যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতির কড়াকড়ির কারণে বাণিজ্যিক ট্রাকচালকদের লাইসেন্স হারানো বা কর্মক্ষেত্র ছাড়তে বাধ্য হওয়া চালকদের বিকল্প হিসেবে সামরিক ভেটেরানদের কাজে লাগানোর পরিকল্পনা বিবেচনা করছে হোয়াইট হাউস। প্রশাসনের লক্ষ্য, ট্রাকচালকের ঘাটতি কমিয়ে পণ্য পরিবহন খাত সচল রাখা। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের বরাতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হোয়াইট হাউস সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সঙ্গে আলোচনা করছে যাতে বাণিজ্যিক গাড়ি চালানোর অভিজ্ঞতা বা উপযুক্ত প্রশিক্ষণ থাকা সামরিক ভেটেরানদের ট্রাকচালক হিসেবে নিয়োগে উৎসাহিত করা যায়। পরিকল্পনাটি এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে এবং এ বিষয়ে চূড়ান্ত কোনো নীতি ঘোষণা করা হয়নি। সাম্প্রতিক সময়ে ট্রাকচালকদের জন্য ইংরেজি ভাষাজ্ঞান ও অন্যান্য ফেডারেল বিধি কঠোরভাবে প্রয়োগের ফলে কিছু অভিবাসী চালকের বাণিজ্যিক ড্রাইভিং লাইসেন্স নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে। এর প্রভাব পরিবহন খাতে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে সংশ্লিষ্ট মহলের একটি অংশ। হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তারা মনে করছেন, সামরিক বাহিনীতে ভারী যানবাহন পরিচালনার অভিজ্ঞতা থাকা অনেক ভেটেরান এই খাতে দক্ষ জনবল হিসেবে কাজ করতে পারবেন। তবে পরিবহন খাতের বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সামরিক অভিজ্ঞতা থাকলেও বেসামরিক ট্রাক পরিবহনের জন্য প্রয়োজনীয় লাইসেন্স, প্রশিক্ষণ ও নিয়ন্ত্রক শর্ত পূরণ করতে হবে। এদিকে, ট্রাকিং শিল্পের কিছু প্রতিনিধি ও শ্রমসংগঠন বলছে, শুধু নতুন চালক নিয়োগ নয়, বরং বিদ্যমান চালকদের ধরে রাখা, কর্মপরিবেশ উন্নত করা এবং প্রশিক্ষণ সম্প্রসারণের দিকেও সমান গুরুত্ব দেওয়া উচিত। পরিকল্পনাটি বাস্তবায়নের আগে সংশ্লিষ্ট সংস্থা, পরিবহন শিল্প এবং কংগ্রেসের সঙ্গে আরও আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল আপিল আদালত উচ্চ দক্ষতাসম্পন্ন বিদেশি কর্মীদের জন্য এইচ-১বি (H-1B) ভিসায় আরোপ করা ১ লাখ ডলারের অতিরিক্ত ফি পুনর্বহালের ট্রাম্প প্রশাসনের আবেদন খারিজ করে দিয়েছে। ফলে নিম্ন আদালতের যে আদেশে এই ফি কার্যকর হওয়া স্থগিত করা হয়েছিল, সেটিই আপাতত বহাল থাকছে। বোস্টনভিত্তিক ফার্স্ট ইউএস সার্কিট কোর্ট অব আপিলস গত ২৪ জুলাই দেওয়া এক আদেশে জানায়, ট্রাম্প প্রশাসন আপিলে সফল হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে এমন পর্যাপ্ত আইনি ভিত্তি দেখাতে পারেনি। তাই নিম্ন আদালতের রায় স্থগিত রাখার আবেদন গ্রহণ করা হচ্ছে না। এর আগে গত ৮ জুন ম্যাসাচুসেটসের ফেডারেল জেলা আদালতের বিচারক লিও সোরোকিন রায় দেন, কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া প্রেসিডেন্টের ঘোষণার মাধ্যমে ১ লাখ ডলারের এই ফি আরোপ করা সাংবিধানিক ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করেছে। আদালতের মতে, এটি কার্যত একটি কর, যা আরোপের ক্ষমতা কংগ্রেসের হাতে। তবে ট্রাম্প প্রশাসনের আইনজীবীরা আদালতে যুক্তি দেন, যুক্তরাষ্ট্রের বৈদেশিক বাণিজ্য ও অভিবাসনসংক্রান্ত প্রেসিডেন্টের সাংবিধানিক ক্ষমতার আওতায় এই ফি আরোপ করা হয়েছে। তাদের দাবি ছিল, এইচ-১বি কর্মসূচির অপব্যবহার ঠেকানো এবং মার্কিন কর্মীদের কর্মসংস্থান রক্ষার স্বার্থে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। কিন্তু আপিল আদালত বলেছে, এ পর্যায়ে প্রশাসন সেই যুক্তির পক্ষে যথেষ্ট আইনি ভিত্তি উপস্থাপন করতে পারেনি। এইচ-১বি ভিসা কর্মসূচির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান বিশেষায়িত জ্ঞান ও অন্তত স্নাতক ডিগ্রিধারী বিদেশি পেশাজীবীদের নির্দিষ্ট সময়ের জন্য নিয়োগ দিতে পারে। প্রযুক্তি, স্বাস্থ্যসেবা, প্রকৌশল, গবেষণা এবং উচ্চশিক্ষা খাতে এই ভিসার ব্যবহার সবচেয়ে বেশি। প্রতি বছর এ কর্মসূচির আওতায় ৬৫ হাজার সাধারণ ভিসা এবং উচ্চতর ডিগ্রিধারীদের জন্য অতিরিক্ত ২০ হাজার ভিসা দেওয়া হয়। ট্রাম্প প্রশাসন ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে এক ঘোষণার মাধ্যমে নতুন এইচ-১বি আবেদনকারীদের জন্য এককালীন ১ লাখ ডলারের ফি নির্ধারণ করে। এর আগে আবেদনকারীর ধরন ও অন্যান্য বিষয়ের ওপর নির্ভর করে নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানগুলো সাধারণত ২ হাজার থেকে ৫ হাজার ডলার পর্যন্ত বিভিন্ন সরকারি ফি পরিশোধ করত। নতুন নীতিতে সেই ব্যয় কয়েক গুণ বেড়ে যায়। প্রশাসনের দাবি ছিল, কিছু প্রতিষ্ঠান তুলনামূলক কম বেতনে বিদেশি কর্মী নিয়োগের মাধ্যমে মার্কিন কর্মীদের প্রতিস্থাপন করছে। এ ধরনের অপব্যবহার ঠেকানো এবং দেশীয় শ্রমবাজার সুরক্ষার লক্ষ্যেই উচ্চ ফি আরোপ করা হয়। তবে সমালোচকদের মতে, এত বড় অঙ্কের ফি প্রযুক্তি, স্বাস্থ্যসেবা ও গবেষণাসহ বিভিন্ন খাতে দক্ষ কর্মী নিয়োগকে কঠিন করে তুলবে। এই নীতির বিরুদ্ধে ক্যালিফোর্নিয়াসহ ২০টি অঙ্গরাজ্যের অ্যাটর্নি জেনারেল মামলা করেন। তাদের অভিযোগ, কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া এত বড় অঙ্কের অর্থ আদায়ের ক্ষমতা প্রশাসনের নেই। পাশাপাশি তারা দাবি করেন, নতুন ফি চালুর ক্ষেত্রে প্রশাসনিক আইন অনুযায়ী বাধ্যতামূলক বিধি প্রণয়নের প্রক্রিয়াও অনুসরণ করা হয়নি। সর্বশেষ আপিল আদালতের আদেশের ফলে ১ লাখ ডলারের এই ফি আপাতত কার্যকর করা যাবে না। তবে মামলার মূল আপিলের শুনানি এখনো বাকি রয়েছে। ফলে ভবিষ্যতে উচ্চতর আদালতের রায়ের ওপর এই নীতির চূড়ান্ত পরিণতি নির্ভর করবে।
যুক্তরাষ্ট্রে সাধারণ মানুষের জন্ নতুন গাড়ির দাম কমাতে এবং ক্রেতাদের পছন্দের স্বাধীনতা বাড়ানোর লক্ষ্য নিয়ে "ফ্রিডম মিনস অ্যাফোর্ডেবল কারস" নামে নতুন একটি উদ্যোগের প্রস্তাব দিয়েছেন দেশটির পরিবহনমন্ত্রী শন ডাফি। ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, এই উদ্যোগের মাধ্যমে নতুন গাড়ির গড় দাম কমবে, গাড়ি কেনা সহজ হবে এবং দেশীয় অটোমোবাইল শিল্প আরও শক্তিশালী হবে। প্রস্তাব অনুযায়ী, বাইডেন আমলে নির্ধারিত জ্বালানি-সাশ্রয়ী মানদণ্ড শিথিল করা হবে। ট্রাম্প প্রশাসনের অভিযোগ, আগের নিয়মগুলো এতটাই কঠোর ছিল যে নির্মাতারা কার্যত বৈদ্যুতিক গাড়ি উৎপাদনের দিকে বাধ্য হচ্ছিল, ফলে নতুন গাড়ির দাম বেড়েছে এবং ক্রেতাদের বিকল্প কমে গেছে। শন ডাফির ভাষ্য, নতুন নীতির ফলে গাড়ি নির্মাতারা বাজারের চাহিদা অনুযায়ী বেশি সংখ্যক পেট্রোল, হাইব্রিড বা অন্যান্য ধরনের গাড়ি তৈরি করতে পারবেন। এতে একটি নতুন গাড়ির গড় দাম প্রায় ১ হাজার ডলার পর্যন্ত কমতে পারে বলে ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি। একই সঙ্গে তাদের হিসাব অনুযায়ী, আগামী পাঁচ বছরে মার্কিন ভোক্তারা সম্মিলিতভাবে প্রায় ১০৯ বিলিয়ন ডলার সাশ্রয় করতে পারেন। এই উদ্যোগের আরেকটি লক্ষ্য হলো যুক্তরাষ্ট্রের অটোমোবাইল শিল্পে বিনিয়োগ ও উৎপাদন বাড়ানো। ট্রাম্প প্রশাসনের মতে, কম দামে নতুন গাড়ি কিনতে পারলে মানুষ পুরোনো গাড়ির পরিবর্তে আধুনিক ও নিরাপত্তা-সুবিধাসম্পন্ন গাড়ি ব্যবহার করবেন, যা সড়ক দুর্ঘটনায় হতাহতও কমাতে পারে। ন্যাশনাল হাইওয়ে ট্রাফিক সেফটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের প্রাথমিক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, এই পরিবর্তনের ফলে ২০৫০ সালের মধ্যে ১,৫০০-এর বেশি প্রাণ রক্ষা এবং প্রায় আড়াই লাখ গুরুতর আহতের ঘটনা প্রতিরোধ করা সম্ভব হতে পারে। তবে প্রস্তাবটি ঘিরে বিতর্কও শুরু হয়েছে। পরিবেশবাদী সংগঠনগুলোর অভিযোগ, জ্বালানি-সাশ্রয়ী মানদণ্ড শিথিল করলে গাড়ির জ্বালানি খরচ ও কার্বন নিঃসরণ বাড়বে। তাদের মতে, এতে দীর্ঘমেয়াদে ভোক্তাদের জ্বালানির পেছনে আরও বেশি অর্থ ব্যয় করতে হতে পারে এবং জলবায়ুর ওপরও নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। অন্যদিকে, ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, এটি কোনো নির্দিষ্ট ধরনের গাড়ি চাপিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নয়; বরং ক্রেতাদের হাতে পছন্দের স্বাধীনতা ফিরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা। প্রস্তাবটি এখন আনুষ্ঠানিক মতামত গ্রহণের পর্যায়ে রয়েছে। জনমত ও সংশ্লিষ্ট পক্ষের মতামত পর্যালোচনার পর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
