যুদ্ধবিচ্ছিন্ন আরও এক শিশুকে মায়ের কাছে ফেরালেন মেলানিয়া ট্রাম্প
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন আরও এক শিশুকে মায়ের কাছে ফিরিয়ে দিতে সহায়তা করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প। নতুন এই পুনর্মিলনের মধ্য দিয়ে তার উদ্যোগে পরিবারের কাছে ফিরে যাওয়া শিশুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৪ জনে। ১৭ আগস্ট হোয়াইট হাউস এ তথ্য জানিয়েছে।
দীর্ঘদিন পর মা ও সন্তানের এই পুনর্মিলন নিয়ে আবেগঘন প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন মেলানিয়া ট্রাম্প।
তিনি বলেন, “দীর্ঘ সময় বিচ্ছিন্ন থাকার পর একজন মায়ের সঙ্গে তার সন্তানকে পুনর্মিলিত করার চেয়ে শক্তিশালী আর কিছু নেই।”
তবে নিরাপত্তা ও ব্যক্তিগত গোপনীয়তার কারণে সর্বশেষ ফিরে আসা শিশুটির পরিচয়, বয়স কিংবা কী পরিস্থিতিতে সে পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়েছিল, সেই বিস্তারিত প্রকাশ করেনি হোয়াইট হাউস।
মেলানিয়া ট্রাম্প জানিয়েছেন, এখানেই থামছে না তার উদ্যোগ। যুদ্ধের কারণে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া আরও শিশু ও পরিবারের পুনর্মিলন নিশ্চিত করতে তার প্রতিনিধি কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।
এই মানবিক উদ্যোগের শুরুটা হয়েছিল এক চিঠি দিয়ে।
২০২৫ সালের আগস্টে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে সরাসরি একটি চিঠি লিখেছিলেন মেলানিয়া ট্রাম্প। সেখানে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া শিশুদের ভবিষ্যৎ ও নিরাপত্তার বিষয়টি তুলে ধরেন তিনি।
আলাস্কায় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও প্রেসিডেন্ট পুতিনের বৈঠকের সময় সেই চিঠি রুশ প্রেসিডেন্টের হাতে পৌঁছে দেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।
এরপর বিষয়টি শুধু চিঠিতেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। ইউক্রেন ও রাশিয়ার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করে ফার্স্ট লেডির কার্যালয়। ধারাবাহিক সেই প্রচেষ্টায় একের পর এক শিশুকে তাদের পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
গত ৩০ জুলাইও ইউক্রেনীয় ও রুশ পাঁচ শিশুকে পরিবারের সঙ্গে পুনর্মিলিত করার কথা জানিয়েছিল হোয়াইট হাউস। আর সর্বশেষ আরও এক শিশুর ঘরে ফেরার মধ্য দিয়ে মেলানিয়া ট্রাম্পের উদ্যোগে এই সংখ্যা এখন ৩৪। তবে এই ৩৪ শিশুর গল্পের পেছনে রয়েছে আরও অনেক বড় এক মানবিক সংকট।
ইউক্রেন সরকারের ‘চিলড্রেন অব ওয়ার’ তথ্য অনুযায়ী, রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আগ্রাসন শুরুর পর থেকে ২০ হাজার ৬১০ ইউক্রেনীয় শিশুকে নির্বাসিত অথবা জোরপূর্বক স্থানান্তরিত হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ২ হাজার ৪৭০ শিশুকে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে।
বিষয়টি নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়েও গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। চলতি বছরের মার্চে জাতিসংঘের একটি তদন্ত কমিশন জানায়, ইউক্রেনীয় শিশুদের রাশিয়ায় নির্বাসন ও জোরপূর্বক স্থানান্তরের ঘটনা মানবতাবিরোধী অপরাধের পর্যায়ে পড়ে।
