নিউইয়র্কে বৃদ্ধ বাবা-মাকে দিনে ঘরে থাকতে না দেওয়ার অভিযোগ, পার্কে মানুষের কাছে চান খাবারের টাকা
সন্তানের কাছে ভালো থাকবেন, শেষ বয়সটা কাটবে নিশ্চিন্তে - এমন আশা নিয়ে বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে আসেন অনেক বৃদ্ধ বাবা-মা। কিন্তু নিউইয়র্কে তাদের কারও কারও জীবনের বাস্তবতা নাকি একেবারেই ভিন্ন। সন্তানদের কাছে থাকার পরও দিনের বেলা ঘরের বাইরে কাটানো, পার্কে বসে কান্না করা, এমনকি পরিচিত মানুষের কাছে চা-খাবারের জন্য এক থেকে দশ ডলার চাওয়ার মতো ঘটনা দেখেছেন বলে অভিযোগ করেছেন প্রবাসী বাংলাদেশি লাকি খানম।
নিউইয়র্কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে লাকি খানম বলেন, রাস্তাঘাট ও পার্কে চলাফেরার সময় এমন একাধিক বয়স্ক বাংলাদেশির সঙ্গে তার দেখা হয়েছে। তাদের কেউ কেউ সরাসরি তার কাছে সাহায্য চেয়েছেন।
লাকি খানম বলেন, “আমাদের কাছেই হাত পাতে। বলে, দশটা টাকা দেবেন, চা খাব। একটা টাকা দেবেন - এমন কথাও শুনতে পাই।”
তার দাবি, এসব বৃদ্ধের অনেককেই ছেলে-মেয়েরা বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে এসেছেন। তাদের দেখাশোনার জন্য হোম কেয়ার সুবিধাও নেওয়া হচ্ছে। কিন্তু কোনো কোনো পরিবারে বৃদ্ধ বাবা-মা সেই সুবিধার সুফল পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ করেন তিনি।
নিজের দেখা একটি ঘটনার কথা বলতে গিয়ে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন লাকি খানম। নিউইয়র্কের একটি পার্কের পাশে এক বৃদ্ধের সঙ্গে প্রায় এক ঘণ্টা বসে কথা বলেছিলেন তিনি।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে ওই ব্যক্তি শিক্ষিত ও ভালো অবস্থানে ছিলেন। মেয়ের কাছে যুক্তরাষ্ট্রে আসার পর নিজের বর্তমান পরিস্থিতির কথা বলতে গিয়ে তিনি দীর্ঘ সময় কেঁদেছিলেন।
আরেকটি ঘটনার বর্ণনায় লাকি খানম দাবি করেন, এক বৃদ্ধ তাকে জানিয়েছেন, মেয়ে বন্ধুদের নিয়ে বাসায় খাওয়াদাওয়া করার পর চলে যান। পরে তাকেই থালা-বাসন পরিষ্কার করতে হয়।
তবে এসব অভিযোগ সংশ্লিষ্ট বৃদ্ধ বা তাদের পরিবারের বক্তব্য নিয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি। ফলে কয়েকটি ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতাকে নিউইয়র্কের সব বাংলাদেশি পরিবারের চিত্র হিসেবে দেখারও সুযোগ নেই।
লাকি খানম বিশেষভাবে পরিষ্কার করেছেন, তার অভিযোগ হোম কেয়ার ব্যবস্থা কিংবা কোনো নির্দিষ্ট এজেন্সির বিরুদ্ধে নয়।
তিনি বলেন, হোম কেয়ার কর্মীরা পরিশ্রম করেন এবং বয়স্কদের সহায়তার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের এই ব্যবস্থাকে তিনি ইতিবাচকভাবেই দেখেন। তার অভিযোগ সেইসব সন্তানের বিরুদ্ধে, যারা বাবা-মায়ের জন্য পাওয়া সুবিধা ব্যবহার করলেও তাদের যথাযথ যত্ন নেন না।
