সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আমেরিকা

যুক্তরাষ্ট্রে ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর ভিসা নীতি, বিভিন্ন কারণে আড়াই লাখের বেশি ভিসা বাতিল

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২৬ ১৬:৪৭
যুক্তরাষ্ট্রে ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর ভিসা নীতি, বিভিন্ন কারণে আড়াই লাখের বেশি ভিসা বাতিল
যুক্তরাষ্ট্রে ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর ভিসা নীতি, বিভিন্ন কারণে আড়াই লাখের বেশি ভিসা বাতিল

যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধ অভিবাসন রোধ এবং দেশটিতে প্রবেশাধিকারের ক্ষেত্রে কঠোর যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে আড়াই লাখেরও বেশি ভিসা বাতিল করেছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর। বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া শুরু হয়।

 

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক কর্মকর্তার বরাতে জানা গেছে, ভিসার শর্ত লঙ্ঘন, ফৌজদারি অপরাধে জড়িয়ে পড়া, যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে সহিংসতার ডাক দেওয়া, সাধারণ নাগরিকদের সঙ্গে প্রতারণা এবং জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে বিবেচিত হওয়ার মতো বিভিন্ন কারণে এসব ভিসা বাতিল করা হয়েছে।

 

এ বিষয়ে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র টমি পিগট জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর অধীনে আড়াই লাখেরও বেশি ভিসা বাতিল করার ঘটনাটি আমেরিকানদের সুরক্ষায় এক ঐতিহাসিক মাইলফলক। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, যেকোনো ভিসা প্রদান বা বাতিলের সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত।

 

যুক্তরাষ্ট্র কারও জন্য হুমকি হতে পারে এমন ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নিচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, মার্কিন ভিসা কোনো অধিকার নয়, বরং একটি সুযোগ; আর কেউ সেই সুযোগের অপব্যবহার করলে তাকে তা হারাতেই হবে।

 

বাতিল হওয়া এই বিপুলসংখ্যক ভিসার মধ্যে তথাকথিত 'বার্থ ট্যুরিজম' বা জন্মসূত্রে মার্কিন নাগরিকত্ব পাওয়ার উদ্দেশ্যে ভ্রমণ করা গর্ভবতী নারীদের প্রায় ২ হাজার ৩০০টি ভিসাও রয়েছে। এ ছাড়া দুর্নীতির অভিযোগে বলিভিয়া, কলম্বিয়া, ইকুয়েডর ও পেরুর ২৭ জন বর্তমান ও সাবেক লাতিন আমেরিকান কর্মকর্তা ও তাঁদের পরিবারের সদস্যদের ভিসাও সম্প্রতি বাতিল করা হয়েছে।

 

অন্যদিকে, শুধু গত আগস্ট মাসেই ১ লাখ ৭৫ হাজারের বেশি ভিসা বাতিল করা হয়েছিল, যার সিংহভাগই মাদক, চুরি, হামলা, মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানো এবং জালিয়াতির মতো বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার কারণে কার্যকর হয়।

 

একই সাথে ব্যবসা ও পর্যটন ভিসায় (বি১/বি২) এসে পরবর্তীতে রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন করেছেন—এমন প্রায় দুই লাখ বিদেশির ভিসাও বাতিলের প্রস্তুতি নিচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন। ২০১৬ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে ইস্যু করা ভিসাধারীরা এই যাচাই প্রক্রিয়ার লক্ষ্যবস্তু হতে যাচ্ছেন।

 

মার্কিন ডেপুটি সেক্রেটারি অব স্টেট ক্রিস্টোফার ল্যান্ডাউ জানিয়েছেন, রাজনৈতিক আশ্রয়কে অভিবাসন আইন ফাঁকি দেওয়ার মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করা বন্ধ করতেই এই কড়াকড়ি। তাঁর মতে, আইনি কাঠামোর বাইরে গিয়ে করা ভিত্তিহীন আবেদনের চাপ সামলাতে গিয়ে পুরো ব্যবস্থা বছরের পর বছর স্থবির হয়ে পড়ছে, যা আর বরদাশত করা হবে না।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
ইহুদিবিদ্বেষ রুখতে রাজনীতিতে লিসা ভিডার, লড়ছেন নিউইয়র্ক স্টেট সিনেট নির্বাচনে
ইহুদিবিদ্বেষ রুখতে রাজনীতিতে লিসা ভিডার, লড়ছেন নিউইয়র্ক স্টেট সিনেট নির্বাচনে

