সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

ট্রাম্প প্রশাসন

মার্কিন নাগরিকদের ওপর হা মলার আশঙ্কা, মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশ থেকে কর্মী সরাচ্ছে ওয়াশিংটন
মার্কিন নাগরিকদের ওপর হা মলার আশঙ্কা, মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশ থেকে কর্মী সরাচ্ছে ওয়াশিংটন

মধ্যপ্রাচ্য ও এর বাইরের বিভিন্ন দেশে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের ওপর প্রাণঘাতী হামলার জোরদার ছক কষছে ইরান। ট্রাম্প প্রশাসন যখন তেহরানের ওপর নতুন করে সামরিক অভিযানের কথা বিবেচনা করছে, ঠিক তখনই মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো এই চরম ঝুঁকির বিষয়ে সতর্কতা জারি করেছে।   সংবাদমাধ্যম এক্সিওস-এর হাতে আসা একটি মেমো থেকে জানা যায়, ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্সের পরিচালক জে ক্লেটন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওকে চিঠির মাধ্যমে জানিয়েছেন যে মার্কিনীদের ওপর ইরানি হামলার প্রস্তুতি ইতিমধ্যে 'চূড়ান্ত পর্যায়ে' পৌঁছেছে। তবে এক পৃষ্ঠার ওই আনক্লাসিফাইড মেমোতে নির্দিষ্ট কোনো লক্ষ্যবস্তু বা মধ্যপ্রাচ্যের বাইরের কোনো দেশের নাম উল্লেখ করা হয়নি।   এই সতর্কবার্তার পর ইরান ও ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের ক্রমবর্ধমান হুমকির মুখে ওই অঞ্চলে নিজেদের কূটনৈতিক উপস্থিতি দ্রুত কমিয়ে এনেছে ওয়াশিংটন। চলতি সপ্তাহের শুরুতে স্টেট ডিপার্টমেন্ট সৌদি আরব থেকে জরুরি দায়িত্বে নেই এমন মার্কিন সরকারি কর্মী ও তাদের পরিবারকে দেশে ফেরার নির্দেশ দিয়েছে। পাশাপাশি জর্ডান, লেবানন, কাতার এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের দূতাবাসগুলোতেও কর্মীর সংখ্যা কমানো হয়েছে।   এদিকে তুরস্কে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ও সিরিয়া বিষয়ক বিশেষ দূত টম বারাক এক পডকাস্টে ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, এই সপ্তাহান্তেই ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হামলা হতে পারে। যদিও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ফ্লোরিডায় এক বক্তব্যে রাষ্ট্রদূতের ওই মন্তব্য এড়িয়ে যান।   তবে ফোর্ট মায়ার্সের একটি সমাবেশে তিনি মার্কিন যুদ্ধজাহাজগুলোর প্রত্যাবর্তনের কথা উল্লেখ করে কিউবা ও মার্কো রুবিওকে জড়িয়ে নতুন সামরিক তৎপরতার ইঙ্গিত দেন। বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত দুটি মার্কিন এয়ারক্রাফট ক্যারিয়ারের একটি 'ইউএসএস জর্জ ওয়াশিংটন'-এর কমান্ডিং অফিসার ক্যাপ্টেন নিকোলাস ডিলেও জানিয়েছেন, যেকোনো সম্ভাব্য সামরিক উত্তেজনা মোকাবিলায় তাদের রণতরি সর্বদা প্রস্তুত রয়েছে।

ইসতিয়াক আহমেদ অক্টোবর ২৩, ২০২৬ ১৪:০
নাগরিকত্বের আবেদনে মিথ্যা তথ্য দেওয়ার ঘটনায় ফেডারেল আদালতে বাতিল হয়েছে নাইজেরিয়ায় জন্ম নেওয়া এক নারীর মার্কিন নাগরিকত্ব। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
জালিয়াতির আশ্রয়ে নাগরিকত্ব অর্জন, ১৩ বছর পর বাতিল মার্কিন নাগরিকত্ব

অন্য এক মার্কিন নাগরিকের পরিচয় ব্যবহার করে পাসপোর্ট নেওয়া এবং নাগরিকত্বের আবেদনে মিথ্যা তথ্য দেওয়ার ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব হারিয়েছেন নাইজেরিয়ায় জন্ম নেওয়া ভিভিয়ান চিকি ওবিচেরে। গত ১৩ অক্টোবর ক্যালিফোর্নিয়ার একটি ফেডারেল আদালত তাঁর নাগরিকত্ব বাতিলের আদেশ দেন। ২০১৩ সালের জুনে মার্কিন নাগরিকত্ব পাওয়া ওবিচেরের ক্ষেত্রে এই আদেশ কার্যকর ধরা হয়েছে নাগরিকত্ব পাওয়ার দিন থেকেই। যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৯২ সালে অন্য এক মার্কিন নাগরিকের পরিচয় ব্যবহার করে পাসপোর্ট নেওয়ার মধ্য দিয়ে এ ঘটনার সূত্রপাত।   যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের ২১ অক্টোবর প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলা হয়, ওবিচেরে ১৯৯২ সালে ‘সি.সি.ও.’ নামে চিহ্নিত এক মার্কিন নাগরিকের নাম, সামাজিক নিরাপত্তা নম্বর, জন্মস্থান ও জন্মতারিখ ব্যবহার করে মার্কিন পাসপোর্ট সংগ্রহ করেন। ২০০২ সালে তিনি ওই পাসপোর্ট নবায়নও করেন। পরে ২০০৩ সালে নিজের প্রকৃত পরিচয়ে যুক্তরাষ্ট্রে বৈধ স্থায়ী বাসিন্দার মর্যাদা পান। তবে ২০১২ সালে তিনি আবারও অন্যের পরিচয়ে নেওয়া পাসপোর্ট নবায়নের চেষ্টা করেন। একই সময়ে নিজের আসল নাম ব্যবহার করে মার্কিন নাগরিকত্বের আবেদনও করেন।   বিচার বিভাগের বিবরণ অনুযায়ী, নাগরিকত্বের জন্য সাক্ষাৎকারের সময় শপথ নিয়ে ওবিচেরে দাবি করেছিলেন, তিনি কখনো ‘সি.সি.ও.’ নামটি ব্যবহার করেননি। অথচ ওই বক্তব্য মিথ্যা ছিল বলে জানায় বিভাগটি। ২০১৫ সালে পাসপোর্টের আবেদনে মিথ্যা তথ্য দেওয়া ও পাসপোর্ট ব্যবহারের ঘটনায় ফেডারেল আদালতে দোষী সাব্যস্ত হন তিনি। পরে ২০২৬ সালের ৩০ জুলাই তাঁর নাগরিকত্ব বাতিল চেয়ে মামলা করে বিচার বিভাগ।   মামলার চারটি অভিযোগের মধ্যে একটির ভিত্তিতে আদালতের সম্মতিমূলক রায় মেনে নেন ওবিচেরে। দুই পক্ষের সম্মতির ভিত্তিতে গত ১৩ অক্টোবর আদালত তাঁর নাগরিকত্ব বাতিলের আদেশ দেন। বাকি তিনটি অভিযোগের সত্যতা নিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত না দিয়েই সেগুলো খারিজ করা হয়। আদেশ অনুযায়ী, তাঁকে নাগরিকত্বের সনদ এবং তাঁর কাছে থাকা মার্কিন নাগরিকত্বের প্রমাণ হিসেবে ব্যবহৃত নির্দিষ্ট সরকারি নথি, যেমন মার্কিন পাসপোর্ট বা পাসপোর্ট কার্ড, জমা দিতে হবে।   তবে আদালতের এই আদেশে ওবিচেরে যুক্তরাষ্ট্রে বৈধ স্থায়ী বাসিন্দা হিসেবে থাকতে পারবেন কি না, তাঁকে দেশ থেকে বহিষ্কার করা হবে কি না কিংবা আটক করা যাবে কি না, সে বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়নি। অভিবাসন আইনের আওতায় অন্য কোনো সুবিধা বা সু   মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন নাগরিকত্ব বাতিলের পদক্ষেপ জোরদার করার মধ্যে এ ঘটনাটি সামনে এল। নিউজউইকের প্রতিবেদনে ট্রানজ্যাকশনাল রেকর্ডস অ্যাকসেস ক্লিয়ারিংহাউসের (ট্র্যাক) তথ্য উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের প্রথম ১০ মাসে যুক্তরাষ্ট্রে অন্তত ১৮৫টি নাগরিকত্ব বাতিলের মামলা হয়েছে। এর মধ্যে জুলাইয়ে ৫০টি মামলা দায়ের হয়। প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ২০০৮ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত পুরো দেশে দায়ের হওয়া প্রায় ১২৫টি মামলার তুলনায় চলতি বছরের সংখ্যা ইতিমধ্যেই বেশি।   ওবিচেরের মামলার পাশাপাশি কিউবায় জন্ম নেওয়া মিলাগ্রোস মারিলেইসিস আকোস্তা তোরেসের মার্কিন নাগরিকত্ব বাতিলের কথাও জানিয়েছে বিচার বিভাগ। ২০১৫ সালে নাগরিকত্ব পাওয়া আকোস্তা তোরেসের বিরুদ্ধে ফ্লোরিডার একটি আদিবাসী জনগোষ্ঠীর পরিচালিত ক্যাসিনো থেকে জাল ঋণপত্রের মাধ্যমে লাখ লাখ ডলার আত্মসাতের অর্থ পাচারের ষড়যন্ত্রে জড়িত থাকার অভিযোগ ছিল। ২০২০ সালে এ ঘটনায় তিনি দোষী সাব্যস্ত হন এবং ছয় মাসের কারাদণ্ডের পাশাপাশি প্রায় দেড় লাখ ডলার ক্ষতিপূরণ দিতে তাঁকে নির্দেশ দেওয়া হয়। গত ১৪ অক্টোবর আদালত তাঁর নাগরিকত্ব বাতিল করেন।   যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের বেসামরিক বিভাগের সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল ব্রেট এ শুমেট বলেন, অপরাধ গোপন করে বা মার্কিন জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করে নাগরিকত্ব অর্জনকারীদের বিরুদ্ধে নাগরিকত্ব বাতিলের পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। তাঁর ভাষ্য, মার্কিন নাগরিকত্বের মর্যাদা রক্ষায় ট্রাম্প প্রশাসন এ ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত রাখবে।   সূত্র: যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ ও নিউজউইক।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম অক্টোবর ২৩, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্রে নাগরিকত্বের আবেদন অনুমোদন কমেছে, বেড়েছে অপেক্ষমাণ আবেদনের সংখ্যা।  গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
যুক্তরাষ্ট্রে নাগরিকত্ব অনুমোদন কমেছে ব্যাপক হারে, জমে আছে ৭ লাখের বেশি আবেদন

যুক্তরাষ্ট্রে নাগরিকত্বের আবেদন অনুমোদনের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। ২০২৬ অর্থবছরের এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত তিন মাসে দেশটির নাগরিকত্ব ও অভিবাসন পরিষেবা সংস্থা (ইউএসসিআইএস) ৫৭ হাজার ৬৯৭টি নাগরিকত্বের আবেদন অনুমোদন করেছে। আগের বছরের একই সময়ে অনুমোদনের সংখ্যা ছিল ২ লাখ ৪১ হাজার ৩২৬। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে অনুমোদন কমেছে প্রায় ৭৬ শতাংশ। একই সময়ে সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় থাকা আবেদনের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭ লাখ ৪২ হাজার ১৩৮টিতে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউজউইকের বিশ্লেষণে এসব তথ্য উঠে এসেছে।   মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে নাগরিকত্ব অনুমোদনের এই পতন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে নতুন নাগরিকদের প্রতিনিধিত্বকারী সংগঠন ন্যাশনাল পার্টনারশিপ ফর নিউ আমেরিকানস (এনপিএনএ)। সংগঠনটির আশঙ্কা, নাগরিকত্বের আবেদন নিষ্পত্তিতে দীর্ঘসূত্রতা নতুন নাগরিকদের ভোটার হিসেবে নিবন্ধিত হওয়ার সুযোগ সীমিত করতে পারে। তবে অনুমোদনের সংখ্যা কমে যাওয়া বা আবেদনজট বাড়ার পরিসংখ্যান থেকে প্রশাসন ইচ্ছাকৃতভাবে ভোটাধিকার সীমিত করছে, এমন অভিযোগের স্বাধীন প্রমাণ পাওয়া যায়নি।   এনপিএনএর নির্বাহী পরিচালক নিকোল মেলাকু নিউজউইককে বলেন, আবেদনগুলো দীর্ঘ সময় ধরে পড়ে থাকা এবং সেগুলোর নিষ্পত্তি না হওয়ার প্রবণতা উদ্বেগজনক। তাঁর মতে, নাগরিকত্ব পাওয়ার যোগ্য আবেদনকারীদের প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত হলে তাঁদের নাগরিক অংশগ্রহণের সুযোগও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। সংগঠনটি এ পরিস্থিতির কারণ এবং আবেদন নিষ্পত্তিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অগ্রাধিকার নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।   ইউএসসিআইএসের পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ২০২৪ সালের এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত ২ লাখ ১৮ হাজার ৭২০টি নাগরিকত্বের আবেদন অনুমোদিত হয়েছিল। ওই সময় অপেক্ষমাণ আবেদনের সংখ্যা ছিল ৪ লাখ ৬২ হাজার ৯৭৪। ২০২৫ সালের একই সময়ে অনুমোদন বেড়ে ২ লাখ ৪১ হাজার ৩২৬টিতে পৌঁছায় এবং অপেক্ষমাণ আবেদনের সংখ্যা ছিল ৫ লাখ ২৯ হাজার ১৮। কিন্তু ২০২৬ সালের একই সময়ে অনুমোদন ব্যাপকভাবে কমে যায়, অন্যদিকে অপেক্ষমাণ আবেদনের সংখ্যা বেড়ে আগের দুই বছরের তুলনায় অনেক বেশি হয়।   আঞ্চলিক পর্যায়েও অনুমোদন কমার বড় ধরনের চিত্র উঠে এসেছে। ক্যালিফোর্নিয়ার সান হোসে কার্যালয়ে ২০২৫ সালের এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত ৯ হাজারের বেশি আবেদন অনুমোদিত হলেও ২০২৬ সালের একই সময়ে অনুমোদন নেমে আসে কয়েক শতে। নিউজউইকের প্রতিবেদনে সান হোসেতে ৯ হাজার ৪১টি থেকে কমে ৩১৭টি অনুমোদনের কথা বলা হয়েছে, যা প্রায় ৯৬ দশমিক ৫ শতাংশ পতন। ওয়াশিংটনের সিয়াটলেও এক বছরে অনুমোদন কমেছে ৯০ শতাংশের বেশি। টেক্সাসের হিউস্টনেও অনুমোদন প্রায় অর্ধেকে নেমে আসে।   ক্যালিফোর্নিয়া, নিউইয়র্ক, ফ্লোরিডা ও টেক্সাসের মতো অভিবাসী জনসংখ্যা বেশি এমন অঙ্গরাজ্যগুলোতেও এই পতন বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছে। পিউ রিসার্চ সেন্টারের ২০২৪ সালের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে স্বাভাবিকীকরণ প্রক্রিয়ায় নাগরিকত্ব পাওয়া ভোটারদের ৫৫ শতাংশ এই চার অঙ্গরাজ্যে বসবাস করেন। ফলে নাগরিকত্বের আবেদন নিষ্পত্তিতে দীর্ঘসূত্রতা এসব এলাকায় নতুন ভোটারদের অংশগ্রহণের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অভিবাসী অধিকারকর্মীরা।   তবে নাগরিকত্বের আবেদন নিষ্পত্তিতে বিলম্বের ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রে নতুন নয়। সাবেক স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা কর্মকর্তা ও গ্লোবালআই ডট এআইয়ের সহপ্রতিষ্ঠাতা অ্যাডাম ক্লেইন নিউজউইককে বলেন, ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদেও নির্বাচনের আগে নাগরিকত্ব প্রদান ধীর হয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। তাঁর মতে, নাগরিকত্ব পাওয়ার যোগ্য ব্যক্তিদের আবেদন দীর্ঘদিন ঝুলে থাকলে তাঁরা নির্বাচনে ভোট দেওয়ার সুযোগ হারাতে পারেন। কারণ, যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় নির্বাচনে ভোট দিতে হলে নাগরিক হওয়া আবশ্যক।   অভিযোগের জবাবে যুক্তরাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগ জানিয়েছে, বাইডেন প্রশাসনের সময়ে নাগরিকত্বের আবেদন যথাযথ যাচাই ছাড়াই অনুমোদন দেওয়ার যে নীতি ছিল, তা থেকে সরে এসেছে ট্রাম্প প্রশাসন। বিভাগের এক মুখপাত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, আবেদনকারীদের যাচাই-বাছাই আরও কঠোর করা হয়েছে। এর মধ্যে ২০২০ সালের নাগরিকত্ব পরীক্ষার পদ্ধতি পুনর্বহাল, ইংরেজি ভাষার দক্ষতা যাচাই জোরদার, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডের তথ্য পর্যালোচনা এবং আবেদনকারীর নৈতিক চরিত্র যাচাইয়ের বিষয়গুলো রয়েছে।   স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগের বক্তব্য, নাগরিকত্ব পাওয়ার জন্য নির্ধারিত শর্ত পূরণ করা হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করেই আবেদন অনুমোদন দেওয়া হবে। অন্যদিকে, অভিবাসী অধিকারকর্মী ও সাবেক কর্মকর্তাদের বক্তব্য, যাচাই-বাছাই জোরদার করার পাশাপাশি যোগ্য আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে ন্যায়সংগত ও সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত নিশ্চিত করাও জরুরি। নাগরিকত্ব অনুমোদনের সংখ্যা কমে যাওয়ার পেছনে প্রশাসনিক নীতি, যাচাই প্রক্রিয়া ও আবেদন নিষ্পত্তির সক্ষমতার কী ভূমিকা রয়েছে, তা নিয়ে বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে।   সূত্র: নিউজউইক, যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ও অভিবাসন পরিষেবা সংস্থার পরিসংখ্যান।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম অক্টোবর ২৩, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্রে ট্রান্সজেন্ডার বন্দীদের চিকিৎসা বন্ধে ট্রাম্প প্রশাসনের আবেদন খারিজ সুপ্রিম কোর্টে
যুক্তরাষ্ট্রে ট্রান্সজেন্ডার বন্দীদের চিকিৎসা বন্ধে ট্রাম্প প্রশাসনের আবেদন খারিজ সুপ্রিম কোর্টে

যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দী ট্রান্সজেন্ডার বা রূপান্তরকামীদের চিকিৎসাসেবা সীমিত করার বিষয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন নীতিটি তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকরের আবেদন প্রত্যাখ্যান করেছে মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট। বুধবার দেওয়া এই আদেশের ফলে নিম্ন আদালতের দেওয়া চিকিৎসাসেবা চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশই আপাতত বহাল থাকছে।   তবে এই আদেশের পক্ষে সুপ্রিম কোর্ট বিস্তারিত কোনো আইনি ব্যাখ্যা দেয়নি। রক্ষণশীল বিচারপতি স্যামুয়েল অ্যালিটো এবং ক্ল্যারেন্স থমাস এই নীতি কার্যকরের পক্ষে মত দিলেও বাকি বিচারপতিদের সিদ্ধান্তে ট্রাম্প প্রশাসনের এই উদ্যোগটি আপাতত আটকে গেল।   প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি নির্বাহী আদেশের পর কেন্দ্রীয় কারা ব্যুরো এই নতুন চিকিৎসা নীতি গ্রহণ করেছিল। নীতিটির মূল উদ্দেশ্য ছিল, ট্রান্সজেন্ডার বন্দীদের লিঙ্গ পরিবর্তনের অস্ত্রোপচার, হরমোন থেরাপি এবং মেকআপ বা পরচুলা ব্যবহারের মতো সামাজিক সুবিধাগুলো বন্ধ করা, যাতে সরকারি তহবিলের অর্থ এ ধরনের কাজে ব্যয় না হয়।   তবে তাদের মানসিক স্বাস্থ্যসেবা অব্যাহত রাখার কথা বলা হয়েছিল। ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি ছিল, এই ধরনের চিকিৎসাসেবা কারাগারের নিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ। কিন্তু ট্রান্সজেন্ডার বন্দীদের আইনজীবীরা এই নীতির বিরুদ্ধে আদালতে চ্যালেঞ্জ জানালে মার্কিন ডিস্ট্রিক্ট জজ রয়েস ল্যাম্বার্থ চিকিৎসাসেবা অব্যাহত রাখার নির্দেশ দেন।   তিনি তার রায়ে উল্লেখ করেন, জেন্ডার ডিসফোরিয়ার সঠিক চিকিৎসা না হলে তা বন্দীদের মধ্যে তীব্র বিষণ্ণতা, উদ্বেগ এবং আত্মহত্যার প্রবণতার মতো মারাত্মক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া তৈরি করতে পারে।   আদালতের নথি অনুযায়ী, ২০২৫ সালে প্রায় ৬০০ জন ট্রান্সজেন্ডার বন্দী হরমোন থেরাপি গ্রহণ করছিলেন। হঠাৎ এই সেবা বন্ধ করে দিলে তা তাদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আইনজীবীরা যুক্তি দেখান। এছাড়া, গত ৩০ বছর ধরে ট্রান্সজেন্ডার বন্দীদের হরমোন থেরাপি দেওয়ার কারণে কারাগারে কোনো নিরাপত্তা সমস্যা তৈরি হয়েছে, এমন কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণও সরকার দাখিল করতে পারেনি।   যদিও এর আগে ট্রান্সজেন্ডার তরুণদের চিকিৎসায় নিষেধাজ্ঞা এবং নারীদের খেলাধুলায় তাদের অংশগ্রহণে বিধিনিষেধ আরোপের ক্ষেত্রে রক্ষণশীল সংখ্যাগরিষ্ঠ সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষেই রায় দিয়েছিল, তবে এবার বন্দীদের মানবাধিকার ও স্বাস্থ্যগত ঝুঁকির বিষয়টিকেই তারা বেশি গুরুত্ব দিয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

ইসতিয়াক আহমেদ অক্টোবর ২১, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্রে গরিবের টাকা আত্মসাৎ করে প্রাইভেট জেট-রোলস-রয়েস, ৪২ মিলিয়ন ডলারের জালিয়াতি ফাঁস
যুক্তরাষ্ট্রে গরিবের টাকা আত্মসাৎ করে প্রাইভেট জেট-রোলস-রয়েস, ৪২ মিলিয়ন ডলারের জালিয়াতি ফাঁস

যুক্তরাষ্ট্রের নিম্নবিত্ত ও অভাবী পরিবারগুলোর জন্য বরাদ্দকৃত ‘ফুড স্ট্যাম্প’ বা স্ন্যাপ (SNAP) প্রকল্প থেকে ৪ কোটি ২০ লাখ ডলারেরও বেশি অর্থ চুরির চাঞ্চল্যকর তথ্য উন্মোচন করেছে ট্রাম্প প্রশাসনের একটি বিশেষ জালিয়াতি-দমন টাস্কফোর্স। গত বুধবার সিনসিনাটিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্ল্যানচ জানান, এই বিশাল অর্থ জালিয়াতির ঘটনায় ৪০ জনেরও বেশি আসামিকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।   অভাবী মানুষের পেটের খাবার কেড়ে নিয়ে এই চক্রটি অবৈধ অস্ত্র ও মাদক ব্যবসার পাশাপাশি ব্যক্তিগত বিলাসবহুল জীবনযাপনে সেই অর্থ ব্যয় করেছে। অ্যাটর্নি জেনারেল ব্ল্যানচ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এই চুরি যাওয়া অর্থ দিয়ে পুরো অক্টোবর মাসজুড়ে ২ লাখ ২০ হাজার আমেরিকান নাগরিকের খাবারের ব্যবস্থা করা যেত।   এই জালিয়াতির অন্যতম হোতা হিসেবে গ্রেফতার হয়েছেন আটলান্টার জনপ্রিয় ইনস্টাগ্রাম ইনফ্লুয়েন্সার ও র‍্যাপার মার্সিডিজ নিউ, যিনি অনলাইনে ‘শটি ড্রেড’ (Shawty Dred) নামে পরিচিত। ২০২৫ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে নিজের কোম্পানিকে ভুয়া স্ন্যাপ (SNAP) রিটেইলার হিসেবে দেখিয়ে এবং শত শত ভুয়া ডেবিট কার্ড ব্যবহার করে তিনি ৪০ লাখ ডলারেরও বেশি অর্থ আত্মসাৎ করেছেন।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রাইভেট জেট ও বিলাসবহুল রোলস-রয়েস গাড়ির প্রদর্শনী করার পাশাপাশি একটি ভিডিওতে তাকে নগদ ডলার পুড়িয়ে উল্লাস করতেও দেখা যায়। ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স সংবাদ সম্মেলনে ওই র‍্যাপারের ভিডিওটি প্রদর্শন করে বলেন, স্ন্যাপ প্রকল্পের উদ্দেশ্য হলো ক্ষুধার্ত শিশুদের খাবার দেওয়া, শটি ড্রেডের মতো কাউকে প্রাইভেট জেটে ঘোরানো নয়।   শটি ড্রেড ছাড়াও ওহাইওতে জোরাগ ইয়াসিন ও রামি কানান নামের দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রায় ৩ কোটি ডলার জালিয়াতির অভিযোগ আনা হয়েছে। তারা শিকাগোভিত্তিক নিজেদের মুদি দোকানের মাধ্যমে হাজার হাজার স্ন্যাপ গ্রাহকের ইবিটি (EBT) অ্যাকাউন্টের তথ্য চুরি করে এই বিশাল অংকের অর্থ হাতিয়ে নেয়।   এছাড়াও এই মেগা-জালিয়াতির আওতায় চুরি করা অর্থে বেবি ফর্মুলা কিনে কালোবাজারে বিক্রি, ভুয়া শস্য বিমা দাবি এবং অবৈধ অভিবাসীদের দ্বারা সাধারণ আমেরিকানদের পরিচয় চুরি করে বিভিন্ন সরকারি ভাতা আত্মসাতের মতো গুরুতর অপরাধের প্রমাণ পেয়েছে টাস্কফোর্স। এই ঘটনাগুলো সাধারণ করদাতাদের অর্থের চরম অপচয় এবং প্রকৃত অভাবীদের অধিকার হরণের এক নজিরবিহীন দৃষ্টান্ত বলে উল্লেখ করেছে মার্কিন বিচার বিভাগ।

ইসতিয়াক আহমেদ অক্টোবর ২১, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্রে ৩ লাখের বেশি ভিসা বাতিলের ঘোষণা দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
৩ লাখের বেশি বিদেশি নাগরিকের ভিসা বাতিল করল যুক্তরাষ্ট্র, অভিবাসন নীতিতে কঠোর অবস্থান

যুক্তরাষ্ট্রে ৩ লাখের বেশি ভিসা বাতিল করেছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। মঙ্গলবার মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর এ তথ্য জানিয়ে দাবি করেছে, দেশটির ইতিহাসে এর আগে কোনো প্রশাসন এত দ্রুত ও এত বেশি সংখ্যায় ভিসা বাতিল করেনি। আইন ভঙ্গ, জালিয়াতি এবং জাতীয় নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকি তৈরি করার মতো বিষয়কে ভিসা বাতিলের কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছে দপ্তরটি। তবে কত সময়ের মধ্যে এসব ভিসা বাতিল করা হয়েছে, কোন ধরনের ভিসা এতে অন্তর্ভুক্ত এবং কী কারণে কতজনের ভিসা বাতিল হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি।   মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র এক বিবৃতিতে বলেন, ট্রাম্প প্রশাসন এখন পর্যন্ত ৩ লাখের বেশি ভিসা বাতিল করেছে এবং আগের যেকোনো প্রশাসনের তুলনায় দ্রুত এ পদক্ষেপ নিয়েছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ভিসা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করা বিদেশিদের কেউ আইন ভঙ্গ করলে, জালিয়াতিতে জড়ালে কিংবা দেশের জাতীয় নিরাপত্তাকে ঝুঁকিতে ফেললে তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দেশটির সীমান্ত সুরক্ষা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বৃহত্তর উদ্যোগের অংশ হিসেবে এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলেও জানিয়েছে প্রশাসন।   তবে ভিসা বাতিলের ঘোষণায় গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য স্পষ্ট করা হয়নি। পররাষ্ট্র দপ্তর জানায়নি, বাতিল হওয়া ভিসাগুলোর মধ্যে কতটি অপরাধসংক্রান্ত কারণে, কতটি জালিয়াতির অভিযোগে এবং কতটি নিরাপত্তাঝুঁকির বিবেচনায় বাতিল হয়েছে। এ ছাড়া যাঁদের ভিসা বাতিল করা হয়েছে, তাঁদের মধ্যে কতজনকে যুক্তরাষ্ট্র ছাড়তে হয়েছে, সেই হিসাবও প্রকাশ করা হয়নি। ফলে ঘোষিত সংখ্যাটি থেকে সব ভিসাধারী অপরাধে জড়িত ছিলেন বা জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি ছিলেন, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই।   ট্রাম্প প্রশাসনের এ ঘোষণা যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ জোরদারের বৃহত্তর নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। রিপাবলিকান নেতারা সীমান্তে কঠোর নজরদারি, অভিবাসন আইন প্রয়োগ এবং নিয়ম লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়ে আসছেন। ট্রাম্প ও তাঁর দলের নেতারা অভিবাসনকে জাতীয় নিরাপত্তা ও জননিরাপত্তার সঙ্গে যুক্ত করে বক্তব্য দিয়েছেন। প্রশাসনের মতে, ভিসা নীতিতে কঠোরতা এবং নিয়মিত তদারকি যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।   অন্যদিকে, অভিবাসী অধিকারকর্মী ও নাগরিক স্বাধীনতা নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলো এ ধরনের কঠোর নীতি নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে। তাদের আশঙ্কা, ব্যাপক হারে ভিসা বাতিলের ফলে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের প্রশ্ন উঠতে পারে এবং কোনো ধরনের নিরাপত্তাঝুঁকি তৈরি না করা বিদেশি নাগরিকেরাও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন। অভিবাসীদের নিয়ে রাজনৈতিক বক্তব্যের কারণে বিদেশি নাগরিক ও অভিবাসী সম্প্রদায়ের প্রতি বিদ্বেষ বাড়ার আশঙ্কাও প্রকাশ করেছেন সমালোচকেরা।   ভিসা বাতিলের পেছনে বিভিন্ন ধরনের কারণ থাকতে পারে। কারও ভিসার শর্ত ভঙ্গ, আবেদনে ভুল বা জাল তথ্য দেওয়া কিংবা নিরাপত্তাসংক্রান্ত উদ্বেগের কারণে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। তবে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের ঘোষণায় ৩ লাখের বেশি ভিসা বাতিলের নির্দিষ্ট কারণ ও শ্রেণিভিত্তিক হিসাব না থাকায় পুরো বিষয়টির ব্যাপ্তি সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা পাওয়া যাচ্ছে না।   সূত্র: মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর, রয়টার্স।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম অক্টোবর ২০, ২০২৬ ১৪:০
ওবামাকেয়ারের আওতায় স্বাস্থ্যবিমার করছাড়ের যোগ্যতা যাচাইয়ে নতুন নিয়মের প্রস্তাব দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
জালিয়াতি রোধে ওবামাকেয়ারের করছাড়ে কড়াকড়ি, সুবিধা হারাতে পারেন অভিবাসীদের একাংশ

