সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আমেরিকা

আমেরিকায় ফ্যামিলি স্পন্সরশিপে নতুন গাইডলাইন, আবেদনকারীদের জন্য যা জানা জরুরি

বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ: আগস্ট ১৫, ২০২৬ ৯:৩৭
যুক্তরাষ্ট্রে বর্তমানে প্রচলিত ফ্যামিলি স্পন্সরশিপ আইন বহাল রয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে বর্তমানে প্রচলিত ফ্যামিলি স্পন্সরশিপ আইন বহাল রয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে ফ্যামিলি স্পন্সরশিপের নিয়ম নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে। একদিকে ২০২৫ সালের ১ আগস্ট থেকে ইউএসসিআইএস ফ্যামিলি-বেসড ইমিগ্র্যান্ট পিটিশন যাচাইয়ে নতুন নির্দেশনা কার্যকর করেছে, অন্যদিকে কংগ্রেসে উত্থাপিত একটি বিল পাস হলে বাবা-মা, ভাই-বোন ও প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের স্পন্সর করার বর্তমান সুযোগের বড় অংশই বন্ধ হয়ে যেতে পারে। তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, প্রস্তাবিত সেই বিল এখনো আইন হয়নি। বর্তমানে প্রচলিত ফ্যামিলি স্পন্সরশিপ আইনই বহাল রয়েছে।

 

ইউএসসিআইএস ২০২৫ সালের ১ আগস্ট ফ্যামিলি-বেসড ইমিগ্রেশন নিয়ে পলিসি ম্যানুয়ালে নতুন নির্দেশনা যোগ করে। এটি ওই তারিখে নতুন করে জমা দেওয়া আবেদনের পাশাপাশি তখন পেন্ডিং থাকা পিটিশনের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়।

 

নতুন নির্দেশনায় ইউএসসিআইএস স্পষ্ট করেছে, ফ্যামিলি-বেসড গ্রিন কার্ডের ভিত্তি যে পারিবারিক সম্পর্ক, সেটি সত্য ও আইনসম্মত কি না তা যাচাইয়ে প্রয়োজনীয় প্রমাণ পরীক্ষা করা হবে। বিশেষ করে বিয়ের ভিত্তিতে করা পিটিশনে বৈবাহিক সম্পর্কের বৈধতা এবং আবেদনকারী সংশ্লিষ্ট ইমিগ্রেশন সুবিধা পাওয়ার যোগ্য কি না, তা গুরুত্বপূর্ণ।

 

ইউএসসিআইএস কর্মকর্তারা প্রয়োজন মনে করলে পিটিশনার ও বেনিফিশিয়ারিকে ইন্টারভিউতে ডাকতে পারেন। ফলে নতুন নিয়মকে সব ফ্যামিলি পিটিশনের জন্য বাধ্যতামূলক ইন-পারসন ইন্টারভিউ হিসেবে ব্যাখ্যা করা ঠিক নয়। বরং কোন পরিস্থিতিতে ইন্টারভিউ প্রয়োজন হতে পারে, সে বিষয়ে ইউএসসিআইএস তার কর্মকর্তাদের নির্দেশনা আরও স্পষ্ট করেছে।

 

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে নোটিস টু অ্যাপিয়ার বা এনটিএ। শুধু আই-১৩০ পিটিশন অনুমোদিত হওয়া যুক্তরাষ্ট্রে বৈধ ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাসের নিশ্চয়তা দেয় না। ইউএসসিআইএসের নীতিতে বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তি আইন অনুযায়ী রিমুভেবল হলে প্রযোজ্য পরিস্থিতিতে এনটিএ ইস্যু করা হতে পারে। এনটিএ হচ্ছে ইমিগ্রেশন কোর্টে রিমুভাল প্রসিডিংস শুরু করার আনুষ্ঠানিক নোটিস।

 

এর মধ্যেই ফ্যামিলি ইমিগ্রেশনের কাঠামো আরও বড়ভাবে পরিবর্তনের প্রস্তাব এসেছে কংগ্রেসে। রিপাবলিকান কংগ্রেসম্যান ব্যারি মুর ২০২৬ সালের ২৯ এপ্রিল এইচআর ৮৫৮৬ বা ‘আমেরিকানস ফার্স্ট ইমিগ্রেশন অ্যাক্ট’ প্রতিনিধি পরিষদে উত্থাপন করেন। পরদিন তার কার্যালয় আনুষ্ঠানিকভাবে বিলটির বিস্তারিত প্রকাশ করে।

