নিউইয়র্কে সংগ্রাম থেকে সাফল্য, ৯টি আয়ের উৎসে বছরে ১ লাখ ৩০ হাজার ডলার আয় বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত তরুণীর
নিউইয়র্ক সিটির প্রচণ্ড প্রতিযোগিতামূলক জীবনব্যবস্থা আর নিজের কিছু করার তীব্র আকাঙ্ক্ষা থেকে মাত্র ২৭ বছর বয়সেই সফল উদ্যোক্তা ও কনটেন্ট ক্রিয়েটর হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছেন মহুয়া খান। বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত এই তরুণীর জন্ম ও বেড়ে ওঠা নিউইয়র্কের কুইন্সে। ৯টি ভিন্ন মাধ্যম থেকে উপার্জন করে তিনি ২০২৫ সালে প্রায় ১ লাখ ৩০ হাজার ডলার আয় করেছেন, যার মধ্যে কর ও অন্যান্য খরচ বাদে তাঁর নিট আয় ছিল প্রায় ৭০ হাজার ডলার।
বর্তমানে তিনি অ্যাস্টোরিয়া এলাকায় ৩ হাজার ডলার ভাড়ার একটি এক বেডরুমের অ্যাপার্টমেন্টে স্বামীর সঙ্গে বসবাস করছেন এবং সেখান থেকেই নিজের সব কাজ পরিচালনা করছেন। নিউইয়র্কের ব্যয়বহুল জীবনযাত্রা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে মহুয়া জানান, এখানকার জীবন এক ধরনের দ্বিধারি তলোয়ারের মতো; চারপাশে সবাইকে একাধিক চাকরি আর প্রচণ্ড পরিশ্রম করতে দেখলে এটিকেই জীবনের স্বাভাবিক নিয়ম বলে মনে হয়।
অভিবাসী বাবা-মায়ের সন্তান হিসেবে ছোটবেলা থেকেই কঠোর পরিশ্রমের মানসিকতা নিয়ে বড় হয়েছেন মহুয়া। তাঁর বাবা সপ্তাহে সাত দিন, দিনে ১৬ ঘণ্টা নিউইয়র্কের রাস্তায় ট্যাক্সি চালিয়েছেন। অন্যদিকে তাঁর মা সব সময় বলতেন, কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে হলে অন্যদের চেয়ে অনেক বেশি পরিশ্রম করতে হবে। মূলত এই অভাববোধ ও মানসিকতা থেকেই মাত্র ১৫ বছর বয়সে কাজ শুরু করেন তিনি। স্নাতকোত্তর পড়ার সময় নিজের বেতনের জমানো টাকা ও ঋণ দিয়ে পড়াশোনার খরচ চালিয়েছেন। এর পাশাপাশি বাসা ভাড়া ও দৈনন্দিন খরচ মেটাতে আফটার-স্কুল কাউন্সেলর হিসেবেও পার্ট-টাইম কাজ করেছেন এই অদম্য তরুণী।
মহামারির সময় ইউটিউব, ইনস্টাগ্রাম এবং টিকটকে নিজের আঁকাআঁকির ভিডিও পোস্ট করার মাধ্যমে কনটেন্ট ক্রিয়েটর হিসেবে তাঁর যাত্রা শুরু হয়। ধীরে ধীরে দর্শক বাড়তে থাকলে তিনি ইউটিউব ও স্কিলশেয়ার থেকে ক্লাস করে নিজের দক্ষতা আরও বাড়িয়ে নেন। এরপর কনটেন্ট তৈরিতে পুরোপুরি মনোযোগ দেওয়ার পাশাপাশি তিনি 'ল্যাবিরিন্থঅ্যাভ' (Labyrinthave) নামে একটি নিজস্ব পোশাকের ব্র্যান্ড চালু করেন, যেখানে ইন্দো-ওয়েস্টার্ন ও বাংলাদেশী ঐতিহ্যের ছাপ রয়েছে। তবে শুরুর দিকের সেই দিনগুলোর কথা মনে করে মহুয়া জানান, তখন তিনি এক ধরনের মোহের মধ্যে ছিলেন এবং কারও সাহায্য ছাড়াই একা সব করতে চাইতেন। কাজের চাপে তাঁর নিজের ব্যক্তিগত জীবন বলে কিছু ছিল না, যা তাঁকে চরম ক্লান্ত ও বিপর্যস্ত করে তুলেছিল। তাই কোনো পূর্বপ্রস্তুতি বা জমানো টাকা ছাড়া হঠাৎ চাকরি ছেড়ে নিজের প্যাশন নিয়ে কাজ শুরু করাটা কতটা ভীতিকর হতে পারে, সে বিষয়ে তিনি অন্যদের সতর্ক করেছেন।