যুক্তরাষ্ট্রে স্বল্প ও মধ্যম আয়ের মানুষের স্বাস্থ্যবিমার খরচ কমাতে দেওয়া করছাড়ের নিয়ম আরও কঠোর করার প্রস্তাব দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। নতুন নিয়ম কার্যকর হলে ওবামাকেয়ার নামে পরিচিত স্বাস্থ্যবিমা কর্মসূচির আওতায় করছাড় পাওয়ার যোগ্যতা যাচাইয়ে বাড়তি শর্ত যুক্ত হবে। বিশেষ করে নাগরিকত্ব বা যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে অবস্থানের মর্যাদা, পরিবারের আয়, সদস্যসংখ্যা এবং অন্য কোনো সরকারি স্বাস্থ্যবিমার সুবিধা পাওয়ার যোগ্যতা খতিয়ে দেখা হবে। প্রস্তাবটি বাস্তবায়িত হলে অভিবাসীদের একটি অংশসহ বর্তমানে করছাড় পাওয়া কিছু পরিবারের সুবিধা কমতে পারে বা তারা এই সুবিধার অযোগ্য হতে পারেন।   যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয় এবং অভ্যন্তরীণ রাজস্ব পরিষেবা (আইআরএস) ১৪ অক্টোবর এ বিষয়ে প্রস্তাবিত বিধিমালা প্রকাশ করে। এর লক্ষ্য হলো স্বাস্থ্যবিমার প্রিমিয়াম পরিশোধে দেওয়া করছাড় কেবল আইন অনুযায়ী যোগ্য ব্যক্তিদের কাছে পৌঁছানো নিশ্চিত করা এবং অনিয়ম ঠেকানো। ‘প্রিমিয়াম ট্যাক্স ক্রেডিট’ নামে পরিচিত এই সুবিধা সাশ্রয়ী স্বাস্থ্যসেবা আইন, যা সাধারণভাবে ‘ওবামাকেয়ার’ নামে পরিচিত, তার আওতায় স্বাস্থ্যবিমা কেনা যোগ্য ব্যক্তি ও পরিবারকে সহায়তা করে। করছাড়ের অর্থ সরাসরি বিমার মাসিক খরচ কমাতে ব্যবহার করা যায়। ট্রাম্প প্রশাসনের ‘ওয়ার্কিং ফ্যামিলিজ ট্যাক্স কাটস’ নামে পরিচিত কর ও অর্থনৈতিক সংস্কার প্যাকেজের অংশ হিসেবে এসব পরিবর্তনের প্রস্তাব আনা হয়েছে।   প্রস্তাবিত নিয়মে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক, দেশটির জাতীয় মর্যাদাপ্রাপ্ত ব্যক্তি এবং আইন অনুযায়ী যোগ্য কিছু অ-নাগরিক করছাড় পাওয়ার সুযোগ পাবেন। আগে নির্দিষ্ট কিছু অভিবাসী পরিবারের আয় ফেডারেল দারিদ্র্যসীমার ১০০ শতাংশের নিচে থাকলেও, অভিবাসনগত অবস্থানের কারণে মেডিকেইড সুবিধা না পেলে তারা প্রিমিয়াম করছাড়ের যোগ্য হতে পারতেন। নতুন প্রস্তাবে এই বিশেষ সুযোগ তুলে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। ফলে কম আয়ের এমন কিছু পরিবার স্বাস্থ্যবিমার জন্য আগের মতো আর্থিক সহায়তা নাও পেতে পারে। তবে পরিবর্তনটি প্রস্তাবিত বিধিমালার অংশ, তাই চূড়ান্ত নিয়ম প্রকাশ ও কার্যকর হওয়ার আগে এর বিস্তারিত শর্ত বিবেচনায় নিতে হবে।   একই পরিবারের কোনো সদস্য যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে অবস্থান না করলে কিংবা করছাড় পাওয়ার জন্য নির্ধারিত অভিবাসনগত যোগ্যতা পূরণ না করলে, তাঁর জন্য বরাদ্দ প্রিমিয়ামের অংশটি পরিবারের করছাড়ের হিসাব থেকে বাদ দিতে হবে। অর্থাৎ পরিবারের অন্য সদস্যরা যোগ্য হলেও, অযোগ্য সদস্যের বিমা খরচের অংশের জন্য করছাড় দাবি করা যাবে না। এতে একই বিমা পরিকল্পনার আওতায় থাকা পরিবারের করছাড়ের পরিমাণ বদলে যেতে পারে। নিয়মটির লক্ষ্য হলো, সরকারি অর্থে দেওয়া ভর্তুকি যেন কেবল আইনগতভাবে যোগ্য ব্যক্তিদের স্বাস্থ্যবিমার খরচে ব্যবহৃত হয়।   ২০২৭ সাল থেকে স্বাস্থ্যবিমার বাজারে নিবন্ধনের সময় যোগ্যতা যাচাই আরও জোরদার করার প্রস্তাবও রয়েছে। সংশ্লিষ্ট বাজার কর্তৃপক্ষকে আবেদনকারীর বসবাসের তথ্য, স্বাস্থ্যবিমায় নাম লেখানোর যোগ্যতা, নাগরিকত্ব বা যুক্তরাষ্ট্রে বৈধ অবস্থানের প্রমাণ, পরিবারের আয় ও সদস্যসংখ্যা যাচাই করতে হবে। পাশাপাশি আবেদনকারী মেডিকেইড বা অন্য কোনো যোগ্য সরকারি স্বাস্থ্যসেবার আওতায় পড়েন কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হবে। প্রশাসনের মতে, এ ধরনের যাচাইয়ের মাধ্যমে ভুল তথ্য, অননুমোদিত নিবন্ধন এবং অযোগ্য ব্যক্তির নামে ভর্তুকি দেওয়ার ঝুঁকি কমানো সম্ভব হবে।   করছাড়ের অতিরিক্ত অর্থ ফেরত দেওয়ার নিয়মেও পরিবর্তনের প্রস্তাব রয়েছে। বর্তমানে নির্দিষ্ট কিছু নিম্ন আয়ের করদাতার ক্ষেত্রে আগাম করছাড় হিসেবে পাওয়া অতিরিক্ত অর্থ ফেরত দেওয়ার পরিমাণে সীমা প্রযোজ্য হতে পারে। নতুন নিয়মে সেই সীমা তুলে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। ফলে কোনো ব্যক্তি বা পরিবার বছরের শুরুতে যতটা করছাড় পাওয়ার যোগ্য বলে বিবেচিত হয়েছিল, আয় বা অন্যান্য পরিস্থিতির পরিবর্তনের কারণে বছরের শেষে প্রকৃত যোগ্যতা কম হলে অতিরিক্ত পাওয়া অর্থের পুরোটা ফেরত দিতে হতে পারে। এতে করদাতাদের জন্য বছরের শেষে কর হিসাব আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।   করছাড়ের যোগ্যতা নিয়ে কঠোর অবস্থানের পক্ষে প্রশাসনের কর্মকর্তারা জালিয়াতি প্রতিরোধের যুক্তি তুলে ধরেছেন। অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট বলেছেন, ফেডারেল আইনে যারা যোগ্য নন, তাদের স্বাস্থ্যসেবার খরচে করদাতাদের অর্থ ব্যয় করা উচিত নয়। আইআরএসের প্রধান নির্বাহী ফ্র্যাঙ্ক জে. বিসিগনানো বলেছেন, প্রস্তাবিত যাচাইব্যবস্থা অনুপযুক্ত দাবি কমাতে এবং যোগ্য করদাতাদের সুবিধা সুরক্ষিত রাখতে সহায়তা করবে। মেডিকেইড ও মেডিকেয়ার পরিষেবা কেন্দ্রের প্রশাসক মেহমেত ওজও সরকারি স্বাস্থ্যসেবা কর্মসূচিতে অনিয়ম, অপচয় ও জালিয়াতি ঠেকানোর প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন। তবে এসব বক্তব্য প্রশাসনের অবস্থান; প্রস্তাবের বাস্তব প্রভাব নির্ভর করবে চূড়ান্ত বিধিমালা ও তার প্রয়োগের ওপর।   স্বাস্থ্যবিমায় অনিয়মিত নিবন্ধন শনাক্ত করার জন্য প্রশাসন ইতিমধ্যে কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে। মেডিকেইড ও মেডিকেয়ার পরিষেবা কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ৩১ আগস্ট প্রায় ৩ লাখ ১৫ হাজার নিবন্ধন বাতিল করা হয়, যার আওতায় ৭ লাখ ৬০ হাজারের বেশি মানুষের নাম ছিল। কর্তৃপক্ষের হিসাবে, এসব বাতিলের ফলে আগাম প্রিমিয়াম করছাড়ের প্রায় ২২০ কোটি ডলার ফেরত আসতে পারে। তবে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের ভাষ্য অনুযায়ী, বাতিল হওয়া তালিকায় এমন ব্যক্তিও ছিলেন, যাদের অস্তিত্ব বা নিবন্ধন যাচাই করা যায়নি, আবার এমন ব্যক্তিও ছিলেন যারা বাস্তব হলেও যোগ্যতার শর্ত পূরণ করেননি।   যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগের হিসাবে, বর্তমানে প্রায় ১ কোটি ৯২ লাখ মানুষ সাশ্রয়ী স্বাস্থ্যসেবা আইনের আওতায় পরিচালিত স্বাস্থ্যবিমা বাজারের পরিকল্পনায় নিবন্ধিত। বিভাগটি ২০২১ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে এই কর্মসূচিতে নজিরবিহীন হারে নিবন্ধন বৃদ্ধির কথাও জানিয়েছে। তাদের দাবি, নতুন নিবন্ধনের প্রায় অর্ধেক ক্ষেত্রে অনিয়ম, অস্তিত্বহীন ব্যক্তি বা জালিয়াতির আশঙ্কা ছিল। এই পরিসংখ্যানের ভিত্তিতে প্রশাসন যাচাইব্যবস্থা কঠোর করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরছে। তবে সন্দেহজনক নিবন্ধনের সংখ্যা এবং নিশ্চিত জালিয়াতির সংখ্যা এক নয়, তাই এ ধরনের তথ্যের ব্যাখ্যায় সতর্কতা জরুরি।   প্রস্তাবিত নিয়ম নিয়ে মতামত দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে। ব্যক্তি, স্বাস্থ্যবিমা প্রতিষ্ঠান এবং স্বাস্থ্যসেবা খাতের অন্যান্য সংশ্লিষ্ট পক্ষ আগামী ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত অর্থ মন্ত্রণালয় ও আইআরএসের কাছে লিখিত মতামত জমা দিতে পারবেন। এ বিষয়ে একটি জনশুনানি টেলিফোনের মাধ্যমে ৮ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। মতামত পর্যালোচনার পর কর্তৃপক্ষ চূড়ান্ত নিয়ম নির্ধারণ করবে। ফলে স্বাস্থ্যবিমার করছাড়ে ঠিক কী কী পরিবর্তন আসবে, তা এখনো পুরোপুরি চূড়ান্ত নয়।   সূত্র: যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজস্ব পরিষেবা (আইআরএস), মেডিকেইড ও মেডিকেয়ার পরিষেবা কেন্দ্র (সিএমএস) এবং নিউজউইক।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম অক্টোবর ১৫, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্রে ওবামাকেয়ারের ১ লাখ ৮৯ হাজার নিবন্ধনের বিপরীতে সরকারি ভর্তুকি বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
যুক্তরাষ্ট্রে ওবামাকেয়ারের ১ লাখ ৮৯ হাজার নিবন্ধনের ভর্তুকি বন্ধ করলেন ট্রাম্প প্রশাসন

যুক্তরাষ্ট্রে ওবামাকেয়ার হেলথ ইন্স্যুরেন্স মার্কেটপ্লেসের ১ লাখ ৮৯ হাজার নিবন্ধনের বিপরীতে সরকারি ভর্তুকি বন্ধ করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। ১৪ অক্টোবর ২০২৬ প্রকাশিত যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগ এবং মেডিকেয়ার ও মেডিকেইড সেবা কেন্দ্রের ঘোষণায় বলা হয়েছে, এসব নিবন্ধনের মধ্যে এমন ব্যক্তিরা রয়েছেন, যাঁরা একই সঙ্গে মেডিকেয়ার, মেডিকেইড বা শিশুদের স্বাস্থ্যবিমা কর্মসূচির আওতায় ছিলেন। এ ছাড়া মৃত ব্যক্তিদের নামে থাকা নিবন্ধনও এই পদক্ষেপের আওতায় এসেছে। সরকারের দাবি, এর ফলে আগামী এক বছরে প্রায় ১৫০ কোটি ডলার সাশ্রয় হতে পারে।   এই পদক্ষেপের মূল লক্ষ্য ওবামাকেয়ার মার্কেটপ্লেসে একই ব্যক্তির জন্য একাধিক সরকারি স্বাস্থ্যবিমা কর্মসূচির মাধ্যমে ভর্তুকি দেওয়া বন্ধ করা। ওবামাকেয়ার নামে পরিচিত সাশ্রয়ী স্বাস্থ্যসেবা আইনের আওতায় যোগ্য ব্যক্তিরা বেসরকারি ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির পরিকল্পনা কেনার সময় সরকারি আর্থিক সহায়তা পান। এই সহায়তা তাঁদের মাসিক প্রিমিয়ামের খরচ কমাতে সাহায্য করে। তবে মেডিকেয়ার বা মেডিকেইডের আওতায় থাকা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে একই সময়ে মার্কেটপ্লেসের ভর্তুকি পাওয়ার যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে।   স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগের সচিব রবার্ট এফ কেনেডি জুনিয়র বলেছেন, দ্বৈত নিবন্ধন এবং মৃত ব্যক্তিদের নামে ভর্তুকি দেওয়ার মতো ঘটনা শনাক্ত করে সরকারি অর্থের অপচয় বন্ধ করা হচ্ছে। মেডিকেয়ার ও মেডিকেইড সেবা কেন্দ্রের প্রশাসক মেহমেত ওজের মতে, সরকারি স্বাস্থ্যবিমা কর্মসূচিতে অনিয়মিত নিবন্ধন শনাক্ত এবং করদাতাদের অর্থের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতে এ ধরনের যাচাই কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।   তবে এই ঘোষণার অর্থ যুক্তরাষ্ট্রে সব ওবামাকেয়ার গ্রাহকের ভর্তুকি বন্ধ হয়ে যাচ্ছে, এমন নয়। একইভাবে মেডিকেয়ার বা মেডিকেইডে থাকা সব ব্যক্তির স্বাস্থ্যবিমাও বাতিল করা হচ্ছে না। পদক্ষেপটি মূলত ফেডারেল মার্কেটপ্লেসের মাধ্যমে পাওয়া ওবামাকেয়ার ভর্তুকিকে কেন্দ্র করে। যাঁদের নথিতে দ্বৈত স্বাস্থ্যবিমার তথ্য পাওয়া যায়, তাঁদের বিষয়টি যাচাই করার জন্য ৩০ দিন সময় দেওয়া হয়। নির্ধারিত সময়ে আপত্তি জানানো বা তথ্য সংশোধন না হলে তাঁদের মার্কেটপ্লেসের ভর্তুকি বন্ধ করা হতে পারে।   সরকারি নথিতে কাউকে মৃত হিসেবে দেখানো হলেও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে তথ্যটি ভুল প্রমাণের সুযোগ রয়েছে। একইভাবে কারও মেডিকেইড বা মেডিকেয়ার কভারেজ শেষ হয়ে আসছে কিংবা দ্বৈত নিবন্ধনের তথ্য ভুল হলে, প্রয়োজনীয় নথি দিয়ে বিষয়টি পুনর্বিবেচনার আবেদন করা যেতে পারে। ফলে স্বাস্থ্যবিমা গ্রাহকদের কাছে সরকারি নোটিশ এলে সেটি উপেক্ষা না করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তথ্য যাচাই করা গুরুত্বপূর্ণ।   যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশি-আমেরিকানদের মধ্যেও অনেকেই আয়ের ভিত্তিতে ওবামাকেয়ার মার্কেটপ্লেসের ভর্তুকি নিয়ে হেলথ ইন্স্যুরেন্স করেন। তাঁদের ক্ষেত্রে ভর্তুকির যোগ্যতা নির্ভর করে আয়, পরিবারের সদস্যসংখ্যা, অন্যান্য স্বাস্থ্যবিমার আওতা এবং সংশ্লিষ্ট নিয়মের ওপর। তাই মেডিকেয়ার বা মেডিকেইডের সঙ্গে সম্পর্কিত কোনো নোটিশ পেলে নিজের স্বাস্থ্যবিমা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়েছে বলে ধরে না নিয়ে নোটিশের নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।   যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগ জানিয়েছে, ২০২৬ সালে শনাক্ত করা এই ১ লাখ ৮৯ হাজার নিবন্ধনের ভর্তুকি বন্ধের ফলে চলতি বছরে প্রায় ৭৩ কোটি ৮০ লাখ ডলার সাশ্রয়ের সম্ভাবনা রয়েছে। আর আগামী এক বছরের হিসাবে সম্ভাব্য সাশ্রয়ের পরিমাণ প্রায় ১৫০ কোটি ডলার। তবে এই অঙ্কগুলো সরকারের হিসাব অনুযায়ী সম্ভাব্য সাশ্রয়, চূড়ান্ত নিরীক্ষিত সাশ্রয়ের পরিমাণ নয়।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম অক্টোবর ১৪, ২০২৬ ১৪:০
ক্যালিফোর্নিয়াকে ট্রাম্প প্রশাসনের ৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটাম, অবৈধ ভোটার যাচাই না করলে মামলা
ক্যালিফোর্নিয়াকে ট্রাম্প প্রশাসনের ৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটাম, অবৈধ ভোটার যাচাই না করলে মামলা

যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ক্যালিফোর্নিয়াকে ৪৮ ঘণ্টার একটি কড়া আলটিমেটাম দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। বিচার বিভাগের পক্ষ থেকে সন্দেহভাজন অ-নাগরিক (নন-সিটিজেন) ভোটারদের একটি পূর্ণাঙ্গ তালিকা রাজ্য কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।   ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে এই তালিকা যাচাই করে ব্যবস্থা না নিলে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ফেডারেল সরকার। মঙ্গলবার ক্যালিফোর্নিয়ার সেক্রেটারি অব স্টেট শার্লি ওয়েবার এবং লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টির রেজিস্ট্রার-রেকর্ডার ডিন লোগানকে পাঠানো চিঠিতে এই কড়া আলটিমেটাম দেওয়া হয়।   চিঠির সাথে পাসওয়ার্ড-সুরক্ষিত একটি থাম্ব ড্রাইভ লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টিকে সরবরাহ করা হয়েছে, যেখানে সম্ভাব্য অ-নাগরিকদের নাম রয়েছে যাদের কাছে ইতোমধ্যে ডাকযোগে ব্যালট (মেইল-ইন ব্যালট) পাঠানো হয়েছে। ভারপ্রাপ্ত ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আর. ট্রেন্ট ম্যাককোটার চিঠিতে উল্লেখ করেছেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এই প্রক্রিয়া বাস্তবায়ন করতে ব্যর্থ হলে যুক্তরাষ্ট্র সরকার জরুরি আদালতের শরণাপন্ন হতে বাধ্য হবে।   বিচার বিভাগের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় নির্বাচনে কেবল বৈধ মার্কিন নাগরিকদেরই ভোট দেওয়ার আইনি অধিকার রয়েছে এবং অ-নাগরিকদের ভোট প্রদান একটি সুস্পষ্ট ফেডারেল অপরাধ। এই অপরাধ ঠেকাতেই ক্যালিফোর্নিয়া প্রশাসনকে অবিলম্বে পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে।   চিঠিতে ডিন লোগানকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যেন যাদের নাগরিকত্ব তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব নয়, তাদের ডাকযোগে পাঠানো ব্যালট বাতিল না করে আলাদা করে রাখা হয়, যতক্ষণ না তাদের প্রকৃত অবস্থা যাচাই করা যায়। এ বিষয়ে ক্যালিফোর্নিয়ার সেক্রেটারি অব স্টেট বা গভর্নরের কার্যালয় থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।   ট্রাম্প প্রশাসন দীর্ঘদিন ধরে ভোটার জালিয়াতি এবং অ-নাগরিকদের ভোট দেওয়ার বিষয়ে বিস্তর অভিযোগ করে আসলেও, বিভিন্ন গবেষণায় এটি অত্যন্ত বিরল ঘটনা বলে প্রমাণিত হয়েছে।   তবে সম্প্রতি রয়টার্সের এক অনুসন্ধানে দেখা গেছে, সফটওয়্যার ত্রুটি ও করণিক ভুলের কারণে ২০০০ সালের পর থেকে দেশব্যাপী প্রায় ৩০ হাজার অ-নাগরিক ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়ে থাকতে পারেন, যদিও তাদের মধ্যে কতজন বাস্তবে ভোট দিয়েছেন তা নিশ্চিত নয়। এর মাঝেই সোমবার ফেডারেল প্রসিকিউটররা অ-নাগরিকদের ভোট ও ভুয়া নিবন্ধনের অভিযোগে ১৬টি নতুন ফৌজদারি মামলার ঘোষণা দিয়েছেন।

ইসতিয়াক আহমেদ অক্টোবর ১৪, ২০২৬ ১৪:০
ন্যাচারালাইজেশনের মাধ্যমে পাওয়া ৪০ জনের নাগরিকত্ব বাতিলের আবেদন করেছে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ। ছবি: সংগৃহীত
ন্যাচারালাইজড আমেরিকানদের নাগরিকত্ব বাতিলের উদ্যোগ নিল ট্রাম্প প্রশাসন, ৪০ জনের বিরুদ্ধে মামলা

যুক্তরাষ্ট্রে ন্যাচারালাইজেশনের মাধ্যমে নাগরিকত্ব পাওয়া ৪০ জনের নাগরিকত্ব বাতিলের আবেদন করেছে দেশটির বিচার বিভাগ। নাগরিকত্ব অর্জনের সময় গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন, মিথ্যা বক্তব্য এবং বেআইনিভাবে ইমিগ্রেশন সুবিধা নেওয়ার অভিযোগে বিভিন্ন ফেডারেল ডিস্ট্রিক্ট কোর্টে এসব মামলা করা হয়েছে। তবে মামলা দায়েরের অর্থ তাঁদের নাগরিকত্ব ইতিমধ্যে বাতিল হয়েছে, এমন নয়।   সোমবার, ৫ অক্টোবর প্রকাশিত ঘোষণায় বিচার বিভাগ জানিয়েছে, ২১ আগস্ট থেকে ২ অক্টোবরের মধ্যে এই মামলাগুলো দায়ের করা হয়েছে। সংস্থাটি একে ট্রাম্প প্রশাসনের সময়ে একটি নির্দিষ্ট সময়পর্বে সর্বাধিক নাগরিকত্ব বাতিলের মামলা দায়েরের উদ্যোগ হিসেবে উল্লেখ করেছে।    মামলাগুলোর মধ্যে বিদেশি সরকারের হয়ে কাজ করা, হত্যাকাণ্ড, যৌন অপরাধ, আর্থিক প্রতারণা এবং পরিচয় ও বিয়েসংক্রান্ত ইমিগ্রেশন জালিয়াতির অভিযোগ রয়েছে। সরকারের বক্তব্য, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা নাগরিকত্ব পাওয়ার যোগ্যতা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন করেছেন অথবা মিথ্যা তথ্য দিয়েছেন।   বিচার বিভাগের ঘোষণায় বলা হয়েছে, ইমিগ্রেশন অ্যান্ড ন্যাশনালিটি অ্যাক্ট অনুযায়ী বেআইনিভাবে নাগরিকত্ব অর্জন, গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন কিংবা ইচ্ছাকৃত মিথ্যা উপস্থাপনার মাধ্যমে নাগরিকত্ব পাওয়া প্রমাণিত হলে তা বাতিল করা যেতে পারে। এই প্রক্রিয়াকে ডিন্যাচারালাইজেশন বলা হয়।   ঘোষণায় বিচার বিভাগ স্পষ্ট করেছে, নাগরিকত্ব বাতিলের মামলায় উত্থাপিত দাবিগুলো অভিযোগমাত্র। এসব দাবির বিষয়ে এখনো দায় নির্ধারণ হয়নি। ফলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে সরকারের বক্তব্য এবং আদালতে প্রমাণিত সিদ্ধান্তকে আলাদাভাবে বিবেচনা করতে হবে।    এবারের উদ্যোগের আগেও একই ধরনের মামলা দায়েরের ঘোষণা দিয়েছে বিচার বিভাগ। গত ২০ জুলাই ১০ জনের বিরুদ্ধে নাগরিকত্ব বাতিলের মামলা করার কথা জানায় সংস্থাটি। এরপর ৩ আগস্ট আরও ২৫টি মামলার ঘোষণা দেওয়া হয়। ওই সময় বিচার বিভাগ জানিয়েছিল, ২০২৫ সালের ২০ জানুয়ারি থেকে মোট ১২৩টি দেওয়ানি ডিন্যাচারালাইজেশন মামলা দায়ের করা হয়েছে।    সর্বশেষ ঘোষণাটি নির্দিষ্ট ৪০ ব্যক্তির বিরুদ্ধে আদালতে নাগরিকত্ব বাতিলের আবেদনসংক্রান্ত। তাঁদের নাগরিকত্ব অর্জনের প্রক্রিয়া বৈধ ছিল কি না এবং সরকারের অভিযোগ প্রমাণিত হয় কি না, সেই প্রশ্নের নিষ্পত্তি হবে আদালতে।

তাবাস্সুম অক্টোবর ৯, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্রে গ্র্যাজুয়েশন সম্পন্ন করা আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য ওপিটি কর্মসূচিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের প্রস্তাব করা হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
বিদেশি শিক্ষার্থীদের ওপিটিতে ৭০ হাজার ডলার ফি প্রস্তাব ট্রাম্প প্রশাসনের

যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি শিক্ষার্থীদের পড়াশোনাসংশ্লিষ্ট কাজের সুযোগ দেওয়া অপশনাল প্র্যাকটিক্যাল ট্রেনিং বা ওপিটি কর্মসূচিতে প্রথমবার অংশগ্রহণের জন্য ৭০ হাজার ডলার ফি আরোপের প্রস্তাব করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। বুধবার ৭ অক্টোবর প্রকাশিত প্রস্তাব অনুযায়ী, শিক্ষার্থীর জন্য এই অর্থ পরিশোধ করতে হবে সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে। নিয়মটি এখনো চূড়ান্ত হয়নি।    ইমিগ্রেশন আইনবিষয়ক প্রতিষ্ঠান এরিকসন ইমিগ্রেশন গ্রুপ জানিয়েছে, কোনো এফ-১ শিক্ষার্থীকে প্রথমবার যেকোনো ধরনের ওপিটির জন্য সুপারিশ করার সময় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে ৭০ হাজার ডলার দিতে হবে। পরবর্তী প্রতিটি ওপিটি অনুমোদনের জন্য প্রস্তাবিত ফি ৩০ হাজার ডলার। বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গণিত বিষয়ে ডিগ্রিধারীদের স্টেম ওপিটির মেয়াদ বাড়ানোর ক্ষেত্রেও এই অতিরিক্ত ফি প্রযোজ্য হবে।    ওপিটির মাধ্যমে যোগ্য এফ-১ শিক্ষার্থীরা নিজেদের পড়াশোনার বিষয়ের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত কাজে সাধারণত সর্বোচ্চ ১২ মাস অংশ নিতে পারেন। নির্ধারিত স্টেম বিষয়ে ডিগ্রিধারীরা শর্ত পূরণ করলে আরও ২৪ মাসের অনুমোদনের জন্য আবেদন করতে পারেন। ফলে প্রথম ওপিটির পর একটি স্টেম এক্সটেনশন নিলে প্রস্তাবিত নতুন ফির মোট পরিমাণ দাঁড়াবে ১ লাখ ডলার।    ব্লুমবার্গ ল জানিয়েছে, অনেক বিদেশি স্নাতক ওপিটির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে কর্মজীবন শুরু করেন এবং পরে নিয়োগদাতার স্পনসরশিপে এইচ-১বি কর্মসূচিতে যাওয়ার চেষ্টা করেন। ২০২৪ সালে প্রায় ৪ লাখ ১৮ হাজার শিক্ষার্থীর এই কর্মসূচির আওতায় কাজের অনুমোদন ছিল।    প্রস্তাবটি সামনে এনেছে ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটির অধীন ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট বা আইসিই। সরকারি নিয়ন্ত্রক পর্যালোচনার নথিতে দেখা যায়, ‘অপশনাল প্র্যাকটিক্যাল ট্রেনিং ফিস’ শীর্ষক প্রস্তাবটি ২০ আগস্ট পর্যালোচনার জন্য জমা পড়ে। ১১ সেপ্টেম্বর সেই পর্যালোচনা শেষ হয়। নথিতে উদ্যোগটির অবস্থান এখনো প্রস্তাবিত বিধি হিসেবে উল্লেখ রয়েছে।    এরিকসন ইমিগ্রেশন গ্রুপের তথ্য অনুযায়ী, প্রস্তাবটি ৮ অক্টোবর ফেডারেল রেজিস্টারে প্রকাশের কথা রয়েছে। এরপর ৩০ দিন জনমত গ্রহণ করা হবে। চূড়ান্ত বিধি প্রকাশ ও কার্যকর হওয়ার আগে এই প্রস্তাবের ভিত্তিতে নতুন ফি আদায় শুরু হবে না। 

তাবাস্সুম অক্টোবর ৬, ২০২৬ ১৪:০
তুন আইনের কারণে ইলিনয়ে মেডিকেইড সুবিধা হারিয়েছেন হাজারো বৈধভাবে বসবাসকারী অভিবাসী। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
ট্রাম্পের নতুন আইনে ইলিনয়ে মেডিকেইড হারালেন ৯ হাজার ৩০০ অভিবাসী

যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় অঙ্গরাজ্যে নতুন ফেডারেল আইনের কারণে প্রায় ৯ হাজার ৩০০ অ-নাগরিকের মেডিকেইড স্বাস্থ্যসেবা সুবিধা বন্ধ হয়ে গেছে। ৩০ সেপ্টেম্বরের পর থেকে কার্যকর হওয়া এই পরিবর্তনের সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়েছে গ্রিন কার্ড না থাকা শরণার্থী, আশ্রয়প্রাপ্ত ব্যক্তি এবং মানবপাচার থেকে বেঁচে যাওয়া কিছু বৈধভাবে বসবাসকারী অভিবাসীর ওপর। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ২০২৫ সালে স্বাক্ষর করা এইচআর-১, যা ‘ওয়ান বিগ বিউটিফুল বিল অ্যাক্ট’ নামে পরিচিত, তার আওতায় মেডিকেইডের যোগ্যতার নিয়ম বদলানোর ফলেই এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।   ইলিনয়ের স্বাস্থ্যসেবা ও পরিবারসেবা বিভাগ জানিয়েছে, যেসব অ-নাগরিক নতুন নিয়মের আওতায় আর পূর্ণ মেডিকেইডের যোগ্য নন, তাদের সর্বশেষ কভারেজের দিন ছিল ৩০ সেপ্টেম্বর। রাজ্য কর্তৃপক্ষ আগেই সম্ভাব্যভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের চিঠি পাঠিয়ে পরিবর্তনের বিষয়ে জানিয়েছিল। নতুন নিয়মটি ইলিনয় রাজ্য নিজে থেকে তৈরি করেনি, বরং ফেডারেল আইনের বাধ্যবাধকতার কারণে রাজ্যকে তা বাস্তবায়ন করতে হয়েছে।   নতুন নিয়মে সব বৈধ অভিবাসী মেডিকেইড হারাচ্ছেন না। ১ অক্টোবর থেকে পূর্ণ মেডিকেইডের আওতায় থাকার জন্য প্রধানত গ্রিন কার্ডধারী স্থায়ী বাসিন্দা, নির্দিষ্ট কিউবান ও হাইতিয়ান অভিবাসী এবং ফ্রি অ্যাসোসিয়েশনভুক্ত দেশগুলোর নাগরিকদের রাখা হয়েছে। এছাড়া ইলিনয়ে বৈধভাবে বসবাসকারী ১৯ বছরের কম বয়সী শিশু ও গর্ভবতী ব্যক্তিদের জন্য কিছু সুবিধা বহাল রয়েছে। নির্দিষ্ট কিছু রাজ্যভিত্তিক স্বাস্থ্য কর্মসূচির আওতায় থাকা ব্যক্তিরাও সুবিধা পেতে পারেন।   এর ফলে বিশেষ করে এমন অভিবাসীরা সমস্যায় পড়েছেন, যাদের যুক্তরাষ্ট্রে বৈধ অবস্থান থাকলেও এখনো গ্রিন কার্ড হয়নি। শরণার্থী ও আশ্রয়প্রাপ্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে গ্রিন কার্ড পাওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করতেও সাধারণত নির্দিষ্ট সময় অপেক্ষা করতে হয়। যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ও অভিবাসন পরিষেবার নিয়ম অনুযায়ী, শরণার্থীরা যুক্তরাষ্ট্রে এক বছর থাকার পর এবং আশ্রয়প্রাপ্ত ব্যক্তিরা আশ্রয়ের অনুমোদনের এক বছর পর স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদন করতে পারেন। আবেদন করার পরও গ্রিন কার্ড পেতে আরও সময় লাগতে পারে।   ইলিনয়ের পরিস্থিতি বোঝাতে স্থানীয় গণমাধ্যমগুলো কয়েকটি পরিবারের উদাহরণ তুলে ধরেছে। শিকাগো ট্রিবিউনের প্রতিবেদনে ৬৬ বছর বয়সী তেরেসিতা ভি. মোরালেসের দীর্ঘদিনের সঙ্গী ইউগেন কুতার ঘটনা উঠে এসেছে। রোমানিয়া থেকে আসা কুতা ১৫ বছরেরও বেশি আগে গুরুতর স্ট্রোকে আক্রান্ত হন। এতে তিনি আংশিকভাবে পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়ে পড়েন এবং কথা বলার সক্ষমতাও হারান। এরপর থেকে তিনি নার্সিং হোমে বসবাস করছেন এবং তার সার্বক্ষণিক পরিচর্যার খরচ মেটাতে মেডিকেইডের ওপর নির্ভর করছিলেন।   মোরালেস জানান, আগস্টে তার সঙ্গীর কাছে রাজ্য সরকারের পাঠানো একটি চিঠি আসে। সেখানে বলা হয়, তার ‘অ-নাগরিক’ অবস্থানের কারণে ৩০ সেপ্টেম্বরের পর তিনি আর মেডিকেইডের যোগ্য থাকবেন না। দীর্ঘদিনের চিকিৎসা ও নার্সিং হোমের খরচ কীভাবে চালানো হবে, তা নিয়ে এরপর থেকে অনিশ্চয়তায় পড়েছেন মোরালেস। ইলিনয় কোয়ালিশন ফর ইমিগ্র্যান্ট অ্যান্ড রিফিউজি রাইটসের স্বাস্থ্যনীতি ও ন্যায়বিচার বিভাগের পরিচালক এডিথ আভিলা হেসার পরিবারটিকে বিষয়টি মোকাবিলায় সহায়তা করার চেষ্টা করছেন বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।   মেডিকেইড হারানোর প্রভাব শুধু দীর্ঘমেয়াদি পরিচর্যার ওপর নয়, নিয়মিত চিকিৎসা ও ওষুধের ওপরও পড়তে পারে। কুক কাউন্টি হেলথের চিকিৎসক নিম্মি রাজাগোপাল জানিয়েছেন, মেডিকেইড হারাতে যাওয়া কিছু রোগী তাদের নিয়মিত ওষুধ কীভাবে সংগ্রহ করবেন, তা নিয়ে উদ্বিগ্ন। কুক কাউন্টিতে ইলিনয়ের মেডিকেইড হারাতে যাওয়া মানুষের ৪০ শতাংশেরও বেশি বসবাস করেন এবং তাদের অনেকেই ইউক্রেনীয় ভাষাভাষী বলে কাউন্টি স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   শিকাগো ট্রিবিউনের প্রতিবেদনে মানবাধিকার ও স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে কাজ করা বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, এই পরিবর্তনের ফলে দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের নিয়মিত চিকিৎসা ব্যাহত হতে পারে। লিগ্যাল কাউন্সিল ফর হেলথ জাস্টিসের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আন্দ্রেয়া কোভাচের মতে, অনেক অভিবাসী দীর্ঘদিন ধরে মেডিকেইডের মাধ্যমে নিয়মিত চিকিৎসা, রোগ নির্ণয় ও প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবা পেয়ে আসছিলেন। কভারেজ বন্ধ হলে এসব সেবায় বাধা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।   তবে মেডিকেইড হারানো ব্যক্তিদের জন্য কিছু বিকল্প ব্যবস্থা থাকছে। ফেডারেলভাবে অনুমোদিত স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও কমিউনিটি ক্লিনিকগুলো অনেক ক্ষেত্রে বিনা খরচে বা আয় অনুযায়ী কম খরচে চিকিৎসা দিতে পারে। জরুরি অবস্থায় ‘ইমার্জেন্সি মেডিকেইড’ সুবিধাও পাওয়া যেতে পারে। তবে এটি নিয়মিত চিকিৎসা, প্রেসক্রিপশন ও দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসার পূর্ণ বিকল্প নয়। ইলিনয় স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষও জানিয়েছে, শুধু অভিবাসনগত অবস্থানের কারণে মেডিকেইডের যোগ্য না থাকলেও জরুরি চিকিৎসার জন্য এই সুবিধা বহাল থাকবে।   কিছু শরণার্থী মেডিকেইডের বিকল্প হিসেবে ‘রিফিউজি মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্স’ পেতে পারেন। তবে এই কর্মসূচির সুবিধা সীমিত সময়ের জন্য দেওয়া হয়। ফলে দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্ত বা নিয়মিত চিকিৎসা প্রয়োজন এমন ব্যক্তিদের জন্য এটি মেডিকেইডের সমতুল্য নিরাপত্তা তৈরি করে না। স্থানীয় স্বাস্থ্যকর্মীরা তাই মেডিকেইড হারানো রোগীদের চিকিৎসা পুরোপুরি বন্ধ না করে বিকল্প স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও অন্যান্য সহায়তা ব্যবস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দিচ্ছেন।   ইলিনয়ের এই পরিবর্তন আসলে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে মেডিকেইড ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তনের প্রথম ধাপগুলোর একটি। কেএফএফের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ১ অক্টোবর থেকে নতুন ফেডারেল নিয়মে মেডিকেইড ও শিশুদের স্বাস্থ্যবিমা কর্মসূচি বা সিএইচআইপির যোগ্যতা মূলত গ্রিন কার্ডধারী, নির্দিষ্ট কিউবান ও হাইতিয়ান অভিবাসী, সিওএফএ দেশের নাগরিক এবং কিছু বৈধভাবে বসবাসকারী শিশু ও গর্ভবতী ব্যক্তির মধ্যে সীমিত করা হয়েছে। এর ফলে গ্রিন কার্ড ছাড়া শরণার্থী ও আশ্রয়প্রাপ্ত ব্যক্তিসহ আরও কয়েকটি বৈধ অভিবাসী গোষ্ঠী ফেডারেলভাবে অর্থায়িত স্বাস্থ্যসেবা থেকে বাদ পড়েছেন।   কেএফএফের হিসাবে, শুধু মেডিকেইড ও সিএইচআইপির যোগ্যতা সীমিত করার বিধানই ২০৩৪ সালের মধ্যে অতিরিক্ত প্রায় ১ লাখ মানুষকে স্বাস্থ্যবিমাহীন করে তুলতে পারে। একই আইনের অন্যান্য স্বাস্থ্যসেবা-সংক্রান্ত পরিবর্তন ধরলে ২০৩৪ সালের মধ্যে প্রায় ১৪ লাখ বৈধভাবে বসবাসকারী অভিবাসী স্বাস্থ্যবিমা হারাতে পারেন বলে কেএফএফের পূর্বাভাস।   ইলিনয়ে এখন নতুন নিয়মের বাস্তব প্রভাব শুরু হলেও বিষয়টি পুরোপুরি এখানেই শেষ নয়। যাদের অভিবাসনগত অবস্থান যাচাই করা নিয়ে সমস্যা রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে রাজ্য অতিরিক্ত নথি চাইতে পারে এবং নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে ৯০ দিনের সময়ও দিতে পারে। রাজ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কারও যোগ্য অভিবাসনগত অবস্থান প্রমাণিত হলে তিনি নতুন নিয়ম অনুযায়ী কভারেজ ধরে রাখতে পারেন।   সূত্র: শিকাগো ট্রিবিউন, ইলিনয় স্বাস্থ্যসেবা ও পরিবারসেবা বিভাগ, কেএফএফ

মোহাম্মদ ইব্রাহিম অক্টোবর ৪, ২০২৬ ১৪:০
টেক্সাসের বিগ বেন্ড অঞ্চলে সীমান্ত প্রাচীর নির্মাণে ফেডারেল আদালতের অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার পর স্বস্তিতে পরিবেশবাদীরা। ছবি: সংগৃহীত
টেক্সাসের বিগ বেন্ড অঞ্চলে ট্রাম্প প্রশাসনের সীমান্ত প্রাচীর নির্মাণ সাময়িকভাবে আটকে দিল আদালত

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের বিগ বেন্ড অঞ্চলে সীমান্ত দেয়াল ও সংশ্লিষ্ট অবকাঠামো নির্মাণ সাময়িকভাবে বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন একটি ফেডারেল আদালত। শুক্রবারের এই আদেশের ফলে মামলাটি নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ওই এলাকায় নতুন করে মাটি খননসহ সীমান্ত অবকাঠামোর নির্মাণকাজ চালাতে পারবে না ট্রাম্প প্রশাসন। আদেশটি জারি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের জেলা বিচারক ক্যাথলিন কার্ডোন।   আদালতের এই সিদ্ধান্ত এমন সময়ে এলো, যখন ট্রাম্প প্রশাসন মেক্সিকো সীমান্তজুড়ে নিরাপত্তা অবকাঠামো সম্প্রসারণের বড় কর্মসূচি চালাচ্ছে। পুরো দক্ষিণ সীমান্তে প্রায় ৪৬ বিলিয়ন ডলারের এই কর্মসূচির আওতায় ৩০ ফুট উচ্চতার ইস্পাত দেয়াল, যানবাহন ঠেকানোর প্রতিবন্ধক, সড়ক ও নজরদারি প্রযুক্তি স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। বিগ বেন্ড অঞ্চলেও কয়েকটি প্রকল্পের মাধ্যমে সীমান্ত নিরাপত্তা অবকাঠামো নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।   বিচারক কার্ডোন তার আদেশে বলেন, মামলাকারীরা অন্তত একটি দাবিতে আইনি লড়াইয়ে সফল হওয়ার যথেষ্ট সম্ভাবনা দেখাতে পেরেছেন। পাশাপাশি নিষেধাজ্ঞা না দিলে তাদের গুরুতর ও অপূরণীয় ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট স্বার্থ ও জনস্বার্থও নির্মাণকাজ সাময়িক বন্ধ রাখার পক্ষে রয়েছে। ফলে মামলার মূল বিষয়গুলো আদালতে নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত নির্মাণকাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।   মামলাটি করেছে পরিবেশবাদী সংগঠন সেন্টার ফর বায়োলজিক্যাল ডাইভারসিটি, ঐতিহাসিক স্থাপনা সংরক্ষণে কাজ করা ফ্রেন্ডস অব দ্য রুইডোসা চার্চ এবং বিগ বেন্ড এলাকার এক নদীভ্রমণ গাইড ও জমির মালিক। মামলাকারীদের অভিযোগ, সীমান্ত অবকাঠামো দ্রুত নির্মাণের জন্য প্রশাসন পরিবেশ ও ঐতিহাসিক সম্পদ সংরক্ষণসহ বিভিন্ন ফেডারেল আইনের বিধান থেকে ব্যাপক ছাড় নিয়েছে। তাদের দাবি, এভাবে নিয়ম শিথিল করে নির্মাণকাজ এগিয়ে নেওয়া আইনগতভাবে প্রশ্নবিদ্ধ।   বিগ বেন্ড অঞ্চলের সবচেয়ে আলোচিত অংশ বিগ বেন্ড ন্যাশনাল পার্ক। এর বিস্তৃত মরুভূমি, চুনাপাথরের পাহাড়, গভীর গিরিখাত এবং দূষণমুক্ত রাতের আকাশের জন্য এলাকাটি যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক ও পর্যটন অঞ্চল হিসেবে পরিচিত। পার্কের ভেতরে সীমান্ত নিরাপত্তা অবকাঠামো নির্মাণের পরিকল্পনা প্রকাশের পর থেকেই স্থানীয় বাসিন্দা, পরিবেশবাদী সংগঠন, ব্যবসায়ী ও জমির মালিকদের মধ্যে ব্যাপক উদ্বেগ তৈরি হয়।   আগস্টে পার্কের ভেতরে নির্মাণযন্ত্র দিয়ে জমি পরিষ্কার করার কাজ শুরু হলে বিষয়টি আরও আলোচনায় আসে। এরপর ১৭ আগস্ট ইউএস কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশন বা সিবিপি পার্কের ভেতরের নির্মাণকাজ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখে। সেই বিরতি ৩০ সেপ্টেম্বর শেষ হওয়ার কথা ছিল। এরই মধ্যে আদালতের নতুন নিষেধাজ্ঞায় বিগ বেন্ড অঞ্চলে নির্মাণকাজ আবারও আইনি বাধার মুখে পড়ল।   এর আগে সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি বিগ বেন্ড অঞ্চলের পার্কের বাইরে হাডস্পেথ কাউন্টিতে ৪৭ মাইল দীর্ঘ একটি এলাকায় ৩০ ফুট উচ্চতার ইস্পাতের সীমান্ত দেয়ালের প্রথম অংশ বসানোর কাজ শুরু করে প্রশাসন। এটি ট্রাম্প প্রশাসনের বৃহত্তর সীমান্ত অবকাঠামো কর্মসূচির অংশ। তবে পার্ক ও আশপাশের এলাকায় পরিকল্পিত সড়ক, যানবাহন ঠেকানোর প্রতিবন্ধক এবং অন্যান্য অবকাঠামো নিয়েও স্থানীয় পর্যায়ে বিরোধিতা অব্যাহত ছিল।   বিগ বেন্ডের সীমান্ত প্রকল্প নিয়ে বিরোধিতা শুধু একটি রাজনৈতিক দলের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি। স্থানীয় রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট নেতা, জমির মালিক, ব্যবসায়ী এবং পরিবেশবাদী সংগঠনের একটি অংশ নির্মাণকাজ নিয়ে আপত্তি জানিয়েছে। তাদের মূল বক্তব্য, এই অঞ্চলের দুর্গম ও পাহাড়ি ভূপ্রকৃতি নিজেই সীমান্ত পারাপারের ক্ষেত্রে বড় বাধা তৈরি করে। একই সঙ্গে দেয়াল ও সড়ক নির্মাণে প্রাকৃতিক পরিবেশ, নদীর প্রবেশাধিকার এবং ব্যক্তিমালিকানাধীন জমি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কার কথাও তারা তুলে ধরেছে।   অন্যদিকে, প্রশাসনের অবস্থান হলো সীমান্তের দুর্গম এলাকাতেও অবকাঠামো প্রয়োজন, যাতে সীমান্তে কার্যকর নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা যায়। সিবিপি বলেছে, তারা সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি বিগ বেন্ডের অনন্য প্রাকৃতিক পরিবেশ রক্ষার বিষয়টিও বিবেচনায় নিচ্ছে। আদালতের আদেশের পর সংস্থাটি জানিয়েছে, পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নিয়ে তারা বিচার বিভাগের সঙ্গে কাজ করছে।   বিগ বেন্ড অঞ্চলে নির্মাণ পরিকল্পনা নিয়ে বিরোধ এখনো শেষ হয়নি। শুক্রবারের আদেশটি মামলার চূড়ান্ত রায় নয়, বরং মামলার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত নির্মাণকাজ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার নির্দেশ। ফলে ট্রাম্প প্রশাসনের সীমান্ত অবকাঠামো প্রকল্পের বৈধতা ও পরিবেশগত বিধি থেকে নেওয়া ছাড়ের বিষয়টি এখন আদালতে আরও বিস্তৃতভাবে পর্যালোচনা হবে।   সূত্র: অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি), রয়টার্স

