরাও নিতে পারেন। যুক্তরাষ্ট্র সরকারের তথ্য অনুযায়ী, প্রথমবারের বাড়ি ক্রেতাদের জন্য বিভিন্ন ধরনের ঋণ ও সহায়তা কর্মসূচি রয়েছে। পাশাপাশি ‘ডাউন পেমেন্ট রিসোর্স’-এর ২০২৬ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকের প্রতিবেদনে দেখা গেছে, দেশজুড়ে হাজারো হোমওনারশিপ সহায়তা কর্মসূচি চালু রয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক কর্মসূচিতে ডাউন পেমেন্ট, ক্লোজিং খরচ বা অনুদান দেওয়া হয় এবং কিছু ক্ষেত্রে এই অর্থ ফেরতও দিতে হয় না। প্রথমবারের ক্রেতাদের জন্য সবচেয়ে পরিচিত কর্মসূচিগুলোর একটি হলো এফএইচএ (FHA) ঋণ। এই কর্মসূচির আওতায় যোগ্য আবেদনকারীরা তুলনামূলক কম ডাউন পেমেন্ট দিয়েই বাড়ি কিনতে পারেন। সাধারণভাবে ক্রেডিট স্কোর ৫৮০ বা তার বেশি হলে বাড়ির মূল্যের ৩.৫ শতাংশ ডাউন পেমেন্টে ঋণ পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। আর ক্রেডিট স্কোর ৫০০ থেকে ৫৭৯-এর মধ্যে হলে ১০ শতাংশ ডাউন পেমেন্টের মাধ্যমে আবেদন করা যায়। যারা শহরের বাইরে বা নির্ধারিত গ্রামীণ ও উপশহর এলাকায় বাড়ি কিনতে চান, তাদের জন্য রয়েছে ইউএসডিএ (USDA) হোম লোন কর্মসূচি। যোগ্য আবেদনকারীরা এই কর্মসূচির আওতায় কোনো ডাউন পেমেন্ট ছাড়াই শতভাগ অর্থায়নের সুযোগ পেতে পারেন। এটি শুধু প্রথমবারের ক্রেতাদের জন্য নয়; নির্ধারিত শর্ত পূরণ করলে অন্যরাও আবেদন করতে পারেন। অন্যদিকে নিউইয়র্ক সিটির বাসিন্দাদের জন্য ‘হোমফার্স্ট’ কর্মসূচি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। নিউইয়র্ক সিটি হাউজিং প্রিজারভেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, যোগ্য প্রথমবারের বাড়ি ক্রেতারা ডাউন পেমেন্ট ও ক্লোজিং খরচ বাবদ সর্বোচ্চ ১ লাখ ডলার পর্যন্ত আর্থিক সহায়তা পেতে পারেন। তবে এ সুবিধা পেতে আবেদনকারীকে নির্ধারিত শর্ত পূরণ করতে হবে, যার মধ্যে নিজস্ব অর্থের একটি অংশ বিনিয়োগ এবং অনুমোদিত হোমবায়ার শিক্ষা কোর্স সম্পন্ন করাও রয়েছে। শুধু ফেডারেল কর্মসূচির ওপর নির্ভর না করে নিজ নিজ অঙ্গরাজ্যের হাউজিং ফাইন্যান্স এজেন্সির সহায়তা কর্মসূচিগুলোও যাচাই করা উচিত। অনেক অঙ্গরাজ্য প্রথমবারের বাড়ি ক্রেতাদের জন্য অতিরিক্ত অনুদান, স্বল্পসুদের ঋণ বা ডাউন পেমেন্ট সহায়তা দিয়ে থাকে। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের হাউজিং অ্যান্ড আরবান ডেভেলপমেন্ট বিভাগের অনুমোদিত হাউজিং কাউন্সেলরদের কাছ থেকে বিনা খরচে পরামর্শ নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। তারা আবেদন প্রক্রিয়া, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং যোগ্যতা যাচাইয়ে সহায়তা করেন। তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, সব কর্মসূচির ক্ষেত্রে একই নিয়ম প্রযোজ্য নয়। আয়ের সীমা, ক্রেডিট স্কোর, বাড়ির সর্বোচ্চ মূল্য, বসবাসের এলাকা এবং অন্যান্য যোগ্যতার শর্ত অঙ্গরাজ্য ও কর্মসূচিভেদে ভিন্ন হতে পারে। তাই আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থা বা অনুমোদিত ঋণদাতার সর্বশেষ নির্দেশনা যাচাই করা জরুরি। যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী বাংলাদেশি পরিবারগুলোর জন্য এসব কর্মসূচি প্রথম বাড়ি কেনার পথে বড় সহায়ক হতে পারে। তবে সুবিধা পাওয়ার জন্য আবেদনকারীদের অবশ্যই নির্ধারিত যোগ্যতা পূরণ করতে হবে এবং সংশ্লিষ্ট কর্মসূচির সব শর্ত মেনে আবেদন করতে হবে।
শেখ হাসিনার সঙ্গে সংবাদ সম্মেলনে থাকছেন সাকিব আল হাসান
খুবির দুই শিক্ষার্থী যুক্তরাষ্ট্রের দুই খ্যাতিমান বিশ্ববিদ্যালয়ে পূর্ণ বৃত্তিতে পিএইচডির সুযোগ
হরমুজ সংকট দীর্ঘায়িত হলে মন্দায় পড়বে পারে যুক্তরাজ্য, সতর্কতা
