ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত কলম্বিয়াকে আরও ১ কোটি ১০ লাখ ডলার সহায়তা দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র
৭ দশমিক ৪ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত কলম্বিয়াকে আরও ১ কোটি ১০ লাখ ডলার মানবিক সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। শুক্রবার এই অতিরিক্ত সহায়তার ঘোষণা দেওয়া হয়। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, নতুন অর্থসহ ভূমিকম্প মোকাবিলায় কলম্বিয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের মোট সহায়তার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৬৫ লাখ ডলার।
নতুন সহায়তা খাবার, স্বাস্থ্যসেবা, সুরক্ষা ও আশ্রয়ের প্রয়োজন মেটাতে ব্যবহার করা হবে। একই সঙ্গে মানবিক সহায়তাকারী অংশীদারদের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত ভবন ও অন্যান্য স্থাপনার কাঠামোগত মূল্যায়নেও এই অর্থ ব্যবহার করা হবে বলে জানিয়েছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর।
১০ আগস্ট পশ্চিম কলম্বিয়ায় ৭ দশমিক ৪ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হানে। এতে দেশটির কয়েকটি শহরে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের সৃষ্টি হয়। বাড়িঘরের পাশাপাশি স্কুল, হাসপাতাল এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ভূমিকম্পের পর থেকে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ও আন্তর্জাতিক উদ্ধারকারী দলগুলো।
যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, দেশটি ত্রাণসামগ্রী পৌঁছে দিতে সামরিক বাহিনীর সাউদার্ন কমান্ডের সঙ্গে কাজ করছে। মিয়ামিতে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের একটি গুদাম থেকে এসব ত্রাণসামগ্রী কলম্বিয়ায় পাঠানো হচ্ছে। প্রথম ফ্লাইটে আশ্রয়ের উপকরণ, পানি, স্বাস্থ্যবিধি সামগ্রী এবং যোগাযোগব্যবস্থা সচল রাখতে শত শত স্টারলিংক কিট পাঠানো হচ্ছে।
ভূমিকম্পের পর উদ্ধার কার্যক্রমে সহায়তা করতে যুক্তরাষ্ট্রের দুটি নগর অনুসন্ধান ও উদ্ধার কারিগরি দলও কলম্বিয়ায় পৌঁছেছে। বুধবার দেশটিতে পৌঁছানো এসব দল কলম্বিয়ার নেতৃত্বাধীন উদ্ধার কার্যক্রমে সমন্বয়, যোগাযোগ এবং কাঠামোগত প্রকৌশল সহায়তা দিচ্ছে।
কলম্বিয়ার জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা ইউনিট শুক্রবার জানিয়েছে, ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২৮৫ জনে দাঁড়িয়েছে। আহত হয়েছেন ৩ হাজার ৯৭৫ জন। এছাড়া ৩৭৯ জন নিখোঁজ রয়েছেন এবং ৩৫৪ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে।
ভূমিকম্পে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে ধসে পড়া স্থাপনা ও আটকে পড়া মানুষের সন্ধানে উদ্ধার তৎপরতা চলছে। আন্তর্জাতিক অনুসন্ধান ও উদ্ধারকারী দলগুলোও ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছে। এসব দল কলম্বিয়ার জরুরি সেবাদানকারী কর্মীদের সঙ্গে সমন্বয় করে ধসে পড়া ভবন ও সীমিত পরিসরের স্থানে উদ্ধার অভিযান পরিচালনায় সহায়তা করছে।
