মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পসহ যুক্তরাষ্ট্রের সিক্রেট সার্ভিসের নিরাপত্তা সুরক্ষায় থাকা শীর্ষ ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে হুমকির মাত্রা এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটির একাধিক কর্মকর্তা। তাদের ভাষ্য, সাম্প্রতিক সময়ে শুধু হুমকির সংখ্যা নয়, সেগুলোর ধরন ও জটিলতাও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। সাংবাদিকদের সঙ্গে এক ব্রিফিংয়ে পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে সিক্রেট সার্ভিসের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, “আমরা এখন যে ধরনের পরিস্থিতি দেখছি, আমার কর্মজীবনে এর আগে এমন দেখিনি।” একই ব্রিফিংয়ে সিক্রেট সার্ভিসের পরিচালক শন কারানও বলেন, তাঁর ২৪ বছরের কর্মজীবনে বর্তমান হুমকির পরিবেশ সবচেয়ে উদ্বেগজনক। সিক্রেট সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালে এখন পর্যন্ত প্রায় ১০ হাজার হুমকিসংক্রান্ত ঘটনার তদন্ত করা হয়েছে। এসব ঘটনার মধ্যে প্রেসিডেন্ট, সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি, মন্ত্রিসভার সদস্য এবং অন্যান্য উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তাদের লক্ষ্য করে দেওয়া হুমকিও রয়েছে। একই সময়ে গত বছরের তুলনায় এ ধরনের ঘটনার সংখ্যা প্রায় ৪০ শতাংশ বেড়েছে। কর্মকর্তারা জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, অনলাইন চরমপন্থা, ড্রোন প্রযুক্তির অপব্যবহার এবং ব্যক্তিগতভাবে হামলার পরিকল্পনা—সব মিলিয়ে নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। তাই সম্ভাব্য ঝুঁকি শনাক্তে সিক্রেট সার্ভিস এখন আগের তুলনায় আরও বিস্তৃত নজরদারি ও তদন্ত চালাচ্ছে। এদিকে হোয়াইট হাউস সংবাদদাতা সমিতির (WHCA) পুনঃনির্ধারিত নৈশভোজকে ঘিরেও নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। গত এপ্রিলে একই অনুষ্ঠানে এক বন্দুকধারীর হামলার ঘটনায় অনুষ্ঠানটি মাঝপথে বন্ধ হয়ে যায়। পরে সংগঠনটি জানায়, নতুন আয়োজনে উল্লেখযোগ্য অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং নতুন প্রবেশপদ্ধতি রাখা হয়েছে। সেই অনুষ্ঠানের আগে ও পরে শত শত সাবেক সাংবাদিক এবং আটটি সংবাদমাধ্যম-স্বাধীনতা বিষয়ক সংগঠন হোয়াইট হাউস সংবাদদাতা সমিতির প্রতি আহ্বান জানিয়েছে, তারা যেন সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার পক্ষে আরও দৃঢ় অবস্থান নেয়। তাদের দাবি, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে সংবাদমাধ্যমের সম্পর্ক আরও উত্তেজনাপূর্ণ হয়েছে। সিক্রেট সার্ভিস আরও জানিয়েছে, যেসব ব্যক্তি নিরাপত্তা-সুরক্ষায় থাকা কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে হুমকি দেওয়ার অভিযোগে নজরদারিতে রয়েছেন, তাদের মধ্যে মানসিক স্বাস্থ্য মূল্যায়ন ও চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানোর ঘটনাও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। সংস্থাটির মতে, এই প্রবণতা বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতির জটিলতা আরও স্পষ্ট করছে। বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক মেরুকরণ, অনলাইন উগ্রবাদ এবং উচ্চপ্রোফাইল ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সহিংস হুমকি বৃদ্ধির কারণে নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর ওপর চাপ আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি হয়ে উঠেছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ওপর গত এপ্রিলের হত্যাচেষ্টার পর এবার হোয়াইট হাউস করেসপন্ডেন্টস’ ডিনার ঘিরে নেওয়া হয়েছে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা। আগামী ২৪ জুলাই ওয়াশিংটনের ওয়ালডর্ফ অ্যাস্টোরিয়া হোটেলে পুনঃনির্ধারিত এই আয়োজন অনুষ্ঠিত হবে। আয়োজকরা জানিয়েছেন, এবার প্রচলিত কাগজের পাসের পরিবর্তে ডিজিটাল টিকিট ব্যবহার করা হবে। পাশাপাশি বড় আকারের ককটেল রিসেপশনও রাখা হচ্ছে না, যাতে অননুমোদিত কেউ সহজে অনুষ্ঠানে প্রবেশ করতে না পারে। নতুন ভেন্যুতে প্রায় এক হাজার অতিথি অংশ নিতে পারবেন, যা আগের ভেন্যু ওয়াশিংটন হিলটনের ধারণক্ষমতার এক-চতুর্থাংশেরও কম। এতে অতিথিদের পরিচয় যাচাই ও নিরাপত্তা তদারকি আরও সহজ হবে বলে মনে করছে কর্তৃপক্ষ। মার্কিন সিক্রেট সার্ভিসের মুখপাত্র টম লিঞ্চ বলেন, এই অনুষ্ঠানের নিরাপত্তা পরিকল্পনার ওপর তাদের পূর্ণ আস্থা রয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট স্থানে আগেও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার অভিজ্ঞতা রয়েছে। গত ২৫ এপ্রিল অনুষ্ঠিত ডিনারের সময় অভিযোগ অনুযায়ী, কোল থমাস অ্যালেন নামে এক ব্যক্তি অস্ত্র নিয়ে নিরাপত্তা বেষ্টনী অতিক্রম করে বলরুমের কাছাকাছি পৌঁছে যান এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে হত্যার চেষ্টা করেন। ওই ঘটনায় আতঙ্কিত অতিথিরা নিজেদের নিরাপত্তায় টেবিলের নিচে আশ্রয় নিয়েছিলেন। এবার অনুষ্ঠানে প্রবেশের আগে একটি বেসরকারি নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান প্রাথমিক যাচাই করবে। এরপর বৈধ ডিজিটাল টিকিটধারীদের সিক্রেট সার্ভিস পরিচালিত মেটাল ডিটেক্টর পার হয়ে ভেতরে প্রবেশ করতে হবে। মার্কিন কর্তৃপক্ষের দাবি, নতুন নিরাপত্তা পরিকল্পনা সম্ভাব্য যেকোনো হুমকি মোকাবিলায় সক্ষম হবে।
