বসকে বাঁচাতে কিডনি দান, অস্ত্রোপচারের পর সুস্থ হতে দেরি হওয়ায় চাকরিই হারালেন কর্মী
যুক্তরাষ্ট্রের লং আইল্যান্ডে নিজের বসের জীবন বাঁচাতে কিডনি দান করেছিলেন ডেবি স্টিভেন্স। কিন্তু কিডনি দানের পর অস্ত্রোপচারের জটিলতায় ভুগতে শুরু করার কয়েক মাসের মধ্যেই চাকরি হারানোর মুখে পড়েন তিনি। স্টিভেন্সের অভিযোগ, শারীরিক অসুস্থতার কারণে কাজে সমস্যা তৈরি হওয়ার পরই তার সঙ্গে কর্মক্ষেত্রে আচরণ বদলে যায়। তবে প্রতিষ্ঠানটি দাবি করেছে, কিডনি দান বা অস্ত্রোপচার নয়, কর্মদক্ষতার সমস্যার কারণেই তাকে চাকরি থেকে বাদ দেওয়া হয়েছিল।
ডেবি স্টিভেন্স লং আইল্যান্ডের একটি গাড়ি বিক্রয় প্রতিষ্ঠানে কাজ করতেন। তার বস জ্যাকলিন ব্রুচিয়ার কিডনি প্রতিস্থাপনের প্রয়োজন হলে স্টিভেন্স তাকে সাহায্য করার সিদ্ধান্ত নেন। সরাসরি বসের সঙ্গে তার কিডনি মিল না হওয়ায় চিকিৎসকেরা একটি কিডনি দান চেইনের মাধ্যমে বিষয়টি সমাধান করেন।
এই ব্যবস্থায় স্টিভেন্সের কিডনি অন্য এক রোগীর শরীরে প্রতিস্থাপন করা হয়। বিনিময়ে ওই দান প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ব্রুচিয়ার জন্য উপযুক্ত একটি কিডনি পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়। অর্থাৎ সরাসরি কিডনি না মিললেও স্টিভেন্সের দান শেষ পর্যন্ত তার বসের কিডনি প্রতিস্থাপনের পথ খুলে দেয়।
অস্ত্রোপচারের পর অবশ্য স্টিভেন্সের সুস্থ হয়ে ওঠার প্রক্রিয়া সহজ ছিল না। তার দাবি, তিনি স্নায়ুজনিত ক্ষতি, হজমের সমস্যা এবং আরও কিছু শারীরিক জটিলতায় ভুগতে থাকেন। প্রায় চার সপ্তাহ পর তিনি আবার কাজে ফিরলেও তখন থেকেই পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
স্টিভেন্সের ভাষ্য অনুযায়ী, অস্ত্রোপচার থেকে পুরোপুরি সুস্থ না হয়েও কাজে ফেরার পর অসুস্থতার কারণে ছুটি নেওয়ায় তাকে সমালোচনার মুখে পড়তে হয়। পরে তাকে আগের কর্মস্থল থেকে প্রায় ৫০ মাইল দূরের আরেকটি কর্মস্থলে বদলি করা হয়। শেষ পর্যন্ত চাকরিও হারান তিনি।
তবে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে তার অভিযোগ অস্বীকার করা হয়। কর্তৃপক্ষের দাবি, কিডনি দান কিংবা অস্ত্রোপচারের পর তার শারীরিক সমস্যার কারণে তাকে চাকরি থেকে বাদ দেওয়া হয়নি। বরং কর্মদক্ষতা-সংক্রান্ত সমস্যাই ছিল চাকরি হারানোর কারণ।
অন্যদিকে স্টিভেন্সের বক্তব্য ছিল ভিন্ন। তিনি মনে করেন, কিডনি দানের পর দেখা দেওয়া স্বাস্থ্যগত জটিলতার কারণে কাজে যে সমস্যাগুলো তৈরি হয়েছিল, তার সঙ্গেই পরবর্তী আচরণ ও চাকরি হারানোর ঘটনা সরাসরি সম্পর্কিত।
