সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আমেরিকা

আদালতের নির্দেশ অমান্য করে আশ্রয়প্রার্থীকে বিতাড়ন, ট্রাম্প প্রশাসন দোষী সাব্যস্ত

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২৬ ১৪:২০
আদালতের নির্দেশ অমান্য করে আশ্রয়প্রার্থীকে বিতাড়ন, ট্রাম্প প্রশাসন দোষী সাব্যস্ত
আদালতের নির্দেশ অমান্য করে আশ্রয়প্রার্থীকে বিতাড়ন, ট্রাম্প প্রশাসন দোষী সাব্যস্ত

যুক্তরাষ্ট্রের এক ফেডারেল বিচারক আদালতের তিনটি নির্দেশ অমান্য করে এক আশ্রয়প্রার্থীকে এল সালভাদরে বিতাড়িত করার দায়ে ট্রাম্প প্রশাসনকে আদালত অবমাননার দায়ে দোষী সাব্যস্ত করেছেন। শুক্রবার দেওয়া এক আদেশে ইউএস ডিস্ট্রিক্ট জজ স্টেফানি গ্যালাগার সরকারকে নির্দেশ দিয়েছেন, আদালতের নথিতে 'ই.এল.এ.' (E.L.A.) হিসেবে পরিচিত ওই ব্যক্তিকে অবিলম্বে যুক্তরাষ্ট্রে ফিরিয়ে আনতে হবে।

 

সেই সঙ্গে তাঁর আশ্রয়ের আবেদন পুরোপুরি নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তাঁকে বিতাড়নের কোনো আদেশ কার্যকর করা থেকে বিরত থাকতে সরকারকে কঠোরভাবে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

 

আদালতের নথিপত্র অনুযায়ী, ওই ব্যক্তিকে অন্যায়ভাবে দুবার যুক্তরাষ্ট্র থেকে বিতাড়িত করা হয়েছিল। প্রথমবার বিতাড়নের পর তিনি গত ৭ আগস্ট স্বেচ্ছায় বিমানে করে যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে আসেন এবং নিজেকে অভিবাসন কর্তৃপক্ষের হেফাজতে সমর্পণ করেন। কিন্তু কয়েক সপ্তাহ বন্দি রাখার পর মার্কিন সরকার তাঁকে দ্বিতীয়বারের মতো এমন একটি দেশে জোরপূর্বক ফেরত পাঠায়, যেখানে তিনি নিপীড়নের আতঙ্কে ছিলেন।

 

এই ঘটনাটি মূলত ২০১৯ সালের একটি ফেডারেল ক্লাস-অ্যাকশন মামলার অংশ, যা অভিভাবকহীন অপ্রাপ্তবয়স্ক হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করা অভিবাসীদের আশ্রয়ের অধিকার আইনিভাবে রক্ষা করে। নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে, এই আইনি সুরক্ষার আওতায় থাকা অন্তত ১০৭ জন ব্যক্তিকে (যার মধ্যে ৫৪ জন নিশ্চিত এবং ৫৩ জন সম্ভাব্য সুরক্ষিত সদস্য) তাঁদের আশ্রয়ের আবেদন চূড়ান্ত হওয়ার আগেই অন্যায়ভাবে বিতাড়ন করা হয়েছে।

 

এছাড়া, হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ডিপার্টমেন্ট (ডিএইচএস) অভিভাবকহীন অভিবাসী শিশুদের স্বেচ্ছায় নিজেদের দেশে ফিরে যাওয়ার জন্য ২,৫০০ ডলার অনুদান দেওয়ারও প্রস্তাব দিচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

 

এর আগে গত আগস্ট মাসেও বিচারক গ্যালাগার ডিএইচএস-কে দেওয়ানি অবমাননার দায়ে দোষী সাব্যস্ত করেছিলেন। সে সময় তিনি রায় দিয়েছিলেন যে, আইনগত বাধা থাকা সত্ত্বেও সরকার বারবার তরুণ আশ্রয়প্রার্থীদের বিতাড়িত করছে।

 

