সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আমেরিকা

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশিদের সবচেয়ে শক্ত অবস্থান যে ৫ স্টেটে

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ২৩, ২০২৬ ২:১
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশিদের সবচেয়ে শক্ত অবস্থান যে ৫ স্টেটে
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশিদের সবচেয়ে শক্ত অবস্থান যে ৫ স্টেটে

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি কমিউনিটির সবচেয়ে বড় উপস্থিতি কয়েকটি স্টেটকে ঘিরে। পিউ রিসার্চ সেন্টারের ২০২১ থেকে ২০২৩ সালের আমেরিকান কমিউনিটি সার্ভে বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ২০২৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রে শুধু বাংলাদেশি পরিচয়ে বসবাসকারী মানুষের সংখ্যা ছিল প্রায় ২ লাখ ৭০ হাজার। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় অংশের বসবাস নিউইয়র্কে।

 

১. নিউইয়র্ক

বাংলাদেশি কমিউনিটির সবচেয়ে বড় কেন্দ্র নিউইয়র্ক। প্রায় ১ লাখ ১৫ হাজার বাংলাদেশি সেখানে বসবাস করেন, যা যুক্তরাষ্ট্রে শুধু বাংলাদেশি পরিচয়ে বসবাসকারী মোট জনসংখ্যার প্রায় ৪৪ শতাংশ। নিউইয়র্ক সিটি ও আশপাশের এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে গড়ে ওঠা বাংলাদেশি ব্যবসা, সামাজিক সংগঠন, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড এই কমিউনিটিকে আরও শক্তিশালী করেছে।

 

২. মিশিগান

প্রায় ২০ হাজার বাংলাদেশি নিয়ে মিশিগানও বাংলাদেশি কমিউনিটির অন্যতম বড় কেন্দ্র। বিশেষ করে ডেট্রয়েট মহানগর এলাকায় বাংলাদেশিদের উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি রয়েছে। পিউ রিসার্চ সেন্টারের হিসাবে, ডেট্রয়েট মহানগর এলাকায় প্রায় ১৮ হাজার বাংলাদেশি বসবাস করেন।

 

৩. ক্যালিফোর্নিয়া

প্রায় ১৮ হাজার বাংলাদেশি ক্যালিফোর্নিয়ায় বসবাস করেন। লস অ্যাঞ্জেলেস, সান ফ্রান্সিসকো ও সান হোসেসহ বিভিন্ন মহানগর এলাকায় শিক্ষা, প্রযুক্তি, ব্যবসা ও পেশাজীবী খাতে বাংলাদেশিদের উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি রয়েছে।

 

৪. টেক্সাস

প্রায় ১৭ হাজার বাংলাদেশি নিয়ে টেক্সাসও যুক্তরাষ্ট্রের বড় বাংলাদেশি কমিউনিটির স্টেটগুলোর একটি। হিউস্টন, ডালাস ও অস্টিনসহ বড় শহরগুলোতে বাংলাদেশিদের ব্যবসা, পেশাজীবী কর্মকাণ্ড এবং সামাজিক সংগঠনের উপস্থিতি ক্রমেই বাড়ছে।

 

৫. নিউ জার্সি

প্রায় ১২ হাজার বাংলাদেশি নিউ জার্সিতে বসবাস করেন। নিউইয়র্ক মহানগর এলাকার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগের কারণে স্টেটটি বাংলাদেশি পরিবার ও ব্যবসার জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি কেন্দ্র হয়ে উঠেছে।

 

পিউ রিসার্চ সেন্টারের তথ্য অনুযায়ী, ২০০০ সালে যুক্তরাষ্ট্রে শুধু বাংলাদেশি পরিচয়ে বসবাসকারী মানুষের সংখ্যা ছিল প্রায় ৪০ হাজার। ২০২৩ সালে সেই সংখ্যা বেড়ে প্রায় ২ লাখ ৭০ হাজারে দাঁড়িয়েছে। অর্থাৎ দুই দশকের কিছু বেশি সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি কমিউনিটির সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

