ইলহান ওমরকে ‘ডিপোর্ট’ করার দাবি ন্যান্সি মেসের, তুঙ্গে মার্কিন রাজনৈতিক বিতর্ক
ডেমোক্র্যাটিক কংগ্রেসওম্যান ইলহান ওমরকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বিতাড়িত করার বা ‘ডিপোর্ট’ করার দাবি আবারও জোরালোভাবে তুলেছেন সাউথ ক্যারোলিনার রিপাবলিকান প্রতিনিধি ন্যান্সি মেস। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মেস লিখেছেন, "ইলহান ওমরকে বিতাড়িত করার জন্য আজ একটি ভালো দিন হতে পারে।" মিনেসোটা থেকে নির্বাচিত সহকর্মী ওমরের নাগরিকত্ব ও অভিবাসন ইতিহাস নিয়ে মেসের এমন আক্রমণাত্মক মন্তব্য অবশ্য এটিই প্রথম নয়।
এর আগে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে ন্যান্সি মেস বলেছিলেন, সোমালিয়া চাইলে ওমরকে "ফিরিয়ে নিতে পারে"। সেসময় ওমরের কংগ্রেসের আসন ও নাগরিকত্ব বাতিলেরও দাবি জানান তিনি।
এমনকি চলতি বছরের জানুয়ারিতে হাউস ওভারসাইট কমিটিতে ওমরের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে চলা ‘বিয়ে জালিয়াতি’র অভিযোগ তুলে তাঁর অভিবাসন রেকর্ড তলবের চেষ্টাও করেছিলেন মেস, যদিও কমিটি সেই অনুরোধ অনুমোদন করেনি।
তবে আইনি ও বাস্তব চিত্র হলো, ইলহান ওমর ২০০০ সাল থেকে একজন বৈধ মার্কিন নাগরিক। সোমালিয়ার গৃহযুদ্ধ থেকে বাঁচতে ১৯৯৫ সালে শিশু বয়সে পরিবারের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমিয়েছিলেন তিনি। মার্কিন আইন অনুযায়ী, কোনো নাগরিকের নাগরিকত্ব আইনি প্রক্রিয়ায় বা ‘ডিন্যাচুরালাইজেশন’-এর মাধ্যমে বাতিল না হওয়া পর্যন্ত তাঁকে দেশ থেকে বিতাড়িত করা সম্ভব নয়।
আর এই বাতিলের জন্য ফেডারেল আদালতে জালিয়াতি বা তথ্য গোপনের অকাট্য প্রমাণ উপস্থাপন করতে হয়। ওমরের বিরুদ্ধে যে বিয়ে জালিয়াতির অভিযোগ তোলা হয়, তা বছরের পর বছর ধরে চর্চিত হলেও কখনোই তা প্রমাণিত হয়নি।
নিজের বিরুদ্ধে ওঠা এসব অভিযোগ ও বিতাড়নের ডাককে বরাবরই উড়িয়ে দিয়েছেন ইলহান ওমর। ২০১৯ সাল থেকে মিনেসোটার ৫ম কংগ্রেসনাল ডিস্ট্রিক্টের প্রতিনিধিত্ব করা এই ডেমোক্র্যাট নেত্রীর মতে, এসব আক্রমণ তাঁর দৈনন্দিন রাজনৈতিক কাজ বা কংগ্রেসের দায়িত্ব পালনে কোনো ধরনের প্রভাব ফেলতে পারবে না।