 

বিলটি বর্তমান অবস্থায় পাস হলে ফ্যামিলি-বেসড ইমিগ্রেশনের সবচেয়ে বড় পরিবর্তন হবে স্পন্সর করার যোগ্য আত্মীয়ের তালিকায়। প্রস্তাবে মার্কিন নাগরিকদের ‘ইমিডিয়েট রিলেটিভ’ ক্যাটাগরি থেকে বাবা-মাকে বাদ দিয়ে মূলত স্বামী বা স্ত্রী এবং অপ্রাপ্তবয়স্ক সন্তানকে রাখার কথা বলা হয়েছে। একই সঙ্গে বর্তমান আইনের এক্সটেন্ডেড ফ্যামিলি প্রেফারেন্স ক্যাটাগরিগুলোর বড় অংশ বাতিল করার প্রস্তাব রয়েছে।

 

বর্তমান আইনে মার্কিন নাগরিকরা নির্দিষ্ট শর্তে স্বামী বা স্ত্রী, সন্তান, বাবা-মা এবং ভাই-বোনের জন্য পিটিশন করতে পারেন। গ্রিন কার্ডধারীরাও নির্দিষ্ট ক্যাটাগরিতে স্বামী বা স্ত্রী এবং অবিবাহিত সন্তানের জন্য আবেদন করতে পারেন। কাজেই এখনই বাবা-মা বা ভাই-বোনের স্পন্সরশিপ বন্ধ হয়ে গেছে এমন দাবি সঠিক নয়।

 

আমেরিকানস ফার্স্ট ইমিগ্রেশন অ্যাক্টে ডাইভারসিটি ভিসা বা ডিভি লটারি আইনগতভাবে বাতিল করার প্রস্তাবও রয়েছে। পাশাপাশি বর্তমান এমপ্লয়মেন্ট-বেসড গ্রিন কার্ড কাঠামোর পরিবর্তে পয়েন্টভিত্তিক মেরিট সিস্টেম চালুর কথা বলা হয়েছে। সেখানে শিক্ষা, ইংরেজিতে দক্ষতা, উচ্চ বেতনের চাকরির অফারসহ বিভিন্ন যোগ্যতার ভিত্তিতে পয়েন্ট দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

 

ডিভি লটারি নিয়ে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য রয়েছে। ডিভি প্রোগ্রাম আইন থেকে বিলুপ্ত হয়নি। ২০২৫ সালের ২৩ ডিসেম্বর স্টেট ডিপার্টমেন্ট ডাইভারসিটি ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেয় এবং স্ক্রিনিং ও ভেটিং ব্যবস্থা পর্যালোচনার কথা জানায়। অর্থাৎ প্রশাসনিকভাবে ভিসা ইস্যু স্থগিত রাখা এবং কংগ্রেসের মাধ্যমে ডিভি প্রোগ্রাম পুরোপুরি বাতিল করা এক বিষয় নয়।

 

বাংলাদেশিদের জন্য বর্তমান পরিস্থিতিতে আরও বড় একটি বিষয় রয়েছে। স্টেট ডিপার্টমেন্টের ২০২৬ সালের ২ ফেব্রুয়ারির নির্দেশনা অনুযায়ী, বাংলাদেশসহ বেশ কয়েকটি দেশের নাগরিকদের ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু ২১ জানুয়ারি থেকে সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে, যখন সংশ্লিষ্ট স্ক্রিনিং ও পাবলিক বেনিফিটস নীতি পর্যালোচনা চলছে। ফলে বাংলাদেশ থেকে ফ্যামিলি-বেসড ইমিগ্র্যান্ট ভিসার প্রক্রিয়ায় থাকা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে শুধু আই-১৩০ নিয়ম নয়, এই আলাদা ভিসা-ইস্যু নীতিটিও গুরুত্বপূর্ণ।

 

এদিকে অ্যাফিডেভিট অব সাপোর্ট বা আই-৮৬৪ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্রেডিট স্কোর, তিন বছরের সার্টিফায়েড ট্যাক্স রিটার্ন এবং ব্যাংক অ্যাকাউন্টের তথ্য বাধ্যতামূলক হয়ে গেছে বলে যেসব দাবি ছড়াচ্ছে, সেগুলোকে বর্তমান কার্যকর নিয়ম হিসেবে ধরে নেওয়া উচিত নয়। কোনো প্রস্তাবিত পরিবর্তন এবং বর্তমানে কার্যকর আইনের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। নতুন কোনো বিধি কার্যকর হলে তার কার্যকর হওয়ার তারিখ ও চূড়ান্ত শর্ত সরকারি ঘোষণায় নির্ধারিত হয়।

