সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আমেরিকা

বাংলাদেশ থেকে পুরো পরিবার নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার বৈধ ৮ পথ, জেনে নিন কোনটি আপনার জন্য উপযুক্ত

নুরুল্লাহ সাইদ প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ৯, ২০২৬ ২২:৩৪
বাংলাদেশ থেকে পুরো পরিবার নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার বৈধ ৮ পথ, জেনে নিন কোনটি আপনার জন্য উপযুক্ত
বাংলাদেশ থেকে পুরো পরিবার নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার বৈধ ৮ পথ, জেনে নিন কোনটি আপনার জন্য উপযুক্ত

বাংলাদেশ থেকে পুরো পরিবার নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে বসবাস করতে চান অনেকেই। কারও লক্ষ্য স্থায়ীভাবে গ্রিন কার্ড পাওয়া, কেউ চাকরি বা ব্যবসার মাধ্যমে কয়েক বছর বৈধভাবে থাকতে চান, আবার কেউ উচ্চশিক্ষার সুযোগ কাজে লাগিয়ে পরিবারকে সঙ্গে নিতে চান। তবে পরিবারের সবার জন্য একই ধরনের ভিসা প্রযোজ্য নয়। পরিবারের একজন সদস্যের যোগ্যতা, পেশা, শিক্ষা, যুক্তরাষ্ট্রে থাকা আত্মীয় এবং আর্থিক সক্ষমতার ওপর নির্ভর করে ইমিগ্রেশনের পথ আলাদা হয়।

 

বর্তমান মার্কিন ইমিগ্রেশন নিয়ম অনুযায়ী, বাংলাদেশ থেকে পুরো পরিবার নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে আসার কয়েকটি বাস্তব ও বৈধ পথ রয়েছে। এর মধ্যে কিছু সরাসরি স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ তৈরি করে, আবার কিছু পথ পরিবারকে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য বৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে থাকার সুযোগ দেয়।

 

১. ফ্যামিলি-বেসড ইমিগ্রেশন: প্রথম এবং সবচেয়ে পরিচিত পথ হলো ফ্যামিলি-বেসড ইমিগ্রেশন। পরিবারের কোনো সদস্য যদি যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক বা গ্রিন কার্ডধারী হন, নির্দিষ্ট পারিবারিক সম্পর্কের ভিত্তিতে তিনি বিদেশে থাকা পরিবারের সদস্যদের জন্য পিটিশন করতে পারেন।

 

যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক তার স্বামী বা স্ত্রী, নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে সন্তান ও বাবা-মায়ের জন্য আবেদন করতে পারেন। এছাড়া নাগরিকের কিছু প্রাপ্তবয়স্ক সন্তান এবং ভাই-বোন ফ্যামিলি প্রেফারেন্স ক্যাটাগরির আওতায় আসতে পারেন। গ্রিন কার্ডধারী সাধারণত তার স্বামী বা স্ত্রী এবং অবিবাহিত সন্তানদের জন্য পিটিশন করতে পারেন।

 

তবে ফ্যামিলি-বেসড ইমিগ্রেশনের সব ক্যাটাগরিতে ভিসা সঙ্গে সঙ্গে পাওয়া যায় না। অনেক ক্ষেত্রে প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ী অপেক্ষা করতে হয় এবং সময়টা মোটামুটি ১২-১৪ বছর।

 

২. এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ইমিগ্রেশন: দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ পথ হলো এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ইমিগ্রেশন। কোনো বাংলাদেশি পেশাজীবীর যুক্তরাষ্ট্রে যোগ্য চাকরির সুযোগ, উচ্চতর ডিগ্রি, বিশেষ দক্ষতা বা উল্লেখযোগ্য পেশাগত যোগ্যতা থাকলে তিনি বিভিন্ন এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ইমিগ্রেশন ক্যাটাগরিতে যাওয়ার সুযোগ পেতে পারেন।

 

এর মধ্যে ইবি-১, ইবি-২ এবং ইবি-৩ অন্যতম। কিছু ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের এমপ্লয়ার স্পনসরশিপ প্রয়োজন হয়। আবার ইবি-২-এর ন্যাশনাল ইন্টারেস্ট ওয়েইভার বা এনআইডব্লিউ-এর মতো নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে যোগ্য ব্যক্তি নিজে পিটিশন করতে পারেন।

 

এই ধরনের ইমিগ্র্যান্ট ভিসার ক্ষেত্রে মূল আবেদনকারী যোগ্য হলে তার স্বামী বা স্ত্রী এবং ২১ বছরের কম বয়সী অবিবাহিত সন্তানরা ডেরিভেটিভ বেনিফিশিয়ারি হিসেবে একই ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়ায় যুক্ত হতে পারেন।

 

৩. ইবি-২ ও ন্যাশনাল ইন্টারেস্ট ওয়েইভার: উচ্চশিক্ষিত ও দক্ষ পেশাজীবীদের জন্য ইবি-২ একটি গুরুত্বপূর্ণ পথ। উচ্চতর ডিগ্রি, দীর্ঘ পেশাগত অভিজ্ঞতা বা বিশেষ দক্ষতা থাকা ব্যক্তিরা এই ক্যাটাগরি বিবেচনা করতে পারেন।

