ফুড স্ট্যাম্প সুবিধাভোগী পরিবারকে মাসে অতিরিক্ত ৬০ ডলার দেওয়ার প্রস্তাব
যুক্তরাষ্ট্রে ফুড স্ট্যাম্প (এসএনএপি) সুবিধাভোগী নিম্ন আয়ের পরিবারগুলোকে ফল ও সবজি কেনার জন্য প্রতি মাসে অতিরিক্ত ৬০ ডলার দেওয়ার লক্ষ্যে প্রতিনিধি পরিষদে একটি নতুন বিল উত্থাপন করা হয়েছে। বিলটি আইনে পরিণত হলে অংশগ্রহণকারী অঙ্গরাজ্যগুলো যোগ্য পরিবারকে এই অতিরিক্ত সুবিধা দিতে পারবে।
ফ্রেশ বাকস ফর ফ্রেশ প্রোডিউস অ্যাক্ট নামে প্রস্তাবিত এই বিলে যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগের অধীনে একটি পরীক্ষামূলক কর্মসূচি চালুর কথা বলা হয়েছে। এতে যেসব পরিবারের আয় সংশ্লিষ্ট এলাকার মধ্যম আয়ের ৮০ শতাংশ বা তার কম, তারা এই সুবিধার জন্য যোগ্য হবেন। যারা ইতোমধ্যে ফুড স্ট্যাম্প সুবিধা পাচ্ছেন, তাদের আলাদা করে আয়ের প্রমাণ দিতে হবে না।
বিল অনুযায়ী, প্রতি মাসে ৬০ ডলার ইলেকট্রনিক বেনিফিট ট্রান্সফার (ইবিটি) কার্ড বা অঙ্গরাজ্যের বিদ্যমান অর্থপ্রদান ব্যবস্থার মাধ্যমে দেওয়া হবে। অর্থ পাওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে তা ব্যবহার করতে হবে। এই অর্থ দিয়ে শুধুমাত্র অনুমোদিত তাজা, হিমায়িত বা শুকনো ফল ও সবজি কেনা যাবে। অতিরিক্ত চিনি, লবণ বা চর্বিযুক্ত পণ্য এই সুবিধার আওতায় থাকবে না। ফল ও সবজি উৎপাদনের উপযোগী কিছু ভেষজ ও চারা গাছও কেনা যাবে।
এই অতিরিক্ত সুবিধা বর্তমান ফুড স্ট্যাম্প বা অন্যান্য সরকারি খাদ্য সহায়তার পরিবর্তে নয়, বরং অতিরিক্ত হিসেবে দেওয়া হবে। কৃষক বাজার, স্বাধীন মুদি দোকান, খামারের বিক্রয়কেন্দ্র, সুপারমার্কেট এবং কৃষি বিভাগের অনুমোদিত অন্যান্য বিক্রয়কেন্দ্রে এই অর্থ ব্যবহার করা যাবে।
বিলটি ওয়াশিংটনের ডেমোক্র্যাট সদস্য প্রমিলা জয়াপাল এবং আরও কয়েকজন প্রতিনিধি গত ২ জুলাই প্রতিনিধি পরিষদে উত্থাপন করেন। তার কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, সিয়াটলে পরিচালিত একই ধরনের কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া পরিবারগুলোর খাদ্য নিরাপত্তা বেড়েছে এবং তারা ফল ও সবজি বেশি খেতে সক্ষম হয়েছে।
বর্তমানে বিলটি প্রতিনিধি পরিষদের কৃষি বিষয়ক কমিটির বিবেচনাধীন রয়েছে। অনুমোদন পেলে কৃষি বিভাগ বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে পরীক্ষামূলকভাবে কর্মসূচি চালু করবে এবং পরে এর কার্যকারিতা মূল্যায়ন করে ভবিষ্যৎ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ ও সংরক্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রায়ান আবদুল বাতেন। তিনি বাংলাদেশের বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার সহকারী অধ্যাপক। হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রকাশিত রেকর্ডে তাঁর বিরুদ্ধে ‘Film, Distribute, or Possess Image or Video of Sexual Activity with an Animal’ শীর্ষক অভিযোগ উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ, প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ কিংবা নিজের কাছে রাখার অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। গ্রেপ্তারসংক্রান্ত সরকারি রেকর্ড প্রকাশের পর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে তাঁর পরিচয়ের কারণে ঘটনাটি নিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যেও আলোচনা তৈরি হয়েছে। এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রাণীটির পরিচয় সম্পর্কে বিভিন্ন দাবি ছড়িয়ে পড়লেও হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্যে নির্দিষ্ট কোনো প্রাণীর নাম উল্লেখ করা হয়নি। ফলে ছাগলের সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের যে দাবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে করা হচ্ছে, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তথ্যসূত্র: হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় (Hillsborough County Sheriff’s Office), ফ্লোরিডা।