ইনস্টাগ্রাম লাইভে হরমোনের ইনজেকশন নিলেন মার্কিন নারী, জানালেন ডিম্বাণু সংরক্ষণের সিদ্ধান্ত
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদের সদস্য আলেকজান্দ্রিয়া ওকাসিও-কর্টেজ ডিম্বাণু সংরক্ষণের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন। শনিবার রাতে ইনস্টাগ্রাম লাইভে নিজের প্রজননস্বাস্থ্য নিয়ে কথা বলার সময় তিনি হরমোনের ইনজেকশন নেওয়ার দৃশ্যও অনুসারীদের সঙ্গে শেয়ার করেন।
ওকাসিও-কর্টেজ জানান, দীর্ঘ সময় বিষয়টি নিয়ে ভাবার পর তিনি ডিম্বাণু সংরক্ষণের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। নিজের ব্যক্তিগত জীবন সাধারণত গোপন রাখলেও নারীদের শরীর ও প্রজননস্বাস্থ্য নিয়ে পর্যাপ্ত শিক্ষা ও তথ্যের অভাব রয়েছে বলে মনে করেন তিনি। সেই কারণেই নিজের অভিজ্ঞতা প্রকাশ্যে জানানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
ইনস্টাগ্রাম লাইভে তিনি জানান, চিকিৎসা প্রক্রিয়ার প্রস্তুতির অংশ হিসেবে তাকে হরমোনের ইনজেকশন নিতে হচ্ছে। প্রথমবার ইনজেকশন নেওয়ার অভিজ্ঞতা তেমন খারাপ ছিল না বলেও জানান তিনি। এবিসির একটি অনুষ্ঠানে উপস্থিত হওয়ার আগে আরও কয়েকটি ইনজেকশন নেওয়ার কথা ছিল তাঁর।
নারীদের শরীর সম্পর্কে ছোটবেলা থেকেই পর্যাপ্ত শিক্ষা দেওয়া হয় না বলেও মন্তব্য করেন ওকাসিও-কর্টেজ। বয়ঃসন্ধি, গর্ভাবস্থা, গর্ভধারণের আগের সময় এবং মেনোপজসহ নারীদের জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে শরীরের পরিবর্তন সম্পর্কে আরও প্রস্তুতি ও তথ্যের প্রয়োজন রয়েছে বলে তিনি মনে করেন।
নিজের সিদ্ধান্ত প্রকাশ্যে জানানোর কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি বলেন, রাজনৈতিক পরিবেশেও নারীদের প্রজননসংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নিয়ে নানা ধরনের চাপ রয়েছে। তাঁর মতে, নারীদের নিজেদের জীবন ও ভবিষ্যৎ নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে আরও নিয়ন্ত্রণ থাকা প্রয়োজন।
ওকাসিও-কর্টেজ জানান, ২৯ বছর বয়সে তিনি প্রতিনিধি পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রতিনিধি পরিষদে নির্বাচিত সবচেয়ে কম বয়সী নারী ছিলেন। রাজনীতিতে প্রবেশের পর ব্যক্তিগত জীবনের অনেক বিষয়ও জনসম্মুখে চলে আসে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
নারীদের পরিবার পরিকল্পনা ও বয়স নিয়ে যে ধরনের প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয়, পুরুষদের ক্ষেত্রে তা একইভাবে দেখা যায় না বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, পুরুষ রাজনীতিক বা চাকরিপ্রার্থীদের ব্যক্তিগত জীবন ও পরিবার গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়ে একই ধরনের প্রশ্নের মুখে পড়তে হয় না।
