কান্নাকাটি করায় ৬ মাসের শিশুকে ছুড়ে ফেলে টিকটক ও পর্নোগ্রাফিতে মগ্ন মা, প্রাণ গেল শিশুপুত্রের
৬ মাসের এক অবুঝ শিশুকে নির্মমভাবে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার জন্মদাত্রী মায়ের বিরুদ্ধে। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনায় জানা গেছে, শিশুটি যখন ব্যথায় কাতরাচ্ছিল, তখন তাকে হাসপাতালে না নিয়ে ওই নারী তার স্মার্টফোনে টিকটক ও পর্নোগ্রাফি দেখায় মগ্ন ছিলেন। মর্মান্তিক এই শিশু নির্যাতনের ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর পুলিশ অভিযুক্ত মা তাতিয়ানা নরম্যানকে গ্রেপ্তার করেছে।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৯ জুন রাত ১১টা ৩৯ মিনিটে পুলিশের কাছে একটি জরুরি কল আসে যে একটি শিশু অচেতন অবস্থায় পড়ে আছে। খবর পেয়ে পুলিশ ও চিকিৎসাকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে শিশুটিকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। তবে রাত ১২টা ৩২ মিনিটে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়। পুলিশ প্রধান স্যামি টেলর জুনিয়র জানান, হাসপাতালে পৌঁছানোর সময় শিশুটির শরীরের তাপমাত্রা ছিল ৯৪ ডিগ্রি। পারিপার্শ্বিক প্রমাণ ও শরীরের তাপমাত্রা বিবেচনা করে পুলিশের ধারণা, পুলিশকে খবর দেওয়ার অন্তত কয়েক ঘণ্টা আগেই শিশুটির মৃত্যু হয়েছিল।
তদন্তের শুরুতে অভিযুক্ত মা তাতিয়ানা নরম্যান পুলিশকে নানা ধরনের বিভ্রান্তিকর তথ্য দিতে থাকেন। প্রথমে তিনি দাবি করেন যে, শিশুটি বিছানা থেকে টাইলসের ওপর পড়ে গিয়েছিল। দ্বিতীয়বারের জিজ্ঞাসাবাদে তিনি জানান, ঘুমানোর সময় হয়তো তিনি ভুলবশত শিশুটির ওপর চাপা পড়েছিলেন। এমনকি শিশুটির পায়ে থাকা একটি আঘাতের দাগ নিয়ে তিনি কখনো গরম পানি, কখনো ডিটারজেন্ট, আবার কখনো গরম স্যুপ পড়ার কথা বলেন।
তবে পুলিশের কঠোর জেরার মুখে শেষমেশ তিনি স্বীকার করেন যে, মৃত্যুর দিন শিশুটি কয়েকবার আঘাত পেয়েছিল। প্রথমে তার হাত থেকে ফসকে এবং পরে দোলনা থেকে পড়ে গিয়ে শিশুটি মাথায় চোট পায়। এরপরও শিশুটির ক্রমাগত কান্নায় বিরক্ত হয়ে কয়েক ফুট দূর থেকে তাকে কুশনবিহীন একটি প্লেপেনে ছুড়ে ফেলেন তাতিয়ানা। এতে শিশুটির মাথায় পুনরায় গুরুতর আঘাত লাগে এবং সে ব্যথায় কুঁকড়ে যায়।
পুলিশ জানিয়েছে, এমন গুরুতর আঘাত পাওয়ার পরও ওই পাষণ্ড মা শিশুটিকে কোনো চিকিৎসকের কাছে নেননি। বরং ইন্টারনেটে আঘাতের লক্ষণগুলো সার্চ করার পর তিনি দীর্ঘ কয়েক ঘণ্টা ধরে নির্লিপ্তভাবে টিকটক স্ক্রল করেন ও পর্নোগ্রাফি দেখেন। মেডিকেল পরীক্ষকের মতে, মাথার আঘাতের পর অবহেলা না করে সময়মতো চিকিৎসা দেওয়া হলে হয়তো অবুঝ শিশুটির প্রাণ বাঁচানো সম্ভব হতো।