একজন বসের জীবন বাঁচাতে নিজের শরীরের একটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ দান করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন স্টিভেন্স। কিন্তু সেই মানবিক সিদ্ধান্তের কয়েক মাস পর তাকেই নিজের চাকরি টিকিয়ে রাখার জন্য লড়তে হয়েছে। ঘটনাটি কর্মক্ষেত্রে স্বাস্থ্যগত জটিলতা, কর্মীর অধিকার এবং অঙ্গদানের মতো ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তের পর কর্মজীবনে তৈরি হওয়া ঝুঁকি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রে চাকরি হারানো মানেই আয় বন্ধ হয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সব ধরনের সরকারি সহায়তার সুযোগও শেষ হয়ে যাওয়া নয়। পরিস্থিতি, আয়, পরিবারের সদস্যসংখ্যা, বসবাসের অঙ্গরাজ্য এবং অভিবাসন-সংক্রান্ত অবস্থার ওপর নির্ভর করে বেকার ব্যক্তি ও তার পরিবার বিভিন্ন সরকারি সহায়তার জন্য আবেদন করতে পারেন। এর মধ্যে রয়েছে বেকারত্ব বীমা, স্বাস্থ্যবিমা সহায়তা, খাদ্য সহায়তা, চাকরি খোঁজা ও প্রশিক্ষণ কর্মসূচি এবং কিছু ক্ষেত্রে নিম্নআয়ের পরিবারের জন্য নগদ সহায়তা। তবে এসব কর্মসূচির যোগ্যতার নিয়ম এক নয়। বিশেষ করে ২০২৫ সালের ফেডারেল আইন এবং ২০২৬ সালে কার্যকর বা পরিবর্তনশীল কিছু নিয়মের কারণে অভিবাসীদের ক্ষেত্রে সরকারি সুবিধা পাওয়ার যোগ্যতা আরও জটিল হয়েছে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সহায়তাগুলোর একটি হলো বেকারত্ব বীমা বা ইউআই। এটি ফেডারেল ও অঙ্গরাজ্য সরকারের যৌথ ব্যবস্থার অধীনে পরিচালিত হলেও প্রতিটি অঙ্গরাজ্য নিজস্ব নিয়ম অনুযায়ী সুবিধা দেয়। সাধারণত নিজের দোষে নয়, যেমন কর্মী ছাঁটাই বা কাজ না থাকার কারণে চাকরি হারালে এবং নির্দিষ্ট সময়ে পর্যাপ্ত কাজ ও মজুরির ইতিহাস থাকলে বেকারত্ব বীমা পাওয়ার সুযোগ থাকে। কত টাকা এবং কতদিন এই সুবিধা পাওয়া যাবে, তা অঙ্গরাজ্যভেদে ভিন্ন। অ-নাগরিকদের জন্যও বেকারত্ব বীমা পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। তবে সুবিধা দাবি করার সময় যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে কাজ করার অনুমতি থাকতে হয় এবং সংশ্লিষ্ট অঙ্গরাজ্য কর্তৃপক্ষ অভিবাসন-সংক্রান্ত অবস্থাও যাচাই করতে পারে। ফলে গ্রিন কার্ডধারী বা বৈধভাবে কাজের অনুমতি থাকা অন্য কর্মীরা শুধু মার্কিন নাগরিক নন বলে বেকারত্ব বীমা থেকে বাদ পড়েন না। চাকরি হারানোর পর যত দ্রুত সম্ভব যে অঙ্গরাজ্যে কাজ করতেন, সেই অঙ্গরাজ্যের বেকারত্ব বীমা কর্মসূচিতে আবেদন করা গুরুত্বপূর্ণ। শুধু চাকরি হারিয়েছেন বলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে সুবিধা পাওয়া যায় না। কাজের ইতিহাস, মজুরি এবং অন্যান্য নির্ধারিত শর্ত পূরণ করতে হয়। চাকরির সঙ্গে স্বাস্থ্যবিমা চলে গেলে আরেকটি বড় সমস্যা তৈরি হয়। চাকরি-ভিত্তিক স্বাস্থ্যবিমা হারালে স্বাস্থ্যবিমা বাজারের মাধ্যমে নতুন বিমা পরিকল্পনায় যাওয়ার সুযোগ থাকতে পারে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, চাকরি ছাড়া, চাকরি থেকে বরখাস্ত হওয়া বা অন্য কোনো কারণে চাকরির স্বাস্থ্যবিমা হারালেও বিশেষ নিবন্ধন সময়সীমার আওতায় নতুন পরিকল্পনার জন্য