নিউইয়র্কে বাবা-মায়েদের একান্ত সময়ের সুযোগ, মামদানির ‘পেরেন্টস নাইট আউট’-এ ৪ ঘণ্টার ফ্রি চাইল্ডকেয়ার
নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানির উদ্যোগে প্রথমবারের মতো ‘পেরেন্টস নাইট আউট’ কর্মসূচিতে চার ঘণ্টার বিনামূল্যে চাইল্ড কেয়ারের সুযোগ পেলেন শহরের বাবা-মায়েরা। ১৬ আগস্টের এই আয়োজনে ৬ থেকে ১৩ বছর বয়সী প্রায় ৩০০ শিশু বিভিন্ন বিনোদনকেন্দ্রে সময় কাটায়। আর এ সময়ে তাদের বাবা-মা ও অভিভাবকেরা কয়েক ঘণ্টার জন্য নিজেদের মতো সময় কাটানোর সুযোগ পান।
নিউইয়র্ক সিটি পার্কসের উদ্যোগে পাঁচ বরোর পাঁচটি বিনোদনকেন্দ্রে বিকেল ৪টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত চলে বিশেষ এই আয়োজন। শিশুদের জন্য ছিল রাতের খাবার, খেলাধুলা, ছবি আঁকা ও হাতের কাজ, দলীয় বিভিন্ন কার্যক্রম এবং বিনোদনের নানা ব্যবস্থা। প্রশিক্ষিত কর্মীরা পুরো সময় শিশুদের দেখাশোনা করেন।
মামদানি প্রশাসন জানিয়েছিল, কর্মসূচিটির মূল উদ্দেশ্য ছিল ব্যস্ত বাবা-মা ও অভিভাবকদের নিজেদের জন্য কিছুটা সময় বের করে দেওয়া। কেউ চাইলে সঙ্গীর সঙ্গে বাইরে খেতে যেতে পারেন, প্রয়োজনীয় কেনাকাটা করতে পারেন, বাড়িতে গিয়ে বিশ্রাম নিতে পারেন কিংবা জমে থাকা ঘরের কাজ শেষ করতে পারেন।
নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কয়েকজন অভিভাবক এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে সঙ্গীর সঙ্গে বাইরে সময় কাটিয়েছেন বা রাতের খাবার খেতে গেছেন। কেউ বাড়িতে গিয়ে বিশ্রাম নিয়েছেন, কেউ কেনাকাটা করেছেন, আবার কেউ জমে থাকা কাপড় ধোয়া বা ঘরের অন্যান্য কাজ শেষ করার সুযোগ পেয়েছেন।
শিশুদের জন্যও আয়োজনটি ছিল নানা কার্যক্রমে ভরপুর। বিভিন্ন বিনোদনকেন্দ্রে তারা খেলাধুলা, বিজ্ঞানভিত্তিক কার্যক্রম, হাতের কাজ, রোবোটিকস, বোর্ড গেমসহ নানা আয়োজনে অংশ নেয়।
এই কর্মসূচির জন্য সর্বোচ্চ ৫০০ শিশুর জায়গা রাখা হয়েছিল। ৬ থেকে ১৩ বছর বয়সী শিশুদের জন্য সেবাটি ছিল সম্পূর্ণ বিনামূল্যে। তবে আগে থেকে নিবন্ধন করা এবং নিউইয়র্ক সিটি পার্কসের বিনোদনকেন্দ্রের সদস্য হওয়া প্রয়োজন ছিল।
ব্রুকলিনের শার্লি চিশলম বিনোদনকেন্দ্র, ম্যানহাটনের হাইব্রিজ বিনোদনকেন্দ্র, কুইন্সের আল ওর্টার বিনোদনকেন্দ্র, ব্রঙ্কসের কোয়ামে টুরে বিনোদনকেন্দ্র এবং স্ট্যাটেন আইল্যান্ডের গ্রিনবেল্ট বিনোদনকেন্দ্রে আয়োজনটি অনুষ্ঠিত হয়।
মেয়রের কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, প্রথম ‘পেরেন্টস নাইট আউট’-এ প্রায় ৩০০ শিশু অংশ নেয়। কর্মসূচিটির মাধ্যমে পরিবারগুলোর জন্য শিশুদের বিনোদন ও বিভিন্ন কার্যক্রমের সুযোগ তৈরি করার পাশাপাশি বাবা-মায়েদের দৈনন্দিন ব্যস্ততা থেকে কয়েক ঘণ্টার বিরতিও দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে।
নিউইয়র্কের মতো ব্যস্ত শহরে সন্তানদের দেখাশোনার দায়িত্বের কারণে অনেক বাবা-মায়ের জন্য নিজেদের জন্য আলাদা সময় বের করা কঠিন। সেই বাস্তবতায় বিনামূল্যে কয়েক ঘণ্টার চাইল্ড কেয়ারের এই উদ্যোগ তাদের কিছুটা স্বস্তি ও ব্যক্তিগত সময় দেওয়ার একটি নতুন ব্যবস্থা হিসেবে সামনে এসেছে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreফ্লোরিডায় বাড়ির মালিকদের বড় উদ্বেগ এখন প্রপার্টি ট্যাক্সের চেয়ে হোম ইন্স্যুরেন্স। ইউনিভার্সিটি অব নর্থ ফ্লোরিডার এক জরিপে ৬৩ শতাংশ বাড়ির মালিক ইন্স্যুরেন্সকে বেশি উদ্বেগের কারণ বলেছেন। প্রপার্টি ট্যাক্সের কথা বলেছেন ৩৬ শতাংশ। নভেম্বরে প্রপার্টি ট্যাক্স কমানোর প্রস্তাব নিয়ে ভোটের আগে এই ফল প্রকাশিত হলো। বিশ্ববিদ্যালয়টির পাবলিক ওপিনিয়ন রিসার্চ ল্যাব ১৬ থেকে ৩১ জুলাই পর্যন্ত ফ্লোরিডার ১ হাজার ৫১১ জন বাড়ির মালিকের ওপর অনলাইনে জরিপটি চালায়। অংশগ্রহণকারীদের প্রত্যেকের বাড়ির ইন্স্যুরেন্স ছিল। তাই ফলটি ইন্স্যুরেন্স থাকা বাড়ির মালিকদের অভিজ্ঞতা ও মতামত তুলে ধরে। জরিপে রাজ্যের বিভিন্ন অঞ্চল ও প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর সমর্থকদের মধ্যেও ইন্স্যুরেন্স নিয়ে উদ্বেগ বেশি দেখা গেছে। শুধু প্রিমিয়ামের খরচ নয়, ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি বদলানোর অভিজ্ঞতাও উঠে এসেছে জরিপে। অংশগ্রহণকারীদের ৫৪ শতাংশ জানিয়েছেন, গত পাঁচ বছরে তাঁরা অন্তত একবার কোম্পানি বদলেছেন। যাঁরা বদলেছেন, তাঁদের মধ্যে ৪৭ শতাংশ বলেছেন, আগের কোম্পানি তাঁদের পলিসি বন্ধ করে দিয়েছে অথবা কোম্পানিটি ফ্লোরিডায় কার্যক্রম বন্ধ করেছে। একই বাড়িতে অন্তত পাঁচ বছর ধরে বসবাস করছেন এমন মালিকদের ৪৭ শতাংশের ভাষ্য, ওই সময়ে তাঁদের বার্ষিক ইন্স্যুরেন্স প্রিমিয়াম অন্তত ৫০ শতাংশ বেড়েছে। গত পাঁচ বছরে ইন্স্যুরেন্স ক্লেইম করেছেন এমন ২৬১ জনের মধ্যে ৪৫ শতাংশ বলেছেন, তাঁদের ক্লেইম প্রথমে প্রত্যাখ্যান করা হয়েছিল। জরিপে পাওয়া এসব তথ্য অংশগ্রহণকারীদের দেওয়া উত্তরভিত্তিক। ইন্স্যুরেন্স পরিস্থিতি শিগগির সহজ হবে বলেও বেশির ভাগ অংশগ্রহণকারী মনে করছেন না। জরিপে ৫৫ শতাংশ বলেছেন, বাজারের উন্নতির কোনো লক্ষণ তাঁরা দেখছেন না; আরও ২৬ শতাংশের ধারণা, পরিস্থিতি খারাপ হচ্ছে। অন্যদিকে ১৮ শতাংশ মনে করেন, বাজারের উন্নতি হচ্ছে এবং প্রিমিয়াম কমতে পারে। ফ্লোরিডায় আগামী ৩ নভেম্বরের ভোটে ‘অ্যামেন্ডমেন্ট ৩’ নামে প্রপার্টি ট্যাক্সসংক্রান্ত একটি প্রস্তাবও রয়েছে। প্রস্তাবটি পাস হলে নিজের প্রধান বাসস্থান হিসেবে ব্যবহৃত বাড়ির ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট করছাড় বাড়বে। তবে জরিপের ফল বলছে, কর নিয়ে এই আলোচনা চললেও অংশগ্রহণকারী বাড়ির মালিকদের কাছে ইন্স্যুরেন্সই বেশি উদ্বেগের বিষয়।
নিউ জার্সিতে ভিডিও কলে সাজানো এফবিআই অফিস দেখিয়ে প্রতারণার নতুন কৌশল নিয়ে সতর্কতা
দাম্পত্য কলহের পর চ্যাটজিপিটির পরামর্শ নিলেন স্বামী, ধীরে ধীরে বদলালো স্ত্রীর মনোভাব
মেডিকেয়ারের ৯০ ডলার ব্যাংকে বা চেকে পাচ্ছেন ২ কোটির বেশি, বাদ পড়ছেন প্রায় ৪ কোটি
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় আইসিইবিরোধী বিক্ষোভকারীদের তদন্ত করতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পক্ষ থেকে এফবিআইকে চাপ দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ করেছেন সংস্থাটির সাবেক কর্মকর্তা জিল ফিল্ডস। ২০২৫ সালের ঘটনার বিষয়ে তাঁর দেওয়া অভিযোগ ৬ অক্টোবর প্রকাশ করেছেন ডেমোক্র্যাট সিনেটর অ্যালেক্স পাডিয়া। অভিযোগটি ঘিরে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের তদন্ত করার ভিত্তি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। লস অ্যাঞ্জেলেসে এফবিআইয়ের সাবেক তত্ত্বাবধায়ক গোয়েন্দা বিশ্লেষক ফিল্ডসের অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে আলহামব্রা এলাকায় অভিবাসন কর্মকর্তাদের উপস্থিতি সম্পর্কে বাসিন্দাদের সতর্ক করছিলেন কয়েকজন বিক্ষোভকারী। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো তাঁদের একটি ভিডিও ট্রাম্প দেখার পর বিক্ষোভকারীদের তদন্ত ও গ্রেপ্তার করতে চেয়েছিলেন বলে ফিল্ডসকে জানানো হয়। তাঁর অভিযোগে বলা হয়েছে, হোয়াইট হাউস থেকে এফবিআই পরিচালক কাশ প্যাটেলের মাধ্যমে তদন্তের নির্দেশ আসে। অভিযোগপত্র অনুযায়ী, ভিডিওটি নিয়ে প্রাথমিক যাচাইয়ের পর এফবিআইয়ের সংশ্লিষ্ট দল সিদ্ধান্ত নেয়, ভিডিও করা, মেগাফোন ব্যবহার ও মৌখিক প্রতিবাদ গ্রেপ্তারে বাধা দেওয়ার পর্যায়ে যায়নি। দলটি তদন্ত না খোলার সুপারিশ করেছিল। ফিল্ডস জানিয়েছেন, পরে তাঁকে বিষয়টি থেকে সরিয়ে দেওয়ায় আনুষ্ঠানিক তদন্ত শেষ পর্যন্ত খোলা হয়েছিল কি না, তা তিনি জানেন না। ফিল্ডস আরও অভিযোগ করেছেন, এর আগে লস অ্যাঞ্জেলেসের ফেডারেল ভবনগুলোর সামনে আইসিই ও সীমান্ত কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে বিক্ষোভকারীদের বিষয়ে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছিলেন তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এমিল বোভ। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ওই বিক্ষোভগুলোর বিষয়ে এফবিআই একটি মূল্যায়ন কার্যক্রম শুরু করে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কর্মকাণ্ড পর্যবেক্ষণ করে। কোনো অপরাধ বা নিরাপত্তা হুমকির তথ্য ছাড়াই এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল বলে ফিল্ডসের দাবি। সিনেটর পাডিয়া এফবিআই পরিচালক ও অ্যাটর্নি জেনারেলের কাছে এসব কার্যক্রমের ভিত্তি, পরিধি এবং কোনো বিক্ষোভকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল কি না, সে বিষয়ে জবাব চেয়েছেন। এনবিসি নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, তাদের মন্তব্যের অনুরোধে এফবিআই ও বিচার বিভাগ তাৎক্ষণিক সাড়া দেয়নি। ফিল্ডসের অভিযোগগুলো এখনো স্বাধীন তদন্তে প্রমাণিত হয়নি।
যুক্তরাষ্ট্রে তথ্য গোপনের দায়ে ৪০ জনের নাগরিকত্ব বাতিল চেয়ে বিচার বিভাগের মামলা
ফ্লোরিডায় স্লাইডে খেলতে গিয়ে জামা আটকে শ্বাসরোধ, হাসপাতালে এক সপ্তাহ পর মৃ ত্যু ১৩ বছরের ওলভিনের
ইরান যুদ্ধে নিহত সেনাদের পরিবারকে নিয়ে ট্রাম্পের আয়োজন, যোগ দেননি অধিকাংশ স্বজন
নিউইয়র্কের কুইন্সে গত তিন দিন ধরে নিখোঁজ রয়েছেন বাংলাদেশি কমিউনিটির পরিচিত মুখ কাজী আজিজুল হক খোকন। দীর্ঘদিন ধরে জ্যাকসন হাইটস এলাকায় বসবাস ও কাজের সুবাদে পরিচিত খোকনের হঠাৎ নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় তাঁর স্বজন, পরিচিতজন এবং বাংলাদেশি কমিউনিটির মানুষের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ৬ অক্টোবর প্রকাশিত একাধিক স্থানীয় প্রতিবেদনে তাঁর নিখোঁজের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, খোকন কুইন্সের কিউ গার্ডেনস এলাকায় একাই বসবাস করতেন। প্রায় ৩০ বছর আগে যুক্তরাষ্ট্রে আসা তাঁর দেশের বাড়ি মাগুরা জেলায়। জ্যাকসন হাইটসের খামারবাড়ি গ্রোসারি ও নবান্ন রেস্টুরেন্টের পাশের অবকাশ স্টোরে তিনি কাজ করতেন। দীর্ঘদিন ধরে এলাকাটিতে নিয়মিত চলাফেরা করায় বাংলাদেশি কমিউনিটির অনেকের কাছেই তিনি পরিচিত মুখ। গত তিন দিন ধরে খোকন কর্মস্থলেও যাননি। সাধারণত নিয়মিত কাজে উপস্থিত থাকা