সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আমেরিকা

খাদ্য নিরাপত্তা ত্রুটিতে ফ্লোরিডা-টেক্সাসে ৩০ হাজার পাউন্ড গরুর মাংস বাজার থেকে প্রত্যাহার

ফ্লোরিডা প্রতিনিধি প্রকাশ: আগস্ট ১১, ২০২৬ ১৩:১২
খাদ্য নিরাপত্তা ত্রুটিতে ফ্লোরিডা-টেক্সাসে ৩০ হাজার পাউন্ড গরুর মাংস বাজার থেকে প্রত্যাহার
খাদ্য নিরাপত্তা ত্রুটিতে ফ্লোরিডা-টেক্সাসে ৩০ হাজার পাউন্ড গরুর মাংস বাজার থেকে প্রত্যাহার

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা ও টেক্সাস অঙ্গরাজ্যে প্রায় ৩০ হাজার পাউন্ড কাঁচা গরুর মাংস বাজার থেকে জরুরি ভিত্তিতে তুলে নেওয়া হচ্ছে। সঠিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা বা 'রি-ইন্সপেকশন' ছাড়াই এই বিপুল পরিমাণ মাংস বাজারে সরবরাহ করার কারণে এমন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে ইউএস ডিপার্টমেন্ট অব এগ্রিকালচার (ইউএসডিএ)-এর ফুড সেফটি অ্যান্ড ইন্সপেকশন সার্ভিস (এফএসআইএস)। ফ্লোরিডাভিত্তিক সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান 'কোর্টে আর্জেন্টিনো ইউএসএ' মূলত আর্জেন্টিনা থেকে এই মাংস আমদানি করেছিল।

 

সাধারণত কোনো খাদ্যপণ্য যুক্তরাষ্ট্রের সীমান্তে পৌঁছালে কাস্টমস এবং অ্যানিমেল অ্যান্ড প্ল্যান্ট হেলথ ইন্সপেকশন সার্ভিস এর কাগজপত্র, প্যাকেজিং ও গুণগত মান পরীক্ষা করে থাকে। অনেক সময় দূষণ পরীক্ষার জন্য নমুনাও সংগ্রহ করা হয়। কিন্তু এই কাঁচা গরুর মাংসের চালানটি সেই রুটিন পরীক্ষা এড়িয়ে সরাসরি ফ্লোরিডা এবং টেক্সাসের বিভিন্ন পরিবেশক ও খুচরা বিক্রেতাদের কাছে পৌঁছে যায়। পরবর্তীতে এফএসআইএস-এর নিয়মিত পরিদর্শনের সময় এই গুরুতর ত্রুটি ধরা পড়ে। জানা গেছে, পরীক্ষা এড়িয়ে যাওয়া এই মাংসগুলো চলতি বছরের ১৫ থেকে ২০ মে-এর মধ্যে প্যাকেটজাত করা হয়েছিল এবং এগুলোর ব্যবহারের শেষ মেয়াদ (use-by বা freeze-by date) ছিল ১৫ থেকে ২০ সেপ্টেম্বর।

 

বাজার থেকে তুলে নেওয়া পণ্যগুলোর মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন ওজনের কার্ডবোর্ড বক্সে রাখা হাড়বিহীন গরুর মাংস। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো— টপ সারলয়েন বাট, আই রাউন্ড, টপসাইড, ফ্ল্যাট এবং নাকল, যা আর্জেন্টিনার 'ফ্রিগোরিফিকো গোরিনা এসএআইসি' থেকে সরবরাহ করা হয়েছিল। পণ্যগুলোর গায়ে আর্জেন্টিনার স্ট্যাবলিশমেন্ট নম্বর 'EST. N° OF. 2025' এবং শিপিং মার্ক '26644-AA' উল্লেখ রয়েছে। এফএসআইএস সতর্ক করেছে যে, এই মাংসগুলো ইতিমধ্যেই অনেক ক্রেতার রেফ্রিজারেটর বা ফ্রিজারে সংরক্ষিত থাকতে পারে।

