- প্রচ্ছদ
- Topic
স্বাস্থ্য
বাংলাদেশি বিজ্ঞানী ফিরদৌসী কাদরীর কলেরা প্রতিরোধে অবদান নিয়ে একটি ভিডিও প্রকাশ করেছেন মাইক্রোসফটের সহপ্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস। সম্প্রতি প্রকাশিত ভিডিওটিতে সাশ্রয়ী মুখে খাওয়ার টিকার মাধ্যমে শিশুদের সুরক্ষা এবং মানুষের জীবন বাঁচাতে এই গবেষকের কাজ তুলে ধরা হয়েছে। ভিডিওটির সঙ্গে দেওয়া বার্তায় বিল গেটস বলেন, বাংলাদেশের মতো ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় নিরাপদ স্যানিটেশনের সীমাবদ্ধতার কারণে প্রতিরোধযোগ্য রোগ কলেরাও প্রাণঘাতী হয়ে উঠতে পারে। ফিরদৌসী কাদরীর গবেষণা দেখিয়েছে, সাশ্রয়ী মুখে খাওয়ার টিকা আরও বেশি মানুষকে সুরক্ষা দিতে এবং জীবন বাঁচাতে পারে। ফিরদৌসী কাদরী আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশের আইসিডিডিআরবির জ্যেষ্ঠ বিজ্ঞানী। প্রতিষ্ঠানটি নিজেদের আনুষ্ঠানিক বার্তায় জানিয়েছে, বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশে সাশ্রয়ী কলেরার টিকার ব্যবহার ও প্রাপ্যতা বাড়াতে তাঁর অবদান তুলে ধরেছেন বিল গেটস। নিজেদের গবেষণার কাজ বিশ্ববাসীর সামনে উপস্থাপনের জন্য তাঁকে ধন্যবাদও জানিয়েছে আইসিডিডিআরবি। কাদরীর গবেষণার গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র মুখে খাওয়ার কলেরার টিকা। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বুলেটিনে প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে তিনি টিকার চাহিদা পূরণে নতুন টিকা এবং উৎপাদন বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন। সেখানে ঢাকায় তাঁর প্রতিষ্ঠানের পরিচালিত টিকার তুলনামূলক পরীক্ষার বিষয়ও উঠে আসে। এসব গবেষণা টিকা ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় বৈজ্ঞানিক প্রমাণ তৈরিতে ভূমিকা রাখে। তবে ফিরদৌসী কাদরীর কাজ নিয়ে বিল গেটসের আগ্রহ এবারই প্রথম নয়। ২০২০ সালের ৬ অক্টোবর নিজের যাচাইকৃত ইউটিউব চ্যানেলে তাঁকে নিয়ে ‘হিরো ইন দ্য ফিল্ড’ সিরিজের একটি ভিডিও প্রকাশ করেছিলেন তিনি। সেই ভিডিওতেও কলেরার প্রাদুর্ভাব থেকে জনগোষ্ঠীকে রক্ষায় সাশ্রয়ী টিকার পক্ষে কাদরীর দীর্ঘদিনের গবেষণা ও উদ্যোগের প্রশংসা করা হয়। সূত্র: প্রথম আলো
যুক্তরাষ্ট্রে শরৎ নামার সঙ্গে সঙ্গে অনেকেরই শুরু হয় হাঁচি, নাক দিয়ে পানি পড়া, নাক বন্ধ হয়ে যাওয়া কিংবা কাশির মতো সমস্যা। কিন্তু এসব উপসর্গ দেখেই বোঝা যায় না, এটি মৌসুমি অ্যালার্জি নাকি সাধারণ ঠান্ডা। কারণ দুই ধরনের সমস্যার অনেক লক্ষণ একই রকম। আবার ফ্লুর সঙ্গেও কিছু উপসর্গের মিল থাকায় অনেকেই শুরুতে বিভ্রান্ত হয়ে পড়েন। শরতের আবহাওয়ায় তাপমাত্রার পরিবর্তনও এ ধরনের সমস্যা বাড়িয়ে দিতে পারে। উষ্ণ আবহাওয়া থেকে হঠাৎ ঠান্ডা পরিবেশে যাওয়ার পাশাপাশি বাতাসে থাকা পরাগরেণু ও ছত্রাকের সংস্পর্শে এলে অ্যালার্জির উপসর্গ দেখা দিতে পারে বা বেড়ে যেতে পারে। মৌসুমি অ্যালার্জি মূলত কোনো ভাইরাসজনিত অসুস্থতা নয়। শরীরের রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থা পরাগরেণু, ছত্রাক বা পোষা প্রাণীর লোমের মতো তুলনামূলকভাবে ক্ষতিকর নয় এমন কোনো উপাদানকে হুমকি হিসেবে শনাক্ত করলে অতিরিক্ত প্রতিক্রিয়া দেখাতে পারে। তখন হাঁচি, নাক দিয়ে পানি পড়া কিংবা চোখ চুলকানোর মতো সমস্যা শুরু হয়। মৌসুমি অ্যালার্জির সাধারণ লক্ষণের মধ্যে রয়েছে বারবার হাঁচি, নাক দিয়ে পানি পড়া বা নাক বন্ধ থাকা, চোখ চুলকানো ও পানি পড়া, নাক বা গলায় চুলকানি, গলার পেছনে শ্লেষ্মা নামা এবং হালকা কাশি। বিশেষ করে চোখ ও নাকে চুলকানি থাকলে অ্যালার্জির সম্ভাবনা বেশি হতে পারে। অন্যদিকে সাধারণ ঠান্ডা ভাইরাসের কারণে হয়। আক্রান্ত ব্যক্তি কথা বলার সময়, কাশি বা হাঁচি দেওয়ার সময় এবং শ্বাস নেওয়ার মাধ্যমে ভাইরাস ছড়াতে পারেন। কাছাকাছি অবস্থানে থাকা ব্যক্তির নাক, মুখ বা চোখে ভাইরাস পৌঁছালে সংক্রমণ হতে পারে। সাধারণ ঠান্ডার উপসর্গের মধ্যে রয়েছে নাক দিয়ে পানি পড়া, নাক বন্ধ হয়ে যাওয়া, হাঁচি, গলা ব্যথা ও কাশি। এর সঙ্গে হালকা ক্লান্তি এবং শরীরব্যথাও থাকতে পারে। ঠান্ডার উপসর্গ সাধারণত কয়েক দিন স্থায়ী হয় এবং সময়ের সঙ্গে ধীরে ধীরে কমে আসে। অ্যালার্জি ও ঠান্ডার মধ্যে আরেকটি পার্থক্য হলো উপসর্গের ধরন। অ্যালার্জিতে চোখ চুলকানো বা পানি পড়ার মতো সমস্যা বেশি দেখা যায়। অন্যদিকে গলা ব্যথা, ক্লান্তি ও শরীরব্যথা থাকলে ভাইরাসজনিত ঠান্ডার সম্ভাবনা বেশি হতে পারে। ফ্লুর ক্ষেত্রে উপসর্গ সাধারণ ঠান্ডার তুলনায় অনেক বেশি তীব্র হতে পারে। হঠাৎ করে প্রচণ্ড দুর্বল লাগা, শরীরব্যথা, জ্বর এবং শ্বাসতন্ত্রের বিভিন্ন উপসর্গ দেখা দিলে শুধু অ্যালার্জি বা সাধারণ ঠান্ডা ধরে নেওয়া ঠিক নয়। মৌসুমি অ্যালার্জির ক্ষেত্রে উপসর্গ কমানোর একটি কার্যকর উপায় হলো অ্যালার্জেনের সংস্পর্শ কমানো। বাইরে থাকলে পরাগরেণু ও অন্যান্য অ্যালার্জেনের সংস্পর্শে আসার সুযোগ বাড়ে। উপসর্গ বেশি হলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী অ্যান্টিহিস্টামিন বা নাকের স্প্রে ব্যবহার করা যেতে পারে। সাধারণ ঠান্ডার ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত বিশ্রাম নেওয়া এবং প্রচুর তরল পান করা গুরুত্বপূর্ণ। কাশির ক্ষেত্রে কিছু ওষুধ বা মধু ব্যবহার করা হয়। জ্বর বা শরীরব্যথায় অ্যাসিটামিনোফেন কিংবা আইবুপ্রোফেনের মতো ওষুধও ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে কিছু নাক খোলার স্প্রে টানা দীর্ঘদিন ব্যবহার করা উচিত নয়। অক্সিমেটাজোলিনজাতীয় স্প্রে সাধারণত তিন দিনের বেশি ব্যবহার করলে উল্টো নাক বন্ধ হয়ে যাওয়ার সমস্যা তৈরি হতে পারে। জ্বরের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। সাধারণ ঠান্ডার ক্ষেত্রে জ্বর খুব সাধারণ লক্ষণ নয়। তাই জ্বরের সঙ্গে তীব্র শরীরব্যথা বা দুর্বলতা থাকলে ফ্লুর মতো অন্য সংক্রমণের সম্ভাবনাও বিবেচনা করতে হবে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে সাধারণ ঠান্ডা বা ফ্লু-সদৃশ উপসর্গ সময়ের সঙ্গে নিজে থেকেই কমে যায়। তবে উপসর্গ ১০ দিনের বেশি স্থায়ী হলে, ক্রমেই খারাপ হলে কিংবা সাধারণ চিকিৎসায় উপকার না মিললে স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারীর পরামর্শ নেওয়া উচিত। তাই শরতে হাঁচি, নাক দিয়ে পানি পড়া বা কাশি হলেই সেটিকে ঠান্ডা ধরে নেওয়া ঠিক নয়। চোখ-নাক চুলকানো ও বারবার হাঁচির মতো উপসর্গ অ্যালার্জির দিকে ইঙ্গিত করতে পারে, আর গলা ব্যথা, ক্লান্তি, শরীরব্যথা বা জ্বর থাকলে সংক্রমণের সম্ভাবনা বেশি হতে পারে। তবে শুধু উপসর্গ দেখে নিশ্চিত রোগ নির্ণয় করা যায় না। প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ।
আগামী ১ ডিসেম্বর থেকে সারা দেশে বছরব্যাপী পরিবার পরিকল্পনা কর্মসূচি শুরু করতে যাচ্ছে সরকার। কর্মসূচির আওতায় মাঠপর্যায়ে প্রচার চালানোর পাশাপাশি ঘরে ঘরে জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রী ও প্রয়োজনীয় পরামর্শ পৌঁছে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। বুধবার সচিবালয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, কর্মসূচিটি ২০২৬ সালের ১ ডিসেম্বর থেকে শুরু হয়ে ২০২৭ সালের ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত চলবে। পরিবার পরিকল্পনা বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানো এবং প্রয়োজনীয় সামগ্রী মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়াই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। স্বাস্থ্যমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, শুধু প্রচারেই সীমাবদ্ধ থাকবে না কর্মসূচি। মাঠপর্যায়ের স্বাস্থ্যকর্মীরা পরিবারগুলোর সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করবেন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রী বিতরণের পাশাপাশি পরামর্শও দেবেন। এর মাধ্যমে পরিবার পরিকল্পনা সেবা আরও সহজলভ্য করার চেষ্টা করা হবে। বাংলাদেশে পরিবার পরিকল্পনা কর্মসূচি দীর্ঘদিন ধরেই জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি সম্পর্কে সচেতনতা, মাতৃস্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং পরিকল্পিত পরিবার গঠনে মাঠপর্যায়ের কর্মীদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হয়ে আসছে। নতুন এই বছরব্যাপী কর্মসূচিতে সেই মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম আরও জোরদার করার পরিকল্পনা রয়েছে। একই প্রেস ব্রিফিংয়ে দেশের ক্যান্সার চিকিৎসা অবকাঠামো নিয়েও কথা বলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, নতুন ১৭টি রেডিওথেরাপি মেশিন স্থাপনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ছয়টি ঢাকায় এবং ১১টি ঢাকার বাইরে বসানো হবে। স্বাস্থ্যমন্ত্রীর মতে, ঢাকার বাইরে রেডিওথেরাপি সুবিধা বাড়ানো গেলে ক্যান্সার রোগীদের চিকিৎসার জন্য রাজধানীতে আসার চাপ কমবে। একই সঙ্গে রোগীরা নিজ নিজ এলাকায় তুলনামূলক কম খরচে চিকিৎসাসেবা নেওয়ার সুযোগ পাবেন। দেশের ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়েও ব্রিফিংয়ে কথা বলেন সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি জানান, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার আন্তর্জাতিক প্রটোকল অনুসরণ করে ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসা এবং প্রয়োজনীয় স্যালাইন সরবরাহ নিশ্চিত করা হচ্ছে। ডেঙ্গুর ধরন পরিবর্তন এবং ডেঙ্গু-পরবর্তী কার্ডিয়াক জটিলতার বিষয়টি বিবেচনায় রেখে চিকিৎসকদের সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি মশা নিয়ন্ত্রণে জনসচেতনতা ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। সরকারের ঘোষিত পরিবার পরিকল্পনা কর্মসূচি কার্যকর হলে আগামী এক বছর দেশের বিভিন্ন এলাকায় স্বাস্থ্যকর্মীদের মাধ্যমে জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রী ও পরামর্শ আরও সরাসরি মানুষের কাছে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। মাঠপর্যায়ে কর্মসূচিটির বাস্তবায়ন, সরবরাহব্যবস্থা এবং কত সংখ্যক পরিবার এর আওতায় আসবে, তা পরবর্তী সময়ে আরও স্পষ্ট হবে। সূত্র : ইত্তেফাক
