আমেরিকা

খাদ্য নিরাপত্তা ত্রুটিতে ফ্লোরিডা-টেক্সাসে ৩০ হাজার পাউন্ড গরুর মাংস বাজার থেকে প্রত্যাহার

ফ্লোরিডা প্রতিনিধি প্রকাশ: আগস্ট ১১, ২০২৬ ১৩:১২
খাদ্য নিরাপত্তা ত্রুটিতে ফ্লোরিডা-টেক্সাসে ৩০ হাজার পাউন্ড গরুর মাংস বাজার থেকে প্রত্যাহার
খাদ্য নিরাপত্তা ত্রুটিতে ফ্লোরিডা-টেক্সাসে ৩০ হাজার পাউন্ড গরুর মাংস বাজার থেকে প্রত্যাহার

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা ও টেক্সাস অঙ্গরাজ্যে প্রায় ৩০ হাজার পাউন্ড কাঁচা গরুর মাংস বাজার থেকে জরুরি ভিত্তিতে তুলে নেওয়া হচ্ছে। সঠিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা বা 'রি-ইন্সপেকশন' ছাড়াই এই বিপুল পরিমাণ মাংস বাজারে সরবরাহ করার কারণে এমন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে ইউএস ডিপার্টমেন্ট অব এগ্রিকালচার (ইউএসডিএ)-এর ফুড সেফটি অ্যান্ড ইন্সপেকশন সার্ভিস (এফএসআইএস)। ফ্লোরিডাভিত্তিক সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান 'কোর্টে আর্জেন্টিনো ইউএসএ' মূলত আর্জেন্টিনা থেকে এই মাংস আমদানি করেছিল।

 

সাধারণত কোনো খাদ্যপণ্য যুক্তরাষ্ট্রের সীমান্তে পৌঁছালে কাস্টমস এবং অ্যানিমেল অ্যান্ড প্ল্যান্ট হেলথ ইন্সপেকশন সার্ভিস এর কাগজপত্র, প্যাকেজিং ও গুণগত মান পরীক্ষা করে থাকে। অনেক সময় দূষণ পরীক্ষার জন্য নমুনাও সংগ্রহ করা হয়। কিন্তু এই কাঁচা গরুর মাংসের চালানটি সেই রুটিন পরীক্ষা এড়িয়ে সরাসরি ফ্লোরিডা এবং টেক্সাসের বিভিন্ন পরিবেশক ও খুচরা বিক্রেতাদের কাছে পৌঁছে যায়। পরবর্তীতে এফএসআইএস-এর নিয়মিত পরিদর্শনের সময় এই গুরুতর ত্রুটি ধরা পড়ে। জানা গেছে, পরীক্ষা এড়িয়ে যাওয়া এই মাংসগুলো চলতি বছরের ১৫ থেকে ২০ মে-এর মধ্যে প্যাকেটজাত করা হয়েছিল এবং এগুলোর ব্যবহারের শেষ মেয়াদ (use-by বা freeze-by date) ছিল ১৫ থেকে ২০ সেপ্টেম্বর।

 

বাজার থেকে তুলে নেওয়া পণ্যগুলোর মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন ওজনের কার্ডবোর্ড বক্সে রাখা হাড়বিহীন গরুর মাংস। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো— টপ সারলয়েন বাট, আই রাউন্ড, টপসাইড, ফ্ল্যাট এবং নাকল, যা আর্জেন্টিনার 'ফ্রিগোরিফিকো গোরিনা এসএআইসি' থেকে সরবরাহ করা হয়েছিল। পণ্যগুলোর গায়ে আর্জেন্টিনার স্ট্যাবলিশমেন্ট নম্বর 'EST. N° OF. 2025' এবং শিপিং মার্ক '26644-AA' উল্লেখ রয়েছে। এফএসআইএস সতর্ক করেছে যে, এই মাংসগুলো ইতিমধ্যেই অনেক ক্রেতার রেফ্রিজারেটর বা ফ্রিজারে সংরক্ষিত থাকতে পারে।

 

ক্রেতাদের এসব পণ্য কোনোভাবেই না খেয়ে সরাসরি বক্সে করে ফেলে দিতে অথবা যেখান থেকে কিনেছেন সেখানে ফেরত দেওয়ার জন্য জোরালোভাবে অনুরোধ করা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত এসব মাংস খেয়ে কেউ অসুস্থ হয়েছেন, এমন কোনো খবর পাওয়া যায়নি। শারীরিক কোনো সমস্যা দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে বিস্তারিত মন্তব্যের জন্য 'কোর্টে আর্জেন্টিনো'-এর সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হচ্ছে।