 

ক্রেতাদের এসব পণ্য কোনোভাবেই না খেয়ে সরাসরি বক্সে করে ফেলে দিতে অথবা যেখান থেকে কিনেছেন সেখানে ফেরত দেওয়ার জন্য জোরালোভাবে অনুরোধ করা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত এসব মাংস খেয়ে কেউ অসুস্থ হয়েছেন, এমন কোনো খবর পাওয়া যায়নি। শারীরিক কোনো সমস্যা দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে বিস্তারিত মন্তব্যের জন্য 'কোর্টে আর্জেন্টিনো'-এর সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হচ্ছে।

 

উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রে সঠিক পরীক্ষা ছাড়া খাদ্যপণ্য প্রবেশের কারণে গত কয়েক মাসের মধ্যে এটি দ্বিতীয় বড় প্রত্যাহারের ঘটনা। গত মাসেই কানাডা থেকে আমদানি করা ১২ হাজার পাউন্ডের বেশি বেকন একই কারণে বাজার থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছিল। ইলিনয়ভিত্তিক মেপল লিফ ফুডস নামের একটি প্রতিষ্ঠান আইডাহো, ওরেগন এবং ওয়াশিংটনে এসব বেকন বাজারজাত করার পর তা স্বেচ্ছায় তুলে নিতে বাধ্য হয়।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
আওয়ামী লীগের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত বাংলাদেশ সরকারের: যুক্তরাষ্ট্র
আওয়ামী লীগের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত বাংলাদেশ সরকারের: যুক্তরাষ্ট্র

আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রমের ওপর থাকা নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হবে কি না, সেই সিদ্ধান্ত বাংলাদেশ সরকারকেই নিতে হবে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। একই সঙ্গে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ঘিরে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে চলমান বিরোধ দুই দেশ আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করবে বলে আশা প্রকাশ করেছে ওয়াশিংটন।   ২৩ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কের ফরেন প্রেস সেন্টারে ‘ইউএস পলিসি ইন সাপোর্ট অব আ স্টেবল, প্রসপারাস অ্যান্ড সভরেন সাউথ এশিয়া’ শীর্ষক অন-ব্যাকগ্রাউন্ড ব্রিফিংয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের এই অবস্থান তুলে ধরা হয়। বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল ও শ্রীলঙ্কার সাংবাদিকরা সেখানে উপস্থিত ছিলেন। ব্রিফিংয়ের আগে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক ডেপুটি অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি বেথানি মরিসন আঞ্চলিক পরিস্থিতি ও মার্কিন নীতি নিয়ে কথা বলেন।   ব্রিফিংয়ে আওয়ামী লীগের কার্যক্রমের ওপর থাকা নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা উচিত কি না জানতে চাওয়া হলে মার্কিন কর্মকর্তা প্রথমে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি নিয়ে মন্তব্য করতে চাননি। পরে বিষয়টি নির্দিষ্ট করে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এই সিদ্ধান্ত বাংলাদেশ সরকারকেই নিতে হবে।    বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রমের ওপর নিষেধাজ্ঞা নতুন নয়। ২০২৫ সালের মে মাসে তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকার সন্ত্রাসবিরোধী আইনের আওতায় দলটির সব ধরনের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করে। পরে নির্বাচন কমিশন দলটির নিবন্ধনও স্থগিত করে। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনে দলটি অংশ নিতে পারেনি। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকারের সময়েও ওই নিষেধাজ্ঞা বহাল রয়েছে।   গত জুনেও বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে আওয়ামী লীগের বিচার শেষ না হওয়া পর্যন্ত দলটির রাজনৈতিক কার্যক্রমের ওপর নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে। দলটি রাজনৈতিক দল হিসেবে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ হবে কি না, সেটি আদালতের সিদ্ধান্তের বিষয় বলেও সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল।    শেখ হাসিনা নিয়ে বাংলাদেশ-ভারতকে আলোচনার পরামর্শ   একই ব্রিফিংয়ে ভারতে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভবিষ্যৎ নিয়েও প্রশ্ন করা হয়। মার্কিন কর্মকর্তা জানান, শেখ হাসিনার বিষয়ে কী হওয়া উচিত, তা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক অবস্থান নেয়নি।   ওই কর্মকর্তা বলেন, শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থান বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্কের মধ্যে বড় ধরনের বিরোধের উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে যুক্তরাষ্ট্র বুঝতে পারছে। ওয়াশিংটনের প্রত্যাশা, ঢাকা ও নয়াদিল্লি নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে এ বিষয়ে একটি সমাধানে পৌঁছাবে।   বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কেও সাম্প্রতিক সময়ে শেখ হাসিনার অবস্থান গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে আছে। ডয়চে ভেলের ২৪ সেপ্টেম্বরের বিশ্লেষণেও হাসিনার ভারতে অবস্থানকে দুই দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার পথে অন্যতম বড় বাধা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।   এর আগে আগস্টে শেখ হাসিনা রয়টার্সকে বলেছিলেন, আওয়ামী লীগের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া উচিত। তিনি ডিসেম্বরে বাংলাদেশে ফেরার পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছিলেন। বাংলাদেশ সরকার অন্যদিকে তাকে ভারত থেকে ফেরত আনার প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার কথা জানিয়েছে।   ‘বাংলাদেশকে কোনো পক্ষ বেছে নিতে বলছে না যুক্তরাষ্ট্র’   ব্রিফিংয়ে যুক্তরাষ্ট্র, ভারত ও চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। জবাবে মার্কিন কর্মকর্তা বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থানকে জটিল উল্লেখ করে বলেন, ওয়াশিংটন বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা শক্তিশালী করতে সহযোগিতা করতে চায়।   তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশকে কোনো একটি শক্তিকে বেছে নিতে বলছে না; বরং দেশগুলোর সামনে নিজেদের একটি বিকল্প অংশীদার হিসেবে উপস্থাপন করতে চায়।   সূত্র: রয়টার্স, ডয়চে ভেলে

