আমেরিকা

সবজি বিক্রি বাড়াতে দোকানের সামনে নাচের আয়োজন, চেন্নাইয়ে ভিডিও ভাইরাল

সামিয়া ইসলাম প্রকাশ: আগস্ট ১৭, ২০২৬ ১৪:৩৬
সবজি বিক্রি বাড়াতে নৃত্যের আয়োজন, চেন্নাইয়ের দোকানে ক্রেতাদের ভিড়। ছবি:সংগৃহীত
সবজি বিক্রি বাড়াতে নৃত্যের আয়োজন, চেন্নাইয়ের দোকানে ক্রেতাদের ভিড়। ছবি:সংগৃহীত

ক্রেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বিক্রি বাড়াতে ব্যবসায়ীরা নানা ধরনের প্রচলিত ও অভিনব কৌশল ব্যবহার করেন। তবে সবজি বিক্রির জন্য দোকানের সামনে নৃত্যশিল্পী এনে নাচানোর ঘটনা বেশ ব্যতিক্রমী। ভারতের চেন্নাইয়ে এমনই এক অভিনব প্রচারণার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়েছে।

 

সম্প্রতি ছড়িয়ে পড়া প্রায় ৩০ সেকেন্ডের একটি ভিডিওতে দেখা যায়, একটি সবজির দোকানের সামনে শাড়ি পরা এক তরুণী বলিউডের জনপ্রিয় গান ‘ছম্মক ছল্লো’র তালে নাচছেন। তার পেছনে সারি করে রাখা রয়েছে আলু ও পেঁয়াজের বস্তা। দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষজনের দৃষ্টি তখন পুরোপুরি ওই নৃত্য পরিবেশনার দিকে।

 

ভিডিওতে আরও দেখা যায়, দোকানের ভেতরে বসে থাকা সবজি বিক্রেতা ওই নাচ উপভোগ করছেন। কখনও তাকে হাসতে, আবার কখনও হাততালি দিতে দেখা যায়। অপ্রত্যাশিত এই আয়োজন দেখতে দোকানের সামনে পথচারী ও সম্ভাব্য ক্রেতাদের ভিড়ও জমতে দেখা যায়।

 

প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ক্রেতাদের আকৃষ্ট করা এবং দোকানের বিক্রি বাড়ানোর লক্ষ্যেই এমন ব্যতিক্রমী প্রচারণার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সাধারণত সবজির দোকানে ক্রেতা টানতে দাম কমানো, বিশেষ ছাড় বা বিভিন্ন ধরনের অফারের প্রচলন থাকলেও এখানে নাচকে প্রচারণার মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে।

 

‘ছম্মক ছল্লো’ গানটি শাহরুখ খান ও কারিনা কাপুর অভিনীত ২০১১ সালের বলিউড সিনেমা Ra.One-এর অন্যতম পরিচিত গান। গানটিতে কণ্ঠ দিয়েছেন আকন ও হামসিকা আইয়ার। গানটি মুক্তির পর থেকেই ভারতীয় জনপ্রিয় সংস্কৃতিতে ব্যাপক পরিচিতি পায়।

 

চেন্নাইয়ে এই ধরনের জনপ্রচারণার নজির একেবারে নতুন নয়। শহরটিতে অতীতেও জনপ্রিয় গানের সঙ্গে জনসমক্ষে নাচ ও ফ্ল্যাশ মবের আয়োজন নিয়ে সংবাদ প্রকাশ হয়েছে।তবে এবারের ভিডিওটির বিশেষত্ব হলো—কোনো মঞ্চ, অনুষ্ঠান বা উৎসবের পরিবর্তে একটি সাধারণ সবজির দোকানকে ঘিরেই নৃত্য পরিবেশনার আয়োজন করা হয়েছে। ফলে এটি শুধু দোকানের সামনে উপস্থিত মানুষের নজর কাড়েনি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও কৌতূহল তৈরি করেছে।