এরও আগে ২০২৩ সালে ইউক্রেনের অধিকৃত অঞ্চল থেকে শিশুদের বেআইনিভাবে নির্বাসন ও স্থানান্তরের অভিযোগে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং রাশিয়ার শিশু অধিকারবিষয়ক কমিশনার মারিয়া লভোভা-বেলোভার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত। রাশিয়া এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে আসছে।
ইউক্রেন বলছে, দেশ থেকে নিয়ে যাওয়া প্রতিটি শিশুকে ফিরিয়ে আনা তাদের অন্যতম প্রধান মানবিক দাবি। এজন্য আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সহায়তাও চাইছে কিয়েভ।
সেই বিশাল সংকটের তুলনায় ৩৪ সংখ্যাটি হয়তো খুবই ছোট। কিন্তু প্রতিটি সংখ্যার পেছনেই রয়েছে একটি শিশু, একটি পরিবার এবং দীর্ঘ অপেক্ষার একটি গল্প।
আর সেই কারণেই মেলানিয়া ট্রাম্পের সর্বশেষ বার্তাটিও তাৎপর্যপূর্ণ - যুদ্ধের কূটনীতি যত কঠিনই হোক, পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন শিশুদের ঘরে ফেরানোর প্রচেষ্টা থামছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক মানচিত্রে একসময় যেসব অঙ্গরাজ্যকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে দেখা হতো, সেখানেও দ্রুত বদলাচ্ছে জনমত। নতুন রাজ্যভিত্তিক জরিপ বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, দেশের ৫০ অঙ্গরাজ্যের মধ্যে মাত্র তিনটিতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কাজের প্রতি অনুমোদন অননুমোদনের চেয়ে বেশি। নভেম্বরের গুরুত্বপূর্ণ মধ্যবর্তী নির্বাচনের মাত্র কয়েক মাস আগে এই চিত্র রিপাবলিকানদের জন্য নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে। নিউজউইকের প্রকাশিত রাজ্যভিত্তিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রতি ইতিবাচক নেট অনুমোদন এখন মূলত তার সবচেয়ে শক্তিশালী রিপাবলিকান ঘাঁটিগুলোতেই সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে। অর্থাৎ অধিকাংশ অঙ্গরাজ্যে তাকে সমর্থন করা মানুষের তুলনায় তার কাজের প্রতি অসন্তুষ্ট মানুষের সংখ্যা বেশি। তবে এখানে গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় রয়েছে। বিভিন্ন জরিপ প্রতিষ্ঠান রাজ্যভিত্তিক অনুমোদন হিসাব করতে আলাদা পদ্ধতি ও সময়সীমা ব্যবহার করে। ফলে কোন জরিপের কোন আপডেট বিবেচনা করা হচ্ছে, তার ওপর ইতিবাচক অঙ্গরাজ্যের সংখ্যা তিন বা চার হতে পারে। সাম্প্রতিক ইকোনমিস্ট-ইউগভ মডেলে আইডাহো, নর্থ ডাকোটা, ওয়াইওমিং ও ওয়েস্ট ভার্জিনিয়ায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নেট অনুমোদন ইতিবাচক দেখানো হয়েছে। তাই “মাত্র তিন রাজ্য” সংখ্যাটি সংশ্লিষ্ট নিউজউইক বিশ্লেষণের নির্দিষ্ট তথ্য হিসেবে দেখা উচিত, সব জরিপের অভিন্ন ফল হিসেবে নয়। কিন্তু রাজ্যভিত্তিক হিসাবের এই পার্থক্যের চেয়েও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জন্য বড় উদ্বেগ তৈরি করেছে জাতীয় জনমত। ১৭ আগস্ট প্রকাশিত রয়টার্স-ইপসসের সর্বশেষ জরিপে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সামগ্রিক অনুমোদন নেমে এসেছে মাত্র ৩৩ শতাংশে। দ্বিতীয় মেয়াদে হোয়াইট হাউসে ফেরার পর এটিই তার সর্বনিম্ন অনুমোদন। একই জরিপে ৬৪ শতাংশ মার্কিন নাগরিক তার কাজের প্রতি অসন্তোষ জানিয়েছেন। এই পতন আরও তাৎপর্যপূর্ণ কারণ ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে দ্বিতীয় মেয়াদ শুরুর পর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অনুমোদন ছিল ৪৭ শতাংশ। অর্থাৎ প্রায় দেড় বছরে জাতীয় পর্যায়ে তার সমর্থনে বড় ধরনের ক্ষয় হয়েছে। কেন কমছে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা? এর পেছনে এখন সবচেয়ে বড় দুটি বিষয় সামনে আসছে - ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ এবং আমেরিকানদের জীবনযাত্রার ব্যয়। রয়টার্স-ইপসস জরিপে প্রায় ৮০ শতাংশ মার্কিন নাগরিক মনে করছেন, ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সংঘাত দীর্ঘ সময় ধরে চলবে। ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে এই আশঙ্কা ৮৭ শতাংশ হলেও রিপাবলিকানদের মধ্যেও ৭১ শতাংশ একই উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। আরও তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হলো, মাত্র প্রায় ২০ শতাংশ মার্কিন নাগরিক মনে করছেন ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে জড়ানোর সিদ্ধান্তটি মূল্য দেওয়ার মতো ছিল। এমনকি রিপাবলিকানদের মধ্যেও এই প্রশ্নে সমর্থন প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। যুদ্ধের প্রভাব এখন শুধু পররাষ্ট্রনীতিতে সীমাবদ্ধ নেই। ইরান সংঘাতের কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহে অস্থিরতা এবং যুক্তরাষ্ট্রে পেট্রলের দাম বৃদ্ধির প্রভাব সরাসরি সাধারণ মানুষের পকেটে পড়ছে। ফলে হোয়াইট হাউসের জন্য ইরান যুদ্ধ ক্রমেই একটি অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সমস্যায় পরিণত হচ্ছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে নিত্যপণ্যের দাম। ২০২৪ সালের নির্বাচনী প্রচারণায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বারবার খাবার ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম কমানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। কিন্তু রয়টার্সের সাম্প্রতিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, দ্বিতীয় মেয়াদ শুরুর পর ২৬টি গুরুত্বপূর্ণ মুদি পণ্যের দাম গড়ে আরও ৩ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়েছে। মূল্যবৃদ্ধির গতি বাইডেন প্রশাসনের সময়ের তুলনায় কম হলেও ভোটারদের প্রত্যাশা অনুযায়ী দাম কমেনি। আর এখানেই রিপাবলিকানদের জন্য আরও একটি বড় সতর্কসংকেত দেখা যাচ্ছে। আগস্টের শুরুতে প্রকাশিত আরেকটি রয়টার্স-ইপসস জরিপে প্রায় এক দশকের মধ্যে প্রথমবার অর্থনীতি পরিচালনায় রিপাবলিকানদের চেয়ে ডেমোক্র্যাটদের সামান্য এগিয়ে রেখেছেন ভোটাররা। নিবন্ধিত ভোটারদের ৩৭ শতাংশ অর্থনীতি পরিচালনায় ডেমোক্র্যাটদের ওপর বেশি আস্থা জানিয়েছেন, রিপাবলিকানদের বেছে নিয়েছেন ৩৬ শতাংশ। একই জরিপের কংগ্রেসনাল ব্যালট পরীক্ষায় নিবন্ধিত ভোটারদের ৪২ শতাংশ ডেমোক্র্যাট এবং ৩৭ শতাংশ রিপাবলিকান প্রার্থীকে সমর্থনের কথা জানিয়েছেন। নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে পাঁচ পয়েন্টের এই ব্যবধান রিপাবলিকানদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা। তবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা কমে যাওয়ার অর্থ এই নয় যে আগামী নির্বাচনে সব অঙ্গরাজ্য ডেমোক্র্যাটদের দিকে চলে যাচ্ছে। প্রেসিডেন্টের কাজের অনুমোদন এবং নির্বাচনে দলীয় ভোট দুটি আলাদা বিষয়। একজন রিপাবলিকান ভোটার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কোনো নীতিতে অসন্তুষ্ট হলেও কংগ্রেস নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থীকেই ভোট দিতে পারেন। একইভাবে রাজ্যভিত্তিক অনুমোদনের জরিপ দিয়ে সরাসরি নির্বাচনের ফল অনুমান করা যায় না। তারপরও বর্তমান প্রবণতাটি রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে পেনসিলভানিয়া, মিশিগান, উইসকনসিন, অ্যারিজোনা, জর্জিয়া, নেভাদা ও নর্থ ক্যারোলিনার মতো প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ অঙ্গরাজ্যে প্রেসিডেন্টের জনপ্রিয়তা রিপাবলিকান প্রার্থীদের ওপর কতটা প্রভাব ফেলবে, সেটি এখন বড় প্রশ্ন। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জন্য কিছু ইতিবাচক দিকও রয়েছে। অভিবাসন ইস্যুতে রিপাবলিকানরা এখনো ডেমোক্র্যাটদের তুলনায় সামান্য এগিয়ে। তবে এখানেও ব্যবধান নাটকীয়ভাবে কমেছে। রয়টার্স-ইপসসের সর্বশেষ জরিপ অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে অভিবাসন পরিচালনায় রিপাবলিকানদের সুবিধা যেখানে ছিল ২৬ পয়েন্ট, এখন তা নেমে এসেছে মাত্র ২ পয়েন্টে। সব মিলিয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সামনে এখন একই সঙ্গে তিনটি রাজনৈতিক চাপ - ইরান যুদ্ধ, জীবনযাত্রার ব্যয় এবং অর্থনীতি নিয়ে ভোটারদের অসন্তোষ। আর নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে, হোয়াইট হাউসের জন্য প্রশ্নটি ততই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে - প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কি এই নিম্নমুখী জনমত ঘুরিয়ে দিতে পারবেন, নাকি তার জনপ্রিয়তার পতনের মূল্য দিতে হবে কংগ্রেসের রিপাবলিকান প্রার্থীদের? কারণ মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রেসিডেন্টের নাম ব্যালটে থাকবে না - কিন্তু তার জনপ্রিয়তা কিংবা অজনপ্রিয়তার প্রভাব ব্যালটের ফলাফলে পড়তে পারে।
যুদ্ধবিচ্ছিন্ন আরও এক শিশুকে মায়ের কাছে ফেরালেন মেলানিয়া ট্রাম্প
স্ত্রীকে গুলি করে হত্যার পর মরদেহ পাশে বসিয়ে ৫ ঘণ্টা গাড়ি চালালেন স্বামী
কিম জং উনকে নিয়ে প্রশ্ন করতেই সিএনএন সাংবাদিককে ‘ফেক নিউজ’ বললেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প
ক্যালিফোর্নিয়ায় ব্যবসা পরিচালনার উচ্চ খরচ, ট্যাক্স ও নিয়ন্ত্রক জটিলতা নিয়ে হতাশ হয়ে নিজের কোম্পানির সদর দপ্তর টেক্সাসে সরিয়ে নিয়েছেন ডিজিটাল ব্র্যান্ডস গ্রুপের প্রধান নির্বাহী হিল ডেভিস। ক্যালিফোর্নিয়ায় দীর্ঘদিন ব্যবসা চালানোর পর তার ভাষ্য, সেখানে কোম্পানি পরিচালনা করা ক্রমেই ব্যয়বহুল ও কঠিন হয়ে উঠছিল। নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পোশাক ও লাইফস্টাইল ব্র্যান্ড পরিচালনাকারী ডিজিটাল ব্র্যান্ডস গ্রুপের সদর দপ্তর ক্যালিফোর্নিয়া থেকে টেক্সাসের রাউন্ড রকে স্থানান্তর করা হয়েছে। অস্টিনের কাছের এই শহরে কোম্পানিটি প্রায় ৭০ হাজার বর্গফুটের একটি ওয়্যারহাউস ও অফিস স্পেস লিজ নিয়েছে। ডেভিসের