ইলহান ওমরকে ‘ডিপোর্ট’ করার দাবি ন্যান্সি মেসের, তুঙ্গে মার্কিন রাজনৈতিক বিতর্ক
ডেমোক্র্যাটিক কংগ্রেসওম্যান ইলহান ওমরকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বিতাড়িত করার বা ‘ডিপোর্ট’ করার দাবি আবারও জোরালোভাবে তুলেছেন সাউথ ক্যারোলিনার রিপাবলিকান প্রতিনিধি ন্যান্সি মেস। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মেস লিখেছেন, "ইলহান ওমরকে বিতাড়িত করার জন্য আজ একটি ভালো দিন হতে পারে।" মিনেসোটা থেকে নির্বাচিত সহকর্মী ওমরের নাগরিকত্ব ও অভিবাসন ইতিহাস নিয়ে মেসের এমন আক্রমণাত্মক মন্তব্য অবশ্য এটিই প্রথম নয়।
এর আগে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে ন্যান্সি মেস বলেছিলেন, সোমালিয়া চাইলে ওমরকে "ফিরিয়ে নিতে পারে"। সেসময় ওমরের কংগ্রেসের আসন ও নাগরিকত্ব বাতিলেরও দাবি জানান তিনি।
এমনকি চলতি বছরের জানুয়ারিতে হাউস ওভারসাইট কমিটিতে ওমরের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে চলা ‘বিয়ে জালিয়াতি’র অভিযোগ তুলে তাঁর অভিবাসন রেকর্ড তলবের চেষ্টাও করেছিলেন মেস, যদিও কমিটি সেই অনুরোধ অনুমোদন করেনি।
তবে আইনি ও বাস্তব চিত্র হলো, ইলহান ওমর ২০০০ সাল থেকে একজন বৈধ মার্কিন নাগরিক। সোমালিয়ার গৃহযুদ্ধ থেকে বাঁচতে ১৯৯৫ সালে শিশু বয়সে পরিবারের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমিয়েছিলেন তিনি। মার্কিন আইন অনুযায়ী, কোনো নাগরিকের নাগরিকত্ব আইনি প্রক্রিয়ায় বা ‘ডিন্যাচুরালাইজেশন’-এর মাধ্যমে বাতিল না হওয়া পর্যন্ত তাঁকে দেশ থেকে বিতাড়িত করা সম্ভব নয়।
আর এই বাতিলের জন্য ফেডারেল আদালতে জালিয়াতি বা তথ্য গোপনের অকাট্য প্রমাণ উপস্থাপন করতে হয়। ওমরের বিরুদ্ধে যে বিয়ে জালিয়াতির অভিযোগ তোলা হয়, তা বছরের পর বছর ধরে চর্চিত হলেও কখনোই তা প্রমাণিত হয়নি।
নিজের বিরুদ্ধে ওঠা এসব অভিযোগ ও বিতাড়নের ডাককে বরাবরই উড়িয়ে দিয়েছেন ইলহান ওমর। ২০১৯ সাল থেকে মিনেসোটার ৫ম কংগ্রেসনাল ডিস্ট্রিক্টের প্রতিনিধিত্ব করা এই ডেমোক্র্যাট নেত্রীর মতে, এসব আক্রমণ তাঁর দৈনন্দিন রাজনৈতিক কাজ বা কংগ্রেসের দায়িত্ব পালনে কোনো ধরনের প্রভাব ফেলতে পারবে না।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রের কেনটাকি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক প্রাক্তন ছাত্রী নিজের নবজাতক সন্তানকে হত্যার পর তার মৃতদেহ লুকিয়ে রাখার কথা আদালতে স্বীকার করেছেন। শুক্রবার আদালতে দাঁড়িয়ে ২২ বছর বয়সী লেকেন স্নেলিং নামের ওই তরুণী ফার্স্ট-ডিগ্রি ম্যানস্লটার বা নরহত্যা, মৃতদেহের প্রতি অবমাননা, আলামত নষ্ট করা এবং সন্তান জন্মের তথ্য গোপন করার মতো গুরুতর অভিযোগগুলো মাথা পেতে নেন। শুনানির একপর্যায়ে স্নেলিং কান্নায় ভেঙে পড়েন এবং স্বীকার করেন যে, তার শিশুটি জীবিত অবস্থায় জন্মেছিল