ডিম্বাণু সংরক্ষণের সিদ্ধান্ত প্রকাশ্যে জানানোর ক্ষেত্রে সম্ভাব্য রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়ার বিষয়টিও তিনি বিবেচনা করেছেন। তবে এ কারণে নিজের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করবেন না বলেও স্পষ্ট করেন তিনি।
প্রজননস্বাস্থ্য নিয়ে প্রকাশ্যে কথা বলার কারণে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর বক্তব্যের পক্ষে ও বিপক্ষে বিভিন্ন প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। কেউ নারীদের ডিম্বাণু সংরক্ষণ এবং সন্তান নেওয়ার প্রস্তুতি নিয়ে আরও খোলামেলা আলোচনার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন, আবার কেউ তাঁর প্রকাশ্যে ইনজেকশন নেওয়ার বিষয়টি নিয়ে সমালোচনা করেন।
রোববার এবিসির ‘দিস উইক’ অনুষ্ঠানে উপস্থাপক জোনাথন কার্লের সঙ্গে আলোচনাতেও নিজের সিদ্ধান্তের কথা বলেন ওকাসিও-কর্টেজ। তিনি জানান, বর্তমান রাজনৈতিক পরিবেশে নারীদের প্রজননস্বাস্থ্য ও চিকিৎসাসংক্রান্ত বিষয় নিয়ে এসব প্রক্রিয়া প্রকাশ্যে আলোচনা করা গুরুত্বপূর্ণ।
নারীদের প্রজননস্বাস্থ্য নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে কথা বলে আসা ওকাসিও-কর্টেজ মনে করেন, এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা হলে নারীরা নিজেদের শরীর ও ভবিষ্যৎ নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে আরও সচেতন হতে পারবেন।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রে সামাজিক নিরাপত্তা ভাতা পাওয়া সব উপকারভোগীর ব্যাংক হিসাবে অর্থ একই দিনে জমা হয় না। সামাজিক নিরাপত্তা প্রশাসন বা এসএসএ নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী উপকারভোগীদের জন্মতারিখ, ভাতার ধরন এবং কিছু বিশেষ অবস্থার ভিত্তিতে মাসিক অর্থ প্রদানের দিন নির্ধারণ করে। ফলে একই মাসে একজন উপকারভোগী অর্থ পেলেও অন্যজনকে আরও কয়েক দিন অপেক্ষা করতে হতে পারে। এসএসএর ২০২৬ সালের সরকারি অর্থপ্রদান সূচি অনুযায়ী, ১৯৯৭ সালের মে মাসের পর সামাজিক নিরাপত্তা ভাতার জন্য আবেদন করা অধিকাংশ উপকারভোগীর অর্থ জন্মতারিখের ভিত্তিতে মাসের দ্বিতীয়, তৃতীয় অথবা চতুর্থ বুধবারে দেওয়া হয়। যাদের জন্ম মাসের ১ থেকে ১০ তারিখের মধ্যে, তারা সাধারণত দ্বিতীয় বুধবারে অর্থ পান। ১১ থেকে ২০ তারিখের মধ্যে জন্ম নেওয়া উপকারভোগীরা সাধারণত তৃতীয় বুধবারে এবং ২১ থেকে মাসের শেষ দিন পর্যন্ত জন্ম নেওয়া ব্যক্তিরা চতুর্থ বুধবারে অর্থ পান। তবে এই নিয়ম সবার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। যারা ১৯৯৭ সালের এপ্রিলের ৩০ তারিখের মধ্যে সামাজিক নিরাপত্তা সুবিধা গ্রহণ করছিলেন, তাদের অনেকের অর্থ মাসের