 

উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রে সঠিক পরীক্ষা ছাড়া খাদ্যপণ্য প্রবেশের কারণে গত কয়েক মাসের মধ্যে এটি দ্বিতীয় বড় প্রত্যাহারের ঘটনা। গত মাসেই কানাডা থেকে আমদানি করা ১২ হাজার পাউন্ডের বেশি বেকন একই কারণে বাজার থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছিল। ইলিনয়ভিত্তিক মেপল লিফ ফুডস নামের একটি প্রতিষ্ঠান আইডাহো, ওরেগন এবং ওয়াশিংটনে এসব বেকন বাজারজাত করার পর তা স্বেচ্ছায় তুলে নিতে বাধ্য হয়।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
আইনজীবী আসমা আলী
যুক্তরাষ্ট্রের মিসিসিপিতে মুসলিম হওয়ায় ইতিহাস গড়া নারী বিচারককে অপসারণের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের মিসিসিপিতে প্রথমবারের মতো একজন মুসলিম নারী মিউনিসিপ্যাল বিচারক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন। গত ৫ আগস্ট ইয়েমেনি অভিবাসী পরিবারের সন্তান ও পেশায় আইনজীবী আসমা আলী মিসিসিপির ডেল্টা অঞ্চলের বেনোয়েট শহরের বিচারক হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন। চারশোরও কম বাসিন্দার এই ছোট শহরটিতে মিউনিসিপ্যাল বিচারকরা মূলত ছোটখাটো অপরাধ, শহরের আইন লঙ্ঘন এবং ট্রাফিক টিকিটের মতো বিষয়গুলোর নিষ্পত্তি করে থাকেন। তবে আসমা আলীর এই ঐতিহাসিক নিয়োগ উদযাপনের বদলে তাকে এবং তার কার্যালয়কে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র বিদ্বেষ ও মিথ্যা তথ্যের বিস্তার ঘটেছে।   এই নিয়োগের পর থেকেই মিসিসিপির রক্ষণশীল রাজনীতিকদের একটি অংশ তার বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছেন। স্টেট সিনেটর মাইকেল ম্যাকলেনডন প্রকাশ্যেই আসমা আলীকে বেঞ্চ থেকে অপসারণের দাবি জানিয়েছেন। সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে এই রিপাবলিকান সিনেটর দাবি করেন যে তিনি 'মোহাম্মদের ওপর নয়, সৃষ্টিকর্তার ওপর বিশ্বাস রাখেন' এবং তার দায়িত্ব পালনের সময় মিসিসিপিকে কোনোভাবেই মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ শহরে পরিণত হতে দেবেন না। পাশাপাশি, মিসিসিপির কৃষিমন্ত্রী ও গভর্নর পদপ্রার্থী অ্যান্ডি গিপসন এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে রাজ্যে শরিয়া আইন নিষিদ্ধ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, যা পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে।   সামাজিক মাধ্যমে ছড়ানো গুজব আর ক্রমাগত হুমকির মুখেও নিজের অবস্থানে অনড় রয়েছেন বিচারক আসমা আলী। সমালোচনার জবাবে তিনি দৃঢ়তার সাথে জানিয়েছেন, একজন আমেরিকান হিসেবে তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে জন্মগ্রহণ করেছেন ও পড়াশোনা করেছেন এবং তিনি কেবল যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানেরই প্রয়োগ করবেন। কোনো ধর্মীয় আইন প্রয়োগের ভিত্তিহীন অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন যে, শুধুমাত্র মুসলিম হওয়ার কারণেই কেন তাকে একজন বিচারক হিসেবে অযোগ্য ভাবা হবে। ধর্মীয় বিদ্বেষের এই ঘটনা দেশটিতে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের জন্য বিচারব্যবস্থায় যোগদানের পথ কতটা কণ্টকাকীর্ণ, সেই প্রশ্নই নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ১১, ২০২৬ ১৪:৩
যুক্তরাষ্ট্রে ৩৫ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ হামের প্রকোপ, এর মাঝেই শিশুদের টিকা কমানোর নির্দেশ ট্রাম্পের

যুক্তরাষ্ট্রে ৩৫ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ হামের প্রকোপ, এর মাঝেই শিশুদের টিকা কমানোর নির্দেশ ট্রাম্পের