বর্তমানে পাঁচ বছর পর এসে মহুয়া আর্থিকভাবে সম্পূর্ণ স্বাধীন এবং ঋণমুক্ত। তিনি তাঁর আয়ের একটি অংশ দিয়ে বাবা-মায়ের বাড়ির মর্টগেজ বা বন্ধকি ঋণ পরিশোধে সাহায্য করছেন। এছাড়া নিজের ও পরিবারের ফোন বিল, অ্যাপার্টমেন্টের ইউটিলিটি বিল এবং মাসিক বাজারের খরচও তিনি সুচারুভাবে বহন করছেন। নিজের একটি গাড়ি থাকলেও তা মায়ের যাতায়াতের সুবিধার জন্য বাবা-মায়ের বাড়িতে রেখে এসেছেন এবং নিজে সাবওয়েতেই যাতায়াত করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। এখন তিনি কাজ ও ব্যক্তিজীবনের মাঝে একটি চমৎকার ভারসাম্য খুঁজে পেয়েছেন, যেখানে নিজেকে প্রমাণের জন্য আর আগের মতো অমানবিক পরিশ্রম করতে হয় না। জীবনযাত্রা এতটা ব্যয়বহুল হওয়া সত্ত্বেও নিউইয়র্ক শহর ছেড়ে যাওয়ার কোনো পরিকল্পনা নেই মহুয়ার, বরং এই শহরেই নিজের ভবিষ্যৎ পরিবার গড়ে তোলার স্বপ্ন দেখেন তিনি।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস অঙ্গরাজ্যের অ্যাকটন শহরে এক মর্মান্তিক জোড়া খুনের ঘটনা ঘটেছে। আপন মা এবং ছোট ভাইকে হত্যার অভিযোগে ১৭ বছর বয়সী এক কিশোরকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, নিজের পরিবারকে হত্যার আগে ধারণা পেতে সে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা 'চ্যাটজিপিটি' (ChatGPT) ব্যবহার করেছিল বলে তদন্তে উঠে এসেছে। মিডলসেক্স ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি মারিয়ান রায়ান সিবিএস বস্টনকে জানিয়েছেন, গ্রেপ্তার হওয়া ওই কিশোরের নাম অর্জুন অরবিন্দ। তার বিরুদ্ধে ৪৫ বছর বয়সী মা সুধা ভেঙ্কটেশন এবং ১৪ বছর বয়সী ছোট ভাই সিদ্ধার্থ অরবিন্দকে হত্যার দায়ে জোড়া খুনের অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। গত বুধবার ভোরে ওয়েল্যান্ড এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি মারিয়ান রায়ান জানান, মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে অর্জুনের বাবা মার্থা লেনে অবস্থিত নিজ বাড়িতে পরিবারের সদস্যদের খোঁজ নিতে পুলিশকে ফোন করেন। কারণ তিনি অনেক চেষ্টা করেও কারও সঙ্গেই যোগাযোগ করতে পারছিলেন না। এর আগে ওই দিন সকালে একজন গৃহশিক্ষক পড়ানোর জন্য তাদের বাড়িতে এসে ডাকাডাকি করলেও ভেতর থেকে কেউ সাড়া দেয়নি। পুলিশ জানিয়েছে, মঙ্গলবার সকাল ৭টার দিকে অর্জুনের বাবা কাজের উদ্দেশ্যে বের হওয়ার সময় তার স্ত্রীকে শেষবার দেখেছিলেন। অন্যদিকে, ছোট ভাই সিদ্ধার্থকে মঙ্গলবার সকালে একটি বিনোদন কেন্দ্রে দেখা গিয়েছিল এবং সে দুপুর নাগাদ বাড়ি ফেরে। তদন্তকারীদের ধারণা, সকাল থেকে দুপুরের পর এই দীর্ঘ সময়ের মধ্যেই মা ও ছেলেকে হত্যার ঘটনাটি ঘটেছে। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় পুলিশ ওই বাড়িতে প্রবেশ করে নিচতলায় (ফার্স্ট ফ্লোর) সিদ্ধার্থের এবং বেসমেন্টে সুধার মৃতদেহ উদ্ধার করে। ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি জানিয়েছেন, দুজনের শরীরেই মারাত্মক আঘাতের চিহ্ন ছিল। তবে ঠিক কীভাবে এবং কোন অস্ত্র দিয়ে তাদের হত্যা করা হয়েছে, তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। জোড়া খুনের পর মায়ের হোন্ডা অ্যাকর্ড গাড়ি নিয়ে পালিয়ে যায় অর্জুন। বুধবার ভোরে ওয়েল্যান্ডের একটি পার্কিং লটে একটি অ্যালার্ম বাজার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায় এবং সেখান থেকেই ওই গাড়িসহ অর্জুনকে গ্রেপ্তার করে। তাকে কোনো প্রতিরোধ ছাড়াই হেফাজতে নেওয়া হয় বলে বুধবার বিকেলে এক সংবাদ সম্মেলনে নিশ্চিত করেন ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি। অর্জুনের বিরুদ্ধে হত্যা, মারধর এবং গাড়ি চুরিসহ একাধিক অভিযোগ আনা হয়েছে। বুধবার বিকেলে লোয়েল জুভেনাইল কোর্টে গাড়ি চুরির অভিযোগে তাকে হাজির করা হয়। বৃহস্পতিবার কনকর্ড ডিস্ট্রিক্ট কোর্টে তার বিরুদ্ধে হত্যার মূল অভিযোগগুলো উপস্থাপন করার কথা রয়েছে। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের সুনির্দিষ্ট কারণ এখনও জানতে পারেনি পুলিশ। তবে মারিয়ান রায়ান জানিয়েছেন, "অর্জুন সম্প্রতি কিছু উদ্বেগজনক আচরণ করছিল। এর মধ্যে ইন্টারনেট এবং চ্যাটজিপিটি ব্যবহার করে পরিবারকে হত্যার তাত্ত্বিক ধারণা বা কল্পকাহিনি খোঁজার বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত।" অ্যাকটনের পুলিশ প্রধান ডগ স্টুরনিওলো জানান, অর্জুন পুলিশের কাছে অপরিচিত ছিল না। গত বছর সে একবার বাড়ি থেকে পালিয়ে যাওয়ায় পুলিশের দ্বারস্থ হয়েছিল তার পরিবার। এই ঘটনাকে একটি "বর্ণনাতীত ট্র্যাজেডি" ও "অত্যন্ত অন্ধকার দিন" হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি। বস্টন থেকে প্রায় ৩০ মাইল উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত অ্যাকটন শহরের এই ঘটনা পুরো সম্প্রদায়কে স্তব্ধ করে দিয়েছে। মার্থা লেনের এক প্রতিবেশী সংবাদমাধ্যমকে জানান, মঙ্গলবার রাতে পুলিশ তাদের কাছে এসে কিছু দেখেছে কি না জানতে চায়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই প্রতিবেশী বলেন, "কৌতূহলবশত আমি উঁকি দিয়ে দেখি রাস্তায় ফায়ার ট্রাক, অ্যাম্বুলেন্স এবং পুলিশের গাড়ি। অফিসাররা কাউকে বা কিছু খুঁজছিলেন। পরিবারটির সাথে আমার কখনো দেখা হয়নি, তবে ঘটনাটি সত্যিই মর্মান্তিক।" ডেভন রিপ নামে আরেক প্রতিবেশী বলেন, "আমাদের রাস্তার পাশেই এমন ঘটনা ঘটেছে, এটি অবিশ্বাস্য রকমের দুঃখজনক এবং আতঙ্কজনক। আমি এখানে এমন জরুরি অবস্থা বা পুলিশের এত উপস্থিতি আগে কখনো দেখিনি।"
যুক্তরাষ্ট্রে শিক্ষকের ওপর ছুরি দিয়ে হামলা, প্রাণ বাঁচাতে ঝাঁপিয়ে পড়ল শিক্ষার্থীরা