আবেদন করা যায়। সাধারণত চাকরির স্বাস্থ্যবিমা হারানোর ৬০ দিনের মধ্যে আবেদন করতে হয়। আয় কমে গেলে মাসিক প্রিমিয়াম কমানোর জন্য কর-ছাড় বা আর্থিক সহায়তা পাওয়ার যোগ্যতাও তৈরি হতে পারে। কিছু পরিবারের ক্ষেত্রে মেডিকেইডও গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প হতে পারে। তবে মেডিকেইড পাওয়ার যোগ্যতা অঙ্গরাজ্য, আয়, পরিবারের পরিস্থিতি এবং অন্যান্য বিষয়ের ওপর নির্ভর করে। ২০২৬ সালে মেডিকেইডের নিয়মেও বড় ধরনের পরিবর্তন আসছে। ফেডারেল আইনের অধীনে নির্দিষ্ট কিছু প্রাপ্তবয়স্কের ক্ষেত্রে মাসে অন্তত ৮০ ঘণ্টা কাজ, নির্দিষ্ট কর্মমুখী প্রশিক্ষণ, সামাজিক সেবা বা শিক্ষা কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার মতো শর্ত প্রযোজ্য হতে পারে। তবে কিছু মানুষ এসব শর্তের বাইরে থাকতে পারেন এবং অঙ্গরাজ্যভেদে বাস্তবায়নের সময়ও ভিন্ন হতে পারে। চাকরি হারিয়ে পরিবারের আয় কমে গেলে খাবারের খরচ সামলানোর জন্য খাদ্য সহায়তা কর্মসূচি বা স্ন্যাপের জন্যও আবেদন করা যেতে পারে। এটি সাধারণভাবে ‘ফুড স্ট্যাম্প’ নামে পরিচিত। স্ন্যাপের জন্য অঙ্গরাজ্যের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করতে হয় এবং আয়, সম্পদ ও পরিবারের সদস্যসংখ্যাসহ বিভিন্ন যোগ্যতার শর্ত পূরণ করতে হয়। ২০২৫ সালের নতুন ফেডারেল আইনের পর স্ন্যাপের কাজ-সংক্রান্ত শর্ত এবং অ-নাগরিকদের যোগ্যতার ক্ষেত্রেও পরিবর্তন এসেছে। অভিবাসীদের জন্য এ ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কতা জরুরি। কাগজপত্রবিহীন অভিবাসীরা সাধারণভাবে স্ন্যাপ পাওয়ার যোগ্য নন। নির্দিষ্ট কিছু বৈধভাবে অবস্থানরত অ-নাগরিক স্ন্যাপ পাওয়ার যোগ্য হতে পারেন। তবে অনেক ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রে অন্তত পাঁচ বছর বসবাসের শর্ত রয়েছে। ১৮ বছরের কম বয়সী শিশু এবং নির্দিষ্ট প্রতিবন্ধিতার কারণে সুবিধা পাওয়া কিছু ব্যক্তির ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম থাকতে পারে। পরিবারের কোনো সদস্য স্ন্যাপের জন্য অযোগ্য হলেও পরিবারের অন্য যোগ্য সদস্যরা আবেদন করতে পারেন। চাকরি হারানোর পর সরাসরি নগদ সহায়তা পাওয়ার সুযোগ সবার জন্য নেই। তবে পরিবারে ছোট সন্তান থাকলে এবং আয় খুব কম হলে অঙ্গরাজ্যের মাধ্যমে দরিদ্র পরিবারের জন্য সাময়িক সহায়তা কর্মসূচি বা ট্যানফের আওতায় সুবিধা পাওয়া যেতে পারে। এই কর্মসূচি মূলত নিম্নআয়ের পরিবারকে সহায়তা দেওয়ার জন্য পরিচালিত হয়। এর নিয়ম, সুবিধার পরিমাণ এবং যোগ্যতার শর্ত অঙ্গরাজ্যভেদে ভিন্ন। অন্যদিকে, সম্পূরক নিরাপত্তা আয় বা এসএসআই সাধারণ বেকার ভাতা নয়। ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সী, দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী অথবা নির্ধারিত ধরনের প্রতিবন্ধিতা রয়েছে এবং একই সঙ্গে সীমিত আয় ও সম্পদ রয়েছে, এমন ব্যক্তিরা নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করলে এসএসআই-এর জন্য যোগ্য হতে পারেন। তাই শুধু চাকরি হারিয়েছেন বলেই কেউ এসএসআই পাওয়ার যোগ্য হয়ে যান না। সরকারি সহায়তার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো নতুন চাকরি খোঁজা ও দক্ষতা উন্নয়ন। যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে প্রায় ২ হাজার ৩০০টি আমেরিকান জব সেন্টার রয়েছে। এসব কেন্দ্রে চাকরিপ্রার্থীরা বিনামূল্যে চাকরি খোঁজার সহায়তা, জীবনবৃত্তান্ত তৈরির পরামর্শ, সাক্ষাৎকারের প্রস্তুতি, পেশা নির্বাচন-সংক্রান্ত পরামর্শ, চাকরি খোঁজার কর্মশালা এবং বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কর্মসূচির তথ্য পেতে পারেন। কিছু কেন্দ্রে কম্পিউটার ও ইন্টারনেট ব্যবহারের সুবিধাও থাকে। বিশেষ করে যারা দীর্ঘদিন একই ধরনের কাজে ছিলেন এবং চাকরি হারানোর পর নতুন খাতে যেতে চান, তাদের জন্য এসব কেন্দ্র গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। স্থানীয় কেন্দ্রে গিয়ে কোন প্রশিক্ষণ বা কর্মসংস্থান কর্মসূচির জন্য তারা যোগ্য হতে পারেন, সে বিষয়েও তথ্য পাওয়া যায়। তবে একটি বিষয় মনে রাখা জরুরি, যুক্তরাষ্ট্রে সরকারি সহায়তার যোগ্যতা নির্ধারণে শুধু বেকার হওয়াই যথেষ্ট নয়। আবেদনকারীর অঙ্গরাজ্য, পারিবারিক আয়, সম্পদ, পরিবারের সদস্যসংখ্যা, কাজের ইতিহাস এবং অভিবাসন-সংক্রান্ত অবস্থার ওপর নিয়ম পরিবর্তিত হতে পারে। তাই একটি সরকারি সুবিধার যোগ্যতার নিয়ম দেখে অন্য সব সুবিধার ক্ষেত্রেও একই সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক নয়। চাকরি হারালে প্রথম কাজ হওয়া উচিত দ্রুত বেকারত্ব বীমার জন্য আবেদন করা। পাশাপাশি নিয়োগকর্তার কাছ থেকে চাকরি শেষ হওয়া বা কর্মী ছাঁটাই-সংক্রান্ত নথি, শেষ কয়েকটি বেতনপত্র এবং কাজের ইতিহাসের অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংরক্ষণ করা দরকার। চাকরি-ভিত্তিক স্বাস্থ্যবিমা কখন শেষ হবে, সেটিও জেনে রাখা গুরুত্বপূর্ণ। এরপর স্বাস্থ্যবিমা বাজার, মেডিকেইড অথবা চাকরি হারানোর পর সাময়িকভাবে আগের স্বাস্থ্যবিমা চালিয়ে যাওয়ার সুবিধা কোবরা, কোনটি প্রযোজ্য হতে পারে তা যাচাই করা যেতে পারে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, যোগ্যতা থাকলে সরকারি সহায়তার জন্য আবেদন করতে দ্বিধা না করা। তবে ২০২৬ সালে বিভিন্ন কর্মসূচির নিয়ম পরিবর্তিত হওয়ায়, বিশেষ করে অভিবাসীদের ক্ষেত্রে আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট অঙ্গরাজ্য বা ফেডারেল কর্তৃপক্ষের সর্বশেষ যোগ্যতার শর্ত যাচাই করা জরুরি।
নিউইয়র্কে বাংলাদেশি পরিবারগুলোর জন্য সুখবর, স্কুল শুরুর আগে মিলছে ফ্রি ব্যাকপ্যাক ও স্কুল সামগ্রী
বাবা-মা আইসিইর হাতে বন্দী, প্রতিবন্ধী দুই সন্তানের সামনে এখন কার আশ্রয়ে থাকবে!
