সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আমেরিকা

শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক শক্তি ব্যবহারে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের সমঝোতা

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২৬ ৪:৫৭
শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক শক্তি ব্যবহারে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের সমঝোতা
শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক শক্তি ব্যবহারে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের সমঝোতা

শান্তিপূর্ণ ও বেসামরিক কাজে পারমাণবিক শক্তি ব্যবহারে সহযোগিতা বাড়াতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারক সই করেছে বাংলাদেশ। নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের ফাঁকে উচ্চপর্যায়ের আলোচনার পর শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) দুই দেশের প্রতিনিধিরা এই সমঝোতা স্মারকে সই করেন। 

 

বাংলাদেশের পক্ষে প্রধানমন্ত্রীর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসাদ এবং যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, জ্বালানি ও পরিবেশবিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি অব স্টেট জেকব হেলবার্গ এতে সই করেন। মার্কিন সরকারি নথিতেও হেলবার্গের এই দায়িত্ব নিশ্চিত করা হয়েছে। 

 

শনিবার বিএনপি মিডিয়া সেলের বিজ্ঞপ্তিতে প্রথম চুক্তিটির তথ্য জানানো হয়। পরে রেহান আসাদও সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। 

 

সমঝোতা স্মারকে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্র তাদের কূটনৈতিক সম্পর্কের কৌশলগত গুরুত্ব এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তায় এর প্রভাবের বিষয়টি স্বীকার করেছে। বিশেষ করে জ্বালানি নিরাপত্তায় পারমাণবিক শক্তির সম্ভাব্য ভূমিকা দুই দেশ গুরুত্বের সঙ্গে উল্লেখ করেছে। 

 

দুই দেশ আরও সম্মত হয়েছে, বেসামরিক পারমাণবিক খাতে যেকোনো সহযোগিতায় সর্বোচ্চ পর্যায়ের পারমাণবিক নিরাপত্তা, সিকিউরিটি, আন্তর্জাতিক সেফগার্ড এবং পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধের নীতি অনুসরণ করা হবে। বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্র উভয় দেশই পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তি বা এনপিটির সদস্য এবং আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার সেফগার্ড ব্যবস্থার আওতায় রয়েছে। 

 

এই সমঝোতার ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটও রয়েছে। বিএনপি মিডিয়া সেল এটিকে ১৯৮১ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময়ে নেওয়া উদ্যোগের ধারাবাহিকতা হিসেবে উল্লেখ করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের পুরোনো চুক্তির সরকারি নথিতেও দেখা যায়, বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্র ১৯৮১ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর ঢাকায় শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক শক্তি ব্যবহারে সহযোগিতা চুক্তি সই করেছিল; সেটি ১৯৮২ সালের ২৪ জুন কার্যকর হয়। 

 

সাম্প্রতিক সমঝোতার প্রক্রিয়াও কয়েক মাস ধরে এগোচ্ছিল। ইউএনবির তথ্য অনুযায়ী, দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক মার্কিন বিশেষ দূত সার্জিও গোরের বাংলাদেশ সফরের সময় ওয়াশিংটন বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতার একটি সমঝোতা স্মারকের প্রস্তাব দেয়। গত ৩ আগস্ট পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম জানিয়েছিলেন, বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থে হলে এ ধরনের সহযোগিতার প্রস্তাব ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করবে সরকার। 

 

চুক্তিটি এমন সময়ে হলো, যখন বাংলাদেশ দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানির উৎস সম্প্রসারণ ও বৈচিত্র্য আনার চেষ্টা করছে। পাবনার রূপপুরে দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মিত হয়েছে এবং পারমাণবিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতাও বাড়ানোর চেষ্টা চলছে। চলতি মাসে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার সাধারণ সম্মেলনেও বাংলাদেশ শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক প্রযুক্তি, সর্বোচ্চ নিরাপত্তা মান এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার প্রতি অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে। 

 

তবে নতুন সমঝোতা স্মারককে এখনই নতুন মার্কিন পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের চুক্তি হিসেবে দেখা ঠিক হবে না। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, এ ধরনের পারমাণবিক সহযোগিতা সমঝোতা স্মারক সাধারণত দুই দেশের মধ্যে বৃহত্তর কৌশলগত বেসামরিক পারমাণবিক সম্পর্কের ভিত্তি তৈরি করে এবং সরকারি, শিল্প ও গবেষণা পর্যায়ে সহযোগিতা এগিয়ে নেওয়ার কাঠামো দেয়। 

 

বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি সহযোগিতায় এটি চলতি বছরের দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা। গত মে মাসে দুই দেশ বৃহত্তর জ্বালানি খাতে কৌশলগত সহযোগিতার আরেকটি সমঝোতা স্মারক সই করেছিল। তবে ২৫ সেপ্টেম্বরের নতুন সমঝোতা বিশেষভাবে বেসামরিক পারমাণবিক শক্তি ও এর শান্তিপূর্ণ ব্যবহারকে কেন্দ্র করে।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্বের আবেদন ও ন্যাচারালাইজেশন প্রক্রিয়ার প্রতীকী ছবি
আমেরিকান নাগরিকত্বের আবেদনেই বড় সুবিধা, ফি দিতে হবে না যাদের

যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কিছু শ্রেণির মানুষের জন্য ফি ছাড়ের সুযোগ রয়েছে। মার্কিন নাগরিকত্ব ও অভিবাসন পরিষেবা বা ইউএসসিআইএস জানিয়েছে, কিছু সামরিক সদস্য ও যোগ্য সাবেক সামরিক সদস্য ন্যাচারালাইজেশনের আবেদন করার সময় নির্ধারিত ফি থেকে পুরোপুরি অব্যাহতি পেতে পারেন। বর্তমানে এন-৪০০ ন্যাচারালাইজেশন আবেদনের সাধারণ ফি ৭৬০ ডলার।   প্রথমত, যারা সক্রিয়ভাবে মার্কিন সামরিক বাহিনীতে কর্মরত এবং অভিবাসন ও জাতীয়তা আইনের ৩২৮ বা ৩২৯ ধারার অধীনে নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করেন, তাদের এন-৪০০ আবেদনের জন্য কোনো ফি দিতে হয় না। এই ক্ষেত্রে আইনের অধীনেই ফি মওকুফ হয়ে যায় এবং আলাদাভাবে ফি মওকুফের আবেদন করার প্রয়োজন নেই।   দ্বিতীয়ত, যোগ্য সাবেক সামরিক সদস্যরাও নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করলে নাগরিকত্বের আবেদন ফি থেকে পুরোপুরি অব্যাহতি পেতে পারেন। শান্তিকালীন সময়ে বা নির্ধারিত শত্রুতাপূর্ণ পরিস্থিতিতে সম্মানের সঙ্গে সামরিক বাহিনীতে দায়িত্ব পালন করা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এই সুবিধা প্রযোজ্য হতে পারে। এ জন্য সামরিক বা নৌবাহিনীতে দায়িত্ব পালনের প্রমাণ হিসেবে এন-৪২৬ ফরম জমা দিতে হয়।   ইউএসসিআইএস আরও জানিয়েছে, নির্দিষ্ট সামরিক শ্রেণির আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে নাগরিকত্ব পাওয়ার কিছু সাধারণ শর্তেও ছাড় থাকতে পারে। যেমন, নির্ধারিত শত্রুতার সময় সম্মানের সঙ্গে সামরিক দায়িত্ব পালনকারীদের ক্ষেত্রে নাগরিকত্বের আবেদনের আগে সাধারণ আবাসন বা যুক্তরাষ্ট্রে শারীরিক উপস্থিতির কিছু শর্ত প্রযোজ্য নাও হতে পারে।   তবে সামরিক সদস্যদের জন্য নির্ধারিত এই ফি ছাড়ের ক্ষেত্রে সাধারণ ফি মওকুফের জন্য ব্যবহৃত আই-৯১২ ফরম জমা দেওয়া উচিত নয়। কারণ সামরিক আইনের অধীনে যোগ্য হলে ফি ছাড় স্বয়ংক্রিয়ভাবেই প্রযোজ্য হয়।   সামরিক বাহিনীর সঙ্গে যুক্ত নন এমন ব্যক্তিদের জন্যও আর্থিক সংকটের ভিত্তিতে নাগরিকত্বের আবেদন ফি কমানোর বা পুরোপুরি মওকুফের সুযোগ রয়েছে। এ ক্ষেত্রে আই-৯১২ ফরম জমা দিতে হয়। যাদের পরিবারের আয় ফেডারেল দারিদ্র্যসীমার ১৫০ শতাংশের মধ্যে, যারা নির্দিষ্ট আয়ভিত্তিক সরকারি সুবিধা পান অথবা যারা গুরুতর আর্থিক সংকটে রয়েছেন, তারা পুরো ফি মওকুফের জন্য আবেদন করতে পারেন।   এ ছাড়া পরিবারের আয় ফেডারেল দারিদ্র্যসীমার ১৫০ শতাংশের বেশি কিন্তু ৪০০ শতাংশের মধ্যে হলে কাগজে আবেদন করার ক্ষেত্রে ৩৮০ ডলারের কমানো ফি প্রযোজ্য হতে পারে। অর্থাৎ যোগ্যতা ও আয়ের ভিত্তিতে কিছু আবেদনকারীকে পুরো ফি না দিয়ে কম ফিতে নাগরিকত্বের আবেদন করার সুযোগও রয়েছে।   তবে এসব সুবিধা পাওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট আইনি ও যোগ্যতার শর্ত পূরণ করতে হবে। বিশেষ করে সামরিক সদস্যদের অভিবাসন ও জাতীয়তা আইনের ৩২৮ বা ৩২৯ ধারার অধীনে প্রয়োজনীয় যোগ্যতা থাকতে হবে। নাগরিকত্বের আবেদন করার আগে ইউএসসিআইএসের সর্বশেষ নির্দেশনা অনুযায়ী নিজের যোগ্যতা যাচাই করা গুরুত্বপূর্ণ।  