যুক্তরাষ্ট্রে কৃষ্ণাঙ্গ, অভিবাসী, এলজিবিটিকিউ সম্প্রদায় এবং অন্যান্য প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অধিকার ও রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব দুর্বল করতে ট্রাম্প প্রশাসন বিভাজনমূলক নীতি অনুসরণ করছে এমন অভিযোগ তুলেছেন ফ্লোরিডার ডেমোক্র্যাটিক আইনপ্রণেতা অ্যাঞ্জি নিক্সন। নিউজউইকে প্রকাশিত এক মতামত নিবন্ধে তিনি দাবি করেন, প্রশাসনের বক্তব্য ও কর্মকাণ্ড দেশজুড়ে অবিশ্বাস, বৈষম্য এবং সহিংসতার পরিবেশকে আরও উসকে দিচ্ছে। তবে লেখাটি কোনো নিরপেক্ষ সংবাদ প্রতিবেদন নয়। নিউজউইক এটিকে স্পষ্টভাবে মতামত হিসেবে প্রকাশ করেছে এবং এতে উত্থাপিত বক্তব্য লেখকের নিজস্ব রাজনৈতিক মূল্যায়ন। নিবন্ধে ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিস্তারিত কোনো প্রতিক্রিয়াও যুক্ত করা হয়নি। নিক্সনের বক্তব্যের প্রধান কেন্দ্রবিন্দু ছিল অভিবাসন নীতি। তার অভিযোগ, অভিবাসন আইন প্রয়োগের নামে বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া, ব্যক্তিস্বাধীনতা ও নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়ছে। বিশেষ করে টেম্পোরারি প্রোটেক্টেড স্ট্যাটাস বা টিপিএসের আওতায় থাকা পরিবারগুলোর ভবিষ্যৎ নিয়ে তৈরি অনিশ্চয়তার কথা তুলে ধরেন তিনি। টিপিএস হলো যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত নির্দিষ্ট দেশের নাগরিকদের জন্য দেওয়া সাময়িক সুরক্ষা। যুদ্ধ, প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা অস্বাভাবিক পরিস্থিতির কারণে নিজ দেশে নিরাপদে ফিরতে না পারা ব্যক্তিরা এর আওতায় নির্দিষ্ট সময় যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস ও কাজের অনুমতি পান। ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন নীতির কারণে ফ্লোরিডাসহ বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে বহু পরিবার অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে বলে দাবি করেন নিক্সন। সাম্প্রতিক কয়েকটি অভিবাসন অভিযান ও মৃত্যুর ঘটনাও মতামত নিবন্ধে উল্লেখ করেছেন এই আইনপ্রণেতা। তার মতে, এসব ঘটনা শুধু আইন প্রয়োগের প্রশ্ন নয়; বরং অভিবাসী পরিবারের নিরাপত্তা, জীবিকা এবং সমাজে তাদের অবস্থানের ওপরও গভীর প্রভাব ফেলছে। তবে উল্লিখিত প্রতিটি ঘটনার দায় ও পরিস্থিতি পৃথক তদন্তের বিষয়। অভিবাসনের পাশাপাশি ভোটাধিকার ও নির্বাচনী এলাকার সীমানা পুনর্নির্ধারণ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন নিক্সন। তার অভিযোগ, রাজনৈতিক সুবিধা ধরে রাখতে এমনভাবে নির্বাচনী মানচিত্র তৈরি করা হচ্ছে, যাতে কৃষ্ণাঙ্গসহ কিছু জনগোষ্ঠীর ভোটের প্রভাব কমে যায়। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এতে ভোটাররা প্রতিনিধি বেছে নেওয়ার পরিবর্তে ক্ষমতাসীনরাই কার্যত নিজেদের সুবিধামতো ভোটার বেছে নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। ট্রাম্পের পাশাপাশি কংগ্রেসের সদস্যদেরও সমালোচনা করেছেন নিক্সন। তার মতে, সম্ভাব্য সরকারি ক্ষমতার অপব্যবহারের বিরুদ্ধে শুধু বক্তব্য, চিঠি কিংবা আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ যথেষ্ট নয়। নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের আরও কার্যকরভাবে নাগরিকদের অধিকার রক্ষায় এগিয়ে আসা প্রয়োজন। নিক্সনের অভিযোগ, কিছু আইনপ্রণেতা প্রশাসনের কর্মকাণ্ডকে সমর্থন করছেন, আবার কেউ আপত্তি জানালেও কার্যকর প্রতিরোধ গড়ে তুলছেন না। তার দৃষ্টিতে, এই নীরবতা বা নিষ্ক্রিয়তা বিতর্কিত কর্মকাণ্ডকে স্বাভাবিক করে তুলছে। অন্যদিকে ট্রাম্প প্রশাসন ও তার সমর্থকেরা অভিবাসন বিষয়ে কঠোর অবস্থানকে আইনশৃঙ্খলা ও সীমান্ত নিরাপত্তার অংশ হিসেবে তুলে ধরে আসছেন। ভোট ও নির্বাচনী ব্যবস্থায় পরিবর্তনের পক্ষেও নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা এবং প্রচলিত আইন অনুসরণের যুক্তি দেওয়া হয়। তবে নিক্সনের মতামত নিবন্ধে এই পাল্টা অবস্থান বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়নি। নিবন্ধের শেষাংশে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর প্রতি নিজেদের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের কাছে আরও বেশি জবাবদিহি দাবি করার আহ্বান জানান নিক্সন। তার বক্তব্য, নেতারা যদি সত্যিই মনে করেন নাগরিকদের অধিকার ও নিরাপত্তা হুমকির মুখে, তাহলে শুধু উদ্বেগ প্রকাশ নয় সেই ক্ষতি ঠেকাতে দৃশ্যমান পদক্ষেপও নিতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প প্রশাসন শেষ পর্যন্ত পেনসিলভানিয়া বিশ্ববিদ্যালয় (পেন)-এর ইহুদি কর্মীদের নাম ও ব্যক্তিগত যোগাযোগের তথ্য চাওয়ার বিতর্কিত দাবি প্রত্যাহার করেছে। আদালতে দাখিল করা নতুন নথিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। তবে প্রশাসন স্পষ্ট করেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ে ইহুদিবিদ্বেষের অভিযোগ নিয়ে চলমান ফেডারেল তদন্ত বন্ধ হচ্ছে না; কেবল বিতর্কিত সমনটি আর কার্যকর করা হবে না। মামলাটি পরিচালনা করছে যুক্তরাষ্ট্রের সমান কর্মসংস্থান সুযোগ কমিশন (ইইওসি)। সংস্থাটি আগে পেন বিশ্ববিদ্যালয়কে ইহুদি কর্মীদের নাম, যোগাযোগের তথ্য এবং কিছু ইহুদি-সংশ্লিষ্ট সংগঠনের সদস্যদের তথ্য দিতে নির্দেশ দিয়েছিল। বিশ্ববিদ্যালয় ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও সাংবিধানিক অধিকার লঙ্ঘনের আশঙ্কা তুলে সেই নির্দেশের বিরুদ্ধে আদালতে আপিল করে। নতুন সমঝোতা অনুযায়ী, ইইওসি ওই সমন আর কার্যকর করবে না। এর বিনিময়ে পেন বিশ্ববিদ্যালয়ও আদালতে করা আপিল প্রত্যাহার করবে। বিশ্ববিদ্যালয় এক বিবৃতিতে জানায়, তাদের কোনো কর্মীর ব্যক্তিগত যোগাযোগের তথ্য সরকারের কাছে হস্তান্তর করা হয়নি এবং তারা কর্মীদের অধিকার রক্ষা করতে সক্ষম হয়েছে। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটি ইহুদিবিদ্বেষসহ সব ধরনের বৈষম্যের বিরুদ্ধে অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছে। এই বিরোধের সূত্রপাত হয় বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ইহুদিবিদ্বেষের অভিযোগ তদন্তকে কেন্দ্র করে। ফেডারেল কর্তৃপক্ষের দাবি ছিল, সম্ভাব্য ভুক্তভোগীদের সঙ্গে যোগাযোগ এবং অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য এসব তথ্য প্রয়োজন। অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয় ও বিভিন্ন নাগরিক অধিকার সংগঠন যুক্তি দেয়, ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে কর্মীদের তালিকা চাওয়া ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও সাংবিধানিক অধিকারের জন্য উদ্বেগজনক নজির তৈরি করতে পারে। এর আগে এক ফেডারেল বিচারক বিশ্ববিদ্যালয়কে তথ্য দিতে নির্দেশ দিলেও আপিলের সুযোগ দিতে সেই আদেশ সাময়িক স্থগিত করেছিলেন। সর্বশেষ সমঝোতার ফলে সেই আইনি বিরোধের অবসান ঘটলেও, পেন বিশ্ববিদ্যালয়ে ইহুদিবিদ্বেষের অভিযোগ নিয়ে ইইওসির মূল তদন্ত এখনও চলমান রয়েছে এবং ভবিষ্যতে প্রয়োজনে সংস্থাটি অন্য আইনি পদক্ষেপ নিতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক বিবেচনায় জ্বালানি খাতের অনুদান বাতিলের অভিযোগ নতুন করে আলোচনায় এসেছে। আদালতে জমা দেওয়া এক নথিতে মার্কিন জ্বালানি বিভাগ (ডিওই) স্বীকার করেছে, ২০২৫ সালে বাতিল করা অধিকাংশ অনুদান এমন অঙ্গরাজ্যগুলোর প্রকল্পে দেওয়া হয়েছিল, যেগুলো ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে কমলা হ্যারিসকে সমর্থন করেছিল। আদালতের নথি অনুযায়ী, প্রথমে প্রায় ৬২৪টি জ্বালানি প্রকল্পের অনুদান বাতিলের জন্য পর্যালোচনায় রাখা হয়েছিল। পরে এর মধ্যে ২৮৪টি অনুদান বাতিল করা হয়। জ্বালানি বিভাগের আইনজীবীরা আদালতে জানান, একটি ব্যতিক্রম ছাড়া বাতিল হওয়া প্রায় সব অনুদানের প্রকল্পই এমন অঙ্গরাজ্যে ছিল, যেগুলো হ্যারিসকে ভোট দিয়েছিল এবং যাদের প্রতিনিধি ছিলেন ডেমোক্র্যাট-সমর্থিত সিনেটর। একই তালিকায় থাকা রিপাবলিকান-সমর্থিত অঙ্গরাজ্যগুলোর শত শত অনুদান অবশ্য বাতিল করা হয়নি। এতে করে ট্রাম্প প্রশাসনের আগের অবস্থানের সঙ্গে নতুন আইনি বক্তব্যের স্পষ্ট অসঙ্গতি দেখা দিয়েছে। আগে জ্বালানি বিভাগের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, প্রকল্পগুলোর অর্থনৈতিক কার্যকারিতা, ব্যয় সাশ্রয় এবং নীতিগত অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে অনুদান বাতিল করা হয়েছে। কিন্তু আদালতে জমা দেওয়া নথিতে বলা হয়েছে, কোন অনুদান বাতিল হবে তা নির্ধারণে প্রকল্পের কর্মদক্ষতা, আইনি ভিত্তি বা ব্যয়-সংক্রান্ত বিষয় বিবেচনায় নেওয়া হয়নি। বাতিল হওয়া এসব অনুদানের মোট মূল্য প্রায় ৭ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলার। এগুলোর মধ্যে ছিল বিদ্যুৎ গ্রিড আধুনিকায়ন, হাইড্রোজেন জ্বালানি, কার্বন সংরক্ষণ, ব্যাটারি উৎপাদন এবং অন্যান্য পরিচ্ছন্ন জ্বালানি প্রকল্প। এসব প্রকল্পের অর্থায়ন বন্ধ হওয়ায় একাধিক বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও অঙ্গরাজ্য আদালতের শরণাপন্ন হয়েছে। ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতারা এ ঘটনাকে ফেডারেল অর্থায়নকে রাজনৈতিক প্রতিশোধের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের অভিযোগ বলে আখ্যা দিয়েছেন। তাদের দাবি, এতে কর্মসংস্থান, পরিচ্ছন্ন জ্বালানি খাতের বিনিয়োগ এবং স্থানীয় অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অন্যদিকে জ্বালানি বিভাগ বলছে, তাদের অবস্থানের মধ্যে কোনো সাংঘর্ষিক বিষয় নেই এবং আদালতে দেওয়া বক্তব্যের ব্যাখ্যা ভিন্নভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে। এদিকে বিষয়টি নিয়ে মার্কিন জ্বালানি বিভাগের অভ্যন্তরীণ পরিদর্শক (ইনস্পেক্টর জেনারেল) তদন্ত শুরু করেছেন। তদন্তে অনুদান বাতিলের সিদ্ধান্ত আইনসম্মত ছিল কি না এবং ফেডারেল অর্থ বরাদ্দে রাজনৈতিক বিবেচনা প্রভাব ফেলেছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে।