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রে এইচ-১বি ভিসায় বিদেশি কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে নিয়োগদাতাদের নির্দিষ্ট মজুরি কাঠামো অনুসরণ করতে হয়। মার্কিন শ্রম দপ্তরের (ডিপার্টমেন্ট অব লেবার) নিয়ম অনুযায়ী, বিদেশি কর্মী নিয়োগের কারণে একই ধরনের কাজে নিয়োজিত মার্কিন কর্মীদের মজুরি বা কর্মপরিবেশ যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে। এ জন্য সংশ্লিষ্ট পেশা ও কর্মস্থলের এলাকার প্রচলিত মজুরির হার বিবেচনায় নেওয়া হয়। এই নিয়মকে বলা হয় ‘প্রিভেইলিং ওয়েজ’ বা প্রচলিত মজুরি। কোনো নির্দিষ্ট পেশায় নির্দিষ্ট ভৌগোলিক এলাকায় একই ধরনের কাজে নিয়োজিত কর্মীরা সাধারণত যে গড় মজুরি পান, সেটিই ওই কাজের প্রচলিত মজুরি হিসেবে বিবেচিত হয়। ফলে বিদেশি কর্মী নিয়োগের সময় শুধু ভিসার যোগ্যতা পূরণ করলেই হবে না, নিয়োগদাতাকে সংশ্লিষ্ট কাজের জন্য প্রযোজ্য মজুরি নিয়মও মানতে হবে। এই নিয়ম শুধু এইচ-১বি কর্মীদের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য নয়। যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, কর্মসংস্থানভিত্তিক বেশ কয়েকটি বিদেশি কর্মী ভিসা কর্মসূচিতে প্রচলিত মজুরি সংক্রান্ত শর্ত রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে পিইআরএম, এইচ-২বি, এইচ-১বি, এইচ-১বি১, ই-৩ এবং সিডব্লিউ-১ কর্মসূচি। তবে এইচ-১বি, এইচ-১বি১ ও ই-৩ কর্মসূচির ক্ষেত্রে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ সুরক্ষা রয়েছে। এসব ভিসায় কর্মী নিয়োগ করলে নিয়োগদাতাকে দুটি মজুরি হারের মধ্যে যেটি বেশি, সেটি দিতে হবে। একটি হলো সংশ্লিষ্ট পেশা ও এলাকার প্রচলিত মজুরি। অন্যটি হলো একই প্রতিষ্ঠানে একই ধরনের দক্ষতা ও যোগ্যতার কর্মীদের দেওয়া প্রকৃত মজুরি। অর্থাৎ কোনো প্রতিষ্ঠানে একই ধরনের যোগ্যতার কর্মীরা প্রচলিত মজুরির চেয়ে বেশি বেতন পেলে এইচ-১বি কর্মীকেও সেই উচ্চতর হার দিতে হতে পারে। প্রচলিত মজুরি নির্ধারণের জন্য নিয়োগদাতারা যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম দপ্তরের ন্যাশনাল প্রিভেইলিং ওয়েজ সেন্টারে (এনপিডব্লিউসি) মজুরি নির্ধারণের আবেদন করতে পারেন। এ ছাড়া শ্রম দপ্তরের অনলাইন মজুরি অনুসন্ধান ব্যবস্থায় থাকা তথ্য এবং নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে অন্যান্য বৈধ মজুরি-তথ্যের উৎসও ব্যবহার করা যায়। এইচ-১বি কর্মীদের ক্ষেত্রে নিয়োগদাতারা এনপিডব্লিউসি থেকে মজুরি নির্ধারণ নিতে পারেন। নির্দিষ্ট শর্তে অনুমোদিত স্বাধীন জরিপ বা অন্য বৈধ মজুরি-তথ্যের উৎসও ব্যবহার করা যায়। শ্রম দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এনপিডব্লিউসি থেকে মজুরি নির্ধারণ নিলে নির্দিষ্ট নিয়ম সঠিকভাবে অনুসরণ করার ক্ষেত্রে নিয়োগদাতারা ‘সেইফ হারবার’ সুবিধা পান। বর্তমান মজুরি তথ্যও