মার্কিন সহায়তার নতুন অর্থের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের খাবার, স্বাস্থ্য, সুরক্ষা ও আশ্রয়ের প্রয়োজন মেটানোর পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনার নিরাপত্তা ও কাঠামোগত অবস্থা মূল্যায়নের কাজও করা হবে। ত্রাণসামগ্রী পৌঁছে দিতে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে বিমানযোগে সহায়তা পাঠানোর কার্যক্রমও অব্যাহত রয়েছে।
এদিকে নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধান, ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সহায়তা এবং ভূমিকম্পের সামগ্রিক ক্ষয়ক্ষতি মূল্যায়নে কলম্বিয়ার কর্তৃপক্ষ কাজ করে যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক উদ্ধারকারী দলগুলোও স্থানীয় জরুরি সেবাদানকারীদের সঙ্গে উদ্ধার কার্যক্রমে যুক্ত রয়েছে।
ভূমিকম্পের পর উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম অব্যাহত থাকায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য খাবার, পানি, আশ্রয় এবং স্বাস্থ্যসেবার প্রয়োজন মেটানো এখন অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে। যুক্তরাষ্ট্রের নতুন সহায়তা এসব মানবিক প্রয়োজন মোকাবিলায় ব্যবহার করা হবে বলে জানিয়েছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর।
কলম্বিয়ায় ভূমিকম্পে মৃত, আহত ও নিখোঁজ মানুষের সংখ্যা বাড়ার মধ্যে উদ্ধার অভিযানও চলছে। কর্তৃপক্ষ ধসে পড়া স্থাপনায় আটকে থাকা মানুষদের খুঁজে বের করার পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর পরিস্থিতি মূল্যায়ন করছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন দেশ ও আন্তর্জাতিক উদ্ধারকারী দলগুলো স্থানীয় উদ্ধারকর্মীদের সহায়তা করছে।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreভারতের কর্ণাটকের ছোট্ট একটি গ্রাম থেকে শুরু হয়েছিল তার অদম্য এক যাত্রা। যুক্তরাষ্ট্রে পা রাখার সময় পকেটে পর্যাপ্ত টাকা বা চেনা-পরিচিত কেউই ছিল না তার। সেই কপর্দকশূন্য আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী থেকে আজ তিনি একজন সফল টেক-উদ্যোক্তা এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের গর্বিত নাগরিক। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে নিজের এই দীর্ঘ ও কঠিন লড়াইয়ের গল্প তুলে ধরেছেন সাইমন শেঠি। কর্ণাটকে বেড়ে ওঠা সাইমন বিশ্বেশ্বরায় টেকনোলজিক্যাল ইউনিভার্সিটি থেকে ইঞ্জিনিয়ারিং শেষ করে পাড়ি জমান যুক্তরাষ্ট্রে। সেখানে অ্যারিজোনা স্টেট ইউনিভার্সিটি থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন তিনি। বিএসএনএল-এ ইন্টার্ন হিসেবে ক্যারিয়ার শুরু করলেও পরবর্তীতে টেসলা এবং লিফ্ট-এর মতো