- প্রচ্ছদ
- Topic
যৌন নিপীড়ন
বিদেশে মোতায়েন যুক্তরাষ্ট্রের সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে ওঠা যৌন নিপীড়নের অভিযোগের এক-চতুর্থাংশেরও বেশি ঘটেছে পোল্যান্ডে। মার্কিন কংগ্রেসের চাহিদার প্রেক্ষিতে তৈরি সামরিক বাহিনীর বার্ষিক যৌন নিপীড়ন বিষয়ক নতুন এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। ইউক্রেন যুদ্ধের জেরে ন্যাটো জোটের পূর্বাঞ্চলীয় নিরাপত্তা জোরদার করতে গত বছর পোল্যান্ডে অতিরিক্ত ১০ হাজার সেনা মোতায়েন করে যুক্তরাষ্ট্র। এর ফলে ইউরোপের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা ঘাঁটিতে পরিণত হওয়া দেশটিতে গত বছর মার্কিন সেনাদের দ্বারা ৭৩টি যৌন নিপীড়নের ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে। যদিও প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিশ্বজুড়ে মার্কিন সামরিক বাহিনীর সদস্যদের যৌন নিপীড়নের ঘটনা সামগ্রিকভাবে প্রায় ২ শতাংশ কমেছে। পরিসংখ্যানে দেখা যায়, মার্কিন সেনা মোতায়েন রয়েছে এমন অন্য যেকোনো দেশের তুলনায় পোল্যান্ডে যৌন নিপীড়নের হার দ্বিগুণেরও বেশি এবং টানা তৃতীয় বছরের মতো দেশটি এই তালিকায় শীর্ষে অবস্থান করছে। অথচ জার্মানিতে পোল্যান্ডের তুলনায় তিনগুণ বেশি (প্রায় ৩৫ হাজার) মার্কিন সেনা মোতায়েন থাকলেও সেখানে এমন ঘটনার হার তুলনামূলক কম। মার্কিন কংগ্রেসের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা পোল্যান্ডে এই সমস্যার এতটা প্রকট হওয়ার সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ ব্যাখ্যা করতে পারেননি। তবে কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা পরিস্থিতি কতটা ভয়াবহ তার প্রমাণ দেয়। উদাহরণস্বরূপ, গত জুনে সেনাবাহিনীর পেট্রোলিয়াম সরবরাহ বিশেষজ্ঞ সার্জেন্ট উলরিখ কামেনি দুজন নারীকে নিপীড়ন ও অপর একজনের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের কথা স্বীকার করেন। ক্যাম্প কোসিয়ুসকোতে সামরিক আদালতের বিচারে তাকে তিন বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। প্রসিকিউটরদের তথ্যমতে, ২০২৩ সালে প্রণয়ের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় নিজ তত্ত্বাবধানে থাকা এক নারী সেনাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেছিলেন কামেনি। এরপর ২০২৪ সালে পোল্যান্ডের জিলোনা গোরার একটি বারে মদ্যপ অবস্থায় এক পোলিশ নারীর ঘাড় চেপে ধরে তাকে আহত করেন তিনি। প্রতিরক্ষা বিভাগের সার্বিক তথ্য অনুযায়ী, গত অর্থবছরে বিশ্বজুড়ে মার্কিন সেনাদের জড়িত থাকার ৮ হাজার ১৯৬টি যৌন নিপীড়নের অভিযোগ কমে এ বছর তা ৭ হাজার ৯৯৮টিতে দাঁড়িয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে ১ হাজার ৩২১ জনের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে। তবে জরিপের তথ্য বলছে, প্রকৃত সংখ্যা এর চেয়ে অনেক বেশি হতে পারে, কারণ ভুক্তভোগীদের মাত্র এক-তৃতীয়াংশ আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ দায়ের করেন। বিদেশে মোতায়েন সেনাদের মোট ২৪৬টি যৌন নিপীড়নের ঘটনার মধ্যে পোল্যান্ডের পরই রয়েছে কুয়েত (৩০), কাতার (২৪), ইরাক (২৩) ও রোমানিয়া (২০)। দীর্ঘ বছর ধরে এই সমস্যা সমাধানে সোচ্চার ডেমোক্র্যাট সিনেটর কার্স্টেন গিলিব্র্যান্ড সার্বিক হার ২ শতাংশ কমে আসাকে একটি 'ইতিবাচক অগ্রগতি' হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। মার্কিন সেনাবাহিনীর মুখপাত্র মেজর ট্রাভিস শ পোল্যান্ড নিয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো মন্তব্য না করলেও জানিয়েছেন, সেনাবাহিনী তাদের পদমর্যাদার মধ্যে যেকোনো ধরনের যৌন হয়রানি নির্মূল করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ এবং অপরাধীদের জবাবদিহিতার আওতায় আনতে কাজ করে যাচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীতে যৌন নিপীড়ন ও হয়রানির হার গত দুই বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। তবে এখনো এই সংখ্যা যথেষ্ট উদ্বেগজনক পর্যায়ে রয়ে গেছে। শুক্রবার (২১ আগস্ট) প্রকাশিত মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের ২০২৫ অর্থবছরের বার্ষিক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, এই বছরে আনুমানিক ২০ হাজার ৪৯২ জন সামরিক সদস্য অনিচ্ছাকৃত যৌন সংস্পর্শ বা নিপীড়নের শিকার হয়েছেন। দুই বছর আগের পরিসংখ্যানের তুলনায় এই সংখ্যা প্রায় সাড়ে আট হাজার কম। মার্কিন কংগ্রেসের নির্দেশনায় পরিচালিত কর্মক্ষেত্রের অভিজ্ঞতা জরিপের ভিত্তিতে তৈরি এই প্রতিবেদনে সামরিক বাহিনীতে লিঙ্গভিত্তিক বৈষম্য এবং হয়রানির প্রকৃত চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, সক্রিয় নারী ও পুরুষ—উভয় সদস্যের ক্ষেত্রেই যৌন নিপীড়নের হার দৃশ্যমানভাবে কমেছে। নারী সদস্যদের মধ্যে ২০২৩ সালে যেখানে যৌন নিপীড়নের হার ছিল ৬ দশমিক ৮ শতাংশ, ২০২৫ সালে তা কমে ৪ দশমিক ৩ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। একইভাবে পুরুষ সদস্যদের ক্ষেত্রে এই হার ১ দশমিক ৩ শতাংশ থেকে কমে ১ শতাংশে নেমে এসেছে। শুধু নিপীড়ন নয়, সামরিক বাহিনীতে সার্বিক যৌন হয়রানির ঘটনাও আগের তুলনায় হ্রাস পেয়েছে। ২০২৩ সালে প্রায় ২৪ দশমিক ৭ শতাংশ নারী সদস্য হয়রানির শিকার হলেও ২০২৫ সালে তা ১৭ দশমিক ৫ শতাংশে নেমেছে। পুরুষদের ক্ষেত্রে এটি ৫ দশমিক ৮ শতাংশ থেকে কমে ৪ দশমিক ৪ শতাংশ হয়েছে। আশার কথা হলো, নিপীড়নের শিকার হওয়ার পর তা কর্তৃপক্ষের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানোর প্রবণতা সামরিক সদস্যদের মধ্যে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৩ সালে যেখানে মাত্র ২৫ শতাংশ ঘটনা সরকারি প্রক্রিয়ায় রিপোর্ট করা হতো, ২০২৫ সালে তা বেড়ে ৩৩ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের মতে, অভিযোগ জানানোর এই বৃদ্ধি অত্যন্ত ইতিবাচক একটি দিক। এর ফলে ভুক্তভোগীরা প্রয়োজনীয় চিকিৎসা, মানসিক সহায়তা ও পুনর্বাসন সেবা সহজে পাচ্ছেন। পাশাপাশি অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষীদের দ্রুত জবাবদিহির আওতায় আনাও সম্ভব হচ্ছে। মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের জনবল ও প্রস্তুতিবিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি অ্যান্থনি জে. টাটা এই প্রসঙ্গে বলেন, মর্যাদা, সম্মান ও শৃঙ্খলাই হলো সামরিক বাহিনীর মূল ভিত্তি। যৌন নিপীড়ন ও হয়রানির মতো ঘটনা এসব মূল্যবোধকে চরমভাবে ক্ষুণ্ন করে এবং বাহিনীর সার্বিক কার্যক্রমকে হুমকির মুখে ফেলে। উল্লেখ্য, প্রতিবেদনে উল্লেখিত ২০ হাজার ৪৯২ জনের হিসাবটি শুধুমাত্র আনুষ্ঠানিক অভিযোগ নয়, বরং জরিপের মাধ্যমে উঠে আসা একটি প্রাক্কলন। এই পরিসংখ্যানে এমন অনেক ঘটনার কথাও যুক্ত রয়েছে, যা কখনোই কর্তৃপক্ষের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি। হার কমার এই ইতিবাচক খবরের পরও বিপুলসংখ্যক সদস্যের এমন তিক্ত অভিজ্ঞতার শিকার হওয়ার বিষয়টি মার্কিন সামরিক প্রশাসনের জন্য এক বড় উদ্বেগের কারণ হিসেবেই থেকে যাচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ওমাহায় শিশুদের ওপর যৌন নিপীড়ন ও পাচারের বিরুদ্ধে একটি বড়সড় আন্ডারকভার অভিযান চালিয়েছে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট বা আইসিই। সংস্থাটির হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ইনভেস্টিগেশনস (এইচএসআই) বিভাগের নেতৃত্বে পরিচালিত এই অভিযানে পাঁচজন সন্দেহভাজন শিশু নিপীড়ককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শিশুদের যৌন নির্যাতনের উদ্দেশ্যে যারা অনলাইনে ও বাস্তবে তৎপর, মূলত তাদের হাতেনাতে ধরতেই ১২ থেকে ১৪ আগস্ট পর্যন্ত এই বিশেষ অভিযানটি চালানো হয়। গ্রেপ্তারকৃত পাঁচজনের মধ্যে জোকসান আপারিসিও সান্তোস নামের ৩৯ বছর বয়সী এক ব্যক্তি মেক্সিকান