নিয়মিত হালনাগাদ করা হয়। শ্রম দপ্তরের বিদেশি শ্রম সনদবিষয়ক দপ্তর জানিয়েছে, ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে ২০২৭ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত নতুন মজুরি বছরের জন্য ব্যুরো অব লেবার স্ট্যাটিস্টিকসের পেশাভিত্তিক মজুরি তথ্য কার্যকর হয়েছে। এসব তথ্য বিদেশি শ্রমিকের মজুরি নির্ধারণের কাজে ব্যবহার করা হয়। এই নিয়মের পেছনে মূল উদ্দেশ্য হলো বিদেশি কর্মী নিয়োগের মাধ্যমে স্থানীয় কর্মীদের মজুরি কমিয়ে দেওয়ার সুযোগ ঠেকানো। মার্কিন শ্রম দপ্তর বলছে, অভিবাসন ও জাতীয়তা আইনের অধীনে বিদেশি কর্মী নিয়োগের কারণে একই ধরনের কাজে নিয়োজিত মার্কিন কর্মীদের মজুরি ও কর্মপরিবেশে নেতিবাচক প্রভাব পড়া উচিত নয়। এইচ-১বি কর্মীদের জন্য শুধু নির্ধারিত মজুরি দেওয়াই নয়, কর্মপরিবেশের ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট সুরক্ষা রয়েছে। শ্রম দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, একই ধরনের কাজে নিয়োজিত মার্কিন কর্মীদের মতো এইচ-১বি কর্মীদেরও কর্মঘণ্টা, শিফট, ছুটি ও নির্দিষ্ট সুবিধার ক্ষেত্রে সমান ভিত্তিতে সুযোগ দিতে হবে। নিয়োগদাতাকে শ্রম শর্তসংক্রান্ত আবেদন বা এলসিএর একটি কপিও সংশ্লিষ্ট এইচ-১বি কর্মীকে দিতে হয়। এ ছাড়া নিয়োগদাতা এইচ-১বি কর্মীর কাছ থেকে নির্দিষ্ট নিয়োগসংক্রান্ত খরচ বা আবেদন ফি বহনের দাবি করতে পারেন না। শ্রম দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, কর্মীর অধিকার লঙ্ঘনের বিষয়ে তথ্য প্রকাশ বা তদন্তে সহযোগিতা করার কারণে তাকে ভয় দেখানো, চাকরি থেকে সরানো বা বৈষম্যের শিকার করাও নিষিদ্ধ। কোনো এইচ-১বি কর্মীকে প্রয়োজনীয় মজুরির চেয়ে কম দেওয়া হলে বিষয়টি নিয়ে শ্রম দপ্তরের ওয়েজ অ্যান্ড আওয়ার ডিভিশন ব্যবস্থা নিতে পারে। বিভাগটি তদন্তের পর নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় নিয়োগদাতাকে কর্মীর প্রাপ্য মজুরি পরিশোধের নির্দেশ দিতে পারে। এদিকে ২০২৬ সালের মার্চে শ্রম দপ্তর এইচ-১বি ও পিইআরএম কর্মসূচির প্রচলিত মজুরি নির্ধারণের পদ্ধতি পরিবর্তনের একটি প্রস্তাবও প্রকাশ করেছিল। প্রস্তাবিত নিয়মে মজুরি নির্ধারণের পদ্ধতি আধুনিকায়ন করে মার্কিন কর্মীদের প্রকৃত বাজারদরের সঙ্গে বিদেশি কর্মীদের মজুরি আরও সামঞ্জস্যপূর্ণ করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। তবে এটি বর্তমান প্রচলিত মজুরি নিয়মের সঙ্গে এক করে দেখা উচিত নয়; এটি ছিল একটি প্রস্তাবিত পরিবর্তন। যুক্তরাষ্ট্রে এইচ-১বি ভিসায় কাজ করতে আগ্রহী বিদেশি পেশাজীবীদের জন্য তাই চাকরির প্রস্তাব গ্রহণের আগে শুধু বেতনের অঙ্ক নয়, সংশ্লিষ্ট পেশা ও কর্মস্থলের প্রচলিত মজুরি, একই প্রতিষ্ঠানে তুলনীয় কর্মীদের বেতন এবং নিয়োগদাতার শ্রমসংক্রান্ত দায়বদ্ধতাও জানা গুরুত্বপূর্ণ।