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২৬ ৫:৩৪
শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক শক্তি ব্যবহারে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের সমঝোতা

শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক শক্তি ব্যবহারে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের সমঝোতা

ইরানের ৭ দিনের শান্তি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান ট্রাম্পের, নির্বাচনের পর ফের হামলার আভাস

ইরানের ৭ দিনের শান্তি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান ট্রাম্পের, নির্বাচনের পর ফের হামলার আভাস

আওয়ামী লীগের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত বাংলাদেশ সরকারের: যুক্তরাষ্ট্র

আওয়ামী লীগের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত বাংলাদেশ সরকারের: যুক্তরাষ্ট্র

পেনসিলভানিয়ায় হামের প্রাদুর্ভাব বাড়ছে, নতুন ৫৫ জনসহ আক্রান্ত ৮৯০
পেনসিলভানিয়ায় হামের প্রাদুর্ভাব বাড়ছে, নতুন ৫৫ জনসহ আক্রান্ত ৮৯০

যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়ায় হামের সংক্রমণ বাড়ছে। রাজ্যের স্বাস্থ্য বিভাগের শুক্রবারের হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, বুধবারের পর নতুন করে ৫৫ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছর রাজ্যের ৩৯টি কাউন্টিতে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮৯০। অন্তত ১৭৩ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। হামসংশ্লিষ্ট চারটি মৃত্যুর খবরও পাওয়া গেছে।   এবিসি নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সবচেয়ে বেশি সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে ল্যাঙ্কাস্টার কাউন্টিতে, ৩৫৯ জন। এরপর রয়েছে মিফলিন কাউন্টি, যেখানে আক্রান্তের সংখ্যা ১০২। রাজ্যের তথ্য অনুযায়ী, আক্রান্তদের মধ্যে ২৫ থেকে ৪৯ বছর বয়সীদের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি।   সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে টিকাদান কার্যক্রম চালাচ্ছে স্বাস্থ্য বিভাগ। এপ্রিলের শেষ দিকে প্রাদুর্ভাব শুরুর পর ১৬৫টি অস্থায়ী ক্লিনিকে পাঁচ হাজার তিনশর বেশি মানুষকে হাম, মাম্পস ও রুবেলার এমএমআর টিকা দেওয়া হয়েছে বলে বিভাগটি জানিয়েছে। আগামী সপ্তাহ ও মাসগুলোতেও আরও টিকাদান ক্লিনিক চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।   হাম অত্যন্ত সংক্রামক। সাধারণত জ্বর, কাশি, সর্দি ও চোখ লাল হওয়ার পর শরীরে র‍্যাশ দেখা দেয়। স্বাস্থ্য বিভাগ বলেছে, কেউ হামের সংস্পর্শে এসে থাকলে এবং উপসর্গ দেখা দিলে চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে। সম্ভাব্য সংক্রমণের কথা আগে জানিয়ে যোগাযোগ করলে অন্যদের সংস্পর্শে আসার ঝুঁকি কমানো যায়।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২৬ ২:৪১
অ্যাপার্টমেন্ট ছাড়লেই বিপুল অর্থ! তবুও ছাড়তে চাচ্ছেন না সান ফ্রান্সিসকোর ভাড়াটিয়া

অ্যাপার্টমেন্ট ছাড়লেই বিপুল অর্থ! তবুও ছাড়তে চাচ্ছেন না সান ফ্রান্সিসকোর ভাড়াটিয়া