 

আর যোগ্যতার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ইন্টারেস্ট-এর বিষয়টি প্রমাণ করা গেলে ন্যাশনাল ইন্টারেস্ট ওয়েইভারের মাধ্যমে কিছু ক্ষেত্রে জব অফার বা লেবার সার্টিফিকেশনের প্রয়োজনীয়তা থেকে ওয়েইভার পাওয়ার সুযোগ থাকতে পারে।

 

এই পথের বড় সুবিধা হলো, মূল আবেদনকারী ইমিগ্র্যান্ট ভিসার জন্য যোগ্য হলে তার স্বামী বা স্ত্রী এবং ২১ বছরের কম বয়সী অবিবাহিত সন্তানরাও একই কেসের মাধ্যমে যুক্ত হতে পারেন।

 

৪. ইবি-৫ ইমিগ্র্যান্ট ইনভেস্টর প্রোগ্রাম: যেসব পরিবারের বড় অঙ্কের বৈধ বিনিয়োগ করার সক্ষমতা রয়েছে, তাদের জন্য ইবি-৫ ইমিগ্র্যান্ট ইনভেস্টর প্রোগ্রাম যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে যাওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ পথ।

 

ইবি-৫-এর ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট পরিমাণ বিনিয়োগ করতে হয় এবং বিনিয়োগের মাধ্যমে যোগ্য কর্মসংস্থান তৈরির শর্ত পূরণ করতে হয়। যোগ্য ইবি-৫ ইনভেস্টরের সঙ্গে তার স্বামী বা স্ত্রী এবং ২১ বছরের কম বয়সী অবিবাহিত সন্তানরাও গ্রিন কার্ডের জন্য আবেদন করতে পারেন।

 

৫. ই-২ ট্রিটি ইনভেস্টর ভিসা: বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পথ হলো ই-২ ট্রিটি ইনভেস্টর ভিসা। বাংলাদেশ ই-২ ট্রিটি কান্ট্রি হওয়ায় যোগ্য বাংলাদেশি নাগরিক এই ভিসার জন্য আবেদন করতে পারেন।

 

ই-২-এর জন্য যুক্তরাষ্ট্রে একটি বাস্তব ও পরিচালনাযোগ্য ব্যবসায় সাবস্ট্যানশিয়াল ইনভেস্টমেন্ট করতে হয় এবং ইনভেস্টরকে ব্যবসাটি পরিচালনা ও উন্নয়নে সক্রিয় ভূমিকা রাখতে হয়।

 

মূল ই-২ আবেদনকারীর স্বামী বা স্ত্রী এবং ২১ বছরের কম বয়সী অবিবাহিত সন্তানরা ডিপেন্ডেন্ট হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে যেতে পারেন। যোগ্য ই-২ স্পাউস নির্দিষ্ট শর্তে যুক্তরাষ্ট্রে কাজও করতে পারেন। তবে ই-২ গ্রিন কার্ড নয়।

 

এটি একটি ননইমিগ্র্যান্ট ভিসা। অর্থাৎ ব্যবসা ও ই-২ স্ট্যাটাসের শর্ত বজায় রেখে বৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে থাকতে হয়।

 

৬. এইচ-১বি ও এইচ-৪: কোনো বাংলাদেশি পেশাজীবী যুক্তরাষ্ট্রের যোগ্য এমপ্লয়ার-এর মাধ্যমে এইচ-১বি স্ট্যাটাস পেলে তার স্বামী বা স্ত্রী এবং ২১ বছরের কম বয়সী অবিবাহিত সন্তানরা এইচ-৪ ডিপেন্ডেন্ট স্ট্যাটাসে যুক্তরাষ্ট্রে যেতে পারেন। এইচ-১বি নিজে গ্রিন কার্ড নয়। তবে যোগ্য কর্মীর ক্ষেত্রে পরবর্তীতে এমপ্লয়মেন্ট-বেসড গ্রিন কার্ডের পথ তৈরি হতে পারে।

 

বর্তমানে নতুন এইচ-১বি আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে থাকা নির্দিষ্ট আবেদনকারীদের ওপর অতিরিক্ত অর্থপ্রদানের শর্তসহ কিছু বিশেষ বিধিনিষেধ রয়েছে। তাই এইচ-১বি-এর মাধ্যমে পরিবার নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করলে আবেদন করার সময়কার সর্বশেষ সরকারি নিয়ম যাচাই করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

 

৭. এল-১ ও এল-২: বাংলাদেশে কোনো মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানি বা একই কর্পোরেট গ্রুপের প্রতিষ্ঠানে ম্যানেজার, এক্সিকিউটিভ অথবা স্পেশালাইজড নলেজ এমপ্লয়ি হিসেবে কাজ করা ব্যক্তি নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করলে যুক্তরাষ্ট্রের সংশ্লিষ্ট অফিসে ট্রান্সফার হয়ে এল-১ স্ট্যাটাস পেতে পারেন।

 

