ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি ও বিশ্বজুড়ে নিন্দা: অবশেষে লেবাননের সাথে সংলাপে বসছে ইসরায়েল
মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্রে এবার বড় ধরনের নাটকীয় মোড়। বিশ্বজুড়ে ক্রমবর্ধমান নিন্দা এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সরাসরি চাপের মুখে অবশেষে নতি স্বীকার করল তেল আবিব। লেবাননের সঙ্গে ‘যত দ্রুত সম্ভব’ সরাসরি আলোচনায় বসার জন্য নিজের মন্ত্রিসভাকে নির্দেশ দিয়েছেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।
দীর্ঘদিনের চরম বৈরিতা কাটিয়ে এই দুই প্রতিবেশীর মুখোমুখি বসার ঘোষণাকে কেন্দ্র করে বিশ্ব রাজনীতিতে শুরু হয়েছে নতুন গুঞ্জন।
প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, লেবাননের পক্ষ থেকে বারবার আলোচনার অনুরোধ আসার প্রেক্ষিতেই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এই আলোচনার প্রধান শর্ত হিসেবে থাকছে সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর নিরস্ত্রীকরণ। নেতানিয়াহুর মতে, বৈরুতকে নিরস্ত্রীকরণ করার বিষয়ে লেবাননের প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক সদিচ্ছাকে ইসরায়েল ইতিবাচকভাবে দেখছে। তিনি স্পষ্ট করেছেন, আলোচনার মূল কেন্দ্রবিন্দু হবে হিজবুল্লাহর অস্ত্র সমর্পণ এবং দুই দেশের মধ্যে একটি স্থায়ী শান্তি চুক্তি প্রতিষ্ঠা করা।
এই আলোচনার পেছনে সবচেয়ে বড় অনুঘটক হিসেবে কাজ করছে ওয়াশিংটনের চাপ। জানা গেছে, বুধবার এক ফোনালাপে ডোনাল্ড ট্রাম্প অত্যন্ত কড়া ভাষায় নেতানিয়াহুকে লেবাননে হামলার তীব্রতা কমিয়ে আনার নির্দেশ দেন। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি রক্ষা এবং মধ্যপ্রাচ্যে বড় ধরনের সংঘাত এড়াতেই ট্রাম্পের এই ব্যক্তিগত হস্তক্ষেপ। মার্কিন প্রশাসনের একজন উর্ধ্বতন কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন যে, সংঘাত নিয়ন্ত্রণে ইসরায়েল এখন থেকে ‘সহায়ক অংশীদার’ হিসেবে কাজ করতে সম্মত হয়েছে।
যদিও লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউনের কার্যালয় থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি, তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ট্রাম্পের এই দৌত্য মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের সমীকরণ বদলে দিতে পারে। দীর্ঘদিনের রক্তক্ষয়ী সংঘাত শেষে শান্তির এই বার্তা কতটুকু আলোর মুখ দেখে, এখন সেটিই দেখার বিষয়।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রে সরকারি ও অলাভজনক প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ব্যক্তিদের শিক্ষাঋণ মওকুফ কর্মসূচিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনার উদ্যোগ নিয়ে আইনি লড়াই থেকে দুটি আপিল প্রত্যাহার করেছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। এর ফলে বিতর্কিত নতুন বিধিনিষেধ কার্যকর করার প্রচেষ্টা বড় বাধার মুখে পড়েছে। গত