কলোরাডোর আকাশে রহস্যময় বস্তু, ট্রাম্পের আদেশের পরও প্রকাশ্যে আনছে না মার্কিন বিমানবাহিনী
যুক্তরাষ্ট্রের কলোরাডো অঙ্গরাজ্যের একটি সামরিক ঘাঁটির ওপর প্রায় ১০০ ফুট আকারের কালো ত্রিভুজাকার একটি রহস্যময় উড়ন্ত বস্তুর (ইউএফও বা বর্তমানে ব্যবহৃত পরিভাষায় ইউএপি) দুটি ভিডিও এখনও জনসমক্ষে প্রকাশ করা হয়নি বলে দাবি করেছেন একাধিক হুইসেলব্লোয়ার। তাদের ভাষ্য, ভিডিও দুটি মার্কিন বিমান বাহিনীর গোপন নথির আওতায় থাকায় সেগুলো নিয়ে প্রকাশ্যে আলোচনা বা প্রকাশের অনুমতি নেই।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক পোস্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভিডিও দুটি ২০২৩ সালে পরপর দুই রাতে এক সামরিক সদস্য তার ব্যক্তিগত মোবাইল ফোনে ধারণ করেন। হুইসেলব্লোয়ারদের দাবি, ভিডিওতে দেখা যায় একটি বিশাল কালো ত্রিভুজাকার বস্তু পাহাড়ি এলাকার ওপর দিয়ে দ্রুতগতিতে উড়ে যাচ্ছে এবং মেঘের মধ্যে নিজেকে আড়াল করার মতো আচরণ করছে।
সূত্রগুলোর দাবি, ভিডিও দুটি বর্তমানে কলোরাডোতে অবস্থিত মার্কিন বিমান বাহিনীর অফিস অব স্পেশাল ইনভেস্টিগেশনস (এএফওএসআই)-এর হেফাজতে রয়েছে। এমনকি সংশ্লিষ্ট নথির ফাইল নম্বরও তারা উল্লেখ করেছেন। তবে এসব তথ্যের স্বাধীন বা সরকারি যাচাই এখনো প্রকাশ্যে আসেনি।
সম্প্রতি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এমন একটি নির্বাহী নির্দেশনা দেন, যার লক্ষ্য ছিল গোপনীয়তা চুক্তির কারণে নীরব থাকা সম্ভাব্য ইউএফও-সংক্রান্ত হুইসেলব্লোয়ারদের আরও সহজে তথ্য দেওয়ার সুযোগ তৈরি করা। কিন্তু হুইসেলব্লোয়ারদের একটি অংশের দাবি, বাস্তবে এতে পরিস্থিতির কোনো উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হয়নি।
মার্কিন বিমান বাহিনীর সাবেক সদস্য ও সাবেক প্রতিরক্ষা ঠিকাদার ডিলান বোরল্যান্ড নিউইয়র্ক পোস্টকে বলেন, "এতে এমন কিছু হয়নি, যা আগে থেকে তথ্য দিতে পারা ব্যক্তিদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করেছে। বাস্তবে কিছুই বদলায়নি।"
বোরল্যান্ড এর আগে কংগ্রেসে সাক্ষ্য দিয়ে দাবি করেছিলেন, তিনি দায়িত্ব পালনকালে একটি নাসা হ্যাঙ্গারের ওপর বিশাল ত্রিভুজাকার একটি উড়ন্ত বস্তু কয়েক মিনিট স্থির অবস্থায় থাকতে দেখেন। তার দাবি, সেটি কোনো শব্দ ছাড়াই পরে অত্যন্ত দ্রুতগতিতে উপরের দিকে উঠে বাণিজ্যিক উড়োজাহাজের উচ্চতায় পৌঁছে যায়।
তার অভিযোগ, বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে জানানোর পর নিরাপত্তা ছাড়পত্র, কর্মপরিবেশ এবং পেশাগত জীবনে নানা ধরনের প্রতিকূলতার মুখে পড়তে হয়েছে।
একই ধরনের অভিযোগ করেছেন সাবেক প্রতিরক্ষা শিল্পের ঠিকাদার ম্যাথিউ ব্রাউন। তিনি ২০২৬ সালে একটি পডকাস্টে দাবি করেন, তিনি অল-ডোমেইন অ্যানোমালি রেজোলিউশন অফিস (এএআরও) এবং ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্সের পরিচালক দপ্তরে (ওডিএনআই) যে তথ্য দিয়েছিলেন, তার মধ্যে কথিত "ইম্যাকুলেট কনস্টেলেশন" নামে একটি গোপন কর্মসূচির উল্লেখ ছিল। তার দাবি, ওই কর্মসূচির মাধ্যমে অজ্ঞাত উড়ন্ত বস্তুর তথ্য সংগ্রহ, বিশ্লেষণ এবং উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালিত হতো।
