যুক্তরাষ্ট্রে ইসলামবিরোধী বিক্ষোভ ঘিরে উত্তেজনা, সংঘর্ষে জড়াল দুই পক্ষ
যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের ডিয়ারবর্ন শহরে ইসলামবিরোধী বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে মঙ্গলবার উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। শহরের সিটি কাউন্সিলের বৈঠককে ঘিরে উভয় পক্ষের বিক্ষোভকারীরা জড়ো হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশকে হস্তক্ষেপ করতে হয়। বৈঠকের বাইরে কয়েকজন বিক্ষোভকারীকে নাৎসি প্রতীকসংবলিত পোশাক পরতেও দেখা যায় বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে।
ঘটনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন ডানপন্থী ও ইসলামবিরোধী কর্মী জেক ল্যাং। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ডিয়ারবর্ন সিটি কাউন্সিলের বৈঠকে বক্তব্য দেওয়ার জন্য তিনি হেনরি ফোর্ড সেন্টেনিয়াল লাইব্রেরিতে যান। ল্যাংয়ের আগমনকে কেন্দ্র করে ইসলামবিরোধী বিক্ষোভকারীদের পাশাপাশি তার বিরোধিতাকারীরাও সেখানে জড়ো হন।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ফক্স ২ ডেট্রয়েটের প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রায় এক ঘণ্টা ধরে বিক্ষোভ চলার পর ল্যাং ঘটনাস্থলে পৌঁছালে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে বিক্ষোভকারীদের একটি দল লাইব্রেরির দিকে ছুটে যায়। সেখানে পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে ধাক্কাধাক্কি হয় এবং ব্যারিকেড সরিয়ে ফেলার ঘটনাও ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশের বিশেষ দল ঘটনাস্থলে নামে।
বৈঠকের ভেতরে বক্তব্য দেওয়ার সময় ল্যাং খ্রিস্টান শ্বেতাঙ্গ জনগোষ্ঠীকে অন্যরা প্রতিস্থাপন করছে বলে দাবি করেন। তার বক্তব্যের সময় উপস্থিত কয়েকজন প্রতিবাদ জানান এবং তাকে উদ্দেশ করে কটূক্তিও করা হয় বলে ফক্স ২ জানিয়েছে। বাইরে একই সময়ে ল্যাংয়ের সমর্থক এবং তার ইসলামবিরোধী অবস্থানের বিরোধীরা মুখোমুখি অবস্থান নেয়।
পরিস্থিতির মধ্যে ডিয়ারবর্নের মেয়র আবদুল্লাহ হামুদ শহরের বহুত্ববাদী চরিত্রের ওপর জোর দেন। তিনি বলেন, ডিয়ারবর্নকে মুসলিম ও আরব জনগোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে চলে যাওয়া একটি শহর হিসেবে উপস্থাপন করা হলে শুধু মুসলিম ও আরবদেরই আক্রমণ করা হয় না, বরং শহরের খ্রিস্টান ও অন্যান্য ধর্মাবলম্বী মানুষের অবদানও অস্বীকার করা হয়।
ডিয়ারবর্নের কর্মকর্তারা আগে থেকেই বাসিন্দাদের সতর্ক করেছিলেন, যেন সিটি কাউন্সিলের বৈঠকে প্রয়োজনীয় কাজ না থাকলে সেখানে না যান। পুলিশের পক্ষ থেকেও বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়। পুলিশ প্রধান ইসা শাহিন জানিয়েছিলেন, শহরের বাইরের বিভিন্ন গোষ্ঠী বৈঠকে আসতে পারে বলে তারা খবর পেয়েছেন। এ কারণে বৈঠকের স্থানও পরিবর্তন করা হয়েছিল।
এর আগে স্থানীয় খ্রিস্টান ধর্মীয় নেতারাও মেয়র ও পুলিশ প্রধানের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে উত্তেজনা এড়িয়ে চলার আহ্বান জানান। সোমবার আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তারা ডিয়ারবর্নকে বিভিন্ন ধর্ম ও সংস্কৃতির মানুষের সহাবস্থানের শহর হিসেবে তুলে ধরেন এবং ঘৃণার পরিবর্তে ঐক্যের বার্তা দেন।