সর্বশেষ এই ঘটনা নিয়ে এবিসি নিউজের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হলেও ডিএইচএস-এর কোনো মুখপাত্র তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেননি। শুক্রবারের ওই আদেশে আগামী ২ অক্টোবরের মধ্যে ওই আশ্রয়প্রার্থীকে যুক্তরাষ্ট্রে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে সর্বশেষ অগ্রগতি আদালতকে জানাতে উভয় পক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
যুক্তরাষ্ট্রে ১৮ কোটি ৪০ লাখ ডলার শুল্ক ফেরত পেল কস্টকো, গ্রাহকদের জন্য কমছে দাম
যুক্তরাষ্ট্রে ১৮ কোটি ৪০ লাখ ডলার শুল্ক ফেরত পেল কস্টকো, গ্রাহকদের জন্য কমছে দাম

যুক্তরাষ্ট্রের জনপ্রিয় রিটেইল জায়ান্ট কস্টকো বৃহস্পতিবার জানিয়েছে, তাদের সর্বশেষ প্রান্তিকে তারা ১৮ কোটি ৪০ লাখ (১৮৪ মিলিয়ন) মার্কিন ডলার শুল্ক ফেরত পেয়েছে। তবে এই বিপুল পরিমাণ অর্থ নিজেদের মুনাফা হিসেবে রেখে না দিয়ে, এর বড় একটি অংশ গ্রাহকদের সুবিধার্থে পণ্যের দাম কমানোর কাজে ব্যবহার করা হয়েছে।   কস্টকো নিশ্চিত করেছে যে, তাদের ওয়্যারহাউসগুলোতে কেনাকাটা করা সদস্যদের জন্য খাদ্যপণ্য ও পানীয়সহ দৈনন্দিন ব্যবহার্য বিভিন্ন ক্যাটাগরির পণ্যের দাম ইতোমধ্যে কমানো হয়েছে।   সম্প্রতি এক আর্নিংস কলে কস্টকোর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) রন ভ্যাচরিস জানান, চতুর্থ প্রান্তিকে তারা প্রাথমিকভাবে কিছু শুল্ক ফেরত পেয়েছেন এবং গ্রাহকদের সেরা ভ্যালু বা সুবিধা নিশ্চিত করতে এই অর্থের একাংশ পুনরায় বিনিয়োগ করা হয়েছে।   তিনি আরও জানান, প্রান্তিকের দ্বিতীয়ার্ধে শাকসবজি-ফলমূল, মাংস, পানীয় থেকে শুরু করে ঘরের আসবাবপত্র ও হার্ডওয়্যারের মতো বেশ কিছু খাদ্যবহির্ভূত পণ্যের দামও উল্লেখযোগ্য হারে কমানো হয়েছে।   কস্টকোর চিফ ফিন্যান্সিয়াল অফিসার (সিএফও) গ্যারি মিলারচিপ এই উদ্যোগকে সদস্যদের জন্য 'শুল্ক ফেরতের সুবিধা ফিরিয়ে দেওয়া' হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।   তাঁর মতে, যে পণ্যগুলোর দাম কমালে গ্রাহকরা সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবেন, মূলত সেগুলোর ক্ষেত্রেই এই অর্থ ব্যবহার করে দাম সমন্বয় করা হয়েছে।   মিলারচিপ জানান, কস্টকোর প্রাপ্ত ১৮ কোটি ৪০ লাখ ডলারের মধ্যে ১৭ কোটি ৪০ লাখ ডলার হলো মূল শুল্ক ফেরত এবং বাকি ১ কোটি ডলার এসেছে সুদ হিসেবে।   তিনি আরও জানান, আগামী দিনে যে পরিমাণ শুল্ক ফেরত পাওয়ার প্রত্যাশা কস্টকো করছে, এটি তার মাত্র এক-তৃতীয়াংশ এবং প্রথম প্রান্তিকেও তারা সমপরিমাণ অর্থ ফেরত পেয়েছিল।   প্রতিষ্ঠানটির লক্ষ্য হলো, ভবিষ্যতেও প্রাপ্ত শুল্কের বড় অংশ একইভাবে গ্রাহকদের সুবিধার্থে বিনিয়োগ করা।   গত বছর কস্টকোর পণ্যের ওপর শুল্কের নেতিবাচক প্রভাব সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে সিইও ভ্যাচরিস জানান, প্রথম ও দ্বিতীয় প্রান্তিকে এর প্রভাব সবচেয়ে বেশি থাকলেও তৃতীয় প্রান্তিক থেকে পরিস্থিতি অনেকটাই স্বাভাবিক হয়ে আসে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২৬ ১৫:২৬
নিউইয়র্কে দায়িত্ব নেওয়ার ৯ মাসেই জনপ্রিয়তায় এগিয়ে মামদানি, পেছনে প্রবীণ নেতারা

নিউইয়র্কে দায়িত্ব নেওয়ার ৯ মাসেই জনপ্রিয়তায় এগিয়ে মামদানি, পেছনে প্রবীণ নেতারা

মার্কিন গ্রোসারি ব্র্যান্ডের লড়াই: কস্টকো নাকি অ্যালডি, ক্রেতাদের পছন্দের শীর্ষে কে?

