যুক্তরাষ্ট্রে প্রি-স্কুলের ফি ৯ লাখ রুপি, যা মারুতি গাড়ির সমান, খরচ নিয়ে তুমুল আলোচনা
যুক্তরাষ্ট্রের কানেকটিকাটের সিম্সবারিতে দুই বছরের মেয়ের জন্য একটি প্রাইভেট প্রি-স্কুলে ভর্তি করানোর খরচ জানতে গিয়ে চমকে ওঠেন ভারতীয় মা ও কনটেন্ট ক্রিয়েটর সোনাল চৌধুরী। তার শেয়ার করা তথ্য অনুযায়ী, সপ্তাহে দুই দিন ক্লাস করলে বছরে প্রায় ৪ লাখ রুপি, আর পাঁচ দিন ক্লাস করলে খরচ প্রায় ৯ লাখ রুপি পর্যন্ত হতে পারে। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিক্ষা ব্যয় ও শিশুদের প্রি-স্কুল নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।
সোনাল তার মেয়ে বাণীর জন্য প্রি-স্কুলের বিভিন্ন অপশন দেখার সময় ওই প্রতিষ্ঠানে যান। সেখানে স্কুলের কার্যক্রম ও ক্লাস পরিচালনার পদ্ধতি সম্পর্কে তিনি জানতে পারেন। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি নজর কাড়ে শিক্ষক ও শিশুর অনুপাত। আটজন শিশুর একটি গ্রুপের জন্য থাকেন দুইজন শিক্ষক। ফলে প্রতিটি শিশুকে তুলনামূলকভাবে বেশি ব্যক্তিগত মনোযোগ দেওয়া সম্ভব হয়।
প্রি-স্কুলটির কার্যক্রমের মধ্যে গান, যোগব্যায়াম, সৃজনশীল খেলাধুলা এবং শিশুদের প্রাথমিক শেখার বিভিন্ন অনুশীলন রয়েছে। ক্লাস চলে সকাল ৮টা ৪৫ মিনিট থেকে ১১টা ৪৫ মিনিট পর্যন্ত। শিক্ষাবর্ষ সাধারণত সেপ্টেম্বর থেকে জুনের শেষ সময় পর্যন্ত চলে। তবে সোনালের ভিডিওতে যে ফি উল্লেখ করা হয়েছে, সেটি নির্দিষ্ট ওই প্রাইভেট প্রি-স্কুলের প্রোগ্রামের জন্য বলা হয়েছে; যুক্তরাষ্ট্রের সব প্রি-স্কুলের ফি একই নয়।
এই ফি নিয়ে আলোচনার আরেকটি কারণ হলো ভারতের সঙ্গে তুলনা। সোনাল পাঁচ দিনের প্রোগ্রামের বার্ষিক খরচকে ভারতে একটি নতুন মারুতি ব্রেজা গাড়ির দামের সঙ্গে তুলনা করেন। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর অনেকেই যুক্তরাষ্ট্রে প্রি-স্কুল শিক্ষার খরচ নিয়ে নিজেদের মতামত জানান।
যুক্তরাষ্ট্রে প্রি-স্কুল এবং কিন্ডারগার্টেন এক বিষয় নয়। পাবলিক স্কুলে সাধারণত কিন্ডারগার্টেন থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার জন্য সরাসরি টিউশন দিতে হয় না। কিন্তু এর আগের বয়সে শিশুদের জন্য প্রি-স্কুল বা চাইল্ড কেয়ার বেছে নিলে পরিবারকে অনেক ক্ষেত্রে ব্যক্তিগতভাবে খরচ বহন করতে হয়। বিশেষ করে প্রাইভেট বা ছোট ক্লাসের প্রোগ্রামগুলোতে শিক্ষক-শিশু অনুপাত, ক্লাসের সময়সূচি এবং অতিরিক্ত কার্যক্রমের কারণে ফি ভিন্ন হতে পারে।
কানেকটিকাটের সিম্সবারি পাবলিক স্কুলসের অধীনেও শিশুদের জন্য বিভিন্ন কেয়ার ও এনরিচমেন্ট প্রোগ্রাম রয়েছে, যেগুলোর ফি আলাদাভাবে নির্ধারিত হয়। অর্থাৎ একই এলাকায় সরকারি বা কমিউনিটি-ভিত্তিক প্রোগ্রাম এবং প্রাইভেট প্রি-স্কুলের খরচের মধ্যে বড় পার্থক্য থাকতে পারে।