কিন্তু তিনি তাকে শ্বাস নিতে দেননি। আদালতে তিনি বলেন, "আমি তখন প্রচণ্ড মানসিক চাপে ছিলাম এবং আমার বাচ্চাটা অপ্রত্যাশিতভাবেই পৃথিবীতে চলে এসেছিল।" ফেয়েট সার্কিট আদালতের বিচারক ডায়ান মিনিফিল্ড যখন জানতে চান যে, সন্তানকে সাহায্য না করার কথা বলে তিনি ঠিক কী বোঝাতে চেয়েছেন, তখন স্নেলিংয়ের সরাসরি উত্তর ছিল, "আমি তার জীবন শেষ করে দিয়েছি।" কীভাবে এই কাজ করেছেন—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান যে, তিনি শিশুটিকে অক্সিজেন থেকে বঞ্চিত করে শ্বাসরোধ করেছিলেন। ২০২৫ সালের আগস্টে স্নেলিংয়ের রুমমেটরা ক্যাম্পাসের বাইরের ওই বাড়ির একটি ওয়ারড্রোবের ভেতর প্লাস্টিকের ব্যাগে নবজাতকের মৃতদেহ আবিষ্কার করলে লেক্সিংটন পুলিশ তদন্ত শুরু করে। কেনটাকির মেডিকেল পরীক্ষকের কার্যালয় পরবর্তীতে নিশ্চিত করে যে, শিশুটি জীবিত জন্মেছিল এবং অজ্ঞাত কোনো উপায়ে শ্বাসরোধের কারণেই তার মৃত্যু হয়। যদিও তদন্তকারীদের কাছে শুরুতে স্নেলিং দাবি করেছিলেন যে জন্মের পর শিশুটি শ্বাস নিচ্ছিল না। পরে তিনি এমন দাবিও করেন যে, তিনি বাচ্চাটির ওপর অজ্ঞান হয়ে পড়েছিলেন এবং ঘুম ভাঙার পর তাকে নীল ও বেগুনি হয়ে যেতে দেখেন। তবে শেষ পর্যন্ত শুক্রবার তিনি প্রমাণ লোপাটের উদ্দেশ্যে মৃতদেহটি প্লাস্টিকের ব্যাগে এবং রক্তমাখা তোয়ালেগুলো অন্য ব্যাগে লুকিয়ে রাখার কথা স্বীকার করে নেন। ঘটনার সময় স্নেলিং কেনটাকি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী এবং সেখানকার 'স্টান্ট' দলের সক্রিয় সদস্য ছিলেন, যদিও পরে তিনি বিশ্ববিদ্যালয় ছেড়ে দেন। এই অপরাধের দায়ে প্রসিকিউটররা তাকে হত্যার জন্য ১০ বছর এবং বাকি তিনটি অভিযোগের প্রত্যেকটির জন্য এক বছর করে কারাদণ্ডের সুপারিশ করেছেন। এই সাজা পর্যায়ক্রমে কার্যকর হলে তাকে সর্বোচ্চ ১৩ বছর কারাগারে কাটাতে হতে পারে। তবে বিচারক চাইলে সাজাগুলো একসঙ্গে বা আংশিকভাবেও কার্যকর করার নির্দেশ দিতে পারেন।
ইলহান ওমরকে ‘ডিপোর্ট’ করার দাবি ন্যান্সি মেসের, তুঙ্গে মার্কিন রাজনৈতিক বিতর্ক
অনলাইনে পাতা হতো ফাঁদ! যুক্তরাষ্ট্রে আইসের গোপন অভিযানে ৫ শিশু যৌ ন নিপীড়ক গ্রেপ্তার
যুক্তরাষ্ট্রে পিকআপ ট্রাকে এক বছরের সন্তানকে রেখে যান বাবা, কিছুক্ষণ পরই মৃ ত্যু; অভিযুক্ত বাবা
যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় ঋণ প্রথমবারের মতো ৪০ ট্রিলিয়ন ডলারের সীমা ছাড়িয়েছে। মাত্র কয়েক মাসের ব্যবধানে ঋণের এই নতুন মাইলফলক দেশটির দীর্ঘদিনের বাজেট ঘাটতি ও সরকারি ব্যয়ের চাপ নিয়ে আবারও বড় প্রশ্ন তৈরি করেছে। আগস্টে যুক্তরাষ্ট্রের মোট জাতীয় ঋণ ৪০ ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যায়। চলতি বছরের মার্চেই ঋণ ৩৯ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছিল। অর্থাৎ প্রায় পাঁচ মাসের মধ্যেই আরও ১ ট্রিলিয়ন ডলার যোগ হয়েছে। দেশটির মোট জনসংখ্যা দিয়ে এই ঋণের অঙ্ক ভাগ করলে মাথাপিছু বোঝা দাঁড়ায় প্রায় ১ লাখ ১৭ হাজার ডলার। আর একটি পরিবারের হিসাবে তা প্রায় ২ লাখ ৯৭ হাজার ডলার। গত এক দশকে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় ঋণ দ্বিগুণেরও বেশি হয়েছে। করোনা মহামারির সময় ট্রাম্প ও বাইডেন দুই প্রশাসনের ব্যাপক সরকারি ব্যয় এই ঋণ বৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রাখে। পরে অবকাঠামো বিনিয়োগ, জ্বালানি ও শিল্পখাতে ভর্তুকি, সামাজিক কর্মসূচি এবং ঋণের সুদ পরিশোধের ব্যয়ও সরকারি অর্থের ওপর চাপ বাড়িয়েছে। তবে ঋণ বৃদ্ধির দায় শুধু একটি প্রশাসনের ওপর দেওয়া যায় না। ২০১৭ সালে ট্রাম্প প্রথমবার প্রেসিডেন্ট হওয়ার পরও জাতীয় ঋণ বেড়েছিল। তাঁর ২০১৭ সালের কর কমানোর নীতিও দীর্ঘমেয়াদে ফেডারেল ঘাটতি বাড়ানোর অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। আর ২০১৬ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনী প্রচারে ট্রাম্প বলেছিলেন, তখনকার প্রায় ১৯ ট্রিলিয়ন ডলারের জাতীয় ঋণ তিনি আট বছরের মধ্যে পুরোপুরি পরিশোধ করতে পারবেন। পরে সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত হয়নি। বরং ২০২০ সালে তাঁর প্রথম মেয়াদের শেষদিকে তিনি নিজেই স্বীকার করেছিলেন, প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর জাতীয় ঋণ আরও বেড়েছে। এরপর বাইডেন প্রশাসনের সময়ও জাতীয় ঋণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। অবকাঠামো বিনিয়োগ, কোভিড-পরবর্তী সরকারি ব্যয় এবং বিভিন্ন শিল্প ও জ্বালানি খাতে ভর্তুকির পাশাপাশি আগের ঋণের সুদ পরিশোধের ব্যয়ও ঋণ বৃদ্ধির ধারাকে আরও ত্বরান্বিত করেছে। বর্তমানে সবচেয়ে বড় উদ্বেগ শুধু ঋণের মোট পরিমাণ নয়, এর সুদ পরিশোধের খরচ। ঋণের পরিমাণ বাড়ার সঙ্গে সরকারকে প্রতিবছর বিপুল অর্থ শুধু সুদ পরিশোধে ব্যয় করতে হচ্ছে। এমনকি সাম্প্রতিক সময়ে ঋণের সুদ যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা ব্যয়ের চেয়েও বেশি হয়ে উঠেছে বলে অর্থনৈতিক বিশ্লেষণে উঠে এসেছে। অর্থনীতিবিদদের আশঙ্কা, ঋণ যদি অর্থনীতির প্রবৃদ্ধির চেয়ে দ্রুত বাড়তে থাকে, তাহলে দীর্ঘমেয়াদে সরকারের আর্থিক সক্ষমতার ওপর চাপ আরও বাড়বে। এর প্রভাব পড়তে পারে সরকারি ব্যয়, বন্ডের সুদের হার এবং সাধারণ মানুষের মর্টগেজ ও অন্যান্য ঋণের খরচেও। ৪০ ট্রিলিয়ন ডলারের এই মাইলফলক তাই শুধু একটি বিশাল সংখ্যা নয়। এটি যুক্তরাষ্ট্রের দুই প্রধান দলের দীর্ঘদিনের ব্যয়, করনীতি ও বাজেট ঘাটতির রাজনীতির সামনে নতুন করে বড় একটি আর্থিক চ্যালেঞ্জ তুলে ধরেছে।
‘আমেরিকায় আসবেন না’, ভারতীয় তরুণদের নিজ দেশেই ক্যারিয়ার গড়ার পরামর্শ প্রবাসী দম্পতির
