ট্রাম্পের নাতনির পিছু নিয়েছেন এক যুবক, নিরাপত্তার ভয়ে দিন কাটছে ১৯ বছর বয়সী কাইয়ের
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ১৯ বছর বয়সী নাতনি কাই ট্রাম্পের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তাকে এক ব্যক্তি বারবার বিরক্ত ও অনুসরণ করছেন বলে অভিযোগ করেছেন কাই। এ ঘটনায় আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার পর ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার আদেশ পেয়েছেন তিনি।
ডোনাল্ড ট্রাম্প জুনিয়রের বড় মেয়ে কাইয়ের আবেদনের পর ২৬ বছর বয়সী গ্যাব্রিয়েল গারজা জুনিয়রের বিরুদ্ধে এই আদেশ জারি করা হয়। মার্কিন সংবাদমাধ্যম টিএমজেডের প্রতিবেদন অনুযায়ী, কাইয়ের অভিযোগের পর এপ্রিল মাসে প্রথমে সাময়িক নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছিল। পরে মে মাসে আদালত সেই আদেশ বাড়িয়ে ২০২৭ সালের মে পর্যন্ত কার্যকর রাখে।
আদালতের আদেশ অনুযায়ী, গারজা কাইয়ের বাসস্থান, কর্মস্থল বা তিনি যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়বেন তার ৫০০ ফুটের মধ্যে যেতে পারবেন না। কাই যেসব অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন, সেখানেও তার উপস্থিতি নিষিদ্ধ করা হয়েছে। পাশাপাশি তাকে কাইকে অনুসরণ, অনলাইনে হয়রানি বা তার শারীরিক ক্ষতির কারণ হতে পারে এমন কোনো অপরাধ থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া আদালতের আদেশে ওই ব্যক্তির আগ্নেয়াস্ত্র রাখার ওপরও নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। কাইয়ের আবেদনের ভিত্তিতেই তার নিরাপত্তার জন্য এসব বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।
কাই সম্প্রতি উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা শেষ করেছেন। শরৎ মৌসুমে মায়ামি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে তার। নতুন শিক্ষাজীবন শুরুর আগে নিরাপত্তা নিয়ে এমন উদ্বেগ তৈরি হওয়ায় আদালতের এই আদেশ তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ সুরক্ষা ব্যবস্থা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
তবে কাইয়ের জন্য এ ধরনের নিরাপত্তা উদ্বেগ এবারই প্রথম নয়। ২০২৫ সালের জুনেও তাকে ঘিরে একটি ঘটনা সামনে এসেছিল। ওই সময় টেক্সাসের ২৩ বছর বয়সী অ্যান্থনি রেয়েস ফ্লোরিডার মার-এ-লাগো এলাকায় ট্রাম্প পরিবারের সম্পত্তির সীমানার দেয়াল টপকে ভেতরে প্রবেশ করেছিলেন বলে অভিযোগ ওঠে।
মার্কিন সিক্রেট সার্ভিসের এক মুখপাত্র সে সময় জানিয়েছিলেন, ওই ব্যক্তি নিরাপত্তা বেষ্টনী অতিক্রম করার পর অ্যালার্ম সক্রিয় হয়। পরে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এনবিসি নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, রেয়েস পুলিশকে জানিয়েছিলেন যে তিনি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কাছে ধর্মীয় বার্তা পৌঁছাতে এবং কাইকে বিয়ে করতে চেয়েছিলেন।