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে আবারও কংগ্রেসের প্রতিনিধি পরিষদে নির্বাচিত হয়েছেন মুসলিম ডেমোক্র্যাট নেতা ইলহান ওমর ও রশিদা তালিব। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) অনুষ্ঠিত নির্বাচনে মিনেসোটা ও মিশিগান অঙ্গরাজ্যে নিজেদের আসন ধরে রাখার মধ্য দিয়ে মার্কিন রাজনীতিতে প্রতিনিধিত্ব অব্যাহত রাখছেন এই দুই মুসলিম নারী। তাঁরা দুজনই যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম মুসলিম নারী কংগ্রেস সদস্য হিসেবে পরিচিত। সোমালি বংশোদ্ভূত ইলহান ওমর মিনেসোটার পঞ্চম কংগ্রেশনাল ডিস্ট্রিক্টের প্রতিনিধিত্ব করেন। এই আসনের মধ্যে মিনিয়াপোলিস এবং আশপাশের কয়েকটি এলাকা রয়েছে। অন্যদিকে ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত রশিদা তালিব প্রতিনিধিত্ব করেন মিশিগানের দ্বাদশ কংগ্রেশনাল ডিস্ট্রিক্টের, যার মধ্যে ডেট্রয়েটের কিছু অংশ এবং আশপাশের এলাকা অন্তর্ভুক্ত। ২০১৮ সালের নির্বাচনে প্রথমবার কংগ্রেসে জয়ী হয়ে ইতিহাস গড়েছিলেন ইলহান ওমর ও রশিদা তালিব। ২০১৯ সালের জানুয়ারিতে তাঁরা প্রতিনিধি পরিষদের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে কোনো মুসলিম নারী নির্বাচিত হননি। ইলহান ওমর শৈশবে সোমালিয়ার গৃহযুদ্ধের কারণে পরিবারের সঙ্গে দেশ ছাড়েন। পরে শরণার্থী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে আসেন। রাজনৈতিক জীবনে তিনি অভিবাসীদের অধিকার, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, আবাসন এবং পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন। বিশেষ করে অভিবাসন নীতি ও মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি নিয়ে তাঁর অবস্থান জাতীয় পর্যায়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অন্যদিকে রশিদা তালিব যুক্তরাষ্ট্রে জন্মগ্রহণকারী ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত রাজনীতিক। কংগ্রেসে নির্বাচিত হওয়ার আগে তিনি মিশিগানের অঙ্গরাজ্য আইনসভায় দায়িত্ব পালন করেন। শ্রমজীবী মানুষের অধিকার, পরিবেশগত ন্যায়বিচার, আবাসন, স্বাস্থ্যসেবা এবং ফিলিস্তিন ইস্যুতে তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান বিশেষভাবে পরিচিত। দুজনই ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রগতিশীল অংশের পরিচিত মুখ। তাঁরা কংগ্রেসের অনানুষ্ঠানিক প্রগতিশীল জোট ‘দ্য স্কোয়াড’-এর সদস্য হিসেবে পরিচিত। এই জোটের সদস্যরা স্বাস্থ্যসেবা, জলবায়ু পরিবর্তন, অর্থনৈতিক বৈষম্য এবং পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে বিভিন্ন সময়ে নিজ দলের প্রচলিত অবস্থানেরও সমালোচনা করেছেন। এবারের নির্বাচনে ইলহান ওমর রিপাবলিকান প্রার্থী জন নাগেলকে পরাজিত করে পঞ্চম মেয়াদের জন্য নির্বাচিত হয়েছেন। সিবিএস নিউজের নির্বাচনী পূর্বাভাসে তাঁর জয় নিশ্চিত করা হয়েছে। অন্যদিকে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের পূর্বাভাস অনুযায়ী, মিশিগানের দ্বাদশ ডিস্ট্রিক্টে রিপাবলিকান প্রার্থী জেমস হুপারকে হারিয়ে জয়ী হয়েছেন রশিদা তালিব। তবে নির্বাচনের চূড়ান্ত সরকারি ফলাফল আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যয়নের প্রক্রিয়া বাকি রয়েছে। নতুন মেয়াদে তাঁদের সামনে অভিবাসন নীতি, স্বাস্থ্যসেবা, জীবনযাত্রার ব্যয় এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যপ্রাচ্য নীতিসহ গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন ইস্যু থাকবে। আগামী ৩ জানুয়ারি নতুন কংগ্রেসের অধিবেশন শুরু হওয়ার কথা। এর মাধ্যমে টানা পঞ্চম মেয়াদে প্রতিনিধি পরিষদে দায়িত্ব পালন করবেন যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম নির্বাচিত দুই মুসলিম নারী কংগ্রেস সদস্য। সূত্র: সিবিএস নিউজ, অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস, মিনেসোটা সেক্রেটারি অব স্টেটের নির্বাচনী তথ্য।