প্রতিদিন একের পর এক কাপ কফি পান করার অভ্যাস হাড়ের স্বাস্থ্যের জন্য ভালো নাও হতে পারে। প্রায় ১০ হাজার বয়স্ক নারীকে ১০ বছর ধরে পর্যবেক্ষণ করে করা নতুন এক গবেষণায় দেখা গেছে, দিনে পাঁচ কাপের বেশি কফি পানকারীদের হাড়ের ঘনত্ব কম থাকার প্রবণতা রয়েছে। অন্যদিকে নিয়মিত চা পানকারীদের নিতম্বের হাড়ের ঘনত্ব সামান্য বেশি পাওয়া গেছে। অস্ট্রেলিয়ার ফ্লিন্ডার্স ইউনিভার্সিটির গবেষকেরা ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সী ৯ হাজার ৭০৪ নারীর তথ্য বিশ্লেষণ করে এ ফল পেয়েছেন। গবেষণাটি ২০২৫ সালে নিউট্রিয়েন্টস জার্নালে প্রকাশিত হয়। গবেষণায় অংশগ্রহণকারীদের কফি ও চা পানের অভ্যাস বারবার নথিবদ্ধ করা হয়। একই সঙ্গে প্রায় এক দশক ধরে তাদের ফিমোরাল নেক ও টোটাল হিপের বোন মিনারেল ডেনসিটি বা হাড়ের খনিজ ঘনত্ব পরিমাপ করা হয়। ফলাফলে দেখা যায়, নিয়মিত চা পানকারীদের টোটাল হিপ বোন মিনারেল ডেনসিটি চা না পানকারীদের তুলনায় কিছুটা বেশি। পার্থক্যটি খুব বড় নয়, তবে পরিসংখ্যানগতভাবে তা উল্লেখযোগ্য ছিল। কফির ক্ষেত্রে চিত্রটি কিছুটা ভিন্ন। সামগ্রিকভাবে মাঝারি পরিমাণ কফি পানের সঙ্গে হাড়ের ঘনত্ব কমে যাওয়ার স্পষ্ট সম্পর্ক পাওয়া যায়নি। তবে গবেষণার বিশ্লেষণে ইঙ্গিত মিলেছে, দিনে পাঁচ কাপের বেশি কফি পান করলে হাড়ের ঘনত্ব কমতে পারে। বিশেষ করে যেসব নারীর জীবনে অ্যালকোহল গ্রহণের পরিমাণ তুলনামূলক বেশি ছিল, তাদের মধ্যে বেশি কফি পানের সঙ্গে ফিমোরাল নেকের হাড়ের ঘনত্ব কম থাকার সম্পর্ক আরও স্পষ্ট দেখা গেছে। এ কারণে গবেষকেরা মাঝারি কফি পানকে ক্ষতিকর বলে চিহ্নিত করেননি। দিনে দুই থেকে তিন কাপ কফির মতো পরিমাণে উল্লেখযোগ্য নেতিবাচক প্রভাব পাওয়া যায়নি। ঝুঁকির ইঙ্গিত মূলত খুব বেশি কফি পানের ক্ষেত্রেই দেখা গেছে। গবেষণাটি গুরুত্বপূর্ণ হলেও এটি প্রমাণ করে না যে বেশি কফি খেলেই হাড় দুর্বল হয়ে যাবে। এটি একটি পর্যবেক্ষণমূলক গবেষণা। অর্থাৎ কফি ও হাড়ের ঘনত্বের মধ্যে সম্পর্ক দেখা গেলেও সরাসরি কারণ ও ফলাফল নিশ্চিত করা যায়নি। গবেষকেরা বয়স, শারীরিক কার্যক্রম, বিভিন্ন রোগ, ওষুধ ব্যবহার এবং অন্যান্য সম্ভাব্য প্রভাবক বিবেচনায় নিয়ে বিশ্লেষণ করেছেন। তবু মানুষের খাদ্যাভ্যাস, জীবনযাপন, ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি গ্রহণ, শরীরের ওজন এবং অন্যান্য বিষয়ও হাড়ের স্বাস্থ্যে বড় ভূমিকা রাখে। চায়ের ক্ষেত্রে গবেষকেরা মনে করছেন, এতে থাকা বিভিন্ন উদ্ভিজ্জ যৌগ হাড়ের ওপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তবে ঠিক কোন উপাদান কতটা ভূমিকা রাখছে, তা নিশ্চিত করতে আরও গবেষণা প্রয়োজন। অস্টিওপোরোসিস বা হাড় ক্ষয়ের রোগ বয়স্ক নারীদের জন্য বড় স্বাস্থ্যঝুঁকি। আন্তর্জাতিক অস্টিওপোরোসিস ফাউন্ডেশনের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বজুড়ে ৫০ বছরের বেশি বয়সী প্রতি তিন নারীর একজন জীবনের কোনো পর্যায়ে অস্টিওপোরোসিসজনিত ফ্র্যাকচারের ঝুঁকিতে থাকেন। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে হাড়ের ঘনত্ব স্বাভাবিকভাবেই কমতে থাকে। মেনোপজের পর নারীদের শরীরে হরমোনের পরিবর্তনের কারণে এই ঝুঁকি আরও বাড়ে। এ কারণে পর্যাপ্ত ক্যালসিয়াম, ভিটামিন ডি, নিয়মিত ব্যায়াম, ধূমপান এড়িয়ে চলা এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন হাড় রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ। গবেষণার ফল থেকে সবচেয়ে বাস্তবসম্মত বার্তা হলো, যারা খুব বেশি কফি পান করেন তারা দৈনিক পরিমাণ কমানোর কথা ভাবতে পারেন। তবে শুধু কফি কমানোই হাড় সুরক্ষার একমাত্র উপায় নয়। একই সঙ্গে নিয়মিত চা পান হাড়ের জন্য সম্ভাব্য উপকারী হতে পারে বলে গবেষণায় ইঙ্গিত মিলেছে। তবে গবেষকেরা চাকে কোনো চিকিৎসা বা অস্টিওপোরোসিস প্রতিরোধের নিশ্চয়তা হিসেবে দেখছেন না। সব মিলিয়ে ১০ বছরের এই গবেষণা বলছে, মাঝারি পরিমাণ কফি পান নিয়ে আতঙ্কের কারণ নেই। কিন্তু দিনে পাঁচ কাপের বেশি কফি অভ্যাসে থাকলে বিশেষ করে বয়স্ক নারীদের ক্ষেত্রে হাড়ের স্বাস্থ্যের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা যেতে পারে।
বাংলাদেশের চিকিৎসক ও জনস্বাস্থ্য গবেষক অধ্যাপক মালবিকা সরকার আন্তর্জাতিক জনস্বাস্থ্য গবেষণা ও শিক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান তৈরি করেছেন। বর্তমানে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ব্রাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব পাবলিক হেলথে বৈশ্বিক সম্পৃক্ততা বিভাগের সহযোগী ডিন এবং আচরণগত ও সামাজিক বিজ্ঞানের অধ্যাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। বাস্তবায়নবিজ্ঞান, মিশ্র পদ্ধতির গবেষণা এবং গবেষণালব্ধ জ্ঞানকে বাস্তব স্বাস্থ্যসেবায় প্রয়োগ তাঁর কাজের প্রধান ক্ষেত্র। বাংলাদেশে চিকিৎসাশিক্ষা দিয়ে তাঁর পেশাগত পথচলা শুরু। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস সম্পন্ন করার পর তিনি জনস্বাস্থ্যের দিকে মনোনিবেশ করেন। পরে যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড স্কুল অব পাবলিক হেলথ থেকে জনস্বাস্থ্যে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন এবং জার্মানির হাইডেলবার্গ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে জনস্বাস্থ্যে পিএইচডি সম্পন্ন করেন। এর আগে সুইডেনের কারোলিনস্কা ইনস্টিটিউটে লিঙ্গ ও আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য বিষয়ে উচ্চতর প্রশিক্ষণও নেন তিনি। পেশাজীবনের শুরুতে বাংলাদেশে গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর সঙ্গে সরাসরি কাজ করেছেন মালবিকা সরকার। কমিউনিটি পর্যায়ে চিকিৎসা, প্রজননস্বাস্থ্য এবং নারীর স্বাস্থ্য নিয়ে কাজ করতে গিয়ে তিনি উপলব্ধি করেন, শুধু চিকিৎসা দেওয়া নয়, স্বাস্থ্যব্যবস্থার কাঠামোগত সমস্যা এবং কার্যকর জনস্বাস্থ্য কর্মসূচি বাস্তবায়নও সমান গুরুত্বপূর্ণ। এই অভিজ্ঞতাই পরবর্তী সময়ে তাঁকে বাস্তবায়নবিজ্ঞানের দিকে নিয়ে যায়। মালবিকা সরকার দীর্ঘ সময় ব্র্যাকের স্বাস্থ্য ও উন্নয়ন কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তাঁর তিন দশকের বেশি সময়ের জনস্বাস্থ্য ক্যারিয়ারে প্রায় এক দশক তিনি ব্র্যাকের কমিউনিটিভিত্তিক স্বাস্থ্য ও উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়নের সঙ্গে সরাসরি কাজ করেছেন। বাংলাদেশ ও সাব সাহারান আফ্রিকায় স্বাস্থ্যসেবা, সংক্রামক ও অসংক্রামক রোগ, প্রজননস্বাস্থ্য, পুষ্টি এবং স্বাস্থ্যব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে তাঁর গবেষণার বিস্তৃতি রয়েছে। বাংলাদেশে ব্র্যাক জেমস পি গ্রান্ট স্কুল অব পাবলিক হেলথে তিনি অধ্যাপক ও সহযোগী ডিন হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৫ সালে তিনি প্রতিষ্ঠানটির ভারপ্রাপ্ত ডিনের দায়িত্বও পালন করেন। একই সঙ্গে গবেষণার ফল কীভাবে কার্যকরভাবে স্বাস্থ্যনীতি ও মাঠপর্যায়ের সেবায় প্রয়োগ করা যায়, সেই লক্ষ্য নিয়ে তিনি বাস্তবায়নবিজ্ঞান ও সম্প্রসারণ বিষয়ক একটি বিশেষায়িত কেন্দ্র প্রতিষ্ঠার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ২০২৩ সালে ব্রাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব পাবলিক হেলথে যোগ দেওয়ার পর তাঁর আন্তর্জাতিক গবেষণা ও শিক্ষাদানের পরিধি আরও বিস্তৃত হয়। বিশ্ববিদ্যালয়টির তথ্য অনুযায়ী, বাস্তবায়নবিজ্ঞান, জনস্বাস্থ্য কর্মসূচির মূল্যায়ন এবং প্রমাণভিত্তিক স্বাস্থ্য উদ্যোগ বাস্তবে প্রয়োগের ক্ষেত্রে তিনি শিক্ষা ও গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছেন। পাশাপাশি গ্লোবাল সাউথের বিভিন্ন শিক্ষা ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে অংশীদারত্ব তৈরির কাজেও তিনি যুক্ত। ২০২৫ সালের ১ ফেব্রুয়ারি থেকে মালবিকা সরকার ব্রাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব পাবলিক হেলথের সহযোগী ডিন ফর গ্লোবাল এনগেজমেন্ট হিসেবে দায়িত্ব শুরু করেন। এই পদে তাঁর দায়িত্বের মধ্যে রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের বৈশ্বিক জনস্বাস্থ্য কৌশল এগিয়ে নেওয়া, আন্তর্জাতিক অংশীদারত্ব বাড়ানো এবং শিক্ষার্থীদের জন্য আন্তর্জাতিক গবেষণা ও ইন্টার্নশিপের সুযোগ সম্প্রসারণ করা। ব্রাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বশেষ প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, তিন দশকের বেশি সময়ের ক্যারিয়ারে মালবিকা সরকার গবেষণা ও দক্ষতা উন্নয়নমূলক প্রকল্পে এক কোটির বেশি মার্কিন ডলারের অনুদান সংগ্রহের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন। তাঁর ১৫৫টির বেশি পিয়ার রিভিউড গবেষণা প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে। ব্রাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৬ সালের একটি তথ্যে তাঁর ১৫৮টি গবেষণা প্রবন্ধ এবং সাতটি বইয়ের অধ্যায়ের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। বিশ্বজনস্বাস্থ্য সংশ্লিষ্ট একাধিক আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান ও পরামর্শক পর্ষদের সঙ্গেও যুক্ত রয়েছেন তিনি। ব্রাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, দ্য ল্যানসেট গ্লোবাল হেলথ, গ্যাভি দ্য ভ্যাকসিন অ্যালায়েন্স, ওয়ার্ল্ড ফেডারেশন অব পাবলিক হেলথ অ্যাসোসিয়েশনস এবং যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের পরামর্শক ও নেতৃত্বের ভূমিকায় তিনি কাজ করেছেন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার এইচআরপি অ্যালায়েন্সের গবেষণা সক্ষমতা উন্নয়নবিষয়ক পরামর্শক বোর্ডের সভাপতির দায়িত্বও পালন করেছেন তিনি। বিশ্বজনস্বাস্থ্যে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ২০১৮ সালে উইমেন ইন গ্লোবাল হেলথ তাঁকে ‘হিরোইন অব হেলথ’ সম্মাননায় ভূষিত করে। নারীর স্বাস্থ্য, জনস্বাস্থ্য গবেষণা এবং স্বাস্থ্যব্যবস্থায় প্রমাণভিত্তিক উদ্যোগ বাস্তবায়নে তাঁর দীর্ঘদিনের কাজের স্বীকৃতি হিসেবেই এই সম্মাননা দেওয়া হয়। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের চিকিৎসাশিক্ষা থেকে শুরু করে হার্ভার্ড ও হাইডেলবার্গে উচ্চশিক্ষা, বাংলাদেশে ব্র্যাকের জনস্বাস্থ্য কার্যক্রম এবং বর্তমানে ব্রাউন বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্তর্জাতিক গবেষণা ও নেতৃত্ব, মালবিকা সরকারের পেশাগত পথচলা বাংলাদেশের একজন চিকিৎসক ও গবেষকের বিশ্বজনস্বাস্থ্য অঙ্গনে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার উল্লেখযোগ্য উদাহরণ। সূত্র: পাবলিকিয়ান