এল-১ কর্মীর স্বামী বা স্ত্রী এবং ২১ বছরের কম বয়সী অবিবাহিত সন্তানরা এল-২ ডিপেন্ডেন্ট স্ট্যাটাসে যুক্তরাষ্ট্রে যেতে পারেন। যোগ্য এল-২ স্পাউস নির্দিষ্ট নিয়ম অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্রে কাজ করার সুযোগও পেতে পারেন।

 

বিশেষ করে বাংলাদেশে মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানিতে দীর্ঘদিন কাজ করা এবং একই প্রতিষ্ঠানের যুক্তরাষ্ট্রে অফিস রয়েছে, এমন পেশাজীবীদের জন্য এই পথটি গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

 

৮. এফ-১ ও এফ-২ : পরিবারের কোনো সদস্য যুক্তরাষ্ট্রের অনুমোদিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পূর্ণকালীন পড়াশোনার জন্য এফ-১ স্টুডেন্ট ভিসা পেলে তার স্বামী বা স্ত্রী এবং ২১ বছরের কম বয়সী অবিবাহিত সন্তানরা এফ-২ ডিপেন্ডেন্ট স্ট্যাটাসে যুক্তরাষ্ট্রে যেতে পারেন।

 

তবে এফ-১ ও এফ-২ হলো ননইমিগ্র্যান্ট স্ট্যাটাস। অর্থাৎ এটি সরাসরি গ্রিন কার্ড পাওয়ার পথ নয়। শিক্ষার্থী পরবর্তীতে যোগ্যতা অনুযায়ী এমপ্লয়মেন্ট-বেসড বা অন্য কোনো বৈধ ইমিগ্রেশন পথ তৈরি করতে পারলে পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারে।

 

পরিবার নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার আগে কী দেখবেন: বাংলাদেশ থেকে পুরো পরিবার নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার পরিকল্পনা করলে প্রথমেই ঠিক করতে হবে পরিবারের লক্ষ্য কী। স্থায়ীভাবে গ্রিন কার্ডের দিকে যেতে চাইলে ফ্যামিলি-বেসড ইমিগ্রেশন, এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ইমিগ্রেশন এবং ইবি-৫-এর মতো ইমিগ্র্যান্ট পথগুলো গুরুত্বপূর্ণ। অন্যদিকে ই-২, এইচ-১বি, এল-১ এবং এফ-১ মূলত টেম্পোরারি বা ননইমিগ্র্যান্ট স্ট্যাটাসের ব্যবস্থা।

 

পরিবারের একজন সদস্যের ভিসা বা পিটিশন অ্যাপ্রুভ হলেই পরিবারের অন্য সদস্যরা স্বয়ংক্রিয়ভাবে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার অধিকার পান না। স্পাউস ও চিলড্রেনকে ডিপেন্ডেন্ট বা ডেরিভেটিভ হিসেবে যুক্ত করার ক্ষেত্রে বয়স, বৈবাহিক অবস্থা, পারিবারিক সম্পর্ক এবং সংশ্লিষ্ট ভিসা ক্যাটাগরির শর্ত পূরণ করতে হয়।

 

তাই বাংলাদেশ থেকে পরিবার নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার পরিকল্পনা করার আগে পরিবারের বয়স, শিক্ষা, পেশা, কাজের অভিজ্ঞতা, যুক্তরাষ্ট্রে থাকা আত্মীয়, ব্যবসা বা বিনিয়োগের সক্ষমতা এবং স্থায়ী নাকি অস্থায়ীভাবে থাকার লক্ষ্য বিবেচনা করে সঠিক ইমিগ্রেশন পথ বেছে নেওয়া জরুরি।

 

অনেক ক্ষেত্রে আবেদন করার আগে ইউএসসিআইএস ও ইউএস ডিপার্টমেন্ট অব স্টেটের সর্বশেষ নিয়ম যাচাই করা এবং প্রয়োজন হলে অভিজ্ঞ ইউএস ইমিগ্রেশন অ্যাটর্নির পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
নিয়ন্ত্রণহীন স্কুলবাস থামিয়েছিলো যুবক
কুরআনের আয়াতে অনুপ্রাণিত হয়ে নিয়ন্ত্রণহীন স্কুলবাস থামিয়েছিলো যুবক, রক্ষা পেয়েছে ১৯ শিশু

যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যে চালক হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ায় নিয়ন্ত্রণহীন একটি স্কুলবাস থামিয়ে ১৯ শিক্ষার্থীকে সম্ভাব্য দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা করেছেন ২৭ বছর বয়সী মুসলিম যুবক এব্রো আহমেদ। চলন্ত বাসটির দরজা দিয়ে ভেতরে উঠে জরুরি ব্রেক টেনে সেটি থামান তিনি। এ ঘটনায় কোনো শিক্ষার্থী আহত হয়নি। নিজের সাহসী পদক্ষেপের পেছনে পবিত্র কুরআনের একটি আয়াত থেকে পাওয়া অনুপ্রেরণার কথা জানিয়েছেন আহমেদ। তাঁর এই উদ্যোগের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে প্রশংসিত হচ্ছেন তিনি।   ঘটনাটি ঘটে গত সোমবার (১৯ অক্টোবর) বিকেলে মিনেসোটার সেন্ট পল শহরের ডেটনস ব্লাফ এলাকায়। সেখানে পরিবারের মালিকানাধীন ‘ইয়া ব্রিকস স্ন্যাকস অ্যান্ড টোব্যাকো’ নামের দোকানের বাইরে বিরতি নিচ্ছিলেন এব্রো আহমেদ। এ সময় তিনি ফুটবল খেলছিলেন এবং মোবাইল ফোন ব্যবহার করছিলেন। হঠাৎ তাঁর চোখে পড়ে, একটি হলুদ স্কুলবাস ধীরে ধীরে এগিয়ে যাচ্ছে। বাসটির দরজা খোলা এবং চালকের আচরণ অস্বাভাবিক মনে হওয়ায় তিনি বুঝতে পারেন, ভেতরে কোনো সমস্যা হয়েছে।   বাসটি কাছাকাছি আসার পর আহমেদ দেখতে পান, চালক গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তাঁর বর্ণনা অনুযায়ী, চালকের মুখ দিয়ে ফেনা বের হচ্ছিল এবং তিনি স্বাভাবিকভাবে গাড়ি নিয়ন্ত্রণ করতে পারছিলেন না। পরিস্থিতি বুঝতে পেরে দ্রুত বাসটির দিকে দৌড় দেন আহমেদ। এরপর চলন্ত অবস্থাতেই খোলা দরজা দিয়ে বাসে উঠে পড়েন। সে সময় বাসের ভেতরে থাকা শিক্ষার্থীদের কেউ চিৎকার করছিল, আবার কেউ আতঙ্কিত হয়ে সাহায্য চাওয়ার চেষ্টা করছিল।   বাসে ওঠার পর প্রথমে সেটিকে পার্কিং গিয়ারে নেওয়ার চেষ্টা করেন আহমেদ। কিন্তু পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠায় তিনি জরুরি ব্রেক ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেন। সামনের আসনে থাকা দুই ছাত্রীর হাতে নিজের মোবাইল ফোন ও চশমা দিয়ে দুই হাত খালি করেন। এরপর জরুরি ব্রেক টেনে বাসটি থামাতে সক্ষম হন। পুরো ঘটনাটি দোকানের সিসিটিভি ক্যামেরায় ধারণ করা হয়। বাস থামার পর শিক্ষার্থীদের একজনকে জরুরি সহায়তার জন্য ফোন করতে বলেন তিনি।   সেন্ট পল পাবলিক স্কুলস কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে, বাসটিতে ব্যাটল ক্রিক মিডল স্কুলের ১৯ শিক্ষার্থী ছিল। চালকের চিকিৎসাজনিত জরুরি পরিস্থিতির কারণে বাসটি নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়েছিল। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে প্যারামেডিকরা পৌঁছান এবং চালককে হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে চিকিৎসা শেষে তাঁকে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়। অন্য একটি স্কুলবাসের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হয়। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঘটনায় কোনো শিক্ষার্থী কিংবা পথচারী আহত হয়নি।   শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আহমেদ জানান, বিপদের মুহূর্তে তাঁর মনে পবিত্র কুরআনের সুরা আল-মায়েদার ৩২ নম্বর আয়াতের কথা এসেছিল। ওই আয়াতে একজন মানুষের জীবন রক্ষাকে সমগ্র মানবজাতির জীবন রক্ষার সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে। আহমেদের ভাষ্য অনুযায়ী, এই শিক্ষাই তাঁকে নিজের নিরাপত্তার কথা না ভেবে অন্যদের সাহায্যে এগিয়ে যেতে অনুপ্রাণিত করেছে। তিনি জানান, ব্যক্তিগত স্বীকৃতি পাওয়ার জন্য নয়, সৃষ্টিকর্তার সন্তুষ্টি এবং মানুষের জীবন রক্ষার উদ্দেশ্যেই কাজটি করেছেন।   