লাকি খানম বলেন, “এজেন্সিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ না। অভিযোগ হচ্ছে ছেলেমেয়েদের বিরুদ্ধে। টাকা দিচ্ছে, কিন্তু এরা পায় না।”
নিউইয়র্কের আইনে বিষয়টি গুরুতর। বয়স্ক ব্যক্তির অর্থ বা সম্পদ অন্য কেউ অনুপযুক্তভাবে ব্যবহার করা কিংবা তাকে নিজের অর্থ ব্যবহারের সুযোগ থেকে বঞ্চিত করাও আর্থিক শোষণের আওতায় পড়তে পারে। একইভাবে খাবার, আশ্রয় বা প্রয়োজনীয় পরিচর্যা থেকে বঞ্চিত করা অবহেলা হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
সাম্প্রতিক সরকারি তথ্যও দেখাচ্ছে, বয়স্কদের নির্যাতন ও অবহেলা নিউইয়র্কে বিচ্ছিন্ন কোনো সমস্যা নয়। নিউইয়র্ক স্টেট অফিস ফর দ্য এজিংয়ের হিসাবে, রাজ্যটিতে প্রতিবছর আনুমানিক তিন লাখ ষাটোর্ধ্ব মানুষ কোনো না কোনো ধরনের নির্যাতনের শিকার হন। এর মধ্যে আর্থিক শোষণ এবং পরিচর্যাকারীর অবহেলাও রয়েছে।
লাকি খানম নিজেও আগে হোম কেয়ারে কাজ করেছেন। তার বক্তব্য, সন্তানদের কর্মব্যস্ততা বাস্তব সমস্যা। কিন্তু বাবা-মাকে যুক্তরাষ্ট্রে আনার সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে তাদের সময় দেওয়া, যত্ন নেওয়া এবং সম্মানের সঙ্গে রাখার সামর্থ্য আছে কি না - সেটিও ভাবা প্রয়োজন।
এ কারণেই বাংলাদেশে থাকা বৃদ্ধ বাবা-মায়ের উদ্দেশে কঠিন একটি পরামর্শ দিয়েছেন তিনি - শুধু আমেরিকায় আসার সুযোগ আছে বলেই চলে আসবেন না, আগে ভাবুন এখানে এসে জীবনটা কেমন হবে।
তার মতে, বাংলাদেশে হয়তো অর্থনৈতিক সুযোগ কম, কিন্তু পরিচিত পরিবেশে আত্মীয়স্বজন ও প্রতিবেশীদের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ থাকে। যুক্তরাষ্ট্রে এসে দিনের বড় অংশ একাকী কাটাতে হলে শেষ বয়সে সেই প্রবাসজীবন অনেকের জন্য আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে।
তবে কোনো বৃদ্ধ ব্যক্তিকে অবহেলা করা হচ্ছে, প্রয়োজনীয় খাবার-আশ্রয় দেওয়া হচ্ছে না কিংবা আর্থিকভাবে শোষণ করা হচ্ছে বলে সন্দেহ হলে নিউইয়র্ক সিটির অ্যাডাল্ট প্রোটেকটিভ সার্ভিসেসে অভিযোগ করার ব্যবস্থা রয়েছে। সংস্থাটি নির্যাতন, অবহেলা ও আর্থিক শোষণের ঝুঁকিতে থাকা প্রাপ্তবয়স্কদের অভিযোগ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় সহায়তা দিয়ে থাকে।
শেষ পর্যন্ত লাকি খানমের সাক্ষাৎকার নিউইয়র্কের বাংলাদেশি কমিউনিটির সামনে একটি কঠিন প্রশ্ন রেখে যাচ্ছে -
বাবা-মাকে আমেরিকায় নিয়ে আসাই কি সন্তানের দায়িত্বের শেষ কথা? নাকি শেষ বয়সে তাদের হাতে প্রয়োজনীয় অর্থ, মাথার ওপর নিরাপদ ছাদ, একটু সময় এবং সম্মানের জীবন নিশ্চিত করাটাই আসল দায়িত্ব?