রাশিয়ায় প্লেগ গবেষণাগারে কর্মরত এক নারীর গুরুতর নিউমোনিয়ার উপসর্গ নিয়ে মৃ ত্যুর পর নিউমোনিক প্লেগ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে ওই নারী প্লেগে আক্রান্ত ছিলেন কি না, তা এখনো নিশ্চিত করেনি রাশিয়ার স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ। এর মধ্যেই জ্বর, মাথাব্যথা, দুর্বলতা থেকে দ্রুত নিউমোনিয়ায় পরিণত হওয়ার মতো উপসর্গগুলো নিয়ে সতর্ক করছেন বিশেষজ্ঞরা। রুশ সংবাদমাধ্যমের বরাতে জানা গেছে, সাইবেরিয়ার ইরকুতস্ক এলাকার একটি প্লেগ গবেষণা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ২৮ বছর বয়সী দারিয়া শিপিলোভা গুরুতর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। তিনি সহকর্মীদের জানিয়েছিলেন, নমুনা সংগ্রহের সময় অসাবধানতাবশত জীবিত ব্যাকটেরিয়া থাকা একটি টেস্ট টিউব ভেঙে গিয়েছিল। এরপর তার শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হলে তাকে ভেন্টিলেটরে রাখা হয়। হাসপাতালে ভর্তির দুই দিন পর তার মৃ ত্যু হয়। তবে রাশিয়ার ভোক্তা অধিকার ও মানবকল্যাণ পর্যবেক্ষণ সংস্থা রসপোত্রেবনাদজোর জানিয়েছে, ওই কর্মীর ক্ষেত্রে ‘অজানা কারণে নিউমোনিয়া’ শনাক্ত হয়েছিল। পরীক্ষায় তার শরীরে প্লেগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কোনো অণুজীব পাওয়া যায়নি। অর্থাৎ এখন পর্যন্ত তার মৃ ত্যুর কারণ হিসেবে প্লেগ নিশ্চিত করা হয়নি। নিউমোনিক প্লেগ কী? রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র বা সিডিসির তথ্য অনুযায়ী, প্লেগের প্রধান তিনটি ধরন হলো বুবোনিক, নিউমোনিক ও সেপটিসেমিক প্লেগ। এর মধ্যে নিউমোনিক প্লেগ সবচেয়ে গুরুতর ধরনগুলোর একটি। নিউমোনিক প্লেগ ফুসফুসে সংক্রমণ ঘটায়। এতে সাধারণত জ্বর, মাথাব্যথা ও দুর্বলতার পাশাপাশি দ্রুত নিউমোনিয়ার উপসর্গ দেখা দিতে পারে। আক্রান্ত ব্যক্তির শ্বাসকষ্ট, বুকে ব্যথা ও কাশি হতে পারে। কখনো কাশির সঙ্গে রক্ত বা পানির মতো কফও দেখা দিতে পারে। এই রোগের উপসর্গ সংক্রমণের পর খুব অল্প সময়ের মধ্যেই দেখা দিতে পারে। সিডিসির তথ্য অনুযায়ী, জীবাণু শ্বাসের মাধ্যমে ফুসফুসে পৌঁছালে এক দিনের মতো কম সময়ের মধ্যেও উপসর্গ শুরু হতে পারে। কীভাবে নিউমোনিক প্লেগ হয়? নিউমোনিক প্লেগ দুইভাবে হতে পারে। প্রথমত, চিকিৎসা না করা বুবোনিক বা সেপটিসেমিক প্লেগের জীবাণু শরীরের অন্য অংশ থেকে ফুসফুসে পৌঁছাতে পারে। দ্বিতীয়ত, আক্রান্ত ব্যক্তি বা প্রাণীর কাশি থেকে বের হওয়া সংক্রমিত ক্ষুদ্র কণা শ্বাসের সঙ্গে ফুসফুসে প্রবেশ করলেও নিউমোনিক প্লেগ হতে পারে। প্লেগের অন্যান্য ধরন সাধারণত ভিন্ন উপায়ে ছড়ায়। বুবোনিক প্লেগের ক্ষেত্রে আক্রান্ত মাছির কামড় অন্যতম প্রধান কারণ। এতে জ্বর, মাথাব্যথা, কাঁপুনি ও দুর্বলতার পাশাপাশি শরীরের এক বা একাধিক লসিকা গ্রন্থি ফুলে গিয়ে ব্যথাযুক্ত হতে পারে। সেপটিসেমিক প্লেগের উপসর্গ সেপটিসেমিক প্লেগ রক্তে সংক্রমণ ঘটায়। এতে জ্বর, কাঁপুনি, প্রচণ্ড দুর্বলতা, পেটে ব্যথা ও গুরুতর শারীরিক অবস্থা দেখা দিতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে ত্বক ও শরীরের বিভিন্ন অংশে রক্তক্ষরণ এবং টিস্যু ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার মতো জটিলতাও তৈরি হতে পারে। দ্রুত চিকিৎসা কেন জরুরি? বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, চিকিৎসা না করা হলে প্লেগ অত্যন্ত গুরুতর হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে নিউমোনিক প্লেগের ক্ষেত্রে দ্রুত রোগ শনাক্ত করে চিকিৎসা শুরু করা গুরুত্বপূর্ণ। নিউমোনিক প্লেগ চিকিৎসা ছাড়া খুব দ্রুত প্রাণঘাতী হয়ে উঠতে পারে। তবে রোগটি প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত হলে উপযুক্ত অ্যান্টিবায়োটিক এবং প্রয়োজনীয় সহায়ক চিকিৎসার মাধ্যমে এটি কার্যকরভাবে চিকিৎসা করা সম্ভব। রাশিয়ার সাম্প্রতিক ঘটনাটিতে এখন পর্যন্ত প্লেগের সংক্রমণ নিশ্চিত হয়নি। তাই ওই ঘটনা থেকেই ব্যাপক সংক্রমণের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে—এমনটা বলা যাচ্ছে না। তবে দ্রুত বাড়তে থাকা নিউমোনিয়া, শ্বাসকষ্ট, জ্বর বা গুরুতর শারীরিক অসুস্থতার ক্ষেত্রে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
সাধারণত বয়স্কদের রোগ হিসেবে বিবেচনা করা হলেও গত প্রায় তিন দশকে তরুণ প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে স্ট্রোকের হার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের গ্রেটার সিনসিনাটি ও নর্দার্ন কেনটাকি অঞ্চলের ওপর দীর্ঘমেয়াদি এক গবেষণায় দেখা গেছে, ২০ থেকে ৫৪ বছর বয়সীদের মধ্যে স্ট্রোকের হার ১৯৯৩-৯৪ সালের তুলনায় ২০২০ সালে প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। গবেষণাটি ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এ চিকিৎসাবিজ্ঞানবিষয়ক জার্নাল ‘নিউরোলজি’-তে প্রকাশিত হয়। গবেষণায় ১৯৯৩ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে ওই অঞ্চলে ২০ থেকে ৫৪ বছর বয়সী মানুষের প্রথমবারের স্ট্রোকের ২ হাজার ৭৬টি ঘটনা শনাক্ত করা হয়। হিসাব অনুযায়ী, প্রতি এক লাখ মানুষের মধ্যে স্ট্রোকের হার ১৯৯৩-৯৪ সালে ছিল ৩৩ দশমিক ৯টি। ২০২০ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৬২ দশমিক ২টিতে। একই সময়ে বয়স্ক জনগোষ্ঠীর মধ্যে স্ট্রোকের হার বরং কমেছে, যা তরুণদের ক্ষেত্রে দেখা যাওয়া বিপরীত প্রবণতাটিকে আরও গুরুত্ববহ করে তুলেছে। গবেষকদের মতে, এই বৃদ্ধির বড় অংশই হয়েছে ইস্কেমিক স্ট্রোকের কারণে। এ ধরনের স্ট্রোক মস্তিষ্কের কোনো অংশে রক্তপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হলে ঘটে এবং এটি স্ট্রোকের সবচেয়ে সাধারণ ধরন। তরুণদের মধ্যে ইস্কেমিক স্ট্রোকের হার ১৯৯৩-৯৪ সালে প্রতি এক লাখে ২৩ দশমিক ৮টি থেকে বেড়ে ২০২০ সালে ৪৭ দশমিক ৩টিতে পৌঁছায়। অন্যদিকে মস্তিষ্কের ভেতরে রক্তক্ষরণ বা মস্তিষ্কের চারপাশে রক্তক্ষরণজনিত স্ট্রোকের ক্ষেত্রে একই ধরনের বৃদ্ধি দেখা যায়নি। তরুণদের মধ্যে স্ট্রোক বাড়ার পেছনে ঠিক কোন কারণ সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রাখছে, তা এখনো নিশ্চিত নয়। গবেষণায় দেখা গেছে, সময়ের সঙ্গে স্ট্রোকে আক্রান্ত তরুণদের মধ্যে উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, হৃদ্যন্ত্রের অনিয়মিত স্পন্দন এবং মাদক বা অন্যান্য নেশাজাতীয় পদার্থ ব্যবহারের প্রবণতা বেড়েছে। তবে গবেষকেরা সতর্ক করে বলেছেন, এসব ঝুঁকির কারণের সঙ্গে স্ট্রোকের হার বৃদ্ধির সম্পর্ক দেখা গেলেও এগুলোই পুরো বৃদ্ধির কারণ, এমন সিদ্ধান্ত এই গবেষণা থেকে দেওয়া যায় না। গবেষণাটিতে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উঠে এসেছে। তরুণদের মধ্যে স্ট্রোকের হার বাড়লেও স্ট্রোকের পর ৩০ দিনের মধ্যে মৃত্যুর হার সামান্য কমেছে। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ হার ছিল ১১ দশমিক ৭ শতাংশ, যা ২০২০ সালে নেমে আসে ৯ দশমিক ৪ শতাংশে। অর্থাৎ আগের তুলনায় বেশি তরুণ স্ট্রোক থেকে তাৎক্ষণিকভাবে বেঁচে যাচ্ছেন। তবে এর অর্থ একই সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি শারীরিক বা স্নায়বিক জটিলতা নিয়ে বেঁচে থাকা মানুষের সংখ্যাও বাড়তে পারে। বস্টনের টাফটস মেডিকেল সেন্টারের ভাসকুলার নিউরোলজিস্ট ডা. মিশেল লেপার্ট বলেন, তরুণদের মধ্যে স্ট্রোক বাড়ার প্রবণতার বিষয়টি নিয়ে আরও গবেষণা প্রয়োজন। তিনি উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও উচ্চ কোলেস্টেরলের মতো ঝুঁকির কারণের দিকে ইঙ্গিত করলেও বলেন, শুধু এসব কারণ দিয়ে পুরো পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করা যায় না। তরুণদের মধ্যে হৃদ্রোগের হার একইভাবে না বাড়ায় বিষয়টি আরও গভীরভাবে বোঝার প্রয়োজন রয়েছে। লেপার্ট আরও জানান, ৪৫ বছরের কম বয়সী নারীদের মধ্যেও স্ট্রোকের ঘটনা পুরুষদের তুলনায় বেশি দেখা যাচ্ছে, যা গবেষকদের জন্য বিশেষ আগ্রহের বিষয়। বিশেষ করে যেসব নারী অরা-সহ মাইগ্রেনে ভোগেন, তাদের ক্ষেত্রে কিছু জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি নিয়ে চিকিৎসকের সঙ্গে আলোচনা করা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। অরা-সহ মাইগ্রেন বলতে মাথাব্যথার আগে বা সঙ্গে দৃষ্টিতে ঝিলমিল, আলোর ঝলক বা অন্য ধরনের সাময়িক স্নায়বিক উপসর্গ দেখা দেওয়াকে বোঝায়। চিকিৎসকেরা বলছেন, তরুণ বয়স মানেই স্ট্রোকের ঝুঁকি নেই, এমন ধারণা বিপজ্জনক হতে পারে। নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করলে উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, কোলেস্টেরলসহ অনেক ঝুঁকি আগেই শনাক্ত করা সম্ভব। তাই ২০, ৩০ বা ৪০-এর কোঠায় থাকা ব্যক্তিদেরও নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা না এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। স্ট্রোকের ক্ষেত্রে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমেরিকান স্ট্রোক অ্যাসোসিয়েশন ‘বি ফাস্ট’ পদ্ধতির মাধ্যমে ভারসাম্য হারানো, চোখ বা দৃষ্টিতে হঠাৎ পরিবর্তন, মুখের এক পাশ ঝুলে পড়া, হাত দুর্বল হয়ে যাওয়া এবং কথা বলায় সমস্যা দেখা দিলে দ্রুত জরুরি চিকিৎসা নেওয়ার পরামর্শ দেয়। হঠাৎ তীব্র মাথাব্যথা বা নতুন কোনো স্নায়বিক উপসর্গ দেখা দিলেও তা উপেক্ষা না করার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকরা। তবে গবেষকেরা এটিও স্পষ্ট করেছেন যে, নতুন গবেষণাটি মূলত একটি নির্দিষ্ট অঞ্চলের দীর্ঘমেয়াদি তথ্যের ওপর ভিত্তি করে করা হয়েছে। গ্রেটার সিনসিনাটি ও নর্দার্ন কেনটাকির ওই পাঁচ-কাউন্টি এলাকার জাতিগত বৈচিত্র্য, শিক্ষা ও আর্থসামাজিক বৈশিষ্ট্য যুক্তরাষ্ট্রের সামগ্রিক জনসংখ্যার সঙ্গে তুলনামূলকভাবে সামঞ্জস্যপূর্ণ হলেও এটিকে সরাসরি পুরো দেশের প্রতিটি তরুণের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য বলে ধরে নেওয়া ঠিক হবে না। গবেষণাটি বরং তরুণদের মধ্যে স্ট্রোক বৃদ্ধির একটি গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় প্রবণতার শক্তিশালী ইঙ্গিত দিচ্ছে এবং এর কারণ খুঁজতে আরও গবেষণার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরছে। সূত্র: ডব্লিউসিভিবি
এবার মশার বিরুদ্ধেই যেন ‘যু দ্ধ’ ঘোষণা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প! ওয়াশিংটন ডিসিতে রোগবাহী ও আক্রমণাত্মক মশার সংখ্যা কমাতে বড় ধরনের অভিযান শুরুর নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। লক্ষ্য—নির্দিষ্ট কিছু মশার সংখ্যা ৯০ শতাংশ পর্যন্ত কমিয়ে আনা। মঙ্গলবার সই করা এক নির্বাহী আদেশে ট্রাম্প প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে আগামী ৬০ দিনের মধ্যে মশা ও টিক নিয়ন্ত্রণে একটি সমন্বিত কর্মসূচি তৈরি ও বাস্তবায়নের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই উদ্যোগের আওতায় দুই বছরের মধ্যে এলাকায় টিকের সংখ্যা ৫০ শতাংশ কমানোর লক্ষ্যও নির্ধারণ করা হয়েছে। আদেশে বলা হয়েছে, ফেডারেল নিয়ন্ত্রণাধীন ওয়াশিংটন ডিসির বিভিন্ন এলাকায় মশা ও টিকের প্রজননস্থল চিহ্নিত করে তা নিয়ন্ত্রণে আনা হবে। এ কাজে প্রচলিত পদ্ধতির পাশাপাশি নতুন প্রযুক্তি ও রাসায়নিকবিহীন পদ্ধতি ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনের পরিকল্পনায় মশা ও টিক নিয়ন্ত্রণের জন্য নতুন প্রযুক্তি ব্যবহারের একটি কাঠামো তৈরির কথাও বলা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে নিরাপদ ও কার্যকর পদ্ধতি নিয়ে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি মশা ও টিকবাহিত রোগ প্রতিরোধ ও চিকিৎসা নিয়ে গবেষণা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে। আদেশে মশার পাশাপাশি টিকের বিস্তার নিয়েও উদ্বেগের কথা বলা হয়েছে। টিকের মাধ্যমে লাইম ডিজিজসহ বিভিন্ন রোগ ছড়াতে পারে। টিকের কামড়ের সঙ্গে সম্পর্কিত আলফা-গাল সিনড্রোম নিয়েও গবেষণা ও প্রতিরোধমূলক উদ্যোগ বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে। এদিকে ফ্লোরিডায় স্থানীয়ভাবে