 

তবে আই-৮৬৪ সই করার পর স্পন্সরের আর্থিক দায় দীর্ঘমেয়াদি হতে পারে। শুধু ডিভোর্স হয়ে গেলেই সাধারণভাবে সেই দায় শেষ হয়ে যায় না। আইন অনুযায়ী নির্দিষ্ট ঘটনা ঘটলে স্পন্সরের দায়িত্ব শেষ হতে পারে।

 

সব মিলিয়ে এখন ফ্যামিলি স্পন্সরশিপ বন্ধ হয়নি এবং বাবা-মা বা ভাই-বোনকে স্পন্সর করার বর্তমান আইনও বাতিল হয়নি। কিন্তু ইউএসসিআইএসের যাচাই ও ভেটিং নীতি আগের তুলনায় কঠোর হয়েছে এবং কংগ্রেসে এমন একটি বিল রয়েছে, যা ভবিষ্যতে আইন হলে পুরো ফ্যামিলি ইমিগ্রেশন ব্যবস্থাই উল্লেখযোগ্যভাবে বদলে দিতে পারে। তাই আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত না নিয়ে নিজের ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাস ও পারিবারিক পরিস্থিতি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত করা এবং জটিল ক্ষেত্রে লাইসেন্সপ্রাপ্ত ইমিগ্রেশন অ্যাটর্নির পরামর্শ নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
মোহাম্মদ আব্দুর রহিম
মেয়েকে ড্রাইভিং শেখাতে গিয়ে বাংলাদেশি বাবার মৃত্যু, পরিবারের পাশে দাঁড়াতে কমিউনিটির তহবিল সংগ্রহ

মিশিগানের ওয়ারেনে মেয়েকে গাড়ি চালানো শেখানোর সময় মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন বাংলাদেশি আমেরিকান মোহাম্মদ আব্দুর রহিম। রোববার বিকেলে নিজ বাসার সামনে ঘটে যাওয়া এ ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে পরিবার ও মিশিগানের বাংলাদেশি কমিউনিটিতে। তার পরিবারের পাশে দাঁড়াতে কমিউনিটির উদ্যোগে তহবিল সংগ্রহও শুরু হয়েছে।    স্থানীয় সময় ২৭ সেপ্টেম্বর রোববার বিকেল প্রায় ৪টার দিকে ওয়ারেনের ওয়ার্নার অ্যাভিনিউয়ের ২৪ হাজার ব্লকে দুর্ঘটনাটি ঘটে। পুলিশ ও স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ৬২ বছর বয়সী আব্দুর রহিম তার ১৮ বছর বয়সী মেয়েকে গাড়ি চালানো শেখাচ্ছিলেন। গাড়ি ঘুরিয়ে পার্ক করার অনুশীলনের একপর্যায়ে গাড়িটি হঠাৎ পেছনের দিকে চলে গিয়ে তাকে ধাক্কা দেয় এবং কিছু দূর পর্যন্ত টেনে নিয়ে যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।    দুর্ঘটনার সময় তার মেয়ে ঘটনাস্থলেই ছিলেন এবং তদন্তকারীদের সঙ্গে সহযোগিতা করছেন। ঘটনাটি তদন্ত করছে ওয়ারেন পুলিশ বিভাগের ট্রাফিক ক্র্যাশ রিকনস্ট্রাকশন ইউনিট। পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিক তদন্তে দুর্ঘটনার সঙ্গে মাদক বা অ্যালকোহলের সংশ্লিষ্টতার কোনো ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি। প্রত্যক্ষদর্শী বা ঘটনার বিষয়ে তথ্য থাকা ব্যক্তিদের তদন্তকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ করার আহ্বানও জানিয়েছে পুলিশ।    