ট্রাম্প পরিবারের সদস্য হওয়ার কারণে কাই এর আগেও জনসমক্ষে অস্বস্তিকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হওয়ার কথা জানিয়েছেন। লোগান পলের ‘ইমপলসিভ’ পডকাস্টে এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, একবার জনসমক্ষে একজন ব্যক্তি তার কাছে এসে তার দাদাকে অপছন্দ করার কথা জানিয়েছিলেন।
কাই আরও বলেন, ট্রাম্প পরিবারের সদস্য হওয়ায় অনেকে তাকে ব্যক্তিগতভাবে না চিনেও বিচার করেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, শুধু পদবি দেখে কেউ তাকে মূল্যায়ন না করে ব্যক্তিগতভাবে জানার সুযোগ দিলে পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারে।
এদিকে ট্রাম্প পরিবারের আরও কয়েকজন সদস্য সাম্প্রতিক সময়ে নিরাপত্তা উদ্বেগের মুখে পড়েছেন। ট্রাম্পের ছোট ছেলে ব্যারন ট্রাম্পকেও ২০২৬ সালে হুমকি দেওয়ার অভিযোগে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়। ২৯ বছর বয়সী ওই ব্যক্তি ব্যারনকে খুঁজে বের করে হামলা করার হুমকি দিয়েছিলেন বলে অভিযোগ ওঠে। পরে সিক্রেট সার্ভিসের সদস্যরা তাকে শনাক্ত করেন এবং ৩ এপ্রিল গ্রেপ্তার করা হয়।
ট্রাম্প পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ গত কয়েক বছর ধরেই বাড়ছে। বিশেষ করে ২০২৪ সালে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে লক্ষ্য করে দুটি হত্যাচেষ্টার পর তার পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিয়েও আলোচনা জোরালো হয়। মার-এ-লাগোসহ ট্রাম্প পরিবারের বিভিন্ন সম্পত্তিতে অনুপ্রবেশের ঘটনাও এর আগে ঘটেছে।
কাই ট্রাম্প বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচিত মুখ। গলফ খেলোয়াড় হিসেবেও তার পরিচিতি রয়েছে। ২০২৪ সালের রিপাবলিকান জাতীয় সম্মেলনে বক্তব্য দেওয়ার পর রাজনৈতিক অঙ্গনেও তিনি ব্যাপকভাবে আলোচিত হন। ফলে জনসমক্ষে তার উপস্থিতি আগের তুলনায় বেড়েছে।
সাম্প্রতিক আদালতের আদেশ অনুযায়ী, গ্যাব্রিয়েল গারজা জুনিয়রকে ২০২৭ সালের মে পর্যন্ত কাইয়ের কাছ থেকে নির্দিষ্ট দূরত্ব বজায় রাখতে হবে। তবে আদালতে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর সব বিস্তারিত প্রকাশ্যে আসেনি। তাই অভিযোগগুলোকে প্রমাণিত অপরাধ হিসেবে নয়, কাইয়ের করা অভিযোগ এবং তার ভিত্তিতে জারি হওয়া আদালতের সুরক্ষা আদেশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreইউনিভার্সিটি অব মেরিল্যান্ড, বাল্টিমোরের স্কুল অব ফার্মেসির শিক্ষক ড. বেরহানু কিবরেট এখনো ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট বা আইসিইর হেফাজতে রয়েছেন। ইমিগ্রেশন জজ তার বন্ডে মুক্তির আবেদন নাকচ করায় ইমিগ্রেশন মামলা চলাকালে তাকে হেফাজতেই থাকতে হবে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, তাকে ওকলাহোমার ডায়মন্ডব্যাক ডিটেনশন ফ্যাসিলিটিতে রাখা হয়েছে। কিবরেটকে গত ২১ জুলাই ডালাস-ফোর্ট ওয়ার্থ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আইসিই আটক করে। তিনি একটি পেশাগত সম্মেলনে অংশ নেওয়ার পর