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে ক্রমবর্ধমান ইহুদিবিদ্বেষ এবং ধর্মীয় অসহিষ্ণুতার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে স্টেট সিনেট নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নেমেছেন স্বাস্থ্যসেবা খাতের অভিজ্ঞ নির্বাহী লিসা ‘মালকি’ ভিডার। প্রায় তিন দশক ধরে স্বাস্থ্যসেবা খাতের সাথে যুক্ত থাকা এবং একটি অ্যাসিস্টেড-লিভিং ফ্যাসিলিটি পরিচালনার অভিজ্ঞতা সম্পন্ন এই অর্থোডক্স ইহুদি নারী ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রার্থী হিসেবে নাসাউ কাউন্টি ও ফাইভ টাউনস সমন্বয়ে গঠিত ৯ম ডিস্ট্রিক্ট থেকে নির্বাচনে লড়ছেন। আসন্ন সাধারণ নির্বাচনে তিনি বর্তমান রিপাবলিকান সিনেটর প্যাট্রিসিয়া কানজোনেরি-ফিটজপ্যাট্রিকের মুখোমুখি হবেন।   রাজনীতিতে আসার পেছনে নিজের তিন সন্তানের ভবিষ্যৎ ও সামাজিক নিরাপত্তাহীনতাকে মূল কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন ভিডার। বিশেষ করে নিউইয়র্কে ইহুদিবিদ্বেষ ও ঘৃণাজনিত অপরাধ বৃদ্ধির কারণে ধর্মীয় আচার পালনে ভীতি তৈরি হওয়াকে তিনি উদ্বেগের বড় কারণ বলে মনে করেন।   ভিডার জানান, তাঁর মতো মায়েরা সন্তানদের ধর্মীয় প্রতীক (যেমন 'স্টার অব ডেভিড') পরে বাইরে যেতে দেখে প্রতিনিয়ত শঙ্কায় থাকেন। প্রার্থনালয় ও ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর সুরক্ষায় গভর্নর ক্যাথি হোকুলের ঘোষিত তহবিল এবং 'সিকিউরিং কমিউনিটিজ অ্যাগেইনস্ট হেট ক্রাইমস' কর্মসূচির প্রশংসা করার পাশাপাশি ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব মানুষের নির্ভয়ে বসবাসের নিশ্চয়তা দিতে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে আরও কঠোর ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের তাগিদ দেন তিনি।   দীর্ঘদিন স্বাস্থ্য খাতের দাবিদাওয়া নিয়ে নিউইয়র্কের রাজধানী আলবেনিতে দেনদরবার করতে গিয়ে নীতিনির্ধারকদের সাথে বাস্তবতার এক বিশাল ফারাক লক্ষ্য করেন ভিডার। তাঁর মতে, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের একটি বড় অংশ স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার জটিলতা ও মাঠপর্যায়ের কর্মীদের সমস্যাগুলো গভীরভাবে অনুধাবন করতে পারেন না।   স্বাস্থ্যসেবার ব্যয় কমানো, প্রবীণদের সুরক্ষা এবং সেবাগ্রহীতাদের ভোগান্তি দূর করা তাঁর প্রচারণার অন্যতম প্রধান অঙ্গীকার। একই সাথে তিনি মনে করেন, আইনসভায় এলাকার স্বার্থ সুরক্ষিত করতে ক্ষমতাসীন দলের সাথে কার্যকরভাবে সমন্বয় করতে পারে এমন নেতৃত্বই ডিস্ট্রিক্টটির প্রয়োজন।   নির্বাচনী প্রচারণায় ইহুদিবিদ্বেষ ও জননিরাপত্তার পাশাপাশি স্থানীয় ভোটারদের জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি বা অ্যাফোর্ডেবিলিটি সংকটকে সবচেয়ে বড় ইস্যু হিসেবে চিহ্নিত করেছেন ভিডার। অতিরিক্ত প্রপার্টি ট্যাক্স, গ্যাস ও ইউটিলিটি বিলের ভারে সাধারণ পরিবারগুলো জর্জরিত উল্লেখ করে তিনি মধ্যবিত্তের করের বোঝা লাঘব করার প্রতিশ্রুতি দেন।   রাজনৈতিক বিরোধীরা তাঁকে কট্টর প্রগতিশীল হিসেবে চিত্রিত করার চেষ্টা করলেও ভিডার নিজেকে একজন ‘মধ্যপন্থী ও রাজস্ব নীতিতে রক্ষণশীল ডেমোক্র্যাট’ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করেন। রাজনৈতিক বিভাজন পেরিয়ে আইনসভায় আরো মধ্যপন্থী ও বাস্তবমুখী কণ্ঠস্বর যুক্ত করাই তাঁর লক্ষ্য বলে তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন।

প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২৬ ১৭:২৭
যুক্তরাষ্ট্রে ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর ভিসা নীতি, বিভিন্ন কারণে আড়াই লাখের বেশি ভিসা বাতিল