আমেরিকা বাংলার কমিউনিটি সূত্রে নিহতের নাম মোহাম্মদ আব্দুর রহিম এবং তার বাংলাদেশি পরিচয় নিশ্চিত করা হয়েছে। পরিবার ও কমিউনিটি সূত্রে জানা গেছে, প্রায় সাত বছর আগে বড় মেয়ের মাধ্যমে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান। তিনি দুই মেয়ে ও এক ছেলের বাবা ছিলেন। তার একমাত্র ছেলে বর্তমানে বাংলাদেশে রয়েছেন বলে পরিবার সূত্রে জানা গেছে। ঢাকার ধানমন্ডিতে তাদের পারিবারিক বাড়ি রয়েছে বলেও জানা গেছে।    আব্দুর রহিমের আকস্মিক মৃত্যুতে মিশিগানের বাংলাদেশি কমিউনিটিতে গভীর শোকের সৃষ্টি হয়েছে। যে বাবা মেয়েকে গাড়ি চালানো শেখাতে পাশে দাঁড়িয়েছিলেন, সেই শেখানোর সময়ই ঘটে গেল তার জীবনের শেষ দুর্ঘটনা।   এদিকে পরিবারের আর্থিক সংকটও আরও গভীর হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আব্দুর রহিম ছিলেন পরিবারের প্রধান উপার্জনকারী। তার আকস্মিক মৃত্যুতে একদিকে স্বজন হারানোর শোক, অন্যদিকে জানাজা ও দাফনের খরচ, বাসাভাড়া, খাবার, বিল এবং দৈনন্দিন ব্যয়ের চাপ পরিবারের ওপর এসে পড়েছে। দুর্ঘটনার সঙ্গে জড়িত মেয়েটিও কঠিন মানসিক সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে বলে পরিবারকে সহায়তার জন্য শুরু করা তহবিল সংগ্রহের আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।   পরিবারের সম্মতিতে তাদের পাশে দাঁড়াতে অনলাইনে তহবিল সংগ্রহ শুরু করা হয়েছে। সামর্থ্য অনুযায়ী আর্থিক সহায়তা করার জন্য কমিউনিটির সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে। আর্থিকভাবে সহযোগিতা করা সম্ভব না হলে তহবিল সংগ্রহের তথ্যটি অন্যদের কাছে পৌঁছে দেওয়া এবং পরিবারের জন্য দোয়া করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।   মোহাম্মদ আব্দুর রহিমের মৃত্যুতে শোকাহত পরিবারটির পাশে দাঁড়াতে মিশিগানের বাংলাদেশি কমিউনিটির বিভিন্ন পর্যায়ের মানুষ এগিয়ে আসছেন। একই সঙ্গে দুর্ঘটনাটির তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ঘটনার বিস্তারিত পরিস্থিতি নিয়ে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত জানায়নি পুলিশ।     সহযোগিতা করতে: https://www.launchgood.com/v4/campaign/help_a_grieving_warren_family?src=6954850