 

জনসংখ্যা বাড়ার পাশাপাশি বাংলাদেশি কমিউনিটির সামাজিক ও অর্থনৈতিক কার্যক্রমও বিভিন্ন স্টেটে ছড়িয়ে পড়ছে। নিউইয়র্ক এখনো সবচেয়ে বড় কেন্দ্র হলেও মিশিগান, ক্যালিফোর্নিয়া, টেক্সাস ও নিউ জার্সিতেও বাংলাদেশিদের শক্তিশালী ও স্থায়ী কমিউনিটি গড়ে উঠেছে।

 

তবে এখানে ব্যবহৃত জনসংখ্যার হিসাব শুধু বাংলাদেশি পরিচয়ে নিজেদের উল্লেখ করা মানুষদের নিয়ে। পিউ রিসার্চ সেন্টারের এই হিসাবের মধ্যে যারা বাংলাদেশি পরিচয়ের পাশাপাশি অন্য কোনো জাতিগত বা এশীয় পরিচয়ও উল্লেখ করেছেন, তারা এই নির্দিষ্ট হিসাবের বাইরে থাকতে পারেন।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
গণিতের কৌশল ব্যবহার করে  লটারি জিতলেন চারবার
গণিতে পিএইচডি, গণিতের কৌশল ব্যবহার করে লটারি জিতলেন চারবার, পেলেন ২ কোটি ১০ লাখ ডলার