খাদ্য নিরাপত্তা ত্রুটিতে ফ্লোরিডা-টেক্সাসে ৩০ হাজার পাউন্ড গরুর মাংস বাজার থেকে প্রত্যাহার

খাদ্য নিরাপত্তা ত্রুটিতে ফ্লোরিডা-টেক্সাসে ৩০ হাজার পাউন্ড গরুর মাংস বাজার থেকে প্রত্যাহার

একাধিক পরিচয় ব্যবহার করে মার্কিন নাগরিকত্ব নেওয়া মুরতাজা আলী। ছবি: সংগৃহীত

আঙুলের ছাপেই ধরা পড়ল পরিচয় জালিয়াতি, পাকিস্তানি নাগরিকের বিরুদ্ধে নাগরিকত্ব বাতিলের মামলা

টেক্সাসের লিগ সিটিতে লাল রঙে রাঙানো সেই বিড়াল। ছবি: সংগৃহীত
লাল রঙে রাঙানো বিড়াল ঘিরে রহস্য, দূরে থাকতে বলল টেক্সাস কর্তৃপক্ষ

টেক্সাসের লিগ সিটিতে লাল রঙে বা রঞ্জকে মাখা একটি ধূসর বিড়ালকে ঘুরে বেড়াতে দেখা যাওয়ায় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিড়ালটিকে নিরাপদে উদ্ধার করতে প্রাণী উদ্ধারকারীরা কাজ করছেন। তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের বিড়ালটিকে ধরার চেষ্টা বা খাবার দেওয়ার পরিবর্তে সেটি কোথায় ও কখন দেখা গেছে, তা প্রাণী পরিচর্যা কর্তৃপক্ষকে জানাতে বলা হয়েছে।   লিগ সিটি অ্যানিমেল কেয়ার জানিয়েছে, বিড়ালটির শরীরে লাল রঙ বা রঞ্জক লেগে আছে এবং বিষয়টি তাদের নজরে রয়েছে। বিড়ালটিকে নিরাপদে ধরতে তাদের দল কাজ করছে। উদ্ধার করার পর বিড়ালটির প্রয়োজনীয় যত্ন নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।   কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, বাসিন্দারা নিজেরা বিড়ালটিকে ধরার চেষ্টা করলে উদ্ধারকারীদের চলমান প্রচেষ্টা ব্যাহত হতে পারে। একই কারণে বিড়ালটির জন্য বাইরে খাবার না রাখতেও বাসিন্দাদের অনুরোধ করা হয়েছে। কেউ বিড়ালটিকে দেখতে পেলে তার অবস্থান এবং দেখার সময় জানিয়ে প্রাণী পরিচর্যা কর্তৃপক্ষকে বার্তা পাঠাতে বলা হয়েছে।   সোমবারের এক হালনাগাদ তথ্যে উদ্ধারকারীরা জানিয়েছে, বিড়ালটিকে নিরাপদে ধরার চেষ্টা এখনও চলছে। এ কাজে বিড়ালটির চলাফেরার এলাকার কাছাকাছি থাকা পরিচর্যাকারীরাও সহায়তা করছেন।   লাল রঙে ঢাকা বিড়ালটির ছবি প্রকাশ্যে আসার পর স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কেউ কেউ সন্দেহ প্রকাশ করেন, প্রাণীটিকে রঙ করা কোনো অবৈধ কুকুর লড়াইয়ের চক্রের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। কেউ কেউ এমন ঘটনার তদন্তের দাবিও জানিয়েছেন।   তবে এখন পর্যন্ত স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কোনো সক্রিয় তদন্ত বা প্রাণীর ওপর নিষ্ঠুরতার অভিযোগে সম্ভাব্য কোনো মামলা বা অভিযোগের কথা জানায়নি। ফলে বিড়ালটির শরীরে কীভাবে লাল রঙ বা রঞ্জক লাগল, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।   প্রাণী পরিচর্যা কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে বাসিন্দাদের প্রতি মূল অনুরোধ হলো, বিড়ালটিকে নিজেরা ধরার চেষ্টা না করে তার অবস্থান ও সময় জানানো। উদ্ধারকারীরা বিড়ালটিকে নিরাপদে নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার জন্য কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ১১, ২০২৬ ১২:৪৬
যুক্তরাষ্ট্রে ট্যাক্স রিফান্ড বাড়ানোর বিভিন্ন সুযোগ। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে ট্যাক্স রিফান্ড বাড়াতে যেসব ক্রেডিট ও ডিডাকশন মিস করা উচিত নয়