বুধবার, ২১ অক্টোবর, প্রশাসন দুটি মামলায় করা আপিল প্রত্যাহার করে। এর আগে চলতি বছরের জুনে দুটি পৃথক মামলায় ফেডারেল আদালত প্রস্তাবিত পরিবর্তন কার্যকর করার ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিলেন। ওই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেছিল ট্রাম্প প্রশাসন। তবে আপিল প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তের কারণ সম্পর্কে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। যুক্তরাষ্ট্রের পাবলিক সার্ভিস লোন ফরগিভনেস (পিএসএলএফ) কর্মসূচির আওতায় নির্দিষ্ট সরকারি ও অলাভজনক প্রতিষ্ঠানে কাজ করা যোগ্য ব্যক্তিরা শর্ত পূরণ করলে তাঁদের ফেডারেল শিক্ষাঋণের বাকি অংশ মওকুফের সুযোগ পান। সরকারি চাকরি ও জনসেবামূলক পেশায় কর্মী আকৃষ্ট করা এবং তাঁদের এসব কাজে ধরে রাখার লক্ষ্যেই কর্মসূচিটি চালু করা হয়েছিল। ফেডারেল, অঙ্গরাজ্য, স্থানীয় ও আদিবাসী সরকারের বিভিন্ন সংস্থা, সরকারি স্কুল ও বিশ্ববিদ্যালয়, সামরিক বাহিনী, জরুরি সেবাকর্মী, সরকারি হাসপাতাল, অলাভজনক প্রতিষ্ঠান এবং আমেরিকর্পস ও পিস কর্পসের মতো সংস্থায় কর্মরত যোগ্য ব্যক্তিরা এ সুবিধার আওতায় আসতে পারেন। নিয়ম অনুযায়ী, যোগ্য ঋণগ্রহীতাকে নির্ধারিত শর্তে ১২০টি মাসিক কিস্তি পরিশোধ করতে হয়। সাধারণত ১০ বছরের যোগ্যতাসম্পন্ন পরিশোধ ও জনসেবায় কাজের শর্ত পূরণ হলে তাঁর ঋণের অবশিষ্ট অংশ মওকুফ করা হয়। তবে ২০২৫ সালে ট্রাম্প প্রশাসন কর্মসূচিটির যোগ্যতা নির্ধারণে নতুন বিধিনিষেধ আনার উদ্যোগ নেয়। প্রস্তাব অনুযায়ী, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব লিন্ডা ম্যাকমোহন কোনো প্রতিষ্ঠানের কর্মকাণ্ডে ‘উল্লেখযোগ্য অবৈধ উদ্দেশ্য’ রয়েছে বলে নির্ধারণ করলে সেই প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের ঋণ মওকুফের সুবিধা থেকে বাদ দেওয়া যেত। ট্রাম্প প্রশাসনের বক্তব্য ছিল, যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা ও জাতীয় মূল্যবোধের ক্ষতি করে—এমন কর্মকাণ্ডে যুক্ত কিছু সংগঠন এই কর্মসূচির সুবিধা নিচ্ছে। তবে নতুন নিয়মটি কতটা বিস্তৃতভাবে প্রয়োগ করা হতে পারে, তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দেয়। অভিবাসীদের অধিকার, ট্রান্সজেন্ডার ব্যক্তিদের স্বাস্থ্যসেবা এবং প্রশাসনের নীতির সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করে এমন বিভিন্ন বিষয়ে কাজ করা সংগঠনগুলো আশঙ্কা প্রকাশ করে, নতুন বিধি তাঁদের কর্মীদের ঋণ মওকুফের সুযোগ বিপন্ন করতে পারে। কয়েকটি অঙ্গরাজ্য, শহর ও অলাভজনক প্রতিষ্ঠান আদালতে গিয়ে নিয়মটির বিরুদ্ধে আপত্তি জানায়। ম্যাসাচুসেটস অঙ্গরাজ্যের বোস্টনে মার্কিন জেলা বিচারক মিয়ং জুন ডেমোক্র্যাট-নেতৃত্বাধীন অঙ্গরাজ্য, শহর ও অলাভজনক প্রতিষ্ঠানগুলোর পক্ষে রায় দেন। তাঁদের যুক্তি ছিল, প্রস্তাবিত নিয়মের মাধ্যমে শিক্ষা মন্ত্রণালয় অভিবাসন অধিকার ও ট্রান্সজেন্ডার স্বাস্থ্যসেবাসহ প্রশাসনের অপছন্দের বিভিন্ন বিষয়ে কাজ করা সংগঠনকে লক্ষ্যবস্তু করতে পারে। ওয়াশিংটন ডিসিতেও একই ধরনের আরেকটি মামলায় মার্কিন জেলা বিচারক আমির আলি চারটি অলাভজনক প্রতিষ্ঠানের পক্ষে রায় দেন। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে অভিবাসীদের অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠনও ছিল। দুই আদালতের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রশাসন আপিল করলেও শেষ পর্যন্ত দুটি আপিল প্রত্যাহার করা হয়েছে। শিক্ষাঋণগ্রহীতাদের পক্ষে আইনি লড়াই করা সংগঠন স্টুডেন্ট ডিফেন্সের আইনজীবী ড্যান জিবেল এ সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাঁর ভাষ্য, প্রশাসন যেসব সংগঠনের সঙ্গে একমত নয়, সেগুলোর বিরুদ্ধে পাবলিক সার্ভিস লোন ফরগিভনেস কর্মসূচিকে ব্যবহার করার চেষ্টা করেছিল। তিনি এ উদ্যোগকে শুরু থেকেই অগণতান্ত্রিক ও বেআইনি বলে মন্তব্য করেন। জিবেল বলেন, জনসেবায় নিজেদের কর্মজীবন উৎসর্গ করা লাখো মার্কিন নাগরিকের জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্জন। মার্কিন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের জুন থেকে এ কর্মসূচিতে ৩৭ লাখ আবেদন প্রক্রিয়াকরণ করা হয়েছে। ফেডারেল স্টুডেন্ট এইডের তথ্য অনুসারে, একই সময় থেকে কর্মসূচিটির আওতায় মোট ৮৭ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলারের শিক্ষাঋণ মওকুফ করা হয়েছে। তবে দুটি আপিল প্রত্যাহার করলেও এ-সংক্রান্ত সব আইনি প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে—এমনটি নিশ্চিত নয়। পৃথক মামলায় প্রশাসনের আরেকটি আপিল বিচারাধীন রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
চোখের সামনে সাগরে তলিয়ে গেল বাড়ি, ক্যালিফোর্নিয়ার উপকূলজুড়ে বাড়ছে ভাঙন ও বন্যার ঝুঁকি
পরিবারসহ স্বাস্থ্যবিমায় বছরে গুনতে হচ্ছে ৭ হাজার ৪৭১ ডলার, বাড়ছে মার্কিন কর্মীদের ব্যয়
ইরান যুদ্ধ নিয়ে ট্রাম্প ও হেগসেথকে কড়া আক্রমণ ওবামার, বললেন তাঁরা ‘দায়িত্বজ্ঞানহীন’
যুক্তরাষ্ট্রের অধিকাংশ অঙ্গরাজ্যে ক্রেডিট কার্ডের ঋণসীমা কমেছে। নতুন এক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ২০২৬ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিক পর্যন্ত আগের বছরের তুলনায় দেশটির ৫০টি অঙ্গরাজ্যের মধ্যে ৩৬টিতে গ্রাহকদের গড় ক্রেডিট সীমা কমে গেছে। কোথাও এই পতন তুলনামূলক সামান্য হলেও কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে কমেছে উল্লেখযোগ্য হারে। এতে গ্রাহকদের ধার করার সক্ষমতা সীমিত হওয়ার পাশাপাশি ক্রেডিট স্কোরেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ব্যক্তিগত অর্থব্যবস্থা নিয়ে কাজ করা প্রতিষ্ঠান ওয়ালেটহাবের বিশ্লেষণে ইউটাহকে ক্রেডিট সীমা কমার দিক থেকে সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত অঙ্গরাজ্য হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে মিনেসোটা এবং তৃতীয় স্থানে মন্টানা। তবে এখানে একটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ—সবচেয়ে বেশি সামগ্রিক প্রভাবের তালিকায় শীর্ষে থাকা আর শতকরা হিসাবে সবচেয়ে বেশি সীমা কমা এক বিষয় নয়। ইউটাহর বাসিন্দাদের প্রাথমিক ক্রেডিট সীমা তুলনামূলক বেশি থাকায় শতকরা হিসাবে পতন কম হলেও ধার করার সক্ষমতা হারানোর পরিমাণ উল্লেখযোগ্য হয়েছে। মিনেসোটায় ২০২৫ সালের জুন থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত এক বছরের হিসাবে গড় ক্রেডিট সীমা প্রায় ৮ শতাংশ কমেছে। অন্যদিকে, একই সময়ে মন্টানায় গড় সীমা কমেছে প্রায় ১৩ শতাংশ। অর্থাৎ, মন্টানায় শতকরা হিসাবে পতন বেশি হলেও সামগ্রিক পরিস্থিতি মূল্যায়নের সময় প্রাথমিক ক্রেডিট সীমা এবং অন্যান্য আর্থিক সূচকও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। এই বিশ্লেষণে অঙ্গরাজ্যগুলোর গড় ক্রেডিট সীমা এবং সময়ের সঙ্গে সেই সীমার পরিবর্তন—দুটি বিষয়কে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। নতুন খোলা ক্রেডিট কার্ডের সীমা এবং নির্দিষ্ট সময়ে গ্রাহকদের গড় সীমার পরিবর্তনও হিসাবের মধ্যে রাখা হয়েছে। ফলে তালিকাটি শুধু কোথায় সীমা কত শতাংশ কমেছে, তা দেখায় না; বরং আগে থেকে পাওয়া ঋণসুবিধার তুলনায় গ্রাহকেরা কতটা ধার করার সক্ষমতা হারিয়েছেন, সেটিও বিবেচনা করে। ক্রেডিট কার্ডের সীমা কমে যাওয়া কেন গুরুত্বপূর্ণ, তা বুঝতে হলে ক্রেডিট ইউটিলাইজেশন সম্পর্কে জানা দরকার। একজন গ্রাহকের মোট অনুমোদিত ক্রেডিট সীমার কতটা তিনি ব্যবহার করছেন, সেটিই ক্রেডিট ইউটিলাইজেশন। ধরুন, কারও ক্রেডিট কার্ডের সীমা ১০ হাজার ডলার এবং তিনি ২ হাজার ডলার ব্যবহার করেছেন। সে ক্ষেত্রে তাঁর ব্যবহারের হার ২০ শতাংশ। কিন্তু ব্যাংক যদি সীমা কমিয়ে ৫ হাজার ডলার করে দেয় এবং বকেয়া ২ হাজার ডলারই থাকে, তাহলে ব্যবহারের হার বেড়ে দাঁড়াবে ৪০ শতাংশে। অর্থাৎ, নতুন করে কোনো কেনাকাটা না করলেও সীমা কমে যাওয়ার কারণে গ্রাহকের ক্রেডিট ব্যবহারের অনুপাত বেড়ে যেতে পারে। এই অনুপাত ক্রেডিট স্কোর নির্ধারণের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর একটি। তাই কার্ডের সীমা কমে গেলে কারও ক্রেডিট স্কোর কমে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। তবে প্রত্যেক গ্রাহকের ক্ষেত্রে একই ফল হবে, এমন নয়। ক্রেডিট ইতিহাস, বকেয়া ঋণ, পরিশোধের অভ্যাস এবং অন্যান্য বিষয়ের ওপরও স্কোর নির্ভর করে। ক্রেডিট কার্ডের সীমা কমানোর পেছনে একাধিক কারণ থাকতে পারে। কারও ক্রেডিট কার্ডের বকেয়া দ্রুত বেড়ে গেলে, নির্ধারিত সময়ে বিল পরিশোধ না করলে, ক্রেডিট স্কোর কমে গেলে কিংবা আয় কমে গেলে ব্যাংক বা কার্ড প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান ঋণসীমা কমানোর সিদ্ধান্ত নিতে পারে। ঋণদাতারা সাধারণত গ্রাহকের আর্থিক পরিস্থিতি ও ঋণ পরিশোধের ঝুঁকি বিবেচনা করে এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেয়। মূল্যস্ফীতিও এ পরিস্থিতিতে ভূমিকা রাখতে