শীর্ষস্থানীয় ও বিশ্বমানের কোম্পানিতে কাজ করার সুযোগ পান তিনি। তবে আরামদায়ক ও উচ্চ বেতনের চাকরির মোহ ছেড়ে ২০২৩ সালে তিনি নিজের কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করেন, যা তার জীবনে নতুন এক চ্যালেঞ্জ নিয়ে আসে। স্বপ্নের দেশ আমেরিকায় তার পথচলা মোটেও মসৃণ ছিল না। ঋণের বোঝা, বারবার চাকরির সাক্ষাৎকারে প্রত্যাখ্যান এবং এইচ-ওয়ানবি (H-1B) ভিসা লটারিতে সুযোগ না পাওয়ার মতো হতাশা তাকে প্রতিনিয়ত তাড়া করেছে। সবচেয়ে বড় ধাক্কাটি আসে যখন একসময়ের পরিচিত কিছু মানুষ তার বিরুদ্ধে মার্কিন ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের কাছে জালিয়াতির মিথ্যা অভিযোগ দায়ের করে। তাকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বিতাড়িত করার হীন উদ্দেশ্যেই এই ভিত্তিহীন অভিযোগ করা হয়েছিল। তবে সঠিক পর্যালোচনার পর মার্কিন বিচারব্যবস্থার মাধ্যমে সত্যের জয় হয় এবং তিনি নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করতে সক্ষম হন। নাগরিকত্ব পাওয়ার এই আনন্দঘন মুহূর্তে সাইমন সেইসব অভিবাসীদের পাশে থাকার অঙ্গীকার করেছেন, যারা এখনও এফ-১ (F-1), এইচ-ওয়ানবি (H-1B), ও-১ (O-1), এল-১ (L-1) ভিসা বা গ্রিন কার্ডের অপেক্ষায় দিন গুনছেন এবং নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন। তাদের উদ্দেশ্যে সাইমনের সহজ বার্তা— ধৈর্য রাখুন, নিয়ম মেনে চলুন এবং নিজের লক্ষ্যের প্রতি অবিচল থাকুন। নিজের পোস্টে সাইমন লিখেছেন, "ট্রলরা চেয়েছিল আমাকে নির্বাসনে পাঠাতে। কিন্তু তার বদলে আজ আমি একজন আমেরিকান।" তার এই অনুপ্রেরণাদায়ক পোস্টে নেটিজেনরা অভিবাদন ও প্রশংসার বন্যা বইয়ে দিয়েছেন।
ভারতীয় প্রতিবেশীদের বিদায়ে কান্নায় ভেঙে পড়লেন মার্কিন নারী
ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত কলম্বিয়াকে আরও ১ কোটি ১০ লাখ ডলার সহায়তা দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র
সমর্থকদের ভিড়ে থাকত জমজমাট, এখন ৫০ শতাংশ ছাড়েও বন্ধ হচ্ছে ‘ট্রাম্প সুপারস্টোর’
যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন আদালতে একসঙ্গে শত শত মানুষের শুনানি নেওয়া হচ্ছে। অল্প সময়ের নোটিশে এসব শুনানির তারিখ নির্ধারণ বা পরিবর্তন করা হচ্ছে বলে এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। নির্ধারিত সময়ে আদালতে হাজির হতে না পারলে অনেক অভিবাসীর বিরুদ্ধে তাদের অনুপস্থিতিতেই বহিষ্কারের আদেশ দেওয়া হচ্ছে। এই বড় আকারের শুনানিগুলোকে ‘মেগা মাস্টার’ শুনানি বলা হচ্ছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব শুনানিতে ১০০ থেকে ২০০টি মামলা পর্যন্ত রাখা হচ্ছে। একেকটি শুনানিতে মোট প্রায় ১৫০ জনকে তালিকাভুক্ত করা হতে পারে। আগের তুলনায় অনেক বেশি মানুষকে একই শুনানিতে রাখা হচ্ছে এবং অনেক ক্ষেত্রে নোটিশও অল্প সময় আগে দেওয়া হচ্ছে। এসব শুনানির নোটিশ দেওয়া হলেও অনেক সময় তা