মার্কিন গ্রোসারি ব্র্যান্ডের লড়াই: কস্টকো নাকি অ্যালডি, ক্রেতাদের পছন্দের শীর্ষে কে?

আদালতের নির্দেশ অমান্য করে আশ্রয়প্রার্থীকে বিতাড়ন, ট্রাম্প প্রশাসন দোষী সাব্যস্ত

আদালতের নির্দেশ অমান্য করে আশ্রয়প্রার্থীকে বিতাড়ন, ট্রাম্প প্রশাসন দোষী সাব্যস্ত

ক্যালিফোর্নিয়ায় বৃষ্টিভেজা রাতে ডাস্টবিনের পাশে ফেলে যাওয়া হয়েছিল নবজাতক, অবশেষে গ্রেপ্তার মা
ক্যালিফোর্নিয়ায় বৃষ্টিভেজা রাতে ডাস্টবিনের পাশে ফেলে যাওয়া হয়েছিল নবজাতক, অবশেষে গ্রেপ্তার মা

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় এক সদ্যোজাত সন্তানকে ডাস্টবিনের পাশে ফেলে যাওয়ার অভিযোগে দীর্ঘ ১৬ মাসের তদন্ত শেষে ওই শিশুর মাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অ্যাস্ট্রিড নোহেমি লোপেজ রামোস নামের ২৬ বছর বয়সী ওই নারীকে শিশু বিপন্ন করার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়। বর্তমানে তাকে ক্যালিফোর্নিয়ার ব্যানিং শহরের ল্যারি ডি. স্মিথ কারেকশনাল ফ্যাসিলিটিতে বন্দি রাখা হয়েছে এবং তার জামিনের জন্য ৩৫ হাজার মার্কিন ডলার নির্ধারণ করেছে আদালত।   রিভারসাইড পুলিশ ডিপার্টমেন্ট জানিয়েছে, গত ২০২৫ সালের ৪ মে জ্যাকসন স্ট্রিটের একটি অ্যাপার্টমেন্ট কমপ্লেক্সের ডাস্টবিনের কাছে বৃষ্টির মধ্যে এক নবজাতককে কাঁদতে দেখেন স্থানীয় এক বাসিন্দা। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে শিশুটিকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়।   উদ্ধারের সময় শিশুটির শরীরে তখনও নাড়ি যুক্ত ছিল এবং কোনো ধরনের আবরণ ছাড়াই তাকে বৃষ্টির মাঝে অরক্ষিত অবস্থায় ফেলে রাখা হয়েছিল। চিকিৎসকদের ধারণা, উদ্ধারের মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগেই শিশুটির জন্ম হয়েছিল। রিভারসাইড পুলিশের যৌন নিপীড়ন ও শিশু নির্যাতন বিভাগের গোয়েন্দারা এই ঘটনার দীর্ঘ ও নিবিড় তদন্ত শেষে বৃহস্পতিবার অভিযুক্ত মাকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হন।   আদালতের নথি অনুযায়ী, আগামী বছরের ১২ জানুয়ারি রিভারসাইড হল অব জাস্টিসে অভিযুক্তকে হাজির করার দিন ধার্য করা হয়েছে। এই ঘটনার পর স্থানীয় প্রশাসন ক্যালিফোর্নিয়ার ‘সেফলি সারেন্ডারড বেবি ল’-এর কথা আবারও বাসিন্দাদের স্মরণ করিয়ে দিয়েছে। এই আইনের আওতায় কোনো মা চাইলে সন্তান জন্মের ৭২ ঘণ্টার মধ্যে কোনো ধরনের আইনি জবাবদিহি ছাড়াই নবজাতককে নিরাপদ আশ্রয়ে সমর্পণ করতে পারেন। মূলত শিশু পরিত্যাগের কারণে অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যু রোধ করতেই আইনটি প্রণয়ন করা হয়েছিল।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২৬ ১৪:৩
যুক্তরাষ্ট্রে কমলা হ্যারিসকে এড়িয়ে চলছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থীরা, প্রচারণায় বাড়ছে অস্বস্তি