স্ট্রলারে মেয়েকে নিয়ে ১ মাইল দৌড় ৪ মিনিট ১৭ সেকেন্ডে, বিশ্বরেকর্ড গড়ার অপেক্ষায় যুক্তরাষ্ট্রের এক বাবা
যুক্তরাষ্ট্রে সন্তানদের সামনেই আটক অভিবাসী দম্পতি, ১৮ বছরের মেয়ের কাঁধে চার ভাইবোনের দায়িত্ব
নিউইয়র্ক শহরে একটি মানানসই অ্যাপার্টমেন্ট খুঁজে পাওয়া এখন রীতিমতো যুদ্ধের সমতুল্য। এমনিতেই আকাশছোঁয়া জীবনযাত্রার ব্যয়, তার ওপর হু হু করে বাড়ছে বাড়িভাড়া। সম্প্রতি প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এক ভয়াবহ চিত্র ম্যানহাটনে একটি সাধারণ অ্যাপার্টমেন্টের গড় ভাড়া ৫ হাজার ডলারে গিয়ে ঠেকেছে। একইসঙ্গে বাজারে ভাড়ার জন্য খালি বাড়ির সংখ্যাও আশঙ্কাজনক হারে কমে গেছে। আবাসন বিষয়ক সংবাদমাধ্যম 'দ্য রিয়েল ডিল' এবং মূল্যায়নকারী প্রতিষ্ঠান 'স্যামুয়েল মিলার'-এর গত ১৩ আগস্ট প্রকাশিত এক যৌথ প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছরের জুলাই মাসে ম্যানহাটনে অ্যাপার্টমেন্টের গড় ভাড়া ছিল ৫ হাজার ডলার, যা জুনের তুলনায় ৩ শতাংশ এবং গত বছরের (২০২৫) জুলাইয়ের তুলনায় ৬ শতাংশ বেশি। ভাড়ার এই রেকর্ড ঊর্ধ্বমুখিতার পাশাপাশি ভাড়ার জন্য উন্মুক্ত অ্যাপার্টমেন্টের সংখ্যাও ব্যাপকভাবে কমে গেছে। গত এক বছরে এই এলাকায় প্রায় ৪ হাজার বা ৩৯ শতাংশ অ্যাপার্টমেন্ট বাজার থেকে উধাও হয়ে গেছে। আগে যেখানে একটি বাড়ি ভাড়া হতে গড়ে ৪৮ দিন সময় লাগত, এই গ্রীষ্মে তা মাত্র ৩৬ দিনেই ভাড়া হয়ে যাচ্ছে। বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, খালি বাড়ি দ্রুত ভাড়া হয়ে যাওয়ার অর্থ হলো বাজারে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ চরমভাবে অপ্রতুল। ফলে ভাড়াটেরা এখন দরকষাকষির বা ছাড় পাওয়ার তেমন কোনো সুযোগই পাচ্ছেন না। নিউইয়র্কে বাসস্থানের এই সংকট অবশ্য দীর্ঘদিনের। খরচ বাঁচাতে অনেক একাকী মা (সিঙ্গেল মাদার) একসঙ্গে বাসা ভাড়া করে থাকছেন। অনেকেই মূল পেশার পাশাপাশি অতিরিক্ত কাজ করেও মাসের খরচ মেটাতে হিমশিম খাচ্ছেন। এমনকি শহরের প্রবীণ নাগরিকরাও অবসর জীবনে টিকে থাকার খরচ নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় দিন পার করছেন। অর্থনীতিবিদদের মতে, আয়ের ৩০ শতাংশের বেশি বাড়িভাড়ায় ব্যয় হলে তা মানুষের জন্য বড় ধরনের অর্থনৈতিক চাপ তৈরি করে। অথচ নিউইয়র্কের সিংহভাগ বাসিন্দা বাড়িভাড়ার পেছনে আয়ের বিশাল একটি অংশ ব্যয় করতে বাধ্য হচ্ছেন। এই পরিস্থিতি কেবল নিউইয়র্কেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং তা গোটা যুক্তরাষ্ট্রের আবাসন খাতেরই একটি প্রতিচ্ছবি। হার্ভার্ড জয়েন্ট সেন্টার অন হাউজিং স্টাডিজ-এর ২০২৬ সালের একটি প্রতিবেদনে দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে সাশ্রয়ী মূল্যের বাড়ির তীব্র সংকট রয়েছে এবং সর্বত্রই ভাড়া বাড়ছে। অনেকেই খরচ সামলাতে না পেরে বাসা বদলানোর চিন্তাও বাদ দিয়েছেন। নিউইয়র্কের