সম্ভাব্য হামলার পরিকল্পনা সম্পর্কে গোয়েন্দা তথ্য ও সতর্কবার্তা বেড়ে যাওয়ায় জার্মানির নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে ‘উচ্চ হুমকির পর্যায়ে’ উন্নীত করা হয়েছে। দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আলেকজান্ডার ডোব্রিন্ট বলেছেন, এখন জার্মানিতে যেকোনো সময় হামলার ঝুঁকি বিবেচনায় রেখেই নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিতে হবে। শনিবার জার্মান সংবাদপত্র ভেল্ট আম জোনটাগে প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে ডোব্রিন্ট বলেন, আগে নিরাপত্তা ঝুঁকিকে ‘বিমূর্ত’ বা সম্ভাব্য হুমকি হিসেবে দেখা হলেও নতুন গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পরিস্থিতি এখন আরও গুরুতর বলে বিবেচিত হচ্ছে। তিনি বলেন, “আমাদের দেশের বিরুদ্ধে হামলার পরিকল্পনা স্পষ্টভাবে শনাক্ত করা যাচ্ছে।” সম্ভাব্য হুমকির লক্ষ্য হতে পারে জার্মানির গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এবং নির্দিষ্ট ব্যক্তি। তবে কোনো নির্দিষ্ট স্থানে আসন্ন হামলার তথ্য রয়েছে কি না, কিংবা সতর্কতার মাত্রা বাড়ানোর পর সাধারণ মানুষের চলাচল ও জনসমাগমে কী ধরনের অতিরিক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে—সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত জানানো হয়নি। রয়টার্সের অনুরোধের পরও জার্মান স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে সঙ্গে সঙ্গে কোনো মন্তব্য দেয়নি। ডোব্রিন্টের ভাষ্য অনুযায়ী, দেশীয় ও বিদেশি গোয়েন্দা সূত্র থেকে পাওয়া তথ্য, সম্ভাব্য নাশকতা, গুপ্তচরবৃত্তি এবং হামলার প্রস্তুতির ইঙ্গিত বিবেচনা করেই নিরাপত্তা পরিস্থিতির নতুন মূল্যায়ন করা হয়েছে। তবে এই ঘোষণা দেশে জরুরি অবস্থা জারি বা কোনো নির্দিষ্ট হামলা অনিবার্য—এমন অর্থ বহন করে না। বরং কর্তৃপক্ষকে সার্বক্ষণিক প্রস্তুতি ও বাড়তি সতর্কতা বজায় রাখতে বলা হচ্ছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জার্মানিতে একাধিক প্রাণঘাতী হামলার ঘটনা ঘটেছে। ২০২৪ সালের ডিসেম্বর মাসে পূর্বাঞ্চলীয় মাগডেবুর্গ শহরের একটি ঐতিহাসিক বড়দিনের বাজারে ভাড়া করা বিএমডব্লিউ গাড়ি নিয়ে মানুষের ভিড়ে উঠে পড়েন সৌদি আরবের এক চিকিৎসক। ওই ঘটনায় ছয়জন নিহত এবং কয়েকশ মানুষ আহত হন। গত মাসে তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন জার্মানির একটি আদালত। এর আগে ২০২৪ সালে পশ্চিমাঞ্চলীয় সোলিঙ্গেন শহরের একটি উৎসবে ছুরি হামলায় তিনজন নিহত এবং আরও ১০ জন আহত হন। ইসলামিক স্টেটের আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে হামলাটি চালানোর অভিযোগে এক সিরীয় নাগরিককে গত বছর দোষী সাব্যস্ত করেন জার্মান আদালত। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নতুন সতর্কবার্তার পর দেশটির গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা, সরকারি প্রতিষ্ঠান, জনসমাগম এবং নিরাপত্তা-সংশ্লিষ্ট অবকাঠামোতে নজরদারি আরও জোরদার হতে পারে। তবে সাধারণ মানুষের জন্য নতুন কোনো বিধিনিষেধ বা বিশেষ নির্দেশনা শনিবার পর্যন্ত ঘোষণা করা হয়নি।
বিশ্বের প্রভাবশালী জি-২০ জোটের অন্তর্ভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে নিরাপদ রাষ্ট্র হিসেবে শীর্ষস্থান অর্জন করেছে সৌদি আরব। দেশটির জেনারেল অথরিটি ফর স্ট্যাটিসটিকস সম্প্রতি জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার (এসডিজি) ডেটা ব্যবহার করে একটি বিশেষ নিরাপত্তা প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। সেই রিপোর্টের তথ্যানুযায়ী, উন্নত বিশ্বের বহু দেশকে পেছনে ফেলে নাগরিক সুরক্ষায় সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের এই দেশ। প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে দেখা গেছে, সৌদি আরবের সামগ্রিক জনসংখ্যার প্রায় ৯৭ দশমিক ৭ শতাংশ মানুষ রাতের বেলা নিজের এলাকায় একা হেঁটে চলাফেরা করাকে সম্পূর্ণ নিরাপদ বলে মনে করেন। ১৫ বছর বা তার বেশি বয়সী পুরুষ নাগরিকদের মধ্যে ৯৭ শতাংশই রাতে একা চলাচলে কোনো ধরনের ভীতি অনুভব করেন না। এই পুরুষদের মধ্যে ৮৬ শতাংশ বিষয়টিকে 'খুবই নিরাপদ' এবং ১১ শতাংশ 'কোনোভাবে নিরাপদ' বলে উল্লেখ করেছেন। জননিরাপত্তার এই তালিকায় সবচেয়ে ইতিবাচক ও চমকপ্রদ চিত্র উঠে এসেছে দেশটির নারী সুরক্ষার ক্ষেত্রে। তথ্য অনুযায়ী, সৌদিতে ১৫ বছর বা তার বেশি বয়সী নারীদের মধ্যে ৯৪ দশমিক ৯ শতাংশই রাতের অন্ধকারে নিজ এলাকায় একা হাঁটাকে নিরাপদ মনে করেন। এই বৃহৎ জনগোষ্ঠীর মধ্যে ৮১ দশমিক ৭ শতাংশ নারী কোনো রকম দ্বিধা ছাড়াই রাতের পরিবেশকে 'খুবই নিরাপদ' বলে রেটিং দিয়েছেন। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে যে, তরুণ বা যুবকদের পাশাপাশি দেশটির প্রবীণ ও বয়োবৃদ্ধ নাগরিকেরাও রাতের বেলা একা যাতায়াত করতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন। আন্তর্জাতিক অপরাধ ও নিরাপত্তা সূচকে সৌদি আরবের এমন অবস্থান দেশটির আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থার এক বিশাল সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে। উল্লেখ্য, বিশ্বের শক্তিশালী জি-২০ জোটে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, জার্মানি, ফ্রান্স, জাপান, চীন, ভারত ও রাশিয়ার মতো বড় বড় পরাশক্তিগুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এছাড়া ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও আফ্রিকান ইউনিয়নও এই জোটের অংশ। এই সমস্ত অঞ্চলের জননিরাপত্তার মানদণ্ডকে ছাড়িয়ে সৌদি আরবের এই অর্জন বৈশ্বিক মহলে বেশ প্রশংসিত হচ্ছে।
লেবাননের রাজধানী বৈরুতে ইসরায়েলের সাম্প্রতিক প্রাণঘাতী হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে চরম প্রতিশোধ নেওয়ার কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছে ইরান। রবিবার (১৪ জুন) বৈরুতের দাহিয়াহ এলাকায় সংঘটিত এই ভয়াবহ হামলাকে 'ইহুদিবাদী শাসকগোষ্ঠীর জঘন্য অপরাধ' বলে আখ্যায়িত করেছেন ইরানের পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক কমিটির প্রধান ইব্রাহিম আজিজি। এই ঘটনার মধ্য দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এই আগ্রাসনের পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের নীরব ও প্রত্যক্ষ ভূমিকার তীব্র সমালোচনা করেছেন এই শীর্ষ ইরানি কর্মকর্তা। ইব্রাহিম আজিজি তার ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়ায় বলেন, বৈরুতের বুকে চালানো এই বর্বরোচিত অপরাধ আবারও বিশ্ববাসীর সামনে প্রমাণ করেছে যে, যুক্তরাষ্ট্র কতটা দুর্বল ও নীতিহীন। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ওয়াশিংটনের কোনো প্রকার বিশ্বস্ততা অবশিষ্ট নেই বলেও তিনি স্পষ্টভাবে মন্তব্য করেন। ইরানি এই নেতার মতে, ইসরায়েলের মতো একটি অবৈধ ও অনৈতিক শাসকগোষ্ঠীকে নিয়ন্ত্রণ করার ন্যূনতম ক্ষমতা বা সদিচ্ছা কোনোটাই যুক্তরাষ্ট্রের নেই, বরং তাদের প্রচ্ছন্ন মদদেই এসব অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে। আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বিনষ্টকারী এই বর্বরোচিত হামলার সমুচিত ও কড়া জবাব খুব শিগগিরই দেওয়া হবে বলে তিনি দৃঢ়ভাবে জানিয়েছেন। এই হুঁশিয়ারির পর মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক ও সামরিক অঙ্গনে নতুন করে তীব্র উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে।
