সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আমেরিকা

যুক্তরাষ্ট্রে নিজের নবজাতক সন্তানকে শ্বাসরোধে হ ত্যা করে ব্যাগে লুকিয়েছিলেন মৃ তদেহ, আদালতে মায়ের স্বীকারোক্তি

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ২১, ২০২৬ ১৭:৫৬
যুক্তরাষ্ট্রে নিজের নবজাতক সন্তানকে শ্বাসরোধে হ ত্যা করে ব্যাগে লুকিয়েছিলেন মৃ তদেহ, আদালতে মায়ের স্বীকারোক্তি
যুক্তরাষ্ট্রে নিজের নবজাতক সন্তানকে শ্বাসরোধে হ ত্যা করে ব্যাগে লুকিয়েছিলেন মৃ তদেহ, আদালতে মায়ের স্বীকারোক্তি

যুক্তরাষ্ট্রের কেনটাকি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক প্রাক্তন ছাত্রী নিজের নবজাতক সন্তানকে হত্যার পর তার মৃতদেহ লুকিয়ে রাখার কথা আদালতে স্বীকার করেছেন। শুক্রবার আদালতে দাঁড়িয়ে ২২ বছর বয়সী লেকেন স্নেলিং নামের ওই তরুণী ফার্স্ট-ডিগ্রি ম্যানস্লটার বা নরহত্যা, মৃতদেহের প্রতি অবমাননা, আলামত নষ্ট করা এবং সন্তান জন্মের তথ্য গোপন করার মতো গুরুতর অভিযোগগুলো মাথা পেতে নেন।

 

শুনানির একপর্যায়ে স্নেলিং কান্নায় ভেঙে পড়েন এবং স্বীকার করেন যে, তার শিশুটি জীবিত অবস্থায় জন্মেছিল কিন্তু তিনি তাকে শ্বাস নিতে দেননি। আদালতে তিনি বলেন, "আমি তখন প্রচণ্ড মানসিক চাপে ছিলাম এবং আমার বাচ্চাটা অপ্রত্যাশিতভাবেই পৃথিবীতে চলে এসেছিল।"

 

ফেয়েট সার্কিট আদালতের বিচারক ডায়ান মিনিফিল্ড যখন জানতে চান যে, সন্তানকে সাহায্য না করার কথা বলে তিনি ঠিক কী বোঝাতে চেয়েছেন, তখন স্নেলিংয়ের সরাসরি উত্তর ছিল, "আমি তার জীবন শেষ করে দিয়েছি।" কীভাবে এই কাজ করেছেন—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান যে, তিনি শিশুটিকে অক্সিজেন থেকে বঞ্চিত করে শ্বাসরোধ করেছিলেন।

 

২০২৫ সালের আগস্টে স্নেলিংয়ের রুমমেটরা ক্যাম্পাসের বাইরের ওই বাড়ির একটি ওয়ারড্রোবের ভেতর প্লাস্টিকের ব্যাগে নবজাতকের মৃতদেহ আবিষ্কার করলে লেক্সিংটন পুলিশ তদন্ত শুরু করে। কেনটাকির মেডিকেল পরীক্ষকের কার্যালয় পরবর্তীতে নিশ্চিত করে যে, শিশুটি জীবিত জন্মেছিল এবং অজ্ঞাত কোনো উপায়ে শ্বাসরোধের কারণেই তার মৃত্যু হয়।

 

যদিও তদন্তকারীদের কাছে শুরুতে স্নেলিং দাবি করেছিলেন যে জন্মের পর শিশুটি শ্বাস নিচ্ছিল না। পরে তিনি এমন দাবিও করেন যে, তিনি বাচ্চাটির ওপর অজ্ঞান হয়ে পড়েছিলেন এবং ঘুম ভাঙার পর তাকে নীল ও বেগুনি হয়ে যেতে দেখেন। তবে শেষ পর্যন্ত শুক্রবার তিনি প্রমাণ লোপাটের উদ্দেশ্যে মৃতদেহটি প্লাস্টিকের ব্যাগে এবং রক্তমাখা তোয়ালেগুলো অন্য ব্যাগে লুকিয়ে রাখার কথা স্বীকার করে নেন।