ট্রাম্পের নোবেল স্বপ্নে ধাক্কা, সম্ভাবনায় কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি এগিয়ে
৯০ ডলারের এককালীন পেমেন্ট পাচ্ছেন লাখো বয়স্ক, শর্ত পূরণ না করায় বাদ ৪ কোটি
লিথুয়ানিয়ায় মার্কিন সামরিক ঘাঁটি নিয়ে ট্রাম্পের আগ্রহ, রাশিয়ার হুঁশিয়ারি
যুক্তরাষ্ট্রে গাড়ি চালানোর অভিজ্ঞতা শহরভেদে অনেকটাই ভিন্ন। কোথাও রাস্তা তুলনামূলক ভালো, যানজট কম এবং গাড়ি রক্ষণাবেক্ষণের খরচও নিয়ন্ত্রণে। আবার কোথাও প্রতিদিনের যাতায়াত মানেই দীর্ঘ যানজট, ব্যয়বহুল গাড়ি চালানো এবং নিরাপত্তা নিয়ে বাড়তি উদ্বেগ। নতুন এক গবেষণায় যুক্তরাষ্ট্রের ১০০টি বড় শহরের মধ্যে গাড়িচালকদের জন্য সবচেয়ে সুবিধাজনক ও সবচেয়ে অসুবিধাজনক শহরগুলোর তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। গবেষণায় অ্যারিজোনার স্কটসডেলকে গাড়ি চালানোর জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সেরা শহর হিসেবে স্থান দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে সবচেয়ে খারাপ শহর হিসেবে শীর্ষে রয়েছে পেনসিলভানিয়ার ফিলাডেলফিয়া। তালিকার একেবারে নিচের দিকের শহরগুলোর মধ্যে রয়েছে ওয়াশিংটন ডিসি, লস এঞ্জেলেস, নিউইয়র্ক এবং ডেট্রয়েটও। ওয়ালেটহাবের এই মূল্যায়নে ১০০টি বড় শহরকে গাড়ি মালিকানা ও রক্ষণাবেক্ষণের খরচ, যানজট ও সড়ক অবকাঠামো, নিরাপত্তা এবং গাড়ি ও রক্ষণাবেক্ষণসেবা পাওয়ার সুযোগ—এই চারটি প্রধান বিষয়ের ভিত্তিতে তুলনা করা হয়েছে। মোট ৩০টি সূচক ব্যবহার করে প্রতিটি শহরের জন্য সামগ্রিক স্কোর তৈরি করা হয়। এর মধ্যে ছিল জ্বালানির গড় দাম, গাড়ি মেরামতের খরচ, পার্কিংয়ের সুবিধা, যানজটে বছরে নষ্ট হওয়া সময়, সড়কের মান, আবহাওয়াজনিত ঝুঁকি, গাড়ি চুরির হারসহ বিভিন্ন বিষয়। গবেষণার হিসাবে, যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিদিনের প্রায় ৮৭ শতাংশ যাতায়াত ব্যক্তিগত গাড়িতে হয়। ফলে গাড়ি চালানোর খরচ ও সময় মানুষের দৈনন্দিন জীবনে বড় প্রভাব ফেলে। যানজটের কারণে একজন চালক বছরে প্রায় ৩৭০ ঘণ্টা সময় হারান। পাশাপাশি জ্বালানি অপচয় ও যানজটে আটকে থাকার কারণে প্রতি চালকের বছরে প্রায় ৮৯৪ ডলার পর্যন্ত খরচ হয় বলে গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে। সেরা শহরের তালিকায় স্কটসডেলের পর রয়েছে আইডাহোর বোইসি, ইন্ডিয়ানার ফোর্ট ওয়েন, নেব্রাস্কার লিংকন এবং টেক্সাসের কর্পাস ক্রিস্টি। এরপর উত্তর ক্যারোলাইনার র্যালি, টেক্সাসের লাবক, কেন্টাকির লেক্সিংটন-ফায়েট, ফ্লোরিডার জ্যাকসনভিল এবং উত্তর ক্যারোলাইনার উইনস্টন-সালেম রয়েছে শীর্ষ ১০-এ। স্কটসডেল শীর্ষে থাকার পেছনে কয়েকটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। শহরটিতে নতুন গাড়ির গড় দাম তুলনামূলক কম এবং পার্কিংয়ের খরচও সুবিধাজনক। সড়ক ও ব্রিজের মান ভালো হওয়া, দুর্ঘটনার ঝুঁকি তুলনামূলক কম থাকা এবং গাড়ি মেরামতের দোকানের পর্যাপ্ত উপস্থিতিও শহরটির অবস্থান শক্ত করেছে। একই সঙ্গে গাড়ি বীমার মাসিক প্রিমিয়ামও অনেক শহরের তুলনায় তুলনামূলক সুবিধাজনক। অন্যদিকে ফিলাডেলফিয়া তালিকার ১০০ নম্বরে রয়েছে। শহরটির দুর্বল অবস্থানের পেছনে যানজট, সড়কের অবস্থা এবং নিরাপত্তাসংক্রান্ত বিভিন্ন সূচক প্রভাব ফেলেছে। ওয়াশিংটন ডিসি রয়েছে ৯৯ নম্বরে, লস এঞ্জেলেস ৯৮ নম্বরে, নিউইয়র্ক ৯৭ নম্বরে এবং ডেট্রয়েট ৯৬ নম্বরে। লস এঞ্জেলেসের অবস্থান বিশেষভাবে নজরকাড়া। শহরটি সামগ্রিকভাবে ৩৬ দশমিক ৫০ স্কোর নিয়ে ৯৮তম হয়েছে। গাড়ি মালিকানা ও রক্ষণাবেক্ষণের খরচের ক্ষেত্রে লস এঞ্জেলেসের অবস্থান ৯৮তম এবং যানজট ও অবকাঠামোর ক্ষেত্রে ৯০তম। অর্থাৎ গাড়ি চালানোর সামগ্রিক অভিজ্ঞতায় শহরটি তালিকার একেবারে নিচের দিকেই রয়েছে। ক্যালিফোর্নিয়ার অন্য কয়েকটি বড় শহরের অবস্থানও খুব একটা ভালো নয়। সান ফ্রান্সিসকো ৯১তম, ওকল্যান্ড ৯৪তম এবং সান দিয়েগো ৮৫তম অবস্থানে রয়েছে। বিশেষ করে জ্বালানির দামের ক্ষেত্রে ক্যালিফোর্নিয়ার শহরগুলো পিছিয়ে আছে। ওয়ালেটহাবের তুলনায় ফোর্ট ওয়েনে গড় গ্যাসের দাম সান ফ্রান্সিসকোর তুলনায় প্রায় অর্ধেক। অন্যদিকে টেক্সাসের লাবকে যানজটে বছরে ব্যয় হওয়া সময় শিকাগোর তুলনায় ১৪ গুণ কম বলে গবেষণায় উঠে এসেছে। ফোর্ট ওয়েনও জ্বালানির দামের ক্ষেত্রে সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। দুর্ঘটনার সম্ভাবনার দিক থেকে বোইসি জাতীয় গড়ের তুলনায় সবচেয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ শহরগুলোর একটি। আর ফ্লোরিডার হিয়ালিয়াহতে গাড়ি চুরির হার সবচেয়ে কম পাওয়া গেছে। তবে গবেষণাটি যুক্তরাষ্ট্রের সব শহরের সামগ্রিক চিত্র নয়। ওয়ালেটহাব ১০০টি সবচেয়ে জনবহুল শহরকে বিবেচনায় নিয়েছে এবং প্রতিটি শহরের মূল শহরাঞ্চলকে হিসাব করেছে; আশপাশের মেট্রো এলাকার তথ্য এতে আলাদাভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। ২০২৬ সালের এই র্যাঙ্কিংয়ের তথ্য ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত পাওয়া বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি করা হয়েছে।