দাবি, ক্যালিফোর্নিয়ার ভার্ননে কোম্পানিটি যে খরচে আগের জায়গাটি ব্যবহার করছিল, প্রায় একই খরচে টেক্সাসে অনেক বড় ও সুবিধাজনক জায়গা পাওয়া গেছে। নতুন স্থাপনায় অফিসের পাশাপাশি কোম্পানির ডিস্ট্রিবিউশন কার্যক্রমও পরিচালনা করা সম্ভব হচ্ছে। শুধু জায়গার খরচ নয়, ব্যবসা পরিচালনার সামগ্রিক পরিবেশও সিদ্ধান্তে বড় ভূমিকা রেখেছে বলে জানান ডেভিস। তার অভিযোগ, ক্যালিফোর্নিয়ায় ট্যাক্স, বিভিন্ন রেগুলেশন, আইনি জটিলতা এবং অনুমোদন প্রক্রিয়া ব্যবসার ব্যয় বাড়িয়ে দেয়। কর্মীদের দীর্ঘ সময় কমিউট করাও কোম্পানির জন্য আরেকটি সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছিল। তবে ডিজিটাল ব্র্যান্ডস গ্রুপ পুরোপুরি ক্যালিফোর্নিয়া ছেড়ে যাচ্ছে না। লস অ্যাঞ্জেলেসে কোম্পানিটির কিছু কার্যক্রম থাকবে। একই সঙ্গে কর্মীদের মধ্যে যারা টেক্সাসে যেতে চান, তাদের স্থানান্তরের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। ডেভিসের এই সিদ্ধান্ত এমন সময়ে সামনে এলো, যখন ক্যালিফোর্নিয়া থেকে টেক্সাসে বিভিন্ন কোম্পানির সদর দপ্তর স্থানান্তর নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে নতুন করে আলোচনা চলছে। গত কয়েক বছরে টেসলা, ওরাকল ও শেভরনের মতো বড় কোম্পানিও তাদের সদর দপ্তর ক্যালিফোর্নিয়া থেকে টেক্সাসে সরিয়েছে। ২০২৬ সালের ফরচুন ৫০০ তালিকাতেও করপোরেট সদর দপ্তরের সংখ্যায় ক্যালিফোর্নিয়াকে ছাড়িয়ে গেছে টেক্সাস। তালিকা অনুযায়ী, টেক্সাসে ফরচুন ৫০০ কোম্পানির সদর দপ্তর রয়েছে ৫৭টি, ক্যালিফোর্নিয়ায় ৫৬টি। কয়েক বছর আগেও এই হিসাবে এগিয়ে ছিল ক্যালিফোর্নিয়া। টেক্সাসে ব্যক্তিগত স্টেট ইনকাম ট্যাক্স না থাকা এবং তুলনামূলক কম অপারেটিং খরচ দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন কোম্পানিকে আকৃষ্ট করছে। তবে ক্যালিফোর্নিয়া এখনো যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি, বিনোদন ও উদ্ভাবন খাতের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র। সিলিকন ভ্যালি ও লস অ্যাঞ্জেলেসের মতো অঞ্চল বিশ্বের বড় বড় কোম্পানি ও বিনিয়োগকারীদের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে রয়ে গেছে। ডেভিসও মনে করেন না যে হঠাৎ করেই সব কোম্পানি ক্যালিফোর্নিয়া ছেড়ে চলে যাবে। তার মতে, পরিবর্তনটি বরং ধীরে ধীরে ঘটছে। কিন্তু ব্যবসার খরচ ও পরিচালন পরিবেশে বড় পার্থক্য থাকলে আরও প্রতিষ্ঠান ভবিষ্যতে বিকল্প রাজ্যের দিকে যেতে পারে।
টিপের টাকা ছিল না, লটারির ভাগ দিয়ে ওয়েট্রেসকে বানালেন মিলিয়নিয়ার
টানা ৩৮ সপ্তাহ সাগরে ভাসমান মার্কিন রণতরী, খাবার ও মানসিক সংকটে ধুঁকছেন নৌসেনারা
২০০টির বেশি স্কলারশিপে আবেদন করে ৪০টি পেলেন তরুণী, পড়বেন আইভি লিগের প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয়ে