তৃতীয় দিনে দেওয়া হয়। একইভাবে যারা সামাজিক নিরাপত্তা ভাতার পাশাপাশি অতিরিক্ত নিরাপত্তা আয় বা এসএসআই পান, তাদের সামাজিক নিরাপত্তার অর্থ সাধারণত মাসের তৃতীয় দিনে এবং এসএসআই অর্থ মাসের প্রথম দিনে দেওয়া হয়। বিদেশে বসবাসকারী কিছু উপকারভোগীর ক্ষেত্রেও আলাদা নিয়ম রয়েছে। এসএসএর প্রশাসনিক নির্দেশনা অনুযায়ী, দেশের বাইরে বসবাসকারী উপকারভোগীদের অর্থপ্রদান সাধারণত প্রথম চক্রের আওতায় পড়ে। ফলে তাদের অর্থ মাসের তৃতীয় দিনে দেওয়ার ব্যবস্থা থাকতে পারে। একই রেকর্ডে থাকা একাধিক উপকারভোগীর ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট চক্র অনুযায়ী অর্থ পাঠানো হতে পারে। অর্থপ্রদানের নির্ধারিত দিন শনিবার, রোববার বা ফেডারেল সরকারি ছুটির দিনে পড়লে সাধারণত নির্ধারিত দিনের আগের কর্মদিবসে অর্থ দেওয়া হয়। অর্থাৎ ছুটির কারণে অর্থ দেরিতে না এসে বরং আগে পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এসএসএর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালে সামাজিক নিরাপত্তা এবং অতিরিক্ত নিরাপত্তা আয়ের সুবিধাভোগীদের জন্য জীবনযাত্রার ব্যয় সমন্বয় বা কোলা ২ দশমিক ৮ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। সামাজিক নিরাপত্তা প্রশাসন জানিয়েছে, প্রায় ৭ কোটি ১০ লাখ উপকারভোগী ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে এই বর্ধিত সুবিধা পাওয়ার কথা। সামাজিক নিরাপত্তা প্রশাসনের ২০২৬ সালের নির্দেশিকায় আরও বলা হয়েছে, নিয়মিত সামাজিক নিরাপত্তা ভাতা সাধারণত যে মাসের জন্য প্রাপ্য, তার পরের মাসে দেওয়া হয়। উদাহরণ হিসেবে, জুলাই মাসের ভাতা আগস্টে পাওয়া যায়। কোন দিনে অর্থ পাওয়া যাবে, তা নির্ধারণে মূলত যে ব্যক্তির কর্ম-রেকর্ডের ভিত্তিতে সুবিধা দেওয়া হচ্ছে, তার জন্মতারিখ বিবেচনা করা হয়। বর্তমানে অধিকাংশ সামাজিক নিরাপত্তা অর্থ সরাসরি ব্যাংক হিসাবে বৈদ্যুতিক পদ্ধতিতে পাঠানো হচ্ছে। এসএসএ জানিয়েছে, ফেডারেল সরকারের বৈদ্যুতিক অর্থপ্রদানে পুরোপুরি রূপান্তরের উদ্যোগের অংশ হিসেবে কাগজের চেকের ব্যবহার পর্যায়ক্রমে বন্ধ করা হচ্ছে। ২০২৬ সালের মধ্যে সব সুবিধাভোগীকে বৈদ্যুতিক অর্থপ্রদানের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। ফলে কোনো উপকারভোগী নির্ধারিত দিনে অর্থ না পেলে প্রথমেই ধরে নেওয়া উচিত নয় যে তার ভাতা বন্ধ হয়ে গেছে। বরং নিজের নির্ধারিত অর্থপ্রদানের দিন, ব্যাংক হিসাব এবং এসএসএর ব্যক্তিগত অনলাইন হিসাব পরীক্ষা করা প্রয়োজন। এসএসএর সরকারি ওয়েবসাইটে প্রত্যেক ব্যক্তি তার আসন্ন ও অতীত অর্থপ্রদানের সময়সূচি দেখতে পারেন। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো সামাজিক নিরাপত্তার অর্থ সবার জন্য একটি নির্দিষ্ট দিনে পাঠানো হয় না। জন্মতারিখ ও ভাতার ধরন অনুযায়ী বিভিন্ন দিনে অর্থ প্রদানের ব্যবস্থা থাকায় একই পরিবারের সদস্য, বন্ধু বা প্রতিবেশী ভিন্ন দিনে অর্থ পেতে পারেন। তাই অন্য কেউ অর্থ পাওয়ার পর নিজের অর্থ না পাওয়াকে স্বাভাবিকভাবেই বিলম্ব বা ভাতা বন্ধ হওয়ার প্রমাণ হিসেবে দেখা ঠিক নয়।