ডিয়ারবর্নের ঘটনাটি আরও তাৎপর্যপূর্ণ কারণ শহরটিতে বড় আরব-আমেরিকান ও মুসলিম জনগোষ্ঠীর বসবাস রয়েছে। ইসলামবিরোধী বক্তব্য ও বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে এর আগেও শহরটি জাতীয় পর্যায়ে রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রে এসেছে। এবার ল্যাংয়ের ঘোষিত ‘ক্রিশ্চিয়ান ক্রুসেডার মার্চ’কে ঘিরে স্থানীয় প্রশাসন আগে থেকেই নিরাপত্তা প্রস্তুতি জোরদার করে।
জেক ল্যাং ২০২১ সালের ৬ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের ক্যাপিটল ভবনে হামলার ঘটনায় অংশ নেওয়ার পর কারাদণ্ড ভোগ করেন। ২০২৫ সালে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ক্ষমার আওতায় তিনি মুক্তি পান। এরপর তিনি ডানপন্থী ও ইসলামবিরোধী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত হয়ে বিভিন্ন জায়গায় বিক্ষোভ আয়োজন করে আসছেন।
ডিয়ারবর্নের পুলিশ জানিয়েছে, ল্যাংয়ের বক্তব্য দেওয়ার সাংবিধানিক অধিকার রয়েছে। তাদের মূল লক্ষ্য ছিল মতপ্রকাশের অধিকার বজায় রেখেই সম্ভাব্য সংঘাত এড়ানো এবং অংশগ্রহণকারী ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। এ জন্য স্থানীয় পুলিশের পাশাপাশি মিশিগান স্টেট পুলিশ, ওয়েইন কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়সহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নিরাপত্তা ব্যবস্থায় যুক্ত করা হয়।
ল্যাংয়ের সঙ্গে অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার কথা ছিল ডেট্রয়েটের যাজক ও ট্রাম্প সমর্থক লরেঞ্জো সেওয়েলেরও। সেওয়েল দাবি করেন, তিনি ইসলামবিরোধী নন; বরং ডিয়ারবর্নে ব্যবসা ও অর্থনৈতিক সুযোগের ক্ষেত্রে কৃষ্ণাঙ্গ আমেরিকানদের জন্য সমান সুযোগের প্রশ্ন তুলতেই তিনি ল্যাংয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন।
তবে শহরের কর্মকর্তারা শুরু থেকেই সতর্ক করে আসছিলেন, বাইরের বিক্ষোভকারীদের উপস্থিতি স্থানীয় পরিবেশকে উত্তপ্ত করে তুলতে পারে। ডিয়ারবর্ন পুলিশ ও মিশিগানের আমেরিকান-ইসলামিক সম্পর্কবিষয়ক কাউন্সিলের মিশিগান শাখাও বাসিন্দাদের বৈঠক এড়িয়ে চলার আহ্বান জানিয়েছিল।
মঙ্গলবারের ঘটনাকে ঘিরে ডিয়ারবর্নে বিপুল সংখ্যক বিক্ষোভকারী, পুলিশ ও সংবাদকর্মীর উপস্থিতি দেখা যায়। স্থানীয় প্রশাসনের মূল লক্ষ্য ছিল দুই পক্ষের মুখোমুখি অবস্থান থেকে বড় ধরনের সংঘাত এড়ানো।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreনবজাতক সন্তানকে বুকে বেঁধে গভীর রাতে জিমে গিয়ে ব্যায়াম করার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের মা ও ইনফ্লুয়েন্সার অ্যাঞ্জেলা হোলম। ভিডিওতে তাকে শিশুকে সঙ্গে নিয়ে ট্রেডমিলে হাঁটা এবং ওজন তোলার ব্যায়াম করতে দেখা যায়। ঘটনাটি নিয়ে কেউ শিশুর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন, আবার কেউ প্রসবের পর নিজের শরীর ও মানসিক সুস্থতার জন্য সময় বের করার প্রশংসা করেছেন। ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, রাত ৯টার পর হোলম একটি নির্জন পার্কিং এলাকা দিয়ে শিশুকে নিয়ে জিমে প্রবেশ করেন। পরে শিশুটিকে বুকে বিশেষ ক্যারিয়ারে বেঁধে ট্রেডমিলে হাঁটতে এবং অন্যান্য ব্যায়াম করতে দেখা যায়। ভিডিওটি ২ দশমিক ২ মিলিয়নের বেশি বার দেখা হয়েছে বলে নিউইয়র্ক পোস্ট জানিয়েছে। হোলম পাঁচ সন্তানের মা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মাতৃত্ব ও পারিবারিক জীবন নিয়ে নিয়মিত ভিডিও প্রকাশ করেন। ভাইরাল ভিডিওতে ব্যবহৃত শিশুবহনকারী ক্যারিয়ারটি তার নিজের তৈরি ও বিক্রি করা পণ্য বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তার অনলাইন অ্যাকাউন্টগুলোতেও মাতৃত্ব, সন্তানদের যত্ন এবং দৈনন্দিন জীবনের নানা বিষয় নিয়ে নিয়মিত কনটেন্ট প্রকাশ করা হয়। তবে ভিডিওটি প্রকাশের পর অনেক দর্শক শিশুকে সঙ্গে নিয়ে ট্রেডমিলে ব্যায়াম করাকে ঝুঁকিপূর্ণ বলে মন্তব্য করেন। তাদের আশঙ্কা, ব্যায়ামের সময় মা হঠাৎ ভারসাম্য হারিয়ে পড়ে গেলে শিশুটিও গুরুতরভাবে আহত হতে পারে। বিশেষ করে ট্রেডমিল, ওজন তোলার সরঞ্জাম ও জিমের অন্যান্য যন্ত্রপাতির আশপাশে ছোট শিশুকে রাখার বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তারা। শিশুদের জিমে ব্যায়ামের জায়গায় রাখার ঝুঁকি নিয়ে এর আগেও সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা। যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ইনডিপেনডেন্ট হেলথ ক্লাব অ্যাসোসিয়েশন বলেছে, ব্যায়ামের জায়গায় ছোট শিশুদের জন্য পড়ে যাওয়ার ঝুঁকি, ভারী ওজন, ধারালো প্রান্ত এবং কোনো যন্ত্র নষ্ট হয়ে যাওয়ার মতো নানা বিপদ থাকতে পারে। সংস্থাটি পরামর্শ দিয়েছে, শিশুকে ব্যায়ামের যন্ত্রপাতি থেকে দূরে এবং নিরাপদ, নির্দিষ্ট জায়গায় রাখা উচিত। ট্রেডমিল নিয়ে উদ্বেগের পেছনে বাস্তব ঘটনাও রয়েছে। বার্মিংহাম চিলড্রেনস হাসপাতাল এনএইচএস ফাউন্ডেশন ট্রাস্টের গবেষকেরা ট্রেডমিল ব্যবহারের সময় শিশুদের আহত হওয়ার ঘটনা বিশ্লেষণ করেছিলেন। গবেষণায় ২৯ শিশুর ট্রেডমিল-সম্পর্কিত আঘাতের ঘটনা পাওয়া যায়। এসব আঘাতের মধ্যে গভীর পোড়া ও দাগের মতো গুরুতর ক্ষতও ছিল। গবেষকেরা বলেছিলেন, এ ধরনের দুর্ঘটনা প্রতিরোধযোগ্য এবং শিশুদের ট্রেডমিলের কাছাকাছি যাওয়ার সুযোগ কমানো প্রয়োজন। তবে হোলমের ভিডিও নিয়ে প্রতিক্রিয়া একতরফা ছিল না। অনেক মা ও অনুসারী তার পক্ষেও কথা বলেছেন। তাদের কেউ কেউ বলেছেন, সন্তান জন্মের পর শরীরচর্চা তাদের মানসিকভাবে ভালো থাকতে সাহায্য করেছে। কেউ কেউ নিজেদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলেছেন, সন্তানকে সঙ্গে নিয়েও তারা ব্যায়াম করেছেন। অন্যদিকে, কয়েকজন দর্শক প্রশ্ন তুলেছেন, শিশুটিকে দেখাশোনার জন্য পরিবারের অন্য কেউ থাকলে তাকে সঙ্গে নিয়ে জিমে যাওয়ার প্রয়োজন ছিল কি না। কেউ কেউ আবার রাতের বেলায় এমন ব্যায়াম করার সিদ্ধান্ত নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। ফলে ভিডিওটি শুধু শিশুর নিরাপত্তা নয়, সন্তান জন্মের পর মায়েদের নিজের জন্য সময় বের