সোনালের ভিডিও ঘিরে অনলাইনে মূল বিতর্কটি শুধু ফি নিয়ে নয়। কেউ যুক্তরাষ্ট্রের আয় ও জীবনযাত্রার ব্যয়ের বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়ার কথা বলেছেন। আবার কেউ প্রশ্ন তুলেছেন, দুই বা তিন ঘণ্টার প্রি-স্কুল প্রোগ্রামের জন্য এত বড় অঙ্কের অর্থ খরচ করা কতটা যৌক্তিক। ছোট ক্লাস, বেশি শিক্ষক এবং ব্যক্তিগত মনোযোগের সুবিধা এই ব্যয়ের যথেষ্ট কারণ কি না, সেটিও আলোচনায় এসেছে।
শিশুর প্রাথমিক শিক্ষায় পরিবারের ব্যয় নিয়ে এই আলোচনা মূলত যুক্তরাষ্ট্রে প্রি-স্কুল ব্যবস্থার বৈচিত্র্য এবং পরিবারভেদে শিক্ষার পছন্দের পার্থক্যকেই সামনে এনেছে। বিশেষ করে নতুন অভিবাসী পরিবারগুলোর জন্য প্রি-স্কুল, চাইল্ড কেয়ার এবং পাবলিক স্কুলের পার্থক্য বোঝা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রের কলোরাডো অঙ্গরাজ্যের সরকারি অর্থায়নে পরিচালিত ক্যাথলিক প্রিস্কুলগুলোতে সমকামী দম্পতির সন্তানদের ভর্তির সুযোগ না দেওয়ার পক্ষে অবস্থান নিতে যাচ্ছে দেশটির সুপ্রিম কোর্ট। মঙ্গলবার আদালতের রক্ষণশীল সংখ্যাগরিষ্ঠ বেঞ্চ ইঙ্গিত দিয়েছে যে, তারা করদাতাদের অর্থে পরিচালিত এই স্কুলগুলোকে ধর্মীয় অধিকারের দোহাই দিয়ে এমন বৈষম্যমূলক পদক্ষেপ নেওয়ার অনুমতি দিতে পারে। এর ফলে স্কুলগুলোতে ধর্মীয় অধিকার প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে দেশটিতে আরও একটি বড় ধরনের জয় আসতে চলেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সুপ্রিম কোর্টের রক্ষণশীল বিচারকরা কলোরাডোর বৈষম্যবিরোধী আইনের বিষয়ে খুব একটা সন্তুষ্ট হতে পারেননি। কলোরাডোর ওই আইনে বলা আছে, সরকারি অর্থায়নে পরিচালিত কোনো প্রিস্কুলে যৌন অভিমুখিতা এবং লিঙ্গ পরিচয়ের ওপর ভিত্তি করে বৈষম্য করা যাবে না। কিন্তু বিচারক ব্রেট কাভানাফসহ রক্ষণশীল বেঞ্চের মতে, এই আইনি লড়াইটি একেবারেই অপ্রয়োজনীয় ছিল এবং কলোরাডো প্রশাসন ক্যাথলিক স্কুলগুলোকে ধর্মীয় অধিকার পালনের সুযোগ দিয়ে একটি সহজ সমঝোতায় পৌঁছাতে পারত। এটি মূলত মার্কিন সংবিধানের প্রথম সংশোধনীর ধর্মীয় সুরক্ষা এবং সমকামী ও রূপান্তরকামীদের সুরক্ষায় প্রণীত বৈষম্যবিরোধী আইনের মধ্যকার একটি আদর্শিক দ্বন্দ্ব। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এ ধরনের সংঘাত যতবারই সুপ্রিম কোর্টে এসেছে, ততবারই ধর্মীয় অধিকারের দাবি জয়লাভ করেছে। অন্যদিকে, আদালতের তিনজন উদারপন্থী বিচারক কলোরাডোর এই বৈষম্যবিরোধী আইনের পক্ষে জোরালো অবস্থান নিয়েছেন। বিচারক সোনিয়া সোটোমায়র ট্রাম্প প্রশাসনের প্রতিনিধিত্বকারী আইনজীবীর সমালোচনা করে বলেন, ধর্মীয় অনুভূতির দোহাই দিয়ে সমকামী দম্পতির সন্তান কিংবা রূপান্তরকামী শিশুদের স্কুল থেকে বাদ দেওয়া সম্পূর্ণ অযৌক্তিক। তবে মার্কিন বিচার বিভাগের হয়ে আইনি লড়াই করা আইনজীবী সারাহ হ্যারিস এই যুক্তি খণ্ডন করে বলেন, ক্যাথলিক স্কুলগুলো মূলত তাদের ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলার জন্যই অভিভাবকদের কিছু শর্ত দিয়ে থাকে, যা তাদের নির্বিঘ্নে ধর্মচর্চার অধিকারের আওতাভুক্ত। উল্লেখ্য, ২০২০ সালে কলোরাডো প্রশাসন একটি সার্বজনীন প্রিস্কুল কর্মসূচির উদ্যোগ নেয়, যেখানে সরকারি ও বেসরকারি উভয় স্কুলকেই রাষ্ট্রীয় অর্থায়নের আওতায় আনা হয়। তবে শর্ত ছিল, সরকারি অর্থ গ্রহণকারী প্রতিটি স্কুলকে বর্ণ, ধর্ম, যৌন অভিমুখিতা ও লিঙ্গ পরিচয় নির্বিশেষে সকল যোগ্য শিশুকে ভর্তির সমান সুযোগ দিতে হবে। এর আগে ২০২২ সালে সুপ্রিম কোর্ট মেইন অঙ্গরাজ্যের একটি মামলায় রায় দিয়েছিল যে, সরকার যখন শিক্ষা তহবিলের কর্মসূচি উন্মুক্ত করে, তখন কোনো স্কুলকে শুধুমাত্র ধর্মীয় হওয়ার কারণে সেই তহবিল থেকে বঞ্চিত করা যাবে না। রক্ষণশীল বিচারকদের ধারণা, ওই রায়ের পরই বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য বৈষম্যবিরোধী আইনের এমন সব ধারা যুক্ত করে পরোক্ষভাবে ধর্মীয় স্কুলগুলোর অংশগ্রহণ আটকে দেওয়ার চেষ্টা করছে।
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতির কড়াকড়িতে কমছে নতুন ভাড়াটে পরিবার, চাপে আবাসন খাত
বিলাসিতা নয়, রুচির পরিচয়: যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সাশ্রয়ী আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ড
ওয়ারেন্ট ছাড়াই গ্রেপ্তার, পরে সরকারি নথিতে মিথ্যা তথ্য দেওয়ার অভিযোগ আইসিইর বিরুদ্ধে
প্রয়াত পপসম্রাট মাইকেল জ্যাকসনের মেয়ে প্যারিস জ্যাকসন তার বাবার এস্টেট থেকে নিজেদের পারিবারিক ট্রাস্ট ফান্ডের জন্য ৬০০ মিলিয়ন ডলার (৪৫০ মিলিয়ন পাউন্ড) ছাড়ের দাবি তুলেছেন। গত ২৯ অক্টোবর লস অ্যাঞ্জেলেস সুপিরিয়র কোর্টে দায়ের করা এক আবেদনে ২৮ বছর বয়সী প্যারিস অভিযোগ করেছেন যে, এস্টেটের ট্রাস্টি জন ব্রাঙ্কা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাদের উত্তরাধিকারের অর্থ আটকে রেখেছেন। তার মতে, মাইকেল জ্যাকসনের মৃত্যুর ১৭ বছরেরও বেশি সময় পার হওয়ার পরও তাকে এবং তার ভাইদের ন্যায্য অর্থ বুঝিয়ে না দেওয়ার কোনো যুক্তিসঙ্গত কারণ থাকতে পারে না। পিটিশনে উল্লেখ করা হয়েছে, বাবার এস্টেট থেকে কোটি কোটি ডলার আয় হলেও মাইকেলের তিন সন্তান—প্রিন্স (২৯), প্যারিস (২৮) এবং বিগি (২৪)-এর