ট্রাম্পের সাবেক আইনজীবী টড ব্লঁশ যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে শপথ নিলেন আজ
৫ কোটি ৪০ লাখ ডলার অনুদান নিয়ে প্রশ্নের মুখে নিউইয়র্কের অ্যাটর্নি জেনারেল
ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপ, বাতিল ১ লাখ ৭৫ হাজারের বেশি ভিসা
যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় লটারি জ্যাকপট জিতেছিলেন এডউইন কাস্ত্রো। পাওয়ারবল লটারির সেই জ্যাকপটের মূল্য ছিল ২০৪ কোটি ডলার। ক্যালিফোর্নিয়ার আলতাডেনার একটি ছোট সার্ভিস স্টেশন থেকে কেনা টিকিটে একমাত্র বিজয়ী হন তিনি। তবে ২০৪ কোটি ডলারের পুরো অর্থ একসঙ্গে হাতে পাননি কাস্ত্রো। জ্যাকপটের ঘোষিত ২০৪ কোটি ডলারের অঙ্কটি ছিল প্রায় ৩০ বছর ধরে কিস্তিতে অর্থ নেওয়ার হিসাব। কাস্ত্রোর সামনে এককালীন অর্থ নেওয়ার সুযোগও ছিল। তিনি কিস্তিতে অর্থ নেওয়ার বদলে এককালীন অর্থ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। এককালীন অর্থ হিসেবে কাস্ত্রোর পাওনা দাঁড়ায় প্রায় ৯৯ কোটি ৭৬ লাখ ডলার। অর্থাৎ ২০৪ কোটি ডলারের ঘোষিত জ্যাকপটের তুলনায় একবারে পাওয়া অর্থ ছিল অনেক কম। এরপর তাঁর পাওয়া অর্থের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ট্যাক্স প্রযোজ্য হয়। ক্যালিফোর্নিয়ায় লটারি জয়ের অর্থের ওপর রাজ্য আয়কর নেওয়া হয় না। তবে ফেডারেল ট্যাক্সের কারণে কাস্ত্রোর এককালীন পাওয়া অর্থ থেকে বড় একটি অংশ কেটে যায়। ট্যাক্সের পর বিভিন্ন হিসাবে কাস্ত্রোর হাতে থাকা অর্থ দাঁড়ায় প্রায় ৬২ কোটি ৮০ লাখ ডলার। অর্থাৎ ২০৪ কোটি ডলারের ঘোষিত জ্যাকপট শেষ পর্যন্ত এককালীন অর্থ এবং ফেডারেল ট্যাক্সের পর কমে প্রায় ৬২ কোটি ৮০ লাখ ডলারে নেমে আসে। সহজ হিসাবে পুরো বিষয়টি হলো, ঘোষিত জ্যাকপট ২০৪ কোটি ডলার, এককালীন অর্থ ৯৯ কোটি ৭৬ লাখ ডলার, আর ট্যাক্সের পর হাতে থাকে প্রায় ৬২ কোটি ৮০ লাখ ডলার। কাস্ত্রোর জেতা পাওয়ারবল জ্যাকপটটি যুক্তরাষ্ট্রের লটারির ইতিহাসে রেকর্ড তৈরি করেছিল। বিজয়ী টিকিটটি ক্যালিফোর্নিয়ার আলতাডেনার একটি সার্ভিস স্টেশনে বিক্রি হয়েছিল এবং সেই টিকিটের একমাত্র বিজয়ী ছিলেন কাস্ত্রো। লটারির ঘোষিত জ্যাকপট এবং বিজয়ীর হাতে থাকা প্রকৃত অর্থের মধ্যে পার্থক্যের মূল কারণ হলো পুরস্কার নেওয়ার পদ্ধতি ও ট্যাক্স। কিস্তিতে নিলে ঘোষিত পুরো অর্থ নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পাওয়া যায়, আর এককালীন অর্থ নিলে শুরুতেই তুলনামূলক কম অঙ্ক পাওয়া যায়। এরপর প্রযোজ্য ফেডারেল ট্যাক্স বাদ দিলে হাতে থাকা অর্থ আরও কমে যায়। এই কারণে ২০৪ কোটি ডলারের বিশাল জ্যাকপট জিতলেও কাস্ত্রোর হাতে থাকা অর্থ শেষ পর্যন্ত ঘোষিত পুরস্কারের চেয়ে অনেক কম হয়েছে।