করা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যক্তিগত জীবন প্রকাশ এবং অন্যদের বিচার করার প্রবণতা নিয়েও নতুন আলোচনা তৈরি করেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হোলমের এই ভিডিওকে কেন্দ্র করে মূল বিতর্ক এখন নিরাপত্তা বনাম ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তকে ঘিরে। সন্তান জন্মের পর নিয়মিত শরীরচর্চা মায়েদের শারীরিক ও মানসিক সুস্থতার জন্য উপকারী হতে পারে। তবে শিশুকে সঙ্গে নিয়ে ট্রেডমিল বা ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহারের ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতার প্রয়োজন রয়েছে বলে নিরাপত্তা-সংক্রান্ত নির্দেশনাগুলোতে জোর দেওয়া হয়েছে। ঘটনাটি আবারও দেখিয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একজন মায়ের দৈনন্দিন জীবনের কয়েক সেকেন্ডের ভিডিওও কীভাবে মুহূর্তে লাখো মানুষের আলোচনার বিষয় হয়ে উঠতে পারে। একই সঙ্গে ভাইরাল হওয়ার আগে এমন ভিডিওতে থাকা সম্ভাব্য নিরাপত্তাঝুঁকি নিয়ে সচেতনতার প্রয়োজনীয়তাও সামনে এসেছে।
সন্তানদের নিতে এসে ফিরলেন লাশ হয়ে, টেক্সাসে স্বামীর হাতে স্ত্রীর মর্মান্তিক পরিণতি
যুক্তরাষ্ট্রে ইসলামবিরোধী বিক্ষোভ ঘিরে উত্তেজনা, সংঘর্ষে জড়াল দুই পক্ষ
ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের ক্ষতিকর ফিচার বাতিলের দাবিতে মেটার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ২৯ অঙ্গরাজ্যের মামলা
মুদি পণ্যের ক্রমবর্ধমান দামের চাপে যুক্তরাষ্ট্রের মানুষের বাজার করার ধরন দ্রুত বদলে যাচ্ছে। একসময় পছন্দের ব্র্যান্ড বা প্রয়োজনের তালিকা ধরে কেনাকাটা করলেও এখন অনেকেই ভাবছেন, একই টাকায় কীভাবে বেশি খাবার তৈরি করা যায়। নতুন এক জরিপে দেখা গেছে, ১০০ ডলার দিয়ে মুদি দোকান থেকে কতটা খাবার কেনা সম্ভব, সে বিষয়ে অধিকাংশ আমেরিকানের ধারণা বাস্তবতার চেয়ে বেশি। ইডাহো পটেটো কমিশনের পৃষ্ঠপোষকতায় টকার রিসার্চ পরিচালিত ২ হাজার মার্কিন প্রাপ্তবয়স্কের ওপর করা জরিপে দেখা গেছে, মানুষ ১০০ ডলারের ক্রয়ক্ষমতা বাস্তবের তুলনায় প্রায় দুই বেলা খাবার বেশি বলে অনুমান করছেন। জরিপের ফলাফল বলছে, বাড়তে থাকা খাদ্যপণ্যের দাম শুধু মানুষের বাজেটেই চাপ তৈরি করছে না, বরং তারা কী কিনছেন, কীভাবে রান্না করছেন এবং খাবার কত দিন ব্যবহার করছেন, সেসব সিদ্ধান্তেও বড় পরিবর্তন আনছে। জরিপে অংশ নেওয়া ৩১ শতাংশ মানুষ জানিয়েছেন, এক বছর আগের তুলনায় তারা এখন বাড়িতে অনেক বেশি রান্না করছেন। একই সময়ে ২৬ শতাংশ মানুষ এমন উপাদান কেনাকে অগ্রাধিকার দিচ্ছেন, যেগুলো দিয়ে একাধিক ধরনের খাবার তৈরি করা যায়। অর্থাৎ একটি উপকরণ দিয়ে কয়েকটি বেলার খাবার তৈরি করে খরচ কমানোর চেষ্টা করছেন তারা। শুধু নিম্ন আয়ের পরিবার নয়, খাদ্যের বাড়তি দাম নিয়ে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে তুলনামূলক বেশি আয় করা পরিবারগুলোর মধ্যেও। ঋণ ও ব্যক্তিগত অর্থ ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান লেন্ডিংট্রির ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এর জরিপে ২ হাজার