জন্য গঠিত ফ্যামিলি ট্রাস্টটিতে এখনও পর্যাপ্ত অর্থ স্থানান্তর করা হয়নি। পারিবারিক ট্রাস্টের শর্তানুযায়ী, ভাইবোনদের বয়স ২১ বছর পূর্ণ হলে তারা নিজ নিজ অংশ থেকে আয় পেতে শুরু করবেন। এরপর বয়স ৩০ বছর হলে তারা মূল তহবিলের এক-তৃতীয়াংশ, ৩৫ বছর বয়সে অবশিষ্ট অর্থের অর্ধেক এবং ৪০ বছর বয়সে পুরো অর্থ হাতে পাবেন। আগামী চার মাসের মধ্যে প্রিন্স ৩০ বছরে পদার্পণ করতে যাওয়ায় বিষয়টি আরও জোরালো হয়েছে। প্যারিস তার অভিযোগে জানান, ট্রাস্টি জন ব্রাঙ্কা তাদের ওপর একপ্রকার ‘নিয়ন্ত্রণ’ প্রতিষ্ঠা করেছেন এবং ট্রাস্টের শর্তের তুলনায় অনেক কম পরিমাণ অর্থ তাদের দেওয়া হয়েছে। এমনকি আইনি পথে হাঁটার পর তাদের পাওনা অর্থ থেকে আরও কয়েক মিলিয়ন ডলার কেটে নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেছেন তিনি। প্যারিসের অনুমান, এস্টেটের বর্তমান নগদ মজুত এবং সমস্ত দায়দেনা পরিশোধের পরও ফ্যামিলি ট্রাস্টে দেওয়ার মতো প্রায় ৬০০ মিলিয়ন ডলার অবশিষ্ট রয়েছে। তবে মাইকেল জ্যাকসনের এস্টেটের একজন মুখপাত্র প্যারিসের দাবিগুলোকে সম্পূর্ণ ‘ভিত্তিহীন’ বলে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি জানান, আইআরএসের (অভ্যন্তরীণ রাজস্ব পরিষেবা) ৭০০ মিলিয়ন ডলারের কর ও জরিমানার চলমান মামলাসহ বেশ কয়েকটি আইনি জটিলতা সমাধান না হওয়া পর্যন্ত ট্রাস্টে முழு তহবিল স্থানান্তর করা সম্ভব নয়। মুখপাত্র আরও জানান যে, প্যারিস ও অন্যান্য সুবিধাভোগীদের জন্য ইতিমধ্যে ২০০ মিলিয়ন ডলারেরও বেশি অর্থ ছাড় করা হয়েছে এবং মাইকেল জ্যাকসনের উইল অনুযায়ী, ৩০ বছর বয়স পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত তার কোনো সন্তানই ট্রাস্ট থেকে বড় অঙ্কের অর্থ পাবেন না। আগামী ৪ ডিসেম্বর এই মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে, যেখানে এস্টেট পরিচালনা ও ট্রাস্টির পারিশ্রমিক কমানোর বিষয়েও প্যারিসের করা আরেকটি আবেদনের শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রে স্বামীর গুলিতে স্ত্রী নি হত, আত্মহ ত্যা করলেন স্বামী, এতিম ৬ বছরের শিশু
যুক্তরাষ্ট্রে ক্ষুধার্ত শিক্ষার্থীদের খাবার দেওয়ায় চাকরি হারালেন ১৯ বছরের অভিজ্ঞ স্কুলকর্মী
মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে ৬২ শতাংশ ভারতীয়-আমেরিকানের সমর্থন ডেমোক্র্যাটদের দিকে