ইরানের সঙ্গে চলমান মার্কিন ও ইসরায়েলি যৌথ সামরিক অভিযানে নিহত ৪ মার্কিন সেনা সদস্যের নাম তাদের দাপ্তরিক ক্যাজুয়ালটি বা হতাহতের তালিকা থেকে বাদ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বিভাগ পেন্টাগন। গত সপ্তাহে শেষ হওয়া সংঘাতে ওই সেনারা প্রাণ হারিয়েছিলেন এবং গত বুধবার স্বশরীরে ডোভার এয়ারফোর্স বেসে তাদের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনা হয়। কিন্তু আশ্চর্যজনকভাবে পেন্টাগনের ওয়েবসাইটে ওই চারজনের নাম তালিকাভুক্ত না করায় মার্কিন রাজনীতি ও সংবাদমাধ্যমে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। পেন্টাগনের ডিফেন্স ক্যাজুয়ালটি অ্যানালিসিস সিস্টেমের (ডিসিএএস) ওয়েবসাইট পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, গত বুধবার তালিকাটি হালনাগাদ করার পরও 'অপারেশন এপিক ফিউরি'-তে নিহত মোট মার্কিন সেনার সংখ্যা ১৪ তে অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। একই ওয়েবসাইটের অপর একটি নিহতদের নামের তালিকায় বর্তমানে মাত্র ১৩ জন সেনা সদস্যের নাম প্রকাশ করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বুধবার পেন্টাগনের ওয়েবসাইটে ইরান যুদ্ধে নিহত মার্কিন সেনার সংখ্যা ১৮ জন দেখানো হচ্ছিল। তবে বৃহস্পতিবার সেই সংখ্যা কমিয়ে ১৪ জন করে পেন্টাগন। জর্ডানে মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের রকেট ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত তিন সেনা এবং ইরাকের এরবিল বিমান ঘাঁটিতে ইরানি ড্রোনের নিয়ন্ত্রিত বিস্ফোরণের সময় নিহত চতুর্থ সেনার নাম তালিকা থেকে সরিয়ে নেওয়ায় এই বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তিনজন জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তা নিউ ইয়র্ক টাইমসকে জানিয়েছেন, সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষিত যুদ্ধবিরতির পর এই চার সেনার মৃত্যু হওয়ায় ট্রাম্প প্রশাসন তাদের মূল তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। গত এপ্রিলে ট্রাম্প আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেছিলেন এবং জুন মাসে চুক্তি স্বাক্ষর হলেও পরবর্তীতে দুই পক্ষই পুনর্নবীকরণ যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে। এদিকে রিপাবলিকান কংগ্রেস সদস্য থমাস ম্যাসি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ট্রাম্প প্রশাসনের তীব্র সমালোচনা করে লিখেছেন, পেন্টাগন ভান করছে যেন এখানে সংক্ষিপ্ত একটি যুদ্ধবিরতি দিয়ে দুটি আলাদা ইরান যুদ্ধ ঘটেছে। কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া ৯০ দিনের বেশি যুদ্ধ চালিয়ে প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ আইন ভঙ্গ করছেন এবং তাকে জবাবদিহিতার আওতায় আনা উচিত বলে দাবি করেন ম্যাসি। তবে পেন্টাগনের মুখপাত্র শন পার্নেল তথ্য গোপনে বা বিকৃতির অভিযোগ সম্পূর্ণ প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি জানান, ওয়েবসাইটের ডেটা প্রক্রিয়াজাতকরণে সাময়িক যান্ত্রিক ত্রুটি বা বিঘ্ন ঘটার কারণে এই অসঙ্গতি তৈরি হয়েছিল, যা দ্রুত সমাধান করা হচ্ছে। উল্লেখ্য, পেন্টাগনের ওয়েবসাইট থেকে নাম সরানোর ঠিক একদিন আগেই সাবেক প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ডেলাওয়্যারের ডোভার এয়ারফোর্স বেসে উপস্থিত হয়ে দেশে ফেরত আনা ওই চার সেনার কফিনে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছিলেন। এর পরপরই ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি চার্ট প্রকাশ করে দাবি করেন যে, ভিয়েতনাম, কোরিয়া কিংবা আফগানিস্তানের দীর্ঘদিনের সংঘাতের তুলনায় তার মেয়াদে ইরান যুদ্ধে প্রাণহানির সংখ্যা অত্যন্ত কম। ভিয়েতনামে ২ লাখ মার্কিন সেনা মারা যাওয়ার দাবি করেন ট্রাম্প, যদিও সরকারি হিসাবে সেই সংখ্যা ছিল ৫৮,২২০ জন। ইরান যুদ্ধের সার্বিক সামরিক অভিযানের স্বচ্ছতা এবং নিহতদের প্রকৃত সংখ্যা প্রকাশ নিয়ে পেন্টাগন ও হোয়াইট হাউসের ভূমিকা এখন যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে বড় ধরনের আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রে অনিয়মিত ও অবৈধভাবে বসবাসকারী অভিবাসীদের গ্রেফতারে নতুন রেকর্ড তৈরি হয়েছে। দেশটির অভিবাসন ও শুল্ক এনফোর্সমেন্ট বা আইসিই গঠিত হওয়ার পর গত ২৩ বছরের ইতিহাসে জুনে সর্বোচ্চসংখ্যক মানুষকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। তবে জুলাই মাসে সেই রেকর্ডও ভেঙে গেছে বলে জানিয়েছেন হোয়াইট হাউসের সীমান্তবিষয়ক প্রধান টম হোমান। টেলিভিশন নেটওয়ার্ক নিউজনেশনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এই তথ্য নিশ্চিত করেন। টম হোমান জানান, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের সীমান্ত ও অভিবাসনবিষয়ক সংস্থাগুলো পূর্ণ উদ্যমে অভিযান পরিচালনা করছে। জুনে আইসিই-এর ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি গ্রেফতারের ঘটনা ঘটেছিল, আর জুলাইয়ে অভিযানের গতি সেই পরিসংখ্যানকেও ছাড়িয়ে গেছে। প্রতিদিন গড়ে দেড় হাজারের বেশি মানুষকে আটক করা হচ্ছে। সাবেক প্রশাসনের ঢিলেঢালা নীতির কারণে কোটি কোটি লোক অনিয়ন্ত্রিতভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের সুযোগ পেয়েছিল বলে তিনি মন্তব্য করেন এবং সেই পরিস্থিতি সামাল দিতেই এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে উল্লেখ করেন। আইসিই-এর প্রকাশিত সাম্প্রতিক তথ্যে দেখা যায়, চলতি ২০২৬ অর্থবছরে অক্টোবর থেকে জুলাইয়ের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত ৩ লাখ ৫৬ হাজারের বেশি মানুষকে নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। পরিসংখ্যান হিসাব করলে প্রতিদিন গড়ে অন্তত ১,২৫৫ জন মানুষকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বের করে দেওয়া হচ্ছে। অন্যদিকে, জুলাই মাসে আইসিই এবং বর্ডার প্যাট্রোলের যৌথ অভিযানে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১,৫৯৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে, যা জুনে ছিল প্রতিদিন গড়ে ১,৪৩৭ জন। যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের এক মুখপাত্র আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছেন, দেশের ভেতরে অবৈধভাবে বসবাসরত অপরাধী ও বিপজ্জনক ব্যক্তিদের গ্রেফতার ও ফেরত পাঠানোর এই ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকবে। ইতোমধ্যে ৩০ লাখের বেশি অবৈধভাবে অবস্থানকারী মানুষ যুক্তরাষ্ট্র ছেড়ে গেছেন উল্লেখ করে তিনি সতর্ক করে বলেন, অবৈধভাবে থাকা ব্যক্তিদের খুঁজে বের করে আটক ও ফেরত পাঠাতে প্রশাসন অঙ্গীকারবদ্ধ। তবে অভিবাসন সংস্থার এই ব্যাপক অভিযানকে কেন্দ্র করে বিতর্ক ও অসন্তোষও দেখা দিয়েছে। চলতি মাসের শুরুর দিকে মেইন এবং টেক্সাসের হিউস্টনে অভিবাসন কর্মকর্তাদের গুলিবর্ষণে প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। এর প্রতিবাদে স্থানীয় বাসিন্দারা বিক্ষোভে নামেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সাময়িকভাবে গাড়ি তল্লাশি ও থামানো বন্ধের চিন্তা করা হলেও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সেই প্রস্তাব নাকচ করে দেন। ট্রাম্প স্পষ্ট জানান, এই ধরনের অভিযান বন্ধ করলে অপরাধী এবং রাজনৈতিক প্রতিপক্ষরা সুবিধা পাবে, তাই গাড়ি থামিয়ে তল্লাশি অব্যাহত থাকবে। পরবর্তীতে বিতর্ক এড়াতে এবং স্বচ্ছতা বজায় রাখতে অভিযানে নিয়োজিত কর্মকর্তাদের জন্য শরীরে ক্যামেরা পরা বাধ্যতামূলক করার কথা জানানো হয়। ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে টম হোমান বলেন, বডি ক্যামেরা ব্যবহার করলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিরপেক্ষতা প্রমাণ করা সহজ হয় এবং অভিযানের সঠিক চিত্র মার্কিন জনগণের সামনে তুলে ধরা সম্ভব হয়। উল্লেখ্য, ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের সন্ত্রাসী হামলার পর ২০০৩ সালের মার্চে গঠিত হয় এই অভিবাসন ও শুল্ক এনফোর্সমেন্ট বা আইসিই। ২০২৪ সালের নির্বাচনী প্রচারাভিযানে ডোনাল্ড ট্রাম্প অবৈধ অভিবাসন রোধ এবং বড় আকারের ফেরত পাঠানোর যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, প্রশাসনের নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে এখন সেটিই বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