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২৬ ৪:৬
পেনসিলভানিয়ায় হামের প্রাদুর্ভাব বাড়ছে, নতুন ৫৫ জনসহ আক্রান্ত ৮৯০

পেনসিলভানিয়ায় হামের প্রাদুর্ভাব বাড়ছে, নতুন ৫৫ জনসহ আক্রান্ত ৮৯০

অ্যাপার্টমেন্ট ছাড়লেই বিপুল অর্থ! তবুও ছাড়তে চাচ্ছেন না সান ফ্রান্সিসকোর ভাড়াটিয়া

অ্যাপার্টমেন্ট ছাড়লেই বিপুল অর্থ! তবুও ছাড়তে চাচ্ছেন না সান ফ্রান্সিসকোর ভাড়াটিয়া

নিউইয়র্কে নতুন সরকারি চাকরির বিজ্ঞপ্তি, আবেদনের সময় অক্টোবর পর্যন্ত

নিউইয়র্কে নতুন সরকারি চাকরির বিজ্ঞপ্তি, আবেদনের সময় অক্টোবর পর্যন্ত

জাতিসংঘ সফর শেষে নিউইয়র্ক ছেড়ে দেশের পথে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
জাতিসংঘ সফর শেষে নিউইয়র্ক ছেড়ে দেশের পথে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে অংশ নিতে পাঁচ দিনের নিউইয়র্ক সফর শেষে বাংলাদেশের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শনিবার সকালে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে নিউজ টোয়েন্টিফোর। তাঁর দেশে ফেরার মধ্য দিয়ে এবারের জাতিসংঘ অধিবেশন ঘিরে নিউইয়র্ক সফর শেষ হচ্ছে।   প্রধানমন্ত্রী ২১ সেপ্টেম্বর ঢাকা থেকে নিউইয়র্কের উদ্দেশে যাত্রা করেন। তাঁর সফরসূচি সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ও পররাষ্ট্রসচিবের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সাধারণ বিতর্কে তাঁর ভাষণ দেওয়ার কথা ছিল।   সফরের আগে পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম জানিয়েছিলেন, প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে বাংলাদেশের রাজনৈতিক অগ্রযাত্রা, জলবায়ু পরিবর্তন, রোহিঙ্গা সংকট, অর্থনৈতিক সহযোগিতা এবং যুব ও নারীর ক্ষমতায়নের মতো বিষয় তুলে ধরার পরিকল্পনা রয়েছে।   নিউইয়র্কে জাতিসংঘের কর্মসূচির পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের নেতা ও আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকের সূচিও ঘোষণা করা হয়েছিল। সফরসূচিতে ২৫ সেপ্টেম্বর রাতে নিউইয়র্ক ছেড়ে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা উল্লেখ ছিল।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২৬ ০:৩৩
ডালাসের কাছে অভিযানে ১২১ জনকে গ্রেপ্তারের কথা জানিয়েছে মার্কিন অভিবাসন কর্তৃপক্ষ। ছবি: সংগৃহীত

টেক্সাসে আড়াই মাসের বিশেষ অভিযানে ১২১ অভিবাসী গ্রেপ্তার

পুলিশের ধাওয়ার সময় চলন্ত গাড়ি থেকে নগদ টাকা ছুড়ে ফেলছেন সন্দেহভাজন চালক। ছবি: সংগৃহীত

পুলিশের ধাওয়া খেয়ে চলন্ত গাড়ির জানালা দিয়ে হাজার হাজার ডলার ছুড়ে ফেললেন অভিযুক্ত

উচ্চ বাড়ির দাম ও বন্ধকী ঋণের সুদহারে নিউইয়র্কের প্রথমবারের ক্রেতারা চাপে পড়েছেন। ছবি: সংগৃহীত

বাড়ির চড়া দাম ও গৃহঋণের উচ্চ সুদে উভয় সংকটে নিউইয়র্কবাসী, প্রভাব পড়ছে বাসা ভাড়ার বাজারেও

অন্যান্য উচ্চ আয়ের দেশের তুলনায় যুক্তরাষ্ট্রে মানুষের গড় আয়ু কম বলে নতুন গবেষণায় উঠে এসেছে। ছবি: সংগৃহীত
বিশ্বে সর্বোচ্চ চিকিৎসা ব্যয় করেও গড় আয়ুতে ৩৮তম অবস্থানে যুক্তরাষ্ট্র, বাড়ছে তরুণদের অকালমৃত্যু