 

ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর অনেকেই এটিকে ক্রেতা আকর্ষণের অভিনব বিপণন কৌশল হিসেবে দেখছেন। ব্যবসায় প্রতিযোগিতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ছোট ব্যবসায়ীরাও এখন প্রচলিত বিজ্ঞাপনের বাইরে গিয়ে মানুষের নজর কাড়ার নতুন উপায় খুঁজছেন। চেন্নাইয়ের এই সবজি বিক্রেতার উদ্যোগ সেই প্রবণতারই একটি মজার উদাহরণ হয়ে উঠেছে।

 

তবে ভিডিওটি ঠিক কবে ধারণ করা হয়েছে, দোকানটির সুনির্দিষ্ট অবস্থান কোথায় এবং এই প্রচারণার পর বাস্তবে সবজি বিক্রি কতটা বেড়েছে—এসব বিষয়ে নির্ভরযোগ্য স্বাধীন তথ্য পাওয়া যায়নি। তাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওর দাবিগুলোকে সেই সীমাবদ্ধতার মধ্যেই দেখা উচিত।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
ইউরোপজুড়ে ভয়াবহ দাবানলে পুড়ছে বন, বসতি; বাড়ছে প্রাণহানি ও উদ্বেগ। ছবি:সংগৃহীত
ইউরোপজুড়ে ভয়াবহ দাবানল, ফ্রান্স-বেলজিয়াম-গ্রিসে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি

ইউরোপের বিভিন্ন দেশে তীব্র গরম, দীর্ঘস্থায়ী খরা ও শুষ্ক আবহাওয়ার মধ্যে ভয়াবহ দাবানল ছড়িয়ে পড়েছে। ফ্রান্স, বেলজিয়াম, গ্রিস, স্পেন, ক্রোয়েশিয়া ও পর্তুগালসহ কয়েকটি দেশে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছেন হাজারো দমকলকর্মী। চলতি বছর এখন পর্যন্ত ইউরোপে পাঁচ লাখ ৭৬ হাজার হেক্টরের বেশি জমি দাবানলে পুড়েছে বলে সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।   বেলজিয়ামের পূর্বাঞ্চলের হাই ফেনস প্রকৃতি সংরক্ষণ এলাকায় ভয়াবহ আগুনে প্রায় তিন হাজার হেক্টর এলাকা পুড়ে গেছে। জার্মান সীমান্তের দিকে আগুন ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় আশপাশের এলাকার বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। প্রায় ৫০০ দমকলকর্মী আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছেন। সাম্প্রতিক বৃষ্টিপাত পরিস্থিতি কিছুটা স্বস্তি দিলেও আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি।   গ্রিসের রাজধানী এথেন্সের কাছে সালামিনা দ্বীপে দাবানলে দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। দ্রুত ছড়িয়ে পড়া আগুনের কারণে প্রায় ৫০০ মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়। দেশটির বিভিন্ন এলাকায় দাবানলের কারণে আরও অনেক মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার ঘটনা ঘটেছে।   ফ্রান্সের দক্ষিণাঞ্চলেও ভয়াবহ দাবানলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সাম্প্রতিক আগুনে প্রায় ৫০ হাজার হেক্টর এলাকা পুড়ে গেছে এবং শত শত বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে। প্রায় দুই লাখ ২০ হাজার মানুষকে বিভিন্ন সময়ে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর পুনর্বাসন ও স্থানীয় অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে ফরাসি সরকার অতিরিক্ত অর্থ সহায়তার ঘোষণা দিয়েছে।   ইউরোপের অন্যান্য দেশেও দাবানলের ঝুঁকি বেড়েছে। স্পেন, ক্রোয়েশিয়া, পর্তুগাল ও জার্মানির বিভিন্ন এলাকায় আগুনের ঘটনা ঘটেছে। কোথাও বসতবাড়ি ও অবকাঠামো হুমকির মুখে পড়েছে, আবার কোথাও পর্যটন এলাকা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ অঞ্চল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।   দীর্ঘস্থায়ী তাপপ্রবাহ, কম বৃষ্টিপাত, মাটির আর্দ্রতা কমে যাওয়া এবং শুষ্ক উদ্ভিদ দাবানল দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার পরিবেশ তৈরি করছে। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে ইউরোপে তাপপ্রবাহের তীব্রতা ও স্থায়িত্ব বাড়ায় দাবানলের ঝুঁকিও বাড়ছে।   পরিস্থিতি মোকাবিলায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের বেসামরিক সুরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোকে সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। অগ্নিনির্বাপণ বিমান, হেলিকপ্টার, দমকলকর্মী ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সমন্বয়ের মাধ্যমে বিভিন্ন এলাকায় পাঠানো হচ্ছে।   এবারের দাবানল শুধু পরিবেশগত বিপর্যয় নয়; এর প্রভাব জননিরাপত্তা, পর্যটন, কৃষি, স্থানীয় অর্থনীতি এবং ইউরোপের জলবায়ু ঝুঁকির ওপরও পড়ছে। আবহাওয়া আরও শুষ্ক ও উষ্ণ হলে আগামী দিনগুলোতে ইউরোপের বিভিন্ন অঞ্চলে নতুন করে দাবানল ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