যুক্তরাষ্ট্রের সান ফ্রান্সিসকো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে (এসএফও) ছুটি কাটাতে যাওয়ার পথে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্টের (আইসিই) হাতে আটক হয়েছেন ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়, বার্কলের (ইউসি বার্কলে) ২৩ বছর বয়সী এক মেধাবী শিক্ষার্থী। পলা আলবোর্নোজ হার্নান্দেজ নামের ওই কলম্বিয়ান তরুণী বৈধভাবে আশ্রয়ের আবেদনকারী হওয়া সত্ত্বেও গত শুক্রবার পোর্টল্যান্ডগামী একটি ফ্লাইটে ওঠার অপেক্ষায় থাকার সময় তাকে আটক করা হয়। বর্তমানে তিনি কার্ন কাউন্টির ক্যালিফোর্নিয়া সিটি ডিটেনশন সেন্টারে বন্দী রয়েছেন বলে তার আইনজীবীরা নিশ্চিত করেছেন। হার্নান্দেজের প্রেমিক অ্যান্থনি জানান, আইসিই এজেন্টরা আটকের সময় দাবি করেন যে হার্নান্দেজের ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে। আটকের পর তাকে স্টকটন ও স্যাক্রামেন্টোর বিভিন্ন বন্দিশালায় ঘোরানোর পর ক্যালিফোর্নিয়া সিটিতে স্থানান্তর করা হয়। তবে হার্নান্দেজের আইনজীবী নিকোলাস ডি ব্রেম্যাকার এই আটকের তীব্র সমালোচনা করে জানিয়েছেন, ২০২২ সালে কলম্বিয়ায় যৌন সহিংসতার শিকার হয়ে যুক্তরাষ্ট্রে আসার পর তার মক্কেল সমস্ত অভিবাসন নিয়ম মেনে চলেছেন। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই তিনি আশ্রয়ের আবেদন করেন, সরকারের কাছে বায়োমেট্রিক তথ্য জমা দেন এবং বৈধ ওয়ার্ক পারমিট লাভ করেন। বিনা পরোয়ানায় এই আটককে বেআইনি দাবি করে সোমবার রাতে তার মুক্তির জন্য হেবিয়াস কর্পাস পিটিশন দায়ের করেছেন এই আইনজীবী। সাম্প্রতিক সময়ে ট্রাম্প প্রশাসনের ‘অপারেশন সেফ ক্যালিফোর্নিয়া’ নামক ৪৫ দিনব্যাপী অভিবাসন বিরোধী কঠোর অভিযানের অংশ হিসেবেই এই ধরপাকড় চালানো হচ্ছে বলে সংবাদমাধ্যমে উল্লেখ করা হয়েছে। এদিকে, এই আটকের ঘটনায় ইউসি বার্কলে ক্যাম্পাসে ব্যাপক উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর রিচার্ড কে. লিয়ন্স শনিবার কেন্দ্রীয় অভিবাসন কর্মকর্তাদের কাছে একটি চিঠি পাঠিয়ে হার্নান্দেজের পক্ষে শক্ত অবস্থান নিয়েছেন। চিঠিতে তিনি উল্লেখ করেন, হার্নান্দেজ অত্যন্ত প্রতিযোগিতামূলক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বার্কলেতে পড়ার সুযোগ অর্জন করেছেন এবং এই আটকাদেশ তার শিক্ষাজীবনকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। উল্লেখ্য, হার্নান্দেজ সান হোসে সিটি কলেজ থেকে ডিগ্রি নেওয়ার পর বর্তমানে ইউসি বার্কলেতে এমবিএ করার পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নিয়ে গবেষণা করছেন।
যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধ ভোট দেওয়ার অভিযোগে ৬৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা, তালিকায় বাংলাদেশিও
যুক্তরাষ্ট্রে জনপ্রিয়তা কমলে ইসরায়েলে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী হবেন ট্রাম্প! দাবি ৯৯ শতাংশ সমর্থনের