মেয়ের জন্য ২০০ ডলার বাড়তি আয়ের খোঁজে নেমে, এখন মাসে ৩২ হাজার ডলার আয় নাসার ইঞ্জিনিয়ারের
দিনের বেলায় তিনি যুক্তরাষ্ট্রের হিউস্টনে অবস্থিত নাসার জনসন স্পেস সেন্টারের একজন 'হিউম্যান পারফরম্যান্স ইঞ্জিনিয়ার'। মহাকাশচারীরা যাতে স্পেসস্যুটে স্বাচ্ছন্দ্যে চলাফেরা করতে পারেন, তা নিয়ে কাজ করেন তিনি। কিন্তু দিনের কাজ শেষে এরিন অ্যান্ড্রুস নামের ৪১ বছর বয়সী এই নারীর জীবন সম্পূর্ণ ভিন্ন। নিজের বেডরুমের ক্লোজেটে (দেয়াল-আলমারি) তৈরি করা একটি অস্থায়ী সাউন্ড বুথে ভয়েসওভার আর্টিস্ট বা কণ্ঠশিল্পী হিসেবে 'সাইড হাসল' করেন তিনি। আর চমকপ্রদ ব্যাপার হলো, এই খণ্ডকালীন কাজ থেকে তিনি এখন মাসে গড়ে ৩২ হাজার ৪০০ ডলার আয় করছেন!
২০২২ সালের মার্চ মাসে স্বামীবিচ্ছিন্ন হওয়ার পর একজন 'সিঙ্গেল মাদার' হিসেবে এরিন চেয়েছিলেন মাসে অন্তত ২০০ ডলার বাড়তি আয় করতে, যাতে খরচের চিন্তা ছাড়া তার ছয় বছর বয়সী মেয়েকে আইসক্রিম খাওয়াতে বা শিশু জাদুঘরে নিয়ে যেতে পারেন। ইন্টারনেটে 'সিঙ্গেল মম সাইড হাসল' লিখে খুঁজতেই তিনি ভয়েসওভারের আইডিয়াটি পান। এরপর মাত্র ২০০ ডলার খরচ করে একটি ভয়েসওভার কোর্স করেন, একটি মাইক্রোফোন কেনেন এবং শব্দ নিয়ন্ত্রণের জন্য ওয়ালমার্ট থেকে ম্যাট্রেস টপার কিনে নিজের ক্লোজেটকে মিনি-রেকর্ডিং বুথে পরিণত করেন। জায়গাটি এতটাই ছোট ছিল যে, তাকে বসে বসে রেকর্ডিং করতে হতো।
অনলাইন ফ্রিল্যান্স মার্কেটপ্লেস ফাইভার-এ (Fiverr) প্রোফাইল খুলে কাজ শুরু করেন এরিন। বর্তমানে তিনি অ্যাপল, কোকা-কোলা, পেটস্মার্ট এবং ইউনিভার্সিটি অব মিসিসিপির মতো বড় বড় ক্লায়েন্টদের হয়ে করপোরেট ঘোষণা ও ট্রেনিং ভিডিওর ভয়েসওভার দিচ্ছেন। এরিন জানান, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-এর যুগে মানুষ এখন অতি-নিখুঁত কণ্ঠের বদলে আসল মানুষের একটু অমসৃণ ও স্বাভাবিক কণ্ঠ শুনতে বেশি পছন্দ করে, যা তার জনপ্রিয়তার অন্যতম কারণ। চলতি ২০২৬ সালে ইতিমধ্যেই এই সাইড হাসল থেকে তিনি ২ লাখ ২৭ হাজার ডলারের বেশি আয় করেছেন, যা গত ২০২৫ সালের গ্রীষ্মেই নাসায় তার মূল বেতনের অঙ্ককে ছাড়িয়ে গেছে।
বর্তমানে ভয়েসওভারের কাজ থেকে পাওয়া অর্থে তিনি ভ্রমণ করছেন, গাড়ি কিনেছেন এবং মেয়ের কলেজের পড়াশোনার জন্য সঞ্চয় করছেন। তবে নাসার চ্যালেঞ্জিং চাকরিটি ছাড়ার কোনো ইচ্ছে তার আপাতত নেই। বরং সম্প্রতি তিনি ভিডিও গেম এবং অ্যানিমেটেড কমিকসে চরিত্রভিত্তিক ভয়েসওভারের কাজও শুরু করেছেন এবং ২০২৫ সালের আগস্টে ডালাসে একটি ভিডিও গেমে কণ্ঠ দিয়ে পুরস্কারও জিতেছেন। একসময় নিজেকে কেবল বিজ্ঞান ও অঙ্কের মানুষ ভাবা এরিন এখন নিজের এই শৈল্পিক সত্তা এবং অভাবনীয় আর্থিক স্বাধীনতা নিয়ে দারুণ আত্মবিশ্বাসী ও চিন্তামুক্ত জীবন কাটাচ্ছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মঙ্গলবার জানিয়েছেন, দীর্ঘ চার বছরের বেশি সময় ধরে রাশিয়ার কারাগারে বন্দী থাকা এক সাবেক মার্কিন নৌসেনাকে (মেরিন ভেটেরান) মুক্তি দেওয়া হয়েছে। রবার্ট গিলম্যান নামের