মেরিল্যান্ডে ফিরছিলেন। ইউনিভার্সিটি অব মেরিল্যান্ড জানিয়েছে, ওই সম্মেলনে তিনি ‘টিচার অব দ্য ইয়ার’ পুরস্কারে সম্মানিত হয়েছিলেন। ড. কিবরেট ২০২৩ সালে ইউনিভার্সিটি অব মেরিল্যান্ড, বাল্টিমোরের স্কুল অব ফার্মেসিতে যোগ দেন। এর আগে তিনি উইলিয়াম প্যাটারসন ইউনিভার্সিটিতে পোস্টডক্টরাল গবেষক হিসেবে কাজ করেছেন। বিশ্ববিদ্যালয় তাকে একজন মূল্যবান শিক্ষক ও সহকর্মী হিসেবে বর্ণনা করেছে। তার ইমিগ্রেশন অবস্থান নিয়ে ফেডারেল কর্তৃপক্ষ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের বক্তব্যে পার্থক্য রয়েছে। ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি জানিয়েছে, কিবরেট ২০২১ সালের জুনে একটি ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেন এবং ওই ভিসার মেয়াদ ২০২৪ সালের ৩১ মে শেষ হওয়ার পরও তিনি যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করেন। তার বিরুদ্ধে ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানের অভিযোগ আনা হয়েছে। অন্যদিকে ইউনিভার্সিটি অব মেরিল্যান্ড জানিয়েছে, কিবরেটের বৈধ ওয়ার্ক অথরাইজেশন ছিল। বিশ্ববিদ্যালয় তার হেফাজত নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। বন্ডের শুনানিতে কিবরেটের আইনজীবী তাকে ইমিগ্রেশন মামলা চলাকালে মুক্তি দেওয়ার আবেদন করেন। তবে বিচারক সেই আবেদন নাকচ করেছেন। ফলে মামলার পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া চলার সময় তিনি হেফাজতেই থাকবেন। বন্ড নাকচ হওয়া মানেই কিবরেট তার ইমিগ্রেশন মামলা হেরে গেছেন, এমন নয়। এর অর্থ হলো, মামলার বর্তমান পর্যায়ে আদালত তাকে হেফাজত থেকে মুক্তি দেওয়ার পরিবর্তে আটক রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তার ইমিগ্রেশন মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি এখনো হয়নি। ইউনিভার্সিটি অব মেরিল্যান্ডের স্কুল অব ফার্মেসির ডিন ড. সারাহ এল. জে. মিশেল বলেন, কিবরেটের বন্ড আবেদন নাকচ হওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয় হতাশ এবং তার কল্যাণ নিয়ে উদ্বিগ্ন। একই সঙ্গে তার হেফাজতের কারণে আসন্ন শিক্ষাবর্ষে শিক্ষার্থীদের ওপর সম্ভাব্য প্রভাবও বিশ্ববিদ্যালয় মূল্যায়ন করছে। কিবরেটের মামলা এখনো আইনি প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে। তার হেফাজত অব্যাহত থাকবে কি না এবং শেষ পর্যন্ত তার ইমিগ্রেশন মামলার কী পরিণতি হবে, তা পরবর্তী আদালতের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে।
ডলার স্টোরের খাবার নিয়ে সতর্কবার্তা, গবেষণায় নতুন তথ্য সাশ্রয়ী খাবারের আড়ালে বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি
মাসে আয় ১০ লাখ ডলার, অসুস্থ মা-বাবাকে রাজকীয় জীবন উপহার দিলেন ২৩ বছরের তরুণী
ট্রাম্পের নাতনির পিছু নিয়েছেন এক যুবক, নিরাপত্তার ভয়ে দিন কাটছে ১৯ বছর বয়সী কাইয়ের
যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ির মালিকদের হাতে থাকা আবাসন সম্পদের পরিমাণ রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে। তবে বাড়ির মালিক হিসেবে কতটা সম্পদ গড়ে উঠেছে, তা অঙ্গরাজ্যভেদে ব্যাপকভাবে আলাদা। নতুন এক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে হাওয়াই ও ক্যালিফোর্নিয়া। ঋণভিত্তিক আর্থিক সেবা প্রতিষ্ঠান লেন্ডিংট্রির (LendingTree) বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকে যুক্তরাষ্ট্রের বাড়ির মালিকদের মোট আবাসন-সম্পদের নিট মূল্য বা হোম ইকুইটি দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩৪ দশমিক ৯ ট্রিলিয়ন ডলারে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ইকুইটি রয়েছে হাওয়াইয়ের বাড়ির মালিকদের। লেন্ডিংট্রি ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ মার্চ পর্যন্ত তাদের প্ল্যাটফর্মে করা প্রায় ৯ লাখ ৬৭ হাজার বেনামি হোম ইকুইটি-সংক্রান্ত অনুসন্ধানের তথ্য বিশ্লেষণ করে এই হিসাব করেছে। প্রতিটি অঙ্গরাজ্যে বাড়ির মালিকেরা কত ইকুইটি থাকার কথা জানিয়েছেন, তার মধ্যম মান বা মিডিয়ান এবং অন্তত ২ লাখ ডলার ইকুইটি রয়েছে এমন অনুসন্ধানের অনুপাত বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। বিশ্লেষণে দেখা যায়, হাওয়াইয়ে বাড়ির মালিকদের মধ্যম হোম ইকুইটি ৪ লাখ ২৫ হাজার ডলার। একই সঙ্গে হাওয়াইয়ের ৮০ দশমিক ৫ শতাংশ অনুসন্ধানকারী জানিয়েছেন, তাদের বাড়িতে অন্তত ২ লাখ ডলার ইকুইটি রয়েছে। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ক্যালিফোর্নিয়া। অঙ্গরাজ্যটিতে মধ্যম হোম ইকুইটি ৩ লাখ ৫০ হাজার ডলার এবং ৭৬ দশমিক ৮ শতাংশ অনুসন্ধানকারীর ইকুইটি অন্তত ২ লাখ ডলার। তৃতীয় ম্যাসাচুসেটসে মধ্যম ইকুইটি ৩ লাখ ৪৫ হাজার ডলার। সেখানে ৭৮ দশমিক ৪ শতাংশ অনুসন্ধানকারী ২ লাখ ডলার বা তার বেশি ইকুইটির কথা জানিয়েছেন। শীর্ষ দশে এরপর রয়েছে ইউটা, নিউ জার্সি, ওয়াশিংটন, রোড আইল্যান্ড, নিউ হ্যাম্পশায়ার, কলোরাডো এবং আইডাহো। ইউটায় মধ্যম ইকুইটি ৩ লাখ ডলার। নিউ জার্সি ও ওয়াশিংটনে তা ২ লাখ ৯৫ হাজার ডলার। রোড আইল্যান্ডে ২ লাখ ৮৫ হাজার, নিউ হ্যাম্পশায়ারে ২ লাখ ৭৫ হাজার, কলোরাডোতে ২ লাখ ৫৫ হাজার এবং আইডাহোতে ২ লাখ ৫০ হাজার ডলার। অন্যদিকে, সবচেয়ে কম মধ্যম হোম ইকুইটির অঙ্গরাজ্যগুলোর মধ্যে রয়েছে ওয়েস্ট ভার্জিনিয়া ও আইওয়া। উভয় অঙ্গরাজ্যেই মধ্যম ইকুইটি ১ লাখ ৩০ হাজার ডলার। ওয়েস্ট ভার্জিনিয়ায় মাত্র ৩২ দশমিক ৬ শতাংশ এবং আইওয়ায় ৩৪ শতাংশ অনুসন্ধানকারী অন্তত ২ লাখ ডলার ইকুইটির কথা জানিয়েছেন। হোম ইকুইটি বলতে একটি বাড়ির বর্তমান বাজারমূল্য থেকে ওই বাড়ির বিপরীতে বকেয়া বন্ধকি ঋণের পরিমাণ বাদ দিলে যে অংশ থাকে, সেটিকে বোঝায়। অর্থাৎ কোনো বাড়ির বর্তমান মূল্য যদি ৫ লাখ ডলার হয় এবং সেই বাড়ির বিপরীতে ২ লাখ ডলার বন্ধকি ঋণ বাকি থাকে, তাহলে মালিকের হোম ইকুইটি হবে ৩ লাখ ডলার। করোনাভাইরাস মহামারির পর যুক্তরাষ্ট্রের আবাসন বাজারে বাড়ির দামের বড় উল্লম্ফন বাড়ির মালিকদের ইকুইটি বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। একই সময়ে উচ্চ সুদের হার ও বাড়ির দাম বেড়ে যাওয়ায় নতুন ক্রেতাদের জন্য বাড়ি কেনা কঠিন হয়ে পড়েছে। ফলে যারা আগে থেকেই বাড়ির মালিক ছিলেন, তাদের অনেকেই নিজেদের বাড়ির মূল্য বৃদ্ধির মাধ্যমে উল্লেখযোগ্য সম্পদ তৈরি করতে পেরেছেন। ফেডারেল রিজার্ভের ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের পরিবারগুলোর মালিকানাধীন আবাসিক রিয়েল এস্টেটের মোট মূল্য ছিল ৪৮ দশমিক ৭ ট্রিলিয়ন ডলার। একই সময়ে বাড়ির বিপরীতে বন্ধকি ঋণের পরিমাণ ছিল ১৩ দশমিক ৮ ট্রিলিয়ন ডলার। এই দুই হিসাবের পার্থক্য থেকেই প্রায় ৩৪ দশমিক ৯ ট্রিলিয়ন ডলারের হোম ইকুইটি পাওয়া যায়। তবে এই সম্পদের সুবিধা সারা দেশে সমান নয়। লেন্ডিংট্রির বিশ্লেষণে দেখা গেছে, পশ্চিমাঞ্চলের অঙ্গরাজ্যগুলোতে বাড়ির মূল্য বৃদ্ধির প্রভাব তুলনামূলকভাবে বেশি। ২০১৪ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে নতুন বাড়ির প্রতি বর্গফুটের গড় দাম ৯৭ ডলার থেকে বেড়ে ১৬৯ ডলারে পৌঁছেছে। পশ্চিমাঞ্চলে এই বৃদ্ধি ছিল আরও বেশি প্রায় ১০৫ শতাংশ, ফলে ২০২৪ সালে সেখানে প্রতি বর্গফুটের দাম দাঁড়ায় ২২৪ ডলার। অন্যদিকে, মধ্য-পশ্চিমাঞ্চলে একই সময়ে প্রতি বর্গফুটের দাম বেড়েছে ৬৩ শতাংশ এবং ২০২৪ সালে তা ১৬৫ ডলারে পৌঁছেছে। ফলে কোথায় বাড়ি কেনা হয়েছে, কখন কেনা হয়েছে এবং বর্তমানে সেই বাড়ির মূল্য কত এসব বিষয় একজন মালিকের গড়ে ওঠা সম্পদের পরিমাণে বড় পার্থক্য তৈরি করছে। লেন্ডিংট্রির প্রধান ভোক্তা অর্থনীতি বিশ্লেষক ম্যাট শুলজ বলেন, বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের মধ্যে বিশাল পার্থক্যই দেখিয়ে দেয় যে বাড়ির ইকুইটির চিত্র সবার জন্য এক নয়। কারও বাড়ি বড় আর্থিক নিরাপত্তা তৈরি করতে পারে, আবার কারও ক্ষেত্রে বাড়ি থেকে পাওয়া আর্থিক সুবিধার সুযোগ তুলনামূলকভাবে সীমিত হতে পারে। বাড়ির মালিকেরা চাইলে এই ইকুইটির বিপরীতে ঋণ নিয়ে বাড়ির সংস্কার, বড় ধরনের খরচ বা উচ্চ সুদের ঋণ একত্র করার মতো কাজে অর্থ ব্যবহার করতে পারেন। তবে ইকুইটির বিপরীতে ঋণ নেওয়ার ক্ষেত্রে ঝুঁকিও রয়েছে। ঋণের কিস্তি পরিশোধে ব্যর্থ হলে বাড়িটি ঝুঁকিতে পড়তে পারে। লেন্ডিংট্রির তথ্য অনুযায়ী, সাধারণত ঋণদাতারা বাড়ির মূল্যের একটি অংশ পর্যন্ত ধার দেওয়ার অনুমতি দেয়। এদিকে বাড়ির মালিকেরা সাম্প্রতিক সময়ে নিজেদের এই বাড়তি সম্পদের একটি অংশ নগদে রূপান্তরও করছেন। ইন্টারকন্টিনেন্টাল এক্সচেঞ্জের (ICE) জুন ২০২৬ মর্টগেজ মনিটর অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকে বাড়ির মালিকদের ইকুইটি থেকে অর্থ উত্তোলনের পরিমাণ ২০২১ সালের পর প্রথম প্রান্তিকের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। বছরের তুলনায় ইকুইটি উত্তোলন ২ শতাংশ বেড়েছে এবং এর অর্ধেকের বেশি, প্রায় ৫৪ শতাংশ, এসেছে দ্বিতীয় পর্যায়ের ঋণ বা সেকেন্ড-লিয়েনের মাধ্যমে। অর্থাৎ মহামারির পর বাড়ির দাম বৃদ্ধির ফলে যুক্তরাষ্ট্রের