 

ঘটনার সময় স্নেলিং কেনটাকি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী এবং সেখানকার 'স্টান্ট' দলের সক্রিয় সদস্য ছিলেন, যদিও পরে তিনি বিশ্ববিদ্যালয় ছেড়ে দেন। এই অপরাধের দায়ে প্রসিকিউটররা তাকে হত্যার জন্য ১০ বছর এবং বাকি তিনটি অভিযোগের প্রত্যেকটির জন্য এক বছর করে কারাদণ্ডের সুপারিশ করেছেন।

 

এই সাজা পর্যায়ক্রমে কার্যকর হলে তাকে সর্বোচ্চ ১৩ বছর কারাগারে কাটাতে হতে পারে। তবে বিচারক চাইলে সাজাগুলো একসঙ্গে বা আংশিকভাবেও কার্যকর করার নির্দেশ দিতে পারেন।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
যুক্তরাষ্ট্র থেকে ভারতে ফ্লাইটে হুইলচেয়ারের দীর্ঘ সারি
যুক্তরাষ্ট্র থেকে ভারতে ফ্লাইটে হুইলচেয়ারের দীর্ঘ সারি, বিনামূল্যের সেবা নিয়ে নতুন বিতর্ক

যুক্তরাষ্ট্র থেকে ভারতে যাওয়ার একটি ফ্লাইটের আগে বিমানবন্দরে হুইলচেয়ারে বসা যাত্রীদের দীর্ঘ সারির একটি ছবি সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর হুইলচেয়ার অ্যাসিস্ট্যান্সের ব্যবহার ও সম্ভাব্য অপব্যবহার নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে।   ভ্রমণবিষয়ক কমেন্টেটর প্রিয়েশ শর্মা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে ছবিটি প্রকাশ করেন। ছবিতে একটি ডিপার্চার গেটের কাছে বিপুলসংখ্যক যাত্রীকে হুইলচেয়ারে বসে থাকতে দেখা যায়। তাদের অনেককে বয়স্ক মনে হলেও কয়েকজনকে মধ্যবয়সী বা তুলনামূলক কম বয়সী বলেও দেখা যায়। ছবির সঙ্গে শর্মা লেখেন, “Flight to India (this is insane)।”    ছবিটি ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক মাধ্যমে কেউ কেউ প্রশ্ন তুলেছেন, বিমানবন্দরের বিনামূল্যের হুইলচেয়ার অ্যাসিস্ট্যান্স কি প্রয়োজনের তুলনায় বেশি ব্যবহার করা হচ্ছে। বিশেষ করে একই ফ্লাইটে এত বেশি যাত্রী একসঙ্গে এই সুবিধা নেওয়ার বিষয়টি নিয়ে নানা আলোচনা শুরু হয়েছে।   তবে শুধু চেহারা বা বয়স দেখে কোনো যাত্রীর হুইলচেয়ার সহায়তা প্রয়োজন নেই বলে সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না। সব ধরনের শারীরিক প্রতিবন্ধকতা বা চলাফেরার সমস্যা বাইরে থেকে দৃশ্যমান নয়। যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অব ট্রান্সপোর্টেশন বা ডট এর নিয়ম অনুযায়ী, প্রতিবন্ধী যাত্রী প্রয়োজন জানালে এয়ারলাইনকে বিমানবন্দরে হুইলচেয়ারসহ প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে হয়। এই সহায়তার জন্য যাত্রীর কাছ থেকে আলাদা ফি নেওয়া যায় না।   