পারে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ও সেবার দাম বাড়লে অনেক পরিবারকে আগের তুলনায় বেশি অর্থ খরচ করতে হয়। কারও হাতে পর্যাপ্ত নগদ অর্থ না থাকলে তিনি দৈনন্দিন ব্যয়ের জন্য ক্রেডিট কার্ডের ওপর বেশি নির্ভর করতে পারেন। এতে কার্ডের বকেয়া বাড়ে এবং মোট অনুমোদিত সীমার বড় অংশ ব্যবহার হয়ে যায়। একই সঙ্গে সময়মতো বিল পরিশোধ করা কঠিন হয়ে পড়লে ঋণদাতার কাছে গ্রাহকের ঝুঁকি বেড়ে যেতে পারে। ক্রেডিট সীমা কমে গেলে গ্রাহকের দৈনন্দিন ব্যয় সামলানোর সক্ষমতাও প্রভাবিত হতে পারে। জরুরি চিকিৎসা, গাড়ি মেরামত কিংবা অন্য কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত খরচের সময় কার্ডে পর্যাপ্ত সীমা না থাকলে আর্থিক চাপ বাড়তে পারে। তবে কম সীমার একটি সম্ভাব্য দিক হলো, এতে কিছু গ্রাহক অপ্রয়োজনীয় কেনাকাটা কমিয়ে ঋণ নিয়ন্ত্রণে রাখার সুযোগ পেতে পারেন। এ পরিস্থিতিতে গ্রাহকদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো ক্রেডিট কার্ডের বকেয়া নিয়ন্ত্রণে রাখা, সময়মতো বিল পরিশোধ করা এবং কার্ডের অনুমোদিত সীমার তুলনায় ব্যবহার যতটা সম্ভব কম রাখা। ক্রেডিট সীমা কমে গেলে কার্ড প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করে সিদ্ধান্তের কারণ জানতে চাওয়া যেতে পারে। নিজের ক্রেডিট রিপোর্ট ও স্কোর নিয়মিত পরীক্ষা করাও উপকারী। তবে এই পরিসংখ্যান থেকে এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক হবে না যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিটি ক্রেডিট কার্ডধারীর সীমা কমানো হয়েছে। বিশ্লেষণটি অঙ্গরাজ্যভিত্তিক গড় পরিবর্তন ও বিভিন্ন সূচকের ওপর তৈরি। ব্যক্তিগতভাবে কারও সীমা কমবে কি না, তা নির্ভর করে তাঁর আর্থিক পরিস্থিতি এবং সংশ্লিষ্ট ঋণদাতা প্রতিষ্ঠানের সিদ্ধান্তের ওপর।
ডেলাইট সেভিং টাইম শেষ হচ্ছে শিগগিরই, যুক্তরাষ্ট্রে এক ঘণ্টা পিছিয়ে যাবে সময়
এক রাতের আগুনে শেষ পুরো পরিবার! মা ও চার সন্তানকে হারিয়ে শোকে স্তব্ধ টেক্সাস
নার্সিং হোমে নার্স নিয়োগে বড় উদ্যোগ ট্রাম্পের, তিন বছর কাজ করলে মিলতে পারে ৪০ হাজার ডলার
যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের অধীনে আটক অভিবাসীদের জামিনে মুক্তির আবেদন করার জন্য সাংবিধানিকভাবে শুনানি পাওয়ার অধিকার নেই বলে রায় দিয়েছেন একটি ফেডারেল আপিল আদালত। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) দেওয়া ১০-৭ ভোটের এই রায় ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অভিবাসননীতির পক্ষে বড় আইনি সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে। রায়টি কার্যকর থাকলে টেক্সাস, লুইজিয়ানা ও মিসিসিপি অঙ্গরাজ্যে আটক অভিবাসীদের মুক্তির জন্য আদালতের মাধ্যমে জামিন চাওয়ার সুযোগ উল্লেখযোগ্যভাবে সীমিত হতে পারে। নিউ অরলিন্সভিত্তিক যুক্তরাষ্ট্রের পঞ্চম সার্কিট কোর্ট অব আপিলসের সংখ্যাগরিষ্ঠ বিচারকরা বলেছেন, সংবিধানের পঞ্চম সংশোধনীর অধীনে থাকা যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া বা ‘ডিউ প্রসেস’-এর সুরক্ষা আটক অভিবাসীদের জামিন শুনানির নিশ্চয়তা দেয় না। আদালতের এই সিদ্ধান্তে ট্রাম্প প্রশাসনের সেই অবস্থানই সমর্থন পেয়েছে, যেখানে নির্দিষ্ট শ্রেণির অনথিভুক্ত অভিবাসীদের বহিষ্কারের প্রক্রিয়া চলাকালে জামিন ছাড়াই আটক রাখার পক্ষে যুক্তি দেওয়া হয়েছে। রায়ের পক্ষে অবস্থান নেওয়া ট্রাম্প মনোনীত বিচারক কোরি উইলসন তাঁর লিখিত পর্যবেক্ষণে বলেন, আটক ব্যক্তিরা যদি শারীরিকভাবে বন্দি না থাকার স্বাধীনতা চান, তাহলে তাঁদের যেকোনো সময় যুক্তরাষ্ট্র ছেড়ে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে। তাঁর এই বক্তব্য আদালতের সংখ্যাগরিষ্ঠ অবস্থানের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তবে এই রায়কে সব ধরনের অভিবাসীর ক্ষেত্রে একইভাবে প্রযোজ্য বলে ধরে নেওয়া ঠিক হবে না। মামলাটি মূলত এমন তিন অভিবাসীকে ঘিরে, যাঁরা যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছিলেন, কিন্তু তাঁদের বিরুদ্ধে বৈধভাবে দেশটিতে প্রবেশের অনুমোদন না থাকার বিষয়টি বিবেচনায় আসে। আদালত বলেছে, এ ধরনের ব্যক্তিরা কংগ্রেসের প্রণীত অভিবাসন আইনে যে প্রক্রিয়াগত অধিকার পেয়েছেন, তার বাইরে অতিরিক্ত শুনানির সাংবিধানিক নিশ্চয়তা দাবি করতে পারবেন না। মামলার সঙ্গে জড়িত তিন ব্যক্তি মেক্সিকো ও হন্ডুরাসের নাগরিক। তাঁদের মধ্যে দুজন মেক্সিকোর এবং একজন হন্ডুরাসের নাগরিক। ২০২৫ সালের নভেম্বর থেকে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির মধ্যে টেক্সাসে নিয়মিত ট্রাফিক তল্লাশির সময় তাঁদের আটক করা হয়। পরে তাঁদের যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগ সংস্থা আইসিইর (আইসিই) হেফাজতে পাঠানো হয়। তাঁদের আইনজীবীদের বক্তব্য অনুযায়ী, তিনজনই অন্তত ১৪ বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছিলেন, কাজ করতেন এবং তাঁদের সন্তানদের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকও রয়েছে। এর আগে নিম্ন আদালতের বিচারকরা তাঁদের জামিন শুনানির সুযোগ না দিয়ে আটক রাখাকে সাংবিধানিক যথাযথ প্রক্রিয়ার পরিপন্থী বলে বিবেচনা করেছিলেন। ওই সিদ্ধান্তের পর তিনজনই আইসিইর হেফাজত থেকে মুক্তি পান। ট্রাম্প প্রশাসন সেই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করে। প্রশাসনের যুক্তি ছিল, সংশ্লিষ্ট অভিবাসন আইন অনুযায়ী বহিষ্কারের অপেক্ষায় থাকা নির্দিষ্ট শ্রেণির অনথিভুক্ত অভিবাসীদের জামিন শুনানি ছাড়াই আটক রাখা যায়। চলতি বছরের জুলাইয়ে পঞ্চম সার্কিটের তিন বিচারকের একটি প্যানেল রায় দিয়েছিল, আইসিই ৯০ দিনের বেশি কাউকে আটক রাখলে তাঁকে জামিনে মুক্তির আবেদন জানানোর জন্য শুনানির সুযোগ দিতে হবে। তবে পুরো আদালত মামলাটি পুনর্বিবেচনার সিদ্ধান্ত নেয়। শুক্রবারের নতুন রায়ে আগের ওই সিদ্ধান্ত বাতিল করে সংখ্যাগরিষ্ঠ বিচারকরা প্রশাসনের অবস্থানকে সমর্থন করেন। এই রায়ের গুরুত্ব সবচেয়ে বেশি