একজন পরিচিত ব্যক্তির হঠাৎ অনুপস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হলে তাঁর পরিচিতজনেরা খোঁজ শুরু করেন। পরে তাঁর কিউ গার্ডেনসের বাসায়ও পুলিশ যায় বলে সংশ্লিষ্টদের বরাতে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে। প্রতিবেদনগুলোতে বলা হয়েছে, পুলিশ বাসার দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেও খোকনের সন্ধান পায়নি। তবে তিনি কীভাবে নিখোঁজ হলেন, কোথায় থাকতে পারেন কিংবা তাঁর সঙ্গে কী ঘটেছে, সে বিষয়ে এখন পর্যন্ত নিশ্চিত কোনো তথ্য প্রকাশিত হয়নি। খোকনের রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডেও সম্পৃক্ততার তথ্য রয়েছে। বিভিন্ন প্রকাশ্য প্রতিবেদনে তাঁকে যুক্তরাষ্ট্র জাতীয় শ্রমিক লীগের সভাপতি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। মাগুরা জেলা সোসাইটির সঙ্গেও তাঁর সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া যায়। ২০২৪ সালের একটি প্রকাশ্য তালিকায় তাঁকে মাগুরা জেলা সোসাইটির সভাপতি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল। তাঁর নিখোঁজের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর পরিচিতজন ও কমিউনিটির সদস্যরা বিভিন্নভাবে তাঁর সন্ধান নেওয়ার চেষ্টা করছেন। যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা ডা. মাসুদুজ্জামান বিভিন্ন হাসপাতালে খোঁজ নিয়েছেন বলেও স্থানীয় প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো হাসপাতাল থেকে তাঁর অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। এদিকে খোকনের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনাকে ঘিরে কমিউনিটিতে নানা ধরনের আলোচনা ও গুঞ্জন ছড়িয়েছে। কেউ কেউ ধারণা করছেন, তিনি হয়তো ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট বা আইসিইর হেফাজতে থাকতে পারেন। তবে আইসিইর হাতে তাঁকে আটক করা হয়েছে এমন কোনো সরকারি নিশ্চিত তথ্য এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। ফলে বিষয়টি আপাতত আশঙ্কা বা গুঞ্জনের মধ্যেই রয়েছে। প্রকাশিত প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, তাঁর পরিচিতজনেরা কর্মস্থলের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গেও যোগাযোগের চেষ্টা করেছেন। কিন্তু খোকনের বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। প্রায় তিন দশক ধরে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করা এই পরিচিত বাংলাদেশির হঠাৎ নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় স্বজন ও কমিউনিটির মানুষ দ্রুত তাঁর সন্ধান পাওয়ার প্রত্যাশা করছেন। এখন পর্যন্ত কাজী আজিজুল হক খোকনের নিখোঁজের কারণও স্পষ্ট নয়। তাঁর সন্ধান পাওয়া গেলে কিংবা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার পক্ষ থেকে নতুন কোনো তথ্য প্রকাশ হলে ঘটনাটির প্রকৃত চিত্র আরও পরিষ্কার হবে। ততক্ষণ পর্যন্ত তাঁর আটক, অপহরণ বা অন্য কোনো ঘটনার শিকার হওয়ার বিষয়ে কোনো অনুমানকে নিশ্চিত তথ্য হিসেবে প্রচার না করাই দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার অংশ।
নিউইয়র্কে চালক গাড়ি ফেলে উধাও, মালিকের ঘাড়ে ৪৫ হাজার ডলারের টোল-ভায়োলেশন
সরকারি অর্থ আত্মসাৎ করে বাড়ি ও সোনা, বাজেয়াপ্ত হচ্ছে সাবেক সিআইএ কর্মকর্তার ১৯ কোটি ডলারের সম্পদ