কলম্বিয়ার দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর ক্যালিতে আট মাসের অন্তঃসত্ত্বা এক তরুণীকে হত্যার ঘটনায় দেশজুড়ে তীব্র উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ২১ বছর বয়সী মারিয়া কামিলা পোতোসি কয়েক দিন নিখোঁজ থাকার পর তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনার পর থেকে তার অনাগত শিশুকে ঘিরেও রহস্য তৈরি হয়েছে। শিশুটির অবস্থান জানতে এবং হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করতে ব্যাপক তদন্ত চালাচ্ছে পুলিশ ও প্রসিকিউটরদের কার্যালয়। তদন্তকারী কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৬ জুলাই ক্যালির পলভোরিনেস এলাকা থেকে মারিয়া কামিলাকে সর্বশেষ দেখা যায়। নিরাপত্তা ক্যামেরার ফুটেজে দেখা যায়, তিনি একটি মোটরসাইকেলের পেছনে করে এক নারীর সঙ্গে এলাকা ছেড়ে যাচ্ছেন। পরে পরিবারের সদস্যরা জানান, ওই নারীকে তিনি সম্প্রতি অন্তঃসত্ত্বা নারীদের একটি সহায়তা কর্মসূচির মাধ্যমে চিনেছিলেন এবং শিশুর জন্য কিছু উপহার নেওয়ার কথা বলে তার সঙ্গে বের হয়েছিলেন। চার দিন পর ক্যালির লা বুইত্রেরা এলাকার কাছে মেলেন্দেজ নদীর তীর থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তার শরীরে ধারালো অস্ত্রের একাধিক আঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনার প্রকৃত কারণ ও উদ্দেশ্য এখনো নিশ্চিত নয়। মামলাটি নতুন মোড় নেয়, যখন নিহতের পরিবারের সদস্যরা দাবি করেন, ময়নাতদন্তে চিকিৎসা কর্তৃপক্ষ তাদের জানিয়েছে যে মারিয়া কামিলার গর্ভে শিশুটি ছিল না। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক ফরেনসিক প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়নি। ফলে শিশুটির অবস্থান নিয়ে তদন্ত চলছে এবং কর্তৃপক্ষ সব সম্ভাবনাই বিবেচনায় রাখছে। ক্যালি মেট্রোপলিটন পুলিশের প্রধান জেনারেল হারবার্ট বেনাভিদেস জানিয়েছেন, এ ঘটনায় চারজনের বেশি ব্যক্তি জড়িত থাকতে পারেন বলে তদন্তকারীরা সন্দেহ করছেন। এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা যায়নি। পুলিশ ও প্রসিকিউটররা নিরাপত্তা ক্যামেরার ফুটেজ, প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্য এবং ডিজিটাল প্রমাণ বিশ্লেষণ করছেন। ক্যালির মেয়র আলেহান্দ্রো এদের হত্যাকাণ্ডের নিন্দা জানিয়ে তথ্যদাতাদের জন্য পুরস্কার ঘোষণা করেছেন। পরবর্তীতে পুরস্কারের পরিমাণ বাড়িয়ে ২০০ মিলিয়ন কলম্বিয়ান পেসো করা হয়েছে, যাতে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার এবং ঘটনার পূর্ণ সত্য উদ্ঘাটন করা যায়। এদিকে নিহতের মা আলবা রুবি গোমেজ সংবাদমাধ্যমের মাধ্যমে আবেগঘন আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, যদি শিশুটি জীবিত থাকে, তাহলে তাকে নিরাপদে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হোক। তিনি দেশবাসীকেও তদন্তে সহায়তা করার অনুরোধ জানিয়েছেন। কলম্বিয়ার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তদন্ত এখনো চলমান। হত্যাকাণ্ডের উদ্দেশ্য, সম্ভাব্য জড়িত ব্যক্তিদের ভূমিকা এবং শিশুটির অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য পাওয়ার আগ পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হবে না।