তাবাস্সুম মোহাম্মদ প্রকাশ: আগস্ট ১৭, ২০২৬ ১৫:৭
সবজি বিক্রি বাড়াতে নৃত্যের আয়োজন, চেন্নাইয়ের দোকানে ক্রেতাদের ভিড়। ছবি:সংগৃহীত

সবজি বিক্রি বাড়াতে দোকানের সামনে নাচের আয়োজন, চেন্নাইয়ে ভিডিও ভাইরাল

প্রতীকী ছবি:সংগৃহীত

চারবার গুলিবিদ্ধ হয়েও ৯১১-এ ফোন, ১৩ বছরের কিশোরীর সাহসিকতায় মুগ্ধ মিশিগান

বন্যা পরিস্থিতি। ছবি:সংগৃহীত

ইন্ডিয়ানায় বন্যার পানিতে ডুবে যাওয়া দুই বছরের শিশুকে বাঁচাতে মায়ের মরিয়া লড়াই

ক্যালিফোর্নিয়ার সান্তা মনিকায় আগুনে পুড়ে মারা যাওয়া ৯২ বছর বয়সী দম্পতি অ্যান্থনি ও হেলেন স্পলডিং। ছবি: সংগৃহীত
ক্যালিফোর্নিয়ায় ৭৩ বছরের দাম্পত্যের ইতি, আগুনে প্রাণ গেল বৃদ্ধ দম্পতির