যুক্তরাষ্ট্রে কমলা হ্যারিসকে এড়িয়ে চলছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থীরা, প্রচারণায় বাড়ছে অস্বস্তি

অবশেষে ৯৮ বছর বয়সে এসে নিজের অসম্পূর্ণ হাইস্কুলের ডিপ্লোমা সনদ হাতে পেলেন পল লিটল। ছবি: সংগৃহীত

পড়ালেখা ছেড়েছিলেন ৮০ বছর আগে, ৯৮ বছর বয়সে পেলেন হাইস্কুল ডিপ্লোমা সনদ

যুক্তরাষ্ট্রে ২০২৬ সালের আয়কর রিটার্ন দাখিলের সময় করদাতাদের নাগরিকত্ব বা বৈধতার তথ্য জানাতে হতে পারে। ছবি: সংগৃহীত

ট্যাক্স রিটার্নে নাগরিকত্ব বা ওয়ার্ক পারমিটের তথ্য দিতে হতে পারে, ২০২৬ সালের খসড়া ফর্মে নতুন প্রশ্ন

যুক্তরাষ্ট্রের আইওয়া অঙ্গরাজ্যে স্কুলের শিক্ষা সফরে গিয়ে পানিতে ডুবে এক শিক্ষার্থী ও এক শিক্ষিকার মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
শিক্ষা সফরে মর্মান্তিক মৃত্যু, ১০ বছরের শিক্ষার্থী ও তরুণী শিক্ষিকার প্রাণ গেল আইওয়ার লেকে