নাগরিক, যিনি বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের বৈধ স্থায়ী বাসিন্দা। বাকি চারজন হলেন ব্রায়ান ড্যাডি, লোগান ট্রিগ, টিলিয়ান হাটন এবং মিয়ানমার বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক ল এহ—যাঁরা সকলেই যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক। এইচএসআই জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে তিনজনেরই আগে থেকে শিশুদের ওপর যৌন অপরাধের রেকর্ড রয়েছে এবং তাঁরা পুলিশের ‘সেক্স অফেন্ডার’ রেজিস্ট্রিতেও তালিকাভুক্ত ছিলেন। স্থানীয় ও অঙ্গরাজ্য পর্যায়ের বিভিন্ন আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার সমন্বয়ে পরিচালিত এই অভিযানটি প্রমাণ করে যে, সমাজে শিশুদের ওপর যৌন শোষণের মতো ঘৃণ্য অপরাধের গভীর ও বাস্তব ঝুঁকি এখনো রয়ে গেছে। এইচএসআই কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, যারা অনলাইনের বিভিন্ন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে শিশুদের ক্ষতি করার চেষ্টা করছে, তাদের ওপর নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। শিশু নিপীড়কদের শনাক্ত করে বিচারের আওতায় আনতে এবং কমিউনিটির শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে ভবিষ্যতেও এমন কঠোর অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
যুক্তরাজ্যের ওয়েলসে কয়েক দশক আগে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ শিশু যৌন নিপীড়ন ও দলবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় তিন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূতসহ মোট আটজনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। দক্ষিণ ওয়েলসের গুয়েন্ট পুলিশ দীর্ঘ তদন্তের পর গত মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) যুক্তরাজ্যের নিউপোর্ট, সোয়ানসি, লন্ডন, বার্মিংহাম, ল্যাঙ্কাশায়ার, এডিনবার্গ এবং স্কটল্যান্ডের আর্গিল অ্যান্ড বিউট এলাকা থেকে এই আট ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে। 'অপারেশন ওক' নামের বিশেষ এই পুলিশি অভিযানের আওতায় গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে ১৭টি ধর্ষণের ঘটনাসহ মোট ৩৪টি সুনির্দিষ্ট অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে। পুলিশ ও আদালত সূত্রে জানা যায়, ১৯৮৫ থেকে ১৯৯৬ সালের মধ্যবর্তী সময়ে শিশু অবস্থায় যৌন নির্যাতনের শিকার হওয়া বেশ কয়েকজন নারীর সাম্প্রতিক অভিযোগের ভিত্তিতে এই তদন্ত শুরু হয়। গ্রেপ্তারকৃত এই আটজনের বয়স বর্তমানে ৫৪ থেকে ৭৩ বছরের মধ্যে এবং তারা প্রত্যেকেই ব্রিটিশ নাগরিক। তবে অভিযুক্তদের পরিচয় বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, এদের মধ্যে তিনজন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রয়েছেন। তারা হলেন—মোহাম্মদ শেখ আব্দুল হান্নান, শেখ মোহাম্মদ তাহির উল্লাহ এবং আমিনুর রহমান চৌধুরী। এই মামলায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অত্যন্ত গুরুতর সব অপরাধের বিবরণ উঠে এসেছে। বার্মিংহামের বাসিন্দা ৫৮ বছর বয়সী শাফাক মোহাম্মদের বিরুদ্ধে ১১ বছরের কম বয়সী ও ১৬ বছরের ঊর্ধ্বের নারী ধর্ষণসহ সর্বোচ্চ ১১টি অভিযোগ আনা হয়েছে। এডিনবার্গের মোহাম্মদ শেখ আব্দুল হান্নানের (৫৪) বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও এর ষড়যন্ত্রসহ আটটি এবং ল্যাঙ্কাশায়ারের শাকিল বাবুরের (৫৮) বিরুদ্ধে ১৬ বছরের কম বয়সী শিশুকে শ্লীলতাহানির চারটি অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া নিউপোর্টের সৈয়দ মোহাম্মদ আশান তাকভি (৬৫) ও সোয়ানসির মুরাদ আলীর (৫৭) বিরুদ্ধে অপ্রাপ্তবয়স্ক শিশু ধর্ষণের অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। পাশাপাশি নিউপোর্টের শেখ মোহাম্মদ তাহির উল্লাহর (৭৩) বিরুদ্ধে দুটি, টটেনহ্যামের আমিনুর রহমান চৌধুরীর (৫৮) বিরুদ্ধে