ক্যালিফোর্নিয়ার সান্তা মনিকায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ৯২ বছর বয়সী দম্পতি অ্যান্থনি ও হেলেন স্পলডিং মারা গেছেন। ৯ আগস্ট ভোরে লিংকন বুলেভার্ডের ৫০০ ব্লকের বাড়িটিতে আগুন লাগে। দমকলকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে বাড়িটি আগুনে পুরোপুরি পুড়ে যেতে দেখেন এবং ভেতর থেকে দুজনকে উদ্ধার করেন। পরে তাদের বাঁচানোর চেষ্টা করা হলেও সফল হননি।   অগ্নিকাণ্ডের খবর পাওয়ার পর সান্তা মনিকা ফায়ার বিভাগের কর্মীরা রাত প্রায় ৩টার দিকে ঘটনাস্থলে পৌঁছান। আগুন তখন বাড়ির ভেতরে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছিল। দমকলকর্মীরা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার পাশাপাশি বাড়িটির ভেতরে তল্লাশি চালান। একপর্যায়ে প্রথম তলার একটি শোবার ঘরে দুজনকে পাওয়া যায়। তাদের বাইরে এনে জীবন রক্ষার চিকিৎসা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়।   মৃত দম্পতিকে অ্যান্থনি ও হেলেন স্পলডিং হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে। স্থানীয় প্রতিবেদন অনুযায়ী, তারা প্রায় ৭০ বছর ধরে বিবাহিত জীবন কাটিয়েছেন এবং তাদের পাঁচ সন্তান রয়েছে। দম্পতির পরিচর্যাকারী রিক গার্সিয়া তাদের ‘চমৎকার দম্পতি’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি জানান, দুজনের মধ্যে ভালো সম্পর্ক ছিল এবং তারা দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় বসবাস করতেন।   অ্যান্থনি ছিলেন সাবেক আইনজীবী। হেলেন স্থানীয় একটি গির্জার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলে তাদের পরিচর্যাকারী জানিয়েছেন। আগুনের সময় কোনো পরিচর্যাকারী বাড়িতে ছিলেন না। দম্পতির বাড়িটি ছিল দুই তলা এবং আগুনের পর বাড়িটির বেশ কিছু অংশ সম্পূর্ণ পুড়ে যায়। ঘটনাস্থলের ছবিতে আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত বাড়িটির বিভিন্ন অংশ দেখা গেছে।   লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টি মেডিকেল পরীক্ষকের তথ্য অনুযায়ী, হেলেনের মৃত্যুর কারণ ছিল ধোঁয়া শ্বাসের সঙ্গে গ্রহণ এবং তাপজনিত দগ্ধ হওয়া। তার মৃত্যুকে দুর্ঘটনা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। অন্যদিকে অ্যান্থনির মৃত্যুর কারণ ও ধরন তখনও চূড়ান্ত করা হয়নি এবং তার বিষয়টি আরও তদন্তাধীন ছিল।   অগ্নিকাণ্ডের কারণ এখনো নিশ্চিত হয়নি। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ আগুনের কারণ ও সূত্র খতিয়ে দেখছে। ঘটনাটি কীভাবে শুরু হয়েছিল, সে বিষয়ে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত বিস্তারিত কারণ জানা যাচ্ছে না। অগ্নিকাণ্ডে কোনো দমকলকর্মী আহত হননি বলেও স্থানীয় প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।   দম্পতির ছেলে ব্রুস স্পলডিং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বাবা-মায়ের দীর্ঘ দাম্পত্য জীবনের কথা স্মরণ করে আবেগঘন বার্তা দেন। এর আগে এপ্রিল মাসে তিনি তাদের ৭৩তম বিবাহবার্ষিকী উপলক্ষে তাদের একটি বিয়ের ছবি প্রকাশ করেছিলেন।   অ্যান্থনি ও হেলেনের দীর্ঘ দাম্পত্য জীবন এবং একই অগ্নিকাণ্ডে দুজনের মৃত্যু স্থানীয়ভাবে গভীর শোকের সৃষ্টি করেছে। পরিচর্যাকারী রিক গার্সিয়া জানান, তাদের পাঁচ সন্তানই বাবা-মায়ের প্রতি নিবেদিত ছিলেন। আগুনের ঘটনায় দম্পতির মৃত্যুকে তিনি অত্যন্ত বেদনাদায়ক ঘটনা হিসেবে বর্ণনা করেছেন।   দম্পতির বসবাস করা বাড়িটির পাশাপাশি লস অ্যাঞ্জেলেস এলাকার আরও কয়েকটি সম্পত্তির মালিকানা তাদের ছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ভেনিসে একটি অ্যাপার্টমেন্ট ভবন এবং লস অ্যাঞ্জেলেসের কোলবি অ্যাভিনিউতে দুটি ভাড়া দেওয়া অ্যাপার্টমেন্টের মালিক হিসেবে অ্যান্থনির নামের তথ্যও প্রতিবেদনে এসেছে। এসব সম্পত্তির মধ্যে কোলবি অ্যাভিনিউয়ের দুটি অ্যাপার্টমেন্টের আনুমানিক বাজারমূল্য ১৬ লাখ ডলারের বেশি ছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।   তবে তাদের সান্তা মনিকার বাড়িতে ভয়াবহ আগুনের ঘটনায় শেষ পর্যন্ত ৭৩ বছরের দাম্পত্য জীবনের সমাপ্তি ঘটে। অগ্নিকাণ্ডের কারণ নির্ধারণে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ১৭, ২০২৬ ১২:৪৪
ক্যালিফোর্নিয়ার মসজিদে নজরদারির জন্য এফবিআইয়ের নিয়োগ করা গোপন ইনফরম্যান্ট ক্রেইগ মন্টেইল ছদ্মবেশে। ছবি: সংগৃহীত