এই নিউজটি একজন অনলাইনভিত্তিক ব্লগারের সাক্ষাৎকারের তথ্যের ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে। আমেরিকা বাংলা সরাসরি এই অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করার সুযোগ পায়নি। এ বিষয়ে পরবর্তী সময়ে নতুন কোনো তথ্য বা আপডেট পাওয়া গেলে তা পাঠকদের জানানো হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreক্যালিফোর্নিয়ার সান্তা মনিকায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ৯২ বছর বয়সী দম্পতি অ্যান্থনি ও হেলেন স্পলডিং মারা গেছেন। ৯ আগস্ট ভোরে লিংকন বুলেভার্ডের ৫০০ ব্লকের বাড়িটিতে আগুন লাগে। দমকলকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে বাড়িটি আগুনে পুরোপুরি পুড়ে যেতে দেখেন এবং ভেতর থেকে দুজনকে উদ্ধার করেন। পরে তাদের বাঁচানোর চেষ্টা করা হলেও সফল হননি। অগ্নিকাণ্ডের খবর পাওয়ার পর সান্তা মনিকা ফায়ার বিভাগের কর্মীরা রাত প্রায় ৩টার দিকে ঘটনাস্থলে পৌঁছান। আগুন তখন বাড়ির ভেতরে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছিল। দমকলকর্মীরা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার পাশাপাশি বাড়িটির ভেতরে তল্লাশি চালান। একপর্যায়ে প্রথম তলার একটি শোবার ঘরে দুজনকে পাওয়া যায়। তাদের বাইরে এনে জীবন রক্ষার চিকিৎসা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। মৃত দম্পতিকে অ্যান্থনি ও হেলেন স্পলডিং হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে। স্থানীয় প্রতিবেদন অনুযায়ী, তারা প্রায় ৭০ বছর ধরে বিবাহিত জীবন কাটিয়েছেন এবং তাদের পাঁচ সন্তান রয়েছে। দম্পতির পরিচর্যাকারী রিক গার্সিয়া তাদের ‘চমৎকার দম্পতি’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি জানান, দুজনের মধ্যে ভালো সম্পর্ক ছিল এবং তারা দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় বসবাস করতেন। অ্যান্থনি ছিলেন সাবেক আইনজীবী। হেলেন স্থানীয় একটি গির্জার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলে তাদের পরিচর্যাকারী জানিয়েছেন। আগুনের সময় কোনো পরিচর্যাকারী বাড়িতে ছিলেন না। দম্পতির বাড়িটি ছিল দুই তলা এবং আগুনের পর বাড়িটির বেশ কিছু অংশ সম্পূর্ণ পুড়ে যায়। ঘটনাস্থলের ছবিতে আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত বাড়িটির বিভিন্ন অংশ দেখা গেছে। লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টি মেডিকেল পরীক্ষকের তথ্য অনুযায়ী, হেলেনের মৃত্যুর কারণ ছিল ধোঁয়া শ্বাসের সঙ্গে গ্রহণ এবং তাপজনিত দগ্ধ হওয়া। তার মৃত্যুকে দুর্ঘটনা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। অন্যদিকে অ্যান্থনির মৃত্যুর কারণ ও ধরন তখনও চূড়ান্ত করা হয়নি এবং তার বিষয়টি আরও তদন্তাধীন ছিল। অগ্নিকাণ্ডের কারণ এখনো নিশ্চিত হয়নি। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ আগুনের কারণ ও সূত্র খতিয়ে দেখছে। ঘটনাটি কীভাবে শুরু হয়েছিল, সে বিষয়ে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত বিস্তারিত কারণ জানা যাচ্ছে না। অগ্নিকাণ্ডে কোনো দমকলকর্মী আহত হননি বলেও স্থানীয় প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। দম্পতির ছেলে ব্রুস স্পলডিং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বাবা-মায়ের দীর্ঘ দাম্পত্য জীবনের কথা স্মরণ করে আবেগঘন বার্তা দেন। এর আগে এপ্রিল মাসে তিনি তাদের ৭৩তম বিবাহবার্ষিকী উপলক্ষে তাদের একটি বিয়ের ছবি প্রকাশ করেছিলেন। অ্যান্থনি ও হেলেনের দীর্ঘ দাম্পত্য জীবন এবং একই অগ্নিকাণ্ডে দুজনের মৃত্যু স্থানীয়ভাবে গভীর শোকের সৃষ্টি করেছে। পরিচর্যাকারী রিক গার্সিয়া জানান, তাদের পাঁচ সন্তানই বাবা-মায়ের প্রতি নিবেদিত ছিলেন। আগুনের ঘটনায় দম্পতির মৃত্যুকে তিনি অত্যন্ত বেদনাদায়ক ঘটনা হিসেবে বর্ণনা করেছেন। দম্পতির বসবাস করা বাড়িটির পাশাপাশি লস অ্যাঞ্জেলেস এলাকার আরও কয়েকটি সম্পত্তির মালিকানা তাদের ছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ভেনিসে একটি অ্যাপার্টমেন্ট ভবন এবং লস অ্যাঞ্জেলেসের কোলবি অ্যাভিনিউতে দুটি ভাড়া দেওয়া অ্যাপার্টমেন্টের মালিক হিসেবে অ্যান্থনির নামের তথ্যও প্রতিবেদনে এসেছে। এসব সম্পত্তির মধ্যে কোলবি অ্যাভিনিউয়ের দুটি অ্যাপার্টমেন্টের আনুমানিক বাজারমূল্য ১৬ লাখ ডলারের বেশি ছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে তাদের সান্তা মনিকার বাড়িতে ভয়াবহ আগুনের ঘটনায় শেষ পর্যন্ত ৭৩ বছরের দাম্পত্য জীবনের সমাপ্তি ঘটে। অগ্নিকাণ্ডের কারণ নির্ধারণে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
মুসলিম সেজে মসজিদে এফবিআইয়ের গুপ্তচর, তাকেই ‘উগ্রবাদী’ ভেবে এফবিআইকে জানিয়েছিলেন মুসল্লিরা
টানা তিনবার ট্রাম্পকে ভোট, এবার ইমিগ্রেশন অভিযানে আটক নিজেরই স্ত্রী
ভারতীয় সংস্কৃতির উৎসবে নিউইয়র্কের মেয়র মামদানি, ‘এই অভিজ্ঞতা কখনো ভুলব না’
যুক্তরাষ্ট্রের ২৭ বছর বয়সী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা ম্যাডি বেকারের কাছে একসময় মানসিক চাপ সামলানোর সহজ উপায় ছিল কেনাকাটা। স্কুলে কঠিন একটি দিন কাটলেই কাজ শেষে কোনো দোকানে চলে যেতেন। প্রতিদিন অন্তত একবার কফি কেনা, ঘন ঘন নতুন পোশাক কেনা এবং সামর্থ্যের বাইরে ছুটিতে যাওয়ার অভ্যাস শেষ পর্যন্ত তাকে এমন অবস্থায় নিয়ে যায়, যেখানে প্রতিটি পে চেকের জন্য অপেক্ষা করতে হতো। সিএনবিসি মেক ইটকে বেকার জানান, ছয় বছর আগে কিন্ডারগার্টেনে শিক্ষকতা শুরু করার সময় থেকেই তার ইমপালসিভ স্পেন্ডিং বা হঠাৎ সিদ্ধান্তে টাকা খরচের প্রবণতা ছিল। কোনো দিন স্কুলে খারাপ কাটলে কাজ শেষে সরাসরি দোকানে চলে যেতেন তিনি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, কঠিন দিনের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার একটি উপায় হয়ে উঠেছিল টাকা খরচ করা। তবে ছোট ছোট এসব খরচ একসময় বড় আর্থিক চাপে রূপ নেয়। বেকার জানান, পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছিল যে ক্রেডিট কার্ডের ঋণে না জড়ানোর চেষ্টা করতে গিয়ে তাকে পে চেক টু পে চেক চলতে হচ্ছিল। এক মাসের আয় দিয়ে পরবর্তী মাস পর্যন্ত টিকে থাকার এই চক্র তার জন্য ক্রমেই চাপের হয়ে ওঠে। বেকারের অভিজ্ঞতা যুক্তরাষ্ট্রে একেবারে বিচ্ছিন্ন নয়। সিএনবিসির প্রতিবেদনে উদ্ধৃত লেন্ডিংট্রির জরিপ অনুযায়ী, প্রায় অর্ধেক আমেরিকান ভোক্তা মন ভালো করার জন্য কখনো না কখনো