তবে ডট একই সঙ্গে স্পষ্ট করেছে, কোনো যাত্রীর প্রতিবন্ধিতা না থাকলে এবং শুধু সিকিউরিটি বা ইমিগ্রেশনে অগ্রাধিকার পাওয়ার উদ্দেশ্যে হুইলচেয়ার সেবা নেওয়া হলে এয়ারলাইন সেই সেবা দিতে বাধ্য নয়। প্রয়োজন নিয়ে যুক্তিসংগত সন্দেহ থাকলে এয়ারলাইন যাত্রীকে তার কী ধরনের সহায়তা প্রয়োজন এবং সেটি কীভাবে তার চলাফেরার সমস্যায় সহায়তা করছে, সে বিষয়ে জানতে চাইতে পারে।   ফলে ভাইরাল ছবিটি বিমানবন্দরের এক্সেসিবিলিটি নিয়ে পুরোনো একটি প্রশ্নকেই নতুন করে সামনে এনেছে। একদিকে প্রকৃত প্রয়োজন থাকা যাত্রীদের জন্য দ্রুত ও মর্যাদাপূর্ণ হুইলচেয়ার অ্যাসিস্ট্যান্স নিশ্চিত করা জরুরি, অন্যদিকে অপ্রয়োজনীয়ভাবে এই সুবিধা নেওয়া হলে সেবার ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হতে পারে।   তবে ভাইরাল ছবিতে থাকা যাত্রীদের কেউ হুইলচেয়ার সেবার অপব্যবহার করেছেন কি না, তা ছবিটি দেখে নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। একইভাবে ভারতীয়, বাংলাদেশি বা পাকিস্তানি যাত্রীদের মধ্যে এই সুবিধার অপব্যবহারের হার বেশি, এমন কোনো নির্ভরযোগ্য সরকারি পরিসংখ্যানও পাওয়া যায়নি। তাই কোনো নির্দিষ্ট কমিউনিটিকে দায়ী করার মতো তথ্য এই ছবিতে নেই।   যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিবন্ধী যাত্রীদের বিমান ভ্রমণের অধিকার এয়ার ক্যরিয়ার এক্সেস এক্ট এর আওতায় সুরক্ষিত। আইন অনুযায়ী এয়ারলাইনগুলোকে প্রতিবন্ধী যাত্রীদের নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণভাবে প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে হয়। ফলে হুইলচেয়ার অ্যাসিস্ট্যান্স নিয়ে বিতর্কের পাশাপাশি প্রকৃত প্রয়োজন থাকা যাত্রীদের অধিকার ও এক্সেসিবিলিটি নিশ্চিত করার বিষয়টিও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ২১, ২০২৬ ১৮:৫৮
টেক্সাসে ট্রাকের ট্রেইলারে লুকিয়ে রাখা ২০ অভিবাসী উদ্ধার, চালক আটক

টেক্সাসে ট্রাকের ট্রেইলারে লুকিয়ে রাখা ২০ অভিবাসী উদ্ধার, চালক আটক

যুক্তরাষ্ট্রে নিজের নবজাতক সন্তানকে শ্বাসরোধে হ ত্যা করে ব্যাগে লুকিয়েছিলেন মৃ তদেহ, আদালতে মায়ের স্বীকারোক্তি

যুক্তরাষ্ট্রে নিজের নবজাতক সন্তানকে শ্বাসরোধে হ ত্যা করে ব্যাগে লুকিয়েছিলেন মৃ তদেহ, আদালতে মায়ের স্বীকারোক্তি

ইলহান ওমরকে ‘ডিপোর্ট’ করার দাবি ন্যান্সি মেসের, তুঙ্গে মার্কিন রাজনৈতিক বিতর্ক

ইলহান ওমরকে ‘ডিপোর্ট’ করার দাবি ন্যান্সি মেসের, তুঙ্গে মার্কিন রাজনৈতিক বিতর্ক

অনলাইনে পাতা হতো ফাঁদ! যুক্তরাষ্ট্রে আইসের গোপন অভিযানে ৫ শিশু যৌ ন নিপীড়ক গ্রেপ্তার
অনলাইনে পাতা হতো ফাঁদ! যুক্তরাষ্ট্রে আইসের গোপন অভিযানে ৫ শিশু যৌ ন নিপীড়ক গ্রেপ্তার