প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২৬ ২৩:২৩
নিউইয়র্কে বাংলাদেশ কনস্যুলেটে  কনস্যুলার ফি পরিশোধ

নিউইয়র্কে বাংলাদেশ কনস্যুলেটে ১ অক্টোবর থেকে কনস্যুলার ফি পরিশোধে নতুন নিয়ম

যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসীদের তৃতীয় দেশে ফেরত পাঠানোর পথ খুলল সুপ্রিম কোর্ট

যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসীদের তৃতীয় দেশে ফেরত পাঠানোর পথ খুলল সুপ্রিম কোর্ট

নাহিদুল হক খান সাহেলের মেয়ে নাওয়ার খান

জর্জিয়া বার পরীক্ষায় উত্তীর্ণ নাহিদুল হক খান সাহেলের মেয়ে নাওয়ার খান, আইনজীবী হিসেবে শপথ

ডাকাতির নাটক সাজিয়ে ইউ ভিসার চেষ্টা
ডাকাতির নাটক সাজিয়ে ইউ ভিসার চেষ্টা, ক্যামেরায় ফাঁসের পর দোকানকর্মীকে ভারতে ফেরত

যুক্তরাষ্ট্রে অপরাধের শিকার দেখিয়ে এক দোকানকর্মীর জন্য ইউ ভিসা পাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন সাউথ ক্যারোলাইনার বিরেনকুমার রমেশভাই প্যাটেল। সেই উদ্দেশ্যে দোকানে সাজানো ডাকাতির ঘটনায় জড়িত থাকার কথা তিনি ফেডারেল আদালতে স্বীকার করেছেন। মার্কিন বিচার বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ঘটনায় জড়িত ভারতীয় নাগরিক দোকানকর্মীকে ভারতে ফেরত পাঠানো হয়েছে।   তদন্তে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ৯ মার্চ ফেয়ারফিল্ড কাউন্টির একটি দোকানে ঘটনাটি সাজানো হয়। প্যাটেল মুখ ঢেকে ডাকাতের ভূমিকায় ছিলেন। ঘটনার পর জরুরি সেবা নম্বরে ফোন করা হয় এবং পুলিশ এসে দোকানের নজরদারি ক্যামেরার ভিডিও দেখে। প্রথমে ঘটনাটি ডাকাতি মনে হলেও ভিডিও আরও খতিয়ে দেখে তদন্তকারীরা সেটি সাজানো বলে শনাক্ত করেন।   পরে প্যাটেল ও দোকানকর্মী পুলিশের ঘটনার প্রতিবেদন সংগ্রহ করেন। এরপর দোকানকর্মীকে গুরুতর হামলার শিকার হিসেবে দেখিয়ে ইউ ভিসার আবেদনের জন্য প্রয়োজনীয় একটি প্রত্যয়নপত্রে শেরিফের স্বাক্ষর চাওয়া হয়। মার্কিন বিচার বিভাগের বক্তব্য, এই প্রক্রিয়ার লক্ষ্য ছিল দোকানকর্মীর জন্য অভিবাসন সুবিধা পাওয়া।   ইউ ভিসা নির্দিষ্ট কিছু অপরাধের শিকার ব্যক্তিদের জন্য একটি সাময়িক অভিবাসন মর্যাদা। শর্ত পূরণ করলে এর মাধ্যমে পরে গ্রিন কার্ডের আবেদন করার পথ তৈরি হতে পারে। তাই এ ঘটনায় সরাসরি ‘গ্রিন কার্ড নেওয়ার জন্য ডাকাতি’ বললে ভিসা ও স্থায়ী বসবাসের মর্যাদার পার্থক্যটি আড়াল হয়।    প্যাটেল ভিসা জালিয়াতির ষড়যন্ত্রে দোষ স্বীকার করেছেন, তবে তাঁর সাজা এখনো ঘোষণা করা হয়নি। বিচার বিভাগ জানিয়েছে, এ অপরাধে তাঁর সর্বোচ্চ ১০ বছর কারাদণ্ড হতে পারে। বিচারক সাজা ঘোষণার আগে সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদন পর্যালোচনা করবেন। দোকানকর্মীকে ইতিমধ্যে ভারতে ফেরত পাঠানো হয়েছে; প্যাটেলকে নয়।

প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২৬ ২১:০
টেক্সাসের বেলেয়ারের কিটিং পরিবারের সদস্য

ট্রাম্পকে ভোট দেওয়া টেক্সাসের পরিবারে ইমিগ্রেশন জটিলতায় বিচ্ছেদের শঙ্কা

কারাবন্দি নারীর অর্থ দেখভালের দায়িত্ব নিয়ে ৬৫ হাজার ডলার হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ, গ্রেপ্তার সরকারি কর্মী

কারাবন্দি নারীর অর্থ দেখভালের দায়িত্ব নিয়ে ৬৫ হাজার ডলার হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ, গ্রেপ্তার সরকারি কর্মী

যুক্তরাষ্ট্রে ট্রাম্পের প্রচারমূলক বিজ্ঞাপনে সরকারি তহবিলের ২০ মিলিয়ন ডলার ব্যয়ের অভিযোগ

যুক্তরাষ্ট্রে ট্রাম্পের প্রচারমূলক বিজ্ঞাপনে সরকারি তহবিলের ২০ মিলিয়ন ডলার ব্যয়ের অভিযোগ

নিউইয়র্কের বাফেলোতে বাংলাদেশ কনস্যুলেটের ভ্রাম্যমাণ সেবা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধের ঘোষণা
নিউইয়র্কের বাফেলোতে বাংলাদেশ কনস্যুলেটের ভ্রাম্যমাণ সেবা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধের ঘোষণা