মুসলিম সেজে মসজিদে এফবিআইয়ের গুপ্তচর, তাকেই ‘উগ্রবাদী’ ভেবে এফবিআইকে জানিয়েছিলেন মুসল্লিরা

ট্রাম্পের কট্টর সমর্থক ব্রেন্ট জিনড্রা এবং ইমিগ্রেশন অভিযানে আটক হওয়া তার রুশ বংশোদ্ভূত স্ত্রী গালিনা বোব্রেনেভা। ছবি: সংগৃহীত

টানা তিনবার ট্রাম্পকে ভোট, এবার ইমিগ্রেশন অভিযানে আটক নিজেরই স্ত্রী

কুইন্সের ফ্লোরাল পার্কে আয়োজিত ইন্ডিয়া ডে প্যারেডে মঞ্চে বক্তব্য রাখছেন নিউইয়র্ক অ্যাসেম্বলি মেম্বার জোহরান মামদানি। ছবি: সংগৃহীত

ভারতীয় সংস্কৃতির উৎসবে নিউইয়র্কের মেয়র মামদানি, ‘এই অভিজ্ঞতা কখনো ভুলব না’

মানসিক চাপ সামলাতে অতিরিক্ত কেনাকাটার অভ্যাসে পড়ে আর্থিক সংকটে ভোগা মার্কিন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা ম্যাডি বেকার। ছবি: সংগৃহীত
কাজ শেষে ক্লান্তি কমাতে শপিং ছিল অভ্যাস, পে চেক টু পে চেক জীবন থেকে যেভাবে ঘুরে দাঁড়ালেন শিক্ষিকা