মোহাম্মদ ইব্রাহিম অক্টোবর ২, ২০২৬ ১৪:০
আইসিই এজেন্টের গুলিতে রেনি গুড নিহতের ঘটনায় সরকারের বিরুদ্ধে পরিবারের দুই মামলা
আইসিই এজেন্টের গুলিতে রেনি গুড নিহতের ঘটনায় সরকারের বিরুদ্ধে পরিবারের দুই মামলা

যুক্তরাষ্ট্রের মিনিয়াপলিসে আইসিই এজেন্টের গুলিতে রেনি গুড নিহত হওয়ার ঘটনায় তাঁর পরিবার কেন্দ্রীয় সরকার ও ট্রাম্প প্রশাসনের কয়েকজন বর্তমান ও সাবেক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুটি দেওয়ানি মামলা করেছে। বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর করা মামলাগুলোতে ক্ষতিপূরণ ও জুরি বিচারের আবেদন জানানো হয়েছে। হোয়াইট হাউস অভিযোগগুলোকে ভিত্তিহীন বলেছে।    ৩৭ বছর বয়সী গুডকে গত ৭ জানুয়ারি তাঁর গাড়ির ভেতর গুলি করেন আইসিই এজেন্ট জনাথন রস। সে সময় মিনেসোটায় কেন্দ্রীয় সরকারের অভিবাসন অভিযানের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ চলছিল। গুডের পরিবার মামলায় দাবি করেছে, গুলি চালানোর ঘটনায় তাঁর সাংবিধানিক অধিকার লঙ্ঘিত হয়েছে এবং বলপ্রয়োগ ছিল অযৌক্তিক।   প্রথম মামলাটি করা হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের বিরুদ্ধে। এতে গুডের মৃত্যুর জন্য ক্ষতিপূরণ চাওয়া হয়েছে। দ্বিতীয় মামলায় রসের পাশাপাশি হোয়াইট হাউসের ডেপুটি চিফ অব স্টাফ স্টিফেন মিলার, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ক্রিস্টি নোমসহ কয়েকজন বর্তমান ও সাবেক কর্মকর্তার নাম রয়েছে। পরিবারের অভিযোগ, মিনেসোটায় অভিবাসন অভিযান পরিচালনার ধরন নাগরিক অধিকার লঙ্ঘনের পথ তৈরি করেছিল।    মামলার ঘোষণা দিতে পরিবারের সঙ্গে সংবাদ সম্মেলনে আসেন গুডের স্ত্রী বেকা গুড। রেনির ভাই ব্রেট গ্যাঙ্গার বলেন, তাঁর বোনের মৃত্যুর পর জবাবদিহির অভাব তাঁদের হতবাক করেছে। পরিবার বলছে, আদালতের মাধ্যমে তারা গুলির ঘটনার পূর্ণ জবাবদিহি চায়।    হোয়াইট হাউসের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, প্রশাসন মামলাগুলোর বিরুদ্ধে আদালতে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরবে। অন্যদিকে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ আগে রসের বলপ্রয়োগকে পরিস্থিতি অনুযায়ী ন্যায্য বলে সমর্থন করেছে। রসের বিরুদ্ধে এ ঘটনায় এখনো কোনো ফৌজদারি অভিযোগ আনা হয়নি। মিনেসোটার স্থানীয় কর্তৃপক্ষ গুলির ঘটনার তদন্ত করছে। 

নীলুফা নিশাত অক্টোবর ১, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্রে আয়কর জমা দেওয়ার সময় নাগরিকত্বের তথ্য জানানোর নতুন নিয়ম প্রস্তাব করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। ছবি: সংগৃহীত
অভিবাসীদের তথ্য সংগ্রহে ট্রাম্পের নতুন কৌশল, আয়কর ফর্মে যুক্ত হচ্ছে নতুন নিয়ম

যুক্তরাষ্ট্রে আয়কর দাখিলের সময় করদাতাদের নাগরিকত্ব ও কাজের অনুমোদনের অবস্থা জানানো বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব দিয়েছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। ২০২৬ সালের আয়কর ফরমের খসড়ায় এ-সংক্রান্ত নতুন প্রশ্ন যুক্ত করেছে অভ্যন্তরীণ রাজস্ব পরিষেবা বা আইআরএস। প্রস্তাবটি কার্যকর হলে যুক্তরাষ্ট্রে কর দাখিলকারী প্রায় সব কর্মীকেই জানাতে হবে, তারা মার্কিন নাগরিক, মার্কিন নাগরিকত্বধারী ব্যক্তি, নাকি যুক্তরাষ্ট্রে আইনগতভাবে কাজের অনুমতি পাওয়া বিদেশি।   আইআরএসের ২০২৬ সালের খসড়া ১০৪০ ফরমে সরাসরি জানতে চাওয়া হয়েছে, করদাতা এবং যৌথভাবে কর দাখিল করলে তার স্বামী বা স্ত্রী যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক, মার্কিন নাগরিকত্বধারী ব্যক্তি বা যুক্তরাষ্ট্রে আইনগতভাবে কাজের অনুমতিপ্রাপ্ত বিদেশি কি না। ফরমে করদাতা ও তার স্বামী বা স্ত্রীর জন্য আলাদা করে ‘হ্যাঁ’ অথবা ‘না’ বেছে নেওয়ার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। আইআরএসের খসড়া ফরমে বলা হয়েছে, এই তথ্য দেওয়ার বিষয়টি ফরম পূরণের অংশ হিসেবেই থাকবে।   ট্রাম্প প্রশাসনের যুক্তি, নতুন তথ্য সংগ্রহের মাধ্যমে এমন অভিবাসীদের ফেরতযোগ্য কর-সুবিধা নেওয়া ঠেকানো যাবে, যারা ফেডারেল আইনের অধীনে এসব সুবিধা পাওয়ার যোগ্য নন। ট্রেজারি বিভাগ ও আইআরএস আগস্টে প্রস্তাবিত বিধি প্রকাশ করে জানিয়েছিল, ১৯৯৬ সালের একটি ফেডারেল আইনের আওতায় ফেরতযোগ্য কর-ক্রেডিটের অর্থকে ফেডারেল সরকারি সুবিধা হিসেবে বিবেচনা করা হবে এবং নির্দিষ্ট শ্রেণির বিদেশি নাগরিকদের সেসব সুবিধা পাওয়ার যোগ্যতা সীমিত করা হবে। প্রশাসনের হিসাবে, এতে করদাতাদের অর্থ সাশ্রয় হতে পারে।   এই পরিবর্তনের সঙ্গে মূলত নিম্ন ও মধ্যম আয়ের কর্মী ও পরিবারগুলোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি কর-সুবিধার বিষয় জড়িত। এর মধ্যে রয়েছে অর্জিত আয় কর-সুবিধা বা ইআইটিসি এবং অতিরিক্ত শিশু কর-সুবিধা। ট্রেজারি ও আইআরএসের প্রস্তাবে শিশু কর-সুবিধা, অর্জিত আয় কর-সুবিধা, দত্তক গ্রহণসংক্রান্ত কর-সুবিধা এবং আমেরিকান অপরচুনিটি কর-সুবিধার ফেরতযোগ্য অংশের ওপর নতুন যোগ্যতার বিধান প্রস্তাব করা হয়েছে।   তবে প্রস্তাবটির সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে কর ও অভিবাসন নীতি বিশ্লেষকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সেন্টার ফর ট্যাক্সপেয়ার রাইটসের নির্বাহী পরিচালক নিনা ওলসনের মতে, আয়কর রিটার্ন প্রক্রিয়া করার জন্য করদাতার নাগরিকত্ব বা অভিবাসন-অবস্থা জানা আইআরএসের প্রয়োজন নেই। তার যুক্তি, কর-সুবিধার যোগ্যতা যাচাইয়ের জন্য আইআরএসের কাছে আগে থেকেই সামাজিক নিরাপত্তা নম্বর এবং ব্যক্তিগত কর শনাক্তকরণ নম্বরের তথ্য রয়েছে।   আইআরএসের বর্তমান ব্যবস্থায় অর্জিত আয় কর-সুবিধা দাবি করা ব্যক্তিদের সামাজিক নিরাপত্তা নম্বর সামাজিক নিরাপত্তা প্রশাসনের তথ্যের সঙ্গে যাচাই করা হয়। ফলে নতুন করে নাগরিকত্ব বা কাজের অনুমতির তথ্য চাওয়ার প্রয়োজনীয়তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে অভিবাসীদের ব্যক্তিগত তথ্য কর কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেওয়ার পর তা অন্য কোনো সরকারি সংস্থার কাজে ব্যবহৃত হতে পারে কি না, সে বিষয়টি নিয়ে গোপনীয়তা-সংশ্লিষ্ট উদ্বেগ রয়েছে।   প্রস্তাবিত পরিবর্তনের প্রভাব শুধু অননুমোদিতভাবে বসবাসরত অভিবাসীদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। নতুন কর-সুবিধা সংক্রান্ত বিধির সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে বোস্টন ইউনিভার্সিটি, কলাম্বিয়া ইউনিভার্সিটি এবং ইনস্টিটিউট অন ট্যাক্সেশন অ্যান্ড ইকোনমিক পলিসির গবেষকদের সাম্প্রতিক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, প্রায় ৬ লাখ ৭১ হাজার মানুষ এমন পরিবারে রয়েছেন যারা অর্জিত আয় কর-সুবিধার ফেরতযোগ্য অংশ হারাতে পারেন। এর মধ্যে প্রায় ৩ লাখ ৯ হাজার শিশু। অতিরিক্ত শিশু কর-সুবিধার ক্ষেত্রে প্রায় ১১ লাখ ২৫ হাজার মানুষ এবং ৫ লাখ ৭৪ হাজার শিশু প্রভাবিত হতে পারেন।   গবেষণাটির একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, সম্ভাব্যভাবে সুবিধা হারাতে যাওয়া শিশুদের বড় অংশই যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক। গবেষকদের হিসাবে, এ ধরনের সুবিধা হারাতে পারে এমন শিশুদের প্রায় ৯০ শতাংশই মার্কিন নাগরিক। কারণ তাদের বাবা বা মায়ের নাগরিকত্ব বা অভিবাসন-অবস্থার কারণে পরিবারটি নতুন যোগ্যতার শর্তের আওতায় পড়তে পারে।   প্রস্তাবিত পরিবর্তনের আওতায় বৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে থাকা এবং কাজের অনুমতি থাকা কিছু অভিবাসীও প্রভাবিত হতে পারেন। গবেষকদের বিশ্লেষণে ডাকা বা ডাকা-সুরক্ষিত অভিবাসী, সাময়িক সুরক্ষিত অবস্থায় থাকা ব্যক্তি এবং নির্দিষ্ট সাময়িক ভিসায় কাজ করা কিছু মানুষকে সম্ভাব্য প্রভাবিত গোষ্ঠীর মধ্যে রাখা হয়েছে। অর্থাৎ নতুন বিধির প্রভাব শুধু যুক্তরাষ্ট্রে অননুমোদিতভাবে বসবাসরত ব্যক্তিদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না।   এর আগে ট্রাম্প প্রশাসন অভিবাসন আইন প্রয়োগের কাজে আইআরএসের কর-তথ্য ব্যবহারের উদ্যোগ নিয়েও বিতর্কের মুখে পড়েছিল। ২০২৫ সালে ট্রেজারি বিভাগ ও হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের মধ্যে একটি তথ্য বিনিময় চুক্তি হয়েছিল, যার আওতায় আইআরএসের কাছে থাকা নির্দিষ্ট তথ্য অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগকারী সংস্থা বা আইসের সঙ্গে ভাগ করার বিষয়টি সামনে আসে। পরে ফেডারেল আদালতে এই তথ্য ব্যবহারের বৈধতা নিয়ে মামলা হয়।   একটি ফেডারেল বিচারক পরবর্তী সময়ে আইআরএসের গোপন কর-তথ্য প্রকাশের ক্ষেত্রে ফেডারেল গোপনীয়তা আইন লঙ্ঘনের কথা উল্লেখ করেন। আদালতের নথি অনুযায়ী, আইসের পাঠানো প্রায় ১২ লাখ ৮০ হাজার নামের মধ্যে আইআরএস প্রায় ৪৭ হাজার ব্যক্তির ঠিকানা যাচাই করে তা হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগকে দিয়েছিল। এ ঘটনাকে ঘিরে করদাতার তথ্যের গোপনীয়তা এবং অভিবাসন আইন প্রয়োগে কর কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক আরও তীব্র হয়।   নতুন ১০৪০ ফরমের নাগরিকত্ব ও কাজের অনুমতির প্রশ্নটি বর্তমানে খসড়া পর্যায়ে রয়েছে। একইভাবে ফেরতযোগ্য কর-সুবিধার যোগ্যতা পরিবর্তনের বিধিটিও এখনো প্রস্তাবিত। ট্রেজারি ও আইআরএস এ বিষয়ে জনসাধারণের মতামত ও শুনানির সুযোগ রেখেছে। তাই প্রস্তাবগুলো চূড়ান্ত হওয়ার আগে এর ভাষা বা প্রয়োগের নিয়মে পরিবর্তন আসতে পারে।   সূত্র: অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস, যুক্তরাষ্ট্রের আইআরএস ও ট্রেজারি বিভাগ।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম অক্টোবর ১, ২০২৬ ১৪:০
অপরাধে দণ্ডিত নন এমন অনথিভুক্ত অভিবাসীদের গ্রেপ্তার বন্ধ করতে আইসিই কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়ার কথা জানায় ডেইলি ওয়্যার। ছবি: সংগৃহীত
অপরাধের রেকর্ড নেই এমন অভিবাসীদের গ্রেপ্তার বন্ধের নির্দেশ আইসিই কর্মকর্তাদের

অপরাধে দণ্ডিত নন বা ফৌজদারি অভিযোগ নেই, এমন অনথিভুক্ত অভিবাসীদের গ্রেপ্তার বন্ধ করতে আইসিই কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে ডেইলি ওয়্যার ২৬ সেপ্টেম্বর প্রতিবেদন প্রকাশ করে। তবে পরদিন ট্রাম্প প্রশাসন জানায়, অভিবাসন প্রয়োগের নীতিতে কোনো পরিবর্তন হয়নি। ফলে গ্রেপ্তার বন্ধ হয়েছে ধরে নেওয়ার সুযোগ নেই।    পরিচয় প্রকাশ না করা আইসিই কর্মকর্তাদের বরাতে ডেইলি ওয়্যার জানায়, সাময়িকভাবে শুধু ফৌজদারি অপরাধে দণ্ডিত বা অভিযুক্ত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারের নির্দেশ তাঁরা পেয়েছিলেন। তাঁদের ভাষ্য অনুযায়ী, কারও ডিপোর্টেশনের চূড়ান্ত আদেশ থাকলেও ফৌজদারি রেকর্ড না থাকলে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হতো না। অভিযানের সময় মূল লক্ষ্য ছাড়া অন্য অনথিভুক্ত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারও বন্ধ থাকার কথা ছিল।    প্রতিবেদনটি প্রকাশের সময় ডেইলি ওয়্যার জানিয়েছিল, মন্তব্য চেয়ে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের তাৎক্ষণিক জবাব পায়নি তারা। এরপর ফক্স নিউজকে প্রশাসন জানায়, মাঠপর্যায়ে গুরুতর অপরাধীদের অগ্রাধিকার দেওয়ার মৌখিক নির্দেশনা নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছিল। এটি আনুষ্ঠানিক নীতিবদল নয়; বিষয়টি স্পষ্ট করে আইসিই দপ্তরগুলোতে নতুন নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে।    ফক্স নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধভাবে অবস্থানকারী ব্যক্তিদের আইসিই এখনো গ্রেপ্তার ও ডিপোর্ট করতে পারে। অভিযানের মূল লক্ষ্য ছাড়া সেখানে পাওয়া অন্য অনথিভুক্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রেও গ্রেপ্তারের ক্ষমতা বহাল রয়েছে বলে প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।    এখানে ‘অপরাধের রেকর্ড নেই’ বলতে ফৌজদারি অপরাধে দণ্ড বা অভিযোগ না থাকার কথা বোঝানো হচ্ছে। এতে কারও অভিবাসনসংক্রান্ত অবস্থান বা ডিপোর্টেশনের আদেশ বদলে যায় না। ডেইলি ওয়্যারের কর্মকর্তাদের দেওয়া বিবরণ এবং প্রশাসনের পরবর্তী বক্তব্যে পার্থক্য থাকলেও বর্তমান সরকারি অবস্থান হলো, আইসিইর গ্রেপ্তারনীতি বদলায়নি।   প্রতিবেদনটি প্রকাশের পর যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ (ডিএইচএস) এ বিষয়ে স্পষ্টীকরণ দিয়েছে। ডিএইচএস জানিয়েছে, অপরাধের রেকর্ড বা মুলতবি ফৌজদারি অভিযোগ নেই, এমন অভিবাসীদের গ্রেপ্তার বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এমন তথ্য “ফলস” বা মিথ্যা। বিভাগটি বলেছে, অভিবাসন আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে কেউই গ্রেপ্তারের আওতার বাইরে নয় এবং যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধভাবে অবস্থানকারী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইসিইর কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।   এদিকে পরবর্তী প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আইসিইর কিছু মাঠপর্যায়ের কার্যালয়ে অপরাধী ও গুরুতর অপরাধীদের অগ্রাধিকার দেওয়ার মৌখিক নির্দেশনা পৌঁছেছিল। তবে প্রশাসনের কর্মকর্তারা এটিকে আনুষ্ঠানিক নীতির পরিবর্তন নয়, বরং ভুল যোগাযোগ বা বিভ্রান্তি হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন। পরে আইসিইর মাঠ কার্যালয়গুলোতে নতুন নির্দেশনা পাঠিয়ে জানানো হয়, অভিবাসন প্রয়োগের নীতিতে কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি এবং অপরাধের অতিরিক্ত রেকর্ড না থাকা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রেও গ্রেপ্তারের ক্ষমতা বহাল রয়েছে।