ইংরেজিতে এবং স্বল্প সময়ের মধ্যে পাঠানো হচ্ছে। ফলে আইনজীবী না থাকা অভিবাসীদের জন্য শুনানির প্রস্তুতি নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে। কেউ শুনানিতে হাজির না হলে আদালত তার অনুপস্থিতিতে বহিষ্কারের আদেশ দিতে পারে। পরে এমন আদেশের কারণে ওই ব্যক্তি অভিবাসন কর্মকর্তাদের হাতে গ্রেপ্তার ও বহিষ্কারের ঝুঁকিতে পড়তে পারেন। প্রতিবেদনে গবেষকদের তথ্য তুলে ধরে বলা হয়েছে, চলতি বছরের জুনে আটক না থাকা অভিবাসীদের মাস্টার শুনানিতে হাজির না হওয়ার সংখ্যা ২০২৪ সালের জুনের তুলনায় ২৮ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়েছে। একই সময়ে অনুপস্থিতিতে দেওয়া বহিষ্কারের আদেশ বেড়েছে ১৮৩ দশমিক ৬ শতাংশ। জুন মাসে বিচারকেরা মোট ৫৩ হাজার ৮০৮টি অনুপস্থিতিতে বহিষ্কারের আদেশ দিয়েছেন। এর মধ্যে ১৩ হাজারের বেশি আদেশ এসেছে এমন মাস্টার শুনানি থেকে, যেখানে একসঙ্গে ১০০ বা তার বেশি মানুষের মামলা রাখা হয়েছিল। এসব শুনানিতে নোটিশ পাওয়ার মধ্যবর্তী সময় ছিল ৪৫ দিন বা তার কম। নিউইয়র্কের একটি শুনানির উদাহরণও প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে। ২৭ মে ৭৩ জনের একটি শুনানিতে নোটিশ পাওয়ার মধ্যবর্তী সময় ছিল ১৬৯ দিন এবং সাতটি অনুপস্থিতিতে বহিষ্কারের আদেশ দেওয়া হয়। ২৫ জুন ৯৫ জনের আরেকটি শুনানিতে নোটিশ পাওয়ার মধ্যবর্তী সময় ছিল মাত্র ২৪ দিন। ওই শুনানিতে তিন-চতুর্থাংশের বেশি ব্যক্তির বিরুদ্ধে অনুপস্থিতিতে বহিষ্কারের আদেশ দেওয়া হয়। কানসাস সিটিতেও একই ধরনের পার্থক্য দেখা গেছে। একটি শুনানিতে ৯৩ জনের মামলার ক্ষেত্রে শুনানির তারিখ পরিবর্তনের খবর পাওয়ার জন্য সর্বোচ্চ ১৫ দিন সময় ছিল। সেখানে ৫৬টি অনুপস্থিতিতে বহিষ্কারের আদেশ দেওয়া হয়। অন্য একটি শুনানিতে ৯৬ জনের জন্য নোটিশ পাওয়ার মধ্যবর্তী সময় ছিল ১৯৬ দিন। সেখানে এমন আদেশ দেওয়া হয় নয়টি। প্রতিবেদন অনুযায়ী, অভিবাসীদের শুনানিতে অনুপস্থিত থাকার পেছনে নোটিশ না পাওয়া এবং ভয় অন্যতম কারণ। সাবেক এক অভিবাসন বিচারক জানিয়েছেন, অতীতে ঠিকানা পরিবর্তনের তথ্য সময়মতো নথিভুক্ত না হওয়া বা নোটিশ সঠিক ঠিকানায় না পৌঁছানোর ঘটনাও ঘটেছে। ফলে কেউ কেউ শুনানির তারিখ পরিবর্তনের বিষয়টি জানতে না পেরেই অনুপস্থিত হিসেবে বিবেচিত হতে পারেন। অভিবাসন আদালত চত্বরে গ্রেপ্তারের ঘটনাও অনেকের মধ্যে ভয় তৈরি করেছে। গত বছর আদালতের ভেতর ও আশপাশে অভিবাসন কর্মকর্তাদের গ্রেপ্তার অভিযান নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়। পরে একটি ফেডারেল বিচারক আদালতে এ ধরনের গ্রেপ্তার নীতিতে বাধা দেন। তবে এর প্রভাব অভিবাসীদের মধ্যে ভয় ও অবিশ্বাস তৈরি করেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন আদালতের দায়িত্বে থাকা সংস্থা জানিয়েছে, মামলাগুলো দ্রুত শেষ করা এবং দীর্ঘসূত্রতা কমানো তাদের অগ্রাধিকার। সংস্থাটির বক্তব্য অনুযায়ী, সময়মতো ও আইনসম্মতভাবে