একটি এবং স্কটল্যান্ডের কেভিন লরেন্সের (৫৪) বিরুদ্ধে ধর্ষণের ষড়যন্ত্র ও পতিতাবৃত্তিতে বাধ্য করার তিনটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে। ওয়েলসের প্রধান ক্রাউন প্রসিকিউটর জেনি হপকিন্স জানিয়েছেন, আসামিদের বিচারের মুখোমুখি করতে এবং জনস্বার্থে অপরাধমূলক কার্যক্রমের বিচার নিশ্চিত করতে প্রসিকিউটররা যথেষ্ট তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করেছেন। আইনি প্রক্রিয়া চলমান থাকায় অভিযুক্তদের ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকারের বিষয়টিও তিনি স্মরণ করিয়ে দেন। আগামী ২৪ জুলাই নিউপোর্ট ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এই আট আসামিকে হাজির করার কথা রয়েছে। এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি যুক্তরাজ্যের প্রবাসী কমিউনিটি ও সাধারণ নাগরিকদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের ইন্ডিয়ান রিভার কাউন্টির এক মধ্যবিদ্যালয়ের সাবেক ক্রীড়া পরিচালককে এক শিক্ষার্থীকে দীর্ঘ সময় ধরে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে ১০ বছরের ফেডারেল কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। ইন্ডিয়ান রিভার কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় জানায়, ২০২৪ সালে একটি মধ্যবিদ্যালয়ের কর্মী ও এক শিক্ষার্থীকে ঘিরে অভিযোগ পাওয়ার পর তদন্ত শুরু হয়। স্কুল কর্তৃপক্ষের সহযোগিতায় গোয়েন্দারা দ্রুত তদন্তে নামেন, যা পরবর্তীতে ফ্লোরিডার বাইরেও বিস্তৃত হয়। তদন্তে অভিযুক্ত হিসেবে শনাক্ত হন ৪২ বছর বয়সী মিয়া জনসন। তিনি ওই সময় একটি মধ্যবিদ্যালয়ের অ্যাথলেটিক ডিরেক্টর বা ক্রীড়া পরিচালক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তদন্তকারীদের কাছে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী জানান, প্রায় এক বছর ধরে তিনি জনসনের দ্বারা নিপীড়নের শিকার হয়েছেন। অভিযোগ জানার পর ইন্ডিয়ান রিভার কাউন্টি স্কুল ডিস্ট্রিক্ট জনসনকে ক্যাম্পাস থেকে সরিয়ে দেয় এবং তার চাকরি বাতিল করে। তদন্তের অংশ হিসেবে জনসনের বাসভবনে তল্লাশি চালানো হয়। পরে তিনি ফ্লোরিডা ছেড়ে মিসৌরি অঙ্গরাজ্যের কানসাস সিটিতে চলে যান। তদন্তে জানা যায়, একটি মেয়েদের বাস্কেটবল দলের সঙ্গে বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে ভ্রমণের সময়ও এ মামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অপরাধ সংঘটিত হয়েছে। ঘটনার বিস্তৃতি একাধিক অঙ্গরাজ্যে ছড়িয়ে পড়ায় তদন্তে যুক্ত হয় যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই)। স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে যৌথ অভিযানে কানসাস সিটি থেকে জনসনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার বিরুদ্ধে অপ্রাপ্তবয়স্ক একজনকে অপরাধমূলক যৌন কর্মকাণ্ডে জড়ানোর উদ্দেশ্যে এক অঙ্গরাজ্য থেকে অন্য অঙ্গরাজ্যে পরিবহনের ফেডারেল অভিযোগ আনা হয়। শুক্রবার ফেডারেল আদালত জনসনকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেন। পাশাপাশি কারাভোগ শেষে তাকে আরও ২৫ বছর তত্ত্বাবধানে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ইন্ডিয়ান রিভার কাউন্টির শেরিফ এরিক ফ্লাওয়ার্স তদন্তে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বিত ভূমিকার প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, শিশুদের স্কুলে নিরাপদ বোধ করার অধিকার রয়েছে। তদন্তকারীরা এফবিআইয়ের সঙ্গে কাজ করে নিশ্চিত করেছেন যে ভুক্তভোগীর কথা শোনা হয়েছে এবং অভিযুক্ত তার কর্মকাণ্ডের জন্য জবাবদিহির মুখোমুখি হয়েছেন। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা তাদের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার। সম্ভাব্য নির্যাতন বা শোষণ সংক্রান্ত কোনো তথ্য থাকলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।