টেক্সাস ও লুইজিয়ানায়, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের অন্য যেকোনো অঙ্গরাজ্যের তুলনায় বেশি অভিবাসী আটক রয়েছেন। পঞ্চম সার্কিটের এখতিয়ারের মধ্যে থাকা মিসিসিপিও এই সিদ্ধান্তের আওতায় পড়বে। ফলে এসব অঙ্গরাজ্যে আটক ব্যক্তিদের মুক্তির আবেদন এবং তাঁদের মামলার আইনি লড়াই আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা দপ্তরের (ডিএইচএস) সাধারণ পরামর্শক জেমস পার্সিভাল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রায়টিকে স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি এটিকে পঞ্চম সার্কিটে বাধ্যতামূলক আটকের নীতির পক্ষে বড় জয় বলে অভিহিত করেন। ট্রাম্প প্রশাসন দীর্ঘদিন ধরেই অভিবাসন আইন কঠোরভাবে প্রয়োগ এবং বহিষ্কারের কার্যক্রম বাড়ানোর ওপর জোর দিয়ে আসছে। অন্যদিকে, রায়ের বিরোধিতা করেছেন কয়েকজন বিচারক। তাঁদের একজন বিচারক ডানা ডগলাস সতর্ক করে লিখেছেন, নির্বাহী বিভাগের হাতে কাউকে গ্রেপ্তার করে অনির্দিষ্টকাল আটক রাখার নিয়ন্ত্রণহীন ক্ষমতা ইতিহাসের উদ্বেগজনক অধ্যায়ের কথা মনে করিয়ে দেয়। তাঁর মতে, এমন ক্ষমতার সীমা দুর্বল হয়ে পড়লে ব্যক্তিস্বাধীনতা ও আইনি সুরক্ষার প্রশ্নে গুরুতর উদ্বেগ তৈরি হতে পারে। মামলায় অভিবাসীদের পক্ষে থাকা ন্যাশনাল ইমিগ্রেশন প্রজেক্টের আইনজীবী এলি নর্টনও রায়ের সমালোচনা করেছেন। তাঁর ভাষ্য, এই সিদ্ধান্তের ফলে কোনো যথাযথ কারণ ছাড়াই আরও বেশি মানুষকে আটক রাখার সুযোগ তৈরি হতে পারে। এর পরিণতি শুধু আটক ব্যক্তিদের ওপর নয়, তাঁদের পরিবার ও স্থানীয় সম্প্রদায়ের ওপরও গভীর প্রভাব ফেলতে পারে। এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টও অভিবাসীদের জামিন শুনানি নিয়ে সংশ্লিষ্ট একটি মামলা বিবেচনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে সেখানে মূল প্রশ্ন হলো, ফেডারেল অভিবাসন আইনে জামিন শুনানির সুযোগ দেওয়া বাধ্যতামূলক কি না। পঞ্চম সার্কিটের শুক্রবারের রায়ে বিবেচনা করা হয়েছে আলাদা একটি প্রশ্ন—সংবিধান নিজেই এমন শুনানির অধিকার নিশ্চিত করে কি না। ফলে সুপ্রিম কোর্টের পরবর্তী সিদ্ধান্ত এই মামলার আইনি পরিস্থিতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে, যদিও দুটি মামলার প্রশ্ন এক নয়। আপাতত পঞ্চম সার্কিটের রায় টেক্সাস, লুইজিয়ানা ও মিসিসিপিতে আটক অভিবাসীদের জামিন শুনানি পাওয়ার সাংবিধানিক দাবিকে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে। তবে বৃহত্তর আইনি বিতর্ক এখনো শেষ হয়নি। সুপ্রিম কোর্টের পরবর্তী পদক্ষেপ এবং অন্যান্য আদালতের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে যুক্তরাষ্ট্রে আটক অভিবাসীদের আইনি সুরক্ষার ভবিষ্যৎ কোন দিকে এগোয়।
হিউস্টনের স্কুলে বন্দুক উদ্ধারের ঘটনায় তৎপর পুলিশ, আটক এক শিক্ষার্থী
যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়ায় ফুটবল দলের বাস উল্টে আ হত ২২ শিক্ষার্থী, হেলিকপ্টারে হাসপাতালে একজন