অন্যান্য উচ্চ আয়ের দেশের তুলনায় যুক্তরাষ্ট্রে মানুষের গড় আয়ু কমছে এবং এই ব্যবধানের পেছনে শুধু মাদক অতিরিক্ত গ্রহণ, আত্মহত্যা বা হত্যাকাণ্ডের মতো কারণ দায়ী নয়। হৃদ্‌রোগ, উচ্চ রক্তচাপ, বিপাকীয় ও হরমোনজনিত রোগ, অ্যালকোহলজনিত লিভারের রোগ, স্নায়ুতন্ত্রের রোগ এবং কিডনি ও মূত্রনালির বিভিন্ন অসুস্থতাও যুক্তরাষ্ট্রের মৃত্যুহার বাড়াতে বড় ভূমিকা রাখছে।   ভার্জিনিয়া কমনওয়েলথ ইউনিভার্সিটির স্কুল অব মেডিসিনের গবেষক স্টিভেন এইচ. উলফের নতুন এক গবেষণায় এমন তথ্য উঠে এসেছে। ‘ইউএস লাইফ এক্সপেকট্যান্সি অ্যান্ড ইনক্রিজিং মর্টালিটি রেটস: অ্যান অ্যানালাইসিস অব দ্য ক্রাইসিস’ শীর্ষক গবেষণাটি ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ সালে ‘দ্য মিলব্যাংক কোয়ার্টারলি’তে প্রকাশিত হয়। গবেষণায় ১৯৯৯ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের মৃত্যুহারের তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়েছে এবং ১৬টি উচ্চ আয়ের দেশের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে। তথ্য নেওয়া হয়েছে জাতিসংঘ, যুক্তরাষ্ট্রের মৃত্যুসংক্রান্ত তথ্যভান্ডার, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও উন্নয়ন সংস্থার বিভিন্ন তথ্যভান্ডার থেকে।   গবেষণা অনুযায়ী, ২০২৩ সালে এক মিলিয়নের বেশি জনসংখ্যার দেশগুলোর মধ্যে গড় আয়ুর হিসাবে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান ছিল ৩৮তম। একই সময়ে ৬০টি দেশের মানুষের ৪০ বছর বয়সের আগেই মারা যাওয়ার ঝুঁকি ছিল যুক্তরাষ্ট্রের মানুষের তুলনায় কম।   গবেষণায় বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় পশ্চিম ইউরোপের বিভিন্ন দেশ, কানাডা, জাপান, অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের পাশাপাশি চিলি, কোস্টারিকা, পানামা, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, দক্ষিণ কোরিয়া, সিঙ্গাপুরসহ বেশ কিছু দেশেও মানুষের গড় আয়ু বেশি। যুক্তরাষ্ট্রের এই পিছিয়ে পড়ার প্রবণতা অবশ্য সাম্প্রতিক নয়। গবেষকের বিশ্লেষণে দেখা যায়, ১৯৮০ সালে এক মিলিয়নের বেশি জনসংখ্যার মাত্র ১৩টি দেশের গড় আয়ু যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে বেশি ছিল। ১৯৯০ সালে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান নেমে আসে ২০তম, ২০০০ সালে ২৬তম এবং ২০১০ সালে ৩২তম স্থানে।   গবেষণার অন্যতম উদ্বেগজনক তথ্য পাওয়া গেছে ২৫ থেকে ৪৪ বছর বয়সী তরুণ প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে। ২০১০ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে এই বয়সী মানুষের সব ধরনের মৃত্যুহার ৭১ দশমিক ২ শতাংশ বেড়েছে। এ ক্ষেত্রে মাদক অতিরিক্ত গ্রহণের পাশাপাশি অল্প বয়সে দেখা দেওয়া উচ্চ রক্তচাপ, বিপাকীয় ও হরমোনজনিত রোগ এবং অ্যালকোহলজনিত লিভারের রোগের কারণে মৃত্যুও বেড়েছে।   বিশেষ করে অনিচ্ছাকৃত মাদক অতিরিক্ত গ্রহণে মৃত্যুহার ১৯৯৯ সালের পর প্রায় সাত গুণ বেড়েছে। ২০১৫ সালে এই বয়সী মানুষের মৃত্যুর প্রধান কারণ হিসেবে এটি হৃদ্‌রোগকেও ছাড়িয়ে যায়। ২০০০ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে ২৫ থেকে ৪৪ বছর বয়সীদের আত্মহত্যার হারও ৪১ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়েছে। ২০১৪ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে একই বয়সী মানুষের হত্যাকাণ্ডে মৃত্যুহার ৭৫ দশমিক ৫ শতাংশ এবং যানবাহন দুর্ঘটনায় মৃত্যুহার ৪৩ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়েছে।   