গ্রিন কার্ডে স্বজন আনতে হলে স্পনসরের আয় হতে হবে কত, জানুন হিসাব
চাকরি ছিল, স্বপ্নও ছিল, স্পনসর না পেয়ে আমেরিকা ছাড়লেন ভারতীয় বিজ্ঞানী, নতুন জীবন জার্মানিতে
আমেরিকায় পাসপোর্ট আবেদনে আসছে বড় পরিবর্তন, ঘরে বসেই শেষ হবে পুরো প্রক্রিয়া
নিউইয়র্ক সিটি আবারও বিশ্বের সেরা শহরের স্বীকৃতি পেয়েছে। অক্সফোর্ড ইকোনমিকসের ২০২৬ সালের গ্লোবাল সিটিজ ইনডেক্সে বিশ্বের ১ হাজার বৃহৎ শহরের মধ্যে প্রথম স্থান অর্জন করেছে নিউইয়র্ক। বর্তমান মেয়র জোহরান মামদানির দায়িত্বের প্রথম বছরেই এই র্যাঙ্কিং প্রকাশিত হলেও, গবেষণা প্রতিষ্ঠানটি স্পষ্ট করেছে যে নিউইয়র্কের শীর্ষ অবস্থান কোনো একক মেয়র বা প্রশাসনের কারণে নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক ও কাঠামোগত শক্তির ফল। অক্সফোর্ড ইকোনমিকস শহরগুলোর অবস্থান নির্ধারণে পাঁচটি প্রধান বিষয় বিবেচনা করেছে। এগুলো হলো অর্থনীতি, মানবসম্পদ, জীবনযাত্রার মান, পরিবেশ এবং শাসনব্যবস্থা। এই পাঁচ সূচকের সমন্বিত স্কোরে নিউইয়র্ক পেয়েছে ১০০, যা তালিকার সর্বোচ্চ। নিউইয়র্কের সবচেয়ে শক্তিশালী অবস্থান অর্থনীতিতে। এই বিভাগে শহরটি পূর্ণ ১০০ স্কোর পেয়েছে। মানবসম্পদে স্কোর ৮৯ দশমিক ৫, জীবনযাত্রার মানে ৮০ দশমিক ৮, পরিবেশে ৭২ দশমিক ৮ এবং শাসনব্যবস্থায় ৭৫ দশমিক ৭। তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে লন্ডন, যার সামগ্রিক স্কোর ৯৮ দশমিক ৮। তৃতীয় প্যারিস, চতুর্থ সিয়াটল এবং পঞ্চম সান ফ্রান্সিসকো। শীর্ষ দশে আরও রয়েছে ডাবলিন, বোস্টন, সান হোসে, টোকিও এবং জুরিখ। অক্সফোর্ড ইকোনমিকস বলেছে, নিউইয়র্ক ও লন্ডন শীর্ষে থাকার অন্যতম বড় কারণ তাদের বিশাল অর্থনীতি এবং শক্তিশালী শ্রমবাজার। বিশেষ করে নিউইয়র্ক বিশ্বের বৃহত্তম মেট্রো অর্থনীতির অধিকারী। প্রতিষ্ঠানটির বিশ্লেষণ অনুযায়ী, শহরটির অর্থনৈতিক আকার টোকিও ও লস অ্যাঞ্জেলেসের তুলনায়ও উল্লেখযোগ্যভাবে বড়। গ্লোবাল সিটিজ ইনডেক্সে শুধু বর্তমান অবস্থা নয়, একটি শহরের দীর্ঘমেয়াদি সক্ষমতা, স্থিতিশীলতা এবং ভবিষ্যৎ সম্ভাবনাও বিবেচনা করা হয়। অর্থনৈতিক আকার, কর্মসংস্থান, শিক্ষিত ও দক্ষ জনশক্তি, জীবনযাত্রার