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreবাংলাদেশের নোয়াখালী-৫ (কবিরহাট-কোম্পানীগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্জ্ব ফখরুল ইসলামের যুক্তরাষ্ট্র সফর উপলক্ষে মেরিল্যান্ডে এক গণসংবর্ধনার আয়োজন করা হয়েছে। প্রবাসী বাংলাদেশিদের অংশগ্রহণে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে মেরিল্যান্ডসহ আশপাশের অঙ্গরাজ্যের কমিউনিটির সদস্যদের উপস্থিত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। মেরিল্যান্ড স্টেট বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ কাজল জানান, আগামী ৮ আগস্ট, শনিবার সন্ধ্যা ৬টায় বাল্টিমোরের মেহফিল কারাহি কাবাব রেস্টুরেন্টে এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হবে। অনুষ্ঠানের ভেন্যু ৬৯০১ সিকিউরিটি বুলেভার্ড, বাল্টিমোর, মেরিল্যান্ড ২১২৪৪। মেরিল্যান্ড স্টেট বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানের নাম দেওয়া হয়েছে ‘প্রবাসী নাগরিক সংবর্ধনা’। মোহাম্মদ কাজল আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্র সফররত এমপি ফখরুল ইসলামের সঙ্গে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সৌজন্য সাক্ষাৎ, মতবিনিময় এবং শুভেচ্ছা বিনিময়ের লক্ষ্যে এ আয়োজন করা হয়েছে। আয়োজকরা জানান, অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন শাহিদ খান চৌধুরী এবং সেক্রেটারি জেনারেলের দায়িত্ব পালন করবেন মোহাম্মদ কাজল। প্রচার সম্পাদক হিসেবে দায়িত্বে রয়েছেন তানভীর হাসান। আয়োজকরা আরও জানান, মেরিল্যান্ডসহ যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠানটি সফল করার জন্য ইতোমধ্যে প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। অনুষ্ঠানে কমিউনিটির বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রবাসী বাংলাদেশিদের উপস্থিতি প্রত্যাশা করা হচ্ছে। নোয়াখালী-৫ (কবিরহাট-কোম্পানীগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য হিসেবে আলহাজ্জ্ব ফখরুল ইসলামের এ যুক্তরাষ্ট্র সফরকে ঘিরে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে আগ্রহ দেখা দিয়েছে। আয়োজকদের মতে, এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসীদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ এবং বিভিন্ন সমসাময়িক বিষয় নিয়ে মতবিনিময়ের সুযোগ সৃষ্টি হবে। আয়োজকরা আরও মনে করছেন, এ ধরনের আয়োজন দেশের জনপ্রতিনিধি ও প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ আরও সুদৃঢ় করতে সহায়ক ভূমিকা রাখে। একই সঙ্গে দেশের বিভিন্ন বিষয়, প্রবাসীদের প্রত্যাশা এবং ভবিষ্যৎ করণীয় নিয়ে মতবিনিময়ের একটি কার্যকর প্ল্যাটফর্ম হিসেবেও এ ধরনের অনুষ্ঠান গুরুত্বপূর্ণ। মেরিল্যান্ড ছাড়াও ভার্জিনিয়া, ওয়াশিংটন ডিসি, পেনসিলভানিয়া, ডেলাওয়্যার এবং আশপাশের অঙ্গরাজ্য থেকে বিপুল সংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশির উপস্থিতি প্রত্যাশা করছেন আয়োজকরা।
অ্যারিজোনায় বাবাই অপহরণ করলেন ১১ দিনের সন্তান, ২০০ মাইল দূরে উদ্ধার করল পুলিশ