বহু পুরোনো বাড়ির মালিকের হাতে বড় অঙ্কের সম্পদ তৈরি হলেও, সেই সম্পদের পরিমাণ কোথায় বাড়ি রয়েছে তার ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভর করছে। বিশেষ করে হাওয়াই, ক্যালিফোর্নিয়া ও নিউ ইংল্যান্ডের কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে বাড়ির মালিকেরা তুলনামূলকভাবে বেশি ইকুইটি ধরে রেখেছেন। বিপরীতে মধ্য-পশ্চিম ও দক্ষিণের বেশ কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে সেই পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে কম। লেন্ডিংট্রির এই গবেষণা অবশ্য পুরো যুক্তরাষ্ট্রের সব বাড়ির মালিকের সরাসরি জরিপ নয়; এটি তাদের প্ল্যাটফর্মে করা প্রায় ৯ লাখ ৬৭ হাজার বেনামি হোম ইকুইটি-সংক্রান্ত অনুসন্ধানের ওপর ভিত্তি করে তৈরি। তাই অঙ্গরাজ্যভিত্তিক এই পরিসংখ্যানকে ওই প্ল্যাটফর্মের ব্যবহারকারীদের রিপোর্ট করা ইকুইটির মধ্যম মান হিসেবে দেখা উচিত।
ফ্লোরিডায় অভিনব প্রতারণা, গ্রেপ্তারের পর নারীর গোপনা ঙ্গে মিলল ৩২০০ ডলার
যুক্তরাষ্ট্রে পেপ্যাল প্রতারণায় দুই ভারতীয় দোষী সাব্যস্ত, স্থগিত ৫ বছরের কারাদণ্ড
যুক্তরাষ্ট্র থেকে ভারতে ফ্লাইটে হুইলচেয়ারের দীর্ঘ সারি, বিনামূল্যের সেবা নিয়ে নতুন বিতর্ক
টেক্সাসের এডিনবার্গে একটি ট্রাক স্টপে ট্রাক্টর ট্রেইলারের ভেতর লুকিয়ে রাখা ২০ অভিবাসীকে উদ্ধার করেছে ইউএস বর্ডার প্যাট্রোল ও হিডালগো কাউন্টি শেরিফ’স অফিস। ২০ আগস্ট যৌথ অভিযানে তাদের উদ্ধার করা হয় বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, সন্দেহজনক একটি ট্রাক্টর ট্রেইলারের বিষয়ে খবর পাওয়ার পর বর্ডার প্যাট্রোলের কে-৯ ইউনিট ঘটনাস্থলে যায়। কে-৯ ইউনিট ট্রেইলারের ভেতরে সন্দেহজনক কিছুর উপস্থিতির বিষয়ে পজিটিভ অ্যালার্ট দেওয়ার পর বর্ডার প্যাট্রোল এজেন্ট ও হিডালগো কাউন্টি শেরিফ’স অফিসের ডেপুটিরা ট্রেইলারটি তল্লাশি করেন। তল্লাশির সময় ট্রেইলারের ভেতর লুকিয়ে থাকা ২০ অভিবাসীকে পাওয়া যায়। কর্তৃপক্ষ ঘটনাটিকে মানব পাচারের একটি ঝুঁকিপূর্ণ প্রচেষ্টা হিসেবে বর্ণনা করেছে। ট্রাকটির চালককে ঘটনাস্থলেই আটক করা হয়। রিও গ্র্যান্ডে ভ্যালি সেক্টরের ইউএস বর্ডার প্যাট্রোল প্রধান বলেন, সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অবৈধ অভিবাসন থেকে লাভবান অপরাধী চক্রগুলোকে ভেঙে দিতে বর্ডার প্যাট্রোল কাজ করে যাচ্ছে। অর্থের জন্য মানুষের জীবন ঝুঁকিতে ফেলা ব্যক্তিদের খুঁজে বের করে গ্রেপ্তার এবং জবাবদিহির আওতায় আনা হবে বলেও তিনি জানান। উদ্ধার হওয়া ২০ জনের নাগরিকত্ব, তাদের পরবর্তী ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়া এবং চালকের বিরুদ্ধে কী ধরনের অভিযোগ আনা হবে, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
যুক্তরাষ্ট্রে নিজের নবজাতক সন্তানকে শ্বাসরোধে হ ত্যা করে ব্যাগে লুকিয়েছিলেন মৃ তদেহ, আদালতে মায়ের স্বীকারোক্তি
ইলহান ওমরকে ‘ডিপোর্ট’ করার দাবি ন্যান্সি মেসের, তুঙ্গে মার্কিন রাজনৈতিক বিতর্ক