পরিবেশ, প্রাকৃতিক পরিস্থিতি এবং প্রশাসনিক কাঠামো মিলিয়ে প্রতিটি শহরের অবস্থান নির্ধারণ করা হয়। নিউইয়র্কের শীর্ষস্থান নিয়ে আলোচনায় মেয়র জোহরান মামদানির নামও উঠে এসেছে। তিনি ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি নিউইয়র্ক সিটির ১১২তম মেয়র হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তার নির্বাচনের আগে ও পরে বিভিন্ন সমালোচক আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন, তার কিছু নীতি শহরের অর্থনীতি ও ব্যবসার পরিবেশে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তবে অক্সফোর্ড ইকোনমিকসের ২০২৬ সালের সূচক মামদানির প্রশাসনকে নিউইয়র্কের প্রথম হওয়ার কৃতিত্ব দেয়নি। প্রতিষ্ঠানটি বলেছে, বিশ্বের শীর্ষ শহরগুলোর শক্তি বহু বছর ধরে গড়ে ওঠা অর্থনৈতিক ও সামাজিক কাঠামোর ওপর নির্ভর করে। কয়েক বছরের দুর্বল প্রবৃদ্ধি বা রাজনৈতিক পরিবর্তনও অনেক সময় এসব শহরের মৌলিক প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান দ্রুত বদলে দিতে পারে না। নিউইয়র্কের অর্থনৈতিক শক্তির বড় অংশ আসে ফাইন্যান্স, প্রফেশনাল সার্ভিস, টেকনোলজি, মিডিয়া, রিয়েল এস্টেট এবং অন্যান্য বড় খাত থেকে। বিশেষ করে বৈশ্বিক ফাইন্যান্স সেন্টার হিসেবে শহরটির দীর্ঘদিনের অবস্থান এখনো এর অর্থনৈতিক স্কোরকে শক্তিশালী রাখছে। তবে সূচকে নিউইয়র্ক সব ক্ষেত্রেই প্রথম নয়। পরিবেশ এবং শাসনব্যবস্থায় শহরটির স্কোর অর্থনীতি ও মানবসম্পদের তুলনায় কম। অর্থাৎ বিশ্বের সেরা সামগ্রিক শহর হলেও আবাসন ব্যয়, জীবনযাত্রার চাপ, পরিবেশ এবং প্রশাসনিক চ্যালেঞ্জের মতো বিষয় এখনো নিউইয়র্কের সামনে রয়েছে। ২০২৬ সালের র্যাঙ্কিংয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, শীর্ষ তিন শহরের অবস্থান গত বছরের তুলনায় অপরিবর্তিত। নিউইয়র্ক প্রথম, লন্ডন দ্বিতীয় এবং প্যারিস তৃতীয় অবস্থান ধরে রেখেছে। অক্সফোর্ড ইকোনমিকস বলছে, এটি দেখায় যে বিশ্বের শীর্ষ শহরগুলোর অর্থনৈতিক ও মানবসম্পদভিত্তিক শক্তি দীর্ঘমেয়াদে বেশ স্থিতিশীল। বিশ্বের ১ হাজার শহরের মধ্যে নিউইয়র্কের আবারও প্রথম হওয়া শহরটির বৈশ্বিক গুরুত্বের একটি বড় স্বীকৃতি। বিশেষ করে অর্থনীতি ও মানবসম্পদে শক্তিশালী অবস্থান নিউইয়র্ককে বিশ্বের অন্যতম প্রধান ব্যবসা, কর্মসংস্থান এবং প্রতিভার কেন্দ্র হিসেবে ধরে রেখেছে।
নিজের ক্ষমতা কাজে লাগিয়ে কোটি কোটি সরকারি ডলার গায়েব, দোষ স্বীকার সিআইএ কর্মকর্তার
নিউইয়র্কে চাকরির বড় সুযোগ, প্রকাশিত ৪১ হাজারের বেশি পদ