ছড়িয়ে পড়া ডে ঙ্গু নিয়ে উদ্বেগের মধ্যেই ট্রাম্পের এই উদ্যোগ সামনে এলো। ২০২৬ সালে রাজ্যটির ছয়টি কাউন্টিতে স্থানীয়ভাবে সংক্রমিত ১৯০টি ডে ঙ্গু আক্রান্তের ঘটনা শনাক্ত হয়েছে বলে ফ্লোরিডা স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে। এর মধ্যে হিলসবরো কাউন্টিতেই ১৭০টি ঘটনা রয়েছে। স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের মতে, ফ্লোরিডায় এ ধরনের পরিস্থিতি অস্বাভাবিক। ভারী বৃষ্টিপাতসহ আবহাওয়ার বিভিন্ন পরিস্থিতি মশার সংখ্যা বাড়াতে ভূমিকা রাখতে পারে। ডে ঙ্গু একটি মশাবাহিত ভাইরাসজনিত রোগ। মূলত সংক্রমিত এডিস মশার কামড়ের মাধ্যমে এটি মানুষের শরীরে ছড়ায়। গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ও উপ-গ্রীষ্মমণ্ডলীয় অঞ্চলে রোগটি বেশি দেখা গেলেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিশ্বের বিভিন্ন এলাকায় এর বিস্তার নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশে মশা ও টিকবাহিত রোগ প্রতিরোধে সরকারি গবেষণা কর্মসূচি, নতুন প্রযুক্তি এবং সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব বাড়ানোর কথাও বলা হয়েছে। নতুন চিকিৎসা ও প্রতিরোধ পদ্ধতি উদ্ভাবনে গবেষকদের উৎসাহিত করতে পুরস্কারভিত্তিক কর্মসূচি চালুর কথাও রয়েছে। এ ছাড়া আলফা-গ্যালাকটোজ নামের উপাদান উল্লেখযোগ্য পরিমাণে থাকা পণ্যের লেবেলিংয়ের বিষয়টিও পর্যালোচনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। টিকের কামড়ের সঙ্গে সম্পর্কিত আলফা-গাল সিনড্রোমে আক্রান্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে লাল মাংস খাওয়ার পর গুরুতর অ্যালার্জির প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে। হোয়াইট হাউসের ভাষ্য অনুযায়ী, ওয়াশিংটন ডিসিতে রোগবাহী মশা ও টিকের সংখ্যা কমানোর পাশাপাশি দেশটির অন্যান্য এলাকাতেও কার্যকর পদ্ধতিগুলো প্রয়োগের সুযোগ তৈরি করাই এই উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য।
ছোট কাটা বা আঁচড় দিয়ে জীবাণু ঢুকে কখনো ত্বকের গভীর টিস্যুতে গুরুতর সংক্রমণ ঘটাতে পারে। নেক্রোটাইজিং ফ্যাসাইটিস নামের এই রোগ বিরল হলেও দ্রুত প্রাণঘাতী হয়ে উঠতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন, সিডিসি জানিয়েছে, তীব্র ব্যথা, জ্বর ও দ্রুত ছড়িয়ে পড়া ফোলা বা লালচে ভাব দেখা দিলে চিকিৎসা নিতে দেরি করা উচিত নয়। নেক্রোটাইজিং ফ্যাসাইটিস কোনো একটি ব্যাকটেরিয়ার নাম নয়। এটি বিভিন্ন ধরনের ব্যাকটেরিয়ার কারণে হওয়া সংক্রমণ, যা টিস্যু ধ্বংস করতে পারে। সিডিসির তথ্য অনুযায়ী, গ্রুপ এ স্ট্রেপটোকক্কাস এর সবচেয়ে সাধারণ কারণ বলে বিবেচিত। পানিতে থাকা ভিব্রিও ভালনিফিকাস ব্যাকটেরিয়াও এই সংক্রমণ ঘটাতে পারে। ব্রিটেনের ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিস, এনএইচএস জানিয়েছে, কয়েক ঘণ্টা থেকে কয়েক দিনের মধ্যে লক্ষণ দেখা দিতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ সতর্কসংকেত হলো, বাইরে দৃশ্যমান ক্ষতের তুলনায় অস্বাভাবিক তীব্র ব্যথা। আক্রান্ত জায়গায় অনুভূতি কমে যাওয়া, ফোলা এবং জ্বরও হতে পারে। কখনো ত্বকে স্পষ্ট ক্ষত না থাকলেও সংক্রমণ দেখা দেয়। অবস্থা খারাপ হলে ফোসকা, কালো বা বেগুনি দাগ, বমি, মাথা ঘোরা কিংবা বিভ্রান্তি দেখা দিতে পারে। গাঢ় রঙের ত্বকে লালচে ভাব কম বোঝা যেতে পারে। তাই শুধু ক্ষতের চেহারা দেখে সংক্রমণের গুরুতরতা বিচার করা নিরাপদ নয়। চিকিৎসায় সাধারণত শিরায় অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়া এবং অস্ত্রোপচারে মৃত টিস্যু সরানো প্রয়োজন হয়। একাধিক অস্ত্রোপচারও লাগতে পারে। গুরুতর ক্ষেত্রে অঙ্গ কেটে বাদ দেওয়ার প্রয়োজন হতে পারে। সংক্রমণ সেপসিস, শক ও অঙ্গ বিকল হওয়ার কারণও হতে পারে। ডায়াবেটিস বা রোগপ্রতিরোধক্ষমতা দুর্বল থাকলে ঝুঁকি বেশি। তবে অন্যদেরও এই সংক্রমণ হতে পারে। প্রাথমিক লক্ষণ সাধারণ ত্বকের সংক্রমণের মতো হওয়ায় রোগ শনাক্ত করা কঠিন হতে পারে। সন্দেহ প্রবল হলে চিকিৎসকেরা পরীক্ষার ফলের অপেক্ষা না করেই চিকিৎসা শুরু করতে পারেন। ক্ষতের তুলনায় অসহনীয় ব্যথা, দ্রুত বাড়তে থাকা ফোলা বা জ্বর দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালের ইমার্জেন্সি বিভাগে যেতে হবে। বিভ্রান্তি, মাথা ঘোরা বা ত্বকে কালো-বেগুনি দাগ দেখা দিলেও জরুরি চিকিৎসা প্রয়োজন। এসব লক্ষণ অন্য রোগেও হতে পারে, কিন্তু চিকিৎসা নিতে অপেক্ষা করা উচিত নয়।
যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন (এফডিএ) অগ্রসর ও ছড়িয়ে পড়া স্তন ক্যানসারের চিকিৎসায় নতুন একটি ওষুধের সমন্বিত ব্যবহারের অনুমোদন দিয়েছে। বিশেষ করে স্টেজ-৪ পর্যায়ের রোগীদের মধ্যে নির্দিষ্ট ধরনের ক্যানসারের চিকিৎসায় এই অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। শুক্রবার প্রকাশিত এক ঘোষণায় এফডিএ জানায়, ইমলুনেস্ট্র্যান্ট (ব্র্যান্ড নাম ইনলুরিও) ও অ্যাবেমাসিক্লিব (ব্র্যান্ড নাম ভারজেনিও) একসঙ্গে ব্যবহারের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এই চিকিৎসা প্রাপ্তবয়স্ক রোগীদের ক্ষেত্রে ব্যবহার করা যাবে, যাদের ক্যানসার ইস্ট্রোজেন রিসেপ্টর-পজিটিভ, এইচইআর২-নেগেটিভ এবং ইএসআর১ জিনে পরিবর্তন রয়েছে। ক্লিনিক্যাল পরীক্ষায় দেখা গেছে, ইনলুরিও ও ভারজেনিও একসঙ্গে ব্যবহার করলে ছড়িয়ে পড়া ক্যানসার বাড়া বা আরও ছড়িয়ে পড়া ঠেকিয়ে রাখার সময় গড়ে ১১ দশমিক ১ মাস হয়েছে। শুধু ইনলুরিও ব্যবহার করা রোগীদের ক্ষেত্রে এই সময় ছিল ৫ দশমিক ৫ মাস। চিকিৎসাবিষয়ক গবেষণার প্রধান তদন্তকারী কোমল ঝাভেরি বলেন, প্রথম দিকের চিকিৎসা বা সহায়ক চিকিৎসার পরও রোগের অগ্রগতি দেখা দেওয়া রোগীদের জন্য কার্যকর ও নিরাপদ চিকিৎসার প্রয়োজন রয়েছে। ক্যানসার বৃদ্ধির দুটি ভিন্ন প্রক্রিয়াকে লক্ষ্য করে ওষুধের সমন্বিত ব্যবহার চিকিৎসায় প্রতিরোধক্ষমতা মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। এফডিএ জানিয়েছে, ইনলুরিও ব্যবহারে ভ্রূণের ক্ষ তির ঝুঁকি সম্পর্কে সতর্কতা রয়েছে। অন্যদিকে ভারজেনিওর ক্ষেত্রে গুরুতর ডায়রিয়া, শ্বেত রক্তকণিকার সংখ্যা কমে যাওয়া, ফুসফুসে প্রদাহ বা ক্ষ তি, লিভারের সমস্যা, শিরায় রক্ত জমাট বাঁধা এবং ভ্রূণের ক্ষ তির মতো ঝুঁকি সম্পর্কে সতর্ক করা হয়েছে। দুই ওষুধ একসঙ্গে ব্যবহারের সময় রোগীদের মধ্যে সাধারণত মৃদু থেকে মাঝারি মাত্রার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। এর মধ্যে ডায়রিয়া, বমি বমি ভাব, ক্লান্তি এবং শ্বেত রক্তকণিকার সংখ্যা কমে যাওয়ার মতো সমস্যা রয়েছে। এফডিএর সুপারিশ অনুযায়ী, ইনলুরিও প্রতিদিন একবার ৪০০ মিলিগ্রাম খালি পেটে সেবন করতে হবে। খাবার খাওয়ার অন্তত দুই ঘণ্টা আগে অথবা খাবার খাওয়ার এক ঘণ্টা পর এটি গ্রহণের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ভারজেনিওর ক্ষেত্রে ইনলুরিওর সঙ্গে প্রতিদিন দুইবার ১৫০ মিলিগ্রাম করে সেবনের সুপারিশ করা হয়েছে। খাবারের সঙ্গে বা খাবার ছাড়াও এটি গ্রহণ করা যায়। রোগের অগ্রগতি না হওয়া পর্যন্ত বা পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া অসহনীয় না হওয়া পর্যন্ত চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়ার কথা বলা হয়েছে।
একসময় কোলন ও রেক্টামের ক্যানসারকে মূলত বয়স্কদের রোগ হিসেবে দেখা হতো। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রে তরুণদের মধ্যে এ রোগের প্রবণতা বাড়ছে। নতুন এক গবেষণায় দেখা গেছে, ৫০ বছরের কম বয়সী মানুষের মধ্যে কোলোরেক্টাল ক্যানসার এখন ক্যানসারজনিত মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ হয়ে উঠেছে। তবে এই মৃত্যুহার সব মানুষের মধ্যে সমানভাবে বাড়েনি। আমেরিকান ক্যানসার সোসাইটির গবেষকেরা ১৯৯৪ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে ২৫ থেকে ৪৯ বছর বয়সী কোলন ও রেক্টাল ক্যানসারে মারা যাওয়া এক লাখ এক হাজারের বেশি মানুষের সরকারি তথ্য বিশ্লেষণ করেছেন। গবেষণায় দেখা যায়, এই ৩০ বছরে ওই বয়সী মানুষের কোলোরেক্টাল ক্যানসারে মৃত্যুহার প্রতি এক লাখে প্রায় ৩ জন থেকে বেড়ে প্রায় ৪ জনে দাঁড়িয়েছে। তবে তথ্য আরও বিশ্লেষণ করার পর শিক্ষাগত যোগ্যতার ভিত্তিতে বড় ধরনের পার্থক্য দেখা যায়। যাদের চার বছরের কলেজ ডিগ্রি নেই, তাদের মধ্যে মৃত্যুহার প্রতি এক লাখে প্রায় ৪ জন থেকে বেড়ে ৫ দশমিক ২ জন হয়েছে। অন্যদিকে অন্তত ব্যাচেলর ডিগ্রিধারীদের মধ্যে মৃত্যুহার প্রায় ২ দশমিক ৭ জনের কাছাকাছিই স্থির রয়েছে। গবেষকদের মতে, শিক্ষাগত যোগ্যতার সঙ্গে আয়, স্বাস্থ্যসেবায় প্রবেশাধিকার ও জীবনযাপনের বিভিন্ন সুযোগের সম্পর্ক রয়েছে। কলেজ ডিগ্রি না থাকা মানুষের একটি বড় অংশ তুলনামূলক কম বেতনের কাজে যুক্ত থাকেন, যেখানে স্বাস্থ্যবিমা বা বেতনসহ ছুটির সুবিধা কম থাকতে পারে। এর ফলে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা বা উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যাওয়া কঠিন হতে পারে। শিক্ষার সঙ্গে স্বাস্থ্যসংক্রান্ত তথ্য বোঝার সক্ষমতারও সম্পর্ক রয়েছে বলে গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি কম শিক্ষাগত যোগ্যতার মানুষের মধ্যে এমন এলাকায় বসবাসের সম্ভাবনা বেশি হতে পারে, যেখানে পরিবেশ দূষণ বেশি এবং স্বাস্থ্যকর খাবার বা শরীরচর্চার সুযোগ তুলনামূলক কম। ধূমপান ও দীর্ঘমেয়াদি মানসিক চাপের মতো বিষয়ও স্বাস্থ্যঝুঁকির সঙ্গে যুক্ত বলে গবেষকেরা উল্লেখ করেছেন। তবে কোলোরেক্টাল ক্যানসারে তরুণদের মৃত্যুহার কেন বাড়ছে, তার নির্দিষ্ট কারণ এখনো পুরোপুরি জানা যায়নি। গবেষকেরা মনে করছেন, খাদ্যাভ্যাস, পরিবেশ দূষণ, চিকিৎসা নিতে দেরি করা এবং স্বাস্থ্যসেবায় অসম প্রবেশাধিকারের মতো একাধিক কারণ এতে ভূমিকা রাখতে পারে। আমেরিকান ক্যানসার সোসাইটির হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছর যুক্তরাষ্ট্রে এক লাখ ৫৮ হাজারের বেশি নতুন কোলোরেক্টাল ক্যানসারের ঘটনা শনাক্ত হতে পারে এবং ৫৫ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হতে পারে। ৬৫ বছরের কম বয়সীদের মধ্যে এ রোগের নতুন রোগীও এখন উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ছে। ১৯৯০-এর দশকের তুলনায় এটি বড় পরিবর্তন, কারণ সে সময় রোগটি মূলত বয়স্কদের মধ্যেই বেশি দেখা যেত। তরুণদের মধ্যে রোগটির ঝুঁকি বাড়তে থাকায় ২০২১ সালে আমেরিকান ক্যানসার সোসাইটি কোলোরেক্টাল ক্যানসারের নিয়মিত স্ক্রিনিং শুরুর সুপারিশ করা বয়স ৫০ থেকে কমিয়ে ৪৫ বছর করেছে। চিকিৎসকেরা একই সঙ্গে মলত্যাগের অভ্যাসে পরিবর্তন, অকারণে ওজন কমে যাওয়া, পেটে ব্যথা, মলের সঙ্গে রক্ত এবং দীর্ঘস্থায়ী ক্লান্তির মতো উপসর্গকে গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন। গবেষণায় আরও বলা হয়েছে, ৫০ বছরের কম বয়সী কোলোরেক্টাল ক্যানসার রোগীদের প্রায় চারজনের মধ্যে তিনজনের ক্ষেত্রে রোগটি উন্নত পর্যায়ে শনাক্ত হয়। এর একটি কারণ হতে পারে, তরুণদের ক্ষেত্রে প্রাথমিক উপসর্গগুলো অনেক সময় গুরুত্ব দিয়ে দেখা হয় না। তাই বয়স কম হলেও অস্বাভাবিক উপসর্গ দীর্ঘদিন থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।