ক্যালিফোর্নিয়ার ইয়েল ইউনিভার্সিটিতে ভর্তির সুযোগ পাওয়া তরুণী ওহান্না কারাসকোজা। ছবি: সংগৃহীত

মাত্র ৯ বছর বয়সে বাবাকে এক্সেল শেখানো, সেই গল্প লিখেই ইয়েল-পেন-ডার্টমাউথে সুযোগ পেলেন তরুণী

যুক্তরাষ্ট্রে সরকারি সহায়তার জন্য লাইনে দাঁড়ানো মানুষ। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে চাকরি হারালে যেসব সরকারি সহায়তা পেতে পারেন

শিক্ষার্থীদের জন্য রাখা বিভিন্ন রঙের স্কুল ব্যাকপ্যাক। ছবি: সংগৃহীত
নিউইয়র্কে বাংলাদেশি পরিবারগুলোর জন্য সুখবর, স্কুল শুরুর আগে মিলছে ফ্রি ব্যাকপ্যাক ও স্কুল সামগ্রী

নিউইয়র্ক সিটিতে নতুন স্কুল বছর শুরুর আগে পরিবারের খরচ কমাতে বিভিন্ন এলাকায় বিনামূল্যে ব্যাকপ্যাক ও স্কুল সামগ্রী বিতরণের আয়োজন করা হয়েছে। আগস্টজুড়ে আয়োজিত এসব কর্মসূচিতে শিশুদের জন্য ব্যাকপ্যাক, খাতা, পেনসিলসহ প্রয়োজনীয় স্কুল সামগ্রী দেওয়া হচ্ছে। তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সামগ্রী সীমিত এবং আগে এলে আগে পাওয়ার ভিত্তিতে বিতরণ করা হবে।   নিউইয়র্কের বিভিন্ন বরোতে স্থানীয় নির্বাচিত প্রতিনিধি, কমিউনিটি সংগঠন, লাইব্রেরি ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠান এসব স্কুল শুরুর প্রস্তুতিমূলক কর্মসূচির আয়োজন করছে। কুইন্সের জ্যামাইকা এলাকায় ডেপুটি স্পিকার নাতাশা উইলিয়ামস, স্টেট সিনেটর লেরয় কমরি এবং অ্যাসেম্বলি মেম্বার অ্যালিসিয়া হাইন্ডম্যানের উদ্যোগে ১৫ আগস্ট দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ব্যাকপ্যাক ও স্কুল সামগ্রী বিতরণ করা হবে। আয়োজনটি হবে ১৭২-১২ লিন্ডেন বুলেভার্ডে। সামগ্রী শেষ না হওয়া পর্যন্ত বিতরণ চলবে।   কুইন্সের কিং ম্যানর মিউজিয়ামেও ১৫ আগস্ট দুপুর ১টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত বিনামূল্যে ব্যাকপ্যাক ও স্কুলের প্রয়োজনীয় সামগ্রী দেওয়া হবে। আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, সামগ্রী থাকা পর্যন্ত এগুলো বিনামূল্যে পাওয়া যাবে।   ম্যানহাটনে ১৭ আগস্টও একটি ব্যাকপ্যাক বিতরণ কর্মসূচি রয়েছে। ৪১৯ ওয়েস্ট ১৭তম স্ট্রিটে বিকেল ৩টা থেকে ৫টা পর্যন্ত আয়োজিত এই কর্মসূচিতে সীমিতসংখ্যক ব্যাগ দেওয়া হবে। প্রতি শিশুর জন্য একটি ব্যাগ বরাদ্দ থাকবে এবং ব্যাগ নিতে শিশুকে নিজে উপস্থিত থাকতে হবে।   এ ছাড়া ম্যানহাটনের ১২৪তম স্ট্রিট, সেকেন্ড ও থার্ড অ্যাভিনিউয়ের মধ্যবর্তী এলাকায় ২২ আগস্ট দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত একটি কমিউনিটি রিসোর্স ও স্কুল শুরুর প্রস্তুতিমূলক কর্মসূচি হবে। সেখানে ব্যাকপ্যাক, স্কুল সামগ্রী, শিশুদের পোশাক ও জুতাসহ বিভিন্ন সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।   