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের লটারি ইতিহাসে সবচেয়ে আলোচিত নামগুলোর একটি জোয়ান আর. গিন্থার। গণিতে পিএইচডি করা সাবেক কলেজ শিক্ষক ১৯৯৩ থেকে ২০১০ সালের মধ্যে চারবার বড় অঙ্কের লটারি জিতে মোট ২ কোটি ৪০ লাখ ডলার পুরস্কার পেয়েছিলেন। তার এই ধারাবাহিক জয়ের ঘটনা একসময় নিছক ভাগ্যের বিস্ময় হিসেবে আলোচিত হলেও পরে পরিসংখ্যানবিদ ও সাংবাদিকদের অনুসন্ধানে উঠে আসে, এর পেছনে হিসাবনির্ভর কৌশল কাজ করে থাকতে পারে।   গিন্থারের প্রথম বড় জয় আসে ১৯৯৩ সালে। টেক্সাস লটারির লোটো টেক্সাস ড্রতে তিনি প্রায় ৫৪ লাখ ডলারের একটি অংশ পান। এরপর ২০০৬ সালে ২০ লাখ ডলারের একটি স্ক্র্যাচ-অফ পুরস্কার, ২০০৮ সালে ৩০ লাখ ডলার এবং ২০১০ সালে ১ কোটি ডলারের সর্বোচ্চ পুরস্কার জেতেন। টেক্সাস লটারির নিজস্ব রেকর্ডেও ২০০৮ সালের ৩০ লাখ ডলারের জয়ের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে এবং সেখানে তাকে তিনবার টপ-প্রাইজ বিজয়ী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল।   ২০১০ সালে চতুর্থবার বড় পুরস্কার জেতার পর তার মোট লটারি জয়ের পরিমাণ দাঁড়ায় ২ কোটি ৪০ লাখ ডলার। তৎকালীন প্রতিবেদনে তার চারটি বড় জয়ের সম্ভাবনাকে অত্যন্ত বিরল হিসেবে তুলে ধরা হয়। শুধু চারটি টিকিটই যদি তিনি কিনে থাকেন, তাহলে এমন ফলের সম্ভাবনা ১৮ সেপ্টিলিয়নের মধ্যে একবারের মতো হতে পারে বলে গণিতবিদদের উদ্ধৃত করে সিবিএস নিউজ জানিয়েছিল। তবে তিনি বাস্তবে কতগুলো টিকিট কিনেছিলেন, সেটিই এই হিসাবকে সম্পূর্ণ বদলে দেয়।    গিন্থারের ঘটনাটি নিয়ে পরে আরও গভীর অনুসন্ধান হয়। হার্পার্স ম্যাগাজিনের অনুসন্ধানে দেখা যায়, তিনি টেক্সাসের বিশপ এলাকায় বিপুল পরিমাণ স্ক্র্যাচ-অফ টিকিট কিনতেন। স্থানীয় বিক্রেতাদের বর্ণনা অনুযায়ী, তিনি একসঙ্গে পুরো রোল বা বড় প্যাকেটের টিকিট কিনতেন। ২০০৫ থেকে ২০১২ সালের মধ্যে তার নামে ১ হাজার ডলার বা তার বেশি মূল্যের অন্তত ২৮টি স্ক্র্যাচ-অফ পুরস্কার পাওয়ার তথ্যও উঠে আসে।    এখানেই সামনে আসে গিন্থারের গণিতের জ্ঞান নিয়ে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। বিভিন্ন অনুসন্ধানে বলা হয়, টেক্সাস লটারি স্ক্র্যাচ-অফ গেমে কতগুলো টপ প্রাইজ এখনও বাকি আছে, সেই তথ্য প্রকাশ করত। ফলে কোনো গেমে যখন বিপুলসংখ্যক টিকিট বিক্রি হয়ে গেছে, কিন্তু বড় পুরস্কারের উল্লেখযোগ্য অংশ এখনও অবশিষ্ট, তখন একটি টিকিটের প্রত্যাশিত মূল্য তুলনামূলকভাবে বেড়ে যেতে পারে।    