নুরুল্লাহ সাইদ সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্রে কংগ্রেসের অনুমোদিত প্রায় ১০০ কোটি ডলারের তহবিল বাতিল করলেন ট্রাম্প
যুক্তরাষ্ট্রে কংগ্রেসের অনুমোদিত প্রায় ১০০ কোটি ডলারের তহবিল বাতিল করলেন ট্রাম্প

মার্কিন কংগ্রেসের অনুমোদন দেওয়া প্রায় ১০০ কোটি (১ বিলিয়ন) ডলারের সরকারি ব্যয় বা বরাদ্দ বাতিল ঘোষণা করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। অভিবাসী সেবা এবং বৈচিত্র্য ও সমতাভিত্তিক বিভিন্ন উদ্যোগের বরাদ্দ ছাঁটাই করতে এক বিরল ও বিতর্কিত আইনি ক্ষমতা প্রয়োগ করেছে হোয়াইট হাউস।   ট্রাম্পের অফিস অব ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড বাজেট (ওএমবি) এই পদক্ষেপকে সরকারের ‘সবচেয়ে ক্ষতিকর ব্যয়’ রোধ করার পদক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করেছে। প্রশাসনের দাবি, সীমান্তে অবৈধ অনুপ্রবেশ উল্লেখযোগ্য হারে কমে যাওয়ায় এই তহবিলগুলোর আর প্রয়োজন নেই। ফলে স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগের অধীনে পরিচালিত শরণার্থী ও অভিভাবকহীন অপ্রাপ্তবয়স্ক অভিবাসী শিশুদের সহায়তা সংক্রান্ত কর্মসূচিগুলোতেই সবচেয়ে বড় ধরনের কাটছাঁট করা হয়েছে।   অভিবাসী সহায়তা ছাড়াও শিক্ষা বিভাগের অভিবাসী শিক্ষার্থী কর্মসূচি, বিচার বিভাগের বর্ণগত উত্তেজনা প্রশমন দপ্তর, সংখ্যালঘু উদ্যোক্তাদের ব্যবসায়িক উন্নয়ন উদ্যোগ এবং আবাসন বিভাগের কাউন্সেলিং সেবার বরাদ্দও বাতিলের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।   এছাড়া আন্তর্জাতিক শিক্ষা সংক্রান্ত তথাকথিত 'ওক' (woke) কর্মসূচি থেকে ৭ কোটি ডলার, স্বাস্থ্য গবেষণা অনুদান থেকে ২ কোটি ৮০ লাখ ডলার, সংখ্যালঘু ব্যবসা উন্নয়ন প্রকল্প থেকে ১ কোটি ডলার এবং জলবায়ু নীতিতে অর্থায়ন করা বিদেশি দেশগুলোর ঋণ মওকুফ তহবিল থেকে ৯০ লাখ ডলার প্রত্যাহার করছে প্রশাসন। হোয়াইট হাউসের এক বিবৃতিতে দাবি করা হয়, ক্ষতিগ্রস্ত এসব সংস্থার বেশ কয়েকটির নেতৃত্বে সাবেক ডেমোক্র্যাট প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা প্রশাসনের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা রয়েছেন।   তবে ট্রাম্পের এই বিতর্কিত পদক্ষেপের বিরুদ্ধে খোদ রিপাবলিকান দলের ভেতর থেকেই তীব্র প্রতিক্রিয়া এসেছে। সিনেট অ্যাপ্রোপ্রিয়েশন কমিটির চেয়ার ও রিপাবলিকান সিনেটর সুসান কলিন্স কোনো পূর্ব সতর্কতা বা আলোচনা ছাড়া নেওয়া এই পদক্ষেপকে কংগ্রেসের আর্থিক ক্ষমতার ওপর নগ্ন হস্তক্ষেপ বলে আখ্যা দিয়েছেন।   তিনি একে ‘অবৈধ কার্যক্রম’ অভিহিত করে জানান, ওএমবি কোনোভাবেই কোন কর্মসূচি চলবে আর কোনটি বন্ধ হবে তা এককভাবে নির্ধারণ করতে পারে না। অন্যদিকে সিনেটের শীর্ষ ডেমোক্র্যাট সদস্য প্যাটি মারে এই পদক্ষেপকে ‘আমেরিকান জনগণের সঙ্গে প্রকাশ্য চুরি’ হিসেবে বর্ণনা করে জানান, দ্বিদলীয় ঐকমত্যে পাস হওয়া এই অর্থ সাধারণ মানুষের কাজে না লাগিয়ে প্রশাসন ক্ষমতা কুক্ষিগত করার চেষ্টা করছে।   ফেডারেল আইন অনুযায়ী প্রেসিডেন্টের প্রস্তাবিত ব্যয় সংকোচনের ওপর পর্যালোচনার জন্য কংগ্রেসকে ৪৫ দিন সময় দেওয়ার নিয়ম রয়েছে। তবে অর্থবছর শেষ হওয়ার মাত্র পাঁচ দিন বাকি থাকতে এবং প্রতিনিধি পরিষদের অধিবেশন মুলতবি থাকা অবস্থায় এই ঘোষণা দিয়ে সেই সুযোগ কার্যত বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।   মার্কিন সরকারের ওয়াচডগ সংস্থা গভর্নমেন্ট অ্যাকাউন্টেবিলিটি অফিস (জিএও)-এর মতে, আইনপ্রণেতাদের পাশ কাটিয়ে তহবিল বাতিল করার এই 'পকেট রিসিশন' কৌশলটি আইনসম্মত নয়। এর আগেও গত বছর বিদেশি সহায়তার প্রায় ৫০০ কোটি ডলার আটকে দিয়ে ট্রাম্প প্রশাসন বিতর্কের জন্ম দিয়েছিল, যা আদালত পর্যন্ত গড়ায়।   এবার অভ্যন্তরীণ জনকল্যাণমূলক কর্মসূচিতে একই ধরনের হস্তক্ষেপ করায় নির্বাহী বিভাগ ও আইনসভার মধ্যে নতুন করে তীব্র সাংবিধানিক সংকট তৈরি হয়েছে।

ইসতিয়াক আহমেদ সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২৬ ১৪:০
আদালতের নির্দেশ অমান্য করে আশ্রয়প্রার্থীকে বিতাড়ন, ট্রাম্প প্রশাসন দোষী সাব্যস্ত
আদালতের নির্দেশ অমান্য করে আশ্রয়প্রার্থীকে বিতাড়ন, ট্রাম্প প্রশাসন দোষী সাব্যস্ত

যুক্তরাষ্ট্রের এক ফেডারেল বিচারক আদালতের তিনটি নির্দেশ অমান্য করে এক আশ্রয়প্রার্থীকে এল সালভাদরে বিতাড়িত করার দায়ে ট্রাম্প প্রশাসনকে আদালত অবমাননার দায়ে দোষী সাব্যস্ত করেছেন। শুক্রবার দেওয়া এক আদেশে ইউএস ডিস্ট্রিক্ট জজ স্টেফানি গ্যালাগার সরকারকে নির্দেশ দিয়েছেন, আদালতের নথিতে 'ই.এল.এ.' (E.L.A.) হিসেবে পরিচিত ওই ব্যক্তিকে অবিলম্বে যুক্তরাষ্ট্রে ফিরিয়ে আনতে হবে।   সেই সঙ্গে তাঁর আশ্রয়ের আবেদন পুরোপুরি নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তাঁকে বিতাড়নের কোনো আদেশ কার্যকর করা থেকে বিরত থাকতে সরকারকে কঠোরভাবে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।   আদালতের নথিপত্র অনুযায়ী, ওই ব্যক্তিকে অন্যায়ভাবে দুবার যুক্তরাষ্ট্র থেকে বিতাড়িত করা হয়েছিল। প্রথমবার বিতাড়নের পর তিনি গত ৭ আগস্ট স্বেচ্ছায় বিমানে করে যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে আসেন এবং নিজেকে অভিবাসন কর্তৃপক্ষের হেফাজতে সমর্পণ করেন। কিন্তু কয়েক সপ্তাহ বন্দি রাখার পর মার্কিন সরকার তাঁকে দ্বিতীয়বারের মতো এমন একটি দেশে জোরপূর্বক ফেরত পাঠায়, যেখানে তিনি নিপীড়নের আতঙ্কে ছিলেন।   এই ঘটনাটি মূলত ২০১৯ সালের একটি ফেডারেল ক্লাস-অ্যাকশন মামলার অংশ, যা অভিভাবকহীন অপ্রাপ্তবয়স্ক হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করা অভিবাসীদের আশ্রয়ের অধিকার আইনিভাবে রক্ষা করে। নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে, এই আইনি সুরক্ষার আওতায় থাকা অন্তত ১০৭ জন ব্যক্তিকে (যার মধ্যে ৫৪ জন নিশ্চিত এবং ৫৩ জন সম্ভাব্য সুরক্ষিত সদস্য) তাঁদের আশ্রয়ের আবেদন চূড়ান্ত হওয়ার আগেই অন্যায়ভাবে বিতাড়ন করা হয়েছে।   এছাড়া, হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ডিপার্টমেন্ট (ডিএইচএস) অভিভাবকহীন অভিবাসী শিশুদের স্বেচ্ছায় নিজেদের দেশে ফিরে যাওয়ার জন্য ২,৫০০ ডলার অনুদান দেওয়ারও প্রস্তাব দিচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।   এর আগে গত আগস্ট মাসেও বিচারক গ্যালাগার ডিএইচএস-কে দেওয়ানি অবমাননার দায়ে দোষী সাব্যস্ত করেছিলেন। সে সময় তিনি রায় দিয়েছিলেন যে, আইনগত বাধা থাকা সত্ত্বেও সরকার বারবার তরুণ আশ্রয়প্রার্থীদের বিতাড়িত করছে।   সর্বশেষ এই ঘটনা নিয়ে এবিসি নিউজের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হলেও ডিএইচএস-এর কোনো মুখপাত্র তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেননি। শুক্রবারের ওই আদেশে আগামী ২ অক্টোবরের মধ্যে ওই আশ্রয়প্রার্থীকে যুক্তরাষ্ট্রে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে সর্বশেষ অগ্রগতি আদালতকে জানাতে উভয় পক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ইসতিয়াক আহমেদ সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধ অভিবাসীদের ধরতে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট কর্মকর্তাদের অভিযান। (ছবি: সংগৃহীত)
ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে আইসিই এজেন্টদের গুলিতে প্রাণ গেল ৮ জনের, মোট গুলিবিদ্ধ ২১

ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল অভিবাসন কর্মকর্তাদের গুলিতে অন্তত ২১ জন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। এর মধ্যে আটজন নিহত হয়েছেন, যাদের তিনজনই যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক। এ ছাড়া অন্তত ১৫টি ঘটনায় অভিবাসন কর্মকর্তারা গুলি চালালেও কেউ গুলিবিদ্ধ হননি।   এবিসি নিউজের নিজস্ব হিসাব অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় প্রশাসন দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে এসব গুলির ঘটনা ঘটেছে। এবিসি নিউজ তাদের প্রতিবেদন, আইনপ্রণেতাদের বক্তব্য এবং সরকারি বিভিন্ন বিবৃতি বিশ্লেষণ করে এই সংখ্যা নির্ধারণ করেছে।   সাম্প্রতিক ঘটনাটি ঘটে গত রোববার টেক্সাসের অস্টিনে। সেখানে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্টের (আইসিই) এক কর্মকর্তা ২৮ বছর বয়সী ভেনেজুয়েলার নাগরিক উইলবার রাফায়েল গারসেস পেরেজকে গুলি করেন। গুলিবিদ্ধ হওয়ার সময় তিনি ডোরড্যাশের হয়ে খাবার সরবরাহ করছিলেন বলে তার আইনজীবী এবং ডোরড্যাশ নিশ্চিত করেছে। পরে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়।   ঘটনার পর গারসেস পেরেজকে হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দিয়ে আবার ফেডারেল হেফাজতে নেওয়া হয়। তার আইনজীবী কেট লিংকন-গোল্ডফিঞ্চ জানিয়েছেন, তার শরীরে এখনো একটি গুলি রয়েছে, যা মেরুদণ্ডের কাছাকাছি আটকে আছে। ২৩ সেপ্টেম্বর টেক্সাস ট্রিবিউনও জানিয়েছে, গুলিটি অপসারণে অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হতে পারে।   গারসেস পেরেজের আইনজীবীর বক্তব্য, তিনি যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে প্রবেশ করেছিলেন এবং আশ্রয়ের জন্য আবেদন করেছিলেন। অন্যদিকে, মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ জানিয়েছে, তার বিরুদ্ধে দেশ থেকে বহিষ্কারের চূড়ান্ত আদেশ ছিল। অর্থাৎ, ঘটনাটি ঘিরে তার অভিবাসন অবস্থান নিয়ে দুই পক্ষের বক্তব্যে পার্থক্য রয়েছে।   অস্টিনের ঘটনার পর তদন্ত নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। এবিসি নিউজ জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট আইসিই কর্মকর্তা ঘটনার সময় শরীরে পরিধানযোগ্য ক্যামেরা ব্যবহার করছিলেন না বলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সূত্র জানিয়েছে। অস্টিন পুলিশও আলাদাভাবে তদন্ত করছে। ২২ সেপ্টেম্বর পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানো এক কর্মকর্তার বডি ক্যামেরার ভিডিও প্রকাশ করে। তবে ওই ভিডিওতে গুলি চালানোর আগের পুরো ঘটনাটি স্পষ্ট হয়নি।   অস্টিন পুলিশ প্রধান লিসা ডেভিস জানিয়েছেন, তার বিভাগ এবং টেক্সাস ডিপার্টমেন্ট অব পাবলিক সেফটি ঘটনাটি নিয়ে তদন্ত করছে। তিনি বলেন, অস্টিন পুলিশের কর্মকর্তারা আইসিইর মূল অভিযানে অংশ নেননি। তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ঘটনাটি নিরপেক্ষভাবে অনুসরণ করা হবে বলেও তিনি জানান।   অস্টিনের এই ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন অভিযান নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি করেছে। স্থানীয় কর্মকর্তাদের পাশাপাশি কিছু কংগ্রেস সদস্য আইসিইর কর্মকাণ্ডে আরও স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির দাবি জানিয়েছেন। শতাধিক কংগ্রেস সদস্য গারসেস পেরেজকে চিকিৎসার জন্য মুক্তি দেওয়ারও আহ্বান জানিয়েছেন।   তবে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ আইসিইর অভিযান বন্ধ করার আহ্বান প্রত্যাখ্যান করেছে। বিভাগটি বলেছে, কংগ্রেসের পাস করা আইন বাস্তবায়ন করা তাদের দায়িত্ব এবং অস্টিনে আইসিইর অভিযান থামবে না। হোমল্যান্ড সিকিউরিটি সচিব মার্কওয়েন মুলিনও আইসিই কর্মকর্তাদের কর্মকাণ্ডের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।   এদিকে, অস্টিনের ঘটনার আগে প্রাণঘাতী গুলির ঘটনাগুলো নিয়েও কংগ্রেসে শুনানি হয়েছে। মঙ্গলবার ওয়াশিংটনে সিনেটের পার্মানেন্ট সাবকমিটি অন ইনভেস্টিগেশনস এবং প্রতিনিধি পরিষদের কমিটি অন ওভারসাইট অ্যান্ড গভর্নমেন্ট রিফর্ম যৌথ শুনানির আয়োজন করে। সেখানে আইসিই-সংশ্লিষ্ট প্রাণঘাতী গুলির ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যরা বক্তব্য দেন।   শুনানিতে রেনে গুডের মা ডোনা গ্রেঞ্জারও বক্তব্য দেন। ৩৭ বছর বয়সী গুডকে জানুয়ারিতে মিনেসোটায় এক আইসিই কর্মকর্তা গুলি করে হত্যা করেন। গুড ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক। এবিসি নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আইসিই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এখনো কোনো ফৌজদারি অভিযোগ আনা হয়নি।   শুনানিতে আরও বক্তব্য দেন টেক্সাসের হিউস্টনে জুলাইয়ে আইসিই কর্মকর্তার গুলিতে নিহত ৫২ বছর বয়সী মেক্সিকোর নাগরিক লরেঞ্জো সালগাদোর পরিবার। তার ছেলে লরেঞ্জো সালগাদো জুনিয়র আইনপ্রণেতাদের বলেন, বাবার মৃত্যুর আড়াই মাস পরও পরিবার তার ব্যক্তিগত জিনিসপত্র, যেমন মানিব্যাগ ও ফোন, ফেরত পায়নি এবং ঘটনার বিষয়ে সরকারের কাছ থেকেও পর্যাপ্ত উত্তর পায়নি।   অস্টিনে গারসেস পেরেজকে গুলি করার ঘটনায় স্থানীয় মানবাধিকার ও অভিবাসী অধিকারকর্মীরাও স্বাধীন তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। লিগ অব ইউনাইটেড ল্যাটিন আমেরিকান সিটিজেনসের প্রেসিডেন্ট রোমান পালোমারেস হিউস্টনের প্রাণঘাতী ঘটনার তদন্ত নিয়েও প্রশ্ন তোলেন এবং অস্টিনের ঘটনার স্বাধীন তদন্তের আহ্বান জানান।   এবিসি নিউজের হিসাবে, ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে অভিবাসন কর্মকর্তাদের গুলিতে অন্তত ২১ জন গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনা সামনে এসেছে। এর মধ্যে আটটি ছিল প্রাণঘাতী এবং নিহতদের তিনজন ছিলেন মার্কিন নাগরিক। একই সময়ে আরও অন্তত ১৫টি ঘটনায় ফেডারেল অভিবাসন কর্মকর্তারা গুলি চালালেও কেউ আহত হননি। এই হিসাব যুক্তরাষ্ট্রের চলমান কঠোর অভিবাসন প্রয়োগ কার্যক্রমে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অস্ত্র ব্যবহারের মাত্রা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি করেছে।   সূত্র: এবিসি নিউজ, দ্য টেক্সাস ট্রিবিউন