হারলেমেও ২৩ আগস্ট দুপুর ১টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ৬০ ওয়েস্ট ১৪১তম স্ট্রিটে স্কুল শুরুর প্রস্তুতি উপলক্ষে একটি কমিউনিটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। সেখানে শিশুদের জন্য ব্যাকপ্যাক ও স্কুল সামগ্রীর পাশাপাশি বিভিন্ন বিনোদনমূলক কার্যক্রম থাকবে।   কুইন্স বরো প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন এলাকায় আরও কয়েকটি বিনামূল্যের ব্যাকপ্যাক বিতরণ কর্মসূচির আয়োজন রয়েছে। এসব কর্মসূচিতে সাধারণত শিশুকে অভিভাবক বা গার্ডিয়ানের সঙ্গে উপস্থিত থাকতে হয়। সরবরাহ শেষ হয়ে গেলে বিতরণও বন্ধ হয়ে যেতে পারে।   নিউইয়র্ক সিটিতে নতুন স্কুল বছর শুরুর আগে স্কুল সামগ্রী কেনা অনেক পরিবারের জন্য বড় ধরনের বাড়তি খরচ। বিশেষ করে একাধিক সন্তান থাকা পরিবারগুলোর ক্ষেত্রে ব্যাকপ্যাক, খাতা, পেনসিল, ফোল্ডারসহ প্রয়োজনীয় সামগ্রী কিনতে উল্লেখযোগ্য অর্থ ব্যয় হয়। এ কারণে স্থানীয় কমিউনিটি সংগঠন ও নির্বাচিত প্রতিনিধিদের বিনামূল্যের এসব বিতরণ কর্মসূচি অনেক পরিবারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা হয়ে উঠেছে।   এদিকে গৃহহীন বা অস্থায়ী আবাসনে থাকা শিক্ষার্থীদের জন্যও আলাদা সহায়তার ব্যবস্থা রয়েছে। নিউইয়র্ক সিটি কাউন্সিল ২০২৬ অর্থবছরের বাজেটে ‘অপারেশন ব্যাকপ্যাক’ কর্মসূচির জন্য ২ লাখ ৫০ হাজার ডলার বরাদ্দ করেছে। ভলান্টিয়ার্স অব আমেরিকা গ্রেটার নিউইয়র্ক পরিচালিত এই কর্মসূচির মাধ্যমে আশ্রয়কেন্দ্র ও অস্থায়ী আবাসনে থাকা শিক্ষার্থীদের ব্যাকপ্যাক ও স্কুল সামগ্রী দেওয়া হয়। ২০২৪ সালে নিউইয়র্ক সিটিতে এই কর্মসূচির মাধ্যমে প্রায় ১৯ হাজার ব্যাকপ্যাক বিতরণ করা হয়েছিল।   বিনামূল্যের ব্যাকপ্যাক নিতে যাওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট কর্মসূচির নিয়ম জেনে নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। কোথাও শিশুর উপস্থিতি বাধ্যতামূলক, আবার কোথাও আগে থেকে নিবন্ধনের প্রয়োজন হতে পারে। অধিকাংশ কর্মসূচিতেই সামগ্রী সীমিত থাকায় নির্ধারিত সময়ের আগেই পৌঁছানো সুবিধাজনক।

নিউ ইয়র্ক প্রতিনিধি প্রকাশ: আগস্ট ১১, ২০২৬ ১০:৫৩
গুরুতর প্রতিবন্ধী দুই সন্তানসহ ভুক্তভোগী মা। ছবি: সংগৃহীত

বাবা-মা আইসিইর হাতে বন্দী, প্রতিবন্ধী দুই সন্তানের সামনে এখন কার আশ্রয়ে থাকবে!

কিডনি দান করা মার্কিন নারী ডেবি স্টিভেন্স। ছবি: সংগৃহীত

বসকে বাঁচাতে কিডনি দান, অস্ত্রোপচারের পর সুস্থ হতে দেরি হওয়ায় চাকরিই হারালেন কর্মী

ঢাকার নটর ডেম কলেজের ২০২৬ সালের এইচএসসি ব্যাচের শিক্ষার্থী ফায়েজ আহমাদ বিশ্বের অন্যতম সেরা বিশ্ববিদ্যালয় এমআইটিতে পড়ার সুযোগ পেয়েছেন। ছবি: সংগৃহীত

এইচএসসি শেষেই এমআইটিতে ফায়েজ! বছরে ৯২ হাজার ডলারের বেশি স্কলারশিপ

0 Comments