নিউ জার্সির মরিস কাউন্টির লেক হোপাটকংয়ে পরিবারের সঙ্গে পিকনিকে গিয়ে পানিতে ডুবে মারা গেছেন ৪১ বছর বয়সী কৌশিক শর্মা। তিনি এডিসনের বাসিন্দা ছিলেন। মরিস কাউন্টি প্রসিকিউটরের কার্যালয় তার পরিচয় নিশ্চিত করেছে। কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, গত সপ্তাহান্তে লেক হোপাটকংয়ে প্যাডেলবোর্ডিং করার সময় নিখোঁজ হন কৌশিক। স্থানীয় সময় দুপুর সাড়ে ২টার দিকে প্রত্যক্ষদর্শীরা পানিতে একটি পরিত্যক্ত প্যাডেলবোর্ড ভাসতে দেখে বিষয়টি সৈকতের লাইফগার্ডকে জানান। এরপর একাধিক উদ্ধারকারী সংস্থা ঘটনাস্থলে পৌঁছে তল্লাশি শুরু করে। দীর্ঘ কয়েক ঘণ্টার অনুসন্ধানের পর সন্ধ্যা ৭টার দিকে কৌশিকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তিনি এমন একটি এলাকায় প্যাডেলবোর্ডিং করছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে, যেখানে লাইফগার্ডের তত্ত্বাবধান ছিল না। কৌশিকের মৃত্যুর পর তার পরিবার ও বন্ধুদের পক্ষ থেকে একটি অনলাইন তহবিল সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সেখানে তাকে এডিসনের বাসিন্দা, দুই সন্তানের বাবা এবং পরিবারের সঙ্গে পিকনিকে থাকা অবস্থায় আকস্মিকভাবে মারা যাওয়া একজন প্রিয়জন হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। তহবিল সংগ্রহের উদ্যোগটির আয়োজক রাকেশ আহিরওয়ার লিখেছেন, কৌশিকের আকস্মিক মৃত্যু তার স্ত্রী, দুই সন্তান, বন্ধু ও প্রতিবেশীদের জন্য গভীর শোকের কারণ হয়েছে। তার বর্ণনায়, কৌশিক এডিসন, বিএপিএস, এডিসন স্কুল পিটিএ বোর্ড ও গুজরাটি সম্প্রদায়ের মধ্যে একজন সহানুভূতিশীল ও সহযোগিতাপ্রবণ ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত ছিলেন। পরিবারের পক্ষ থেকে তাকে এমন একজন মানুষ হিসেবে স্মরণ করা হয়েছে, যিনি প্রয়োজনের সময় অন্যদের পাশে দাঁড়াতেন এবং সাহায্যের জন্য সবসময় প্রস্তুত থাকতেন। তার আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবার ও পরিচিতদের মধ্যে শোক নেমে এসেছে। এদিকে কৌশিকের মৃত্যুর ঘটনায় মরিস কাউন্টি মেডিকেল এক্সামিনারের কার্যালয় ময়নাতদন্ত ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করবে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মৃত্যুর ঘটনা এখনো তদন্তাধীন। তবে প্রাথমিকভাবে এতে কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সংশ্লিষ্টতা সন্দেহ করা হচ্ছে না। কৌশিকের মৃত্যুর মাত্র এক দিন আগেও মরিস কাউন্টির আরেকটি হ্রদে প্যাডেলবোর্ডিং করতে গিয়ে এক তরুণের মৃত্যু হয়েছিল। ১৫ আগস্ট শনিবার টিলকন লেকে ২৩ বছর বয়সী জোনাথন গ্রেসো প্যাডেলবোর্ডিংয়ের সময় পানিতে ডুবে মারা যান বলে স্থানীয় প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। লেক হোপাটকং নিউ জার্সির অন্যতম বড় মিঠাপানির হ্রদ এবং গ্রীষ্মকালে এখানে নৌভ্রমণ, সাঁতার ও প্যাডেলবোর্ডিংসহ বিভিন্ন জলক্রীড়া জনপ্রিয়। তবে লাইফগার্ডের তত্ত্বাবধানের বাইরে পানিতে নামা এবং জলক্রীড়ার সময় নিরাপত্তা সরঞ্জাম ব্যবহারের বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। কর্তৃপক্ষের তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কৌশিক কীভাবে পানিতে ডুবে গেলেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত কারণ জানানো হয়নি। ময়নাতদন্তের ফলাফল এবং তদন্তের পর তার মৃত্যুর বিষয়ে আরও তথ্য প্রকাশ করা হতে পারে।
নিউইয়র্কে ৩৩.৫ মিলিয়ন ডলারে জমি কিনে সন্তানদের জন্য বাড়ি বানাচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিতীয় শীর্ষ ধনী নারী জুলিয়া কোচ
ডাকযোগে ভোটকে ‘দুর্নীতিগ্রস্ত’ বললেও ফ্লোরিডায় নিজেই সেই পদ্ধতিতে ভোট দিলেন ট্রাম্প