ক্যালিফোর্নিয়া ও মিনেসোটার জন্য নির্ধারিত ১ বিলিয়ন ডলারের বেশি ফেডারেল মেডিকেইড অর্থ সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। প্রশাসনের দাবি, সম্ভাব্য জালিয়াতি ও অনিয়মের অভিযোগ যাচাই না হওয়া পর্যন্ত এই অর্থ ছাড়া হবে না। তবে দুই অঙ্গরাজ্যের কর্মকর্তারা এ সিদ্ধান্তকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে সমালোচনা করেছেন। মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগ (এইচএইচএস) এবং সেন্টারস ফর মেডিকেয়ার অ্যান্ড মেডিকেইড সার্ভিসেস (সিএমএস) জানায়, ক্যালিফোর্নিয়ার জন্য ৮৬৭ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলার এবং মিনেসোটার জন্য ১৯৯ মিলিয়ন ডলারের ফেডারেল মেডিকেইড অর্থ আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে। প্রশাসনের ভাষ্য অনুযায়ী, এটি স্থায়ী অর্থ কর্তন নয়; সংশ্লিষ্ট দাবির বৈধতা প্রমাণে প্রয়োজনীয় নথি জমা দিলে অর্থ ছেড়ে দেওয়া হবে। স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগের সচিব রবার্ট এফ. কেনেডি জুনিয়র বলেন, মেডিকেইড কর্মসূচির অর্থ কেবল বৈধ দাবির ক্ষেত্রেই ব্যয় হওয়া উচিত। তাঁর দাবি, করদাতাদের অর্থ সুরক্ষিত রাখতে জালিয়াতি, অপচয় ও অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। সিএমএসের প্রশাসক ড. মেহমেত ওজও বলেন, অর্থ বিতরণের পর তা উদ্ধারের চেয়ে আগে থেকেই সন্দেহজনক দাবিগুলো যাচাই করাই সংস্থার নতুন কৌশল। প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, ক্যালিফোর্নিয়ায় বিশেষ করে ইন-হোম কেয়ার কর্মসূচির ব্যয়ের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি এবং মিনেসোটার ১৪টি উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ মেডিকেইড সেবা খাতে কিছু দাবির বিষয়ে অতিরিক্ত পর্যালোচনার প্রয়োজন দেখা দিয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত ফেডারেল সরকার নির্দিষ্ট কোনো জালিয়াতির প্রমাণ প্রকাশ করেনি। এই সিদ্ধান্তের সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়তে পারে ক্যালিফোর্নিয়ার ইন-হোম সাপোর্টিভ সার্ভিসেস (আইএইচএসএস) কর্মসূচির ওপর, যার মাধ্যমে ৯ লাখের বেশি বয়স্ক, প্রতিবন্ধী এবং গুরুতর অসুস্থ ব্যক্তি নিজ বাড়িতে পরিচর্যা সেবা পান। অর্থ দীর্ঘ সময় স্থগিত থাকলে সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান ও পরিচর্যাকারীদের অর্থপ্রদান বিলম্বিত হওয়ার পাশাপাশি রাজ্য সরকারকে বিকল্প অর্থায়নের ব্যবস্থা করতে হতে পারে। তবে বর্তমানে মেডিকেইড সুবিধাভোগীদের যোগ্যতা বা স্বাস্থ্যসেবা বন্ধ করা হয়নি। অন্যদিকে মিনেসোটায় স্থগিত হওয়া অর্থ ১৪টি উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ মেডিকেইড সেবা খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হলেও কতজন সুবিধাভোগী সরাসরি প্রভাবিত হতে পারেন, সে সংখ্যা এখনো প্রকাশ করেনি ফেডারেল সরকার বা অঙ্গরাজ্য কর্তৃপক্ষ। ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং মিনেসোটার গভর্নর টিম ওয়ালজ এ পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করেছেন। তাঁদের দাবি, প্রশাসন কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ ছাড়াই অর্থ স্থগিত করেছে এবং এর ফলে বয়স্ক, প্রতিবন্ধী ও নিম্নআয়ের মানুষের স্বাস্থ্যসেবা ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। মেডিকেইড যুক্তরাষ্ট্রের নিম্নআয়ের পরিবার, বয়স্ক ব্যক্তি, প্রতিবন্ধী এবং কিছু দীর্ঘমেয়াদি রোগীর জন্য পরিচালিত যৌথ ফেডারেল-অঙ্গরাজ্য স্বাস্থ্যবিমা কর্মসূচি। সাম্প্রতিক এই অর্থ স্থগিতের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ওয়াশিংটনে স্বাস্থ্যনীতি, ব্যয় নিয়ন্ত্রণ এবং ফেডারেল-অঙ্গরাজ্য সম্পর্ক নিয়ে নতুন রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের ইরান যুদ্ধের জন্য অতিরিক্ত প্রতিরক্ষা তহবিলের প্রস্তাবের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন অ্যারিজোনার ডেমোক্র্যাট কংগ্রেসওম্যান ইয়াসামিন আনসারি। তিনি বলেছেন, নতুন সামরিক অর্থায়নের প্রস্তাব এলে ডেমোক্র্যাটদের জবাব হবে “হেল নো” এবং তিনি ব্যক্তিগতভাবে এ যুদ্ধের জন্য “আর এক ডলারও” বরাদ্দের পক্ষে নন। ক্যাপিটল ভবনের সামনে সাংবাদিক স্কট ম্যাকফারলেনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আনসারি বলেন, “নতুন পেন্টাগন তহবিলের প্রস্তাবের জবাব হবে ‘হেল নো’। কোনো ডেমোক্র্যাট এই নীতিকে সমর্থন করবে না।” তিনি অভিযোগ করেন, ট্রাম্প প্রশাসন একাধিকবার যুদ্ধ শেষ হওয়া বা সমঝোতা আসন্ন বলে দাবি করলেও বাস্তবে সংঘাত অব্যাহত রয়েছে। একই সাক্ষাৎকারে তিনি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের মানসিক সক্ষমতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। তবে ট্রাম্পের ডিমেনশিয়া রয়েছে—এমন কোনো চিকিৎসাগত বা সরকারি প্রমাণ প্রকাশিত হয়নি। এ মন্তব্য আনসারির ব্যক্তিগত রাজনৈতিক মতামত। যুদ্ধের মানবিক মূল্য তুলে ধরে আনসারি বলেন, মার্কিন সেনারা এমন এক সংঘাতে জীবন ঝুঁকিতে ফেলছেন, যার উদ্দেশ্য তিনি স্পষ্টভাবে দেখতে পান না। তাই তিনি এ যুদ্ধের জন্য নতুন অর্থ বরাদ্দের বিরোধিতা করছেন। ইরান যুদ্ধকে কেন্দ্র করে কংগ্রেসে রাজনৈতিক উত্তেজনা ইতোমধ্যে বেড়েছে। গত সপ্তাহে ডেমোক্র্যাটরা ইরান যুদ্ধ নিয়ে আপত্তি জানিয়ে ১ দশমিক ১৫ ট্রিলিয়ন ডলারের বার্ষিক প্রতিরক্ষা নীতিমালা বিলের অগ্রগতি আটকে দেয়। ডেমোক্র্যাটদের অভিযোগ, কংগ্রেসের পর্যাপ্ত অনুমোদন ও সুস্পষ্ট কৌশল ছাড়াই ট্রাম্প প্রশাসন যুক্তরাষ্ট্রকে এই সংঘাতে জড়িয়েছে। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, প্রয়োজনীয় ৬০ ভোটের পরিবর্তে বিলটি ৫০–৪৬ ভোট পেয়ে প্রক্রিয়াগতভাবে আটকে যায়। এদিকে রিপাবলিকান-নিয়ন্ত্রিত প্রতিনিধি পরিষদের বাজেট কমিটি ট্রাম্প প্রশাসনের প্রস্তাবিত ৯৫ বিলিয়ন ডলারের নতুন ব্যয় পরিকল্পনা এগিয়ে নিয়েছে। এতে আগামী এক দশকে প্রতিরক্ষা ও গোয়েন্দা কার্যক্রমের জন্য ৭৩ বিলিয়ন ডলার অতিরিক্ত বরাদ্দের প্রস্তাব রয়েছে। পরিকল্পনাটি প্রতিনিধি পরিষদে ভোটের জন্য তোলা হতে পারে। নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করে আনসারি সম্প্রতি এক বিবৃতিতে বলেন, তিনি ২০২৬ অর্থবছরের ন্যাশনাল ডিফেন্স অথরাইজেশন অ্যাক্টের বিরুদ্ধেও ভোট দিয়েছেন। তাঁর ভাষায়, দেশের জাতীয় নিরাপত্তা জোরদারের প্রয়োজন থাকলেও তা যেন জনকল্যাণমূলক খাতের ব্যয় কমিয়ে বা ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে না হয়। ইরান যুদ্ধের ব্যয়, কৌশল এবং এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক বিতর্ক ক্রমেই তীব্র হচ্ছে। একদিকে ট্রাম্প প্রশাসন অতিরিক্ত প্রতিরক্ষা ব্যয়ের প্রয়োজনীয়তার কথা বলছে, অন্যদিকে বিরোধীরা যুদ্ধের মানবিক, অর্থনৈতিক ও সাংবিধানিক দিক নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন।
যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে শিক্ষার্থীদের লোন বা ঋণ খেলাপির সংখ্যা রেকর্ড মাত্রায় পৌঁছেছে। করোনা মহামারীর সময় দেওয়া দীর্ঘদিনের বিরতি শেষে কিস্তির মেয়াদ পুনরায় শুরু হওয়ার পর থেকে ঋণগ্রহীতারা তা পরিশোধ করতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন। বর্তমানে প্রায় ৯৫ লাখ মানুষ (যা মোট সরকারি স্টুডেন্ট লোন গ্রহীতার ৫ জনের মধ্যে ১ জন) খেলাপি হয়েছেন। অর্থাৎ তারা নয় মাসেরও বেশি সময় ধরে কিস্তি পরিশোধে পিছিয়ে আছেন। কয়েক মাস কিস্তি বাকি থাকলে ক্রেডিট স্কোর ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তবে খেলাপি হলে বেতন বা সোশ্যাল সিকিউরিটি ভাতা কেটে নেওয়ার মতো গুরুতর পরিণতি হতে পারে। আপাতত ট্রাম্প প্রশাসন এ ধরনের বাধ্যতামূলক অর্থ আদায় প্রক্রিয়া স্থগিত রেখেছে। প্রোটেক্ট বরোয়ার্স সংস্থার পলিসি ডিরেক্টর আইসা কানচোলা বানিয়েন জানান, অন্যান্য জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির পাশাপাশি স্টুডেন্ট লোনের বোঝা যুক্ত হওয়ায় সাধারণ মানুষ কিস্তি মেটাতে পারছেন না। শিক্ষা বিভাগ মহামারীর সময় কিস্তি স্থগিতের সুযোগ দিয়েছিল। এরপর বাইডেন প্রশাসন ২০২৪ সালের শরৎ পর্যন্ত এক বছরের অতিরিক্ত সময় দেয়, যার ফলে ওই সময়ে কেউ খেলাপি হননি। তবে সেই সময়সীমা শেষ হওয়ার ৯ মাস পর, অর্থাৎ ২০২৫ সালের জুন থেকে আবারও খেলাপি হওয়া শুরু হয়। অফিস অব ফেডারেল স্টুডেন্ট এইড-এর তথ্য অনুযায়ী, খেলাপির সংখ্যা ৫৩ লাখ থেকে বেড়ে ৯৫ লাখে পৌঁছেছে। সারাদেশে ১.৭ ট্রিলিয়ন ডলারের সরকারি স্টুডেন্ট লোনের মধ্যে ২৩৩.৩ বিলিয়ন ডলারই এখন খেলাপি। সামনে এই পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে। কারণ ট্রাম্প প্রশাসন তাদের লোন ব্যবস্থার সংস্কারের অংশ হিসেবে সেভ নামক আয়-ভিত্তিক সহজ কিস্তি পরিকল্পনাটি বাতিল করেছে। এতে যুক্ত থাকা লাখ লাখ ঋণগ্রহীতাকে প্রতি মাসে আরও বেশি টাকা গুনতে হবে। চলতি মাস থেকে নতুন গ্রহীতাদের জন্য বিকল্প পদ্ধতি কমিয়ে একটি সাধারণ এবং একটি আয়-ভিত্তিক অপশন রাখা হয়েছে। এপি-র বিশ্লেষণে দেখা গেছে, খেলাপির হার সবচেয়ে বেশি দক্ষিণাঞ্চলীয় অঙ্গরাজ্যগুলোতে। মিসিসিপিতে এই হার সবচেয়ে বেশি (২৮.৩%)। অন্যান্য রাজ্যের মধ্যে রয়েছে লুইসিয়ানা, অ্যালাবামা, ওয়েস্ট ভার্জিনিয়া, ওকলাহোমা, জর্জিয়া, সাউথ ক্যারোলাইনা, টেক্সাস, আলাস্কা, অ্যারিজোনা, ওহাইও, ইন্ডিয়ানা, মিশিগান, নিউ মেক্সিকো ও নেভাদা। এর মধ্যে নিউ মেক্সিকো ছাড়া বাকি সবকটি রাজ্যেই ২০২৪ সালের নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জয়ী হয়েছিলেন। এছাড়া পুয়ের্তো রিকো অঞ্চলে খেলাপির হার ৩০.৯%, যা যেকোনো রাজ্যের চেয়ে বেশি। বাণিজ্যিক বা লাভজনক কলেজে পড়া শিক্ষার্থীরা সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছেন। এই ধরনের প্রতিষ্ঠানের ৩৩% শিক্ষার্থী কিস্তি পরিশোধে ৯০ দিন বা তার বেশি পিছিয়ে আছেন, যা সরকারি স্কুলের শিক্ষার্থীদের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে ক্যারিয়ার এডুকেশন কলেজেস অ্যান্ড ইউনিভার্সিটিস-এর প্রধান জেসন অল্টমায়ার জানান, তারা বিষয়টি গুরুত্বের সাথে নিচ্ছেন এবং শিক্ষার্থীদের লোন পরিশোধের গুরুত্ব বোঝাতে একটি টাস্কফোর্স গঠন করেছেন।