তবে শুধু ধর্মীয় অনুপ্রেরণা নয়, বিপদের মুহূর্তে শান্ত থাকার ক্ষেত্রে একটি জনপ্রিয় টেলিভিশন সিরিজের কথাও উল্লেখ করেছেন আহমেদ। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম কেটিএসপিকে তিনি জানান, চিকিৎসাবিষয়ক মার্কিন সিরিজ ‘গ্রেজ অ্যানাটমি’ দেখে জরুরি পরিস্থিতিতে শান্ত থেকে সিদ্ধান্ত নেওয়ার বিষয়ে কিছু ধারণা পেয়েছিলেন। তাঁর মতে, অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতিতে আতঙ্কিত না হয়ে দ্রুত সঠিক পদক্ষেপ নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। যদিও এর আগে কখনো স্কুলবাস চালানোর অভিজ্ঞতা ছিল না তাঁর।   এব্রো আহমেদের মা-বাবা পূর্ব আফ্রিকার দেশ ইরিত্রিয়া থেকে যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসী হিসেবে এসেছিলেন। আহমেদের জন্ম যুক্তরাষ্ট্রেই। তাঁর পরিবার দীর্ঘদিন ধরে সেন্ট পল এলাকায় ছোট ব্যবসা পরিচালনা করছে। দ্য গার্ডিয়ানকে তিনি জানান, সাম্প্রতিক অভিবাসনবিষয়ক অভিযান ও স্থানীয় পরিস্থিতির কারণে তাঁদের ব্যবসায় প্রভাব পড়েছে। বিশেষ করে অভিবাসী পরিবার পরিচালিত ছোট ব্যবসাগুলোর জন্য পরিস্থিতি কঠিন হয়ে উঠেছে বলে তাঁর অভিমত।   আহমেদ বলেন, এই ঘটনার মাধ্যমে ইরিত্রীয় ও পূর্ব আফ্রিকান কমিউনিটিকে ইতিবাচকভাবে তুলে ধরতে পেরে তিনি আনন্দিত। তাঁর মতে, অভিবাসী পরিবারের সন্তান হিসেবে এমন একটি কাজের স্বীকৃতি পাওয়া ব্যক্তিগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ। স্থানীয় কমিউনিটির পাশাপাশি বিদেশে বসবাসকারী আত্মীয়স্বজনের কাছ থেকেও অভিনন্দন পেয়েছেন তিনি। ইউরোপে থাকা তাঁর এক চাচাও সংবাদমাধ্যমে খবরটি দেখে যোগাযোগ করেন।   সাহসিকতার স্বীকৃতি হিসেবে স্থানীয় গণমাধ্যম উদ্যোক্তা শেলেটা ব্রান্ডিজ আহমেদকে এক হাজার ডলার উপহার দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) তাঁর পরিবারের দোকানে গিয়ে এই অর্থের প্রতীকী চেক তুলে দেওয়া হয়। এ সময় সুপারম্যানের পোশাক পরা একজন ব্যক্তিও উপস্থিত ছিলেন। স্থানীয় একজন সিটি কাউন্সিল সদস্য তাঁকে ফোন করে অভিনন্দন জানিয়েছেন। বিভিন্ন অনুষ্ঠানে নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরার আমন্ত্রণও পেয়েছেন আহমেদ।   এদিকে ঘটনার পর স্কুল কর্তৃপক্ষ শিক্ষার্থীদের মানসিক অবস্থার বিষয়েও খোঁজ নিয়েছে। পরদিন স্কুলের কাউন্সেলিং টিম শিক্ষার্থীদের সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় সহায়তার সুযোগ দেয়। কারণ দুর্ঘটনা না ঘটলেও চলন্ত বাসে চালকের হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ার ঘটনা শিশুদের জন্য আতঙ্কজনক অভিজ্ঞতা ছিল। স্কুল কর্তৃপক্ষ দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ায় আহমেদের প্রশংসা করেছে।   মিনেসোটার এই ঘটনা দেখিয়েছে, জরুরি মুহূর্তে একজন সাধারণ মানুষের দ্রুত সিদ্ধান্ত কতটা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। চালকের অসুস্থতার কারণে নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়া বাসটি বড় দুর্ঘটনার মুখে পড়তে পারত। তবে আহমেদের তৎপরতায় সেটি নিরাপদে থেমে যায়। নিজের সাহসিকতার জন্য প্রশংসা পেলেও তিনি জানিয়েছেন, মানুষের জীবন রক্ষার সুযোগ পেয়ে দায়িত্ব পালন করেছেন মাত্র। তাঁর কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, বাসের ১৯ শিক্ষার্থী নিরাপদে বাড়ি ফিরতে পেরেছে।