পরিসংখ্যানের ভাষায়, কোনো টিকিটের সম্ভাব্য পুরস্কার ও জয়ের সম্ভাবনা হিসাব করে যদি গড় প্রত্যাশিত রিটার্ন টিকিটের দামের চেয়ে বেশি হয়, সেটিকে Positive Expected Value বা +EV পরিস্থিতি বলা যায়। অনুসন্ধানকারীদের ধারণা ছিল, গিন্থার হয়তো এ ধরনের বিরল পরিস্থিতি শনাক্ত করে বিপুলসংখ্যক টিকিট কিনতেন। তবে তিনি নিজে কখনো প্রকাশ্যে তার কৌশল ব্যাখ্যা করেননি, ফলে এটি নিশ্চিত প্রমাণ নয়।    বিপুল পরিমাণ টিকিট কেনার বিষয়টিও তার জয়ের ব্যাখ্যায় গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, বিশপ ও আশপাশের এলাকায় তিনি একাধিক দোকান থেকে হাজার হাজার উচ্চমূল্যের স্ক্র্যাচ-অফ টিকিট কিনতেন। এমনকি একটি দোকান থেকে একটি নির্দিষ্ট ৫০ ডলারের গেমের ৯ হাজারের বেশি টিকিট বিক্রি হয়েছিল বলে অনুসন্ধানে জানা যায়। বেশি টিকিট কেনার ফলে অবশ্যই জয়ের সম্ভাবনা বাড়ে, যদিও এতে কোনোভাবেই বড় পুরস্কার নিশ্চিত হয় না।    তৎকালীন টেক্সাস লটারি কর্তৃপক্ষ গিন্থারের জয়ে কোনো কারচুপির সন্দেহের কথা জানায়নি। বরং বিষয়টি নিয়ে আলোচনায় মূল প্রশ্ন ছিল, এত বড় ধারাবাহিক সাফল্য কি নিছক ভাগ্যের ফল, নাকি বিপুল টিকিট কেনা, প্রকাশ্য তথ্য বিশ্লেষণ এবং গাণিতিক হিসাবের সমন্বিত ফল। হার্পার্সের অনুসন্ধানেও বলা হয়েছিল, ঘটনাটির রহস্য পুরোপুরি সমাধান করা যায়নি।    গিন্থারের শিক্ষাজীবনও এই গল্পকে আরও আকর্ষণীয় করে তোলে। তিনি স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটি থেকে পিএইচডি অর্জন করেন এবং বিভিন্ন কলেজে গণিত পড়িয়েছেন। সিবিএস নিউজের প্রতিবেদনে তাকে সাবেক কলেজ অধ্যাপক হিসেবে উল্লেখ করা হয়। অর্থাৎ যে ব্যক্তি লটারিতে বারবার বড় পুরস্কার জিতেছিলেন, তার পেশাগত জীবনও ছিল সংখ্যা ও পরিসংখ্যানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত।    তবে গিন্থারের সাফল্যকে এমন কোনো সহজ ফর্মুলা হিসেবে দেখা ঠিক হবে না, যা অনুসরণ করলেই লটারিতে নিশ্চিতভাবে লাভ করা সম্ভব। বিপুলসংখ্যক টিকিট কিনলেও বড় পুরস্কার জেতা নিশ্চিত নয় এবং প্রত্যাশিত মূল্য ইতিবাচক হলেও বাস্তব ফলাফল দীর্ঘ সময় পর্যন্ত ক্ষতির হতে পারে। গিন্থারের ক্ষেত্রে ঠিক কোন কৌশল কতটা ভূমিকা রেখেছিল, তার নির্ভরযোগ্য উত্তর আজও অজানা।   তবু তার চারটি বড় জয় একটি বিষয় স্পষ্ট করে দিয়েছে। লটারির মতো সম্পূর্ণ ভাগ্যনির্ভর বলে বিবেচিত খেলাতেও প্রকাশ্য তথ্য, সম্ভাব্যতা ও বিপুল পরিমাণ অংশগ্রহণের মাধ্যমে ঝুঁকি ও সম্ভাবনার হিসাব বদলে ফেলা যায়। জোয়ান গিন্থারের ক্ষেত্রে সেই গণিত কতটা কাজ করেছিল আর কতটা ছিল ভাগ্য, সেই রহস্যই তাকে লটারি ইতিহাসের অন্যতম আলোচিত বিজয়ী করে রেখেছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ২৩, ২০২৬ ৪:২
যুক্তরাষ্ট্রে ডাকাতির সময় ভারতীয় বংশোদ্ভূত দোকান মালিককে গুলি করে হত্যা