স্ত্রী বিচ্ছেদের আবেদন করতেই খননযন্ত্র দিয়ে নিজের বাড়ি ভাঙলেন স্বামী
চার বছর ধরে নিখোঁজ আফগান-আমেরিকান শাহ হাবিবি, সন্ধান দিলে ৫০ লাখ ডলার পুরস্কার
ইনস্টাগ্রাম লাইভে হরমোনের ইনজেকশন নিলেন মার্কিন নারী, জানালেন ডিম্বাণু সংরক্ষণের সিদ্ধান্ত
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় বসবাসকারী ২৮ বছর বয়সী হান্নাহ সিদ্দিকি ভুল করে অ্যালকোহলযুক্ত একটি পানীয় পান করার পর নিজের দীর্ঘদিনের শারীরিক সমস্যাগুলোর সম্ভাব্য কারণ খুঁজে পান। শৈশব থেকেই নানা ধরনের শারীরিক সমস্যায় ভুগলেও সেগুলোকে আলাদা আলাদা সমস্যা হিসেবে দেখেছিলেন তিনি। পরে ভুল পানীয় পান করার পর দেখা দেওয়া উপসর্গের সঙ্গে পুরোনো সমস্যাগুলোর সম্ভাব্য যোগসূত্র সামনে আসে। ঘটনাটি ঘটে সান ফ্রান্সিসকোর একটি রেস্তোরাঁয়। ওই সময় সিদ্দিকি ১৯৭ দিন ধরে মদ্যপান থেকে বিরত ছিলেন। তিনি এক বন্ধুর সঙ্গে রেস্তোরাঁয় গিয়ে একটি মকটেল পান করেন। পরে আরও একটি মকটেল অর্ডার করেন। বারটেন্ডার একটি বোতলে রাখা আগে থেকে তৈরি মিশ্রণ দিয়ে পানীয়টি তৈরি করে দেন। স্বাদে সেটি ফলের রসের মতো মনে হওয়ায় তিনি বুঝতে পারেননি যে পানীয়টিতে অ্যালকোহল রয়েছে। গ্লাসের শেষের দিকে পৌঁছানোর পর সিদ্দিকির মাথা হালকা লাগতে শুরু করে এবং তিনি কিছুটা মাতাল অনুভব করেন। তখন তিনি বুঝতে পারেন, পানীয়টি আসলে তার চাওয়া মকটেল ছিল না। পরদিন সকালে তার মাইগ্রেন, পেটের সমস্যা, ঠান্ডা লাগা ও ক্লান্তি দেখা দেয়। প্রথমে তিনি এসব উপসর্গকে অ্যালকোহল পান করার স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া বলে মনে করেছিলেন। কিন্তু তার শারীরিক অবস্থা দ্রুত ভালো হয়নি। সিদ্দিকি জানান, প্রায় তিন দিন তিনি এতটাই অসুস্থ ছিলেন যে সোফা থেকে উঠতেও পারছিলেন না। তার ত্বক গরম ও চুলকানিযুক্ত হয়ে ওঠে। খাবার খেলে বমিভাব তৈরি হতো। পরে সামান্য জ্বরও দেখা দেয়। একই সঙ্গে তিনি এমন এক ধরনের উদ্বেগ অনুভব করেন, যা তার মতে শুধু ওই ঘটনায় অ্যালকোহল পান করার কারণে তৈরি হয়নি। ঘটনার দুই দিন পর নিজের শারীরিক সমস্যার বিষয়ে তিনি ক্লড নামের একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক চ্যাটবটের সঙ্গে কথা বলেন। সেখানে তার আগের বিভিন্ন শারীরিক সমস্যার তথ্যও ছিল। চ্যাটবটটি নতুন উপসর্গের সঙ্গে শৈশব থেকে থাকা কিছু সমস্যার সম্ভাব্য যোগসূত্র তুলে ধরে। সিদ্দিকি