যুক্তরাষ্ট্রের আইওয়া অঙ্গরাজ্যে স্কুলের শিক্ষা সফরে গিয়ে পানিতে ডুবে প্রাণ হারিয়েছে ১০ বছরের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী আহমেদ ওসমান ও তার ২৪ বছর বয়সী শিক্ষিকা হান্নাহ জর্গেনসেন। মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, আইওয়া সিটির বরলগ এলিমেন্টারি স্কুলের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের ‘স্কুল অব দ্য ওয়াইল্ড’ শিক্ষা সফরের সময় ম্যাকব্রাইড নেচার রিক্রিয়েশন এরিয়ায় এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।    জনসন কাউন্টি শেরিফের অফিস জানায়, দুপুরের দিকে কোরালভিল রিজার্ভয়ার ও লেক ম্যাকব্রাইডের স্পিলওয়ে এলাকার পানিতে লোকজন থাকার খবর পেয়ে জরুরি উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। দুপুর ১২টা ৪৩ মিনিটের দিকে একজন প্রাপ্তবয়স্ককে পানি থেকে উদ্ধার করা হয়। পরে তাকে বরলগ এলিমেন্টারির পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষক হান্নাহ জর্গেনসেন হিসেবে শনাক্ত করা হয়। ঘটনাস্থলেই তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়।    এরপর পানিতে নিখোঁজ থাকা ১০ বছরের শিক্ষার্থী আহমেদ ওসমানকে খুঁজতে ব্যাপক উদ্ধার অভিযান শুরু হয়। মঙ্গলবার রাত পর্যন্ত তল্লাশি চালানোর পর অভিযান সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়। পরদিন বুধবার আবার উদ্ধার অভিযান শুরু হলে দুপুর ১টা ২৪ মিনিটের দিকে কোরালভিল রিজার্ভয়ার থেকে আহমেদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। শেরিফের অফিস জানায়, আহমেদ আইওয়া সিটির বাসিন্দা ছিল।    ঘটনার সঠিক কারণ কী এবং কীভাবে শিক্ষক ও শিক্ষার্থী পানিতে পড়ে গেলেন, তা এখনো তদন্তাধীন। জনসন কাউন্টি শেরিফের অফিসের প্রকাশিত তথ্যে এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।    তবে আহমেদের বাবা মোহাম্মদ ওসমান নিউইয়র্ক টাইমসকে বলেছেন, তার ছেলে পানিতে পড়ে যাওয়ার পর হান্নাহ তাকে বাঁচানোর চেষ্টা করেছিলেন। বাবার ভাষ্য অনুযায়ী, আহমেদকে উদ্ধারের চেষ্টা করতে গিয়েই হান্নাহ পানিতে পড়ে যান এবং শেষ পর্যন্ত দুজনই মারা যান। এই বিবরণটি পরিবারের পক্ষ থেকে দেওয়া হয়েছে; কর্তৃপক্ষ এখনো ঘটনার পূর্ণাঙ্গ ক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি।    হান্নাহ জর্গেনসেন বরলগ এলিমেন্টারিতে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এর আগে তিনি গার্নার এলিমেন্টারিতে প্যারাএডুকেটর হিসেবে কাজ করেছেন এবং সেখানে প্র্যাকটিকাম ও স্টুডেন্ট টিচিংও সম্পন্ন করেছিলেন। গার্নার এলিমেন্টারির পক্ষ থেকে তাকে শিক্ষার্থীদের প্রতি যত্নশীল ও নিবেদিত শিক্ষক হিসেবে স্মরণ করা হয়েছে।    আহমেদের মৃত্যুতে আইওয়া সিটির বাংলাদেশি ও সুদানি কমিউনিটিতেও শোক নেমে এসেছে। ২৪ সেপ্টেম্বর রাতে তাকে স্মরণ করে একটি ভিজিলের আয়োজন করা হয়। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সেখানে শত শত মানুষ জড়ো হয়ে আহমেদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান। স্বজন ও পরিচিতরা তাকে হাসিখুশি, ভদ্র ও বুদ্ধিমান শিশু হিসেবে স্মরণ করেন। তারা জানান, আহমেদ ফুটবল খেলতে ভালোবাসত।    এদিকে ঘটনার পর আইওয়া সিটি কমিউনিটি স্কুল ডিস্ট্রিক্ট ‘স্কুল অব দ্য ওয়াইল্ড’ কর্মসূচির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পরবর্তী শিক্ষা সফরগুলো বাতিল করেছে। শিক্ষার্থী ও স্কুল স্টাফদের জন্য কাউন্সেলর এবং অতিরিক্ত সাপোর্ট স্টাফের ব্যবস্থাও করা হয়েছে।    এই দুর্ঘটনার পর উদ্ধার অভিযানে জনসন কাউন্টি মেট্রো ডাইভ টিম, স্থানীয় ফায়ার ও পুলিশ বিভাগ, আইওয়া ডিপার্টমেন্ট অব ন্যাচারাল রিসোর্সেস, আইওয়া স্টেট প্যাট্রোল, ইউএস আর্মি কর্পস অব ইঞ্জিনিয়ার্সসহ একাধিক সংস্থা অংশ নেয়। ঘটনাটির তদন্ত এখনো জনসন কাউন্টি শেরিফের অফিসের নেতৃত্বে চলছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২৬ ১১:৪১
যুক্তরাষ্ট্রে নির্দিষ্ট কিছু আইফোনের ক্রেতাদের জন্য অ্যাপলের সঙ্গে ২৫ কোটি ডলারের মামলার মীমাংসা থেকে অর্থ পাওয়ার আবেদন শুরু হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

২৫ কোটি ডলারের মামলায় আইফোন ক্রেতাদের ক্ষতিপূরণের আবেদন শুরু, জানুন বিস্তারিত

নিউইয়র্কের ম্যানহাটনের আপার ইস্ট সাইডে ম্যানহোল দিয়ে ভূগর্ভস্থ স্যুয়ার ব্যবস্থায় ঢোকার অভিযোগে দুই ব্যক্তি গ্রেপ্তার হয়েছেন। ছবি: সংগৃহীত

ম্যানহোলে ঢুকে সোনা-দামি জিনিস খোঁজার অভিযোগ, নিউইয়র্কে গ্রেপ্তার কুইন্সের দুই ব্যক্তি

যুক্তরাষ্ট্রে গ্রিন কার্ড পাওয়ার নিয়মে বড় পরিবর্তনের প্রস্তাব দিয়ে সিনেটে একটি নতুন বিল এনেছেন রিপাবলিকান সিনেটর টমি টিউবারভিল। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে গ্রিন কার্ডের নিয়ম সীমিত ও ডিভি লটারিতে বড় পরিবর্তন চেয়ে সিনেটে নতুন বিল

0 Comments