বাজারেও এর প্রভাব স্পষ্ট, কারণ নতুন চুক্তির হার এক ধাক্কায় ১৯ শতাংশ কমে গেছে। ম্যানহাটনে বিশেষ করে দুই বা ততোধিক বেডরুমের অ্যাপার্টমেন্টের ভাড়া সবচেয়ে দ্রুত বাড়ছে। বিলাসবহুল বা শীর্ষ ১০ শতাংশ অ্যাপার্টমেন্টগুলোর গড় ভাড়া গত বছরের তুলনায় ৩১ শতাংশ বেড়ে মাসে ১৩ হাজার ৭৫০ ডলারে দাঁড়িয়েছে। এলাকার ভিত্তিতে ডাউনটাউনে বাড়িভাড়া সবচেয়ে বেশি, এরপর রয়েছে ওয়েস্ট সাইড, ইস্ট সাইড এবং নর্দার্ন ম্যানহাটন। তবে সব এলাকাতেই গত এক বছরে ভাড়ার জন্য উপলব্ধ বাড়ির সংখ্যা প্রায় ৪০ শতাংশ কমেছে। সাধারণ মানুষের এই নাভিশ্বাস অবস্থা থেকে মুক্তি দিতে উদ্যোগী হয়েছেন বর্তমান মেয়র জোহরান মামদানি। তিনি 'ব্লক বাই ব্লক' নামে একটি মেগা পরিকল্পনা হাতে নিয়েছেন, যার আওতায় তাঁর মেয়াদে ২ লাখ সাশ্রয়ী মূল্যের বাড়ি নির্মাণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। ঐতিহাসিক হোটেল, পুরোনো লাইব্রেরি, অব্যবহৃত অফিস ভবন এবং শহরের নিজস্ব সম্পত্তিগুলোকে আবাসনে রূপান্তরের কাজ চলছে। আবাসন সরবরাহ বাড়লে দীর্ঘমেয়াদে ভাড়া কমে আসবে বলে আশা করছে নগর প্রশাসন। এই প্রকল্প বাস্তবায়নে শহর ও রাজ্য সরকার কোটি কোটি ডলারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। পাশাপাশি অলাভজনক সংস্থা, আবাসন নির্মাতা ও বড় ব্যাংকগুলোর সহায়তা নেওয়া হচ্ছে। তবে 'দ্য রিয়েল ডিল'-এর এই প্রতিবেদনটি মূলত সাধারণ বাজারদরের বাড়ির ওপর ভিত্তি করে তৈরি। ম্যানহাটনের মোট আবাসনের ৪৪ শতাংশই হলো 'রেন্ট-স্ট্যাবিলাইজড' বা ভাড়া-নিয়ন্ত্রিত অ্যাপার্টমেন্ট। মেয়র মামদানির অন্যতম প্রধান নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী, চলতি শরতেই এসব নিয়ন্ত্রিত বাড়ির ভাড়ার ওপর 'রেন্ট ফ্রিজ' বা ভাড়া বৃদ্ধি স্থগিতের নিয়ম কার্যকর হতে যাচ্ছে। এটি এক ও দুই বছরের চুক্তির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। সাময়িকভাবে এটি বাসিন্দাদের স্বস্তি দিলেও, বিশেষজ্ঞদের মতে এর ফলে সাধারণ বাজারদরের অ্যাপার্টমেন্টগুলোর ভাড়া আরও বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। উল্লেখ্য, সাবেক মেয়র বিল ডি ব্লাসিওর আমলেও বাজার অস্থিতিশীল হওয়ার কারণে এই 'রেন্ট ফ্রিজ' নীতিটি শেষ পর্যন্ত বাতিল করতে হয়েছিল।
ক্যালিফোর্নিয়ায় বেকার ভাতার আবেদনে রেকর্ড, ধারে-কাছেও নেই নিউইয়র্ক-টেক্সাস
রাশিয়ায় বন্দি অবস্থায় মৃ ত্যুর দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছিলেন, অবশেষে দেশে ফিরলেন সাবেক মার্কিন সেনা
কোমা, হুইলচেয়ার আর ১০ বছরের সংগ্রাম; না ফেরার দেশে চলে গেলেন বক্সার প্রিচার্ড কোলন