সেনাসদস্যের স্ত্রী হিসেবে পরিচয় নিবন্ধন করতে গিয়ে সেনাঘাঁটিতেই আইসিইর হাতে আটক নববধূ
যুক্তরাষ্ট্রের আলাস্কায় সামরিক মিশনে যাওয়ার পথে বিমান বিধ্বস্ত, প্রাণ গেল ৮ জনের
পুলিশের দেওয়া তথ্যমতে, বুধবার পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোর পর ক্যারোলিন তার প্রেমিক মোজারের সঙ্গে দেখা করতে পিটসবার্গের দক্ষিণ-পশ্চিমে নর্থ স্ট্রাবান টাউনশিপে যান। সেখানে গাড়ির ভেতরে বসে নিজেদের সম্পর্ক এবং কলেজে ওঠার পর তা কীভাবে এগিয়ে নেওয়া যায়, সে বিষয়ে কথা বলছিলেন এই তরুণ যুগল। কথোপকথনের এক পর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। প্রেমিকার কোনো কথায় ক্ষুব্ধ হয়ে মোজার বাড়ির ভেতর থেকে একটি বড় ছুরি নিয়ে আসে এবং ক্যারোলিনের বুকে উপর্যুপরি আঘাত করে তাকে হত্যা করে। গ্রেপ্তারের পর পুলিশের কাছে মোজার দাবি করে যে, একটি 'শয়তান' বা অশুভ আত্মা তাকে নিয়ন্ত্রণ করছিল এবং সেই তাকে এই খুন করতে নির্দেশ দিয়েছে। হত্যার পর প্রেমিকার মৃতদেহ গাড়ির পেছনের অংশে লুকিয়ে মোজার প্রায় ২৫ মিনিট ড্রাইভ করে পেনসিলভানিয়ার বিলসভিল-এ তার মায়ের কাছে যায়। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে মোজার জানায়, তার মা গাড়িটি পরিষ্কার ও জীবাণুমুক্ত করতে সাহায্য করার প্রস্তাব দেন। অভিযোগ রয়েছে, র্যাচেল মোজার ছেলেকে ল্যাটেক্স গ্লাভস পরতে দেন এবং তাকে গোসল করতে বলেন। তিনি হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্রটি একটি পলিথিনে লুকিয়ে রাখেন এবং ছেলের রক্তমাখা কাপড় ওয়াশিং মেশিনে ধুয়ে ফেলেন। এরপর তারা প্রমাণ লোপাটের জন্য রক্তমাখা গাড়িটি নিয়ে ক্যালিফোর্নিয়া বরো-তে রেখে আসেন। এ সময় মা র্যাচেল তার নিজের গাড়ি নিয়ে ছেলের পেছন পেছন যান। বৃহস্পতিবার সকালেই পুলিশ মোজার ও তার মা র্যাচেলকে গ্রেপ্তার করে। মোজারের বিরুদ্ধে হত্যা, প্রমাণ লোপাট, মৃতদেহের অবমাননা এবং বিচারকাজে বাধা দেওয়ার মতো একাধিক গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। অন্যদিকে, তার মায়ের বিরুদ্ধেও পলাতক আসামিকে সহায়তা, প্রমাণ লোপাট এবং মৃতদেহের অবমাননার ষড়যন্ত্রের অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। সংবাদমাধ্যমের সামনে মুখ ঢেকে পুলিশ ভ্যানে ওঠার সময় র্যাচেল সাংবাদিকদের বলেন, তার ছেলে একটি প্রাণ কেড়ে নিয়েছে বলে তিনি দুঃখিত। পেনওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির ডিভিশন-২ সকার দলের এই মেধাবী শিক্ষার্থীর এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ গভীর শোক প্রকাশ করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রে নতুন অভিবাসী? প্রথম ৩০ দিনে এই ১০ কাজ না করলে পরে বাড়তে পারে ভোগান্তি
ডিপোর্টের পর ফের যুক্তরাষ্ট্রে, টেক্সাসে ১৭ জনকে গ্রেপ্তার করেছে আইসিই