প্রকাশ: অক্টোবর ২৫, ২০২৬ ৬:২
সার্টিফায়েড হালাল খাবার চালুর উদ্যোগ

যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে মুসলিম শিক্ষার্থীদের জন্য সার্টিফায়েড হালাল খাবার চালুর উদ্যোগ

ক্তরাষ্ট্রে নভেম্বরের ভেটেরান্স ভাতা মিলবে অক্টোবরেই

যুক্তরাষ্ট্রে নভেম্বরের ভেটেরান্স ভাতা মিলবে অক্টোবরেই, নতুন পেমেন্টের তারিখ ঘোষণা

ট্রাম্প ও মেলানিয়া

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে আগাম ভোট দিলেন ট্রাম্প ও মেলানিয়া

টেডি রুজভেল্টের জন্মদিন উপলক্ষে ২৭ অক্টোবর যুক্তরাষ্ট্রের ফি-নির্ধারিত জাতীয় উদ্যানগুলোতে প্রবেশমূল্য মওকুফ থাকবে। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
সাবেক রাষ্ট্রপতির জন্মদিনে বিশেষ উপহার, যুক্তরাষ্ট্রের সব ন্যাশনাল পার্কে বিনা মূল্যে প্রবেশের সুযোগ

যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় উদ্যানগুলোতে আগামী মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, প্রবেশমূল্য ছাড়াই ঘুরে দেখার সুযোগ পাবেন মার্কিন নাগরিক ও দেশটির বাসিন্দারা। সাবেক প্রেসিডেন্ট থিওডোর ‘টেডি’ রুজভেল্টের জন্মদিন উপলক্ষে এ ছাড় দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় উদ্যান পরিষেবা। যেসব উদ্যানে সাধারণত প্রবেশমূল্য নেওয়া হয়, সেসব স্থানে নির্ধারিত প্রবেশ ফি মওকুফ থাকবে। তবে ২০২৬ সালের নিয়ম অনুযায়ী, বিদেশি পর্যটকদের জন্য এ ছাড় প্রযোজ্য নয়। এ ছাড়া ক্যাম্পিং, আগাম প্রবেশ সংরক্ষণ এবং বিশেষ কার্যক্রমের মতো কিছু সেবার জন্য আলাদা ফি দিতে হতে পারে।   জাতীয় উদ্যান পরিষেবার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালে নির্দিষ্ট কয়েকটি দিনে প্রবেশমূল্য মওকুফের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে প্রেসিডেন্টস ডে, মেমোরিয়াল ডে, ফ্ল্যাগ ডে, স্বাধীনতা দিবসের ছুটির সময়, জাতীয় উদ্যান পরিষেবার প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী, সংবিধান দিবস, টেডি রুজভেল্টের জন্মদিন এবং ভেটেরান্স ডে। এসব দিনে সাধারণ প্রবেশ ফি মওকুফ হলেও পার্কভেদে আগাম বুকিং, গাড়ি পার্কিং, ক্যাম্পিং কিংবা বিশেষ ভ্রমণ কার্যক্রমের জন্য অর্থ দিতে হতে পারে। তাই ভ্রমণের আগে সংশ্লিষ্ট উদ্যানের ওয়েবসাইটে নিয়ম ও প্রবেশের শর্ত দেখে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।   থিওডোর রুজভেল্ট ১৯০১ সালে প্রেসিডেন্ট উইলিয়াম ম্যাককিনলির হত্যাকাণ্ডের পর যুক্তরাষ্ট্রের ২৬তম প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেন। ১৯০১ থেকে ১৯০৯ সাল পর্যন্ত তাঁর শাসনামলে প্রাকৃতিক সম্পদ ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ নেওয়া হয়। যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় উদ্যান পরিষেবার তথ্য অনুযায়ী, তাঁর উদ্যোগে যুক্তরাষ্ট্রের বন পরিষেবা গঠিত হয় এবং ১৫০টি জাতীয় বন প্রতিষ্ঠা করা হয়। এ ছাড়া তিনি পাঁচটি জাতীয় উদ্যান, ১৮টি জাতীয় স্মৃতিস্তম্ভ, ৫১টি ফেডারেল পাখি সংরক্ষণ এলাকা এবং চারটি জাতীয় বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ এলাকা প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখেন। এ কারণেই তাঁকে ‘সংরক্ষণবাদী প্রেসিডেন্ট’ নামে অভিহিত করা হয়।   রুজভেল্টের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত বা সম্প্রসারিত সংরক্ষিত এলাকাগুলোর মধ্যে রয়েছে ওরেগনের ক্রেটার লেক ন্যাশনাল পার্ক, সাউথ ডাকোটার উইন্ড কেভ ন্যাশনাল পার্ক এবং কলোরাডোর মেসা ভার্দে ন্যাশনাল পার্ক। তিনি ক্যালিফোর্নিয়ার ইয়োসেমিটি ন্যাশনাল পার্কের সীমানাও সম্প্রসারণ করেন। তাঁর সময়ে গ্র্যান্ড ক্যানিয়ন, অ্যারিজোনার পেট্রিফায়েড ফরেস্ট, ক্যালিফোর্নিয়ার মুইর উডস এবং ওয়াইওমিংয়ের ডেভিলস টাওয়ারের মতো এলাকাও সংরক্ষিত স্থানের মর্যাদা পায়। এসব উদ্যোগ যুক্তরাষ্ট্রে প্রাকৃতিক পরিবেশ সংরক্ষণের ভিত্তি গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।   ১৯১৬ সালে প্রেসিডেন্ট উড্রো উইলসন জাতীয় উদ্যান পরিষেবা প্রতিষ্ঠা করেন। তবে তার আগেই দেশজুড়ে এমন বহু সংরক্ষিত এলাকা তৈরি হয়েছিল, যেগুলোর ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব পরে এই সংস্থার ওপর পড়ে। জাতীয় উদ্যান পরিষেবার তথ্য অনুযায়ী, রুজভেল্ট নিজেই পরবর্তী সময়ে সংস্থাটির ব্যবস্থাপনায় আসা ২৩টি স্থানের প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রেখেছিলেন। তাঁর জন্মদিনে প্রবেশমূল্য মওকুফের উদ্যোগের মাধ্যমে প্রাকৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণে তাঁর অবদান স্মরণ করা হয়।   চলতি বছরের পরবর্তী এবং শেষ প্রবেশমূল্য মওকুফের দিন ১১ নভেম্বর, ভেটেরান্স ডে। ওই দিনও নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী মার্কিন নাগরিক ও বাসিন্দারা প্রবেশমূল্য ছাড়াই ফি-নির্ধারিত জাতীয় উদ্যানগুলোতে যেতে পারবেন। ভ্রমণের পরিকল্পনা করার সময় সংশ্লিষ্ট উদ্যানের প্রবেশের শর্ত, সম্ভাব্য ভিড় এবং অতিরিক্ত ফি সম্পর্কে আগে থেকে জেনে নেওয়া ভালো।   সূত্র: যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় উদ্যান পরিষেবা (NPS), যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় আর্কাইভস।