মোহাম্মদ ইব্রাহিম সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২৬ ১৪:০
২০২৭ অর্থবছরে ১৭,৫০০ শরণার্থী নেবে যুক্তরাষ্ট্র
২০২৭ অর্থবছরে ১৭,৫০০ শরণার্থী নেবে যুক্তরাষ্ট্র, বড় অংশ দক্ষিণ আফ্রিকার শ্বেতাঙ্গ

ট্রাম্প প্রশাসন ২০২৭ অর্থবছরে যুক্তরাষ্ট্রে সর্বোচ্চ ১৭ হাজার ৫০০ শরণার্থী গ্রহণের পরিকল্পনা কংগ্রেসকে জানিয়েছে। মঙ্গলবার কংগ্রেসে জমা দেওয়া এক প্রতিবেদনে এই পরিকল্পনার কথা জানানো হয়েছে বলে সিএনএনের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রস্তাবিত শরণার্থীদের বড় অংশ দক্ষিণ আফ্রিকার শ্বেতাঙ্গ, বিশেষ করে আফ্রিকানার সম্প্রদায়ের মানুষ হতে পারেন।   এই সংখ্যা গত বছরের নির্ধারিত ৭ হাজার ৫০০ শরণার্থীর তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। তবে ১৭ হাজার ৫০০ সংখ্যাটি সর্বোচ্চ সীমা, অর্থাৎ এর বেশি শরণার্থী গ্রহণ করা হবে না। বাস্তবে এর পুরো সংখ্যাটি ভর্তি হবে কি না, তা আলাদা বিষয়। যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি অর্থবছরে প্রেসিডেন্ট কংগ্রেসের সঙ্গে পরামর্শের পর শরণার্থী গ্রহণের সর্বোচ্চ সংখ্যা নির্ধারণ করেন।   প্রস্তাবিত নীতিতে দক্ষিণ আফ্রিকার আফ্রিকানারদের জন্য বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার বিষয়টি সামনে এসেছে। আফ্রিকানাররা মূলত ডাচ ও ইউরোপীয় বংশোদ্ভূত দক্ষিণ আফ্রিকানদের একটি সম্প্রদায়। ট্রাম্প প্রশাসন দক্ষিণ আফ্রিকায় তাদের বিরুদ্ধে বৈষম্য, সম্পত্তি অধিগ্রহণ এবং নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের কথা তুলে ধরে তাদের যুক্তরাষ্ট্রে পুনর্বাসনের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে।   তবে দক্ষিণ আফ্রিকায় শ্বেতাঙ্গদের ওপর গণহত্যা চলছে এমন দাবিকে বিভিন্ন বিশেষজ্ঞ ও সংগঠন প্রত্যাখ্যান করেছে। যুক্তরাষ্ট্রে আফ্রিকানার শরণার্থী গ্রহণের পেছনে প্রশাসনের দেওয়া কারণ নিয়েও বিতর্ক রয়েছে। ফলে নতুন শরণার্থী নীতিটি মানবিক সুরক্ষা, অভিবাসন নীতি এবং যুক্তরাষ্ট্রের অগ্রাধিকার নিয়ে নতুন আলোচনা তৈরি করেছে।   সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রশাসনের এই পরিকল্পনা এমন সময়ে এসেছে যখন বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলের শরণার্থীদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের পুনর্বাসন কার্যক্রম ব্যাপকভাবে সীমিত করা হয়েছে। ২০২৫ সালে ট্রাম্প প্রশাসন যুক্তরাষ্ট্রের শরণার্থী গ্রহণ কর্মসূচি স্থগিত করার পদক্ষেপ নিয়েছিল। পরে সীমিত পরিসরে কিছু শরণার্থী গ্রহণের সুযোগ তৈরি হয়।   যুক্তরাষ্ট্রের শরণার্থী কর্মসূচিতে কোনো ব্যক্তি শরণার্থী হিসেবে গ্রহণের আগে একাধিক ধাপে যাচাইয়ের মধ্য দিয়ে যান। বিদেশে থাকা এমন ব্যক্তিদের জন্য এই ব্যবস্থা প্রযোজ্য, যারা নিজ দেশে নিপীড়নের শিকার হয়েছেন বা নিপীড়নের আশঙ্কায় দেশে ফিরতে পারেন না। শরণার্থী ও অ্যাসাইলামপ্রার্থীর মধ্যে পার্থক্যও রয়েছে। শরণার্থী সাধারণত যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে অবস্থান করেন, আর অ্যাসাইলামপ্রার্থী যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করে সুরক্ষা চান।   ২০২৬ অর্থবছরের সরকারি তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে শরণার্থী পুনর্বাসনের সংখ্যা আগের তুলনায় অনেক কমেছে। একই সময়ে দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে আগত শরণার্থীদের সংখ্যা অন্য দেশগুলোর তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি হয়েছে। শরণার্থী প্রসেসিং সেন্টারের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমান অর্থবছরের দেশভিত্তিক ভর্তি ও পুনর্বাসনের হিসাব নিয়মিত প্রকাশ করা হচ্ছে।   যুক্তরাষ্ট্রের আইন অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট প্রতি অর্থবছরের জন্য শরণার্থী গ্রহণের সর্বোচ্চ সংখ্যা নির্ধারণ করেন এবং এ বিষয়ে কংগ্রেসের সঙ্গে পরামর্শ করতে হয়। এরপর প্রেসিডেন্টের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্তের মাধ্যমে সেই সংখ্যা কার্যকর হয়। তাই কংগ্রেসে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পরও প্রশাসনিক ও আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ।   ২০২৭ অর্থবছরের জন্য ১৭ হাজার ৫০০ শরণার্থী গ্রহণের পরিকল্পনা কার্যকর হলে সাম্প্রতিক বছরগুলোর তুলনায় যুক্তরাষ্ট্রের শরণার্থী নীতিতে একটি উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন দেখা যাবে। বিশেষ করে দক্ষিণ আফ্রিকার শ্বেতাঙ্গ আফ্রিকানারদের জন্য বড় অংশ বরাদ্দের পরিকল্পনাই এই নীতির সবচেয়ে আলোচিত দিক হয়ে উঠেছে।

নীলুফা নিশাত সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্রে গ্রিন কার্ড আবেদনের ‘পাবলিক চার্জ’ নীতি পরিবর্তন নিয়ে শুরু হয়েছে নতুন আইনি লড়াই। ছবি: সংগৃহীত
গ্রিন কার্ড পাওয়া কঠিন করায়, ট্রাম্প প্রশাসনের নিয়ম ঠেকাতে ২২ রাজ্য ও ডিসির মামলা

যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসীদের গ্রিন কার্ড পাওয়ার ক্ষেত্রে নতুন নিয়ম কার্যকর হওয়ার আগেই তা ঠেকাতে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে ২২টি অঙ্গরাজ্য ও ডিস্ট্রিক্ট অব কলাম্বিয়া। ট্রাম্প প্রশাসনের ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বা ডিএইচএসের নতুন ‘পাবলিক চার্জ’ নীতির বিরুদ্ধে ১৪ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কের ফেডারেল আদালতে মামলা করা হয়। একই সময়ে নিউইয়র্ক সিটির নেতৃত্বে কয়েকটি শহর ও কাউন্টিও পৃথক মামলা করেছে। নতুন নিয়মটি ১৮ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে।    নতুন নীতিতে গ্রিন কার্ড, নির্দিষ্ট ভিসা বা যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের আবেদন পর্যালোচনার সময় কোনো আবেদনকারী সরকারি সুবিধার ওপর নির্ভরশীল হতে পারেন কি না, তা বিবেচনায় নেওয়ার ক্ষমতা ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের বাড়ানো হয়েছে। এর আওতায় মেডিকেইড, খাদ্য সহায়তা, আবাসন সহায়তা এবং শিশুদের স্বাস্থ্যবীমা কর্মসূচির মতো কিছু সরকারি সুবিধা বিবেচনায় আসতে পারে। রাজ্যগুলো বলছে, এতে বৈধভাবে এসব সুবিধা ব্যবহার করা অভিবাসী পরিবারগুলো গ্রিন কার্ডের আবেদন নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়তে পারে।    মামলাকারী রাজ্যগুলোর মধ্যে নিউইয়র্ক, ক্যালিফোর্নিয়া, ইলিনয়, নিউ জার্সি, ম্যাসাচুসেটস, মিশিগান, মিনেসোটা, ওয়াশিংটন, ভার্জিনিয়া, কলোরাডোসহ মোট ২২টি রাজ্য রয়েছে। তাঁদের সঙ্গে ডিস্ট্রিক্ট অব কলাম্বিয়াও যুক্ত হয়েছে। মামলাটি নিউইয়র্কের দক্ষিণাঞ্চলীয় ডিস্ট্রিক্টের ফেডারেল আদালতে করা হয়েছে। রাজ্যগুলোর অভিযোগ, নতুন নীতিটি ডিএইচএসের আইনগত ক্ষমতার সীমা ছাড়িয়ে গেছে এবং প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার নিয়মও লঙ্ঘন করেছে।    অন্যদিকে, নিউইয়র্ক সিটির নেতৃত্বে পৃথক একটি মামলায় শিকাগো, সিয়াটল, সান ফ্রান্সিসকো এবং কয়েকটি কাউন্টি ও স্থানীয় সরকার যুক্ত হয়েছে। স্থানীয় সরকারগুলোর দাবি, নতুন নীতির কারণে অভিবাসী পরিবারগুলো মেডিকেইড, খাদ্য সহায়তা বা অন্যান্য বৈধ সরকারি সুবিধা নেওয়া থেকে বিরত থাকতে পারে। এতে শুধু অভিবাসীদের নয়, এসব কর্মসূচি পরিচালনাকারী রাজ্য ও স্থানীয় সরকারের ওপরও আর্থিক ও প্রশাসনিক চাপ তৈরি হতে পারে বলে তারা আদালতে যুক্তি দিয়েছে।    ডিএইচএস অবশ্য নতুন নীতিকে অন্যভাবে ব্যাখ্যা করছে। ইউএস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন আইনে এমন ব্যক্তিদের গ্রিন কার্ড বা ভিসা দেওয়া থেকে বিরত থাকার বিধান রয়েছে, যারা ভবিষ্যতে সরকারের ওপর প্রধানত নির্ভরশীল হয়ে পড়তে পারেন। প্রশাসনের ভাষ্য অনুযায়ী, নতুন নিয়মের মাধ্যমে কর্মকর্তাদের কোনো আবেদনকারীর পরিস্থিতি কেস-বাই-কেস ভিত্তিতে মূল্যায়নের সুযোগ আরও বিস্তৃত করা হয়েছে।    নতুন নিয়মটি ২০১৯ সালে ট্রাম্প প্রশাসনের প্রথম মেয়াদে চালু করা অনুরূপ নীতির সঙ্গে মিল রয়েছে। পরে বাইডেন প্রশাসন সেই নীতি বাতিল করে ২০২২ সালে তুলনামূলকভাবে সীমিত একটি কাঠামো চালু করেছিল। ২০২৬ সালের জুলাইয়ে ডিএইচএস সেই ২০২২ সালের বিধান বাতিলের ঘোষণা দেয় এবং জানায়, নতুন নিয়ম ১৮ সেপ্টেম্বর কার্যকর হবে।    মামলার ফলে এখন ফেডারেল আদালতকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে, নতুন নীতিটি আইন অনুযায়ী বৈধভাবে কার্যকর করা হয়েছে কি না এবং তা সাময়িকভাবে আটকে দেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে কি না। আদালতের সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত ১৮ সেপ্টেম্বর নির্ধারিত কার্যকর তারিখ ঘিরে গ্রিন কার্ড ও সংশ্লিষ্ট ইমিগ্রেশন আবেদনকারীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। তবে নতুন নিয়মে সরকারি সুবিধা ব্যবহার করলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে কোনো ব্যক্তির গ্রিন কার্ড আবেদন বাতিল হবে, এমন সরল নিয়ম নয়; কর্মকর্তারা আবেদনকারীর সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনা করবেন।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

২০২৭ সালের ডাইভারসিটি ভিসা লটারি চালুর নির্দেশ দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল আদালত। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

যুক্তরাষ্ট্রের ২০২৭ সালের ডিভি লটারি চালুর নির্দেশ, ১ নভেম্বরের মধ্যে নিবন্ধন শুরু

অক্টোবর ১৯, ২০২৬ ১৪:০