যুক্তরাষ্ট্রে ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর ভিসা নীতি, বিভিন্ন কারণে আড়াই লাখের বেশি ভিসা বাতিল

যৌন হয়রানির অভিযোগের পর খুন ভ্যানেসা গিয়েন, তাঁর মৃ ত্যুর পর বদলে গেল মার্কিন সামরিক ব্যবস্থা

যৌন হয়রানির অভিযোগের পর খুন ভ্যানেসা গিয়েন, তাঁর মৃ ত্যুর পর বদলে গেল মার্কিন সামরিক ব্যবস্থা

ক্যালিফোর্নিয়ার সান্তা ক্রুজে উত্তাল ঢেউয়ে ভেসে গেলেন দম্পতি, রোমহর্ষক অভিযানে উদ্ধার

ক্যালিফোর্নিয়ার সান্তা ক্রুজে উত্তাল ঢেউয়ে ভেসে গেলেন দম্পতি, রোমহর্ষক অভিযানে উদ্ধার

নিউইয়র্কের উইলিয়ামসবার্গ ব্রিজ থেকে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহ ত্যার চেষ্টা, ১ ঘণ্টার অভিযানে তরুণকে উদ্ধার
নিউইয়র্কের উইলিয়ামসবার্গ ব্রিজ থেকে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহ ত্যার চেষ্টা, ১ ঘণ্টার অভিযানে তরুণকে উদ্ধার

নিউইয়র্কের উইলিয়ামসবার্গ ব্রিজের একেবারে কিনারায় বসে নিচে ঝাঁপ দেওয়ার হুমকি দিচ্ছিলেন এক হতাশ তরুণ। তবে নিউইয়র্ক পুলিশ ডিপার্টমেন্টের (এনওয়াইপিডি) সদস্যদের সাহসিকতায় বড় ধরনের কোনো দুর্ঘটনা ঘটার আগেই তাকে নিরাপদে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। সম্প্রতি এই ঘটনার একটি রোমহর্ষক ভিডিও প্রকাশ্যে এসেছে।   পুলিশ জানায়, দুপুর ১২টা ৫০ মিনিটের দিকে জরুরি সেবার ৯১১ নম্বরে একটি ফোন আসে। জানানো হয়, ব্রুকলিন প্রান্তে ব্রিজের নিচের একটি বিপজ্জনক কার্নিশে ১৯ বছর বয়সী এক তরুণ বসে আছেন। খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে ছুটে যায় এনওয়াইপিডির এলিট ইমার্জেন্সি সার্ভিস ইউনিটের সদস্যরা। সেখানে পৌঁছানোর পর তারা প্রায় এক ঘণ্টা ধরে ওই তরুণের সাথে কথা বলে তাকে শান্ত করার চেষ্টা করেন এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগ নেন।   এক প্রত্যক্ষদর্শীর ধারণ করা ভিডিওতে দেখা যায়, দুজন পুলিশ সদস্য অত্যন্ত সতর্কতার সাথে ব্রিজের কিনারায় নেমে ওই তরুণের দুই পাশে অবস্থান নিচ্ছেন। এ সময় ঠিক তাদের ওপরের রাস্তায় জরুরি সেবার যানবাহন ও অন্যান্য যান চলাচল থমকে যায়। আরেকটি ভিডিও ক্লিপে দেখা যায়, বেশ কয়েকজন পুলিশ সদস্য ওই তরুণকে ঘিরে ধরেছেন এবং তাকে নিরাপদে ওপরের মূল রাস্তায় তুলে আনার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।   অবশেষে দুপুর ১টা ৫০ মিনিটের দিকে ওই তরুণকে সম্পূর্ণ অক্ষত অবস্থায় ব্রিজ থেকে উদ্ধার করতে সক্ষম হয় পুলিশ। উদ্ধারকারী কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তাকে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত মনে হওয়ায় প্রাথমিক মনস্তাত্ত্বিক মূল্যায়নের জন্য তাৎক্ষণিকভাবে স্থানীয় একটি হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২৬ ১৫:৪০
যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইওতে জাল চেকে ৫০ হাজার স্ট্যাম্প কেনার চেষ্টা, ডাককর্মীদের সতর্কতায় গ্রেপ্তার যুবক

যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইওতে জাল চেকে ৫০ হাজার স্ট্যাম্প কেনার চেষ্টা, ডাককর্মীদের সতর্কতায় গ্রেপ্তার যুবক

যুক্তরাষ্ট্রে ওবামাকেয়ার রিফান্ড, প্রায় ১০ লাখ মানুষকে ৫০০ ডলার করে ফেরত দিচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন

যুক্তরাষ্ট্রে ওবামাকেয়ার রিফান্ড, প্রায় ১০ লাখ মানুষকে ৫০০ ডলার করে ফেরত দিচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন

এফবিআইয়ের অভিযানে আন্তর্জাতিক হ্যাকার গোষ্ঠী 'শাইনিহান্টার্স'-এর প্রধান গ্রেপ্তার

এফবিআইয়ের অভিযানে আন্তর্জাতিক হ্যাকার গোষ্ঠী 'শাইনিহান্টার্স'-এর প্রধান গ্রেপ্তার

লস অ্যাঞ্জেলেসে ২১তম জন্মদিনে পার্টির বদলে গৃহহীনদের জন্য আশ্রয়কেন্দ্র গড়লেন তরুণী
লস অ্যাঞ্জেলেসে ২১তম জন্মদিনে পার্টির বদলে গৃহহীনদের জন্য আশ্রয়কেন্দ্র গড়লেন তরুণী

২১ বছর বয়সে পদার্পণ উপলক্ষে বিলাসবহুল পার্টি বা লাস ভেগাসে ভ্রমণের বদলে সম্পূর্ণ ভিন্ন এক উদ্যোগ নিয়ে বিশ্বকে চমকে দিয়েছেন মিরিয়াম হারেগোট। নিজের বিশেষ দিনটিকে আরও অর্থবহ করে তুলতে যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসের প্রাণকেন্দ্রে গৃহহীনদের জন্য একটি আশ্রয়কেন্দ্র সংস্কার ও চালু করেছেন এই তরুণী।   মানবিক এই উদ্যোগ প্রসঙ্গে মিরিয়াম বলেন, "মানুষকে মানবিকতার ছোঁয়া দিতে পেরে দারুণ লাগছে, কারণ বর্তমান বিশ্বে এর বড্ড অভাব। আপনি নিজে সমাজে যে পরিবর্তন দেখতে চান, সেই পরিবর্তনের সূচনা আপনার নিজেকে দিয়েই করা উচিত।"   এই আশ্রয়কেন্দ্র চালুর পরপরই মিরিয়াম প্রতিষ্ঠা করেন 'দ্য প্যাক প্রজেক্ট' (P.A.C.K. - People Advocating Community Kinship) নামের একটি সংগঠন। সাউথ সেন্ট্রাল লস অ্যাঞ্জেলেসের একদল তরুণ, উদ্যোক্তা এবং সৃজনশীল ব্যক্তিদের নিয়ে গঠিত এই সংগঠনটি মূলত গৃহহীন ও সুবিধাবঞ্চিত তরুণদের খাদ্য, বাসস্থান এবং শিক্ষার ব্যবস্থা করতে কাজ করে যাচ্ছে।   তাদের এই প্রজেক্টের আওতায় 'ফিড দ্য হোমিস' (Feed The Homies) নামের একটি মাসিক উদ্যোগের মাধ্যমে স্কিড রো এলাকায় এ পর্যন্ত হাজার হাজার সুবিধাবঞ্চিত মানুষকে গরম খাবার পরিবেশন করা হয়েছে। সমাজ পরিবর্তনের জন্য কোনো প্রাতিষ্ঠানিক পদবি, বড় তহবিল বা অনুমোদনের অপেক্ষা না করে মিরিয়াম যেভাবে নিজেই সমস্যার সমাধানে এগিয়ে এসেছেন, তা বর্তমান প্রজন্মের জন্য এক বিশাল অনুপ্রেরণা।

প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২৬ ১৪:১১
ফেডারেল সিকিউরিটি ক্লিয়ারেন্স পেলেন মামদানি, গোপন ও সংবেদনশীল নিরাপত্তা ব্রিফিংয়ে মিলল প্রবেশাধিকার

ফেডারেল সিকিউরিটি ক্লিয়ারেন্স পেলেন মামদানি, গোপন ও সংবেদনশীল নিরাপত্তা ব্রিফিংয়ে মিলল প্রবেশাধিকার

যুক্তরাষ্ট্রে ১৯৪৩ সালের একটি বিরল পেনির মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৩৫ হাজার ডলার। ছবি: সংগৃহীত

পকেটে থাকা ১৯৪৩ সালের পেনি বদলে দিতে পারে ভাগ্য, দাম ২ লাখ ৩৫ হাজার ডলার

নিউইয়র্ক সিটি পুলিশ বিভাগে একাধিক বাংলাদেশি-আমেরিকান কর্মকর্তা বিভিন্ন পদে পদোন্নতি পেয়েছেন। ছবি: সংগৃহীত

নিউইয়র্ক সিটি পুলিশ বিভাগে পদোন্নতি পেলেন একাধিক বাংলাদেশি-আমেরিকান কর্মকর্তা

0 Comments