যুক্তরাষ্ট্রের ওমাহায় শিশুদের ওপর যৌন নিপীড়ন ও পাচারের বিরুদ্ধে একটি বড়সড় আন্ডারকভার অভিযান চালিয়েছে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট বা আইসিই। সংস্থাটির হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ইনভেস্টিগেশনস (এইচএসআই) বিভাগের নেতৃত্বে পরিচালিত এই অভিযানে পাঁচজন সন্দেহভাজন শিশু নিপীড়ককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।   শিশুদের যৌন নির্যাতনের উদ্দেশ্যে যারা অনলাইনে ও বাস্তবে তৎপর, মূলত তাদের হাতেনাতে ধরতেই ১২ থেকে ১৪ আগস্ট পর্যন্ত এই বিশেষ অভিযানটি চালানো হয়।   গ্রেপ্তারকৃত পাঁচজনের মধ্যে জোকসান আপারিসিও সান্তোস নামের ৩৯ বছর বয়সী এক ব্যক্তি মেক্সিকান নাগরিক, যিনি বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের বৈধ স্থায়ী বাসিন্দা।   বাকি চারজন হলেন ব্রায়ান ড্যাডি, লোগান ট্রিগ, টিলিয়ান হাটন এবং মিয়ানমার বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক ল এহ—যাঁরা সকলেই যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক।   এইচএসআই জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে তিনজনেরই আগে থেকে শিশুদের ওপর যৌন অপরাধের রেকর্ড রয়েছে এবং তাঁরা পুলিশের ‘সেক্স অফেন্ডার’ রেজিস্ট্রিতেও তালিকাভুক্ত ছিলেন।   স্থানীয় ও অঙ্গরাজ্য পর্যায়ের বিভিন্ন আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার সমন্বয়ে পরিচালিত এই অভিযানটি প্রমাণ করে যে, সমাজে শিশুদের ওপর যৌন শোষণের মতো ঘৃণ্য অপরাধের গভীর ও বাস্তব ঝুঁকি এখনো রয়ে গেছে।   এইচএসআই কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, যারা অনলাইনের বিভিন্ন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে শিশুদের ক্ষতি করার চেষ্টা করছে, তাদের ওপর নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।   শিশু নিপীড়কদের শনাক্ত করে বিচারের আওতায় আনতে এবং কমিউনিটির শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে ভবিষ্যতেও এমন কঠোর অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ২১, ২০২৬ ১৭:১১
যুক্তরাষ্ট্রে পিকআপ ট্রাকে এক বছরের সন্তানকে রেখে যান বাবা, কিছুক্ষণ পরই মৃ ত্যু; অভিযুক্ত বাবা

যুক্তরাষ্ট্রে পিকআপ ট্রাকে এক বছরের সন্তানকে রেখে যান বাবা, কিছুক্ষণ পরই মৃ ত্যু; অভিযুক্ত বাবা

ঋণের ভারে নুয়ে পড়ছে যুক্তরাষ্ট্র, মাথাপিছু বোঝা ১ লাখ ১৭ হাজার ডলার

ঋণের ভারে নুয়ে পড়ছে যুক্তরাষ্ট্র, মাথাপিছু বোঝা ১ লাখ ১৭ হাজার ডলার

সুহাস ও প্রিয়াঙ্কা ভারতীয় প্রবাসী দম্পতি I ছবি: সংগৃহীত

‘আমেরিকায় আসবেন না’, ভারতীয় তরুণদের নিজ দেশেই ক্যারিয়ার গড়ার পরামর্শ প্রবাসী দম্পতির

মার্কিন সেনাবাহিনীর স্টাফ সার্জেন্ট ম্যাথিউ ব্ল্যাঙ্ক এবং তার স্ত্রী অ্যানি রামোস
সেনাসদস্যের স্ত্রী হিসেবে পরিচয় নিবন্ধন করতে গিয়ে সেনাঘাঁটিতেই আইসিইর হাতে আটক নববধূ