নিউইয়র্কের বাফেলো ও পশ্চিম নিউইয়র্ক এলাকায় বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য অপ্রত্যাশিত এক দুঃসংবাদ এসেছে। বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল নিউইয়র্কের পক্ষ থেকে বাফেলোতে তাদের ভ্রাম্যমাণ কনসুলার সেবা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।   সোমবার রাতে কনস্যুলেটের অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘অনিবার্য কারণবশত’ বাফেলোতে এই সেবা স্থগিত করা হলো। তবে বিজ্ঞপ্তিতে সেবা বন্ধের সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ উল্লেখ করা হয়নি, যা স্থানীয় কমিউনিটিতে নানা জল্পনা-কল্পনা ও উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।   নিউইয়র্ক সিটি থেকে প্রায় ৩৭০ মাইল দূরে অবস্থিত বাফেলোতে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বাংলাদেশি বসবাস করেন। দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে পাসপোর্ট ও অন্যান্য জরুরি সেবা নেওয়ার ভোগান্তি কমাতে কনস্যুলেট নিয়মিতভাবে সেখানে ভ্রাম্যমাণ সেবা প্রদান করে আসছিল। আগামী ১০, ১১ ও ১২ অক্টোবর বাফেলোতে এই সেবার সময়সূচি আগে থেকেই নির্ধারিত ছিল এবং এবারই প্রথম সেখানে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) সেবা দেওয়ার কথাও ছিল।   কিন্তু আকস্মিক এই ঘোষণায় প্রবাসীদের সেই প্রত্যাশা সম্পূর্ণ অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। কনস্যুলেটের বর্তমান সরকারি ওয়েবসাইটে বাফেলোর সেবা বন্ধের কারণ বা পুনরায় চালুর নতুন কোনো সময়সূচি এখনো প্রকাশ করা হয়নি।   সেবা বন্ধের প্রকৃত কারণ নিয়ে বাফেলোর বাংলাদেশি কমিউনিটিতে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা চলছে। স্থানীয় একাধিক সূত্র মতে, কনসুলার সেবা আয়োজন ও ব্যবস্থাপনার সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন কমিউনিটি সংগঠনের মধ্যে নেতৃত্ব, ব্যবস্থাপনা ও সমন্বয় নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই তীব্র মতপার্থক্য রয়েছে।   এর আগে ২০২৪ ও ২০২৬ সালেও সংগঠনগত বিরোধ এবং স্বেচ্ছাসেবক কমিটি গঠন নিয়ে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে আলোচনা হয়েছিল। অনেকেই ধারণা করছেন, প্রবাসী সংগঠনগুলোর এই অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব ও সমন্বয়হীনতার কারণেই কনস্যুলেট সেবা স্থগিতের মতো কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে। যদিও কনস্যুলেটের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো কারণ স্পষ্ট করা হয়নি।   সাধারণ প্রবাসীরা এই পরিস্থিতিতে চরম হতাশা প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, সংগঠনের নেতৃত্ব বা ব্যবস্থাপনা নিয়ে কোনো সমস্যা থাকলে তা আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা উচিত। কিন্তু অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের বলি হয়ে সাধারণ প্রবাসীদের কনসুলার সেবার মতো মৌলিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত করা কোনোভাবেই কাম্য নয়।   উদ্ভূত পরিস্থিতিতে স্থানীয়দের অনেকেই প্রস্তাব করেছেন, রাজনৈতিক বা সাংগঠনিক বিভাজনের ঊর্ধ্বে থাকা কোনো নিরপেক্ষ প্ল্যাটফর্ম বা গ্রহণযোগ্য সমন্বয় কমিটির মাধ্যমে এই সেবা পুনরায় চালু করা হোক। বাফেলোর প্রবাসী বাংলাদেশিদের প্রত্যাশা, কনস্যুলেট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি দ্রুত পুনর্বিবেচনা করবে এবং সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমাতে একটি নিরপেক্ষ ব্যবস্থায় বাফেলোতে ভ্রাম্যমাণ কনসুলার সেবা পুনরায় চালু করবে।

প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২৬ ১৯:৪০
ভাইকে বিয়ের অভিযোগ, ইলহান ওমরের নাগরিকত্ব কি বাতিল করতে পারবে ট্রাম্প প্রশাসন?

ভাইকে বিয়ের অভিযোগ, ইলহান ওমরের নাগরিকত্ব কি বাতিল করতে পারবে ট্রাম্প প্রশাসন?

চীন থেকে নকল ওজন কমানোর ওষুধ এনে যুক্তরাষ্ট্রে বিক্রি, ৭১ বছরের জেলের মুখে দুই ভারতীয়

চীন থেকে নকল ওজন কমানোর ওষুধ এনে যুক্তরাষ্ট্রে বিক্রি, ৭১ বছরের জেলের মুখে দুই ভারতীয়

ছোট্ট বয়সে বড় অর্জন, যুক্তরাষ্ট্রের সেরা ৩০০ তরুণ উদ্ভাবকের তালিকায় আইজা হাসান

ছোট্ট বয়সে বড় অর্জন, যুক্তরাষ্ট্রের সেরা ৩০০ তরুণ উদ্ভাবকের তালিকায় আইজা হাসান

0 Comments