ইরানের সঙ্গে সামরিক সংঘাতে না গিয়ে আলোচনার মাধ্যমেই সংকট সমাধানের পথ বেছে নিতে চান বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, “আমি মানুষ হত্যা করতে চাই না।” একই সঙ্গে তিনি জানান, সোমবার থেকেই ইরানের সঙ্গে নতুন দফার আলোচনা শুরু হবে। ট্রাম্পের দাবি, সম্ভাব্য একটি সমঝোতার সুযোগ তৈরি হওয়ায় বড় ধরনের সামরিক হামলার প্রস্তুতি আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে। স্থানীয় সময় রোববার এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র সামরিক অভিযানের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত ছিল এবং ইরানও সে বিষয়ে অবগত ছিল। তবে কূটনৈতিক অগ্রগতির সম্ভাবনা বিবেচনায় নিয়ে আপাতত সামরিক পদক্ষেপ থেকে সরে আসার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, “আগামীকাল বিকেল থেকেই আলোচনা শুরু হবে। দেখা যাক কী হয়। আমরা যখন চাই, তখনই পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত। কিন্তু আমি মানুষ হত্যা করতে চাই না।” এর আগে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প দাবি করেন, ইরান এবং মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি মিত্র দেশ তাকে সামরিক হামলা থেকে বিরত থাকার অনুরোধ জানিয়েছে। কারণ, সম্ভাব্য একটি চুক্তির মৌলিক কাঠামো নিয়ে ইতোমধ্যে সমঝোতার ভিত্তি তৈরি হয়েছে। তার মতে, আলোচনায় হরমুজ প্রণালিতে অবাধ জাহাজ চলাচল এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি—উভয় বিষয়ই অন্তর্ভুক্ত থাকবে। ট্রাম্প আরও বলেন, সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং কাতারসহ যুক্তরাষ্ট্রের আঞ্চলিক অংশীদাররা সপ্তাহান্তে তাকে সামরিক অভিযান থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। তাদের বিশ্বাস, আলোচনার মাধ্যমে একটি সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব। তবে ট্রাম্পের এ দাবির বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি ইরান। যদিও দেশটির আধা-সরকারি বার্তাসংস্থা মেহর ট্রাম্পের বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করে জানিয়েছে, তেহরান কখনোই যুক্তরাষ্ট্রকে হামলা স্থগিত রাখার অনুরোধ জানায়নি। সংস্থাটি ট্রাম্পের বক্তব্যকে “আরেকটি নতুন মিথ্যা” বলে আখ্যায়িত করেছে। অন্যদিকে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছেন, ওমানের মধ্যস্থতায় হরমুজ প্রণালি নিয়ে চলমান আলোচনা চূড়ান্ত পর্যায়ের দিকে এগোচ্ছে। তবে সোমবারের বৈঠক কোথায় হবে বা কারা এতে অংশ নেবেন, সে বিষয়ে ট্রাম্প কোনো বিস্তারিত তথ্য দেননি। ট্রাম্প দাবি করেন, পরিকল্পিত সামরিক অভিযান বাস্তবায়িত হলে তা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় সামরিক অভিযানের একটি হতে পারত। তবে সম্ভাব্য হামলায় ইরানের জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্যবস্তু ছিল কি না, সে বিষয়ে তিনি মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান। এদিকে ইরানের ভারপ্রাপ্ত প্রতিরক্ষামন্ত্রী মাজিদ ইবন আল-রেজা বলেছেন, তেহরান প্রতিপক্ষের প্রতিটি হুমকিকেই গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে। তার ভাষায়, “আমরা কখনোই অপ্রস্তুত থাকব না, আবার নিষ্ক্রিয়ও থাকব না।” ট্রাম্পের আলোচনার ঘোষণার পর আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও তাৎক্ষণিক প্রভাব পড়ে। সোমবার এশীয় বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম প্রায় ৪ দশমিক ৫ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৮৩ দশমিক ৯৮ ডলারে নেমে আসে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) অপরিশোধিত তেলের দাম প্রায় ৪ দশমিক ৬ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৮০ দশমিক ৭৪ ডলারে দাঁড়ায়। হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা কমার সম্ভাবনা এবং সম্ভাব্য কূটনৈতিক সমাধানের আশাই বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমার প্রধান কারণ।
যুক্তরাষ্ট্রে ড্রাইভারদের জন্য নতুন সতর্কতা, লাল বাতিতে ডান দিকে মোড় নেওয়া হতে পারে নিষিদ্ধ
এক ভূমি অফিসের সব কর্মকর্তা বরখাস্ত