যুক্তরাষ্ট্রের সিনেট নির্বাচনে প্রথম মুসলিম সিনেটর হওয়ার পথে মিশিগানের প্রার্থী এল-সায়েদ
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ইতিহাস গড়ার লড়াইয়ে ১২ মুসলিম প্রার্থী
‘আমি থাকলে হারত না রিপাবলিকানরা’, নির্বাচনে হারার পর ট্রাম্প
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে মিশিগান অঙ্গরাজ্য থেকে টানা পঞ্চমবারের মতো প্রতিনিধি পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত ডেমোক্রেটিক নেতা রাশিদা তালিব। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) অনুষ্ঠিত নির্বাচনে মিশিগানের দ্বাদশ কংগ্রেসনাল ডিস্ট্রিক্টে নিজের আসন ধরে রেখেছেন তিনি। বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের ফলাফল বিশ্লেষণের ভিত্তিতে তাঁর বিজয়ের খবর জানিয়েছে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ডব্লিউডিআইভি। এবারের নির্বাচনে রাশিদা তালিবের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন রিপাবলিকান পার্টির জেমস হুপার। এ ছাড়া গ্রিন পার্টির ব্রেন্ডা স্যান্ডার্স, ইউএস ট্যাক্সপেয়ার্স পার্টির মার্ক সসনোস্কি এবং ওয়ার্কিং ক্লাস পার্টির গ্যারি ওয়ালকোভিচও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। তবে শেষ পর্যন্ত আসনটি ধরে রাখতে সক্ষম হন ডেমোক্রেটিক পার্টির এই প্রার্থী। ২০১৮ সালে প্রথমবার যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে নির্বাচিত হন রাশিদা তালিব। সে সময় তিনি দেশটির ইতিহাসে প্রথম দুই মুসলিম নারী কংগ্রেস সদস্যের একজন হিসেবে ইতিহাস গড়েন। ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত প্রথম নারী হিসেবেও মার্কিন কংগ্রেসে প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ পান তিনি। মিশিগানের ডেট্রয়েটে জন্ম নেওয়া রাশিদা তালিব রাজনীতিতে আসার আগে সমাজকর্মী হিসেবে কাজ করেছেন। ২০০৮ সালে মিশিগান অঙ্গরাজ্যের আইনসভায় নির্বাচিত হয়ে সেখানেও প্রথম মুসলিম নারী সদস্য হিসেবে ইতিহাস গড়েছিলেন তিনি। পরবর্তী সময়ে জাতীয় রাজনীতিতে নিজের অবস্থান শক্তিশালী করেন। রাশিদা তালিব দীর্ঘদিন ধরে ফিলিস্তিনিদের অধিকার, সামাজিক ন্যায়বিচার, আবাসনসংকট এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর পক্ষে সোচ্চার রয়েছেন। বিশেষ করে গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযান এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যপ্রাচ্যনীতি নিয়ে তাঁর অবস্থান জাতীয় রাজনীতিতে ব্যাপক আলোচনা ও বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। মিশিগানের দ্বাদশ কংগ্রেসনাল ডিস্ট্রিক্টের মধ্যে ডিয়ারবর্ন, সাউথফিল্ড ও লিভোনিয়াসহ ওয়েইন এবং ওকল্যান্ড কাউন্টির বিভিন্ন এলাকা রয়েছে। এই অঞ্চলে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক আরব ও মুসলিম আমেরিকানের বসবাস। ফলে এখানকার নির্বাচনে অভিবাসী কমিউনিটি, অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং আন্তর্জাতিক নীতিসংক্রান্ত বিষয়গুলোও গুরুত্ব পেয়ে থাকে। ২০২৪ সালের নির্বাচনে রাশিদা তালিব প্রায় ৬৯ দশমিক ৭ শতাংশ ভোট পেয়ে একই আসনে জয়ী হয়েছিলেন। সেবারও তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন রিপাবলিকান প্রার্থী জেমস হুপার। এবারের জয়ের মধ্য দিয়ে আরও দুই বছরের জন্য প্রতিনিধি পরিষদে দায়িত্ব পালনের সুযোগ পাচ্ছেন তিনি। নতুন মেয়াদ শুরু হবে ২০২৭ সালের জানুয়ারিতে। সূত্র: অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস, ডব্লিউডিআইভি, সিবিএস ডেট্রয়েট।
ট্রাম্পের শক্ত ঘাঁটি সাউথ ক্যারোলাইনায় ডেমোক্র্যাটদের চমক, সিনেটর নির্বাচিত অ্যানি অ্যান্ড্রুজ
মাইকেল জ্যাকসনের মৃত্যুর ১৭ বছর পরও ট্রাস্টের অর্থ পাননি তিন সন্তান, আদালতে মেয়ে প্যারিস জ্যাকসন
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ হারানোর মুখে রিপাবলিকানরা, এগিয়ে ডেমোক্র্যাটরা