চুল পড়ার সমস্যা থেকে আত্মবিশ্বাস ফিরে পেতে ২৭ বছর বয়সে চুল প্রতিস্থাপন করিয়েছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের ডেনভারের অ্যালেক্স ফিনকেন। কিন্তু অস্ত্রোপচারের পরদিন ঘুম থেকে উঠে নিজের চেহারা দেখে তিনিই অবাক হয়ে যান। মাথা ও মুখজুড়ে এমন তীব্র ফোলা দেখা দেয় যে কয়েক দিন নিজেকে ‘ডিমের মতো’ দেখতে লাগছিল বলে জানিয়েছেন তিনি। চুল প্রতিস্থাপনের জন্য ফিনকেনকে খরচ করতে হয়েছে ১৭ হাজার ৫০০ ডলার। তিনি দীর্ঘদিন ধরে চুল পাতলা হয়ে যাওয়া ও পুরুষদের সাধারণ টাক পড়ার সমস্যায় ভুগছিলেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টিকটকে নিজের চিকিৎসার পুরো অভিজ্ঞতা তুলে ধরছেন তিনি। ফিনকেন জানান, কৈশোরের শেষ দিক থেকেই তার চুল পাতলা হতে শুরু করে। ২৪ বছর বয়সে পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে সামাজিক পরিবেশে টুপি ছাড়া নিজেকে অস্বস্তিকর মনে হতো। শেষ পর্যন্ত নিজের আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যেই চুল প্রতিস্থাপনের সিদ্ধান্ত নেন তিনি। চিকিৎসার জন্য তিনি ডেনভার থেকে সল্ট লেক সিটিতে যান। চিকিৎসকেরা তার মাথার পেছনের অংশ থেকে মোট ৩ হাজার ৫৩৬টি চুলের ফলিকল সংগ্রহ করেন। পরে সেগুলো মাথার সামনের ও পাতলা হয়ে যাওয়া অংশে প্রতিস্থাপন করা হয়। ফিনকেনের ভাষ্য, চিকিৎসার মাধ্যমে তার কপালের চুলের রেখা পুনর্গঠন করা হয়েছে। পাশাপাশি কপালের দুই পাশ ও মাথার মাঝের পাতলা অংশেও নতুন ফলিকল বসানো হয়। অস্ত্রোপচারের আগে তিনি জানতেন যে কিছুটা ফোলা হতে পারে। তবে এতটা ফোলা হবে তা কল্পনাও করেননি। অস্ত্রোপচারের পর প্রথম দিন কপালের দুই পাশ ফুলে যায়। দ্বিতীয় দিনে একটি চোখের নিচে কালশিটে পড়ার মতো দাগ দেখা দেয় এবং ফোলা এতটাই বেড়ে যায় যে তার দৃষ্টিতেও কিছুটা বাধা তৈরি হয়। তৃতীয় দিনে সেই ফোলা মাথা থেকে নেমে ঘাড়ের দিকেও ছড়িয়ে পড়ে। নিজের টিকটক অনুসারীদের উদ্বেগের জবাবে ফিনকেন জানান, তার শ্বাসনালি স্বাভাবিক ছিল এবং ফোলার কারণে মস্তিষ্কের কোনো ঝুঁকি তৈরি হয়নি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, মাথার ত্বকের নিচে তরল জমে যাওয়ার কারণেই এমন ফোলা হয়েছিল। চিকিৎসার পর ফোলা কেন হয়, সে বিষয়ে ফিনকেন বলেন, চুল প্রতিস্থাপনের সময় মাথায় যে স্যালাইন ও স্থানীয় অবেদনকারী ওষুধের দ্রবণ দেওয়া হয়, সেটি ফোলার অন্যতম কারণ। শরীরের লসিকা ব্যবস্থার কার্যকারিতা এবং জেনেটিক পার্থক্যের কারণে একজনের তুলনায় অন্যজনের ফোলা বেশি বা কম হতে পারে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তবে চিকিৎসার আগে নিজের একটি ভুলের কথাও স্বীকার করেছেন ফিনকেন। অস্ত্রোপচারের আগের শুক্রবার ও শনিবার তিনি মদ্যপান করেছিলেন। পরে অন্যদের এমনটি না করার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। তার মতে, মদ্যপান রক্তনালির প্রসারণ ঘটাতে পারে এবং স্থানীয় অবেদনকারীর কার্যকারিতায়ও প্রভাব ফেলতে পারে। অতিরিক্ত ফোলা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেক প্রশ্ন ও উদ্বেগ তৈরি হলেও কয়েক দিনের মধ্যেই পরিস্থিতির উন্নতি হতে থাকে। ফিনকেন জানান, প্রায় তিন দিন পর ফোলার তীব্রতা কমতে শুরু করে এবং পঞ্চম দিনে ব্যথাও প্রায় চলে যায়। প্রথম রাতটি তুলনামূলক কষ্টকর হলেও পুরো পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়া তার প্রত্যাশার চেয়ে সহজ হয়েছে বলে জানান তিনি। চুল পড়ার সমস্যা যুক্তরাষ্ট্রে বেশ সাধারণ। ফিনকেনের উদ্ধৃত তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে আনুমানিক ৩ কোটি ৫০ লাখ পুরুষের চুল পড়ার সমস্যা রয়েছে। বয়স বাড়ার সঙ্গে ঝুঁকি বাড়লেও অনেক পুরুষের ৩০ বছর বয়সের আগেই চুল পড়া শুরু হয়। চুল পড়ার প্রভাব শুধু চেহারার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না। এ বিষয়ে প্রকাশিত গবেষণায় আত্মবিশ্বাস কমে যাওয়া, সামাজিক পরিস্থিতিতে অস্বস্তি, উদ্বেগ ও মানসিক চাপের মতো সমস্যার কথাও উঠে এসেছে। তবে এসব অভিজ্ঞতা ব্যক্তি ও পরিস্থিতিভেদে ভিন্ন হতে পারে। ফিনকেন টিকটকে নিজের অভিজ্ঞতা প্রকাশ করার অন্যতম কারণ হিসেবে চুল পড়া এবং চুল প্রতিস্থাপন নিয়ে মানুষের মধ্যে থাকা অস্বস্তি বা সংকোচ কমানোর কথা বলেছেন। নিজের ক্ষেত্রে চুল প্রতিস্থাপনকে আত্মবিশ্বাস ও জীবনযাত্রার মান উন্নত করার একটি সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখছেন তিনি। বর্তমানে তার মাথার ফোলা অনেকটাই কমে গেছে এবং প্রতিস্থাপন করা চুলের ফলিকলগুলো ধীরে ধীরে স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় এগোচ্ছে। ফিনকেন বলেন, চিকিৎসার পর ধৈর্য রাখা জরুরি। কয়েক দিনের অস্বস্তি ও অস্বাভাবিক চেহারার অভিজ্ঞতা থাকলেও শেষ পর্যন্ত তিনি নিজের সিদ্ধান্ত নিয়ে সন্তুষ্ট। চুল প্রতিস্থাপনের পর সাময়িক ফোলা একটি পরিচিত বিষয় হলেও সবার ক্ষেত্রে এর মাত্রা এক নয়। তাই চিকিৎসার আগে সম্ভাব্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া, পুনরুদ্ধারের সময় এবং অস্ত্রোপচারের পর করণীয় সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের কাছ থেকে বিস্তারিত পরামর্শ নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। সূত্র: নিউইয়র্ক পোস্ট, টিকটক
স্তনের টিস্যু অতিরিক্ত ঘন হলে স্তনের ক্যানসারের ঝুঁকি কিছুটা বাড়তে পারে। এবার এই ঘন টিস্যু কীভাবে রোগ তৈরিতে ভূমিকা রাখে, তার একটি সম্ভাব্য ব্যাখ্যা খুঁজে পেয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া সান ফ্রান্সিসকোর (ইউসিএসএফ) গবেষকেরা। তাদের আশা, এই প্রক্রিয়া বোঝা গেলে অস্বাভাবিক কোষের বৃদ্ধি শুরু হওয়ার আগেই ঝুঁকি কমানোর নতুন পথ তৈরি হতে পারে। মায়ো ক্লিনিকের তথ্য অনুযায়ী, ঘন স্তন টিস্যু ম্যামোগ্রামে সাদা অংশ হিসেবে দেখা যায়। ফলে স্তনের অস্বাভাবিক পরিবর্তন শনাক্ত করা কঠিন হতে পারে। একই সঙ্গে ঘন টিস্যুর সঙ্গে স্তনের ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ার সম্পর্কও রয়েছে। নতুন গবেষণায় দেখা গেছে, ঘন স্তন টিস্যু স্বাভাবিক টিস্যুর তুলনায় বেশি শক্ত বা দৃঢ় হয়। এই শক্ত পরিবেশ স্তনে থাকা ম্যাক্রোফেজ নামের এক ধরনের রোগপ্রতিরোধী কোষের আচরণ বদলে দিতে পারে। এরপর এসব কোষ এমন কিছু রাসায়নিক তৈরি করতে পারে, যা আশপাশের কোষের ডিএনএতে পরিবর্তন ঘটিয়ে রোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। গবেষণাটির প্রধান গবেষক মেরি-কেট হেওয়ার্ড বলেন, দীর্ঘদিন ধরেই জানা ছিল যে ঘন স্তন টিস্যুর সঙ্গে ক্যানসারের ঝুঁকির সম্পর্ক রয়েছে। তবে এর পেছনের কারণ এতদিন পরিষ্কার ছিল না। নতুন গবেষণায় টিস্যুর শক্তভাব কীভাবে রোগপ্রতিরোধী কোষের আচরণ পরিবর্তন করে, তার একটি সম্ভাব্য প্রক্রিয়া সামনে এসেছে। গবেষকেরা স্তনের বিভিন্ন টিউমারের নমুনা বিশ্লেষণ করেছেন। পাশাপাশি টিউমারের শক্তভাব এবং টিস্যু শক্ত করতে ভূমিকা রাখা কোলাজেন নামের প্রোটিনের উপস্থিতিও পরীক্ষা করা হয়। এতে দেখা যায়, বেশি শক্ত অংশগুলোতে কোলাজেন, দাগের মতো টিস্যু, ম্যাক্রোফেজ এবং ডিএনএ পরিবর্তনের মাত্রা বেশি ছিল। গবেষণায় আরও দেখা যায়, শক্ত টিস্যুতে এসটিএটি৩ নামের একটি সংকেত-প্রক্রিয়া বেশি সক্রিয় থাকে। এই প্রক্রিয়া স্তনের কোষকে এমন সংকেত দিতে পারে, যার মাধ্যমে আরও বেশি ম্যাক্রোফেজ ওই এলাকায় চলে আসে। পরে এসব ম্যাক্রোফেজ এমন রাসায়নিক তৈরি করতে পারে, যা আশপাশের কোষে পরিবর্তন ঘটাতে সক্ষম। গবেষকেরা ল্যাবরেটরিতে বিভিন্ন ধরনের জেল ব্যবহার করে শক্ত টিস্যুর মতো পরিবেশ তৈরি করেন এবং পরে ইঁদুরের ওপরও পরীক্ষা চালান। এতে দেখা যায়, শক্ত পরিবেশ স্তনের কোষে এসটিএটি৩ সক্রিয় করতে পারে এবং এর মাধ্যমে ম্যাক্রোফেজ আকৃষ্ট হওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে। গবেষকেরা আরও একটি বিষয় শনাক্ত করেছেন। ম্যাক্রোফেজ থেকে তৈরি রিঅ্যাকটিভ অক্সিজেন স্পিসিস বা আরওএস ম্যাক্রোফেজের ভেতরের চর্বিজাতীয় উপাদানে ক্ষতি করতে পারে। এর ফলে অ্যালডিহাইড নামের কিছু রাসায়নিক তৈরি হয়, যা আশপাশের কোষে পৌঁছে ডিএনএতে পরিবর্তন ঘটাতে পারে। পরবর্তী পরীক্ষাগুলোতেও ঘন ও শক্ত স্তন টিস্যুর সঙ্গে বেশি ম্যাক্রোফেজ, বেশি অ্যালডিহাইড, বেশি ডিএনএ পরিবর্তন এবং রোগের আরও অগ্রসর অবস্থার সম্পর্ক পাওয়া গেছে। গবেষকেরা এখন এমন ওষুধ নিয়ে গবেষণা করতে চান, যা ম্যাক্রোফেজের ভেতরে ক্ষতিকর অ্যালডিহাইড তৈরি হওয়া ঠেকাতে পারে। তাদের আশা, এই প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হলে উচ্চঝুঁকির স্তন টিস্যুতে অস্বাভাবিক কোষের বৃদ্ধি শুরু হওয়ার আগেই রোগের ঝুঁকি কমানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে এটি এখনো প্রাথমিক পর্যায়ের গবেষণা। মানুষের ক্ষেত্রে এই পদ্ধতি রোগ প্রতিরোধে কার্যকর হবে কি না, তা নিশ্চিত করতে আরও গবেষণা প্রয়োজন। নতুন এই প্রক্রিয়াকে লক্ষ্য করে চিকিৎসা তৈরি করতেও আরও পরীক্ষা দরকার বলে জানিয়েছেন গবেষকেরা।আ
হাসপাতালে গুরুতর ব্যাকটেরিয়াল সংক্রমণের চিকিৎসায় বহুল ব্যবহৃত অ্যান্টিবায়োটিক সেফেপাইম নিয়ে নতুন এক গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উঠে এসেছে। গবেষণায় দেখা গেছে, একই শ্রেণির কিছু অন্য অ্যান্টিবায়োটিকের তুলনায় সেফেপাইম গ্রহণকারী রোগীদের মধ্যে গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকির হার কিছুটা বেশি ছিল। জেএএমএ নেটওয়ার্ক ওপেনে প্রকাশিত এই গবেষণায় ১১০টি র্যান্ডমাইজড ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়েছে। এসব গবেষণায় ২২ হাজারের বেশি রোগী অংশ নেন। তাদের মধ্যে প্রাপ্তবয়স্ক ও শিশু উভয়ই ছিলেন। নিউমোনিয়া, মূত্রনালির সংক্রমণ, মেনিনজাইটিসসহ বিভিন্ন গুরুতর ব্যাকটেরিয়াল সংক্রমণের চিকিৎসা নেওয়া রোগীদের তথ্য এতে অন্তর্ভুক্ত ছিল। গবেষণায় সেফেপাইম গ্রহণকারী ১১ হাজার ৭২৬ রোগীর মধ্যে ৭৭৮ জনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটে, যা ৬ দশমিক ৬ শতাংশ। অন্য অ্যান্টিবায়োটিক গ্রহণকারী রোগীদের ক্ষেত্রে এই হার ছিল ৬ দশমিক ২ শতাংশ। চিকিৎসা শুরুর প্রায় ৩০ দিনের মধ্যে বিভিন্ন কারণে ঘটে যাওয়া প্রাণহানির তথ্য বিশ্লেষণ করেছেন গবেষকেরা। বেইজিয়ান মেটা-অ্যানালাইসিসে গবেষকেরা দেখেছেন, অন্যান্য বিটা-ল্যাকটাম অ্যান্টিবায়োটিকের তুলনায় সেফেপাইমের সঙ্গে বেশি স্বাস্থ্যঝুঁকির সম্পর্ক থাকার সম্ভাবনা ৯৪ দশমিক ৪ শতাংশ। শুধু পিয়ার-রিভিউ হওয়া ৭৩টি প্রকাশিত গবেষণা নিয়ে বিশ্লেষণ করলে এই সম্ভাবনা বেড়ে ৯৮ দশমিক ৬ শতাংশ হয়। তবে গবেষণাটি সেফেপাইম সরাসরি প্রাণহানির কারণ—এমন প্রমাণ দেয়নি। গবেষকেরা জানিয়েছেন, তাদের বিশ্লেষণে ওষুধটির ব্যবহার এবং প্রাণহানির মধ্যে একটি