জানান, ছোটবেলা থেকেই তার অতিরিক্ত ক্লান্ত হলে নাক বন্ধ হয়ে যেত। চুল অপসারণের পর মুখে চাকা ওঠার মতো প্রতিক্রিয়াও হতো। এ ছাড়া বিভিন্ন খাবার খেলে তার শারীরিক প্রতিক্রিয়া দেখা দিলেও অ্যালার্জির পরীক্ষায় তা ধরা পড়েনি। এসব বিষয় তিনি এতদিন আলাদা আলাদা শারীরিক সমস্যা হিসেবেই দেখেছিলেন। চ্যাটবটটি এসব উপসর্গের মধ্যে সম্ভাব্য সম্পর্ক খুঁজে মাস্ট সেল অ্যাক্টিভেশন সিনড্রোম বা এমসিএএসের কথা তুলে ধরে। এই অবস্থায় শরীরের মাস্ট সেল অতিরিক্ত সক্রিয় হয়ে বিভিন্ন ধরনের প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে। চুলকানি, চাকা ওঠা, শরীর ফুলে যাওয়া, শ্বাসকষ্ট ও পরিপাকতন্ত্রের সমস্যাসহ বিভিন্ন উপসর্গ এর সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। সিদ্দিকি পরে বিষয়টি তার চিকিৎসকের কাছে তুলে ধরেন। চিকিৎসকও এটিকে সম্ভাব্য ব্যাখ্যা হিসেবে বিবেচনা করেন এবং অ্যান্টিহিস্টামিন ব্যবহারের পরামর্শ দেন। সিদ্দিকি জানান, ওষুধ শুরু করার তৃতীয় দিন থেকেই তিনি ভালো অনুভব করতে শুরু করেন। তবে নিউজউইকের সঙ্গে কথা বলা রোগ প্রতিরোধ বিশেষজ্ঞ মেহাক জহুর খান সতর্ক করে বলেছেন, অ্যান্টিহিস্টামিন ব্যবহারের পর উপসর্গ কমে যাওয়া একাই এমসিএএসের নিশ্চিত প্রমাণ নয়। সাধারণ পরিবেশগত বা খাবারের অ্যালার্জির ক্ষেত্রেও অ্যান্টিহিস্টামিন উপকার করতে পারে। তাই শুধু ওষুধে উপকার পাওয়ার ভিত্তিতে এই রোগ নিশ্চিত করা যায় না। বিশেষজ্ঞের মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক সরঞ্জাম চিকিৎসাবিষয়ক শব্দ ও সম্ভাব্য সম্পর্ক বুঝতে মানুষকে সহায়তা করতে পারে। তবে এসব সরঞ্জাম দিয়ে এমসিএএস বা অন্য কোনো রোগ নিশ্চিতভাবে নির্ণয় করা নিরাপদ নয়। সঠিক রোগ নির্ণয়ের জন্য চিকিৎসকের যথাযথ মূল্যায়ন প্রয়োজন। সিদ্দিকি এখন নিজের চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী খাদ্যাভ্যাস, পরিপূরক গ্রহণ ও পরিবেশগত পরিবর্তনের মাধ্যমে শরীরে হিস্টামিনের প্রভাব কমানোর চেষ্টা করছেন। একই সঙ্গে নিজের স্বাস্থ্যসংক্রান্ত অভিজ্ঞতাকে তিনি অনলাইন কনটেন্ট ও আধ্যাত্মিক কাজের সঙ্গেও যুক্ত করেছেন। সিদ্দিকির এই অভিজ্ঞতা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। তার প্রকাশ করা ভিডিওটি ৩১ লাখের বেশি বার দেখা হয়েছে। দীর্ঘদিনের বিভিন্ন শারীরিক সমস্যাকে আলাদা ঘটনা হিসেবে দেখার পর ভুল করে অ্যালকোহলযুক্ত পানীয় পান করার ঘটনায় নতুন উপসর্গ দেখা দেয়। সেই ঘটনাই তাকে পুরোনো সমস্যাগুলোর মধ্যে সম্ভাব্য যোগসূত্র খুঁজে দেখার দিকে নিয়ে যায়।
৮৮ বছরেও কাজ করছিলেন মার্কিন সেনা, ১৭ লাখ ডলার সহায়তায় মিলল অবসর
গাড়ি থামাতে গিয়ে নিজের গাড়ির চাপায় প্রাণ গেল পাঁচ সন্তানের মায়ের