এই মার্কিন নাগরিকের শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন ছিল বলে সম্প্রতি উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল তার মুক্তির দাবিতে আন্দোলনরত একটি অধিকার গোষ্ঠী। ট্রাম্প জানান, রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন 'মানবিক কারণে' গিলম্যানকে মুক্তি দিতে রাজি হয়েছেন এবং এর বিনিময়ে রাশিয়া কোনো বন্দী বিনিময় বা অন্য কোনো শর্ত দাবি করেনি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম 'ট্রুথ সোশ্যাল'-এ ট্রাম্প লেখেন, "কোনো বন্দী বিনিময় হয়নি"। তিনি আরও জানান, দেশে ফেরার পর গিলম্যান কেবল একটি ভালো মানের 'চিজবার্গার' খেতে চেয়েছেন এবং তিনি সেটির ব্যবস্থা করবেন। গ্লোবাল রিচ নামের একটি সংস্থার চিফ স্ট্র্যাটেজি অফিসার এরিক লেবসন জানিয়েছেন, ৩২ বছর বয়সী গিলম্যানকে টেক্সাসের একটি মার্কিন সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসা ও মানসিক স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য পাঠানো হবে। ট্রাম্প জানিয়েছেন, গিলম্যান মেরিল্যান্ডের জয়েন্ট বেস অ্যান্ড্রুজে পৌঁছাবেন এবং সেখানে তার দলের প্রতিনিধিরা তাকে স্বাগত জানাবেন। গিলম্যানের সাথে তার মা-ও যুক্তরাষ্ট্রে ফিরছেন, যিনি অসুস্থ ছেলেকে দেখতে রাশিয়ায় গিয়েছিলেন। গিলম্যানের বোন লেক্সি হাডসন তার ভাইয়ের জীবন বাঁচানোর জন্য প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। ম্যাসাচুসেটসের বাসিন্দা এবং পেশায় শিক্ষক রবার্ট গিলম্যান ২০২২ সাল থেকে রাশিয়ায় বন্দী ছিলেন। ট্রেনে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগে তাকে নামিয়ে দেওয়ার পর এক পুলিশ কর্মকর্তাকে মারধরের দালায় প্রাথমিকভাবে তাকে সাড়ে তিন বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। পরবর্তীতে কারাগারে পরিদর্শক ও প্রহরীদের ওপর হামলার অভিযোগে তার সাজার মেয়াদ কয়েক দফায় বাড়িয়ে ১০ বছর করা হয়। লেবসন জানান, রাশিয়ায় বন্দিদশায় গিলম্যানকে চরম নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে; যার মধ্যে দৈনিক ১৬ ঘণ্টার বাধ্যতামূলক ব্যায়াম এবং মানসিক ভারসাম্য নষ্টকারী সাইকোট্রপিক ওষুধ প্রয়োগের মতো ঘটনাও রয়েছে। এমনকি ইউক্রেন যুদ্ধে অংশ নিতেও তাকে চাপ দেওয়া হয়েছিল। দীর্ঘদিন ধরে চলা এই অমানবিক নির্যাতনের কারণে গিলম্যান গত ৪৭ দিন ধরে মানসিক ভারসাম্যহীন বা 'ডিসোসিয়েটিভ স্টুপোর' অবস্থায় ছিলেন। সম্প্রতি তাকে কারাগার থেকে একটি বেসামরিক হাসপাতালে স্থানান্তর করে বিছানার সাথে হাতকড়া পরিয়ে ফিডিং টিউবের মাধ্যমে খাবার দেওয়া হচ্ছিল। তার এই মুমূর্ষু অবস্থার কথা জানতে পেরেই মার্কিন প্রশাসন রাশিয়ার সাথে বারবার যোগাযোগ করে মানবিক কারণে তার দ্রুত মুক্তির ব্যবস্থা করে।
লস অ্যাঞ্জেলেস থেকে দুই ঘণ্টার পথ, মাত্র ২২ ডলারে মিলবে ক্যালিফোর্নিয়ার সেরা ক্যাম্পিং অভিজ্ঞতা
মেয়ের জন্য ২০০ ডলার বাড়তি আয়ের খোঁজে নেমে, এখন মাসে ৩২ হাজার ডলার আয় নাসার ইঞ্জিনিয়ারের