যুক্তরাষ্ট্রের ২৭ বছর বয়সী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা ম্যাডি বেকারের কাছে একসময় মানসিক চাপ সামলানোর সহজ উপায় ছিল কেনাকাটা। স্কুলে কঠিন একটি দিন কাটলেই কাজ শেষে কোনো দোকানে চলে যেতেন। প্রতিদিন অন্তত একবার কফি কেনা, ঘন ঘন নতুন পোশাক কেনা এবং সামর্থ্যের বাইরে ছুটিতে যাওয়ার অভ্যাস শেষ পর্যন্ত তাকে এমন অবস্থায় নিয়ে যায়, যেখানে প্রতিটি পে চেকের জন্য অপেক্ষা করতে হতো।   সিএনবিসি মেক ইটকে বেকার জানান, ছয় বছর আগে কিন্ডারগার্টেনে শিক্ষকতা শুরু করার সময় থেকেই তার ইমপালসিভ স্পেন্ডিং বা হঠাৎ সিদ্ধান্তে টাকা খরচের প্রবণতা ছিল। কোনো দিন স্কুলে খারাপ কাটলে কাজ শেষে সরাসরি দোকানে চলে যেতেন তিনি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, কঠিন দিনের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার একটি উপায় হয়ে উঠেছিল টাকা খরচ করা।   তবে ছোট ছোট এসব খরচ একসময় বড় আর্থিক চাপে রূপ নেয়। বেকার জানান, পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছিল যে ক্রেডিট কার্ডের ঋণে না জড়ানোর চেষ্টা করতে গিয়ে তাকে পে চেক টু পে চেক চলতে হচ্ছিল। এক মাসের আয় দিয়ে পরবর্তী মাস পর্যন্ত টিকে থাকার এই চক্র তার জন্য ক্রমেই চাপের হয়ে ওঠে।   বেকারের অভিজ্ঞতা যুক্তরাষ্ট্রে একেবারে বিচ্ছিন্ন নয়। সিএনবিসির প্রতিবেদনে উদ্ধৃত লেন্ডিংট্রির জরিপ অনুযায়ী, প্রায় অর্ধেক আমেরিকান ভোক্তা মন ভালো করার জন্য কখনো না কখনো কেনাকাটা করেন। এ ধরনের কেনাকাটা সাময়িক স্বস্তি দিলেও নিয়ন্ত্রণের বাইরে গেলে ব্যক্তিগত অর্থনীতিতে চাপ তৈরি করতে পারে। জরিপে ইমোশনাল শপিং করা প্রায় তিন চতুর্থাংশ মানুষ বলেছেন, তারা কোনো না কোনো সময় পরিকল্পনার চেয়ে বেশি খরচ করেছেন। ৪৪ শতাংশ জানিয়েছেন, এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে তাদের আর্থিক অবস্থার ওপর।   নিজের খরচের অভ্যাস নিয়ন্ত্রণে আনতে বেকারের প্রায় তিন বছর সময় লাগে। তিনি ধীরে ধীরে বুঝতে শুরু করেন কোন পরিস্থিতিতে তার অপ্রয়োজনীয় কেনাকাটার ইচ্ছা তৈরি হচ্ছে। এরপর অর্থ খরচের সিদ্ধান্তে সচেতনতা বাড়ান এবং এমন কিছু নতুন অভ্যাস ও শখ তৈরি করেন, যেগুলো তাকে টাকা বাঁচাতে সাহায্য করে।   বর্তমানে প্রথম শ্রেণির শিক্ষক বেকার আগের তুলনায় অনেক পরিকল্পিতভাবে টাকা খরচ করেন। তার অভিজ্ঞতা দেখিয়েছে, শুধু আয় কত তা নয়, মানসিক চাপ বা আবেগের মুহূর্তে নেওয়া ছোট ছোট আর্থিক সিদ্ধান্তও মাস শেষে ব্যক্তিগত বাজেটে বড় পার্থক্য তৈরি করতে পারে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ১৭, ২০২৬ ১১:৪৯
যুক্তরাষ্ট্রে নাগরিকত্ব বা ন্যাচারালাইজেশনের আবেদন ফি সর্বোচ্চ ১ হাজার ৩৩০ ডলার করার বড় প্রস্তাব দিয়েছে ইউএসসিআইএস। ছবি: সংগৃহীত

মার্কিন নাগরিকত্বের পথে বাড়ছে খরচ, আবেদন ফি ১,৩৩০ ডলার করার প্রস্তাব

সন্তানদের সাথে থাকার পরও নিউইয়র্কে কিছু প্রবীণ বাংলাদেশি বাবা-মার একাকী ও বিষণ্ণ জীবন কাটানোর বাস্তব চিত্র সামনে এসেছে। ছবি: সংগৃহীত

নিউইয়র্কে বৃদ্ধ বাবা-মাকে দিনে ঘরে থাকতে না দেওয়ার অভিযোগ, পার্কে মানুষের কাছে চান খাবারের টাকা

যুক্তরাষ্ট্রে গ্রোসারির দাম বাড়তে থাকায় পরিবারের মাসিক খরচে সাশ্রয় আনতে ক্যাশব্যাক অ্যাপের ব্যবহার বাড়ছে। ছবি: সংগৃহীত

বাজার খরচ কমান এই ৪ অ্যাপে, ওয়ালমার্টে মিলতে পারে ক্যাশব্যাক

0 Comments