নিউইয়র্কের ব্রঙ্কসে বাড়িতে ঢুকে নারীকে বেঁধে ভয়াবহ ডাকাতি, লুট ৩ লাখ ৪৩ হাজার ডলারের সম্পদ
পরীক্ষায় ব্যর্থ হয়েও হার মানেননি, ৭ ফুট ৩ ইঞ্চির সাবেক বাস্কেটবল তারকা হলেন টেক্সাসের সবচেয়ে লম্বা পুলিশ কর্মকর্তা
গাড়ি চালানোর সময় মোবাইল ফোন ব্যবহারের কারণে দুর্ঘটনা রোধে অভিনব এক কৌশল বেছে নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের নিউজার্সির ডানেলেন শহরের পুলিশ। ব্যস্ত রাস্তায় নজরদারি চালাতে রীতিমতো রাস্তার ধারের ঝোপঝাড় বা গাছের ছদ্মবেশ ধারণ করেছেন পুলিশ কর্মকর্তারা। ডানেলেন বোরো পুলিশ বিভাগের পরিচালিত ছয় ঘণ্টার এই বিশেষ অভিযানে গাড়ি চালানোর সময় ফোন ব্যবহারের দায়ে মোট ৭৪ জন চালককে আটক করে জরিমানা করা হয়েছে। শহরের নর্থ ওয়াশিংটন অ্যাভিনিউয়ের মতো একটি ব্যস্ত ও জনবহুল এলাকায় এই অভিযান চালানো হয়। পথচারী ও যানবাহনের প্রচণ্ড ভিড় থাকা সত্ত্বেও যেসব চালক স্টিয়ারিংয়ে বসে ফোনের স্ক্রিনে মগ্ন ছিলেন, তারাই মূলত পুলিশের এই ফাঁদে পড়েন। অভিযানে এক পুলিশ কর্মকর্তা ঘিলি-স্টাইলের ক্যামোফ্লেজ স্যুট পরে একেবারে ঝোপঝাড়ের রূপ ধারণ করেন এবং দূরবীনের সাহায্যে রাস্তার ট্রাফিকের ওপর নজর রাখেন। কোনো চালককে ফোন ব্যবহার করতে দেখলেই তিনি সঙ্গে সঙ্গে কাছাকাছি থাকা অন্য কর্মকর্তাদের সংকেত দিতেন এবং তারা গাড়িটি থামিয়ে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতেন। পরিস্থিতি আরও মজাদার করতে আরেক পুলিশ কর্মকর্তা এমন একটি কালো টি-শার্ট পরেছিলেন, যার ওপর বড় করে লেখা ছিল 'নট আ কপ' (আমি পুলিশ নই)। পুলিশের মতে, যারা গাড়ি চালানোর চেয়ে ফোনে বেশি মনোযোগী, তারা চারপাশের এই অদ্ভুত বিষয়গুলোও খেয়াল করতে চরমভাবে ব্যর্থ হন। আর চালকদের এই অসচেতনতাই দুর্ঘটনার সবচেয়ে বড় কারণ। ছয় ঘণ্টার মধ্যে ৭৪টি মামলা দেওয়ার বিষয়টি প্রমাণ করে যে, জনবহুল এলাকাতেও চালকদের মোবাইল ব্যবহারের প্রবণতা কতটা উদ্বেগজনক। রসিকতার ছলে হলেও এই অভিযানের মাধ্যমে ট্রাফিক আইন মেনে চলার বিষয়ে চালকদের একটি কড়া ও বাস্তবমুখী বার্তা দিয়েছে ডানেলেন পুলিশ। প্রশাসনের পক্ষ থেকে চালকদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে যেন তারা গাড়ি থামানোর আগে কোনো টেক্সট বা নোটিফিকেশন চেক না করেন।
কান্নাকাটি করায় ৬ মাসের শিশুকে ছুড়ে ফেলে টিকটক ও পর্নোগ্রাফিতে মগ্ন মা, প্রাণ গেল শিশুপুত্রের
৫০০ আবেদনেও মিলছে না চাকরি: যুক্তরাষ্ট্রের আইটি খাতে দীর্ঘ বেকারত্বে বাড়ছে বাংলাদেশিদের উদ্বেগ
মিয়ামিতে ৪ বছরের কন্যা হত্যা মামলায় কারাবন্দি মা, এবার জেলেই সহবন্দীর হামলার শিকার