ব্যাংক অব আমেরিকার কর্মীদের ওজন কমাতে ২৫০ মিলিয়ন ডলার ব্যয়, সিইও বলছেন ‘সার্থক বিনিয়োগ’
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের ম্যানহাটনে অনুষ্ঠিত ঐতিহ্যবাহী ডোমিনিকান ডে প্যারেডে চরম বিশৃঙ্খলা ও হামলার ঘটনার পর মাঝপথেই অনুষ্ঠানটি বন্ধ করে দিয়েছে পুলিশ। রবিবার আয়োজিত এই আনন্দমিছিলে হঠাৎ করেই ভিড় প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। একপর্যায়ে ১৯ বছর বয়সী এক তরুণের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে ৬৫ বছর বয়সী এক বৃদ্ধ মারাত্মকভাবে জখম হলে কর্তৃপক্ষ তড়িঘড়ি করে প্যারেডটি স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নেয়। উল্লেখ্য, ৪২ বছর ধরে আয়োজিত এই জমকালো উৎসবে এবারও প্রায় ৫ লাখ দর্শক এবং ১১৩টি বিভিন্ন সংগঠনের অংশ নেওয়ার কথা ছিল। সিক্সথ অ্যাভিনিউ ধরে সেন্ট্রাল পার্কের প্রবেশদ্বার ওয়েস্ট ৫৯ নম্বর সড়ক পর্যন্ত এই বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা চলার কথা ছিল। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সূত্রমতে, র্যাপারদের বহনকারী কয়েকটি ফ্লোট বা সুসজ্জিত যান যখন এগিয়ে আসছিল, তখন দর্শনার্থীরা হঠাৎ করে অতি-উৎসাহী ও উচ্ছৃঙ্খল হয়ে ওঠে। ৪৬ নম্বর সড়কের কাছে অনেকেই ব্যারিকেড টপকে মূল রাস্তায় ঢুকে পড়েন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগকে (এনওয়াইপিডি) রীতিমতো হিমশিম খেতে হয়। পুলিশ যখন ভিড় ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করছিল, তখন বিকেল পৌনে চারটার দিকে ৪৫ নম্বর সড়কের কাছে এক বিবাদের জেরে ওই ১৯ বছর বয়সী তরুণ ৬৫ বছরের এক বৃদ্ধের মুখ ও হাতে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে। পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে ওই তরুণকে গ্রেপ্তার করে এবং ঘটনাস্থল থেকে একটি ছুরি উদ্ধার করে। আহত বৃদ্ধকে স্থিতিশীল অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এরপর পুলিশ বাধ্য হয়ে সিক্সথ অ্যাভিনিউ থেকে প্যারেডটিকে ৫২ নম্বর সড়কের দিকে ঘুরিয়ে দেয়। পরিস্থিতির ভয়াবহতা তুলে ধরে নিউইয়র্ক পুলিশের এক কর্মকর্তা সংবাদমাধ্যমকে জানান, বিষয়টি পুরোপুরি তাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ায় তারা প্যারেডটি বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়েছেন। তবে প্রশাসনের এমন আকস্মিক সিদ্ধান্তে হতাশ হয়েছেন উৎসবে আসা অনেক সাধারণ দর্শনার্থী। ছোটবেলা থেকে প্রতি বছর এই প্যারেডে অংশ নেওয়া ১৭ বছর বয়সী সিনথিয়া লোপেজ নামের এক কিশোরী আক্ষেপ করে বলেন, তারা সবাই মিলে কেবল আনন্দ করছিলেন এবং সেখানে তারা কোনো ধরনের মারামারির ঘটনা দেখেননি। হঠাৎ করেই কেন এমন আনন্দঘন একটি আয়োজন মাঝপথে বন্ধ করে দেওয়া হলো, তা তিনি কিছুতেই মেনে নিতে পারছেন না।
নিউইয়র্কে অতিরিক্ত প্রপার্টি ট্যাক্স আদায়ের অভিযোগ, রিফান্ড চাইছেন বাড়ির মালিকরা