যুক্তরাষ্ট্রে ডাকাতির সময় ভারতীয় বংশোদ্ভূত দোকান মালিককে গুলি করে হত্যা, পাশে ছিল মেয়ে

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশিদের সবচেয়ে শক্ত অবস্থান যে ৫ স্টেটে

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশিদের সবচেয়ে শক্ত অবস্থান যে ৫ স্টেটে

ডালাসগামী আমেরিকান এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটে আগুন, দগ্ধ ৪ যাত্রী

ডালাসগামী আমেরিকান এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটে আগুন, দগ্ধ ৪ যাত্রী

১৮ মাসে পড়তে শেখা, ১১ বছরেই কলেজ গ্র্যাজুয়েট আর ১৩ বছরেই পদার্থবিজ্ঞানে ডিগ্রি
১৮ মাসে পড়তে শেখা, ১১ বছরেই কলেজ গ্র্যাজুয়েট আর ১৩ বছরেই পদার্থবিজ্ঞানে ডিগ্রি

মাত্র ১১ বছর বয়সে কলেজের ডিগ্রি অর্জন করে চমক সৃষ্টি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের এলিয়ট ট্যানার। ১৩ বছর বয়সেই তিনি পদার্থবিজ্ঞানে চার বছরের স্নাতক ডিগ্রি সম্পন্ন করেন। বর্তমানে ১৮ বছর বয়সে তিনি ডার্ক ম্যাটার নিয়ে পিএইচডি গবেষণার শেষ পর্যায়ে রয়েছেন।   এলিয়ট মাত্র ৯ বছর বয়সে কলেজে ভর্তি হন। এর দুই বছর পর, ১১ বছর বয়সে নরম্যান্ডেল কমিউনিটি কলেজ থেকে গণিতে অ্যাসোসিয়েট অব সায়েন্স ডিগ্রি অর্জন করেন। এরপর ইউনিভার্সিটি অব মিনেসোটায় ভর্তি হয়ে ১৩ বছর বয়সে পদার্থবিজ্ঞানে স্নাতক ডিগ্রি সম্পন্ন করেন, সঙ্গে গণিতে মাইনর করেন।   এরপর একই বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডি প্রোগ্রামে ভর্তি হন এলিয়ট। মাত্র ১৫ বছর বয়সে মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জনের পাশাপাশি পিএইচডি ক্যান্ডিডেট হিসেবে উন্নীত হন। বর্তমানে পরীক্ষামূলক কণাপদার্থবিদ্যা নিয়ে গবেষণা করছেন তিনি। তার গবেষণার অন্যতম বিষয় ডার্ক ম্যাটার।   এলিয়টের অসাধারণ মেধার পরিচয় অবশ্য আরও ছোট বয়সেই পাওয়া যায়। মাত্র ১৮ মাস বয়সে নিজে নিজে পড়তে শেখেন তিনি। তিন বছর বয়সে যোগ-বিয়োগ করতে পারতেন এবং পাঁচ বছর বয়সেই ‘হ্যারি পটার’ সিরিজ পড়তেন। তিন বছর বয়সে চতুর্থ শ্রেণির পর্যায়ের পড়াশোনাও করছিলেন।   প্রথমদিকে তাকে সাধারণ স্কুলে ভর্তি করা হলেও দ্রুতই সেই শিক্ষাব্যবস্থা তার জন্য যথেষ্ট না হওয়ায় বাবা-মা তাকে হোমস্কুলিং করান। সেখানে তার শেখার গতি অনুযায়ী পড়াশোনার সুযোগ তৈরি করা হয়।   শুধু বইয়ের পড়াশোনার মধ্যেই তাকে সীমাবদ্ধ রাখা হয়নি। মহাকাশের প্রতি আগ্রহ তৈরি হলে তাকে কেনেডি স্পেস সেন্টারে নিয়ে যাওয়া হয়। গণিত, বিজ্ঞান ও কোডিং শেখার পাশাপাশি বিভিন্ন বিশেষজ্ঞ ও প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকেও বাস্তব অভিজ্ঞতা নেওয়ার সুযোগ পান তিনি।   এলিয়টের বাবা-মা জানিয়েছেন, এত দ্রুত পড়াশোনা করলেও তার শৈশব যাতে নষ্ট না হয়, সেদিকেও তারা গুরুত্ব দিয়েছেন। বন্ধুদের সঙ্গে খেলাধুলা ও বয়সসুলভ কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি নিজের আগ্রহ অনুযায়ী পড়াশোনা করার সুযোগ পেয়েছেন তিনি।   বর্তমানে পিএইচডির পাশাপাশি এলিয়ট গ্র্যাজুয়েট শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন সংগঠনে নেতৃত্ব দিচ্ছেন এবং শিক্ষক সহকারী হিসেবেও কাজ করছেন। ভবিষ্যতে পদার্থবিজ্ঞানের অধ্যাপক হওয়ার ইচ্ছা রয়েছে তার।   তার মা বলেন, এলিয়টকে তারা কখনো জোর করে দ্রুত পড়াশোনা করাননি; বরং তার শেখার আগ্রহ ও সক্ষমতা অনুযায়ী শিক্ষার সুযোগ তৈরি করেছেন।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ২৩, ২০২৬ ০:৫৯
বাণিজ্য আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে পাল্টা শুল্ক আরোপ করছে কানাডা

বাণিজ্য আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে পাল্টা শুল্ক আরোপ করছে কানাডা

চার সদস্যের একটি পরিবারের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের অধিকাংশ অঙ্গরাজ্যেই বিপুল আয়ের প্রয়োজন। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে স্বচ্ছন্দে থাকতে বছরে কত আয় প্রয়োজন? কোন অঙ্গরাজ্যে সবচেয়ে কম