প্রকাশ: অক্টোবর ২৫, ২০২৬ ০:১৭
২৫ বছর বন্ধ থাকার পর নিউইয়র্কের ব্রঙ্কসে ইডেনওয়াল্ডের প্রবীণদের সেবাকেন্দ্র পুনরায় চালু হয়েছে। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

২৫ বছর পর খুলল নিউ ইয়র্কের প্রবীণ সেবাকেন্দ্র, উদ্বোধন করলেন মেয়র মামদানি

যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ির মালিকদের রক্ষণাবেক্ষণ, বিমা ও সম্পত্তিকরের ব্যয় গত পাঁচ বছরে প্রায় ৩২ শতাংশ বেড়েছে। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি কেনার পর প্রতিনিয়ত বাড়ছে রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয়, বার্ষিক খরচ ছাড়াল ১৬ হাজার ডলার

নিউ জার্সির ফেয়ারফিল্ডে অবস্থিত আল-গাজালি জুনিয়র/সিনিয়র হাইস্কুল। শিক্ষার্থীসংখ্যা বাড়ানোর আবেদন নিয়ে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের পর্যালোচনা চলছে। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

৯০ শিক্ষার্থীর অনুমোদন, পড়ছে ৩১৩ জন, শিক্ষার্থীসংখ্যা বাড়ানোর অনুমোদন চায় নিউ জার্সিয়ার ইসলামি স্কুল

যুক্তরাষ্ট্রের কলোরাডো ও ওয়াশিংটনে নারী ক্রীড়ায় ট্রান্সজেন্ডারদের অংশগ্রহণ সীমিত করার প্রস্তাব নিয়ে ভোট হতে যাচ্ছে। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
নারীদের খেলাধুলায় ট্রান্সজেন্ডারদের অংশগ্রহণ বন্ধের প্রস্তাবে ভোট হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের দুই অঙ্গরাজ্যে