বসকে বাঁচাতে কিডনি দান, অস্ত্রোপচারের পর সুস্থ হতে দেরি হওয়ায় চাকরিই হারালেন কর্মী
বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের কাছে বিশ্বের অন্যতম সেরা বিশ্ববিদ্যালয় ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি বা এমআইটিতে পড়ার সুযোগ পাওয়া অনেকটা স্বপ্নের মতো। সেই স্বপ্নই এবার বাস্তবে পরিণত করেছেন ঢাকার নটর ডেম কলেজের শিক্ষার্থী ফায়েজ আহমাদ। ২০২৬ সালের এইচএসসি ব্যাচের এই শিক্ষার্থী এমআইটিতে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পেয়েছেন। চলতি বছরের জুলাইয়ে তার এইচএসসি পরীক্ষা শেষ হয়েছে, আর আগামী সেপ্টেম্বরেই শুরু হবে এমআইটিতে তার নতুন অধ্যায়। রাজশাহীতে ২০০৮ সালে জন্ম ফায়েজের। তিন বড় ভাইবোনের সঙ্গে বেড়ে ওঠার সময় থেকেই পড়াশোনার পাশাপাশি নানা বিষয়ে জানার আগ্রহ তৈরি হয় তার। মাত্র চার বছর বয়সে ভাইবোনদের কাছ থেকেই দাবা খেলা শেখেন। এরপর ধীরে ধীরে একাডেমিক পড়াশোনার গণ্ডি পেরিয়ে বিজ্ঞান, গবেষণা, বিতর্ক, দাবা ও বিভিন্ন অলিম্পিয়াডে নিজেকে যুক্ত করেন। ফায়েজের এই পথচলায় সবচেয়ে বড় শক্তি ছিল তার পরিবার। নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি জানিয়েছেন, বাংলাদেশের অনেক পরিবার একাডেমিক পড়াশোনার ক্ষতি হবে আশঙ্কায় সন্তানদের সহশিক্ষা কার্যক্রম থেকে দূরে রাখেন। তবে তার বাবা-মা কখনো তাকে সেভাবে সীমাবদ্ধ করেননি। পরিবারের এই স্বাধীনতা ও সহযোগিতাই তাকে নিজের আগ্রহ অনুসরণ করার সুযোগ দিয়েছে। শুধু এমআইটিতে ভর্তি নয়, আন্তর্জাতিক পর্যায়েও নিজের মেধার প্রমাণ রেখেছেন ফায়েজ। ২০২৩ সালে আন্তর্জাতিক জুনিয়র সায়েন্স অলিম্পিয়াডে বাংলাদেশের হয়ে রৌপ্য পদক জেতেন তিনি। আন্তর্জাতিক জীববিজ্ঞান অলিম্পিয়াডেও ২০২৩ ও ২০২৪ সালে টানা দুটি ব্রোঞ্জ পদক অর্জন করেন। এসব অর্জন তাকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের একজন প্রতিশ্রুতিশীল তরুণ বিজ্ঞানমনস্ক শিক্ষার্থী হিসেবে পরিচিত করে। বিজ্ঞান অলিম্পিয়াডের পাশাপাশি গবেষণাতেও আগ্রহ রয়েছে ফায়েজের। তিনি বায়োইনফরমেটিকস নিয়ে গবেষণায় যুক্ত ছিলেন এবং ক্যানসার-সম্পর্কিত জৈবিক তথ্য বিশ্লেষণ নিয়েও কাজ করেছেন। উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থী হিসেবে গবেষণায় তার এই সম্পৃক্ততা এমআইটিতে আবেদনের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। দাবার প্রতিও তার রয়েছে দীর্ঘদিনের আগ্রহ। নটর ডেম কলেজের দাবা কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত থাকার পাশাপাশি জাতীয় পর্যায়ের বিভিন্ন প্রতিযোগিতাতেও অংশ নিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে বাংলা ও ইংরেজি বিতর্কেও সক্রিয় ছিলেন। এমআইটিতে ভর্তি হওয়ার খবর নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানিয়ে ফায়েজ বলেন, এই অর্জনের পেছনে বাবা-মা, ভাইবোন, শিক্ষক, বন্ধু এবং যারা ভর্তি প্রক্রিয়ায় তাকে সহযোগিতা করেছেন, সবার অবদান রয়েছে। এমআইটি থেকে তিনি বছরে ৯২ হাজার ৭৮৪ ডলারের আর্থিক সহায়তাও পেয়েছেন। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই সহায়তার আওতায় টিউশন, আবাসন, খাবার, হেলথ ইন্স্যুরেন্স ও অন্যান্য খরচ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ফায়েজের যাত্রা শুধু ব্যক্তিগত সাফল্যের গল্প নয়, বরং বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের জন্য সুযোগ ও সঠিক দিকনির্দেশনার গুরুত্বও সামনে আনে। রাজশাহীতে বেড়ে ওঠা এই তরুণ শিক্ষার্থী দেখিয়েছেন, নিয়মিত পড়াশোনার পাশাপাশি গবেষণা, অলিম্পিয়াড, বিতর্ক, দাবা ও অন্যান্য আগ্রহকে একসঙ্গে এগিয়ে নেওয়াও সম্ভব। এইচএসসি পরীক্ষার পর যখন অনেক শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন, তখন ফায়েজের সামনে খুলে গেছে বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ প্রযুক্তি ও গবেষণা বিশ্ববিদ্যালয়ের দরজা। আগামী সেপ্টেম্বর থেকে এমআইটির ২০৩০ সালের ব্যাচের শিক্ষার্থী হিসেবে শুরু হবে তার নতুন পথচলা।
মামদানি-পত্নীর সিরিয়া-লেবানন সফরে পুলিশ পাহারা নিয়ে পুলিশ বিভাগের বিরোধ
৯১১-এ ফোন করেছিল সন্তানরা, ততক্ষণে দুই সন্তানের মাকে অপহরণ করে হত্যা ডেপুটি প্রেমিকের
কলেজের ভুয়া প্রতিশ্রুতির শিকার, আদালতের রায়ে ১ লাখ ৭০ হাজার শিক্ষার্থীর স্টুডেন্ট লোন মাফ
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় শত শত বছরের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ বন্যার মতো একটি মহাদুর্যোগ যে কোনো সময় আঘাত হানতে পারে বলে সতর্ক করছেন বিজ্ঞানীরা। ‘এআরকে-স্টর্ম ২.০’ নামে পরিচিত সম্ভাব্য এই দুর্যোগে টানা প্রায় ৩০ দিন ধরে শক্তিশালী ঝড় ও বায়ুমণ্ডলীয় নদীর কারণে বিপুল বৃষ্টিপাত হতে পারে। এতে কোটি কোটি মানুষের জীবন ও সম্পদ ঝুঁকিতে পড়ার পাশাপাশি ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এক ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে। বিজ্ঞানীদের আশঙ্কা, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এ ধরনের মহাবন্যার সম্ভাবনা আগের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ক্যালিফোর্নিয়ার জলবায়ু বিজ্ঞানী ড্যানিয়েল সোয়েনের মতে, প্রশ্নটি এখন আর এমন বন্যা হবে কি না, বরং কখন হবে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, বৈশ্বিক উষ্ণায়নের আগে এমন ঘটনা ঘটতে হয়তো আরও কয়েক শতাব্দী অপেক্ষা করতে