সম্পর্কের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। গবেষণাগুলোর নকশা, রোগীদের ধরন, ওষুধের মাত্রা এবং তুলনা করা অ্যান্টিবায়োটিকের মধ্যে পার্থক্য থাকায় গবেষণাটির কিছু সীমাবদ্ধতাও রয়েছে। প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে এই সম্পর্ক শিশুদের তুলনায় বেশি দেখা গেছে। বিশেষ করে জ্বরের সঙ্গে শ্বেত রক্তকণিকার মাত্রা বিপজ্জনকভাবে কমে যাওয়া ‘ফিব্রাইল নিউট্রোপেনিয়া’তে আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে এই সম্পর্ক বেশি ছিল। তবে এসব রোগীর মূল শারীরিক অবস্থাও গুরুতর হওয়ায় প্রাণহানির পেছনে ওষুধের ভূমিকা আলাদাভাবে নির্ধারণ করা কঠিন বলে গবেষকেরা উল্লেখ করেছেন। গুরুতর ব্যাকটেরিয়াল সংক্রমণের চিকিৎসায় সেফেপাইম এখনো ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়। বিভিন্ন ধরনের ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে কার্যকর হওয়ায় হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের চিকিৎসায় এটি গুরুত্বপূর্ণ একটি অ্যান্টিবায়োটিক হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। গবেষকেরা সেফেপাইম ব্যবহার বন্ধ করার সুপারিশ করেননি। বরং ওষুধটির নিরাপত্তা সম্পর্কে আরও পরিষ্কার ধারণা পেতে অতিরিক্ত গবেষণা এবং চিকিৎসকদের জন্য আরও নির্দিষ্ট নির্দেশনার প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন। গবেষণায় ওষুধের মাত্রার বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে। মাত্রা খুব কম হলে সংক্রমণ যথাযথভাবে নিয়ন্ত্রণ নাও হতে পারে। আবার মাত্রা বেশি হলে গুরুতর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার ঝুঁকি বাড়তে পারে। বিশেষ করে বয়স্ক ব্যক্তি ও কিডনির সমস্যায় থাকা রোগীদের ক্ষেত্রে বিভ্রান্তি, চেতনা কমে যাওয়া বা খিঁচুনির মতো জটিলতা দেখা দিতে পারে। গবেষকদের মতে, রোগীর শারীরিক অবস্থা অনুযায়ী সেফেপাইমের সঠিক মাত্রা নির্ধারণ করা গুরুত্বপূর্ণ। বেশি মাত্রা ব্যাকটেরিয়া নিয়ন্ত্রণে কার্যকর হলেও এতে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার ঝুঁকি বাড়তে পারে। তাই চিকিৎসার ক্ষেত্রে সঠিক মাত্রা নির্ধারণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। ফক্স নিউজের সঙ্গে কথা বলার সময় গবেষণায় অংশ না নেওয়া চিকিৎসক মার্ক সিগেলও পুরোনো গবেষণাগুলো নতুন করে বিশ্লেষণের গুরুত্ব তুলে ধরেছেন। তার মতে, এ ধরনের রোগীদের ক্ষেত্রে মূল অসুস্থতা, ওষুধের মাত্রা এবং চিকিৎসার ফলাফল—সবকিছু আলাদাভাবে বিবেচনা করা প্রয়োজন।
ওজন কমানোর জনপ্রিয় ইনজেকশন ওষুধের ব্যবহার বাড়ায় ব্রিটেনের মানুষের খাবার ও বাইরে খাওয়ার অভ্যাসে পরিবর্তন আসছে। এর প্রভাব পড়ছে দেশটির পাব, বার, রেস্তোরাঁ ও হোটেল ব্যবসায়। স্কটিশ লাইসেন্সড ট্রেড অ্যাসোসিয়েশনের ৩০০টি প্রতিষ্ঠানের ওপর করা এক জরিপে ১৬ শতাংশ প্রতিষ্ঠান জানিয়েছে, ওজন কমানোর ওষুধের কারণে তাদের প্রতিষ্ঠানে গ্রাহক আসা কমেছে। আরও ২২ শতাংশ ব্যবসা জানিয়েছে, গ্রাহকেরা এখন খাবার ও পানীয় বাছাইয়ে আগের তুলনায় বেশি সতর্ক বা বাছাইপ্রবণ। স্কটল্যান্ডের লাইসেন্সপ্রাপ্ত ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর সংগঠন এসএলটিএর গ্রীষ্মকালীন ব্যবসা পরিস্থিতি বিষয়ক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জিএলপি-১ ধরনের ওজন কমানোর ওষুধ এখন হসপিটালিটি খাতের জন্য নতুন একটি চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে। তবে ব্যবসা কমার পেছনে শুধু ওজন কমানোর ওষুধ নয়, বাড়তি খরচ, কম ভোক্তা আস্থা এবং মানুষের হাতে কম খরচযোগ্য অর্থও ভূমিকা রাখছে। ওজন কমানোর ইনজেকশনগুলোর মধ্যে জিএলপি-১ ধরনের ওষুধ ক্ষুধা কমাতে এবং দীর্ঘ সময় পেট ভরা অনুভূতি তৈরি করতে কাজ করে। যুক্তরাজ্য সরকারের তথ্য অনুযায়ী, এই শ্রেণির ওষুধের মধ্যে সেমাগ্লুটাইড ও টিরজেপাটাইডের মতো ওষুধ রয়েছে। এগুলো নির্দিষ্ট চিকিৎসাগত শর্তে ওজন ব্যবস্থাপনার জন্য অনুমোদিত এবং চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ব্যবহার করা উচিত নয়। দ্য ইন্ডিপেনডেন্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাজ্যে প্রায় ১৬ লাখ প্রাপ্তবয়স্ক ওজন কমানোর ইনজেকশন ব্যবহার করছেন। এসব ওষুধ ক্ষুধা ও খাবারের প্রতি আকাঙ্ক্ষা কমিয়ে দেওয়ায় অনেক ব্যবহারকারীর বাইরে খাওয়া, স্ন্যাকস ও অ্যালকোহল গ্রহণের অভ্যাসেও পরিবর্তন আসছে। এর প্রভাব শুধু রেস্তোরাঁয় সীমাবদ্ধ থাকছে না। সাম্প্রতিক বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, জিএলপি-১ ওষুধের জনপ্রিয়তা বাড়ায় মানুষ কম স্ন্যাকস ও প্রক্রিয়াজাত খাবার কিনছে এবং প্রোটিন ও পুষ্টিকর খাবারের দিকে ঝুঁকছে। ব্রিটেনের কিছু সুপারমার্কেটও ছোট পরিমাণের খাবার এবং ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়ক পণ্যের দিকে নজর দিচ্ছে। এসএলটিএর জরিপে আরও দেখা গেছে, ৫৮ শতাংশ প্রতিষ্ঠান জানিয়েছে তাদের ব্যবসা বর্তমানে সংকুচিত হচ্ছে। একই সময়ে ৯৭ শতাংশ ব্যবসা পরিচালন ব্যয় বেড়েছে বলে জানিয়েছে এবং ৫৭ শতাংশ বলেছে, তাদের খরচ মূল্যস্ফীতির হারের চেয়েও উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি বেড়েছে। অর্থাৎ, ওজন কমানোর ওষুধের প্রভাবের পাশাপাশি ব্রিটেনের হসপিটালিটি খাত একাধিক অর্থনৈতিক চাপের মুখে রয়েছে। তবে এই পরিবর্তনকে শুধু ব্যবসার জন্য নেতিবাচক হিসেবে দেখছেন না বিশেষজ্ঞরা। মানুষের খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তনের ফলে স্বাস্থ্যকর, ছোট পরিমাণের এবং বেশি পুষ্টিকর খাবারের চাহিদা বাড়তে পারে। একই সঙ্গে রেস্তোরাঁ ও খাবারের প্রতিষ্ঠানগুলোও নতুন ভোক্তা চাহিদার সঙ্গে নিজেদের মেনু ও ব্যবসার কৌশল পরিবর্তন করছে। বিশেষজ্ঞরা অবশ্য মনে করিয়ে দিচ্ছেন, ওজন কমানোর এসব ওষুধ চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ব্যবহার করা নিরাপদ নয়। যুক্তরাজ্য সরকারের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, জিএলপি-১ ওষুধ কেবল অনুমোদিত চিকিৎসাগত ব্যবহারে এবং স্বাস্থ্যকর্মীর পরামর্শ অনুযায়ী নেওয়া উচিত। অনিয়ন্ত্রিত বিক্রেতা বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে এসব ওষুধ কেনার বিরুদ্ধেও সতর্ক করেছে সরকার। ফলে ওজন কমানোর ওষুধের জনপ্রিয়তা এখন শুধু স্বাস্থ্য ও চিকিৎসার বিষয়েই সীমাবদ্ধ নেই। মানুষের খাবার কেনা, রেস্তোরাঁয় যাওয়া এবং কী ধরনের খাবার খাচ্ছেন—সেসব অভ্যাসেও এর অর্থনৈতিক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। ব্রিটেনের হসপিটালিটি খাতের সাম্প্রতিক জরিপ সেই পরিবর্তনের একটি চিত্র তুলে ধরছে।
বিয়ে হয়েছে মেডিকেলে পড়ার সময়, পরের বছরই কোলে এসেছে প্রথম সন্তান। তখন আশপাশের অনেকেই ধরে নিয়েছিলেন, কুদসিয়া হুদার পেশাজীবন হয়তো আর খুব বেশি দূর এগোবে না। কিন্তু সেই ধারণাকে ভুল প্রমাণ করে বাংলাদেশের এই চিকিৎসক এখন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার জেনেভা সদর দপ্তরে ডিজাস্টার রিস্ক ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড রেজিলিয়েন্স ইউনিটের প্রধান। দীর্ঘদিন ধরে জনস্বাস্থ্য, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও মানবিক সংকটে নেতৃত্ব দেওয়ার স্বীকৃতিও এসেছে আন্তর্জাতিক পরিসরে। কুদসিয়া হুদা ঢাকায় বেড়ে উঠেছেন। পড়াশোনা করেছেন ভিকারুননিসা নূন স্কুল ও হলিক্রস কলেজে। এরপর চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে ভর্তি হন স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজে। মেডিকেলের তৃতীয় বর্ষে বিয়ে এবং চতুর্থ বর্ষে প্রথম সন্তানের জন্ম হলেও পড়াশোনা থামাননি। ১৯৯১ সালে এমবিবিএস শেষ করে চিকিৎসা পেশায় প্রবেশ করেন। পরবর্তী সময়ে বিসিএস স্বাস্থ্য ক্যাডারে যোগ দিয়ে পঞ্চগড়ে কাজ করেন তিনি। দেশের প্রান্তিক এলাকার মানুষের স্বাস্থ্যসেবার বাস্তবতা খুব কাছ থেকে দেখার সেই অভিজ্ঞতাই তাকে ধীরে ধীরে জনস্বাস্থ্যের দিকে নিয়ে যায়। পরে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনাসংক্রান্ত কাজে যুক্ত হন। সেখান থেকেই দুর্যোগের সময় মানুষের জীবন ও স্বাস্থ্যব্যবস্থা রক্ষার বিষয়টি তার পেশাজীবনের অন্যতম প্রধান ক্ষেত্র হয়ে ওঠে। উচ্চশিক্ষার জন্য একসময় পাড়ি জমান যুক্তরাষ্ট্রে। দুই ছোট সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে বোস্টনে সংসার, সন্তানদের দেখাশোনা এবং নিজের পড়াশোনা একসঙ্গে চালিয়ে যান। হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়সহ একাধিক প্রতিষ্ঠানে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেন তিনি। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের তথ্যেও হার্ভার্ড, টাফটস, এমআইটি ও ইউনিভার্সিটি অব লিডসে তার উচ্চশিক্ষা ও প্রশিক্ষণের কথা উল্লেখ রয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থায় যোগ দেওয়ার পর তার কাজের পরিধি আরও বিস্তৃত হয়। ইরানের ভূমিকম্প, দক্ষিণ এশিয়ার সুনামি, পাকিস্তানের বন্যা ও ভূমিকম্প থেকে শুরু করে আফগানিস্তান, লিবিয়া, ইয়েমেন, সুদান ও সিরিয়ার মানবিক সংকটে কাজ করেছেন তিনি। জিকা, ইবোলা এবং কোভিড-১৯ মহামারির প্রস্তুতি ও মোকাবিলার কাজেও যুক্ত ছিলেন কুদসিয়া। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এবং আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান পরিষদের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, কুদসিয়া হুদার দুর্যোগ, জনস্বাস্থ্য, হেলথ সিকিউরিটি ও মানবিক সংকট মোকাবিলায় দুই দশকের বেশি অভিজ্ঞতা রয়েছে। বর্তমানে তিনি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হেলথ ইমার্জেন্সিস প্রোগ্রামের ডিজাস্টার রিস্ক ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড রেজিলিয়েন্স ইউনিটের প্রধান। বিশ্বজুড়ে দুর্যোগের ঝুঁকি কমানো এবং জরুরি পরিস্থিতিতেও স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে কার্যকর রাখার কৌশল তৈরিতে তার ইউনিট কাজ করে। এই দীর্ঘ পথচলার পেছনে আছে অনেক কঠিন অভিজ্ঞতাও। ইরানে ভয়াবহ ভূমিকম্পের পর একটি আশ্রয়শিবিরে চার বছরের এক শিশুর সঙ্গে দেখা হয়েছিল তার। ভূমিকম্পে মাকে হারানো শিশুটি তাকে জিজ্ঞেস করেছিল, তিনি তার মাকে ফিরিয়ে এনে দিতে পারবেন কি না। নিজের সন্তানদের কথা মনে পড়ে সেই মুহূর্তটি কুদসিয়াকেও গভীরভাবে নাড়া দিয়েছিল। এত ব্যস্ততার মধ্যেও নিজের আরেকটি পরিচয় ধরে রেখেছেন তিনি। ‘দীপা ফিরোজ’ নামে লেখালেখি করেছেন, প্রকাশিত হয়েছে একাধিক বই। গান এবং লেখালেখিকে নিজের মানসিক প্রশান্তির জায়গা হিসেবে দেখেন। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কাজ করলেও শাড়ি ও বাঙালি সাজের প্রতি তার ভালোবাসাও রয়ে গেছে। তার দুই মেয়েও এখন নিজ নিজ পেশায় প্রতিষ্ঠিত। একজন বিশ্বব্যাংকে কাজ করছেন, অন্যজন স্থাপত্য পেশায় যুক্ত। কুদসিয়া হুদার পেশাগত পরিচয়ের সবচেয়ে বড় দিক সম্ভবত কোনো একটি পদ নয়। বাংলাদেশের মেডিকেল কলেজের একজন শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে বিশ্বের বড় বড় দুর্যোগ ও স্বাস্থ্য সংকট মোকাবিলায় নেতৃত্ব দেওয়ার জায়গায় পৌঁছাতে তাকে একই সঙ্গে সামলাতে হয়েছে মাতৃত্ব, সংসার, উচ্চশিক্ষা ও পেশা। একসময় যাকে বলা হয়েছিল বিয়ে ও সন্তান হওয়ার পর তার ক্যারিয়ার আর এগোবে না, সেই কুদসিয়া হুদাই এখন জেনেভায় বসে বিশ্বজুড়ে দুর্যোগে মানুষের স্বাস্থ্য ও জীবন রক্ষার নীতি তৈরির কাজে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তার পথচলা তাই শুধু একজন বাংলাদেশি নারীর পেশাগত সাফল্যের গল্প নয়, জীবনের দায়িত্ব সামলিয়েও নিজের স্বপ্ন ধরে রাখার এক দীর্ঘ যাত্রা।