বন্ধুদের সাথে আড্ডায় কিংবা কোনো সাফল্যের আনন্দে ‘ভিক্টরি’ বা ‘লাইক’ সাইন দিয়ে ছবি তুলে ফেসবুক বা ইনস্টাগ্রামে আপলোড করা আমাদের দৈনন্দিন জীবনের সাধারণ একটি অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। কিন্তু আপনার আপলোড করা এই হাই-রেজল্যুশনের ছবিগুলোতেই হয়তো লুকিয়ে আছে মারাত্মক এক সাইবার ঝুঁকি। আপনি যখন ছবিতে লাইক-কমেন্টের বন্যায় ভাসছেন, ঠিক তখনই হয়তো স্ক্রিনের ওপাশে থাকা কোনো হ্যাকার আপনার ছবির সেই আঙুল জুম করে খুঁটিয়ে দেখছে। অত্যাধুনিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে আঙুলের সেই রেখাগুলো বিশ্লেষণ করে তারা তৈরি করে ফেলতে পারে আপনার আঙুলের ছাপের হুবহু ক্লোন। পাসওয়ার্ড চুরি হলে তা সহজে বদলে ফেলা যায়, কিন্তু আঙুলের ছাপের মতো বায়োমেট্রিক ডেটা একবার হ্যাকারের হাতে চলে গেলে তা আর পরিবর্তনের কোনো উপায় থাকে না। পুরো বিষয়টি শুনতে হলিউডের কোনো স্পাই থ্রিলার বা ‘মিশন ইম্পসিবল’ সিনেমার মতো মনে হলেও, বাস্তবে এর সত্যতা রয়েছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ সংক্রান্ত বেশ কিছু পোস্ট সাধারণ মানুষের মনে গভীর উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কারিগরিভাবে ছবি থেকে ফিঙ্গারপ্রিন্ট চুরি করা সম্পূর্ণ সম্ভব। কেউ যদি হাই-রেজল্যুশনের ক্যামেরায় খুব কাছ থেকে দুই আঙুল উঁচিয়ে ছবি তোলেন, তবে এআই টুলের সাহায্যে সেই আঙুলের রেখাগুলোকে স্পষ্ট করে ক্লোন তৈরি করা যায়। পেনসিলভানিয়ার কার্নেগি মেলন ইউনিভার্সিটির ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের অধ্যাপক ব্যাস শেখরও বিষয়টির তাত্ত্বিক সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, মানুষ যখন হাই-রেজল্যুশনের ছবি পোস্ট করে, তখন এই ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়। এর আগে ২০১৪ সালে এক হ্যাকার সংবাদ সম্মেলনে তোলা ছবি থেকে জার্মানির তৎকালীন প্রতিরক্ষামন্ত্রীর ফিঙ্গারপ্রিন্ট ক্লোন করার দাবি করে রীতিমতো চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছিলেন। তবে সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা সাধারণ মানুষকে এখনই আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। নিউইয়র্ক ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক জাস্টিন ক্যাপোসের মতে, একজন সাধারণ মানুষের ক্ষেত্রে এই ধরনের সাইবার হামলার শিকার হওয়ার ঝুঁকি খুবই সামান্য। কারণ, কেবল ছবি থেকে আঙুলের ছাপ পেলেই হবে না, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট বা ফোন হ্যাক করতে হলে হ্যাকারকে শারীরিকভাবে ওই ব্যক্তির ডিভাইস বা বায়োমেট্রিক স্ক্যানারের কাছাকাছি পৌঁছাতে হবে। সাধারণত অতি গুরুত্বপূর্ণ বা ‘হাই-ভ্যালু’ ব্যক্তিরাই হ্যাকারদের এমন সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যের শিকার হয়ে থাকেন। সাধারণ মানুষের ক্ষেত্রে ফিশিং স্ক্যাম বা ম্যালওয়্যার লিংকের মাধ্যমে প্রতারিত হওয়ার আশঙ্কাই তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি বলে মনে করেন এই বিশেষজ্ঞ। তারপরও ডিজিটাল যুগে নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রযুক্তিবিদরা কিছু বাড়তি সতর্কতার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন। শুধুমাত্র আঙুলের ছাপের ওপর নির্ভর না করে অ্যাকাউন্টে টু-ফ্যাক্টর অথেন্টিকেশন (টু-এফএ) বা দ্বিস্তর বিশিষ্ট নিরাপত্তা ব্যবস্থা চালু রাখা সবচেয়ে কার্যকর সমাধান। এছাড়াও গুগল বা মাইক্রোসফটের মতো প্রতিষ্ঠানের অথেন্টিকেটর অ্যাপস, মাল্টি-ফ্যাক্টর বায়োমেট্রিকস এবং এনক্রিপ্টেড পাসকি ব্যবহার করা যেতে পারে। একইসাথে, খুব কাছ থেকে হাতের তালু বা আঙুলের ছাপ স্পষ্ট বোঝা যায় এমনভাবে ‘ভিক্টরি’ বা ‘লাইক’ সাইন দিয়ে ছবি তোলা থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘র’ ফাইল বা অরিজিনাল হাই-রেজল্যুশন ছবি আপলোড করার ক্ষেত্রেও ব্যবহারকারীদের আরও বেশি সচেতন হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
ঢাকাস্থ ইরান দূতাবাস আজ এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বাংলাদেশ ও ইরানের মধ্যকার দীর্ঘস্থায়ী ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছে। বিজ্ঞপ্তিতে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান পরিস্থিতি, দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা এবং সম্প্রতি কিছু গণমাধ্যমে প্রকাশিত বিভ্রান্তিকর তথ্যের বিষয়ে দূতাবাসের অবস্থান পরিষ্কার করা হয়েছে। দূতাবাস জানায়, সম্প্রতি আন্টালিয়া ডিপ্লোমেসি ফোরামের পার্শ্ববৈঠকে ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খাতিবজাদেহ এবং বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের মধ্যে অত্যন্ত ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা গ্র্যান্ড আয়াতুল্লাহ খামেনেই-এর শাহাদাত বরণে বাংলাদেশ সরকারের শোকবার্তা এবং জাতীয় সংসদে শোক প্রস্তাব গ্রহণের জন্য বিশেষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়। এছাড়া, বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির মাধ্যমে ইরানে জরুরি চিকিৎসা সহায়তা পাঠানোর সিদ্ধান্তের প্রশংসাও করেছে দূতাবাস। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, দূতাবাস হরমুজ প্রণালী দিয়ে বাংলাদেশি জাহাজগুলোর নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে কাজ করে যাচ্ছে। এছাড়া সম্প্রতি ১৮৬ জন বাংলাদেশি নাগরিককে ইরান থেকে আজারবাইজান হয়ে নিরাপদে বাংলাদেশে প্রত্যাবাসনে ইরান সরকার সহযোগিতা করেছে। বিজ্ঞপ্তিতে আমেরিকা ও জায়নবাদী শাসনের আগ্রাসনের ফলে নিহত বাংলাদেশি নাগরিকদের শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তির শেষাংশে দূতাবাস সম্প্রতি কিছু গণমাধ্যম ও সোশ্যাল মিডিয়ায় ইরানের কর্মকর্তাদের বক্তব্যের খণ্ডিত বা বিকৃত প্রচারের বিষয়ে গভীর অসন্তোষ প্রকাশ করেছে। দূতাবাস জানায়, এ ধরনের বিভ্রান্তিকর প্রচারণা দুই দেশের বন্ধুত্বের পরিপন্থী। সংবাদ পরিবেশনের ক্ষেত্রে দায়িত্বশীলতা বজায় রাখতে এবং কোনো ধরনের ভুল বোঝাবুঝি সৃষ্টি না করতে সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।
বর্তমান উত্তাল বিশ্ব রাজনীতিতে জ্বালানি তেলের বাজার যখন টালমাটাল, তখন চীন এক অনন্য উদাহরণ সৃষ্টি করেছে। ইরান-ইসরায়েল সংঘাত এবং লোহিত সাগরের অস্থিরতার ফলে বিশ্বজুড়ে যখন জ্বালানি তেলের দাম আকাশচুম্বী এবং সরবরাহ ব্যবস্থা হুমকির মুখে, তখন বেইজিং তার দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার সুফল ভোগ করছে। গত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের নেতৃত্বে দেশটি গড়ে তুলেছে এক অজেয় ‘জ্বালানি দুর্গ’। সিএনএন-এর এক সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৈশ্বিক এই চরম সংকটের সময়েও চীন অনেকটা স্বস্তিতে রয়েছে। এর পেছনে রয়েছে তাদের তিনটি প্রধান কৌশল: ১. নবায়নযোগ্য শক্তির বিপ্লব: চীন বর্তমানে সৌর বিদ্যুৎ, বায়ু শক্তি এবং জলবিদ্যুৎ উৎপাদনে বিশ্বে নেতৃত্ব দিচ্ছে। তাদের শিল্প খাতের একটি বড় অংশ এখন আমদানিকৃত তেলের বদলে নিজস্ব ক্লিন এনার্জির ওপর নির্ভরশীল। ২. বিশাল মজুত ব্যবস্থা: জ্বালানি নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে চীন বছরের পর বছর ধরে বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল মজুত করে রেখেছে। এই মজুত দিয়ে তারা যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি দীর্ঘ সময় মোকাবিলা করতে সক্ষম। ৩. বৈদ্যুতিক যানবাহনের প্রসার: চীনের রাস্তায় এখন পেট্রোল-ডিজেলের পরিবর্তে বৈদ্যুতিক গাড়ির (EV) জয়জয়কার। ফলে সাধারণ পরিবহনের ক্ষেত্রে তাদের তেলের ওপর নির্ভরতা উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। কলম্বিয়া ইউনিভার্সিটির সেন্টার অন গ্লোবাল এনার্জি পলিসির গবেষক এরিকা ডাউনস বলেন, "চীন এই সংকটের সময় পেছন ফিরে তাকিয়ে বলতে পারে যে, তাদের নেওয়া সিদ্ধান্তগুলো সঠিক ছিল।" যখন এশিয়ার অন্যান্য উন্নয়নশীল দেশগুলো জ্বালানি আমদানিতে হিমশিম খাচ্ছে, তখন চীনের এই স্বনির্ভরতা বিশ্ব রাজনীতির সমীকরণ বদলে দিচ্ছে। বেইজিং প্রমাণ করছে যে, ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা থেকে বাঁচতে জ্বালানি নিরাপত্তার কোনো বিকল্প নেই।
গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত থাকার দাবির মধ্যেই নৌপরিবহন খাতকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থা-এর মহাসচিব আর্সেনিও ডোমিঙ্গেজ। বিবিসি-র ‘নিউজআওয়ার’ অনুষ্ঠানে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, হরমুজ নিয়ে যেকোনো ইতিবাচক অগ্রগতি অবশ্যই স্বাগত। তবে বর্তমানে যে তথ্যগুলো প্রচারিত হচ্ছে, সেগুলো এখনো যাচাই করা হচ্ছে। ডোমিঙ্গেজ জানান, এ মুহূর্তে সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয় হলো—প্রায় ২০ হাজার নাবিক এবং প্রায় ২ হাজার জাহাজ এখনো আটকে রয়েছে। তিনি বলেন, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল পুনরায় শুরু হলেও তা যেন নিরাপদভাবে পরিচালিত হয়, সেটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তবে এখন পর্যন্ত কোনো নির্দিষ্ট নিরাপত্তা নিশ্চয়তা পাওয়া যায়নি বলেও জানান তিনি। এ অবস্থায় পরিস্থিতি পুরোপুরি পরিষ্কার না হওয়া পর্যন্ত বৈশ্বিক শিপিং শিল্পকে সর্বোচ্চ সতর্কতা বজায় রাখার আহ্বান জানান আইএমও মহাসচিব। বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালি ঘিরে অনিশ্চয়তা পুরোপুরি কাটেনি। ফলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক হতে আরও সময় লাগতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া সন্তানের নাগরিকত্ব পাওয়ার উদ্দেশ্যে বিদেশি নারীদের ভ্রমণ ঠেকাতে নতুন অভিযান শুরু করেছে দেশটির অভিবাসন কর্তৃপক্ষ। সংস্থাটি জানিয়েছে, ‘বার্থ ট্যুরিজম’ নামে পরিচিত এই কার্যক্রমের বিরুদ্ধে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর আওতায় এমন সংগঠিত চক্রগুলোকে চিহ্নিত করে ভেঙে দেওয়া হবে, যারা গর্ভবতী বিদেশি নারীদের ভিসা আবেদনে মিথ্যা তথ্য দিতে সহায়তা করে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সন্তান জন্ম দিতে উৎসাহিত করে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন দীর্ঘদিন ধরেই এই ইস্যুকে গুরুত্ব দিয়ে আসছে। তাদের দাবি, এ ধরনের কর্মকাণ্ড করদাতাদের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করছে এবং জাতীয় নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকি তৈরি করছে। হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র আনা কেলি এক বিবৃতিতে বলেন, নিয়ন্ত্রণহীন এই প্রবণতা করদাতাদের জন্য বড় ব্যয়ের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে এবং এটি দেশের নিরাপত্তার জন্যও হুমকি। তবে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বিভাগ জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে সন্তান জন্ম দেওয়া নিজেই অবৈধ নয়। কিন্তু কেউ যদি ভিসা ব্যবস্থার অপব্যবহার বা প্রতারণার মাধ্যমে এই সুবিধা নিতে চায়, তাহলে তা আইনের আওতায় পড়বে। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব প্রদান করা হয় সংবিধানের একটি সংশোধনীর ভিত্তিতে। তবে এই নিয়ম সীমিত করার লক্ষ্যে ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প একটি নির্বাহী আদেশ জারি করেন। এতে বলা হয়, যদি শিশুর বাবা-মা কেউই মার্কিন নাগরিক বা স্থায়ী বাসিন্দা না হন, তাহলে সেই শিশুকে নাগরিক হিসেবে স্বীকৃতি না দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে। তবে এই আদেশ ইতোমধ্যে একাধিক ফেডারেল আদালত স্থগিত করেছে এবং বিষয়টি এখন সর্বোচ্চ আদালতে বিচারাধীন। অভিযান সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, নতুন এই উদ্যোগে মূলত জালিয়াতি, আর্থিক অপরাধ এবং সংগঠিত নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। যদিও এ ধরনের ঘটনার নির্দিষ্ট সরকারি পরিসংখ্যান নেই। এক গবেষণা প্রতিষ্ঠানের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ২০১৬-১৭ সময়ে প্রতি বছর প্রায় ২০ থেকে ২৫ হাজার নারী এই উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়েছিলেন। এ ছাড়া ২০১৯ সালে ক্যালিফোর্নিয়ায় পরিচালিত এক অভিযানে ‘বার্থ হাউস’ পরিচালনার অভিযোগে একাধিক ব্যক্তিকে অভিযুক্ত করা হয়। ওই ঘটনায় এক চীনা নাগরিক দোষ স্বীকার করে কারাদণ্ড ভোগ করেন।
পারস্য উপসাগরের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজ ও তেলবাহী ট্যাংকারের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে বড় ধরনের উদ্যোগ নিয়েছে ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্য। এই নৌপথের নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনার জন্য আগামী শুক্রবার দেশ দুটির পক্ষ থেকে একটি উচ্চপর্যায়ের ভিডিও কনফারেন্সের আয়োজন করা হয়েছে। ফরাসি প্রেসিডেন্টের কার্যালয় (এলিসি প্যালেস) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রঁ এবং যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার এই বৈঠকে যৌথভাবে সভাপতিত্ব করবেন। মূলত হরমুজ প্রণালীতে একটি ‘বিশুদ্ধ রক্ষণাত্মক মিশন’ (Purely defensive mission) পরিচালনার লক্ষ্যেই এই আলোচনার আয়োজন করা হয়েছে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, হরমুজ প্রণালীতে নৌ-চলাচলের স্বাধীনতা পুনরুদ্ধার এবং আন্তর্জাতিক সমুদ্রসীমায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এই মিশনের মূল লক্ষ্য। গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্য যৌথভাবে একটি বিশেষ অপারেশন চালুর বিষয়ে কাজ করছে, যার মাধ্যমে তেলবাহী ট্যাংকার ও কন্টেইনার জাহাজগুলোকে নিরাপত্তা দিয়ে পারাপার করা হবে। বিশ্বের মোট জ্বালানি তেলের একটি বড় অংশ এই হরমুজ প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হয়। সাম্প্রতিক সময়ে এই অঞ্চলে অস্থিরতা ও উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন ঘটায় বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। সেই সংকট নিরসনেই ব্রিটেন ও ফ্রান্স ইউরোপীয় এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারদের নিয়ে এই বিশেষ সুরক্ষা মিশন গঠন করতে যাচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরের ব্যস্ততম পরিবহন কেন্দ্র গ্র্যান্ড সেন্ট্রাল টার্মিনালে দা হাতে এক ব্যক্তির হামলায় তিনজন আহত হয়েছেন। পরে পুলিশ সদস্যদের গুলিতে ওই হামলাকারী নিহত হন। শনিবার স্থানীয় সময় সকাল প্রায় ৯টা ৪০ মিনিটে এই ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগ। পুলিশ কমিশনার জেসিকা টিশ এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, হামলাকারী একটি দা হাতে প্ল্যাটফর্মে উপস্থিত হয়ে আচরণে অস্বাভাবিকতা প্রদর্শন করছিলেন এবং নিজেকে ‘লুসিফার’ বলে দাবি করছিলেন। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে অন্তত ২০ বার অস্ত্র ফেলে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। কিন্তু তিনি তা অমান্য করে দা উঁচিয়ে পুলিশ সদস্যদের দিকে এগিয়ে আসেন। এ অবস্থায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ গুলি চালায়। পরে আহত অবস্থায় তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে মৃত্যু হয়। ঘটনায় আহত তিনজনের মধ্যে দুজন পুরুষ (বয়স ৮৪ ও ৬৫ বছর) এবং একজন নারী (৭০ বছর)। তাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং তারা শঙ্কামুক্ত বলে জানা গেছে। আহতদের মধ্যে দুজনের মাথা ও মুখে গুরুতর আঘাত রয়েছে, আর একজনের কাঁধে আঘাত লেগেছে। পুলিশ জানিয়েছে, হামলাকারী এর আগে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে পরিচিত ছিলেন এবং তার বিরুদ্ধে একাধিক অপরাধের অভিযোগ ছিল। অতীতে ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলার ঘটনাতেও তিনি জড়িত ছিলেন। নিউইয়র্কের গভর্নর ক্যাথি হোকুল সামাজিক মাধ্যমে এ ঘটনাকে ‘অর্থহীন সহিংসতা’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন এবং দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ায় পুলিশ সদস্যদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন। শহরের মেয়রও পুলিশের তাৎক্ষণিক পদক্ষেপের প্রশংসা করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, এই ঘটনায় সন্ত্রাসবাদের কোনো সংশ্লিষ্টতা এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। ঘটনার ভিডিও ফুটেজ পর্যালোচনা করে তদন্ত চালানো হচ্ছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নিউইয়র্কের পাতালরেলে একাধিক সহিংস ঘটনার পর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। তবে কর্তৃপক্ষ বলছে, সামগ্রিক অপরাধের হার আগের তুলনায় কমেছে এবং নিরাপত্তা জোরদারে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