মধ্যবয়সী ৪৫ থেকে ৬৪ বছর বয়সীদের ক্ষেত্রেও একই ধরনের উদ্বেগজনক প্রবণতা দেখা গেছে। ১৯৯৯ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে উচ্চ রক্তচাপজনিত রোগে মৃত্যুহার ৮৯ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়েছে। ২০০০ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে এই বয়সীদের অনিচ্ছাকৃত মাদক অতিরিক্ত গ্রহণে মৃত্যুহার প্রায় নয় গুণ বেড়েছে।   এ ছাড়া ২০০৬ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে অ্যালকোহলজনিত লিভারের রোগে মৃত্যুহার ৬১ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়েছে। ২০১০ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে বিপাকীয় ও হরমোনজনিত রোগে মৃত্যুহার ৫১ দশমিক ৬ শতাংশ এবং ২০০০ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে স্নায়ুতন্ত্রের রোগে মৃত্যুহার ৩০ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়েছে। কিডনি ও মূত্রনালিসংক্রান্ত রোগেও মৃত্যুহার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।   গবেষণায় নবজাতক ও শিশুদের মৃত্যুর ক্ষেত্রেও কিছু উদ্বেগজনক পরিবর্তন পাওয়া গেছে। ২০২০ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে শিশুমৃত্যুর হার ৬ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়েছে, যা প্রায় দুই দশকের মধ্যে প্রথম উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি। আকস্মিক ও ব্যাখ্যাতীত শিশুমৃত্যু এবং ঘুমের সময় দুর্ঘটনাজনিত শ্বাসরোধের মতো কারণ এ বৃদ্ধিতে ভূমিকা রেখেছে বলে গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে।   করোনাভাইরাস মহামারিও যুক্তরাষ্ট্রের মৃত্যুহারের ব্যবধান বাড়িয়েছে। ২০২০ সালে কোভিড-১৯ মধ্যবয়সী মানুষের মৃত্যুর তৃতীয় প্রধান কারণ হয়ে ওঠে। ২০২১ সালে ৪৫ থেকে ৬৪ বছর বয়সীদের মধ্যে কোভিড-১৯-এ মৃত্যুহার আগের বছরের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ হয়। পরে ২০২২ ও ২০২৩ সালে এই মৃত্যুহার উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসে। তবে মহামারি কমে যাওয়ার পরও অন্যান্য রোগে মৃত্যুর দীর্ঘমেয়াদি প্রবণতা অব্যাহত ছিল।   গবেষকরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্য সংকটকে শুধু নির্দিষ্ট কয়েকটি রোগ বা মৃত্যুর কারণ দিয়ে ব্যাখ্যা করা যায় না। স্বাস্থ্যসেবায় প্রবেশের সুযোগ, চিকিৎসার খরচ, প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবার ঘাটতি, আর্থসামাজিক বৈষম্য, খাদ্যাভ্যাস, পরিবেশ এবং সামাজিক নিরাপত্তাব্যবস্থার মতো বিষয়ও মানুষের স্বাস্থ্যের ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলছে।   গবেষণায় আরও বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে চিকিৎসার ব্যয় অনেক বেশি হওয়ায় কিছু মানুষ বীমার আওতায় থাকার পরও চিকিৎসা নিতে দেরি করেন বা চিকিৎসা এড়িয়ে যান। ফলে শুরুতেই শনাক্ত ও নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব এমন রোগ পরবর্তী সময়ে গুরুতর আকার ধারণ করতে পারে।   জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ জগদীশ খুবচন্দানি গবেষণাটির বিষয়ে নিউজউইককে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র অন্য অনেক উন্নত দেশের তুলনায় স্বাস্থ্যসেবায় বেশি অর্থ ব্যয় করলেও মৃত্যুহারের ব্যবধান নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। তার মতে, হৃদ্‌রোগ, শ্বাসতন্ত্রের রোগ, বিপাকীয় স্বাস্থ্য সমস্যা এবং বিভিন্ন বাহ্যিক কারণজনিত মৃত্যু কমানোর ক্ষেত্রে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ।   গবেষণায় যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরেও বড় ধরনের বৈষম্যের কথা তুলে ধরা হয়েছে। অঞ্চল, আয়, শিক্ষা এবং জাতিগত পরিচয়ের সঙ্গে গড় আয়ুর পার্থক্য দেখা যায়। ২০২৩ সালে আমেরিকান ইন্ডিয়ান ও আলাস্কা নেটিভ জনগোষ্ঠীর গড় আয়ু ছিল ৭০ দশমিক ১ বছর। একই সময়ে অশ্বেতাঙ্গ কৃষ্ণাঙ্গ জনগোষ্ঠীর ক্ষেত্রে তা ৭৪ বছর, শ্বেতাঙ্গ জনগোষ্ঠীর ক্ষেত্রে ৭৮ দশমিক ৪ বছর, হিস্পানিক জনগোষ্ঠীর ক্ষেত্রে ৮১ দশমিক ৩ বছর এবং এশীয় জনগোষ্ঠীর ক্ষেত্রে ৮৫ দশমিক ২ বছর ছিল।   গবেষক উলফের বিশ্লেষণে আরও দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহর ও এলাকার মধ্যেও গড় আয়ুর ব্যবধান অনেক বড় হতে পারে। আয়, শিক্ষা ও বসবাসের পরিবেশের মতো সামাজিক কারণ একে অপরের সঙ্গে যুক্ত হয়ে মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়াতে পারে।   গবেষণায় ১৯৬০ থেকে ২০২২ সালের তথ্য ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ১৬টি উচ্চ আয়ের দেশের মৃত্যুহারের তুলনাও করা হয়েছে। এতে দেখা যায়, ২০১০ সালের পর যুক্তরাষ্ট্র ও ওই দেশগুলোর মধ্যে মৃত্যুহারের ব্যবধান তৈরিতে রক্তসঞ্চালনসংক্রান্ত রোগ, বাহ্যিক কারণ, স্নায়ুতন্ত্রের রোগ, শ্বাসতন্ত্রের রোগ এবং বিপাকীয় ও হরমোনজনিত রোগ বড় ভূমিকা রেখেছে। এর পাশাপাশি সংক্রামক রোগ, মানসিক ও আচরণগত সমস্যা, কিডনি ও মূত্রনালির রোগ এবং পরিপাকতন্ত্রের রোগও ব্যবধান তৈরিতে অবদান রেখেছে।   গবেষণাটির মূল বক্তব্য হলো, যুক্তরাষ্ট্রের আয়ু ও মৃত্যুহারের সমস্যা শুধু মাদক, আত্মহত্যা বা নির্দিষ্ট কয়েকটি রোগের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বিভিন্ন বয়সে একাধিক রোগ ও মৃত্যুর কারণ একই সঙ্গে বাড়ছে। তাই এই ব্যবধান কমাতে শুধু চিকিৎসা বাড়ানো নয়, স্বাস্থ্যসেবায় মানুষের প্রবেশাধিকার, চিকিৎসার ব্যয়, খাদ্য ও আবাসন নিরাপত্তা, সামাজিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার মতো বৃহত্তর বিষয়গুলোকেও গুরুত্ব দিতে হবে বলে গবেষণায় বলা হয়েছে।   সূত্র: দ্য মিলব্যাংক কোয়ার্টারলি, নিউজউইক

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২৬ ২১:৪
কংগ্রেসের অনুমোদিত সরকারি তহবিল বাতিলের নির্দেশ দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত

ট্রাম্পের নির্দেশে ৮১০ মিলিয়ন ডলারের সরকারি তহবিল বাতিল, বড় কাটছাঁট অভিবাসন খাতে

নিউইয়র্কে ফিলিস্তিন-ইসরায়েল সংকট সমাধানে দ্বিরাষ্ট্রীয় সমাধানের আহ্বান

নিউইয়র্কে ফিলিস্তিন-ইসরায়েল সংকট সমাধানে দ্বিরাষ্ট্রীয় সমাধানের আহ্বান

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়ায় বিড়াল নি র্যাতন করে ৪ লাখ ডলারের প্রতারণা, যুবকের ১৫ বছরের কারাদণ্ড

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়ায় বিড়াল নি র্যাতন করে ৪ লাখ ডলারের প্রতারণা, যুবকের ১৫ বছরের কারাদণ্ড

0 Comments