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় স্বামীর মুঠোফোনে পর্নোগ্রাফি পাওয়া নিয়ে দাম্পত্য কলহের জেরে এক মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। হেইলি ডেম্পসি নামের ২৭ বছর বয়সী এক নারী নিজের মা এবং দুই শিশুসন্তানকে গুলি করে হত্যার পর নিজেও আত্মহত্যা করেছেন। ফ্লোরিডার টাম্পা বে এলাকার প্ল্যান্ট সিটিতে গত ৩ মে ভোরে এই ভয়াবহ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। প্ল্যান্ট সিটির পুলিশ প্রধান রিচার্ড মিলস জানিয়েছেন, ঘটনার আগের দুদিনে ডেম্পসি পরিবারের বাড়ি থেকে অন্তত তিনবার পুলিশের কাছে কল গিয়েছিল, যার সূত্রপাত হয়েছিল স্বামীর ফোনে থাকা পর্নোগ্রাফি নিয়ে। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ১ মে প্রথমবার কল পেয়ে ওই বাড়িতে যায় পুলিশ। তখন হেইলি ও তার স্বামী জে-এর মধ্যে পর্নো দেখা নিয়ে তীব্র বাদানুবাদ চলছিল। পুলিশ প্রধান জানান, এটি কোনো পরকীয়ার ঘটনা ছিল না, কেবল পর্নোগ্রাফি নিয়েই তাদের মধ্যে কলহের সৃষ্টি হয়। একই দিন দ্বিতীয়বার পুলিশকে কল করে হেইলি তার গাড়িতে কোনো ট্র্যাকিং ডিভাইস আছে কি না, তা তল্লাশি করতে বলেন। তবে পুলিশ সেখানে কিছুই পায়নি। এরপর হেইলি তার ৫৫ বছর বয়সী মা ভ্যালেরি ডিবো এবং তিন মেয়েকে নিয়ে বাড়ি ছেড়ে একটি হোটেলে রাত কাটান। পরের দিন পোশাক আনার জন্য বাড়িতে যাওয়ার সময়ও তিনি পুলিশের সহায়তা নিয়েছিলেন। ৩ মে ভোরে হেইলি প্রথমে তার মা ভ্যালেরিকে গুলি করে হত্যা করেন। এরপর তিন মেয়েকে নিয়ে পায়ে হেঁটে পালিয়ে যাওয়ার সময় চার বছর ও চার মাস বয়সী দুই মেয়েকে নির্মমভাবে গুলি করে হত্যা করেন তিনি। দুই বছর বয়সী আরেক মেয়েকে লক্ষ্য করে গুলি ছুঁড়লেও সৌভাগ্যবশত তা লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। এরপর হেইলি নিজের বন্দুক দিয়ে আত্মহত্যা করেন। এই ঘটনার পর হেইলির স্বামীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হলেও পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত শেষে তাকে সন্দেহভাজনের তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়। পুলিশ জানিয়েছে, এই মর্মান্তিক ঘটনার পেছনে হেইলির মানসিক অসুস্থতার প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া গেছে। গত ৩৪ বছরের কর্মজীবনে এটিই সবচেয়ে ভয়ংকর দৃশ্য বলে উল্লেখ করেছেন পুলিশ প্রধান রিচার্ড মিলস। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, "এটি হৃদয়বিদারক এবং আমার জীবনের দেখা সবচেয়ে জঘন্য অপরাধের দৃশ্য।" পুলিশ জানিয়েছে, তিন মাস ধরে চলা এই তদন্তে চরম ধৈর্য ও সূক্ষ্মতার প্রয়োজন ছিল। অলৌকিকভাবে বেঁচে যাওয়া দুই বছর বয়সী শিশুটি বর্তমানে সুস্থ আছে এবং পরিবারের অন্য সদস্যদের আশ্রয়ে রয়েছে।
ক্যালিফোর্নিয়ায় অবৈধ অভিবাসীর হাতে খু ন বৃদ্ধ, নিউসমকে দুষলেন ট্রাম্পের ‘বর্ডার জার’
নিউইয়র্কে সংগ্রাম থেকে সাফল্য, ৯টি আয়ের উৎসে বছরে ১ লাখ ৩০ হাজার ডলার আয় বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত তরুণীর