কেনাকাটা করেন। এ ধরনের কেনাকাটা সাময়িক স্বস্তি দিলেও নিয়ন্ত্রণের বাইরে গেলে ব্যক্তিগত অর্থনীতিতে চাপ তৈরি করতে পারে। জরিপে ইমোশনাল শপিং করা প্রায় তিন চতুর্থাংশ মানুষ বলেছেন, তারা কোনো না কোনো সময় পরিকল্পনার চেয়ে বেশি খরচ করেছেন। ৪৪ শতাংশ জানিয়েছেন, এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে তাদের আর্থিক অবস্থার ওপর। নিজের খরচের অভ্যাস নিয়ন্ত্রণে আনতে বেকারের প্রায় তিন বছর সময় লাগে। তিনি ধীরে ধীরে বুঝতে শুরু করেন কোন পরিস্থিতিতে তার অপ্রয়োজনীয় কেনাকাটার ইচ্ছা তৈরি হচ্ছে। এরপর অর্থ খরচের সিদ্ধান্তে সচেতনতা বাড়ান এবং এমন কিছু নতুন অভ্যাস ও শখ তৈরি করেন, যেগুলো তাকে টাকা বাঁচাতে সাহায্য করে। বর্তমানে প্রথম শ্রেণির শিক্ষক বেকার আগের তুলনায় অনেক পরিকল্পিতভাবে টাকা খরচ করেন। তার অভিজ্ঞতা দেখিয়েছে, শুধু আয় কত তা নয়, মানসিক চাপ বা আবেগের মুহূর্তে নেওয়া ছোট ছোট আর্থিক সিদ্ধান্তও মাস শেষে ব্যক্তিগত বাজেটে বড় পার্থক্য তৈরি করতে পারে।
মার্কিন নাগরিকত্বের পথে বাড়ছে খরচ, আবেদন ফি ১,৩৩০ ডলার করার প্রস্তাব
নিউইয়র্কে বৃদ্ধ বাবা-মাকে দিনে ঘরে থাকতে না দেওয়ার অভিযোগ, পার্কে মানুষের কাছে চান খাবারের টাকা
বাজার খরচ কমান এই ৪ অ্যাপে, ওয়ালমার্টে মিলতে পারে ক্যাশব্যাক
যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয়ে একটি রেস্তোরাঁয় কাঁচা ঝিনুক খাওয়ার পর গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন ৪৪ বছর বয়সী সাবেক মার্কিন মেরিন ও অবসরপ্রাপ্ত ফায়ারফাইটার জো বেলজিও। পরে তার হৃদযন্ত্র বন্ধ হয়ে যায় এবং দীর্ঘ সময় মস্তিষ্কে অক্সিজেন না পৌঁছানোয় স্থায়ী ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছে তার পরিবার। এ ঘটনায় শিকাগো এলাকার গিবসনস বার অ্যান্ড স্টেকহাউসের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। রেস্তোরাঁ কর্তৃপক্ষ অবশ্য খাবারের কারণে বেলজিও অসুস্থ হয়েছেন এমন কোনো প্রমাণ নেই বলে দাবি করেছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জুনে বাগদত্তা মেলানি স্টেয়ার ও মেয়েকে নিয়ে ইলিনয়ের ওক ব্রুকের গিবসনস বার অ্যান্ড স্টেকহাউসে খেতে গিয়েছিলেন বেলজিও। সেখানে তিনি কাঁচা ঝিনুক খান। এর কিছুদিনের মধ্যেই গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। বেলজিওর আইনজীবীদের দাবি, ঝিনুক খাওয়ার পর তার শরীরে একাধিক ক্ষতিকর জীবাণুর সংক্রমণ ধরা পড়ে। মামলায় বলা হয়েছে, চিকিৎসকেরা মনে করছেন ওই ঝিনুক থেকেই তার অসুস্থতার কারণ হওয়া জীবাণুগুলো শরীরে প্রবেশ করেছিল। পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নেয় গত বছরের ৩ জুলাই। ওই দিন বেলজিওর হৃদযন্ত্র বন্ধ হয়ে যায়। তার আইনজীবী স্কট ও'সালিভানের ভাষ্য অনুযায়ী, চিকিৎসকেরা তাকে পুনরুজ্জীবিত করার আগে প্রায় আট মিনিট তার মস্তিষ্কে প্রয়োজনীয় অক্সিজেন পৌঁছায়নি। এর ফলে বেলজিও অ্যানক্সিক ব্রেইন ইনজুরিতে আক্রান্ত হন। অর্থাৎ অক্সিজেনের ঘাটতিতে তার মস্তিষ্কের গুরুতর ক্ষতি হয়। এরপর কয়েক মাস তিনি কোমায় ছিলেন। বর্তমানে তার জ্ঞানীয় ও শারীরিক সক্ষমতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত এবং সার্বক্ষণিক পরিচর্যার প্রয়োজন হচ্ছে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। বেলজিও সাবেক মার্কিন মেরিন এবং অবসরপ্রাপ্ত ফায়ারফাইটার। তিনি ইরাকেও দায়িত্ব পালন করেছিলেন। দীর্ঘদিন অন্য মানুষের জীবন রক্ষায় কাজ করা এই ব্যক্তির জীবন এখন অন্যের সার্বক্ষণিক সহায়তার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে বলে তার পরিবার জানিয়েছে। তবে গিবসনস রেস্টুরেন্ট গ্রুপ অভিযোগ অস্বীকার করেছে। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, বেলজিওর শারীরিক অবস্থার জন্য তাদের রেস্তোরাঁ দায়ী এমন কোনো প্রমাণ তাদের অভ্যন্তরীণ তদন্তে পাওয়া যায়নি। একই সময়ে রেস্তোরাঁয় খাবার খাওয়া অন্য কোনো ব্যক্তির কাছ থেকেও একই ধরনের অসুস্থতার অভিযোগ পাওয়া যায়নি বলে দাবি করেছে প্রতিষ্ঠানটি। রেস্তোরাঁ কর্তৃপক্ষ বলেছে, বেলজিওর বর্তমান পরিস্থিতি অত্যন্ত দুঃখজনক এবং তারা তার সুস্থতা কামনা করে। একই সঙ্গে তারা খাদ্য নিরাপত্তাকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে নেয় এবং আদালতের পূর্ণাঙ্গ প্রক্রিয়ায় প্রকৃত ঘটনা পরিষ্কার হবে বলে বিশ্বাস করে। মামলায় রেস্তোরাঁর পাশাপাশি সামুদ্রিক খাবার সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান সুপ্রিম লবস্টার অ্যান্ড সিফুড কোম্পানিকেও বিবাদী করা হয়েছে। তবে মামলার অভিযোগগুলো এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি। কাঁচা ঝিনুক খাওয়ার ক্ষেত্রে খাদ্যবাহিত সংক্রমণের ঝুঁকি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই সতর্ক করে আসছে যুক্তরাষ্ট্রের ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন। কাঁচা বা ঠিকমতো রান্না না করা ঝিনুকে বিভিন্ন ধরনের ভিব্রিও ব্যাকটেরিয়া থাকতে পারে। শুধু দেখে, গন্ধ নিয়ে বা স্বাদ পরীক্ষা করে ঝিনুক জীবাণুমুক্ত কি না তা নিশ্চিত হওয়া সম্ভব নয়। বিশেষ করে যাদের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা দুর্বল, লিভারের রোগ, ডায়াবেটিস বা অন্য গুরুতর স্বাস্থ্য সমস্যা রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে কাঁচা ঝিনুক থেকে হওয়া সংক্রমণ মারাত্মক আকার নিতে পারে। এফডিএ তাই ঝুঁকিতে থাকা ব্যক্তিদের কাঁচা ঝিনুক এড়িয়ে সম্পূর্ণ রান্না করা সামুদ্রিক খাবার খাওয়ার পরামর্শ দেয়। বেলজিও বর্তমানে শিকাগোর শার্লি রায়ান অ্যাবিলিটিল্যাবে চিকিৎসা ও পুনর্বাসন নিচ্ছেন বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। তার দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা ও পরিচর্যার ব্যয় সামলাতে পরিবার ও পরিচিতজনেরা আর্থিক সহায়তাও সংগ্রহ করছেন। এখন আদালতের প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত হবে বেলজিওর অসুস্থতার সঙ্গে রেস্তোরাঁয় পরিবেশন করা ঝিনুকের সরাসরি সম্পর্ক ছিল কি না এবং এ ঘটনায় রেস্তোরাঁ বা সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের কোনো আইনি দায় রয়েছে কি না।
হারানো হাইকারকে খুঁজতে চলল রাতভর অভিযান, অচেনা নম্বর ভেবে ধরেননি রেসকিউ টিমের ফোন
বিদেশি শিক্ষার্থী কমায় যুক্তরাষ্ট্রের ৩.৪ বিলিয়ন ডলার ক্ষতির শঙ্কা, ঝুঁকিতে ৪০ হাজার চাকরি