ক্যালিফোর্নিয়ার জাকুম্বা পর্বতমালার দুর্গম এলাকায় দুই দিন পর ২৫ বছরের এক ব্যক্তিকে উদ্ধার করে মার্কিন সীমান্তরক্ষী বাহিনী। ছবি: সংগৃহীত

অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের পর ক্যালিফোর্নিয়ার মরুভূমিতে পথ হারিয়ে ২ দিন নিখোঁজ, উদ্ধার যুবক

আমেরিকার ২৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে টাম্পার রওলেট পার্কে ২৫০টি গাছ লাগানো হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
আমেরিকার ২৫০ বছর পূর্তিতে টাম্পায় ২৫০ টি গাছ লাগাল ইসমাইলি মুসলিম সম্প্রদায়

যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপনে আতশবাজি কিংবা শোভাযাত্রার বদলে পরিবেশের জন্য দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ নিয়েছে ফ্লোরিডার টাম্পার ইসমাইলি মুসলিম সম্প্রদায়। শহরের রওলেট পার্কে ২৫০টি গাছ লাগিয়ে ‘আমেরিকা ২৫০ স্মারক বৃক্ষবাগান’ প্রতিষ্ঠা করেছে তারা।   শনিবার সকালে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে ইসমাইলি মুসলিম সম্প্রদায়ের সদস্যদের সঙ্গে টাম্পার মেয়র জেন ক্যাস্টরও অংশ নেন। প্রায় ৫০ জন কমিউনিটি সদস্য সেখানে উপস্থিত ছিলেন। টাম্পা শহরের তথ্য ও ইসমাইলি কাউন্সিল ফর ফ্লোরিডার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ফক্স ১৩ নিউজ এ খবর জানিয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দেশজুড়ে ৪ জুলাই বিভিন্ন অনুষ্ঠান, আতশবাজি ও শোভাযাত্রার আয়োজন করা হয়েছিল। তবে টাম্পার ইসমাইলি মুসলিম সম্প্রদায় সেই উদযাপনকে একটু ভিন্নভাবে স্মরণীয় করে রাখতে চেয়েছে। তাদের লক্ষ্য ছিল এমন একটি উদ্যোগ নেওয়া, যার সুফল শুধু বর্তমান প্রজন্ম নয়, ভবিষ্যতের টাম্পাবাসীরাও ভোগ করতে পারবেন। রওলেট পার্কে নতুন করে লাগানো ২৫০টি গাছকে ঘিরে তৈরি করা হয়েছে এই স্মারক বৃক্ষবাগান। পার্কটি বুশ গার্ডেনসের ঠিক দক্ষিণে অবস্থিত।   ইসমাইলি কাউন্সিল ফর ফ্লোরিডার যোগাযোগ ও জনসম্পৃক্ততা বিভাগের প্রতিনিধি ফাহিম হেমানি বলেন, তাদের সম্প্রদায়ের কাছে সেবা ও স্বেচ্ছাসেবামূলক কাজ গুরুত্বপূর্ণ মূল্যবোধ। একই সঙ্গে পরিবেশের যত্ন নেওয়াকেও তারা গুরুত্ব দেন। তাদের বিশ্বাস, মানুষ যে পৃথিবী পেয়েছে, তার চেয়ে আরও ভালো অবস্থায় ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে সেটি রেখে যাওয়া উচিত।   তিনি বলেন, টাম্পায় এই বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি স্থানীয় সম্প্রদায়ের ভবিষ্যতের প্রতি তাদের অঙ্গীকারের প্রতীক। অনুষ্ঠানে স্মারক ফলক উন্মোচন করা হয়। সেখানে উপস্থিত কমিউনিটির সদস্যরা শুধু যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০ বছর পূর্তিই উদযাপন করেননি, বরং স্থানীয় পরিবেশ ও নগর জীবনের ভবিষ্যৎ নিয়েও নিজেদের অঙ্গীকার তুলে ধরেন। আয়োজকদের মতে, এখন গাছগুলোর অনেকগুলোই ছোট। ফলে তাৎক্ষণিকভাবে বড় ধরনের পরিবর্তন চোখে পড়বে না। কিন্তু সময়ের সঙ্গে গাছগুলো বড় হলে পার্কের পরিবেশে এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।   হেমানি বলেন, ভবিষ্যতে এসব গাছ স্থানীয় বাসিন্দাদের ছায়া দেবে, পরিবেশকে আরও পরিচ্ছন্ন রাখতে সহায়তা করবে এবং পানির মান উন্নত রাখতেও ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের শিশুদের জন্য খেলাধুলা ও সময় কাটানোর আরও সুন্দর পরিবেশ তৈরি হবে। ইসমাইলি মুসলিম সম্প্রদায়ের এই উদ্যোগে জাতীয় দিবস উদযাপনের পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে পরিবেশ সংরক্ষণ ও নাগরিক দায়িত্বের বিষয়টিও সামনে এসেছে। একটি জাতীয় মাইলফলককে কেন্দ্র করে এমন দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ নেওয়ার মধ্য দিয়ে তারা টাম্পা শহরের সঙ্গে নিজেদের সম্পর্ক ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের প্রতি দায়বদ্ধতার কথাও তুলে ধরেছে।   টাম্পা শহরে বিভিন্ন ধর্ম ও সংস্কৃতির মানুষের বসবাস রয়েছে। শহরটির সরকারি নথিতেও মুসলিম সম্প্রদায়ের অবদান ও বৈচিত্র্যকে স্বীকৃতি দেওয়ার নজির রয়েছে। ২০২৫ সালে টাম্পা সিটি কাউন্সিল মুসলিম হেরিটেজ মাস পালনের বিষয়ে একটি প্রস্তাব অনুমোদন করেছিল, যেখানে শহরের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক জীবনে মুসলিম-আমেরিকানদের অবদানের কথা উল্লেখ করা হয়।   ‘আমেরিকা ২৫০ স্মারক বৃক্ষবাগান’ সেই বৃহত্তর স্থানীয় অংশগ্রহণের ধারাবাহিকতায় নতুন একটি উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। আতশবাজি বা একদিনের আয়োজনের পরিবর্তে এমন একটি সম্পদ তৈরি করা হয়েছে, যা বছরের পর বছর ধরে টাম্পার বাসিন্দাদের কাজে আসবে।