নিউইয়র্কে নতুন সরকারি চাকরির বিজ্ঞপ্তি, আবেদনের সময় অক্টোবর পর্যন্ত

নিউইয়র্কে নতুন সরকারি চাকরির বিজ্ঞপ্তি, আবেদনের সময় অক্টোবর পর্যন্ত

জাতিসংঘ সফর শেষে নিউইয়র্ক ছেড়ে দেশের পথে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

জাতিসংঘ সফর শেষে নিউইয়র্ক ছেড়ে দেশের পথে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

ডালাসের কাছে অভিযানে ১২১ জনকে গ্রেপ্তারের কথা জানিয়েছে মার্কিন অভিবাসন কর্তৃপক্ষ। ছবি: সংগৃহীত
টেক্সাসে আড়াই মাসের বিশেষ অভিযানে ১২১ অভিবাসী গ্রেপ্তার

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে ডালাসের উত্তরে লেক লুইসভিলকে ঘিরে গ্রীষ্মকালজুড়ে চালানো এক অভিযানে ১২১ জনকে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগ সংস্থা আইসিই (ICE)। সংস্থাটি জানিয়েছে, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের সবারই কোনো না কোনো অপরাধমূলক রেকর্ড ছিল। তাদের মধ্যে দুজনকে ভেনেজুয়েলাভিত্তিক ট্রেন দে আরাগুয়া গ্যাংয়ের সদস্য হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে বলে দাবি করেছে আইসিই।   শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত এক বিবৃতিতে আইসিই জানায়, গত ২৭ জুন থেকে লেবার ডে সপ্তাহান্ত পর্যন্ত এই অভিযান চলে। ডালাসের আইসিই কার্যালয়ের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য ও কেন্দ্রীয় সংস্থা সহায়তা করে।   লেক লুইসভিল ডালাসের উত্তরে অবস্থিত একটি বড় জলাধার। গ্রীষ্মকালে এলাকাটি নৌবিহার ও বিনোদনের জন্য ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়। আইসিই বলেছে, অভিযানের অন্যতম লক্ষ্য ছিল সেখানে অবস্থানরত বিদেশি নাগরিকদের শনাক্ত করা, হ্রদসংক্রান্ত বিভিন্ন তদন্তে সহায়তা করা এবং স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নৌযান নিরাপত্তা ও সংশ্লিষ্ট আইন প্রয়োগে বেশি মনোযোগ দেওয়ার সুযোগ করে দেওয়া।   আইসিইর দাবি, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের অতীত রেকর্ডে হামলা, পারিবারিক সহিংসতা, শারীরিক আঘাতের ঘটনা, চুরি, বাড়িতে অবৈধ প্রবেশ, শিশুর ওপর যৌন নির্যাতন, শিশুর সঙ্গে যৌন আচরণজনিত অপরাধ, গাড়ি ব্যবহার করে গ্রেপ্তার এড়ানোর চেষ্টা, মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানো, মদ্যপ অবস্থায় নৌযান চালানো এবং বিভিন্ন ট্রাফিক অপরাধের মতো ঘটনা রয়েছে। তবে সংস্থাটি জানিয়েছে, ১২১ জনের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে একই ধরনের অভিযোগ ছিল না।   আইসিই আরও জানিয়েছে, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে দুজনকে ট্রেন দে আরাগুয়া গ্যাংয়ের সদস্য হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে। সংস্থার ভাষ্য অনুযায়ী, ওই দুই ব্যক্তি নিজেদের ওই গ্যাংয়ের সদস্য বলে স্বীকার করেছেন। তাদের লেক লুইসভিলে অনুমোদনহীন নৌযানভিত্তিক পরিবহন ব্যবসা পরিচালনার বিষয়ে টেক্সাস পার্কস অ্যান্ড ওয়াইল্ডলাইফ বিভাগের একটি তদন্তের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে।   আইসিইর তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তারদের মধ্যে হন্ডুরাস ও ভেনেজুয়েলার নাগরিকসহ বিভিন্ন দেশের মানুষ রয়েছেন। কয়েকজনের আগে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কারের রেকর্ডও ছিল বলে সংস্থাটি জানিয়েছে। তবে গ্রেপ্তার প্রত্যেক ব্যক্তির আইনি অবস্থার বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।   অভিযান সম্পর্কে আইসিই ডালাস ফিল্ড অফিসের পরিচালক মিগুয়েল ভারগারা বলেন, এই কার্যক্রমের মাধ্যমে সীমিত সরকারি সম্পদ আরও কার্যকরভাবে ব্যবহার করা সম্ভব হয়েছে। তার দাবি, অভিযানের ফলে জননিরাপত্তার জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে এমন ব্যক্তিদের আটক করা এবং বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার মধ্যে সমন্বয় জোরদার করা সম্ভব হয়েছে।   লেক লুইসভিলকে ঘিরে এই অভিযান পরিচালনার ক্ষেত্রে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও অন্যান্য সরকারি সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় ছিল বলে আইসিই জানিয়েছে। সংস্থাটির মতে, গ্রীষ্মের ব্যস্ত নৌবিহার মৌসুমে পানিতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি স্থলভাগে অপরাধ ও অভিবাসন আইন প্রয়োগের কাজ চালিয়ে যেতে এই সমন্বয় গুরুত্বপূর্ণ ছিল।   আইসিইর এই ঘোষণা এমন এক সময়ে এসেছে, যখন যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন আইন প্রয়োগ ও অবৈধভাবে অবস্থানরত বিদেশি নাগরিকদের বিরুদ্ধে অভিযান নিয়ে জাতীয় পর্যায়ে বিতর্ক চলছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে কেন্দ্রীয় সরকার অভিবাসন আইন প্রয়োগ জোরদার করার নীতি গ্রহণ করেছে। তবে এই নীতির প্রয়োগ নিয়ে বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন ও রাজনৈতিক নেতাদের মধ্যে ভিন্নমত রয়েছে।   অন্যদিকে, মার্কিন স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগ শুক্রবার দেশটির বিভিন্ন শহরে ভাড়া কমার তথ্যও তুলে ধরে দাবি করেছে, অভিবাসন আইন প্রয়োগ জোরদার হওয়ার সঙ্গে কিছু এলাকায় ভাড়ার বাজারে পরিবর্তনের সম্পর্ক রয়েছে। সংস্থাটি সান অ্যান্টোনিও, অস্টিন, ডালাস ও হিউস্টনসহ কয়েকটি শহরের ভাড়া কমার হার উল্লেখ করেছে। তবে ভাড়া কমার কারণ হিসেবে অভিবাসন অভিযানকে সরাসরি দায়ী করার এই ব্যাখ্যাটি স্বরাষ্ট্র বিভাগের নিজস্ব দাবি এবং এর সঙ্গে অন্যান্য অর্থনৈতিক কারণের সম্পর্ক আলাদাভাবে বিবেচনা করা প্রয়োজন।   টেক্সাসে অভিবাসন আইন প্রয়োগের কার্যক্রমের পাশাপাশি সম্প্রতি অস্টিনে একটি পৃথক ঘটনায় এক ফেডারেল অভিবাসন কর্মকর্তার গুলিতে ভেনেজুয়েলার এক নাগরিক আহত হওয়ার ঘটনাও আলোচনায় এসেছে। স্থানীয় কর্মকর্তারা ওই ঘটনার তদন্ত দাবি করেছেন। ঘটনাটি লেক লুইসভিল অভিযানের অংশ নয় এবং পৃথকভাবে তদন্ত করা হচ্ছে।   লেক লুইসভিলের গ্রীষ্মকালীন অভিযানের বিষয়ে আইসিই জানিয়েছে, তাদের কার্যক্রম শেষ হয়েছে লেবার ডে সপ্তাহান্তে। তবে সংস্থাটির প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আরও আইনি ও অভিবাসনসংক্রান্ত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া পৃথকভাবে চলতে পারে।   সূত্র: ইউএস ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (ICE)