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের গভর্নর নির্বাচিত হয়ে ইতিহাস গড়েছেন ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রার্থী কিশা ল্যান্স বটমস। রিপাবলিকান প্রার্থী ও ব্যবসায়ী রিক জ্যাকসনকে হারিয়ে জয় পেয়েছেন আটলান্টার সাবেক এই মেয়র। তাঁর জয়ের মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে কোনো অঙ্গরাজ্যের গভর্নর নির্বাচিত হওয়া প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ নারী হিসেবে নতুন নজির তৈরি হলো। ৪ নভেম্বর বুধবার বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের নির্বাচনী পূর্বাভাসে তাঁর জয় নিশ্চিত করা হয়। নির্বাচনে বটমসের প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন রিপাবলিকান ব্যবসায়ী রিক জ্যাকসন। নির্বাচনের রাতে জর্জিয়ার বিভিন্ন এলাকার ভোট গণনা শুরু হওয়ার পর থেকেই বটমস এগিয়ে ছিলেন। আটলান্টা জার্নাল-কনস্টিটিউশনের প্রকাশিত ফলাফলে ভোট গণনার এক পর্যায়ে তিনি ৫৮ শতাংশ ভোট পেয়েছিলেন, আর জ্যাকসনের পক্ষে ছিল ৪২ শতাংশ। পরে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের পূর্বাভাসে বটমসকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়। ৫৬ বছর বয়সী কিশা ল্যান্স বটমস এর আগে ২০১৮ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত আটলান্টার মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা হিসেবেও কাজ করেছেন তিনি। এ ছাড়া হোয়াইট হাউসের জনসম্পৃক্ততা কার্যালয়ের পরিচালক ছিলেন। রাজনীতি ও প্রশাসনে দীর্ঘ অভিজ্ঞতার কারণে জর্জিয়ার গভর্নর নির্বাচনে তাঁর প্রার্থিতা বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছিল। নির্বাচনী প্রচারে অর্থনৈতিক বৈষম্য কমানো, স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ বাড়ানো এবং অঙ্গরাজ্যের ন্যূনতম মজুরি ঘণ্টায় ১৫ ডলারে উন্নীত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন বটমস। পাশাপাশি শিক্ষক, অগ্নিনির্বাপণকর্মী ও পুলিশ সদস্যদের বেতন বাড়ানোর কথাও বলেন তিনি। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিভিন্ন নীতির সমালোচনা করে নিজের নির্বাচনী অবস্থান তুলে ধরেন এই ডেমোক্র্যাট প্রার্থী। অন্যদিকে, রিপাবলিকান প্রার্থী রিক জ্যাকসন ছিলেন একজন ধনকুবের ব্যবসায়ী। তিনি নিজের নির্বাচনী প্রচারে বিপুল অর্থ ব্যয় করেন এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সমর্থন পান। জ্যাকসন কর কমানো, জননিরাপত্তা জোরদার ও ব্যবসাবান্ধব নীতির প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। তবে শেষ পর্যন্ত সংবাদমাধ্যমের পূর্বাভাস অনুযায়ী, বটমসের কাছে পরাজিত হন তিনি। এই জয়ের মধ্য দিয়ে দুই দশকের বেশি সময় ধরে রিপাবলিকানদের নিয়ন্ত্রণে থাকা জর্জিয়ার গভর্নর পদ ডেমোক্র্যাটদের হাতে গেল। ১৯৯৮ সালের পর এই প্রথম অঙ্গরাজ্যটিতে গভর্নর নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জয় পেলেন। যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে জর্জিয়া গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গরাজ্য হিসেবে পরিচিত। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সেখানে ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকানদের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা বেড়েছে। বটমসের জয় তাই শুধু ব্যক্তিগত রাজনৈতিক অর্জন নয়, অঙ্গরাজ্যটির ক্ষমতার সমীকরণেও গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন। সূত্র: রয়টার্স, অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস ও আটলান্টা জার্নাল-কনস্টিটিউশন।
মিশিগানের সিনেট নির্বাচনে বড় ব্যবধানে এগিয়ে এল-সাইদ, রজার্সের চেয়ে বেশি ৯৮ হাজার ভোট!
ট্রাম্প-সমর্থিত প্রার্থীকে হারিয়ে উত্তর ক্যারোলাইনায় সিনেটর নির্বাচিত রয় কুপার