কলম্বিয়ার জনপ্রিয় মডেল ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পরিচিত মুখ নাতালিয়া ভিয়ালবা হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ব্রিটিশ নাগরিক ম্যাথিউ অ্যাশলি ফস্টার-স্মিথকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। কলম্বিয়ার তদন্ত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, ভিয়ালবাকে হত্যার পর তার মরদেহ একটি স্যুটকেসে লুকিয়ে রেখে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান তিনি। পরে নিজের নির্দোষিতা প্রমাণের চেষ্টা হিসেবে বিশ্বকাপ ফুটবল ম্যাচ দেখার অজুহাতও দেন। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, ৩৬ বছর বয়সী নাতালিয়া ভিয়ালবা গত ১৮ জুন কলম্বিয়ার রাজধানী বোগোতার অভিজাত চিকো এলাকায় একটি ভাড়ার অ্যাপার্টমেন্টে অবস্থান করছিলেন। ওই দিনই তার মায়ের সঙ্গে শেষবার যোগাযোগ হয়। এরপর কয়েক দিন তার কোনো খোঁজ না পেয়ে উদ্বেগ বাড়তে থাকে। ২১ জুন অ্যাপার্টমেন্টের বুকিংয়ের মেয়াদ শেষ হলে পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা কক্ষে প্রবেশ করেন। সেখানে বাথরুমে চলমান ঝরনার নিচে রাখা একটি স্যুটকেসের ভেতর থেকে ভিয়ালবার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তদন্তকারীদের ধারণা, হত্যার পর আলামত গোপন করার উদ্দেশ্যেই মরদেহ সেখানে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল। তদন্তে ভবনের সিসিটিভি ফুটেজ গুরুত্বপূর্ণ সূত্র হিসেবে সামনে এসেছে। এতে সন্দেহভাজন ম্যাথিউ অ্যাশলি ফস্টার-স্মিথকে ভবনের ভেতরে চলাফেরা করতে এবং কিছু বিছানার চাদর লন্ড্রি কক্ষে নিয়ে যেতে দেখা গেছে বলে জানিয়েছে তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র। ঘটনার পর ফস্টার-স্মিথ কলম্বিয়া ছেড়ে স্থলপথে ইকুয়েডরে পালিয়ে যান। পরে ইন্টারপোল তার বিরুদ্ধে রেড নোটিশ জারি করলে কলম্বিয়া, ইকুয়েডর ও যুক্তরাজ্যের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বিত অভিযানে শনিবার কুইটো বিমানবন্দর থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। সে সময় তিনি যুক্তরাজ্যে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন বলে জানা গেছে। গ্রেপ্তারের কয়েক ঘণ্টা আগে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য সান-এর সঙ্গে কথা বলে ফস্টার-স্মিথ দাবি করেন, ঘটনার সময় তিনি একটি আইরিশ বারে বড় পর্দায় ইংল্যান্ড ও ক্রোয়েশিয়ার বিশ্বকাপ ম্যাচ দেখছিলেন। তার ভাষ্য, ম্যাচ শেষে তিনি একটি শপিং সেন্টারে ঘুরে বেড়ান, আইসক্রিম কেনেন এবং পরে আবার খেলা দেখতে ফিরে যান। এছাড়া তিনি দাবি করেন, স্থানীয় একটি অপরাধী চক্রের কাছ থেকে ঋণসংক্রান্ত বিরোধের জেরে প্রাণনাশের হুমকি পাচ্ছিলেন। তবে কলম্বিয়ার প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, ভিয়ালবাকে হত্যার পর আলামত নষ্টের চেষ্টা করে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান ফস্টার-স্মিথ। তদন্তে প্রাপ্ত তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতেই তার বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে। বোগোতার মেয়র কার্লোস ফার্নান্দো গালান এক বিবৃতিতে বলেন, আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে এই গ্রেপ্তার সম্ভব হয়েছে। তিনি বলেন, "এই মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত করা হবে।" তদন্তে আরও জানা গেছে, ফস্টার-স্মিথ এর আগেও যুক্তরাজ্যে একাধিকবার নারীদের অনুসরণ ও হয়রানির অভিযোগে দণ্ডিত হয়েছিলেন। চলতি বছরই তিনি দুই বছরের বেশি কারাভোগ শেষে মুক্তি পান। এর আগে ২০২০ সালেও এক সাবেক সঙ্গীকে অনুসরণ ও ব্যক্তিগত ছবি অনলাইনে ছড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় তাকে ১৮ মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। কলম্বিয়ার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং মামলাটির বিচারিক প্রক্রিয়া আইন অনুযায়ী এগিয়ে নেওয়া হবে।
কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের রান-অফে ডানপন্থী আইনজীবী আবেলার্দো দে লা এসপ্রিয়েলা অল্প ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন বলে প্রাথমিক ভোট গণনায় জানা গেছে। রোববার অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে তিনি ৪৯.৭ শতাংশ ভোট পান, অন্যদিকে বামপন্থী সিনেটর ইভান সেপেদা পান ৪৮.৭০ শতাংশ ভোট। নির্বাচনী কর্তৃপক্ষের ৯৯.৯ শতাংশ ফলাফলের ভিত্তিতে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়। প্রাথমিক ফলাফল অনুযায়ী, এই জয়কে কলম্বিয়ার রাজনৈতিক অঙ্গনে ডানপন্থী শক্তির গুরুত্বপূর্ণ প্রত্যাবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে। নির্বাচনী প্রচারণায় আবেলার্দো দে লা এসপ্রিয়েলা বর্তমান প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রোর নীতির সমালোচনা করেন এবং দেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি ও অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জকে প্রধান ইস্যু হিসেবে সামনে আনেন। তিনি প্রচারণায় বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে চলমান শান্তি আলোচনা বন্ধ করার ঘোষণা দেন এবং তেল ও গ্যাস খাত সম্প্রসারণের পাশাপাশি কর হ্রাসের প্রতিশ্রুতি দেন। বিজয় উদ্যাপন অনুষ্ঠানে আবেলার্দো দে লা এসপ্রিয়েলা বলেন, “আমি সব কলম্বিয়ানদের জন্য শাসন করব।” তিনি দেশটির উত্তরাঞ্চলীয় উপকূলীয় শহর বারানকিয়ায় সমর্থকদের সামনে এই বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠানে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছ থেকে অভিনন্দনমূলক ফোন পাওয়ার বিষয়টিও উল্লেখ করেন। জানা গেছে, তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইতালির নাগরিক এবং বিভিন্ন দেশে তার সম্পত্তি রয়েছে। অন্যদিকে পরাজিত প্রার্থী ইভান সেপেদা জানিয়েছেন, তিনি প্রাথমিক ফলাফলের পূর্ণ ও বিস্তারিত পুনর্গণনার অপেক্ষায় আছেন। তিনি প্রায় ৩৩ হাজার ভোটকেন্দ্রের ফলাফল নিয়ে চ্যালেঞ্জ জানানোর কথাও উল্লেখ করেন। সেপেদা বলেন, “আমরা আলোচনার জন্য উন্মুক্ত, আমরা সমঝোতায় পৌঁছাতে প্রস্তুত, যদি তা জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয় এবং অর্জিত সামাজিক অগ্রগতিকে ধরে রাখে।” নির্বাচন ঘিরে কলম্বিয়ার নিরাপত্তা পরিস্থিতি ছিল অন্যতম প্রধান ইস্যু। কিছু অঞ্চলে চাঁদাবাজি ও মাদক পাচারের কারণে জনমনে উদ্বেগ তৈরি হয়। দীর্ঘদিন ধরে দেশটিতে বামপন্থী সশস্ত্র গোষ্ঠী, প্রাক্তন ডানপন্থী প্যারামিলিটারি গোষ্ঠী থেকে গঠিত অপরাধচক্র এবং রাষ্ট্রীয় বাহিনীর মধ্যে সংঘাত চলমান রয়েছে। প্রচারণার সময় আবেলার্দো দে লা এসপ্রিয়েলা ঘোষণা দেন, তিনি বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে শান্তি আলোচনা বাতিল করবেন এবং ৯০ দিনের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তায় বিমান হামলা চালিয়ে এসব গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করবেন। ১৯৬০-এর দশকের পর থেকে চলা দীর্ঘ সংঘাতের মধ্যে ২০১৬ সালে ফার্ক (FARC) বিদ্রোহীদের সঙ্গে শান্তি চুক্তির পর কিছু অঞ্চলে উন্নয়ন দেখা গেলেও মাদকচক্র ও বিচ্ছিন্ন গোষ্ঠীগুলোর সক্রিয়তা এখনো রয়ে গেছে। ইভান সেপেদার সমর্থকরা ফলাফল নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন। এক সমর্থক মার্গারিটা রেস্ত্রেপো বলেন, “আবারও ক্ষোভ জয়ী হয়েছে। ভিন্নমত গ্রহণের প্রবণতা এখনও রয়ে গেছে।” এই নির্বাচনকে লাতিন আমেরিকায় সাম্প্রতিক ডানপন্থী রাজনৈতিক উত্থানের ধারার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে, যেখানে চিলি, আর্জেন্টিনা, কোস্টারিকা, বলিভিয়া ও ইকুয়েডরেও সাম্প্রতিক নির্বাচনে ডানপন্থী নেতৃত্ব ক্ষমতায় এসেছে।