ব্রাউনের ভাষ্য, ট্রাম্পের নতুন নির্দেশনা হুইসেলব্লোয়ারদের প্রকাশ্যে কথা বলার ক্ষেত্রে নতুন কোনো বাস্তব সুযোগ তৈরি করেনি। বরং তিনি অভিযোগ করেন, যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করেও পরে ব্যক্তিগত ও পেশাগতভাবে নানা ধরনের ক্ষতির শিকার হতে হয়েছে।
তবে সাবেক মার্কিন বিমান বাহিনীর গোয়েন্দা কর্মকর্তা ও আলোচিত ইউএফও হুইসেলব্লোয়ার ডেভিড গ্রাশ ট্রাম্পের উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তিনি বলেন, এই পদক্ষেপের ফলে যারা এতদিন গোপনীয়তা চুক্তির কারণে কংগ্রেস বা প্রশাসনের কাছে তথ্য দিতে পারেননি, তারা সাহস পেতে পারেন।
গ্রাশ আরও বলেন, তিনি নিজেই প্রথম দিকের ব্যক্তিদের একজন, যিনি অভিযোগ করেছিলেন যে কিছু ইউএপি-সংক্রান্ত পুরোনো কর্মসূচি যথাযথ তদারকির বাইরে গোপন রাখা হয়েছে। এ কারণে তাকে ব্যক্তিগত ও পেশাগতভাবে বড় মূল্য দিতে হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রে অজ্ঞাত উড়ন্ত বস্তু নিয়ে বিতর্ক নতুন নয়। গত কয়েক বছরে কংগ্রেসে একাধিক শুনানি হয়েছে এবং প্রতিরক্ষা দপ্তরও বিভিন্ন ঘটনার তদন্ত করেছে। তবে এখন পর্যন্ত ভিনগ্রহের প্রাণ বা মহাকাশযানের উপস্থিতির পক্ষে কোনো চূড়ান্ত সরকারি প্রমাণ প্রকাশ করা হয়নি। একইভাবে কলোরাডোর কথিত ত্রিভুজাকার উড়ন্ত বস্তুর ভিডিও সম্পর্কেও মার্কিন বিমান বাহিনী আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য বা ভিডিও প্রকাশ করেনি।
ফলে হুইসেলব্লোয়ারদের দাবি ও সরকারি অবস্থানের মধ্যে ব্যবধান থাকায় বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক এখনও অব্যাহত রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রের নর্থ ডাকোটা অঙ্গরাজ্যের মানডান শহরে নিজ সন্তানদের ওপর এক মায়ের ভয়াবহ আক্রমণের ঘটনা ঘটেছে। মানসিক অস্থিরতা ও পারিবারিক বিবাদের জেরে ২২ বছর বয়সী কাইলি এরহার্ট নামে এক নারী তাঁর দুই শিশু সন্তানকে কুপিয়ে হত্যা করেছেন এবং অপর এক সন্তানকে গুরুতর জখম করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। গত বৃহস্পতিবারের এই মর্মান্তিক ঘটনার পর অভিযুক্ত নারীকে গ্রেপ্তার করেছে স্থানীয় পুলিশ। আদালত ও স্থানীয় পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার দিন কাইলি এরহার্ট তাঁর বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া স্বামীর ওপর আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে চড়াও হন এবং আত্মহত্যার হুমকি দেন। সে সময় তাঁদের বিবাহবিচ্ছেদের আইনি প্রক্রিয়া চলছিল। স্বামী সাহসিকতার সঙ্গে তাঁর হাত থেকে আগ্নেয়াস্ত্র কেড়ে নিতে সক্ষম হলেও ধস্তাধস্তির সময় কাইলি তাঁকে কামড়ে ও আঁচড়ে রক্তাক্ত করেন। ঘটনার সময় বাড়িতে শিশুদের দাদিও উপস্থিত ছিলেন। একপর্যায়ে কাইলি তাঁর স্বামী ও শাশুড়িকে তাড়া করে ঘরের বাইরে বের করে দেন এবং এরপরই নিজের