হতো, কিন্তু এখন তার নিজের জীবনকালেই এমন একটি দুর্যোগ দেখা দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এআরকে-স্টর্ম বলতে বোঝানো হচ্ছে একের পর এক শক্তিশালী ‘অ্যাটমসফেরিক রিভার’ বা বায়ুমণ্ডলীয় নদীর আঘাতে সৃষ্ট মহাঝড়। এগুলো আকাশে বিশাল জলীয়বাষ্পের প্রবাহ, যা উষ্ণমণ্ডলীয় অঞ্চল থেকে বিপুল পরিমাণ আর্দ্রতা পশ্চিম যুক্তরাষ্ট্রের দিকে নিয়ে আসে। পাহাড়ি এলাকায় পৌঁছানোর পর এই জলীয়বাষ্প ঘনীভূত হয়ে দীর্ঘস্থায়ী ভারী বৃষ্টি ও তুষারপাত ঘটাতে পারে। শক্তিশালী এসব বায়ুমণ্ডলীয় নদী একেকটি মিসিসিপি নদীর মোহনা দিয়ে প্রবাহিত পানির প্রায় ১৫ গুণ পরিমাণ পানি বহন করতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএস ২০১০ সালে প্রথম এআরকে-স্টর্মের সম্ভাব্য পরিস্থিতি তৈরি করে। এর ভিত্তি ছিল ক্যালিফোর্নিয়ার অতীতের ভয়াবহ বন্যা, বিশেষ করে ১৮৬১ ও ১৮৬২ সালের ধারাবাহিক ঝড়। ওই সময় প্রায় ৪৫ দিন ধরে প্রবল বৃষ্টিপাতের পর সেন্ট্রাল ভ্যালির কয়েক শ মাইল এলাকা কার্যত বিশাল অভ্যন্তরীণ সাগরে পরিণত হয়েছিল। বর্তমান পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হওয়ার অন্যতম কারণ জলবায়ু পরিবর্তন। উষ্ণ বায়ুমণ্ডল বেশি জলীয়বাষ্প ধারণ করতে পারে। নাসার তথ্য অনুযায়ী, তাপমাত্রা প্রতি ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস বাড়লে বায়ুমণ্ডলের জলীয়বাষ্প ধারণক্ষমতা প্রায় ৭ শতাংশ বৃদ্ধি পায়। ফলে ঝড়ের সময় বৃষ্টির পরিমাণও আরও বেশি হতে পারে। এর পাশাপাশি সিয়েরা নেভাদা পর্বতমালায় তুষারের পরিবর্তে বৃষ্টি বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। আগে শীতকালে পাহাড়ে জমে থাকা তুষার বসন্তে ধীরে ধীরে গলে নদীতে পানি সরবরাহ করত। কিন্তু উষ্ণ আবহাওয়ায় বেশি বৃষ্টি এবং তুষারের ওপর বৃষ্টিপাত হলে জমে থাকা তুষার দ্রুত গলে গিয়ে অল্প সময়ে বিপুল পরিমাণ পানি নদী ও নিচু এলাকায় নেমে আসতে পারে। বিজ্ঞানীরা এই দুই প্রভাবকে একসঙ্গে বড় ধরনের ঝুঁকি হিসেবে দেখছেন। এআরকে-স্টর্ম ২.০-এর মডেল অনুযায়ী, সিয়েরা নেভাদার দক্ষিণাঞ্চলের কিছু এলাকায় ঐতিহাসিক মহাঝড়ের তুলনায় পানির প্রবাহ ২০০ থেকে ৪০০ শতাংশ পর্যন্ত বেশি হতে পারে। একই গবেষণায় দেখা গেছে, গত শতাব্দীর শুরুর সময়ের তুলনায় মহাবন্যা সৃষ্টি করতে সক্ষম ঝড়ের ধারাবাহিকতার সম্ভাবনা ইতোমধ্যে দ্বিগুণের বেশি হয়েছে। বর্তমান হারে কার্বন নিঃসরণ অব্যাহত থাকলে ২০৬০ সালের মধ্যে অতীতে প্রায় ২০০ বছরে একবার ঘটতে পারে এমন বিপর্যয় প্রতি শতকে প্রায় তিনবার ঘটার পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে। সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে ক্যালিফোর্নিয়ার