যুক্তরাষ্ট্রে তথাকথিত বিদেশি সন্ত্রাসীদের নির্বাসনের জন্য মার্কিন বিচার বিভাগ ৩০ বছর আগে তৈরি একটি গোপন ও নিষ্ক্রিয় আদালতে ইতিহাসে প্রথমবারের মতো একটি আবেদন ফাইল করেছে। ট্রাম্প প্রশাসন গত বুধবার এই আবেদনটি জমা দেয়। ১৯৯৬ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে এই বিশেষ আদালতে সরকারের পক্ষ থেকে এর আগে কখনো কোনো পিটিশন দাখিল করা হয়নি। পাঁচ সদস্যের এই আদালতের প্রধান বিচারক জোয়ান এরিকসেন এক লিখিত আদেশে জানিয়েছেন, গত বৃহস্পতিবার এই আবেদনের ওপর একটি শুনানি অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুনানিতে অভিযুক্ত ব্যক্তির কর্মকাণ্ডের সাথে সরকারের দাবিকৃত সুনির্দিষ্ট আইনি ধারাগুলোর যোগসূত্র নিয়ে আদালত কিছু প্রশ্ন তুলেছে। ফেডারেল বিচারক এরিকসেন বিচার বিভাগকে আগামী বুধবারের মধ্যে এ বিষয়ে আরও অতিরিক্ত তথ্য জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। আদালতের এই বিশেষ ক্ষমতাটি ১৯৯৬ সালের একটি সন্ত্রাসবিরোধী আইনের আওতা থেকে এসেছে। এই আইনের অধীনে মার্কিন অ্যাটর্নি জেনারেল বা ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেলের সরাসরি অনুমোদনে যেকোনো সন্দেহভাজন বিদেশি সন্ত্রাসীকে দেশ থেকে তাড়িয়ে দেওয়ার জন্য সিলমোহরযুক্ত গোপন আবেদন ফাইল করা যায়। ফেডারেল আইন অনুযায়ী, সন্ত্রাসী কার্যকলাপে জড়িত থাকা, সন্ত্রাসবাদকে সমর্থন বা উস্কানি দেওয়া অথবা এই ধরনের কোনো সংগঠনের সাথে যুক্ত ব্যক্তিরা এর আওতায় পড়েন। আমেরিকার সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি জন রবার্টস কর্তৃক নির্বাচিত পাঁচজন বিচারক নিয়ে এই বিশেষ আদালত গঠিত। গত তিন দশক ধরে এই আদালতে কোনো আবেদন বা শুনানি না হলেও সম্প্রতি ট্রাম্প প্রশাসনের তীব্র গতিতে অভিবাসী বহিষ্কার অভিযানের অংশ হিসেবে এটিকে সচল করা হলো। এই গোপন আবেদনের খবরটি প্রথম প্রকাশ করে কোর্ট ওয়াচ নামের একটি স্বাধীন সংবাদ সাইট। এর আগে ট্রাম্প প্রশাসন ১৭৯৮ সালের একটি যুদ্ধকালীন আইন ব্যবহার করে ভেনিজুয়েলার অভিবাসীদের সন্ত্রাসী গ্যাংয়ের সদস্য আখ্যা দিয়ে তাড়ানোর পদক্ষেপ নিয়েছিল। সেই মামলার শুনানিতেই ওয়াশিংটনের বিচারক জেমস বোয়াসবার্গ ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে, জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে কোনো অভিবাসীকে তাড়াতে হলে এই নিষ্ক্রিয় আদালতটিই হতে পারে সরকারের আসল ফোরাম। সূত্র: অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস
যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এনেছে ট্রাম্প প্রশাসন। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের এফ-১ (F-1) স্টুডেন্ট ভিসার মেয়াদ আর কোর্স শেষ হওয়া পর্যন্ত স্বয়ংক্রিয়ভাবে বহাল থাকবে না। এর পরিবর্তে সর্বোচ্চ চার বছরের নির্দিষ্ট সময়ের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে থাকার অনুমতি দেওয়া হবে। নির্ধারিত সময়ের বেশি পড়াশোনা চালিয়ে যেতে চাইলে নতুন করে অনুমতি নিতে হবে। যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটির (ডিএইচএস) চূড়ান্ত বিধিমালা অনুযায়ী, দীর্ঘদিনের ‘ডিউরেশন অব স্ট্যাটাস’ নীতি বাতিল করা হয়েছে। আগে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা বৈধ শিক্ষার্থী মর্যাদা বজায় রাখলে তাদের ডিগ্রি শেষ না হওয়া পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে থাকতে পারতেন। নতুন নিয়ম কার্যকর হলে সেই সুবিধা আর থাকবে না। নতুন বিধি অনুযায়ী, চার বছরের বেশি সময়ের ডিগ্রি বা গবেষণা কর্মসূচিতে থাকা শিক্ষার্থীদের যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান অব্যাহত রাখতে মেয়াদ বাড়ানোর জন্য আনুষ্ঠানিক আবেদন করতে হবে। অনুমোদন না পেলে তাদের দেশ ছাড়তে হবে অথবা নতুন করে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি নিতে হবে। শুধু অবস্থানের সময়সীমাই নয়, শিক্ষার্থীদের জন্য আরও কয়েকটি নিয়ম কঠোর করা হয়েছে। স্নাতকোত্তর পর্যায়ের অনেক শিক্ষার্থী আগের মতো সহজে বিশ্ববিদ্যালয় পরিবর্তন বা একই স্তরের নতুন কোর্সে ভর্তি হতে পারবেন না। পাশাপাশি পড়াশোনা শেষ হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ার জন্য যে ৬০ দিনের গ্রেস পিরিয়ড ছিল, তা কমিয়ে ৩০ দিন করা হয়েছে। ডিএইচএস জানিয়েছে, বিদেশি শিক্ষার্থীদের ওপর নজরদারি জোরদার করা, ভিসা ব্যবস্থার অপব্যবহার রোধ এবং জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই পরিবর্তন আনা হয়েছে। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রে ১৮ লাখের বেশি শিক্ষার্থী ভিসায় প্রবেশ করেছেন, যা তদারকির ক্ষেত্রে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও উচ্চশিক্ষা–সংশ্লিষ্ট সংগঠন নতুন নিয়ম নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তাদের আশঙ্কা, অতিরিক্ত প্রশাসনিক জটিলতা তৈরি হলে বিদেশি শিক্ষার্থীদের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের আকর্ষণ কমে যেতে পারে, বিশেষ করে দীর্ঘমেয়াদি গবেষণা ও পিএইচডি কর্মসূচিতে। ফেডারেল রেজিস্টারে প্রকাশিত এই বিধিমালা নির্ধারিত সময় পর কার্যকর হবে। এরপর থেকে নতুন নিয়ম অনুযায়ী বিদেশি শিক্ষার্থী, এক্সচেঞ্জ ভিজিটর এবং নির্দিষ্ট কিছু অন্যান্য অ-অভিবাসী ভিসাধারীর যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানের মেয়াদ নির্ধারণ করা হবে।
যুক্তরাষ্ট্রে গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য সর্বোচ্চ ১ লাখ মার্কিন ডলারের ফেরতযোগ্য (Refundable) বন্ড চালুর সম্ভাবনা নিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিসহ বিভিন্ন অভিবাসী কমিউনিটিতে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ নিয়ে নানা তথ্য ও গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ায় অনেক আবেদনকারী ও তাদের পরিবারের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, এটি কোনো কার্যকর আইন বা নীতি নয়; ট্রাম্প প্রশাসনের বিবেচনাধীন একটি প্রস্তাব মাত্র। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর (স্টেট ডিপার্টমেন্ট) এমন একটি প্রস্তাব নিয়ে কাজ করছে, যার আওতায় যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস বা কনস্যুলেটের মাধ্যমে অভিবাসী ভিসার আবেদন করা নির্দিষ্ট কিছু ব্যক্তির ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ১ লাখ ডলারের বন্ড নেওয়া হতে পারে। প্রশাসনের দাবি, নতুন অভিবাসীরা যাতে আর্থিকভাবে স্বনির্ভর থাকেন এবং সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভরশীল না হন, সে লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ বিবেচনা করা হচ্ছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, আবেদনকারী অথবা তার কোনো স্বজন এই বন্ড জমা দিতে পারবেন। আলোচনায় রয়েছে, আবেদনকারী পরবর্তীতে মার্কিন নাগরিকত্ব অর্জন করলে নির্ধারিত শর্ত সাপেক্ষে সেই অর্থ ফেরত দেওয়া হতে পারে। তবে বন্ডের পরিমাণ সব আবেদনকারীর ক্ষেত্রে এক হবে না; ব্যক্তিভেদে তা কম বা বেশি হতে পারে। এছাড়া এটি শুরুতে সীমিত কয়েকটি দেশে পরীক্ষামূলকভাবে চালুর বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে। এদিকে, বিষয়টি নিয়ে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় নিউইয়র্কভিত্তিক বাংলাদেশি-আমেরিকান ইমিগ্রেশন আইনজীবী অ্যাটর্নি মইন চৌধুরী বাংলাদেশি কমিউনিটিকে আতঙ্কিত না হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “এটি এখনো কেবল একটি প্রস্তাব। এটি কোনো কার্যকর আইন নয়। তাই এ ধরনের খবর শুনে হতাশ বা আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। কোনো তথ্য শুনলেই তা বিশ্বাস না করে অবশ্যই নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে যাচাই করা উচিত।” ভিডিও বার্তায় তিনি আরও বলেন, বর্তমানে যে তথ্য পাওয়া যাচ্ছে, তাতে যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরে অ্যাডজাস্টমেন্ট অব স্ট্যাটাস (Adjustment of Status) প্রক্রিয়ায় গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে এই প্রস্তাব প্রযোজ্য হবে না বলেই আলোচনা রয়েছে। তবে সরকার এখনো এ বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত ঘোষণা দেয়নি। তাই গুজবে কান না দিয়ে সরকারি ঘোষণা ও নির্ভরযোগ্য তথ্য অনুসরণ করার পরামর্শ দেন তিনি। মইন চৌধুরী আরও বলেন, ভবিষ্যতে যদি এ ধরনের কোনো নীতি কার্যকরও হয়, তাহলে সেটি আদালতে আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে। অতীতেও যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন-সংক্রান্ত বিভিন্ন নীতি আদালতে চ্যালেঞ্জ হয়েছে এবং বিচারিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে পরিবর্তিত হয়েছে। অন্যদিকে, মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র টমি পিগটও নিশ্চিত করেছেন যে, প্রশাসন বিদ্যমান আইনি ক্ষমতার আওতায় নির্দিষ্ট কিছু ভিসা আবেদনকারীর ক্ষেত্রে বন্ডের বিধান ব্যবহার করা যায় কি না, তা পর্যালোচনা করছে। তার ভাষ্য, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশনা অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন করতে ইচ্ছুক ব্যক্তিদের আর্থিকভাবে স্বনির্ভর হওয়া নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই এই বিকল্পটি বিবেচনায় রয়েছে। সব মিলিয়ে, গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য ১ লাখ ডলারের বন্ড নিয়ে আলোচনা বাস্তব হলেও এটি এখনো চূড়ান্ত নীতি নয়। ফলে এটি ইতোমধ্যে কার্যকর হয়েছে বা সব গ্রিন কার্ড আবেদনকারীর জন্য বাধ্যতামূলক করা হয়েছে—এমন ধারণা সঠিক নয়। প্রশাসনের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত, বাস্তবায়ন নির্দেশনা এবং সম্ভাব্য আইনি প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পরই এ বিষয়ে পরিষ্কার চিত্র পাওয়া যাবে।
যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতি বা গ্রিন কার্ড পেতে সরকারি সহায়তা কর্মসূচির ওপর নির্ভরশীল অভিবাসীদের জন্য নিয়ম আরও কঠোর করতে যাচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন। এ লক্ষ্যে বাইডেন প্রশাসনের ২০২২ সালের নীতি বাতিল করে নতুন বিধিমালার প্রস্তাব দিয়েছে দেশটির হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ (ডিএইচএস)। নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী, গ্রিন কার্ডের আবেদনকারীর আর্থিক সক্ষমতা যাচাইয়ে অভিবাসন কর্মকর্তাদের ক্ষমতা বাড়ানো হবে। আবেদনকারীর বয়স, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, চাকরির ইতিহাস, আয়, সম্পদ, পারিবারিক আর্থিক অবস্থা এবং অতীতে সরকারি সহায়তা নেওয়ার তথ্য বিবেচনায় নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। কর্মকর্তারা যদি মনে করেন, কোনো আবেদনকারী ভবিষ্যতে নিজের আয়ের পরিবর্তে সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়তে পারেন, তাহলে তার গ্রিন কার্ড আবেদন প্রত্যাখ্যান করা হতে পারে। ডিএইচএস জানিয়েছে, মূল্যায়নের সময় মেডিকেইড (স্বল্প আয়ের মানুষের সরকারি স্বাস্থ্যসেবা), এসএনএপি বা খাদ্য সহায়তা কর্মসূচি, সরকারি আবাসন সহায়তা এবং নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য অন্যান্য সরকারি সুবিধা গ্রহণের বিষয়টিও বিবেচনায় আসতে পারে। তবে শুধুমাত্র একটি সরকারি সুবিধা নেওয়ার কারণে আবেদন স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হবে না; আবেদনকারীর সামগ্রিক আর্থিক পরিস্থিতি মূল্যায়ন করা হবে। ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, এই নীতির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের করদাতাদের অর্থের সুরক্ষা নিশ্চিত হবে এবং সরকারি সহায়তা কর্মসূচির অপব্যবহার কমবে। মার্কিন নাগরিকত্ব ও অভিবাসন সেবা সংস্থা (ইউএসসিআইএস) বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন করতে ইচ্ছুক ব্যক্তিদের আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়া উচিত এবং তারা যেন দেশের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক বোঝা হয়ে না দাঁড়ান, সেটিই নতুন নীতির মূল উদ্দেশ্য। এর পাশাপাশি বিদেশ থেকে গ্রিন কার্ডের আবেদনকারীদের কাছ থেকে এক লাখ মার্কিন ডলার পর্যন্ত জামানত (বন্ড) নেওয়ার প্রস্তাবও বিবেচনা করছে ট্রাম্প প্রশাসন। স্টেট ডিপার্টমেন্টের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এর উদ্দেশ্য হলো আবেদনকারীর আর্থিক সক্ষমতা নিশ্চিত করা। প্রস্তাবটি এখনো চূড়ান্ত অনুমোদন পায়নি। ডিএইচএসের হিসাব অনুযায়ী, নতুন নীতি কার্যকর হলে আগামী ১০ বছরে ফেডারেল ও অঙ্গরাজ্য সরকারের সরকারি সহায়তা কর্মসূচিতে প্রায় ১১১ বিলিয়ন ডলার ব্যয় কমতে পারে। সংস্থাটির ধারণা, নতুন নিয়মের কারণে অনেক অভিবাসী সরকারি সহায়তা কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ থেকে বিরত থাকবেন। তবে অভিবাসন বিশেষজ্ঞ ও অধিকারকর্মীদের একাংশ এই নীতির সমালোচনা করেছেন। তাদের মতে, এর ফলে অনেক বৈধ অভিবাসীও স্বাস্থ্যসেবা, খাদ্য সহায়তা ও আবাসন সুবিধার মতো আইনগতভাবে প্রাপ্য সরকারি সেবা নিতে ভয় পাবেন। এছাড়া কর্মকর্তাদের হাতে বেশি সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা দেওয়ায় একই ধরনের আবেদনের ক্ষেত্রে ভিন্ন ভিন্ন সিদ্ধান্ত আসার আশঙ্কাও রয়েছে। উল্লেখ্য, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে অবৈধ অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ, সরকারি সুবিধা ব্যবহারে সীমাবদ্ধতা এবং আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী অভিবাসীদের অগ্রাধিকার দেওয়ার নীতিকে জোর দিয়ে আসছেন।
যুক্তরাষ্ট্রে গ্রিন কার্ডের আবেদনকারীদের জন্য আবারও কঠোর হচ্ছে অভিবাসন নীতি। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন ‘পাবলিক চার্জ’ (Public Charge) নীতি পুনর্বহাল করছে, যার আওতায় নির্দিষ্ট সরকারি সহায়তা কর্মসূচি ব্যবহার করা হলে তা গ্রিন কার্ড আবেদনের মূল্যায়নে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। নতুন নিয়ম আগামী ১৮ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে। মার্কিন প্রশাসনের প্রকাশিত চূড়ান্ত বিধি অনুযায়ী, অভিবাসন কর্মকর্তারা আবেদনকারীর আর্থিক স্বনির্ভরতা মূল্যায়নের সময় খাদ্য সহায়তা কর্মসূচি (এসএনএপি বা ফুড স্ট্যাম্প), মেডিকেইড, হাউজিং ভাউচারসহ নির্দিষ্ট সরকারি সুবিধা ব্যবহারের বিষয়টি বিবেচনায় নিতে পারবেন। তবে এসব সুবিধা গ্রহণ করলেই গ্রিন কার্ডের আবেদন স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রত্যাখ্যান হবে না। আবেদনকারীর সামগ্রিক আর্থিক ও ব্যক্তিগত পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। নতুন নিয়মে আবেদনকারীর বয়স, স্বাস্থ্য, পারিবারিক অবস্থা, শিক্ষা, কর্মসংস্থান, আয়, সম্পদ, আর্থিক দায়বদ্ধতা এবং ভবিষ্যতে সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার সম্ভাবনাসহ বিভিন্ন বিষয় একসঙ্গে মূল্যায়ন করা হবে। ট্রাম্প প্রশাসনের ভাষ্য, এই নীতির উদ্দেশ্য হলো যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাস করতে ইচ্ছুক ব্যক্তিদের আর্থিকভাবে স্বনির্ভর হওয়া নিশ্চিত করা এবং করদাতাদের অর্থে পরিচালিত সরকারি সহায়তা কর্মসূচির ওপর দীর্ঘমেয়াদি নির্ভরশীলতা নিরুৎসাহিত করা। ‘পাবলিক চার্জ’ নীতিটি ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে চালু হয়ে ২০২০ সালে কার্যকর হয়েছিল। পরে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসন ২০২২ সালে সেই নীতি বাতিল করে অপেক্ষাকৃত শিথিল নির্দেশনা জারি করে। এবার ট্রাম্প প্রশাসন আগের কঠোর নীতিটি আবার কার্যকর করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। অন্যদিকে অভিবাসন অধিকারবিষয়ক সংগঠনগুলো এ সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছে। তাদের আশঙ্কা, নতুন নিয়মের কারণে অনেক অভিবাসী পরিবার—বিশেষ করে যেসব পরিবার আইনগতভাবে সরকারি সহায়তা পাওয়ার যোগ্য—তারা ভবিষ্যতে গ্রিন কার্ড আবেদনে প্রভাব পড়ার ভয়ে স্বাস্থ্যসেবা, খাদ্য সহায়তা কিংবা আবাসন সুবিধা গ্রহণ থেকে বিরত থাকতে পারেন। যাদের গ্রিন কার্ডের আবেদন চলমান বা শিগগির আবেদন করার পরিকল্পনা রয়েছে, তাদের নতুন নিয়ম সম্পর্কে ভালোভাবে জানা এবং প্রয়োজনে অভিবাসন আইনজীবীর পরামর্শ নেওয়া উচিত। কারণ সরকারি সহায়তা গ্রহণের বিষয়টি এখন থেকে আবেদনকারীর সামগ্রিক আর্থিক সক্ষমতা মূল্যায়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিবেচ্য বিষয় হিসেবে দেখা হবে।
যুক্তরাষ্ট্রে গ্রিন কার্ড পাওয়ার নিয়মে আবারও বড় পরিবর্তন আনছে ট্রাম্প প্রশাসন। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, যেসব অভিবাসী খাদ্য সহায়তা, মেডিকেইড, আবাসন ভাউচারসহ বিভিন্ন সরকারি সুবিধার ওপর নির্ভরশীল বলে বিবেচিত হবেন, তাদের গ্রিন কার্ড আবেদন প্রত্যাখ্যান করা হতে পারে। দীর্ঘদিনের বিতর্কিত ‘পাবলিক চার্জ’ নীতি পুনর্বহালের অংশ হিসেবে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি জানিয়েছে, নতুন নিয়মটি ফেডারেল রেজিস্টারে প্রকাশিত হয়েছে এবং ২০২৬ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে। এর আওতায় গ্রিন কার্ডের আবেদনকারীরা ভবিষ্যতে সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়তে পারেন কি না, তা অভিবাসন কর্মকর্তারা প্রতিটি আবেদন আলাদাভাবে মূল্যায়ন করবেন। ‘পাবলিক চার্জ’ নীতি প্রথম ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে ২০২০ সালে কার্যকর হয়েছিল। পরে বাইডেন প্রশাসন এটি বাতিল করে আগের তুলনায় শিথিল নীতি চালু করে। এবার সেই সিদ্ধান্ত বাতিল করে আগের নীতিই আবার ফিরিয়ে আনা হচ্ছে। প্রশাসনের ভাষ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাস করতে ইচ্ছুক ব্যক্তিদের নিজেদের আর্থিকভাবে স্বনির্ভর হওয়া উচিত এবং করদাতাদের অর্থে পরিচালিত সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভরশীল হওয়া উচিত নয়। নতুন নীতির লক্ষ্যও সেই বিষয়টি নিশ্চিত করা। তবে এই নীতিতে কোনো একটি নির্দিষ্ট সরকারি সুবিধা গ্রহণ করলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে গ্রিন কার্ড বাতিল হবে না। আবেদনকারীর বয়স, স্বাস্থ্য, আয়, সম্পদ, শিক্ষাগত যোগ্যতা, কর্মসংস্থানের সক্ষমতা এবং সামগ্রিক আর্থিক অবস্থাসহ বিভিন্ন বিষয় বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। নতুন নিয়মটি এমন সময় আনা হচ্ছে, যখন ট্রাম্প প্রশাসন বৈধ ও অবৈধ—উভয় ধরনের অভিবাসন কঠোর করার পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করছে।
যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের অনুমতি বা গ্রিন কার্ড পাওয়ার ক্ষেত্রে বড় ধরনের নীতিগত পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, সরকারি আর্থিক সহায়তা বা কল্যাণমূলক কর্মসূচি ব্যবহারের ইতিহাস গ্রিন কার্ড আবেদন মূল্যায়নে আগের তুলনায় বেশি গুরুত্ব পাবে। এর ফলে আবেদনকারীর আর্থিক সক্ষমতা এবং ভবিষ্যতে সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার সম্ভাবনা আরও গভীরভাবে যাচাই করবেন অভিবাসন কর্মকর্তারা। মার্কিন স্বরাষ্ট্র দপ্তরের অধীনস্থ ইউএস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস (ইউএসসিআইএস) জানিয়েছে, ২০২২ সালে সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসন যে নীতিমালা চালু করেছিল, সেটি বাতিল করে নতুন নিয়ম কার্যকর করা হবে। প্রশাসনের দাবি, আগের নীতির কারণে অভিবাসন কর্মকর্তারা আবেদনকারীদের ব্যক্তিগত আর্থিক অবস্থা ও সরকারি সহায়তা গ্রহণের ইতিহাস যথাযথভাবে মূল্যায়নের সুযোগ পাচ্ছিলেন না। মার্কিন অভিবাসন আইনে 'পাবলিক চার্জ' বা 'সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভরশীল হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে এমন ব্যক্তি' ধারণাটি বহুদিন ধরেই রয়েছে। কোনো ব্যক্তি ভবিষ্যতে নিজের আয়ের পরিবর্তে প্রধানত সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভর করবেন বলে মনে হলে, নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে তার গ্রিন কার্ড আবেদন প্রত্যাখ্যান করা যেতে পারে। আবেদন মূল্যায়নের সময় বয়স, স্বাস্থ্য, পারিবারিক অবস্থা, শিক্ষাগত যোগ্যতা, কর্মসংস্থানের ইতিহাস, দক্ষতা, সম্পদ ও আর্থিক সামর্থ্যসহ একাধিক বিষয় বিবেচনায় নেওয়া হয়। নতুন নীতির ফলে মেডিকেইড, খাদ্য সহায়তা কর্মসূচি (এসএনএপি), আবাসন সহায়তাসহ আয়ভিত্তিক সরকারি সুবিধা গ্রহণের তথ্যও কর্মকর্তাদের মূল্যায়নে প্রভাব ফেলতে পারে। তবে কোনো একটি সুবিধা গ্রহণ করলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে গ্রিন কার্ড আবেদন বাতিল হবে, এমন নয়। বরং প্রতিটি আবেদনকারীর সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনা করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে প্রশাসন। ইউএসসিআইএসের মুখপাত্র জ্যাক কাহলার এক বিবৃতিতে বলেন, ট্রাম্প প্রশাসন আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং মার্কিন করদাতাদের অর্থ সুরক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তার ভাষায়, যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন করতে ইচ্ছুক ব্যক্তিদের আর্থিকভাবে স্বনির্ভর হওয়ার প্রত্যাশাই এই নীতির মূল ভিত্তি। তবে এই সিদ্ধান্ত নিয়ে উদ্বেগও প্রকাশ করেছেন অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা। যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের সাবেক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা অ্যাডাম ক্লেইনের মতে, ইউএসসিআইএস থেকে অভিজ্ঞ কর্মকর্তা ও নীতিনির্ধারণী কর্মীদের একটি অংশ ইতোমধ্যে বিদায় নিয়েছেন। একই সময়ে কর্মকর্তাদের হাতে আরও বেশি বিবেচনাধিকার দেওয়া হলে বিভিন্ন ক্ষেত্রে অসামঞ্জস্যপূর্ণ বা পক্ষপাতমূলক সিদ্ধান্তের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। তার মতে, কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ, অভিজ্ঞতা ও কার্যকর তদারকি ছাড়া অতিরিক্ত বিবেচনাধিকার সমস্যার কারণ হতে পারে। নতুন নীতির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, সরকারি সহায়তা কর্মসূচিতে অভিবাসীদের অংশগ্রহণ কমে যাবে বলে ধারণা করছে মার্কিন প্রশাসন। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, এর ফলে প্রতিবছর ফেডারেল ও অঙ্গরাজ্য সরকার মিলিয়ে প্রায় ১৩ বিলিয়ন ডলার সরকারি ব্যয় কমতে পারে। তবে প্রশাসন স্বীকার করেছে, এতে স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান, মুদি দোকান, বাড়িওয়ালাসহ বিভিন্ন খাতেও অর্থনৈতিক প্রভাব পড়তে পারে। এদিকে ট্রাম্প প্রশাসন গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য আরও একটি নতুন ব্যবস্থা বিবেচনা করছে। যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে থেকে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে ভবিষ্যতে বড় অঙ্কের জামানত বা বন্ড জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা আরোপ করা হতে পারে। মার্কিন সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, প্রস্তাবিত বন্ডের পরিমাণ ১ লাখ ডলার পর্যন্ত হতে পারে। প্রশাসনের ভাষ্য, এর মাধ্যমে আবেদনকারীরা প্রমাণ করতে পারবেন যে তারা ভবিষ্যতে সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভরশীল হবেন না। তবে বিষয়টি এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের পর্যায়ে পৌঁছায়নি। অভিবাসন নীতি নিয়ে কাজ করা গবেষকেরা বলছেন, এত বড় অঙ্কের অর্থ জামানত হিসেবে জমা দেওয়া অধিকাংশ আবেদনকারীর জন্য বাস্তবসম্মত হবে না। ফলে এটি অনেকের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসনের পথ আরও কঠিন করে তুলতে পারে। সমালোচকদের মতে, নতুন নীতির কারণে বৈধভাবে সরকারি সুবিধা পাওয়ার অধিকার থাকা অনেক অভিবাসীও ভবিষ্যতে গ্রিন কার্ডের আশঙ্কায় এসব সুবিধা গ্রহণ থেকে বিরত থাকতে পারেন। ইউএসসিআইএস জানিয়েছে, নতুন 'পাবলিক চার্জ' নীতি আগামী ১৮ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হবে। ওই দিন বা তার পর থেকে যারা স্থায়ী বাসিন্দার মর্যাদা পাওয়ার জন্য আবেদন করবেন, তাদের নতুন সংস্করণের আই-৪৮৫ আবেদনপত্র ব্যবহার করতে হবে এবং নতুন নিয়ম অনুযায়ী আবেদন মূল্যায়ন করা হবে।
যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য প্রচলিত ভিসা ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তনের পরিকল্পনা করছে ট্রাম্প প্রশাসন। নতুন নিয়ম কার্যকর হলে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের এফ ভিসা আগের মতো অনির্দিষ্ট সময়ের জন্য কার্যকর থাকবে না; বরং নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে সীমাবদ্ধ করা হবে। প্রস্তাবিত নিয়ম অনুযায়ী, বেশিরভাগ শিক্ষার্থী সর্বোচ্চ চার বছর পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে থাকার অনুমতি পেতে পারেন। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে এফ-১ ভিসায় থাকা শিক্ষার্থীরা সাধারণত “ডিউরেশন অব স্ট্যাটাস” নীতির আওতায় থাকেন। অর্থাৎ, তারা নির্ধারিত শিক্ষা কার্যক্রমে নিয়ম মেনে যুক্ত থাকলে পড়াশোনা শেষ হওয়া পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে থাকার সুযোগ পান। নতুন নীতিতে এই ব্যবস্থার পরিবর্তন এনে নির্দিষ্ট মেয়াদ নির্ধারণের পরিকল্পনা করা হয়েছে। প্রস্তাবিত পরিবর্তনের আওতায় যারা চার বছরের মধ্যে পড়াশোনা শেষ করতে পারবেন না, তাদের অতিরিক্ত সময়ের জন্য আলাদাভাবে অনুমতি বা ভিসা সম্প্রসারণের আবেদন করতে হতে পারে। বিশেষ করে দীর্ঘমেয়াদি গবেষণা, ডক্টরাল প্রোগ্রাম বা জটিল একাডেমিক কার্যক্রমে থাকা শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে এই নিয়ম গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। নতুন নীতিতে শুধু শিক্ষার্থী ভিসা নয়, সাংস্কৃতিক বিনিময় কর্মসূচির জে ভিসা এবং বিদেশি সাংবাদিকদের আই ভিসার ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণের পরিকল্পনা রয়েছে। জে ভিসাধারীদের ক্ষেত্রেও সর্বোচ্চ চার বছরের সীমা এবং সাংবাদিকদের ভিসার ক্ষেত্রে আরও কম সময়ের সীমা নির্ধারণের কথা বলা হয়েছে। হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ জানিয়েছে, ভিসা ব্যবস্থার ওপর নজরদারি বাড়ানো এবং দীর্ঘ সময় ধরে যুক্তরাষ্ট্রে থাকা ব্যক্তিদের তথ্য ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর করার লক্ষ্যেই এই পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিভাগের মতে, বর্তমান ব্যবস্থায় কিছু ক্ষেত্রে অবস্থানের সময়সীমা নির্ধারণ কঠিন হয়ে পড়ে। নতুন নিয়ম কার্যকর হলে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য ঐচ্ছিক কর্মসংস্থানের সুযোগ, বিশেষ করে পড়াশোনা শেষে কাজের অনুমতি বা ওপিটি ব্যবহারের ক্ষেত্রেও নতুন প্রক্রিয়ার প্রয়োজন হতে পারে। বর্তমানে অনেক বিদেশি শিক্ষার্থী পড়াশোনা শেষে নির্দিষ্ট শর্তে যুক্তরাষ্ট্রে কাজের সুযোগ পান। এছাড়া প্রস্তাবিত পরিবর্তনের মধ্যে পড়াশোনা শেষ হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ার জন্য দেওয়া সময়সীমা কমানোর বিষয়টিও রয়েছে। বর্তমান ৬০ দিনের গ্রেস পিরিয়ড কমিয়ে ৩০ দিন করার পরিকল্পনার কথা জানানো হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিবছর বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষার জন্য আসেন। নতুন নিয়ম কার্যকর হলে বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণা প্রতিষ্ঠান এবং বিদেশি শিক্ষার্থীদের আবেদন প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন আসতে পারে। প্রস্তাবিত নিয়মটি কার্যকর হওয়ার আগে সরকারি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পরবর্তী সিদ্ধান্তের পরই নতুন নিয়মের চূড়ান্ত রূপ পরিষ্কার হবে।
যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতি বা গ্রিন কার্ড পেতে আবেদনকারীদের কাছ থেকে ১ লাখ মার্কিন ডলারের জামানত নেওয়ার পরিকল্পনা বিবেচনা করছে ট্রাম্প প্রশাসন। মূলত আর্থিকভাবে দুর্বল বিদেশিদের অভিবাসন সীমিত করতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র। ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল–এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর বিদেশে জমা দেওয়া স্থায়ী অভিবাসী ভিসার আবেদনগুলোর ক্ষেত্রে উচ্চমূল্যের জামানত বা বন্ড চালুর প্রস্তাব পর্যালোচনা করছে। কয়েকজন কর্মকর্তা এই জামানতের পরিমাণ ১ লাখ ডলার নির্ধারণের প্রস্তাব দিয়েছেন। প্রাথমিকভাবে অল্প কয়েকটি দেশে পরীক্ষামূলকভাবে এই নীতি চালুর বিষয়টিও বিবেচনা করা হচ্ছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, আবেদনকারীকে আগে এই অর্থ জমা রাখতে হবে। পরে তিনি যদি যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব অর্জন করেন, তাহলে সেই অর্থ ফেরত দেওয়া হবে। তবে নাগরিকত্ব পেতে কয়েক বছর সময় লাগতে পারে। প্রশাসনের যুক্তি, এই জামানত সরকারের জন্য একটি আর্থিক নিরাপত্তা হিসেবে কাজ করবে। যদি কোনো গ্রিন কার্ডধারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে নিজের খরচ বহন করতে ব্যর্থ হন এবং সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েন, তাহলে সেই ঝুঁকি মোকাবিলায় এই অর্থ ব্যবহার করা যেতে পারে। পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র টমি পিগট বলেন, “প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প স্পষ্ট করে দিয়েছেন, যারা যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন করতে চান, তাদের অবশ্যই আর্থিকভাবে স্বনির্ভর হতে হবে।” তিনি আরও জানান, "কিছু ভিসা আবেদনকারীর কাছ থেকে জামানত নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে, যাতে তারা যুক্তরাষ্ট্রে নিজেদের ভরণপোষণের সক্ষমতা প্রমাণ করতে পারেন"। এত বড় অঙ্কের জামানত আরোপ করা হলে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোর অনেক আবেদনকারীর পক্ষেই গ্রিন কার্ডের জন্য আবেদন করা কঠিন হয়ে পড়বে। ফলে অভিবাসনের প্রবণতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যেতে পারে। এ ধরনের অভিবাসী ভিসা সাধারণত যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের নিকটাত্মীয়—যেমন স্বামী বা স্ত্রী, বাবা-মা এবং ভাই-বোনদের জন্য ব্যবহৃত হয়। যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি তথ্য অনুযায়ী, গত বছর এ ধরনের প্রায় ৫ লাখ ভিসা ইস্যু করা হয়েছিল। এর আগেও অভিবাসন কঠোর করতে একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। চলতি বছরের জানুয়ারিতে ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য অভিবাসী ভিসা প্রক্রিয়াকরণ সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়। যদিও সেই সিদ্ধান্ত এখন বিভিন্ন আদালতে আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে। এছাড়া জুন মাসে বিদেশি দক্ষ কর্মীদের জন্য এইচ-ওয়ান-বি ভিসা আবেদনের ক্ষেত্রে নিয়োগদাতাদের ওপর ১ লাখ ডলারের ফি আরোপের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছিল। তবে একজন ফেডারেল বিচারক রায় দেন, এমন ফি কার্যত করের সমতুল্য এবং কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া প্রশাসন তা আরোপ করতে পারে না। এর আগে ট্রাম্প প্রশাসন ‘ট্রাম্প গোল্ড কার্ড’ নামে দ্রুত স্থায়ী বসবাসের একটি কর্মসূচি চালু করেছিল। সেই কর্মসূচিতে অংশ নিতে ১০ লাখ ডলার এবং অতিরিক্ত ১৫ হাজার ডলার আবেদন ফি নির্ধারণ করা হয়। তবে সরকারি তথ্য অনুযায়ী, মে মাস পর্যন্ত মাত্র ৩৩৮ জন আবেদন করেছিলেন এবং অনুমোদন পেয়েছিল মাত্র একটি আবেদন।
যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে কাজের অনুমতি নেই—এমন ব্যক্তিদের ঋণ দেওয়ার সময় আয় ও ঋণ পরিশোধের সক্ষমতা আরও সতর্কভাবে যাচাই করতে ব্যাংক ও ক্রেডিট ইউনিয়নগুলোকে নির্দেশনা দিয়েছে তিনটি ফেডারেল আর্থিক নিয়ন্ত্রক সংস্থা। তবে এই নির্দেশনা নতুন কোনো আইন নয় এবং কাগজপত্রহীন অভিবাসীদের ঋণ দেওয়া নিষিদ্ধও করা হয়নি। Office of the Comptroller of the Currency, Federal Deposit Insurance Corporation এবং National Credit Union Administration সোমবার যৌথভাবে নির্দেশনাটি প্রকাশ করে। সংস্থাগুলো বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রে কাজের আইনি অনুমোদন নেই—এমন কোনো ঋণগ্রহীতার আয় তুলনামূলকভাবে অনিশ্চিত হতে পারে। ফলে তাঁর ঋণ পরিশোধের উৎসও ব্যাংকের জন্য বাড়তি ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। নির্দেশনায় বলা হয়েছে, অনুমোদনহীন কর্মসংস্থান থেকে আয় করা ব্যক্তি চাকরি হারাতে পারেন, ভবিষ্যতে বৈধভাবে কাজ করতে না-ও পারেন অথবা যুক্তরাষ্ট্র থেকে অপসারণের মুখে পড়তে পারেন। এসব কারণে নিয়মিত আয় বন্ধ হয়ে গেলে বাড়ি, গাড়ি, ব্যক্তিগত ঋণ বা অন্য কোনো ঋণের কিস্তি পরিশোধ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হতে পারে। তবে নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো ব্যাংকগুলোকে কোনো নির্দিষ্ট শ্রেণির আবেদনকারীকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রত্যাখ্যান করতে বলেনি। বরং ঋণ দেওয়ার আগে আবেদনকারীর আয় কতটা স্থিতিশীল, চাকরি ধরে রাখার সম্ভাবনা, বিদ্যমান ঋণের চাপ এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কিস্তি পরিশোধের সক্ষমতা যাচাই করতে বলা হয়েছে। নির্দেশনাটি বাধ্যতামূলক নতুন বিধি নয়। এতে ব্যাংক ও ক্রেডিট ইউনিয়নগুলোকে তাদের বিদ্যমান ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার দায়িত্বের কথা মনে করিয়ে দেওয়া হয়েছে। আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে ঋণের ঝুঁকি শনাক্ত, পরিমাপ, পর্যবেক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণ করতে এবং নিরাপদ ঋণ যাচাই পদ্ধতি অনুসরণ করতে বলা হয়েছে। এ পদক্ষেপের অর্থ এই নয় যে যুক্তরাষ্ট্রে থাকা প্রত্যেক অভিবাসী বা অ-নাগরিকের ঋণ আবেদন বাড়তি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হবে। নির্দেশনাটি বিশেষভাবে তাঁদের আয় নিয়ে, যাঁরা যুক্তরাষ্ট্রে আইনগত কর্মানুমতি ছাড়া কাজ করছেন। গ্রিন কার্ডধারী, বৈধ ওয়ার্ক পারমিটধারী, কর্মভিসাধারী কিংবা অন্যভাবে কাজের অনুমোদন থাকা ব্যক্তিদের একই শ্রেণিতে রাখা হয়নি। Reuters জানিয়েছে, নতুন নির্দেশনা বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে ব্যাংকগুলোকে সব হিসাবধারীর নাগরিকত্বের তথ্য সংগ্রহ করতে বলা হয়নি। ট্রাম্প প্রশাসন আগে আরও কঠোর ব্যবস্থা বিবেচনা করছে বলে ব্যাংক খাতে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত প্রকাশিত নির্দেশনা ঋণ যাচাইয়ের ঝুঁকির ওপর জোর দিলেও সবার নাগরিকত্বের তথ্য সংগ্রহ বাধ্যতামূলক করেনি। নির্দেশনাটি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মে মাসে সই করা “Restoring Integrity to America’s Financial System” নির্বাহী আদেশের আলোকে জারি করা হয়েছে। ওই আদেশে যুক্তরাষ্ট্রে অপসারণযোগ্য বা প্রবেশে অযোগ্য ব্যক্তিদের আর্থিক সেবা ও ঋণ দেওয়ার কারণে সম্ভাব্য ঝুঁকি শনাক্ত করতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে বলা হয়েছিল। নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো ব্যাংক ও ঋণদাতাদের Consumer Financial Protection Bureau-এর ৮ জুনের নির্দেশনাও বিবেচনা করতে বলেছে। সেখানে Truth in Lending Act এবং Equal Credit Opportunity Act-এর অধীনে ঋণগ্রহীতার পরিশোধ সক্ষমতা যাচাই ও বৈষম্য না করার আইনি দায়িত্বের কথা মনে করিয়ে দেওয়া হয়। অর্থাৎ ঋণের ঝুঁকি যাচাই করা গেলেও আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য ভোক্তা সুরক্ষা ও বৈষম্যবিরোধী আইন মানতে হবে। নতুন নির্দেশনার বাস্তব প্রভাব ব্যাংক ও ঋণদাতা প্রতিষ্ঠানভেদে ভিন্ন হতে পারে। কোনো প্রতিষ্ঠান ঋণ আবেদনের সময় কাজের অনুমতি, চাকরির স্থায়িত্ব এবং আয়ের ধারাবাহিকতা সম্পর্কে বেশি প্রমাণ চাইতে পারে। তবে নির্দেশনায় সব প্রতিষ্ঠানের জন্য একক কোনো নথি বা আলাদা নাগরিকত্ব যাচাই ব্যবস্থা নির্ধারণ করা হয়নি। যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশিদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো বৈধ কর্মানুমতির নথি হালনাগাদ রাখা। গাড়ি, বাড়ি বা ব্যক্তিগত ঋণের আবেদন করার সময় চাকরির চিঠি, সাম্প্রতিক পে-স্টাব, ব্যাংক স্টেটমেন্ট, ট্যাক্স রিটার্ন এবং বৈধ কাজের অনুমতির প্রমাণ প্রস্তুত থাকলে আয় ও পরিশোধ সক্ষমতা দেখানো সহজ হতে পারে। কেউ বৈধভাবে কাজের অনুমতি থাকা সত্ত্বেও শুধু জাতীয়তা বা অভিবাসী পরিচয়ের কারণে ঋণ আবেদন প্রত্যাখ্যাত হয়েছে বলে মনে করলে ঋণদাতার কাছ থেকে প্রত্যাখ্যানের লিখিত কারণ চাইতে পারেন। কারণ নতুন নির্দেশনা ব্যাংকগুলোকে সামগ্রিকভাবে অভিবাসীদের ঋণ বন্ধ করার অনুমতি দেয়নি; এটি মূলত আয় ও ঋণ পরিশোধের ঝুঁকি যথাযথভাবে যাচাইয়ের নির্দেশনা। সোমবারের ঘোষণার পর এখন নজর থাকবে ব্যাংক ও ক্রেডিট ইউনিয়নগুলো নির্দেশনাটি বাস্তবে কীভাবে প্রয়োগ করে। অতিরিক্ত যাচাইয়ের কারণে কাগজপত্রহীন কর্মীদের ঋণ পাওয়া কঠিন হতে পারে, তবে কোনো আবেদন শুধু অভিবাসন পরিচয়ের ভিত্তিতে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল করার নতুন নিয়ম জারি হয়নি।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।