মার্কিন সেনাবাহিনীতে যৌ ন নিপীড়নের শিকার ২০ হাজারের বেশি সদস্য, পেন্টাগনের রিপোর্টে উদ্বেগ
যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীতে যৌন নিপীড়ন ও হয়রানির হার গত দুই বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। তবে এখনো এই সংখ্যা যথেষ্ট উদ্বেগজনক পর্যায়ে রয়ে গেছে। শুক্রবার (২১ আগস্ট) প্রকাশিত মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের ২০২৫ অর্থবছরের বার্ষিক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, এই বছরে আনুমানিক ২০ হাজার ৪৯২ জন সামরিক সদস্য অনিচ্ছাকৃত যৌন সংস্পর্শ বা নিপীড়নের শিকার হয়েছেন।
দুই বছর আগের পরিসংখ্যানের তুলনায় এই সংখ্যা প্রায় সাড়ে আট হাজার কম। মার্কিন কংগ্রেসের নির্দেশনায় পরিচালিত কর্মক্ষেত্রের অভিজ্ঞতা জরিপের ভিত্তিতে তৈরি এই প্রতিবেদনে সামরিক বাহিনীতে লিঙ্গভিত্তিক বৈষম্য এবং হয়রানির প্রকৃত চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।
প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, সক্রিয় নারী ও পুরুষ—উভয় সদস্যের ক্ষেত্রেই যৌন নিপীড়নের হার দৃশ্যমানভাবে কমেছে। নারী সদস্যদের মধ্যে ২০২৩ সালে যেখানে যৌন নিপীড়নের হার ছিল ৬ দশমিক ৮ শতাংশ, ২০২৫ সালে তা কমে ৪ দশমিক ৩ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।
একইভাবে পুরুষ সদস্যদের ক্ষেত্রে এই হার ১ দশমিক ৩ শতাংশ থেকে কমে ১ শতাংশে নেমে এসেছে। শুধু নিপীড়ন নয়, সামরিক বাহিনীতে সার্বিক যৌন হয়রানির ঘটনাও আগের তুলনায় হ্রাস পেয়েছে। ২০২৩ সালে প্রায় ২৪ দশমিক ৭ শতাংশ নারী সদস্য হয়রানির শিকার হলেও ২০২৫ সালে তা ১৭ দশমিক ৫ শতাংশে নেমেছে। পুরুষদের ক্ষেত্রে এটি ৫ দশমিক ৮ শতাংশ থেকে কমে ৪ দশমিক ৪ শতাংশ হয়েছে।
আশার কথা হলো, নিপীড়নের শিকার হওয়ার পর তা কর্তৃপক্ষের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানোর প্রবণতা সামরিক সদস্যদের মধ্যে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৩ সালে যেখানে মাত্র ২৫ শতাংশ ঘটনা সরকারি প্রক্রিয়ায় রিপোর্ট করা হতো, ২০২৫ সালে তা বেড়ে ৩৩ শতাংশে উন্নীত হয়েছে।
মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের মতে, অভিযোগ জানানোর এই বৃদ্ধি অত্যন্ত ইতিবাচক একটি দিক। এর ফলে ভুক্তভোগীরা প্রয়োজনীয় চিকিৎসা, মানসিক সহায়তা ও পুনর্বাসন সেবা সহজে পাচ্ছেন। পাশাপাশি অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষীদের দ্রুত জবাবদিহির আওতায় আনাও সম্ভব হচ্ছে।
মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের জনবল ও প্রস্তুতিবিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি অ্যান্থনি জে. টাটা এই প্রসঙ্গে বলেন, মর্যাদা, সম্মান ও শৃঙ্খলাই হলো সামরিক বাহিনীর মূল ভিত্তি। যৌন নিপীড়ন ও হয়রানির মতো ঘটনা এসব মূল্যবোধকে চরমভাবে ক্ষুণ্ন করে এবং বাহিনীর সার্বিক কার্যক্রমকে হুমকির মুখে ফেলে।
উল্লেখ্য, প্রতিবেদনে উল্লেখিত ২০ হাজার ৪৯২ জনের হিসাবটি শুধুমাত্র আনুষ্ঠানিক অভিযোগ নয়, বরং জরিপের মাধ্যমে উঠে আসা একটি প্রাক্কলন। এই পরিসংখ্যানে এমন অনেক ঘটনার কথাও যুক্ত রয়েছে, যা কখনোই কর্তৃপক্ষের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি। হার কমার এই ইতিবাচক খবরের পরও বিপুলসংখ্যক সদস্যের এমন তিক্ত অভিজ্ঞতার শিকার হওয়ার বিষয়টি মার্কিন সামরিক প্রশাসনের জন্য এক বড় উদ্বেগের কারণ হিসেবেই থেকে যাচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreনিউইয়র্কের স্ট্যাটেন