চার বছর ধরে শ্বাসকষ্ট, অস্বাভাবিক ক্লান্তি, বুকব্যথা ও দৈনন্দিন কাজকর্মে শারীরিক দুর্বলতায় ভুগছিলেন যুক্তরাজ্যের দুই সন্তানের জননী অ্যাবিগেইল লুইস। বারবার চিকিৎসকের শরণাপন্ন হলেও তাকে বলা হয়, তিনি উদ্বেগজনিত সমস্যা ও প্যানিক অ্যাটাকে ভুগছেন। এমনকি পাঁচ থেকে ছয়বার তাকে মানসিক স্বাস্থ্যসেবার জন্য পাঠানো হয়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের পরীক্ষায় ধরা পড়ে, তার হৃদযন্ত্রের একটি ভালভে গুরুতর ত্রুটি রয়েছে এবং তিনি বিরল জন্মগত হৃদরোগ ‘এবস্টেইনের অ্যানোমালি’-তে আক্রান্ত। ব্রিটিশ সংবাদ সংস্থা এসডব্লিউএনএসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৩৬ বছর বয়সী অ্যাবিগেইল ২০২১ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে বহুবার পারিবারিক চিকিৎসকের কাছে যান। সে সময় তিনি শ্বাসকষ্ট, দ্রুত ক্লান্ত হয়ে পড়া, ওজন বৃদ্ধি এবং শরীরচর্চা করতে গিয়ে অস্বাভাবিক দুর্বলতার মতো সমস্যার কথা জানান। কিন্তু চিকিৎসকেরা তার সমস্যাকে উদ্বেগ ও প্যানিক অ্যাটাকের লক্ষণ হিসেবে বিবেচনা করেন। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে কর্মস্থলে সিঁড়ি বেয়ে ওপরে উঠতে না পেরে এবং তীব্র বুকব্যথা অনুভব করলে তিনি জরুরি বিভাগে যান। সেখানে পরীক্ষায় তার হৃদযন্ত্রে ‘রাইট বান্ডল ব্রাঞ্চ ব্লক (আরবিবিবি)’ নামে একটি বৈদ্যুতিক সংকেতজনিত সমস্যা এবং হার্ট মারমারের সন্দেহ ধরা পড়ে। পরে তাকে হৃদরোগ বিশেষজ্ঞের কাছে পাঠানো হয়। ২৪ ঘণ্টার ইসিজি পর্যবেক্ষণ ও ইকোকার্ডিওগ্রাম পরীক্ষার মাধ্যমে চিকিৎসকেরা নিশ্চিত হন, তার হৃদযন্ত্রের ট্রাইকাসপিড ভালভ দিয়ে রক্ত ফিরে যাচ্ছে, অর্থাৎ ভালভে লিক রয়েছে। আরও বিস্তারিত পরীক্ষার জন্য তাকে লন্ডনের রয়্যাল ব্রম্পটন হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানেই নিশ্চিত করা হয় যে তিনি ‘এবস্টেইনের অ্যানোমালি’ নামের একটি বিরল জন্মগত হৃদরোগে আক্রান্ত। এই রোগে ট্রাইকাসপিড ভালভ স্বাভাবিকভাবে গঠিত হয় না। ফলে হৃদযন্ত্রের প্রকোষ্ঠগুলোর মধ্যে রক্তপ্রবাহ ব্যাহত হয় এবং রক্ত উল্টো দিকে ফিরে যেতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, রোগটি অত্যন্ত বিরল। বর্তমানে বিশ্বে প্রায় ৪০ হাজার মানুষ এই রোগে আক্রান্ত বলে ধারণা করা হয়, যাদের অধিকাংশই শিশু। রোগ শনাক্ত হওয়ার পর চিকিৎসকেরা জানান, অ্যাবিগেইলের জীবন বাঁচাতে অস্ত্রোপচার জরুরি। তবে অস্ত্রোপচারের ঝুঁকি কমাতে প্রথমে তাকে প্রায় ১০ কেজি (২২ পাউন্ড) ওজন কমাতে বলা হয়। এরপর ২০২৬ সালের মে মাসে তার ওপর প্রায় নয় ঘণ্টাব্যাপী ‘কোন প্রক্রিয়া’ নামে একটি জটিল অস্ত্রোপচার করা হয়। এতে চিকিৎসকেরা তার নিজের টিস্যু ব্যবহার করে ক্ষতিগ্রস্ত ট্রাইকাসপিড ভালভ পুনর্গঠন করেন। অস্ত্রোপচারের পরও তাকে নানা জটিলতার মুখোমুখি হতে হয়। বাইপাস অস্ত্রোপচারের পর তার নিউমোনিয়া হয়, দুই ফুসফুস সাময়িকভাবে ভেঙে পড়ে এবং হৃদযন্ত্রের স্বাভাবিক বৈদ্যুতিক কার্যক্রমও কিছু সময়ের জন্য বন্ধ হয়ে যায়। এমনকি চিকিৎসকেরা পেসমেকার বসানোর বিষয়টিও বিবেচনা করেছিলেন। তবে দুই সপ্তাহ পর হৃদযন্ত্র আবার স্বাভাবিক ছন্দে ফিরে আসে। প্রায় চার সপ্তাহ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার পর জুন মাসের মাঝামাঝি তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। বর্তমানে অস্ত্রোপচারের নয় সপ্তাহ পর তিনি সুস্থতার পথে রয়েছেন। আগস্টের শেষ দিকে তার ১২ সপ্তাহের কার্ডিয়াক পুনর্বাসন কর্মসূচি শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। অ্যাবিগেইল জানান, ছোটবেলাতেও তিনি অন্য শিশুদের মতো দৌড়ঝাঁপ করতে পারতেন না। ঠান্ডা না থাকলেও তার ঠোঁট নীলচে হয়ে যেত। তবে এত বছরেও কেউ তার জন্মগত হৃদরোগ শনাক্ত করতে পারেননি। তিনি বলেন, "আমি বুঝতেই পারি না কীভাবে ৩৬ বছর বয়স পর্যন্ত এই রোগ ধরা পড়েনি। এমনকি দুটি গর্ভধারণের সময়ও কেউ এটি শনাক্ত করতে পারেনি।" তিনি আরও বলেন, "আমি বারবার চিকিৎসকদের বলেছি, শুধু প্যানিক অ্যাটাক হলে সিঁড়ি বেয়ে ওঠা অসম্ভব হয়ে যায় না। কিন্তু তারা বারবার বলতেন আমার উদ্বেগজনিত সমস্যা রয়েছে। একসময় আমিও সেটাই বিশ্বাস করতে শুরু করেছিলাম।" অ্যাবিগেইল জানান, যেসব থেরাপিস্টের কাছে তাকে পাঠানো হয়েছিল, তারাও অবাক হয়েছিলেন। তাদের ভাষায়, তার মধ্যে উদ্বেগ বা বিষণ্নতার কোনো লক্ষণই ছিল না। অস্ত্রোপচারের অভিজ্ঞতা স্মরণ করে তিনি বলেন, "অস্ত্রোপচারের আগের দিনটাই ছিল সবচেয়ে ভয়ের। পরে চিকিৎসকেরা জানান, অপারেশন ছয় ঘণ্টা নয়, প্রায় নয় ঘণ্টা লাগবে।" তবে এখন তিনি আশাবাদী। তার ভাষায়, "আমি পুরোপুরি আগের মতো সুস্থ হব কি না জানি না। হয়তো আগের মতো স্বাভাবিক জীবন ফিরে পাব, হয়তো একটু ধীরগতির জীবন হবে। তবে দুই বছর আগে আমি জানতাম না আদৌ বেঁচে থাকব কি না। তাই এখন ভবিষ্যৎ নিয়ে আমি আশাবাদী।"
ফ্লোরিডায় বিরল কিন্তু প্রাণঘাতী ভিব্রিও ভালনিফিকাস (Vibrio vulnificus) ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণে আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে। অঙ্গরাজ্যের ম্যারিয়ন কাউন্টির ৬০ থেকে ৭৪ বছর বয়সী এক বাসিন্দা এই সংক্রমণে মারা গেছেন। এর মধ্য দিয়ে চলতি বছর ফ্লোরিডায় এ ব্যাকটেরিয়ায় মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়াল দুইজনে, আর মোট আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১৪। ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য এবং ফক্স ৩৫ অরল্যান্ডোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভিব্রিও ব্যাকটেরিয়া সাধারণত উষ্ণ, লবণাক্ত বা অল্প লবণাক্ত উপকূলীয় পানিতে স্বাভাবিকভাবেই থাকে। শরীরে কোনো কাটা বা খোলা ক্ষত থাকলে সেই পথ দিয়ে ব্যাকটেরিয়া প্রবেশ করতে পারে। সংক্রমণের ঘটনা তুলনামূলকভাবে বিরল হলেও এটি খুব দ্রুত গুরুতর রূপ নিতে পারে। গত বছর ফ্লোরিডায় এ ব্যাকটেরিয়ায় মোট ৩৩ জন আক্রান্ত হন এবং পাঁচজনের মৃত্যু হয়। চলতি বছর এখন পর্যন্ত ১৪টি সংক্রমণের ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে, যার মধ্যে দুইজন মারা গেছেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সংক্রমণের শুরুতে লক্ষণ সাধারণ মনে হলেও অল্প সময়ের মধ্যেই এটি জীবনহানিকর অবস্থায় পৌঁছাতে পারে। ব্যাকটেরিয়াটি ত্বক ও নরম টিস্যু দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে বলেই এটি অনেক সময় ‘মাংসখেকো ব্যাকটেরিয়া’ নামে পরিচিত। তবে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় এটি মানুষের মাংস খায় না; বরং গুরুতর সংক্রমণের কারণে টিস্যুর ক্ষয় ঘটায়। এই সংক্রমণ থেকে বেঁচে যাওয়া জেনেভিভ গ্যালাঘার জানান, পরিবারের সঙ্গে নৌভ্রমণের সময় শরীরে একটি ছোট ক্ষত নিয়ে পানিতে নামার পর কয়েক দিনের মধ্যেই তার অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটে। তিনি অন্যদের সতর্ক করে বলেন, শরীরে যদি সামান্য কাটা বা আঁচড়ও থাকে, এমনকি চুলকানোর কারণে খোলা মশার কামড়ের দাগও থাকে, তাহলে লবণাক্ত পানিতে নামা উচিত নয়। তার ভাষায়, “এটি অত্যন্ত গুরুতর। এমন ঝুঁকি নেওয়া ঠিক নয়।” সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় প্রতিরোধে নতুন প্রযুক্তির ব্যবহার শুরু করেছেন গবেষকেরা। ইউনিভার্সিটি অব ফ্লোরিডার পরিবেশ প্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. আন্তারপ্রীত জুটলার নেতৃত্বে একটি গবেষক দল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এবং নাসার স্যাটেলাইট তথ্য ব্যবহার করে উপকূলীয় পানিতে এই ব্যাকটেরিয়ার বিস্তার আগাম শনাক্ত করার প্রযুক্তি তৈরি করছেন। যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউটস অব হেলথের (এনআইএইচ) অর্থায়নে পরিচালিত এ প্রকল্পের লক্ষ্য হলো আগামী ১২ থেকে ১৮ মাসের মধ্যে একটি আগাম সতর্কতা ব্যবস্থা চালু করা। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে কোন এলাকায় সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ছে, তা আগে থেকেই স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষকে জানানো সম্ভব হবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, এআইয়ের পূর্বাভাসের ভিত্তিতে স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগ ও পরিবেশ সংস্থাগুলো সংশ্লিষ্ট এলাকার পানির নমুনা সংগ্রহ করবে। পরে সেগুলো ইউনিভার্সিটি অব ফ্লোরিডার পরীক্ষাগারে বিশ্লেষণ করা হবে। এতে সম্ভাব্য সংক্রমণ ছড়ানোর আগেই জনগণকে সতর্ক করা এবং প্রাণহানি কমানো সম্ভব হবে বলে আশা করছেন গবেষকেরা। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিয়েছেন, শরীরে কোনো ধরনের কাটা বা খোলা ক্ষত থাকলে সমুদ্র বা লবণাক্ত পানিতে না নামাই নিরাপদ। পাশাপাশি উপকূলীয় পানি থেকে উঠে ক্ষতস্থান দ্রুত পরিষ্কার করা এবং সংক্রমণের লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। সংবাদমাধ্যম ফক্স ৩৫ অরল্যান্ডো জানিয়েছে, ফ্লোরিডা স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্যের ভিত্তিতে এ প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদের সদস্য আলেকজান্দ্রিয়া ওকাসিও-কর্টেজ ডিম্বাণু সংরক্ষণের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন। শনিবার রাতে ইনস্টাগ্রাম লাইভে নিজের প্রজননস্বাস্থ্য নিয়ে কথা বলার সময় তিনি হরমোনের ইনজেকশন নেওয়ার দৃশ্যও অনুসারীদের সঙ্গে শেয়ার করেন। ওকাসিও-কর্টেজ জানান, দীর্ঘ সময় বিষয়টি নিয়ে ভাবার পর তিনি ডিম্বাণু সংরক্ষণের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। নিজের ব্যক্তিগত জীবন সাধারণত গোপন রাখলেও নারীদের শরীর ও প্রজননস্বাস্থ্য নিয়ে পর্যাপ্ত শিক্ষা ও তথ্যের অভাব রয়েছে বলে মনে করেন তিনি। সেই কারণেই নিজের অভিজ্ঞতা প্রকাশ্যে জানানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ইনস্টাগ্রাম লাইভে তিনি জানান, চিকিৎসা প্রক্রিয়ার প্রস্তুতির অংশ হিসেবে তাকে হরমোনের ইনজেকশন নিতে হচ্ছে। প্রথমবার ইনজেকশন নেওয়ার অভিজ্ঞতা তেমন খারাপ ছিল না বলেও জানান তিনি। এবিসির একটি অনুষ্ঠানে উপস্থিত হওয়ার আগে আরও কয়েকটি ইনজেকশন নেওয়ার কথা ছিল তাঁর। নারীদের শরীর সম্পর্কে ছোটবেলা থেকেই পর্যাপ্ত শিক্ষা দেওয়া হয় না বলেও মন্তব্য করেন ওকাসিও-কর্টেজ। বয়ঃসন্ধি, গর্ভাবস্থা, গর্ভধারণের আগের সময় এবং মেনোপজসহ নারীদের জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে শরীরের পরিবর্তন সম্পর্কে আরও প্রস্তুতি ও তথ্যের প্রয়োজন রয়েছে বলে তিনি মনে করেন। নিজের সিদ্ধান্ত প্রকাশ্যে জানানোর কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি বলেন, রাজনৈতিক পরিবেশেও নারীদের প্রজননসংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নিয়ে নানা ধরনের চাপ রয়েছে। তাঁর মতে, নারীদের নিজেদের জীবন ও ভবিষ্যৎ নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে আরও নিয়ন্ত্রণ থাকা প্রয়োজন। ওকাসিও-কর্টেজ জানান, ২৯ বছর বয়সে তিনি প্রতিনিধি পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রতিনিধি পরিষদে নির্বাচিত সবচেয়ে কম বয়সী নারী ছিলেন। রাজনীতিতে প্রবেশের পর ব্যক্তিগত জীবনের অনেক বিষয়ও জনসম্মুখে চলে আসে বলে তিনি উল্লেখ করেন। নারীদের পরিবার পরিকল্পনা ও বয়স নিয়ে যে ধরনের প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয়, পুরুষদের ক্ষেত্রে তা একইভাবে দেখা যায় না বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, পুরুষ রাজনীতিক বা চাকরিপ্রার্থীদের ব্যক্তিগত জীবন ও পরিবার গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়ে একই ধরনের প্রশ্নের মুখে পড়তে হয় না। ডিম্বাণু সংরক্ষণের সিদ্ধান্ত প্রকাশ্যে জানানোর ক্ষেত্রে সম্ভাব্য রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়ার বিষয়টিও তিনি বিবেচনা করেছেন। তবে এ কারণে নিজের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করবেন না বলেও স্পষ্ট করেন তিনি। প্রজননস্বাস্থ্য নিয়ে প্রকাশ্যে কথা বলার কারণে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর বক্তব্যের পক্ষে ও বিপক্ষে বিভিন্ন প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। কেউ নারীদের ডিম্বাণু সংরক্ষণ এবং সন্তান নেওয়ার প্রস্তুতি নিয়ে আরও খোলামেলা আলোচনার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন, আবার কেউ তাঁর প্রকাশ্যে ইনজেকশন নেওয়ার বিষয়টি নিয়ে সমালোচনা করেন। রোববার এবিসির ‘দিস উইক’ অনুষ্ঠানে উপস্থাপক জোনাথন কার্লের সঙ্গে আলোচনাতেও নিজের সিদ্ধান্তের কথা বলেন ওকাসিও-কর্টেজ। তিনি জানান, বর্তমান রাজনৈতিক পরিবেশে নারীদের প্রজননস্বাস্থ্য ও চিকিৎসাসংক্রান্ত বিষয় নিয়ে এসব প্রক্রিয়া প্রকাশ্যে আলোচনা করা গুরুত্বপূর্ণ। নারীদের প্রজননস্বাস্থ্য নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে কথা বলে আসা ওকাসিও-কর্টেজ মনে করেন, এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা হলে নারীরা নিজেদের শরীর ও ভবিষ্যৎ নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে আরও সচেতন হতে পারবেন।
বিয়ের দিন নিজেকে সবচেয়ে সুন্দর দেখাতে চান সব নারীই। আর এই বিশেষ দিনে রাজকন্যার মতো সাজার স্বপ্ন ছিল যুক্তরাজ্যের কেমব্রিজশায়ারের বাসিন্দা ২৬ বছর বয়সী পলি বিবির। পেশায় ইলাস্ট্রেটর এই তরুণী সাধারণত খুব হালকা মেকআপ করতে পছন্দ করলেও, বিয়ের জন্য নিজেকে একটু ভিন্নভাবে সাজাতে চেয়েছিলেন। আর সেই শখ পূরণ করতে গিয়েই বাঁধে বিপত্তি। চোখের সৌন্দর্য বাড়াতে কৃত্রিম পাপড়ি বা 'ফলস আইল্যাশ' লাগিয়েছিলেন তিনি, যার জেরে মারাত্মক অ্যালার্জির শিকার হয়ে প্রায় অন্ধ হতে বসেছিলেন এই হবু কনে। মার্কিন সম্প্রচারমাধ্যম ফক্স নিউজ এবং কেনেডি নিউজ অ্যান্ড মিডিয়ার প্রতিবেদন অনুযায়ী, জুলাই মাসের শুরুর দিকে বিয়ের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে আইল্যাশ এক্সটেনশন বা চোখের কৃত্রিম পাপড়ি লাগানোর সিদ্ধান্ত নেন পলি। এর জন্য তাঁর খরচ হয়েছিল প্রায় ৮৮ মার্কিন ডলার। নিয়ম অনুযায়ী প্রথমে তাঁর ত্বকে প্যাচ টেস্ট বা সংবেদনশীলতা পরীক্ষা করা হয়েছিল। সেখানে কোনো ধরনের অ্যালার্জির লক্ষণ দেখা না দেওয়ায় তিনি মূল প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করেন। শুরুতে নিজের এই নতুন ও আকর্ষণীয় রূপ দেখে বেশ খুশিই হয়েছিলেন তিনি। কিন্তু সেই আনন্দ খুব বেশি সময় স্থায়ী হয়নি। পার্লার থেকে ফেরার চার-পাঁচ ঘণ্টা পর তাঁর হবু স্বামী ২৯ বছর বয়সী বেঞ্জামিন মে খেয়াল করেন পলির চোখ কিছুটা লাল হয়ে আছে। চোখ থেকে পানি পড়া এবং ব্যথার উপসর্গগুলোকে পলি প্রথমে সাধারণ অ্যালার্জি বা হে ফিভার ভেবে এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। তবে সন্ধ্যা গড়াতেই পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নেয়। চোখ অসম্ভব লাল হয়ে যায়, তীব্র জ্বালা করতে থাকে এবং হলদেটে আঠালো পদার্থ বের হয়ে চোখের পাতা একে অপরের সঙ্গে আটকে যেতে থাকে। নিজের দৃষ্টিশক্তি ঝাপসা হতে দেখে চরম আতঙ্কিত হয়ে পড়েন পলি। তিনি বুঝতে পারেন, তাঁর চোখের দৃষ্টি ক্রমশ ক্ষীণ হয়ে আসছে এবং তিনি প্রায় কিছুই দেখতে পাচ্ছেন না। উপায় না দেখে দ্রুত একটি জরুরি চিকিৎসাসেবা নম্বরে কল করেন তিনি। সেখান থেকে তাঁকে তাৎক্ষণিকভাবে নিকটস্থ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। এরপর কেমব্রিজের হিঞ্চিংব্রুক হাসপাতালের চক্ষু ইউনিটের নার্সরা তাঁর চোখ পরীক্ষা করে নিশ্চিত করেন যে, আইল্যাশ এক্সটেনশনে ব্যবহৃত আঠা বা রাসায়নিক থেকেই এই মারাত্মক অ্যালার্জির সৃষ্টি হয়েছে। চিকিৎসকরা পলিকে অ্যান্টিবায়োটিক এবং অ্যান্টিহিস্টামিন জাতীয় ওষুধ দেন। সেই সঙ্গে চোখের ফোলা ভাব কমানোর জন্য কৃত্রিম পাপড়িগুলো খোলার আগে তাঁকে তিন দিন অপেক্ষা করতে বলা হয়। পাপড়িগুলো অপসারণের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে গিয়ে পলি জানান, তাঁর মনে হচ্ছিল যেন চোখে অ্যাসিড ঢেলে দেওয়া হয়েছে। ব্যথায় তিনি চিৎকার করছিলেন ও কাঁদছিলেন। চিকিৎসার পর ধীরে ধীরে উন্নতি হলেও এখনও তাঁর চোখ লালচে হয়ে আছে, পাতা ফুলে আছে এবং দৃষ্টি কিছুটা ঝাপসা রয়ে গেছে। এই ধরনের প্রসাধনী ব্যবহারের ঝুঁকি সম্পর্কে আমেরিকান একাডেমি অফ অফথালমোলজির ওয়েবসাইটের এক বিবৃতিতে ন্যাশভিলের বোর্ড-সার্টিফাইড চক্ষু বিশেষজ্ঞ ডা. রেবেকা জে. টেলর সতর্ক করেছেন। তিনি বলেন, চোখের নিরাপত্তার জন্য সব সময় পরিচ্ছন্ন পরিবেশে অভিজ্ঞ রূপসজ্জাকরের মাধ্যমে কৃত্রিম পাপড়ি লাগানো উচিত। এ ছাড়া ত্বকের জন্য নিরাপদ রাসায়নিক ব্যবহার করা অত্যন্ত জরুরি। এই প্রক্রিয়ায় চোখের পাতা বা কর্নিয়ায় আঘাত, সংক্রমণ, আঠার কারণে অ্যালার্জি এবং স্থায়ী বা অস্থায়ীভাবে আসল পাপড়ি ঝরে যাওয়ার মতো ঝুঁকি থাকে। অপরিষ্কার সরঞ্জাম ব্যবহারের ফলেও চোখে বড় ধরনের ক্ষতি হতে পারে বলে উল্লেখ করেন তিনি। ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠলেও বিয়ের দিন পর্যন্ত চোখের লালচে ভাব সম্পূর্ণ দূর হবে কি না, তা নিয়ে গভীর দুশ্চিন্তায় আছেন পলি। অন্য কনেদের সতর্ক করতে নিজের এই তিক্ত অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছেন তিনি। তাঁর মতে, বিয়ের মতো জীবনের সবচেয়ে বড় দিনের এত কাছাকাছি সময়ে নতুন কোনো বিউটি ট্রিটমেন্ট বা রূপচর্চার ঝুঁকি নেওয়া মোটেও উচিত নয়। আক্ষেপ করে তিনি বলেন, মানুষের মুখে বিয়ের দিন নানা অঘটন ঘটার কথা মজার ছলে শুনলেও, নিজের বেলায় এমন কিছু ঘটবে তা তিনি ভাবতেই পারেননি। কৃত্রিম পাপড়ির বদলে সাধারণ মাশকারা ব্যবহার করাই তাঁর জন্য ভালো ছিল বলে এখন মনে করছেন তিনি।
সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রোস্টেট ক্যানসার হাড়সহ শরীরের আরও কয়েকটি অংশে ছড়িয়ে পড়েছে বলে জানিয়েছেন তার ছেলে হান্টার বাইডেন। তিনি বলেছেন, রোগটি এখন আগের তুলনায় অনেক বেশি জটিল পর্যায়ে রয়েছে এবং এটি তার বাবার জন্য অত্যন্ত কষ্টদায়ক হয়ে উঠেছে। খবর সিএনবিসি নিউজ ও বিবিসির। বিবিসির ‘নিউজনাইট’ অনুষ্ঠানে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে হান্টার বাইডেন ৮৩ বছর বয়সী বাবার বর্তমান শারীরিক অবস্থার বিষয়ে কথা বলেন। তিনি জানান, ক্যানসারটি হাড়ে এবং শরীরের আরও কিছু স্থানে ছড়িয়ে পড়েছে। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় এই অবস্থাকে মেটাস্টেসিস বলা হয়, অর্থাৎ মূল স্থান থেকে ক্যানসার শরীরের অন্য অংশে ছড়িয়ে যাওয়া। হান্টার বলেন, পরিস্থিতি পরিবারের জন্য অত্যন্ত কঠিন। তার ভাষায়, এই রোগটি খুবই যন্ত্রণাদায়ক এবং এটি বিভিন্নভাবে তার বাবাকে দুর্বল করে দিচ্ছে। তবে এত কিছুর পরও জো বাইডেন এখনো ঘরের বাইরে যাচ্ছেন, নিজের কাজ করছেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি তার দায়িত্ববোধ ও বিশ্বাস ধরে রেখেছেন। ২০২৫ সালের মে মাসে হোয়াইট হাউস ছাড়ার চার মাসেরও কম সময় পর জো বাইডেন প্রকাশ্যে জানান, তিনি আক্রমণাত্মক ধরনের প্রোস্টেট ক্যানসারে আক্রান্ত হয়েছেন। সে সময়ই চিকিৎসকেরা নিশ্চিত করেন, রোগটি তার হাড়েও ছড়িয়ে পড়েছে। এরপর তিনি হরমোন থেরাপি ও রেডিয়েশনসহ বিভিন্ন ধরনের চিকিৎসা গ্রহণ করেন। ২০২১ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন জো বাইডেন। দায়িত্বে থাকা অবস্থায় তার বয়স, শারীরিক সক্ষমতা এবং স্বাস্থ্য নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গন ও গণমাধ্যমে নিয়মিত আলোচনা হয়েছে। ২০২০ সালের নির্বাচনে জয়ী হওয়ার সময় তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি বয়সে নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ছিলেন। প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব ছাড়ার পরও বাইডেন জনজীবন থেকে পুরোপুরি সরে যাননি। চলতি বছরের জুনে তিনি শিকাগোতে সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার প্রেসিডেন্সিয়াল লাইব্রেরির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অংশ নেন। ২০০৯ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত ওবামা প্রশাসনে ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন তিনি। একই সাক্ষাৎকারে হান্টার বাইডেন তার বিরুদ্ধে থাকা মামলায় বাবার দেওয়া রাষ্ট্রপতির ক্ষমা নিয়েও কথা বলেন। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্বের শেষ দিকে জো বাইডেন ছেলে হান্টারকে ক্ষমা করেন। এর ফলে অস্ত্র ও করসংক্রান্ত ফেডারেল মামলায় দেওয়া দণ্ডও সেই ক্ষমার আওতায় পড়ে। উল্লেখ্য, এর আগে একাধিকবার জো বাইডেন বলেছিলেন, প্রেসিডেন্টের সাংবিধানিক ক্ষমতা ব্যবহার করে তিনি ছেলের মামলায় হস্তক্ষেপ করবেন না। তবে দায়িত্ব ছাড়ার আগে তিনি সেই অবস্থান পরিবর্তন করে ক্ষমার সিদ্ধান্ত নেন। জো বাইডেনের সর্বশেষ শারীরিক অবস্থা নিয়ে পরিবারের এই মন্তব্যের পর তার স্বাস্থ্য নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে তার চিকিৎসা পরিকল্পনা বা ভবিষ্যৎ স্বাস্থ্যগত অগ্রগতি নিয়ে চিকিৎসক বা পরিবারের পক্ষ থেকে নতুন কোনো বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।