পূর্ব সাগরে আবারও একটি 'অজ্ঞাত' ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করেছে উত্তর কোরিয়া। বুধবার (৮ এপ্রিল) একই দিনে এটি ছিল পিয়ংইয়ংয়ের পক্ষ থেকে দ্বিতীয় দফায় ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার ঘটনা। দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনীর বরাত দিয়ে তুর্কি বার্তা সংস্থা আনাদোলু এজেন্সি এই খবর জানিয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়ার জয়েন্ট চিফস অফ স্টাফ (জেসিএস) জানিয়েছে, তারা নতুন এই উৎক্ষেপণটি শনাক্ত করেছে, তবে ক্ষেপণাস্ত্রটি কত দূর পর্যন্ত উড়েছে বা এর ধরন কী—সে সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য জানানো হয়নি। এর আগে বুধবার ভোরে উত্তর কোরিয়ার ওনসান এলাকা থেকে বেশ কিছু স্বল্প পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়। জেসিএস-এর তথ্য অনুযায়ী, সেই ক্ষেপণাস্ত্রগুলো প্রায় ২৪০ কিলোমিটার (১৪৯ মাইল) পথ অতিক্রম করে সাগরে পতিত হয়। এটি ছিল এ বছর উত্তর কোরিয়ার চতুর্থ ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার ঘটনা। জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাচি এই ঘটনার পরপরই কর্মকর্তাদের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার এবং তথ্য সংগ্রহের নির্দেশ দিয়েছেন। জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং বিমান ও নৌযান চলাচলে যেন কোনো বিঘ্ন না ঘটে, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে জাপানি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়। সিউলের দাবি, উত্তর কোরিয়া গত মঙ্গলবারও একটি প্রজেক্টাইল ছুড়েছিল যা উড্ডয়নের পরপরই ব্যর্থ হয়। পর পর দুই দিন এমন সামরিক তৎপরতায় ওই অঞ্চলে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে মিউং সম্প্রতি বেসামরিক নাগরিকদের উত্তর কোরিয়ায় ড্রোন পাঠানোর ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেছিলেন এবং এর ফলে উত্তেজনা বাড়তে পারে বলে সতর্ক করেছিলেন। তার বক্তব্যের জবাবে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের প্রভাবশালী বোন কিম ইয়ো জং সিউলকে 'বেপরোয়া উস্কানি' থেকে বিরত থাকার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ইন্দো-প্যাসিফিক কমান্ড জানিয়েছে, তারা উত্তর কোরিয়ার এই তৎপরতার ওপর নিবিড় নজর রাখছে। মার্কিন বাহিনীর মতে, এই উৎক্ষেপণগুলো বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র বা তার মিত্রদের জন্য সরাসরি কোনো হুমকি তৈরি না করলেও তারা এই অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে মিত্রদের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ বজায় রাখছে। উল্লেখ্য, গত ১৪ মার্চ দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ সামরিক মহড়ার প্রতিবাদে একই ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালিয়েছিল পিয়ংইয়ং। সাম্প্রতিক এই উৎক্ষেপণগুলো নিয়ে এখন পর্যন্ত উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেয়নি।
যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের সম্পর্ক আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় এখন আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেছেন Paul Kapur। ওয়াশিংটন ডিসিতে বাংলাদেশ দূতাবাস আয়োজিত মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় দূতাবাসে এই আয়োজন করা হয়। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিভাগ তাদের ভেরিফায়েড এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্টে এক পোস্টে কাপুরের বক্তব্য তুলে ধরে। এতে তিনি বলেন, নিরাপত্তা, বাণিজ্য ও সুশাসনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা এবং অভিন্ন মূল্যবোধ দুই দেশের সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করেছে। অনুষ্ঠানে কাপুর দুই দেশের ভবিষ্যৎ সম্পর্ক নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি ব্যবসা-বাণিজ্য, জ্বালানি, কৃষি ও নিরাপত্তা খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন। নিরাপত্তা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের অংশীদারদের মধ্যে বাংলাদেশ একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত অবস্থানে রয়েছে। সমুদ্র বা সীমান্তে যেকোনো পরিবর্তন শুধু আঞ্চলিক নয়, বৈশ্বিক নিরাপত্তার ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ যেন তার সার্বভৌমত্ব ও সামুদ্রিক এলাকা সুরক্ষার পাশাপাশি জটিল ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিতে স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারে—সে লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র সহযোগিতা করতে আগ্রহী। চীনের নাম সরাসরি উল্লেখ না করলেও ভূরাজনৈতিক প্রতিযোগিতার ইঙ্গিত দিয়ে কাপুর বলেন, “আমরা বাংলাদেশকে কোনো পক্ষ বেছে নিতে চাপ দিই না। বরং উন্নত প্রযুক্তি ও সহযোগিতার সুযোগ দিই, যাতে বাংলাদেশ নিজস্ব স্বার্থ অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নিতে পারে।”
ইরান চলমান সংঘাতের অবসানে সদিচ্ছা দেখাচ্ছে, তবে ভবিষ্যতে একই ধরনের হামলার পুনরাবৃত্তি না হওয়া নিশ্চিত করতে চায়। এমনটাই জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পেজেশকিয়ান ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও কস্তা-র সঙ্গে টেলিফোনে আলাপকালে বলেন, “সংঘাতের অবসান ঘটাতে আমাদের প্রয়োজনীয় সদিচ্ছা রয়েছে। তবে স্থায়ী সমঝোতার জন্য অপরিহার্য শর্ত পূরণ হতে হবে, বিশেষ করে ভবিষ্যতে আগ্রাসন যেন পুনরায় না ঘটে, সেই নিশ্চয়তা থাকতে হবে।” ইরান দীর্ঘদিন ধরে জানিয়েছে, কেবল সাময়িক যুদ্ধবিরতি নয়, বরং স্থায়ী নিরাপত্তা নিশ্চয়তা ছাড়া তারা কোনো সমঝোতায় যেতে আগ্রহী নয়। প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান তার অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, দেশের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার নিশ্চয়তা তাদের জন্য প্রধান শর্ত। ইরানের যুদ্ধ শেষের সম্ভাবনার ইঙ্গিত পাওয়ার পরই বৈশ্বিক আর্থিক বাজারে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। মার্কিন শেয়ারবাজারে ডাও জোন্স ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যাভারেজ সূচক ২.১ শতাংশ বেড়ে ৪৯,১৬৪.৫৫ পয়েন্টে উঠেছে। একই সময়ে এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচক ২.৫ শতাংশ বেড়ে ৬,৫০৩.০৮ পয়েন্টে পৌঁছেছে। নাসডাক কম্পোজিট সূচক প্রযুক্তি খাতের নেতৃত্বে ৩.৬ শতাংশ উত্থান দেখিয়ে ২১,৫৩৩.১৫ পয়েন্টে অবস্থান করছে।
ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি বর্তমানে নিজের দেশেই অবস্থান করছেন বলে জানিয়েছেন তেহরানে নিযুক্ত রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত অ্যালেক্সেই দেদভ। তিনি জানিয়েছেন, নিরাপত্তাজনিত কারণে খামেনি জনসমক্ষে উপস্থিত হচ্ছেন না। রুশ গণমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে দেদভ বলেন, “জনগণের বোঝা উচিত, তার জনসমক্ষে না আসার পেছনে যথেষ্ট কারণ রয়েছে। ইরান সরকার বারবার জানিয়েছে, নতুন নেতা দেশে আছেন। তবে নিরাপত্তাজনিত কারণে জনসমক্ষে আসা থেকে বিরত আছেন।” তিনি আরও বলেন, চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং নিরাপত্তা ঝুঁকিই মূল কারণ। এখনও পর্যন্ত খামেনির সঙ্গে তার কোনো সরাসরি বৈঠক হয়নি। তবে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন নতুন নেতাকে অভিনন্দন বার্তা পাঠিয়েছেন এবং তেহরানের প্রতি দৃঢ় সমর্থন ও সংহতি প্রকাশ করেছেন। এর আগে বিভিন্ন মহলে খামেনির অবস্থান নিয়ে জল্পনা তৈরি হয়েছিল। জনসমক্ষে না আসায় এমন গুঞ্জন ছড়ায় যে, তার বেঁচে থাকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। তবে তেহরান স্পষ্ট করেছে, দেশের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা বেঁচে আছেন এবং বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দিচ্ছেন।
সারা দেশের পেট্রোল পাম্পগুলোতে ক্রমবর্ধমান হামলা, বিশৃঙ্খলা এবং কর্মীদের লাঞ্ছনা রোধে জরুরি ভিত্তিতে নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম ডিলার্স, ডিস্ট্রিবিউটর্স, এজেন্ট অ্যান্ড পেট্রলপাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন। আজ মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের আহ্বায়ক সৈয়দ সাজ্জাদুল করিম কাবুল এই সংকটময় পরিস্থিতির কথা তুলে ধরেন। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, দেশে জ্বালানি তেলের কোনো স্থায়ী সংকট নেই। তা সত্ত্বেও কিছু স্থানে আতঙ্কিত হয়ে অতিরিক্ত তেল সংগ্রহের হিড়িক ও পাম্পে বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হচ্ছে। মালিকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পাম্প কর্মীরা দিনরাত সেবা দিলেও বিভিন্ন স্থানে তারা হয়রানি ও হামলার শিকার হচ্ছেন, যা পাম্প পরিচালনার পরিবেশকে ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলছে। নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা ফেরাতে ৮ দফা প্রস্তাব: পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সংগঠনটির পক্ষ থেকে আটটি সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব পেশ করা হয়েছে: ১. পাম্পের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। ২. বাস্তব পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে তেল সরবরাহ সমন্বয়। ৩. ক্রেতা বা ভোক্তাদের মধ্যে সচেতনতা ও ধৈর্য বাড়ানো। ৪. পাম্পে সব ধরনের হুমকি বা বিশৃঙ্খলা কঠোরহস্তে দমন। ৫. পেট্রোল ও অকটেন বিক্রির সময় সকাল ৭টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত নির্ধারণ (পরীক্ষামূলক)। ৬. জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা। ৭. ট্যাংকলরিতে পূর্ণ ধারণক্ষমতা অনুযায়ী তেল সরবরাহ নিশ্চিত করা। ৮. সরকারি মনিটরিং ব্যবস্থা আরও জোরদার করা এবং অহেতুক দোষারোপ বন্ধ করা। সংগঠনটি স্পষ্ট করেছে যে, রাতের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পেট্রোল ও অকটেন সরবরাহ সীমিত রাখার প্রস্তাব দেওয়া হলেও ডিজেল সরবরাহ স্বাভাবিক থাকবে, যাতে পণ্যবাহী ও গণপরিবহন চলাচলে কোনো বিঘ্ন না ঘটে। জনগণকে আতঙ্কিত না হয়ে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়েছে মালিক সমিতি।
লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরে পণ্যবাহী বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে চরম উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। ইরান সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা বাণিজ্যিক জাহাজে পুনরায় বড় ধরনের হামলা শুরু করতে পারে—এমন গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ইয়েমেন জলসীমা এড়িয়ে চলার জন্য জরুরি সতর্কতা জারি করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংস্থা। শনিবার ইসরায়েল অভিমুখে হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ এবং ভবিষ্যতে আরও ভয়াবহ হামলার হুমকির প্রেক্ষাপটে এই বিশেষ সতর্কতা জারি করা হয়। বিবিসির প্রধান আন্তর্জাতিক সংবাদদাতা লিজ ডুসেট জানিয়েছেন, উত্তর-পশ্চিম ইয়েমেন নিয়ন্ত্রণকারী হুথিরা এখন পর্যন্ত তাদের সবচেয়ে শক্তিশালী কৌশলগত অস্ত্র ‘বাব আল-মান্দাব’ প্রণালি পুরোপুরি বন্ধ করেনি। তবে এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথটি যেকোনো সময় অবরুদ্ধ হওয়ার উচ্চঝুঁকি তৈরি হয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের নেভাল ফোর্স ‘অ্যাসপাইডস’ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলের মালিকানাধীন অথবা তাদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট জাহাজগুলোর জন্য ইয়েমেন উপকূল এখন অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ইসরায়েলি সংশ্লিষ্টতা আছে এমন জাহাজের ক্ষেত্রে হুমকির মাত্রা এখন ‘সর্বোচ্চ’। অন্যদিকে, অন্যান্য সাধারণ বাণিজ্যিক জাহাজের ক্ষেত্রে এই হুমকির মাত্রা ‘মাঝারি’ পর্যায়ে রয়েছে। উল্লেখ্য, গত ২০২৩ সালের নভেম্বর থেকে ফিলিস্তিনিদের প্রতি সংহতি প্রকাশ করে লোহিত সাগরে ইসরায়েলগামী ও পশ্চিমা জাহাজে একের পর এক হামলা চালিয়ে আসছে হুথি বিদ্রোহীরা। বর্তমান পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য রুটটি নিরাপদ না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট এলাকা এড়িয়ে চলতে নাবিক ও জাহাজ কোম্পানিগুলোকে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