আইল্যান্ড ফেরিতে অবস্থিত 'ডানকিন ডোনাটস'-এর একটি আউটলেটে এক মুসলিম কর্মীর ওজু করার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর কর্মক্ষেত্রে ধর্মীয় অধিকার নিয়ে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। ভাইরাল হওয়া ভিডিওটিতে দেখা যায়, ওই কর্মী নামাজের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে কাউন্টারের পেছনের কিচেন সিঙ্কে নিজের পা পরিষ্কার করছেন এবং নিচে একটি জায়নামাজ বিছানো রয়েছে। কর্মক্ষেত্রে ইবাদত পালনের জন্য নির্দিষ্ট কোনো স্থান বা ওজুর সুব্যবস্থা না থাকায় বাধ্য হয়েই তাকে এই জায়গাটি বেছে নিতে হয়েছে। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর আমেরিকায় কর্মরত মুসলিমদের প্রতিদিনের লড়াই এবং তাদের ধর্মীয় অধিকারের প্রতি অনেক নিয়োগকর্তার উদাসীনতার বিষয়টি নতুন করে সামনে এসেছে। ইসলাম ধর্মে দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করা বাধ্যতামূলক এবং এর পূর্বশর্ত হিসেবে ওজু বা পবিত্রতা অর্জন করা অপরিহার্য। ওজুর নিয়মানুযায়ী হাত, মুখ ও মাথা মাসেহ করার পাশাপাশি পা ধোয়াও একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। ভিডিওতে স্পষ্টতই বোঝা যায় যে, ওই কর্মী চরম প্রতিকূল পরিবেশেও তার ধর্মীয় বাধ্যবাধকতার প্রতি কতটা নিবেদিত ছিলেন। অনলাইনে কেউ কেউ খাবার তৈরির স্থানে পা ধোয়ার বিষয়টিকে কেন্দ্র করে স্বাস্থ্যবিধির প্রশ্ন তুললেও, বিপুলসংখ্যক মানুষ ওই কর্মীর পক্ষে দাঁড়িয়েছেন। সচেতন নেটিজেনরা বলছেন, একজন ধর্মপ্রাণ কর্মীকে কেন এমন পরিস্থিতিতে পড়তে হবে, তার দায়ভার কর্তৃপক্ষেরও নেওয়া উচিত। যদি আউটলেটটিতে কর্মীদের জন্য আলাদা ওয়াশরুম বা ইবাদতের নির্দিষ্ট স্থান থাকত, তবে তাকে এমন আপস করতে হতো না। নিউইয়র্ক সিটি স্বাস্থ্য বিভাগ ও ফেরি পরিচালনাকারী সংস্থা ইতোমধ্যে খাদ্য নিরাপত্তার বিষয়টি সামনে এনে তদন্ত শুরু করেছে। তবে এই ঘটনার প্রেক্ষাপটে সহানুভূতিশীল সাধারণ মানুষ ডানকিন ডোনাটসসহ অন্যান্য কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি আরও মানবিক হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই মন্তব্য করেছেন যে, কেবল শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়াই এর সুষ্ঠু সমাধান নয়, বরং মুসলিম কর্মীদের জন্য 'উপযুক্ত ধর্মীয় সুবিধা' বা রিলিজিয়াস অ্যাকোমোডেশন নিশ্চিত করা উচিত।
নিউইয়র্কে ফ্রি বাসের প্রতিশ্রুতি অধরা, আপাতত ২০ শতাংশ গতি বাড়িয়ে যাত্রীদের সময় বাঁচাতে মামদানির উদ্যোগ
মার্কিন সেনাবাহিনীতে যৌ ন নিপীড়নের শিকার ২০ হাজারের বেশি সদস্য, পেন্টাগনের রিপোর্টে উদ্বেগ
ইমিগ্রেশনে জালিয়াতি ঠেকাতে ১০০ মিলিয়ন ডলারের নতুন প্রযুক্তি আনছে ইউএসসিআইএস
চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী মেজবান ও সাংস্কৃতিক আয়োজনে যোগ দিতে ভার্জিনিয়ার পথে রয়েছেন জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী নকীব খান ও প্রতীক হাসান। নিউইয়র্কের LaGuardia Airport-এর লবিতে অপেক্ষারত অবস্থায় দুই শিল্পীর একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশের পর তা নিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। প্রতীক হাসান তার ফেসবুক পোস্টে নকীব খানের সঙ্গে তোলা ছবিটি প্রকাশ করেছেন। ছবিতে দুজনকে এয়ারপোর্টের লাউঞ্জে পাশাপাশি বসে থাকতে দেখা যায়। তারা নিউইয়র্ক থেকে ভার্জিনিয়ার অনুষ্ঠানে যোগ দিতে যাওয়ার পথে রয়েছেন। আগামীকাল ২৩ আগস্ট, রোববার, ভার্জিনিয়ার