মার্কিন ভোক্তার মধ্যে ৪৯ শতাংশ বলেছেন, খাবারের খরচ বহন করা তাদের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে। মাত্র ২২ শতাংশ জানিয়েছেন, খাবারের খরচ নিয়ে তাদের কোনো অসুবিধা নেই। উচ্চ আয়ের মানুষের মধ্যেও পরিস্থিতি স্বস্তিদায়ক নয়। বছরে এক লাখ ডলারের বেশি আয় করা পরিবারের ৫৭ শতাংশ মানুষ জানিয়েছেন, গত এক মাসে মুদি পণ্যের খরচ মেটানো নিয়ে তাদের উদ্বেগ হয়েছে। লেন্ডিংট্রির ওই জরিপটি ৪ থেকে ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত পরিচালিত হয়। নতুন জরিপে মুদি বাজেটের সবচেয়ে বড় অংশ কোন পণ্যে যাচ্ছে, সেটিও উঠে এসেছে। ৬০ শতাংশ উত্তরদাতা মাংস ও পোলট্রিকে তাদের বাজার খরচের বড় অংশ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। এরপর রয়েছে দুগ্ধজাত পণ্য ও ডিম, যা ৩০ শতাংশ মানুষ উল্লেখ করেছেন। ফ্রোজেন বা প্রস্তুত খাবারের কথা বলেছেন ২২ শতাংশ। বাড়তি দামের মধ্যে খাবারের অপচয় কমানোও এখন ক্রেতাদের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। জরিপে ৭৩ শতাংশ মানুষ বলেছেন, বাজার করার সময় খাদ্য অপচয় কমানো তাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। ৭২ শতাংশ পণ্যের দীর্ঘস্থায়িত্ব বা কত দিন ভালো থাকবে, সেটিকে গুরুত্ব দিচ্ছেন। আর ৭১ শতাংশ মানুষ দামের তুলনায় পণ্যের পুষ্টিগুণ বিবেচনা করছেন। একই সঙ্গে ক্রেতারা এমন উপাদান খুঁজছেন, যেগুলো দিয়ে একাধিক খাবার তৈরি করা যায়। ৬০ শতাংশ মানুষ জানিয়েছেন, তারা এমন উপাদানকে কেন্দ্র করে খাবারের পরিকল্পনা করেন, যেগুলো বিভিন্ন পদে ব্যবহার করা সম্ভব। আর ৬৩ শতাংশের কাছে কোনো উপাদান দিয়ে সকালের নাশতা, দুপুর ও রাতের খাবার তৈরি করা যায় কি না, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনা। এ ক্ষেত্রে আলু, ডিম, চাল, ডাল, পাস্তা ও টর্টিলার মতো সাধারণ উপাদানের গুরুত্ব বাড়ছে। জরিপে ৪০ শতাংশ মানুষ আলুকে তাদের সবচেয়ে বহুমুখী রান্নার উপাদান হিসেবে উল্লেখ করেছেন। ৩৭ শতাংশ জানিয়েছেন, এক বছর আগের তুলনায় তারা এখন আলুর ওপর বেশি নির্ভর করছেন। প্রায় এক-তৃতীয়াংশ মানুষ এমন কিছু খাবারও নতুন করে বিবেচনা করছেন, যেগুলো তারা আগে এড়িয়ে চলতেন। এর মধ্যে লাল মাংস, সাদা চাল, আলু ও ডিম রয়েছে। খরচ কমানোর আরেকটি বড় কৌশল হয়ে উঠছে দোকানের নিজস্ব ব্র্যান্ডের পণ্য কেনা। আর্থিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান নেটক্রেডিটের ২০২৬ সালের এক বিশ্লেষণে ওয়ালমার্ট, টার্গেট ও ক্রোগারের ১৭১টি সাধারণ খাদ্য ও পানীয় পণ্যের নামি ব্র্যান্ড এবং দোকানের নিজস্ব ব্র্যান্ডের দামের তুলনা করা হয়। এতে দেখা গেছে, কিছু পণ্যের ক্ষেত্রে দোকানের নিজস্ব ব্র্যান্ড বেছে নিলে ৫০ শতাংশেরও বেশি অর্থ সাশ্রয় করা সম্ভব। নেটক্রেডিটের বিশ্লেষণে দেখা যায়, কিছু ক্ষেত্রে পার্থক্য আরও বেশি। উদাহরণ হিসেবে ওয়ালমার্টে দোকানের নিজস্ব ব্র্যান্ডের স্পোর্টস হাইড্রেশন পানীয় নামি ব্র্যান্ডের তুলনায় গড়ে ৭৪ শতাংশ পর্যন্ত সস্তা ছিল। একইভাবে কিছু সিরিয়াল, কেচাপ, দুধ, পাস্তা ও অন্যান্য পণ্যে ৫০ শতাংশের বেশি সাশ্রয়ের সুযোগ পাওয়া গেছে। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, বাজার করার সময় শুধু কোনো পণ্যের গায়ে লেখা মোট দাম দেখলেই হবে না। একটি প্যাকেট বা উপাদান দিয়ে মোট কত বেলা খাবার তৈরি করা যাবে, অর্থাৎ প্রতি বেলার খাবারে আসলে কত খরচ পড়ছে, সেটিও হিসাব করা দরকার। কারণ তুলনামূলক বেশি দামের কোনো পণ্য যদি কয়েকটি খাবারে ব্যবহার করা যায়, তাহলে সেটিই শেষ পর্যন্ত সস্তা বিকল্প হতে পারে। খাবারের অপচয় কমাতেও পরিকল্পিত কেনাকাটার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। দ্রুত নষ্ট হয় এমন তাজা সবজি, মাংস ও দুগ্ধজাত পণ্য সপ্তাহের শুরুতেই ব্যবহার করা এবং পরে ফ্রোজেন বা দীর্ঘদিন সংরক্ষণযোগ্য পণ্য ব্যবহার করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বাজারে একই ধরনের পণ্যের দাম তুলনা করার সময় প্রতি আউন্স, প্রতি পাউন্ড বা নির্দিষ্ট পরিমাণের একক মূল্য দেখলে প্রকৃত সাশ্রয় বোঝা সহজ হয়। ইডাহো পটেটো কমিশনের প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী জেমি হাইয়াম বলেন, আমেরিকানদের মুদি কেনাকাটায় পরিবর্তন এসেছে। মানুষ শুধু কম খরচ করতে চাইছেন না, একই সঙ্গে কম খরচে কীভাবে বেশি খাবার তৈরি করা যায়, সেটিও ভাবছেন। সব মিলিয়ে, যুক্তরাষ্ট্রে মুদি পণ্যের বাড়তি দাম মানুষের দৈনন্দিন খাবারের সিদ্ধান্তেও প্রভাব ফেলছে। বাইরে খাওয়ার বদলে ঘরে রান্না, নামি ব্র্যান্ডের পরিবর্তে দোকানের নিজস্ব ব্র্যান্ড, কম অপচয় এবং একাধিক খাবারে ব্যবহার করা যায় এমন উপাদান কেনার প্রবণতা বাড়ছে। বাজারের ব্যাগে পণ্য তোলার আগে এখন অনেক আমেরিকানই হিসাব করছেন, একটি ডলারে কতটা খাবার পাওয়া যাবে এবং একটি উপাদান দিয়ে কতগুলো বেলার খাবার তৈরি করা সম্ভব।
নিউইয়র্কে ৭ বছরের শিশুপুত্রের সামনে মাকে কু পিয়ে হ ত্যা, পলাতক হাম লাকারী
আর মাত্র ৫ দিন! ভার্জিনিয়ায় মেজবানি ঘিরে ব্যাপক প্রস্তুতি, প্রথমবার বৃহত্তর ডিসি মেট্রোতে নকীব খানের সঙ্গীত
ফ্লোরিডায় ছাত্রকে যৌ ন নিপীড়নের দায়ে শিক্ষিকার ৩০ মাসের কারাদণ্ড, স্কুল বোর্ডের বিরুদ্ধেও ক্ষতিপূরণ মামলা
যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশি বাবা-মায়ের কাছে সন্তানের শিক্ষাজীবনের সাফল্য প্রবাসজীবনের অন্যতম বড় অর্জন। হাড়ভাঙা পরিশ্রম আর নতুন দেশে নিজেদের অবস্থান তৈরির পাশাপাশি তাঁদের সবচেয়ে বড় স্বপ্ন থাকে সন্তানকে উচ্চশিক্ষার সেরা সুযোগটি করে দেওয়া। আর সেই সন্তান যখন প্রিন্সটন, এমআইটি, হার্ভার্ড, স্ট্যানফোর্ড, ইয়েল, ইউনিভার্সিটি অব শিকাগো, ডিউক, জনস হপকিন্স, নর্থওয়েস্টার্ন কিংবা ইউনিভার্সিটি অব পেনসিলভানিয়ার মতো যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ ১০ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পায়, তখন সেই আনন্দ শুধু শিক্ষার্থীর মাঝেই সীমাবদ্ধ থাকে না; বরং তা পুরো পরিবারের জন্য এক অসীম গর্বের বিষয়ে পরিণত হয়। ইউএস নিউজ অ্যান্ড ওয়ার্ল্ড রিপোর্টের ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি র্যাঙ্কিং অনুযায়ী, এই দশটি প্রতিষ্ঠানই বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের শিক্ষা ব্যবস্থার শীর্ষস্থান দখল করে আছে। এই বিশ্বসেরা বিদ্যাপীঠগুলোতে ভর্তির সুযোগ পাওয়া অত্যন্ত প্রতিযোগিতামূলক। শুধুমাত্র ভালো ফলাফল থাকলেই এখানে সুযোগ নিশ্চিত হয় না; বরং বিশ্ববিদ্যালয়গুলো শিক্ষার্থীর একাডেমিক প্রস্তুতির পাশাপাশি তার সামগ্রিক প্রোফাইল, ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা, পাঠ্যক্রম বহির্ভূত কার্যক্রম এবং সুযোগের সদ্ব্যবহারের দিকগুলো গভীরভাবে মূল্যায়ন করে থাকে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের এই শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো এদের নিড-বেসড ফিন্যান্সিয়াল এইড বা আর্থিক সহায়তা ব্যবস্থা। প্রিন্সটন, হার্ভার্ড, এমআইটি এবং ইয়েল ইউনিভার্সিটির মতো প্রতিষ্ঠানগুলো ভর্তির ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীর আর্থিক সক্ষমতা বিবেচনা করে না, যাকে নিড-ব্লাইন্ড অ্যাডমিশন বলা হয়। ভর্তি হতে পারা শিক্ষার্থীদের প্রমাণিত আর্থিক প্রয়োজনের শতভাগই বিশ্ববিদ্যালয়গুলো নিজস্ব অনুদান বা গ্র্যান্টের মাধ্যমে পূরণ করে থাকে, যার ফলে শিক্ষার্থীদের কোনো বাধ্যতামূলক ঋণ বা লোন নিতে হয় না। এমনকি পরিবারের আয়ের নির্দিষ্ট সীমার ওপর ভিত্তি করে টিউশন ফি, থাকা-খাওয়া থেকে শুরু করে যাবতীয় খরচ সম্পূর্ণ ফ্রি হতে পারে। তবে ফিন্যান্সিয়াল এইড পাওয়ার ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীর ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাস বা অভিবাসন মর্যাদাও একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নিয়ামক। সন্তান যদি যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক বা গ্রিন কার্ডধারী হয়, তবে বেশিরভাগ শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়ে তাকে দেশীয় আবেদনকারী হিসেবে বিবেচনা করে নিড-ব্লাইন্ড সুবিধা দেওয়া হয়। কিন্তু আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে স্ট্যানফোর্ড, ডিউক, জনস হপকিন্স বা পেনসিলভানিয়া ইউনিভার্সিটির মতো প্রতিষ্ঠানগুলোর ফিন্যান্সিয়াল এইড চাওয়ার বিষয়টি ভর্তির সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলতে পারে। তাই উচ্চ টিউশন ফি দেখে ভয় না পেয়ে, আবেদন করার আগেই এসব বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্থিক সহায়তা নীতি ভালোভাবে বুঝে নেওয়া জরুরি। সন্তানকে শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়েই পড়াতে হবে এমন কোনো চাপ প্রয়োগ না করে, তার যোগ্যতা ও আগ্রহের সাথে মানানসই প্রতিষ্ঠান বেছে নেওয়াই সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ। তবুও, শূন্য থেকে জীবন শুরু করা একজন প্রবাসী বাবা-মায়ের কাছে সন্তানের এমন সাফল্য কেবল একটি কলেজে সুযোগ পাওয়ার খবর থাকে না, বরং তা হয়ে ওঠে বছরের পর বছর দেখা স্বপ্নের এক গৌরবময় বাস্তবায়ন।
যুক্তরাষ্ট্রে গাড়ির বিমা গ্রাহকদের ৫০০ কোটি ডলার ফেরত দিচ্ছে স্টেট ফার্ম
যুক্তরাষ্ট্রে আমলাতন্ত্রের জাঁতাকলে বছরে জনগণের ১২ বিলিয়ন ঘণ্টা অপচয়, নাম দেওয়া হয়েছে ‘টাইম ট্যাক্স’