সব মামলা পরিচালনার জন্য প্রয়োজন অনুযায়ী শুনানির সময়সূচিতে পরিবর্তন করা হচ্ছে। তবে অভিবাসন আইনজীবী ও সাবেক বিচারকদের কেউ কেউ বলছেন, একসঙ্গে বিপুলসংখ্যক মামলা নেওয়া এবং অল্প নোটিশে শুনানির তারিখ দেওয়ার ফলে অভিবাসীদের নিজেদের বক্তব্য উপস্থাপনের সুযোগ কমে যাচ্ছে। আইনজীবী না থাকা ব্যক্তিদের জন্য অল্প সময়ে আইনি সহায়তা পাওয়াও কঠিন হয়ে পড়ছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, জুনে সব ধরনের শুনানি মিলিয়ে শেষ হওয়া মামলার ২ শতাংশেরও কম ক্ষেত্রে অভিবাসীরা আশ্রয় বা আদালতের মাধ্যমে অন্য কোনো বৈধ পথ পাওয়ার সুযোগ পেয়েছেন। একই সময়ে শতাধিক অভিবাসন বিচারক চাকরি হারিয়েছেন, পদত্যাগ করেছেন বা অবসর নিয়েছেন। তবে সব শুনানিতে একই ধরনের সিদ্ধান্ত হয়নি। সান আন্তোনিওর একটি শুনানিতে একজন বিচারক একজন ব্যক্তির যথাযথ নোটিশ না পাওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করেন। আরেকজন শিশু হওয়ায় তাকে আলাদা শিশুদের শুনানির তালিকায় পাঠানো হয়, যাতে সে দ্বিতীয়বার সুযোগ পায়। এরপরও ওই দিনের শুনানি শেষে বিচারক ২৬টি নতুন অনুপস্থিতিতে বহিষ্কারের আদেশ দেন।
ক্যালিফোর্নিয়ায় এশীয়দের আটক বেড়েছে ১১০৯ শতাংশ, সবচেয়ে বেশি ভারতীয়দের
মার্কিন ভিসায় সব বয়সী শিশুর সাক্ষাৎকার বাধ্যতামূলক
মার্কিন সেনাসদস্য মেয়ের আবেদনও রক্ষা করতে পারল না বাবাকে, মেক্সিকোয় পাঠিয়ে দিল ট্রাম্প প্রশাসন
আর মাত্র ১৯ দিন পর যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার ইউনিভার্সাল সিটিতে শুরু হচ্ছে উত্তর আমেরিকার বাংলাদেশি কমিউনিটির অন্যতম বড় সামাজিক ও সাংস্কৃতিক আয়োজন ফোবানার ৪০তম সম্মেলন। আগামী ৪, ৫ ও ৬ সেপ্টেম্বর তিন দিনব্যাপী এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে ইউনিভার্সাল হিলটন হোটেলে। লেবার ডে উইকেন্ড এ অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এবারের সম্মেলন ঘিরে ইতোমধ্যে আয়োজকদের প্রস্তুতি জোরদার হয়েছে। আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশ থেকে প্রবাসী বাংলাদেশি, কমিউনিটি নেতা, পেশাজীবী, ব্যবসায়ী, শিল্পী ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বদের অংশগ্রহণের কথা রয়েছে। এবারের সম্মেলনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আকর্ষণ হিসেবে থাকছেন বাংলাদেশ সরকারের শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। ফোবানা হোস্ট কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মন্ত্রী সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন। এর আগে গত ২০ মে ঢাকায় মন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করে লস অ্যাঞ্জেলেস ফোবানা হোস্ট কমিটির প্রতিনিধিদল আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানায়। আমন্ত্রণ গ্রহণ করে মন্ত্রী সম্মেলনে যোগ দেওয়ার সম্মতি দেন বলে সে