সেন্ট্রাল ভ্যালি। অঞ্চলটি একদিকে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কৃষি এলাকা, অন্যদিকে রাজ্যের পানি সরবরাহ ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। স্যাক্রামেন্টো ও সান জোয়াকিন নদীসহ বিভিন্ন নদী ও খালের পানি এই বিস্তীর্ণ নিচু এলাকায় প্রবাহিত হয়। বন্যা নিয়ন্ত্রণে শত শত মাইল বাঁধ, খাল, পাম্পিং স্টেশন ও জলাধার থাকলেও এগুলোর অনেকগুলো এমন জলবায়ুর কথা মাথায় রেখে তৈরি করা হয়েছিল, যখন শীতের বৃষ্টিপাত তুলনামূলকভাবে স্বল্পস্থায়ী ছিল এবং পাহাড়ের তুষার গলে ধীরে ধীরে নদীর পানি বাড়ত। প্রথম এআরকে-স্টর্ম পরিস্থিতির হিসাব অনুযায়ী, এমন একটি মহাঝড়ে ক্যালিফোর্নিয়ার বিভিন্ন এলাকায় পানির গভীরতা ২০ ফুট বা প্রায় ৬ মিটার পর্যন্ত হতে পারে। সান ফ্রান্সিসকো থেকে লস অ্যাঞ্জেলেস পর্যন্ত বিস্তৃত জনবসতিপূর্ণ এলাকায় বন্যার পানি ঢুকে পড়তে পারে এবং বিপুলসংখ্যক মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে হতে পারে। সম্ভাব্য অর্থনৈতিক ক্ষতির পরিমাণ এক ট্রিলিয়ন ডলারেরও বেশি হতে পারে বলে মডেলিংয়ে উঠে এসেছে। তবে বিজ্ঞানীরা এটিকে ভবিষ্যদ্বাণী হিসেবে দেখছেন না। এআরকে-স্টর্ম ২.০ একটি সম্ভাব্য দুর্যোগের মডেল বা পরিস্থিতি বিশ্লেষণ। ঠিক কোন বছর এমন ঘটনা ঘটবে, তা কেউ নিশ্চিত করে বলতে পারছেন না। তবে অতীতের ভূতাত্ত্বিক ও আবহাওয়াগত তথ্য এবং বর্তমান জলবায়ু পরিবর্তনের প্রবণতা দেখিয়ে বিজ্ঞানীরা বলছেন, ঝুঁকিটিকে আর উপেক্ষা করার সুযোগ নেই। ক্যালিফোর্নিয়ার কর্তৃপক্ষও বন্যার ঝুঁকি মোকাবিলায় প্রস্তুতি জোরদার করছে। স্থানীয় প্রশাসন ও জরুরি সেবা সংস্থাগুলো সম্ভাব্য বন্যার পরিস্থিতি নিয়ে মহড়া চালাচ্ছে। একই সঙ্গে উচ্চমাত্রার বন্যার ক্ষেত্রে কোন এলাকা, সড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো পানির নিচে যেতে পারে, তা নির্ধারণে আরও বিস্তারিত বন্যা মানচিত্র তৈরির কাজ চলছে। বিজ্ঞানীদের কাছে ক্যালিফোর্নিয়ার এই সম্ভাব্য মহাবন্যা তাই শুধু একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগের আশঙ্কা নয়। এটি এমন এক ঝুঁকি, যার সঙ্গে যুক্ত হয়ে আছে জলবায়ু পরিবর্তন, জনবসতির বিস্তার, কৃষি, পানি সরবরাহ এবং রাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর নিরাপত্তা। প্রস্তুতি কতটা কার্যকর হবে, শেষ পর্যন্ত সেটিই নির্ধারণ করতে পারে এমন একটি মহাদুর্যোগে ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা কতটা ভয়াবহ হবে।
১৬ বছর বয়সে ১৭০ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি, ৯ মিলিয়ন ডলারের বেশি বৃত্তির প্রস্তাব
যুক্তরাষ্ট্রে গ্রিন কার্ডের বড় পরিবর্তন, আবেদন করতে ফিরতে হতে পারে দেশে