ইরান-সমর্থিত একটি সশস্ত্র গোষ্ঠী জর্ডানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল সংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে হামলার পরিকল্পনার ঘোষণা দিয়েছে। ইরাকভিত্তিক এই গোষ্ঠী আশাব আল-কাহফ টেলিগ্রামে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা তাদের সামরিক কার্যক্রম জোরদার করছে এবং যুক্তরাষ্ট্র-সম্পর্কিত স্থানের আশপাশে না যেতে সাধারণ মানুষকে সতর্ক করেছে। গত কয়েক বছরে যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের মিত্রদের সামরিক ঘাঁটি এবং ইরাকে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসে একাধিক রকেট হামলার দায় স্বীকার করেছে এই গোষ্ঠী। সাম্প্রতিক ঘোষণাকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এদিকে, চলমান সংঘাতের মধ্যে জর্ডান সশস্ত্র বাহিনী জানিয়েছে, ইরান থেকে ছোড়া ২২টি ক্ষেপণাস্ত্রের মধ্যে ২০টি তারা ভূপাতিত করতে সক্ষম হয়েছে। রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা পেট্রা নিউজ এজেন্সি এক সামরিক বিবৃতির বরাতে এ তথ্য প্রকাশ করেছে। সামরিক বিবৃতিতে আরও বলা হয়, সংঘাত শুরুর পর থেকে জর্ডানের বিমান বাহিনী মোট ২৪২টি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ধ্বংস করেছে। তবে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতার কারণে অন্তত ২০টি হামলা প্রতিহত করা সম্ভব হয়নি। বিশ্লেষকদের মতে, জর্ডানে নতুন করে হামলার হুমকি বাস্তবায়িত হলে তা শুধু দেশটির নিরাপত্তাই নয়, বরং পুরো অঞ্চলের ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে।
বিশ্ববাজারে অস্থিতিশীলতা আর মধ্যপ্রাচ্য সংকটের জেরে দেশে জ্বালানি তেলের কৃত্রিম সংকট ও অবৈধ মজুত ঠেকাতে কঠোর অবস্থান নিয়েছে সরকার। জ্বালানি তেলের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করতে এবং বিপণন ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফেরাতে দেশের ১৯টি গুরুত্বপূর্ণ ডিপোতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মোতায়েন করা হয়েছে। শনিবার (২৮ মার্চ) বিজিবি সদর দফতরের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. শরীফুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে গত ২৫ মার্চ সকাল থেকেই ঢাকা, রাজশাহী, সিলেট ও রংপুরসহ দেশের মোট ৯টি জেলার ১৯টি ডিপোতে বিজিবি সদস্যরা তাদের দায়িত্ব পালন শুরু করেছেন। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ডিপোগুলোর নিরাপত্তা এবং মজুতদারদের অপতৎপরতা রুখতে বিজিবি সদর দফতরের সরাসরি তত্ত্বাবধানে এই কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। দায়িত্বরত সদস্যরা নিজস্ব ইউনিট থেকে দূরে হওয়ায় সুবিধাজনক স্থানে অস্থায়ী 'বেইজ ক্যাম্প' স্থাপন করে অভিযান ও তদারকি চালাচ্ছেন। একজন কর্মকর্তার নেতৃত্বে এসব ক্যাম্পে নিয়মিত প্রশাসনিক ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হচ্ছে। যেসব এলাকায় মোতায়েন রয়েছে বিজিবি: রংপুর বিভাগ: রংপুর (৩টি), কুড়িগ্রাম (২টি)। রাজশাহী বিভাগ: রাজশাহী (৩টি)। সিলেট বিভাগ: সিলেট (২টি), মৌলভীবাজার (৩টি), সুনামগঞ্জ (১টি)। চট্টগ্রাম ও ঢাকা: কুমিল্লা (৩টি), ব্রাহ্মণবাড়িয়া (১টি) এবং ঢাকা (১টি)। ডিপোর পাশাপাশি সীমান্ত দিয়ে জ্বালানি তেল পাচার রোধে বিজিবি জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে। সীমান্ত এলাকায় অতিরিক্ত টহল, নৌ-টহল এবং চেকপোস্টে তল্লাশি জোরদার করা হয়েছে। বিশেষ করে সীমান্তবর্তী আইসিপি ও এলসিপিগুলোতে আমদানি-রপ্তানি কাজে ব্যবহৃত ট্রাক ও লরিতে নিয়মিত তল্লাশি চালানো হচ্ছে। যেকোনো ধরনের নাশকতা বা অবৈধ মজুত ঠেকাতে বিজিবির গোয়েন্দা নজরদারি এখন তুঙ্গে। ডিপো কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে দ্রুত তথ্য আদান-প্রদান এবং জনমনে আস্থা ফেরাতে বিজিবির এই সক্রিয় উপস্থিতি জ্বালানি খাতের শৃঙ্খলা রক্ষায় বড় ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তজনা ও নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে ইরাকে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের অবিলম্বে দেশ ত্যাগের নির্দেশ দিয়েছে বাগদাদে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস। বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ, ২০২৬) এক বিশেষ নিরাপত্তা বার্তায় দূতাবাস জানায়, ইরান-ঘনিষ্ঠ সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো ইরাকজুড়ে মার্কিন নাগরিক এবং ওয়াশিংটন সংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলোতে ‘ব্যাপক আকারে’ হামলা চালিয়েছে। দূতাবাসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ইরাকের কুর্দিস্তান অঞ্চলসহ বিভিন্ন এলাকায় এই হামলার বিস্তার ঘটেছে। ইরাকি আকাশসীমায় বর্তমানে মিসাইল, ড্রোন এবং রকেট হামলার চরম ঝুঁকি থাকায় নাগরিকদের বাগদাদের দূতাবাস বা এরবিলের কনস্যুলেট জেনারেলের দিকে না আসার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। নিরাপত্তা বার্তায় আরও বলা হয়, ইরাকের আকাশপথ বর্তমানে বন্ধ রয়েছে এবং বাণিজ্যিক বিমান চলাচল স্থগিত করা হয়েছে। এই অবস্থায় দেশ ছাড়তে ইচ্ছুক নাগরিকদের জর্ডান, কুয়েত, সৌদি আরব এবং তুরস্কের সীমান্ত ব্যবহার করে স্থলপথে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্ট ইরাককে ‘লেভেল ফোর’ বা ‘ভ্রমণ নিষিদ্ধ’ দেশের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।