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় শিশুদের বেপরোয়া ই-বাইক ও ই-মোটরসাইকেল চালানোর প্রবণতা আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। এর জেরে কেবল শিশুরাই নয়, এবার তাদের অভিভাবকদেরও আইনি শাস্তির মুখে পড়তে হচ্ছে। সম্প্রতি অরেঞ্জ কাউন্টির ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি (ডিএ) অফিস জানিয়েছে, অবৈধভাবে ই-বাইক চালানো শিশুদের অভিভাবকদের বিরুদ্ধে দুই ডজনেরও বেশি তদন্ত চলছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের ক্রমবর্ধমান ক্ষোভের মুখে ই-বাইক আইন লঙ্ঘনের বিষয়গুলো মোকাবিলায় প্রশাসন একটি বিশেষ ইউনিট গঠন করেছে। এর ফলে চলমান ২৬টি তদন্ত শেষ পর্যন্ত ফৌজদারি মামলায় রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। অরেঞ্জ কাউন্টির ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি টড স্পিটজার জানান, এখানকার শিশুদের হাসপাতালে জরুরি বিভাগে ভর্তি হওয়ার প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে এই ই-বাইক ও ই-মোটরসাইকেল। তিনি এটিকে একটি গুরুতর জনস্বাস্থ্য সংকট হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেন, দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি কমাতে প্রশাসন সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। গত এক বছরে অরেঞ্জ কাউন্টিতে এসব বাইকের কারণে বেশ কয়েকটি মারাত্মক দুর্ঘটনা ঘটেছে, যাতে অনেকে আজীবনের জন্য পঙ্গু হয়েছেন এবং অন্তত একজনের মৃত্যু হয়েছে। ইতিমধ্যেই চারজন অভিভাবকের বিরুদ্ধে বিচার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এর মধ্যে এক কিশোরের ই-বাইকের ধাক্কায় ৮১ বছর বয়সী এক প্রবীণ নিহতের ঘটনায় ওই কিশোরের মায়ের বিরুদ্ধে অনিচ্ছাকৃত হত্যা ও শিশু অবহেলার অভিযোগ আনা হয়েছে। অন্য একটি ঘটনায় ১২ বছরের ছেলের দুর্ঘটনার জেরে তার বাবার বিরুদ্ধেও মামলা দায়ের করা হয়েছে। ক্যালিফোর্নিয়ার স্টেট আইন অনুযায়ী, ১৬ বছরের কম বয়সীদের ই-মোটরসাইকেল চালানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। তবে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রাজ্যজুড়ে এ ধরনের দুর্ঘটনার বেশিরভাগই ঘটাচ্ছে ১১ থেকে ১৪ বছর বয়সী শিশুরা। সম্প্রতি সাউদার্ন ক্যালিফোর্নিয়ায় শিশুদের ই-বাইক নিয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির একাধিক রোমহর্ষক ঘটনা সামনে এসেছে। গত জুনে দুই শিশু ই-বাইক নিয়ে অরেঞ্জ কাউন্টির একটি ওয়ালমার্ট স্টোরের ভেতরে ঢুকে পড়ে এবং ক্রেতাদের আতঙ্কিত করে তোলে। এছাড়া ট্রাফিক আইন অমান্য করে পালানোর সময় পুলিশের ধাওয়ার মুখে পড়া এক কিশোর এবং গত মে মাসে পুলিশের সাথে দীর্ঘ ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার পর ১৯ বছর বয়সী এক তরুণের গ্রেপ্তারের ঘটনাও স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রে খাবার থেকে কফি সবখানেই বকশিসের চাপ, টিপিং কালচারকে অযৌক্তিক মনে করেন ৭৮% ক্রেতা
নিউইয়র্কে ট্রাম্প টাওয়ারের ওপর দিয়ে আর উড়বে না কোনো বিমান, স্থায়ী নো-ফ্লাই জোন ঘোষণা