কুখ্যাত ড্রাগ লর্ড পাবলো এসকোবারের ব্যক্তিগত চিড়িয়াখানা থেকে ছড়িয়ে পড়া 'কোকেন হিপো' বা জলহস্তীগুলো এখন কলম্বিয়ার পরিবেশের জন্য এক বিশাল মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কলম্বিয়া সরকার অন্তত ৮০টি জলহস্তীকে 'ইউথানাসিয়া' বা যন্ত্রণাহীন মৃত্যুর দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। আশির দশকে মাদক সম্রাট পাবলো এসকোবার তার ব্যক্তিগত চিড়িয়াখানার জন্য অবৈধভাবে চারটি জলহস্তী আফ্রিকা থেকে কলম্বিয়ায় নিয়ে আসেন। ১৯৯৩ সালে পুলিশের অভিযানে এসকোবার নিহত হওয়ার পর তার খামারের অন্যান্য প্রাণী সরিয়ে নেওয়া হলেও জলহস্তীগুলো রয়ে যায়। গত তিন দশকে এদের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৬৯-এ। বিজ্ঞানীদের মতে, কলম্বিয়ার ম্যাগডালেনা নদী অববাহিকায় এই জলহস্তীগুলোর কোনো প্রাকৃতিক শিকারি নেই। ফলে এরা অবাধে বংশবিস্তার করছে। এদের অতিরিক্ত মল নদীর পানির গুণমান নষ্ট করছে, যার ফলে স্থানীয় মাছ এবং অন্যান্য জলজ প্রাণীর অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, এখনই ব্যবস্থা না নিলে ২০৩০ সালের মধ্যে এদের সংখ্যা ৫০০ ছাড়িয়ে যাবে। কলম্বিয়ার পরিবেশ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, প্রতিটি জলহস্তীকে ইনজেকশনের মাধ্যমে যন্ত্রণাহীন মৃত্যু দিতে সরকারের খরচ হবে প্রায় ২ মিলিয়ন ডলার। এছাড়া কিছু জলহস্তীকে ভারত ও মেক্সিকোর বিভিন্ন অভয়ারণ্যে স্থানান্তরের পরিকল্পনাও রয়েছে। তবে বংশগত ত্রুটি এবং উচ্চ পরিবহন খরচের কারণে সব প্রাণীকে স্থানান্তর করা সম্ভব হচ্ছে না। এর আগে বন্ধ্যাকরণ বা জন্মনিরোধক ওষুধ দিয়ে এদের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করা হলেও তা খুব একটা কার্যকর হয়নি। তাই পরিবেশ রক্ষায় এই কঠোর পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হচ্ছে কলম্বিয়া সরকার।
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের কলম্বিয়া-তে উড্ডয়নের কিছুক্ষণের মধ্যেই সামরিক বাহিনীর একটি কার্গো পরিবহন বিমান বিধ্বস্ত হয়ে অন্তত ৩৪ জন নিহত হয়েছেন। বিমানটিতে মোট ১২৫ জন আরোহী ছিলেন বলে জানা গেছে। সোমবার পুতোমায়ো বিভাগ-এর পুয়ের্তো লেগুইজামো শহরের কাছে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ জানিয়েছেন, মার্কিন কোম্পানি লকহিড মার্টিন-এর তৈরি ‘হারকিউলিস সি-১৩০’ বিমানটি উড্ডয়নের পর মাত্র দেড় কিলোমিটার উচ্চতায় গিয়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মাটিতে আছড়ে পড়ে। স্থানীয় মেয়র লুইস এমিলিও বুস্টোস জানান, এখন পর্যন্ত ৩৪ জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে, তবে নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। অন্যদিকে জন গ্যাব্রিয়েল মোলিনা বলেন, নিহতদের মধ্যে ২১ জনের মরদেহ এখনো শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি এবং পরিচয় নিশ্চিতের কাজ চলছে। দুর্ঘটনার কারণ নিয়ে প্রাথমিকভাবে জানানো হয়েছে, বিমানটি কোনো হামলার শিকার হয়নি। চালক ও ক্রুরা অভিজ্ঞ হলেও যান্ত্রিক ত্রুটি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। সূত্র: এএফপি।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।