সময় আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়। ফোবানার ৪০তম সম্মেলনকে সামনে রেখে গত ২৮ মার্চ লস অ্যাঞ্জেলেসের ইউনিভার্সাল সিটিতে আনুষ্ঠানিকভাবে সম্মেলনের কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়। ওই অনুষ্ঠানে লস অ্যাঞ্জেলেসে বাংলাদেশের কনসাল জেনারেল কাজী মুহাম্মদ জাবেদ ইকবালসহ ফোবানা ও হোস্ট কমিটির শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এবারের সম্মেলনে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের পাশাপাশি বিভিন্ন বিষয়ভিত্তিক সেমিনার, ব্যবসায়িক নেটওয়ার্কিং, স্বাস্থ্যসেবা, নারী উদ্যোক্তা কর্মশালা, বইমেলা, কাব্যজলসা, সাহিত্য ও কবিতা আসর, যুব ফোরাম, মুক্তিযুদ্ধ ও বাংলাদেশবিষয়ক আলোচনা, ট্যালেন্ট ও ফ্যাশন শো এবং শিক্ষার্থীদের জন্য ফোবানা স্কলারশিপসহ নানা আয়োজন থাকছে। দেশ ও উত্তর আমেরিকার জনপ্রিয় শিল্পীদের অংশগ্রহণে তিন দিনের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানও এবারের সম্মেলনের বড় আকর্ষণ হিসেবে থাকছে। এর আগে আয়োজকদের পক্ষ থেকে পরীমনি, লুইপা, ঋতুপর্ণা, মিলা, সাগর বাউল, নকীব খান, রবি চৌধুরী, রোমেল খান, মুজা ও আলিফসহ বেশ কয়েকজন শিল্পীর নাম ঘোষণা করা হয়েছে। সময়ের সঙ্গে আরও শিল্পীর নাম যুক্ত হওয়ার কথা জানানো হয়েছে। সম্মেলনের আয়োজন করছে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ক্যালিফোর্নিয়া। হোস্ট কমিটির কনভেনর ড. জয়নুল আবেদীন, মেম্বার সেক্রেটারি ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ ইকবাল। ফোবানা নির্বাহী কমিটির চেয়ারম্যান রাবিউল করিম বেলাল এবং এক্সিকিউটিভ সেক্রেটারি খালেদ রউফও সম্মেলনের সার্বিক কার্যক্রমে যুক্ত রয়েছেন। আয়োজকদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, চার দশকের মাইলফলককে সামনে রেখে এবারের সম্মেলনকে বিশেষভাবে সাজানো হচ্ছে। সম্মেলনের দিন যত ঘনিয়ে আসছে, ততই বাড়ছে প্রস্তুতির ব্যস্ততা। অতিথি ব্যবস্থাপনা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, প্রচার ও প্রকাশনা, ব্যবসায়িক অংশীদারিত্ব এবং বিভিন্ন কর্মসূচির সমন্বয় নিয়ে কাজ চলছে। আয়োজকদের প্রত্যাশা, ৪০তম ফোবানা সম্মেলন উত্তর আমেরিকার বিভিন্ন প্রান্তে বসবাসরত বাংলাদেশিদের একত্রিত করার পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের সঙ্গে বাংলাদেশের ভাষা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের সংযোগ আরও শক্তিশালী করবে। ৪, ৫ ও ৬ সেপ্টেম্বর লস অ্যাঞ্জেলেসের ইউনিভার্সাল সিটিতে অনুষ্ঠিতব্য এই সম্মেলনে উত্তর আমেরিকায় বসবাসরত সব বাংলাদেশিকে অংশ নেওয়ার আমন্ত্রণ জানিয়েছেন আয়োজকেরা।
ফিলাডেলফিয়ায় হার্ভার্ডের সাবেক আইটি আর্কিটেক্ট মাহবুব রহমানের ইন্তেকাল
যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ির সরবরাহ কমে ক্রেতাদের সংকট, উচ্চ দাম ও সুদে নতুন বাড়ি কেনা কঠিন হয়ে পড়েছে