আলেকজান্দ্রিয়ার Fort Hunt Park-এর Shelter A-001-এ অনুষ্ঠিত হবে চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী মেজবান ও সাংস্কৃতিক আয়োজন। বাংলাদেশি-আমেরিকান আইটি পিপলস অর্গানাইজেশন বা বাইটপোর উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠান সকাল ১১টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত চলবে। আয়োজনের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ বাংলাদেশের কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী নকীব খানের লাইভ পারফরম্যান্স। তার সঙ্গে মঞ্চে গান পরিবেশন করবেন জনপ্রিয় শিল্পী প্রতীক হাসানসহ আরও কয়েকজন শিল্পী। বৃহত্তর ওয়াশিংটন ডিসি মেট্রো এলাকায় নকীব খানের এই লাইভ পরিবেশনা ঘিরে এরই মধ্যে প্রবাসীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, মেজবানের পাশাপাশি অনুষ্ঠানে থাকছে সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, ফ্যাশন শো, বিভিন্ন গেমস এবং র্যাফেল ড্র। র্যাফেল ড্রতে হীরার আংটি, ল্যাপটপ ও টেলিভিশনসহ বিভিন্ন পুরস্কারের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। বাইটপোর প্রেসিডেন্ট সামছুদ্দীন মাহমুদ ও ইভেন্ট কো-অর্ডিনেটর স্যাম রিয়ার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এবারের আয়োজনকে আগের বছরের তুলনায় আরও বড় পরিসরে করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পরিবার ও বন্ধুদের নিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিদের অংশগ্রহণে এটি একটি বড় কমিউনিটি মিলনমেলায় পরিণত হবে বলে আশা করছেন আয়োজকরা। এদিকে শিল্পীদের আগমন উপলক্ষে আজ শনিবার বিকেলে ভার্জিনিয়ার উডব্রিজে একটি বিশেষ মিট অ্যান্ড গ্রিট অনুষ্ঠানেরও আয়োজন করা হয়েছে। সেখানে আয়োজক, স্পন্সর ও শিল্পীদের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী মেজবানি খাবারের স্বাদ, দেশের জনপ্রিয় শিল্পীদের সরাসরি সংগীত পরিবেশনা এবং নানা সাংস্কৃতিক আয়োজন মিলিয়ে এবারের মেজবানকে ঘিরে উত্তর ভার্জিনিয়ার প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে উৎসবের আমেজ তৈরি হয়েছে।
সন্ত্রাসবাদের পৃষ্ঠপোষক রাষ্ট্রের তালিকা থেকে সিরিয়াকে বাদ দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র
টাকা বাঁচাতে যুক্তরাষ্ট্রেই বাবার শেষকৃত্য, চার বছর পর আফসোস ‘কেন তাকে দেশে নিয়ে যেতে পারলাম না’
৬ মাসে শেখা যায় এমন ১০ দক্ষতা, যা যুক্তরাষ্ট্রের চাকরির বাজারে কাজে লাগতে পারে
ট্রাম্প প্রশাসন আপিল না করলে শিগগিরই ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য স্থগিত থাকা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু আবার শুরু হওয়ার পথ খুলে যেতে পারে। শুক্রবার নিউইয়র্কের একটি ফেডারেল আদালত ট্রাম্প প্রশাসনের এই ভিসা স্থগিত নীতিকে অবৈধ ঘোষণা করে তা বাতিলের নির্দেশ দিয়েছেন। ম্যানহাটনের ফেডারেল ডিস্ট্রিক্ট জজ জেনেট ভার্গাসের দেওয়া রায়ে বলা হয়েছে, ৭৫ দেশের নাগরিকদের জাতীয়তার ভিত্তিতে ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু বন্ধ করার ক্ষেত্রে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও আইনগত ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করেছেন। আদালত আরও বলেছে, এই নীতি ফেডারেল ইমিগ্রেশন আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ৭৫টি দেশের নাগরিকদের ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু স্থগিত করে। এর মধ্যে বাংলাদেশও রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের জন্য আবেদন করা এসব দেশের নাগরিকদের ভিসা প্রসেসিং কার্যত অনির্দিষ্ট সময়ের জন্য আটকে যায়। স্টেট ডিপার্টমেন্ট ওই সিদ্ধান্তের পেছনে মূলত ‘পাবলিক চার্জ’ ঝুঁকির কথা উল্লেখ করেছিল। অর্থাৎ যুক্তরাষ্ট্রে আসার পর কোনো আবেদনকারী সরকারি সুবিধার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়তে পারেন কি না, সেটিকে নীতির অন্যতম কারণ হিসেবে দেখানো হয়েছিল। এই নীতির বিরুদ্ধে ক্যাথলিক লিগাল ইমিগ্রেশন নেটওয়ার্ক, ইএনসি ও আফ্রিকান কমিউনিটিজ টুগেদার এবং ক্ষতিগ্রস্ত ভিসা আবেদনকারী ও যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের পক্ষ থেকে মামলা করা হয়। মামলাটির নাম ক্লিনিক বনাম রুবিও। শুক্রবারের রায়ে আদালত শুধু ৭৫ দেশের ওপর ভিসা স্থগিতের নীতিই বাতিল করেনি, এই নীতির ভিত্তিতে যেসব ভিসা আবেদন প্রত্যাখ্যান করা হয়েছিল, সেগুলোও পুনর্বিবেচনার জন্য স্টেট ডিপার্টমেন্টকে ফেরত নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী ভিসা আবেদনগুলো আবার আইন অনুযায়ী পৃথকভাবে, অর্থাৎ কেস -বাই-কেস ভিত্তিতে মূল্যায়ন করতে হবে। তবে আদালতের রায়ের অর্থ এই নয় যে ৭৫ দেশের সব আবেদনকারীকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভিসা দেওয়া হবে। আবেদনকারীদের অন্যান্য সব ইমিগ্রেশন ও ভিসা সংক্রান্ত যোগ্যতা পূরণ করতে হবে এবং কনস্যুলার কর্মকর্তারা প্রতিটি আবেদন আলাদাভাবে পর্যালোচনা করবেন। এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে ট্রাম্প প্রশাসনের পরবর্তী পদক্ষেপ। প্রশাসন এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করবে কি না, অথবা রায় স্থগিত রাখার জন্য উচ্চ আদালতের কাছে আবেদন করবে কি না, সেটিই নির্ধারণ করবে ভিসা ইস্যু কত দ্রুত স্বাভাবিক হতে পারে। শুক্রবারের রায়ের পর শনিবার সকাল পর্যন্ত স্টেট ডিপার্টমেন্টের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে প্রকাশ্য কোনো সিদ্ধান্ত বা নতুন নির্দেশনা পাওয়া যায়নি। ফলে ৭৫ দেশের নাগরিকদের জন্য ভিসা ইস্যু এখনই শুরু হয়েছে বলা যাচ্ছে না। মামলাটির বাদীপক্ষের আইনজীবী ও অভিবাসন অধিকার সংগঠনগুলো অবশ্য আদালতের রায়কে স্বাগত জানিয়েছে। ন্যাশনাল ইমিগ্রেশন ল জানিয়েছে, আদালতের সিদ্ধান্তের ফলে ৭৫ দেশের আবেদনকারীদের জন্য আবার আইন অনুযায়ী পৃথকভাবে ভিসা আবেদন পর্যালোচনার সুযোগ তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশি আবেদনকারীদের জন্যও এই রায় গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে যেসব আবেদনকারী ইমিগ্র্যান্ট ভিসার ইন্টারভিউ দিয়েছেন, ভিসা ইস্যুর অপেক্ষায় রয়েছেন অথবা শুধুমাত্র ৭৫ দেশের স্থগিত নীতির কারণে ভিসা পাননি, তাদের ক্ষেত্রে পরবর্তী নির্দেশনা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। তবে সংশ্লিষ্ট আবেদনকারীদের এখনই নতুন করে আবেদন করার আগে বা কোনো অতিরিক্ত পদক্ষেপ নেওয়ার আগে নিজেদের কেসের সর্বশেষ স্ট্যাটাস এবং সংশ্লিষ্ট মার্কিন দূতাবাস বা কনস্যুলেটের নির্দেশনা অনুসরণ করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। আদালতের রায় কার্যকর করার বিষয়ে স্টেট ডিপার্টমেন্টের আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা এলে তখন স্পষ্ট হবে কোন আবেদন কীভাবে আবার প্রসেস করা হবে।
ইমিগ্রেশন কড়াকড়ির মধ্যেও মেধাবী তরুণের গ্রিন কার্ড, জানালেন অ্যাটর্নি মঈন চৌধুরী
যুক্তরাষ্ট্রে নতুনদের জন্য তুলনামূলক সহজে শুরু করা যায় ১০টি চাকরি