যুক্তরাষ্ট্রের কলোরাডো ও ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যে নারী ও মেয়েদের ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় ট্রান্সজেন্ডার নারীদের অংশগ্রহণ সীমিত করার প্রস্তাব নিয়ে ভোট হতে যাচ্ছে। আগামী ৩ নভেম্বরের নির্বাচনে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন দুই অঙ্গরাজ্যের ভোটাররা। রাজ্য আইনসভায় একই ধরনের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যাত হওয়ার পর উদ্যোগের সমর্থকেরা সরাসরি ভোটের মাধ্যমে নিষেধাজ্ঞা কার্যকরের চেষ্টা করছেন। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে এ ধরনের বিধিনিষেধ নিয়ে সরাসরি অঙ্গরাজ্যভিত্তিক ভোটের ক্ষেত্রে এটি নজিরবিহীন উদ্যোগ।   কলোরাডো ও ওয়াশিংটন, উভয় অঙ্গরাজ্যেই ডেমোক্র্যাটদের রাজনৈতিক প্রভাব রয়েছে। কিন্তু নারী ক্রীড়ায় ট্রান্সজেন্ডারদের অংশগ্রহণের প্রশ্নে সেখানে মতবিরোধ তীব্র। নিষেধাজ্ঞার সমর্থকেরা বলছেন, নারী ক্রীড়াবিদদের ন্যায্য প্রতিযোগিতা, সুযোগ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ ধরনের বিধিনিষেধ প্রয়োজন। অন্যদিকে, বিরোধীদের মতে, এ পদক্ষেপ ট্রান্সজেন্ডার শিশু-কিশোরদের প্রতি বৈষম্য তৈরি করবে এবং খেলাধুলায় তাঁদের অংশগ্রহণ নিরুৎসাহিত করতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত ২৭টি অঙ্গরাজ্যে ইতিমধ্যে ট্রান্সজেন্ডার ক্রীড়াবিদদের অংশগ্রহণ সীমিত করার আইন রয়েছে।   দুই অঙ্গরাজ্যের প্রস্তাবে কিছু পার্থক্য রয়েছে। কলোরাডোর প্রস্তাব অনুযায়ী, স্কুল ও কলেজের ক্রীড়া দলগুলোতে অংশগ্রহণের যোগ্যতা নির্ধারণে জৈবিক লিঙ্গকে ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করা হবে। অন্যদিকে, ওয়াশিংটনের প্রস্তাবে মেয়েদের জন্য নির্ধারিত ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে শিক্ষার্থীদের জৈবিক লিঙ্গের প্রমাণ দিতে হতে পারে। এ ক্ষেত্রে চিকিৎসকের মাধ্যমে প্রজনন অঙ্গসংস্থান, জিনগত বৈশিষ্ট্য অথবা শরীরে স্বাভাবিকভাবে উৎপন্ন টেস্টোস্টেরনের মাত্রার ভিত্তিতে যাচাইয়ের কথা বলা হয়েছে।   প্রস্তাবের সমর্থকেরা মনে করেন, চিকিৎসকের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় তথ্য যাচাই করা জটিল কিছু নয়। ওয়াশিংটনের উদ্যোগের মুখপাত্র হ্যালি হার্জবার্গের ভাষ্য, চিকিৎসকের কাছে থাকা রোগীর আগের তথ্য বা স্বাস্থ্যসংক্রান্ত নথি ব্যবহার করেই বিষয়টি যাচাই করা সম্ভব। তবে বিরোধীরা আশঙ্কা করছেন, এ ধরনের বিধান কার্যকর করতে গিয়ে শিক্ষার্থীদের শারীরিক পরীক্ষা বা ব্যয়বহুল চিকিৎসা পরীক্ষার প্রয়োজন হতে পারে। চিকিৎসক লিবি লফটের মতে, অল্পসংখ্যক ট্রান্সজেন্ডার শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণ যাচাইয়ের জন্য সব মেয়ের ওপর অতিরিক্ত চিকিৎসা পরীক্ষার চাপ তৈরি করা অযৌক্তিক হতে পারে।   বিতর্কের পক্ষে-বিপক্ষে রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনগুলোও সক্রিয় হয়েছে। এলজিবিটিকিউ অধিকার নিয়ে কাজ করা ব্যালট ইনিশিয়েটিভ স্ট্র্যাটেজি সেন্টারের নির্বাহী পরিচালক ক্রিস মেলোডি ফিল্ডস ফিগুয়েরেডো বলেছেন, ২০২৬ সালের এই উদ্যোগ ভবিষ্যতে এমন নীতির বিস্তার কীভাবে ঘটতে পারে, তার একটি পরীক্ষাক্ষেত্র। অন্যদিকে, নিষেধাজ্ঞার সমর্থকেরা নারী ক্রীড়াবিদদের জন্য সমান সুযোগ ও ন্যায্য প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করার কথা বলছেন। ওয়াশিংটনের এক স্কুলছাত্রী আনালেই উইলসন দাবি করেছেন, অতীতে দৌড় প্রতিযোগিতায় একজন ট্রান্সজেন্ডার ক্রীড়াবিদের কাছে দ্বিতীয় স্থান পাওয়ার অভিজ্ঞতা তাঁর এ বিষয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।   কুইনিপিয়াক বিশ্ববিদ্যালয়ের জুন মাসের এক জরিপে দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের নিবন্ধিত ভোটারদের প্রায় ৭০ শতাংশ নারী ও মেয়েদের ক্রীড়া দলে ট্রান্সজেন্ডার নারীদের অংশগ্রহণের বিরোধিতা করেছেন। তবে ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে এ বিষয়ে মতভেদ রয়েছে। সমর্থকেরা জরিপের ফলকে নিজেদের অবস্থানের পক্ষে দেখালেও বিরোধীরা বলছেন, নীতির প্রভাব শুধু ট্রান্সজেন্ডার শিক্ষার্থীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। যাচাইয়ের বাধ্যবাধকতা অন্য মেয়েদেরও খেলাধুলা থেকে দূরে সরিয়ে দিতে পারে বলে তাঁদের আশঙ্কা।   এই ভোটের ফল শুধু দুই অঙ্গরাজ্যের ক্রীড়ানীতিতেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং যুক্তরাষ্ট্রের অন্যান্য অঙ্গরাজ্যেও একই ধরনের উদ্যোগের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে প্রভাব ফেলতে পারে। দেশটির সুপ্রিম কোর্ট এর আগে আইডাহো ও ওয়েস্ট ভার্জিনিয়ার ট্রান্সজেন্ডার মেয়েদের স্কুলের নারী ক্রীড়া দলে অংশগ্রহণ সীমিত করার আইন বহাল রেখেছে। তবে কলোরাডো ও ওয়াশিংটনের প্রস্তাবগুলো নিয়ে ভোটারদের সিদ্ধান্ত এবং পরবর্তী আইনি পদক্ষেপই নির্ধারণ করবে এসব বিধিনিষেধ কীভাবে কার্যকর হবে।   সূত্র: অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস, কুইনিপিয়াক বিশ্ববিদ্যালয়ের জরিপ।

প্রকাশ: অক্টোবর ২৪, ২০২৬ ২২:২১
জীবনযাত্রার ব্যয় ও চকোলেটের উচ্চমূল্যের কারণে যুক্তরাষ্ট্রে হ্যালোইন উপলক্ষে ক্যান্ডি বিক্রি কমেছে। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়ায় যুক্তরাষ্ট্রে কমেছে হ্যালোইন ক্যান্ডি বিক্রি, পাঁচ বছরে দাম বেড়েছে ৪৪ শতাংশ

যৌন নিপীড়নের অভিযোগে ভুক্তভোগীদের সঙ্গে অন্তত ৮০ কোটি ডলারের সমঝোতার উদ্যোগ নিয়েছে নিউইয়র্কের ক্যাথলিক আর্চডায়োসিস। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

যাজকদের যৌন নির্যাতনের শিকার ১৩০০ ভুক্তভোগীকে ৮০০ মিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ দিচ্ছে নিউ ইয়র্কের চার্চ

যুক্তরাষ্ট্রের পঞ্চম সার্কিট আপিল আদালত আটক অভিবাসীদের জামিন শুনানির সাংবিধানিক অধিকার নিয়ে ১০-৭ ভোটে রায় দিয়েছেন। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

যুক্তরাষ্ট্রে আটক অভিবাসীদের জামিন শুনানি সাংবিধানিক অধিকার নয়, আদালতের রায়

0 Comments