মার্কিন সেনাবাহিনীর স্টাফ সার্জেন্ট ম্যাথিউ ব্ল্যাঙ্ক এবং তার স্ত্রী অ্যানি রামোসের বিয়ের বয়স তখন মাত্র দুই দিন। নববধূর সামরিক আইডি সংগ্রহ ও সেনা পরিবারের সুবিধাগুলো চালুর উদ্দেশ্যে লুইজিয়ানার ফোর্ট পোল্ক সেনাঘাঁটিতে গিয়েছিলেন তারা। অ্যানি পেশায় একজন শিক্ষিকা, যিনি শিশু বয়স থেকেই যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছেন।   ভিজিটর সেন্টারে ম্যাথিউয়ের সামরিক আইডি, বিয়ের সনদ ও অ্যানির হন্ডুরাসের পাসপোর্ট জমা দেওয়ার পর তারা পরবর্তী ধাপের অপেক্ষায় ছিলেন। কিন্তু এর বদলে সেখানে ইউএস ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্টের (আইসিই) কর্মকর্তারা হাজির হন। এরপর পরিবারের চোখের সামনেই অ্যানিকে হাতকড়া পরিয়ে ডিটেনশন সেন্টারে নিয়ে যাওয়া হয়।   জানা যায়, অ্যানির বয়স যখন মাত্র ২০ মাস, তখন তার পরিবার একটি ইমিগ্রেশন শুনানিতে উপস্থিত হতে ব্যর্থ হয়। মূলত সেই কারণেই তখন শিশু অ্যানির বিরুদ্ধে দেশত্যাগের নির্দেশ বা রিমুভাল অর্ডার জারি হয়েছিল। যদিও তার কোনো অপরাধমূলক রেকর্ড নেই এবং আইনি বৈধতা পেতে তারা আইনজীবীর মাধ্যমেও চেষ্টা করছিলেন।   ট্রাম্প প্রশাসনের সময় সামরিক পরিবারের সদস্যদের প্রতি নমনীয়তা দেখানোর বিশেষ নীতি বাতিল হয়ে যাওয়ায় তাদের এই বিপদে পড়তে হয়। আটকের পাঁচ দিন পর আইসিই অ্যানিকে মুক্তি দিলেও, তাকে পায়ে একটি জিপিএস মনিটর পরিয়ে পাঠানো হয়েছে। শিশু বয়স থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে নিজের দেশ ভাবা অ্যানি এখন কেবল একটু মর্যাদার সঙ্গে বাঁচার আকুতি জানিয়েছেন।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ২১, ২০২৬ ১৫:২৯
যুক্তরাষ্ট্রের আলাস্কায় সামরিক মিশনে যাওয়ার পথে বিমান বিধ্বস্ত, প্রাণ গেল ৮ জনের

যুক্তরাষ্ট্রের আলাস্কায় সামরিক মিশনে যাওয়ার পথে বিমান বিধ্বস্ত, প্রাণ গেল ৮ জনের

পেনসিলভানিয়ায় ‘শয়তানের আদেশে’ প্রেমিকাকে কুপিয়ে হত্যা, লাশ গুমে ছেলেকে সাহায্য করলেন খোদ মা

পেনসিলভানিয়ায় ‘শয়তানের আদেশে’ প্রেমিকাকে কুপিয়ে হত্যা, লাশ গুমে ছেলেকে সাহায্য করলেন খোদ মা

যুক্তরাষ্ট্রে নতুন অভিবাসী? প্রথম ৩০ দিনে এই ১০ কাজ না করলে পরে বাড়তে পারে ভোগান্তি

যুক্তরাষ্ট্রে নতুন অভিবাসী? প্রথম ৩০ দিনে এই ১০ কাজ না করলে পরে বাড়তে পারে ভোগান্তি

0 Comments