ফ্লোরিডা প্রতিনিধি প্রকাশ: আগস্ট ২২, ২০২৬ ২১:৫৭
২০৩০ সালের মধ্যে দেশটিতে জন্মের চেয়ে মৃত্যুর হার বেশি হবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে কংগ্রেসনাল বাজেট অফিস। ছবি: সংগৃহীত

২০৩০ সালেই যুক্তরাষ্ট্রে জন্মের চেয়ে মৃত্যু বেশি হবে, জনসংখ্যা বৃদ্ধির ভরসা হবে অভিবাসন

যুক্তরাষ্ট্রে সন্তান জন্মদানের মাধ্যমে নাগরিকত্ব লাভের পথ বন্ধ করতে কড়াকড়ি আরোপ করেছে মার্কিন সরকার। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে সন্তান জন্ম দিয়ে নাগরিকত্ব নেওয়ার চেষ্টা, প্রায় ৯০০ ভিসা বাতিল করল ট্রাম্প প্রশাসন

লস অ্যাঞ্জেলেসের ইস্ট হলিউড এলাকায় বসবাস করছেন টিম রোলার। ছবি: সংগৃহীত

প্রতিষ্ঠিত ৪ সন্তান থাকা সত্ত্বেও ২০ বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রের রাস্তায় বসবাস, গুগল ম্যাপে উঠে এল গণিত শিক্ষক বাবার জীবন

0 Comments