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২৬ ০:১৮
পুলিশের ধাওয়ার সময় চলন্ত গাড়ি থেকে নগদ টাকা ছুড়ে ফেলছেন সন্দেহভাজন চালক। ছবি: সংগৃহীত

পুলিশের ধাওয়া খেয়ে চলন্ত গাড়ির জানালা দিয়ে হাজার হাজার ডলার ছুড়ে ফেললেন অভিযুক্ত

উচ্চ বাড়ির দাম ও বন্ধকী ঋণের সুদহারে নিউইয়র্কের প্রথমবারের ক্রেতারা চাপে পড়েছেন। ছবি: সংগৃহীত

বাড়ির চড়া দাম ও গৃহঋণের উচ্চ সুদে উভয় সংকটে নিউইয়র্কবাসী, প্রভাব পড়ছে বাসা ভাড়ার বাজারেও

অন্যান্য উচ্চ আয়ের দেশের তুলনায় যুক্তরাষ্ট্রে মানুষের গড় আয়ু কম বলে নতুন গবেষণায় উঠে এসেছে। ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বে সর্বোচ্চ চিকিৎসা ব্যয় করেও গড় আয়ুতে ৩৮তম অবস্থানে যুক্তরাষ্ট্র, বাড়ছে তরুণদের অকালমৃত্যু

0 Comments