তিন শিশু সন্তানের ওপর ধারালো অস্ত্র নিয়ে চড়াও হন। এই হামলায় কাইলির ৫ মাস এবং ৩ বছর বয়সী দুই শিশু ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারায়। অন্যদিকে অলৌকিকভাবে বেঁচে যায় তাঁর ১ বছর বয়সী অপর সন্তান। তবে তাকে অত্যন্ত গুরুতর জখম অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, শিশুটির শরীরে অস্ত্রোপচার করা হয়েছে এবং সে বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছে। মানডান শহর পুলিশ প্রধান জেসন জিগলার এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, ঘটনাস্থলে উপস্থিত উদ্ধারকারী দল ও পুলিশ কর্মকর্তারা যে দৃশ্য দেখেছেন, তা অত্যন্ত মর্মান্তিক এবং হৃদয়বিদারক। তিনি বলেন, এমন দৃশ্য কারো কখনোই দেখা উচিত নয়। জীবনের অন্যতম এক সংকটময় ও ভয়াবহ মুহূর্তে পুলিশ সদস্যরা যেভাবে পেশাদারিত্বের পরিচয় দিয়েছেন, তাতে তিনি গর্বিত। এই ঘটনা কেবল ভুক্তভোগী পরিবার নয়, পুরো স্থানীয় সমাজ এবং প্রথম সাড়া দেওয়া উদ্ধারকর্মীদের মানসিকভাবে গভীরভাবে স্তব্ধ করে দিয়েছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, কাইলি এরহার্টের বিরুদ্ধে আদালতে ৯টি ফৌজদারি ধারায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। এর মধ্যে দুটি ফার্স্ট ডিগ্রি হত্যা এবং একটি হত্যাচেষ্টার অভিযোগ রয়েছে। ঘটনার পরদিন শুক্রবার জেলা জজ মেরিনা স্পার অভিযুক্তের জামিন হিসেবে নগদ ৩০ লাখ মার্কিন ডলার ধার্য করেন। জেলা জজ তাঁর পর্যবেক্ষণে বলেন, অভিযুক্তের সহিংসতার মাত্রা এবং সমাজ ও ভুক্তভোগীদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করেই এই উচ্চ জামিন নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে বেঁচে যাওয়া শিশু ও স্বজনদের সঙ্গে কাইলির সব ধরনের যোগাযোগের ওপর আনুষ্ঠানিক নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে আদালত। ঘটনার পর আদালতে কাইলি এরহার্ট নিজের পক্ষে কোনো বক্তব্য দেননি। মামলাটির প্রাথমিক শুনানি এবং আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের জন্য আগামী ৬ অক্টোবর দিন ধার্য করা হয়েছে। পুরো ঘটনাটি নিয়ে অধিকতর তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে মানডান পুলিশ বিভাগ।
মায়ামি বিচে মুখোমুখি দুই চালকবিহীন গাড়ি, এক মিনিটের অচলাবস্থায় পেছনে দীর্ঘ যানজট
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন অভিযান জোরদার, জর্জিয়ায় ১,২০০-এর বেশি অবৈধ অভিবাসী গ্রেপ্তার
কলোরাডোর আকাশে রহস্যময় বস্তু, ট্রাম্পের আদেশের পরও প্রকাশ্যে আনছে না মার্কিন বিমানবাহিনী
যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশিরা যারা ইংরেজিতে ড্রাইভিং নলেজ টেস্ট দিতে কমফোর্ট ফিল করেন না বা ইংরেজিতে পরীক্ষা দিতে চান না, তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি সুবিধা রয়েছে। নিউ ইয়র্কের পাশাপাশি মিশিগান অঙ্গরাজ্যেও বাংলায় ড্রাইভিং নলেজ টেস্ট দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। মিশিগান ডিপার্টমেন্ট অব স্টেটের সরকারি তথ্য অনুযায়ী, অঙ্গরাজ্যের সব সেক্রেটারি অব স্টেট অফিসে ড্রাইভার নলেজ পরীক্ষার অনূদিত সংস্করণ দেওয়া হয়। এই পরীক্ষার ভাষার তালিকায় বাংলা স্পষ্টভাবে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। অর্থাৎ সাধারণ ড্রাইভার নলেজ টেস্ট দেওয়ার সময় বাংলা ভাষা বেছে নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। বাংলা ভাষাভাষীদের জন্য এই সুবিধাটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। ড্রাইভিং নলেজ টেস্টে ট্রাফিক আইন, সড়কের নিয়ম, ট্রাফিক সাইন, নিরাপদভাবে গাড়ি চালানো এবং বিভিন্ন পরিস্থিতিতে চালকের করণীয় নিয়ে প্রশ্ন থাকে। ইংরেজিতে প্রশ্ন পড়া বা বোঝার ক্ষেত্রে যাদের অসুবিধা রয়েছে, তারা বাংলায় পরীক্ষা দেওয়ার মাধ্যমে ভাষাগত বাধা কিছুটা কমাতে পারেন। মিশিগানে বাংলা ছাড়াও আরবি, চীনা, হিন্দি, ফরাসি, কোরিয়ান, স্প্যানিশ, উর্দু, পাঞ্জাবিসহ বিভিন্ন ভাষায় ড্রাইভার নলেজ পরীক্ষার ভাষা-সুবিধা রয়েছে। তবে সব ধরনের ড্রাইভিং পরীক্ষার ক্ষেত্রে একই ভাষার তালিকা প্রযোজ্য নয়। চাফার, মোপেড ও মোটরসাইকেলসহ কিছু বিশেষ পরীক্ষার ভাষার তালিকা আলাদা। নিউ ইয়র্কেও বাংলায় ড্রাইভিং নলেজ টেস্ট দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। নিউ ইয়র্ক স্টেট ডিএমভির সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ক্লাস ডি লার্নার পারমিট পরীক্ষা ২০টি ভাষায় দেওয়া হয়। এর মধ্যে বাংলা রয়েছে। ফলে নিউ ইয়র্কে সাধারণ ক্লাস ডি লার্নার পারমিটের নলেজ টেস্টও বাংলায় দেওয়া যায়। (এনআই ডিএমভি) নিউ ইয়র্ক ডিএমভির তথ্য অনুযায়ী, বাংলা ছাড়াও স্প্যানিশ, আরবি, চীনা, ফরাসি, কোরিয়ান, নেপালি, উর্দুসহ আরও বেশ কয়েকটি ভাষায় ক্লাস ডি পারমিট পরীক্ষা দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। (এনওআই ডিএমভি ) তবে নলেজ টেস্ট এবং রোড টেস্ট এক বিষয় নয়। বাংলায় পরীক্ষার সুবিধাটি ড্রাইভিং নলেজ পরীক্ষার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। গাড়ি চালানোর বাস্তব দক্ষতা যাচাইয়ের রোড টেস্টের জন্য সংশ্লিষ্ট অঙ্গরাজ্যের আলাদা নিয়ম ও প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হয়। বাংলাভাষী প্রবাসীদের জন্য তাই ড্রাইভিং লাইসেন্সের আবেদন করার আগে পরীক্ষার ভাষা সম্পর্কে এই তথ্য জানা গুরুত্বপূর্ণ। ইংরেজিতে নলেজ টেস্ট দিতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ না করলে নিউ ইয়র্কের পাশাপাশি মিশিগানেও বাংলায় ড্রাইভিং নলেজ টেস্ট দেওয়ার সরকারি সুযোগ রয়েছে।
নিউইয়র্কে অবৈধভাবে আদায় করা ট্রাফিক জরিমানার ৬০ মিলিয়ন ডলার ফেরত পাচ্ছেন চালকরা
ক্যালিফোর্নিয়ার মহাসড়কে ৮,৬০০ গ্যালন জ্বালানিবাহী ট্যাংকারে ভয়াবহ বিস্ফোরণ, অল্পের জন্য বাঁচলেন চালকরা
নিউইয়র্কের সাবওয়ে লাইনে পড়ে বাবার শেষ বিদায়টুকুও জানাতে পারলেন না মার্কিন সেনাসদস্য
যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলো সরকারের কাছ থেকে প্রায় ১০০ বিলিয়ন ডলারের ট্যারিফ বা শুল্ক রিফান্ড চেক পেতে শুরু করার পর, সাধারণ মার্কিন ক্রেতাদের মনে প্রশ্ন জেগেছে—এই বিশাল অর্থের কোনো অংশ সরাসরি তাদের পকেটে আসবে কি না। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট তৎকালীন ট্রাম্প প্রশাসনের আরোপিত শুল্ককে 'অবৈধ' ঘোষণা করার পর মার্কিন শুল্ক ও সীমান্ত সুরক্ষা বিভাগ (সিবিপি) ব্যবসায়ীদের অর্থ ফেরত দেওয়ার এই প্রক্রিয়া শুরু করে। এক আদালত নথিতে জানা গেছে, ট্যারিফ প্রদানকারী হাজার হাজার মার্কিন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের কাছে মোট ১৬৬ বিলিয়ন ডলার দেনা ছিল সরকারের, যার অর্ধেকেরও বেশি অর্থ ইতোমধ্যে ফেরত দেওয়া হয়েছে। এই অর্থ ফেরতের আওতায় বড় বড় করপোরেট জায়ান্টদের মধ্যে অ্যাপল প্রায় ২.২ বিলিয়ন ডলার, আমাজন ৬০০ মিলিয়ন ডলার এবং নাইকি ৩০০ মিলিয়ন ডলার রিফান্ড পাচ্ছে। এর আগে ২০২৫ সালে ডোনাল্ড ট্রাম্প শুল্ক থেকে অর্জিত রাজস্ব ব্যবহার করে মার্কিন নাগরিকদের ২০০০ ডলারের উদ্দীপনা বা ‘স্টিমুলাস চেক’ দেওয়ার প্রস্তাব করেছিলেন। তবে প্রশাসন কর্মকর্তারা আগেই সতর্ক করেছিলেন যে এই ধরনের চেক বাস্তবায়নে কংগ্রেসের অনুমোদনের প্রয়োজন হবে, যা পাওয়া অত্যন্ত দূরহ। অন্যদিকে, গবেষণা সংস্থা ‘ট্যাক্স ফাউন্ডেশন’-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে শুল্কের কারণে প্রতিটি মার্কিন পরিবারকে গড়ে অতিরিক্ত ১,০০০ ডলার বেশি খরচ করতে হয়েছে এবং ২০২৬ সালে এটি পরিবারপ্রতি করের বোঝা প্রায় ৯০০ ডলার বাড়াবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এত চাপ সত্ত্বেও সাধারণ ক্রেতারা সরকারের কাছ থেকে এই রিফান্ডের টাকা সরাসরি পাবেন না, কারণ নিয়মানুযায়ী কেবল যেসব আমদানিকারক বা অনুমোদিত কাস্টমস ব্রোকার সরাসরি শুল্ক পরিশোধ করেছেন, তারাই এই রিফান্ড পাওয়ার যোগ্য। তবে সাধারণ গ্রাহকদের জন্য কিছু বিশেষ ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম রয়েছে। ইউপিএস (UPS) বা ফেডেক্স (FedEx)-এর মতো আন্তর্জাতিক পার্সেল পরিবহনকারী মাধ্যমে বিদেশ থেকে পণ্য আনিয়ে যারা সরাসরি শুল্ক প্রদান করেছিলেন, তারা ট্র্যাকিং নম্বরের মাধ্যমে খতিয়ে দেখতে পারেন। এসব পরিবহনকারী প্রতিষ্ঠান সরকার থেকে রিফান্ড পেলে তা গ্রাহকদের ফেরত দেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া ই-কমার্স জায়ান্ট আমাজন জানিয়েছে, যেসব ক্ষেত্রে তারা গ্রাহকদের কাছ থেকে নির্দিষ্ট আমদানি শুল্ক সরাসরি আদায় করেছিল, কেবল সেই সীমিত ক্ষেত্রেই তারা রিফান্ড ইস্যু করবে। অন্যদিকে ওয়ালমার্টের মতো খুচরা বিক্রেতা প্রতিষ্ঠানগুলো জানিয়েছে, ফেরত পাওয়া শুল্কের টাকা তারা সরাসরি গ্রাহকদের অ্যাকাউন্টে না পাঠিয়ে স্টোরের বিভিন্ন পণ্যের দাম কমানোর কাজে ব্যবহার করার পরিকল্পনা করছে।
বিমানে ওঠার আগে সাবধান! বাড়তি তল্লাশি এড়াতে ক্যারি-অন ব্যাগে কী রাখছেন, সেদিকে নজর দিন
বাড়িতে ফ্রি থাকতে চাইলে মেয়েকে মানতে হবে মায়ের ১০ শর্ত, না হলে দিতে হবে ৫০০ ডলার ভাড়া