যুক্তরাষ্ট্রের কলোরাডোতে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পাহাড়ের খাদে গাড়ি, নি হত ১৭ বছরের পাঁচ কিশোর
ফ্লোরিডায় স্ত্রী ও দুই অবুঝ সৎমেয়েকে হ ত্যার ১৪ বছর পর আদালতে দোষ স্বীকার পাষণ্ড স্বামীর
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা থেকে গত মাসে নিখোঁজ হওয়া ১৬ বছর বয়সী কিশোরী সোফিয়া কভারকে বাড়ি থেকে ১২০০ মাইলেরও বেশি দূরে নিউজার্সিতে নিরাপদে খুঁজে পাওয়া গেছে। গত ৩১ জুলাই গভীর রাতে বাড়ি থেকে চুপিসারে বেরিয়ে যাওয়ার পর থেকে সে নিখোঁজ ছিল। সোমবার সন্ধ্যায় সোফিয়ার বাবা রিক কভার ফেসবুকে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে জানান, এফবিআই (FBI) তার মেয়েকে নিউজার্সিতে নিরাপদে উদ্ধার করেছে। দীর্ঘ অপেক্ষার পর পরিবার অবশেষে কাঙ্ক্ষিত সুখবরটি পেয়েছে বলে স্বস্তি প্রকাশ করেন তিনি। মেয়েকে ফিরে পাওয়ার পর তদন্তকারী কর্মকর্তাদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন রিক কভার। তিনি বিশেষভাবে কলিয়ার কাউন্টি শেরিফ অফিস এবং গোয়েন্দা মারিসল রদ্রিগেজের নাম উল্লেখ করেন। এর পাশাপাশি, যেসব পরিচিত ও অপরিচিত মানুষ সোফিয়ার ছবি শেয়ার করেছেন, তার জন্য প্রার্থনা করেছেন এবং নানা তথ্য দিয়ে সহায়তা করেছেন, তাদের সবার প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ জানান এই বাবা। তিনি বলেন, হাজারো মানুষ তার মেয়ের নিখোঁজ হওয়ার খবরটি ছড়িয়ে দিয়েছিলেন বলেই আজ তাকে ফিরে পাওয়া সম্ভব হয়েছে। সংবাদমাধ্যম 'গালফ কোস্ট নিউজ নাউ'-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রিক কভার জানান, দীর্ঘ ১১ দিন পর মেয়ের সাথে দেখা করতে যত দ্রুত সম্ভব তিনি নিউজার্সিতে উড়ে যাবেন। সোফিয়া নিউজার্সিতে তার বন্ধুদের সাথে অবস্থান করছিল বলে জানা গেছে। তবে সে কীভাবে এতদূর পৌঁছাল এবং কবে নাগাদ তাকে বাড়িতে ফিরিয়ে আনা যাবে, সে বিষয়ে ডিপার্টমেন্ট অব চিলড্রেন অ্যান্ড ফ্যামিলিজের নির্দেশনার অপেক্ষায় রয়েছেন তিনি। রিক আরও জানান, তারা ধীরে ধীরে পুরো বিষয়টি বোঝার চেষ্টা করবেন এবং ঠিক কী ঘটেছিল তা উদ্ঘাটন করবেন। গত ৩১ জুলাই গোল্ডেন গেট এস্টেটসে অবস্থিত নিজ বাড়ির সিসিটিভি ফুটেজে সোফিয়াকে ভোরের দিকে অজানা কারণে বেরিয়ে যেতে দেখা যায়। এরপর থেকেই চরম উদ্বেগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছিলেন তার বাবা। মেয়ে যে স্বেচ্ছায় বাড়ি থেকে পালিয়ে গেছে, তা কোনোভাবেই মানতে রাজি ছিলেন না তিনি। মেয়েকে খুঁজে বের করতে অনলাইনে ও স্থানীয়ভাবে তিনি ব্যাপক অনুসন্ধান অভিযান শুরু করেছিলেন। সেই সময় এক আবেগঘন বার্তায় তিনি সোফিয়াকে যেকোনো পুলিশ সদস্য বা নিরাপদ কোনো প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের কাছে আশ্রয় নিয়ে বাড়ি ফিরে আসার আকুতি জানিয়েছিলেন।
যুক্তরাষ্ট্রের মিসৌরিতে দাদির অসুস্থতার অজুহাতে গলফে জালিয়াতি, ফেইক ‘হোল-ইন-ওয়ান’ করে বিপাকে খেলোয়াড়
বাড়ির দাম নয়, বীমার চড়া প্রিমিয়ামেই টেক্সাসে বাড়ি কেনার সামর্থ্য হারিয়েছে ৭০ লাখ পরিবার