কানাডায় রাজনৈতিক আশ্রয়ে বাংলাদেশ শীর্ষ দেশগুলোর একটি, দুই বছরে প্রায় ৪০ হাজার আবেদন
কানাডায় বাংলাদেশি নাগরিকদের রিফিউজি বা রাজনৈতিক আশ্রয় আবেদনের সংখ্যা সাম্প্রতিক বছরগুলোতে উল্লেখযোগ্য পর্যায়ে রয়েছে। কানাডার ইমিগ্রেশন অ্যান্ড রিফিউজি বোর্ডের সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বাংলাদেশ বর্তমানে কানাডার রিফিউজি ক্লেইমের অন্যতম বড় উৎস দেশগুলোর একটি।
২০২৪ সালে বাংলাদেশ থেকে ১৮ হাজারের বেশি রিফিউজি ক্লেইম কানাডার রিফিউজি প্রোটেকশন ডিভিশনে পাঠানো হয়। ২০২৫ সালেও বাংলাদেশি আবেদনকারীদের সংখ্যা ছিল ২০ হাজারের ঘরে। ফলে দুই বছরে বাংলাদেশ থেকে আসা রিফিউজি ক্লেইমের সংখ্যা কানাডার শরণার্থী নির্ধারণ ব্যবস্থায় উল্লেখযোগ্য চাপ তৈরি করেছে।
কানাডার আইন অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি দেশে প্রবেশের পর নিজেকে নির্যাতন, নিপীড়ন বা গুরুতর ক্ষতির ঝুঁকিতে থাকার দাবি করলে তার আবেদন নির্ধারিত আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে যাচাই করা হয়। আবেদনকারী সত্যিই রিফিউজি সুরক্ষার যোগ্য কি না, সেই সিদ্ধান্ত রিফিউজি প্রোটেকশন ডিভিশন আলাদাভাবে যাচাই করে নেয়।
বাংলাদেশ-সম্পর্কিত এসব আবেদনের একটি অংশ গ্রহণ করা হয়েছে, আবার কিছু আবেদন প্রত্যাখ্যান, প্রত্যাহার বা পরিত্যক্ত হয়েছে। একই সঙ্গে বিপুলসংখ্যক মামলা সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছে। ফলে বাংলাদেশ থেকে আসা আবেদনের সংখ্যা যেমন আলোচনায় এসেছে, তেমনি এসব মামলা নিষ্পত্তিতে কানাডার রিফিউজি ব্যবস্থার ওপরও বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে কানাডায় বিশ্বকাপের খেলা দেখতে যাওয়া কিছু বাংলাদেশি নাগরিক রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন করেছেন বলে বিভিন্ন মাধ্যমে আলোচনা হয়েছে। তবে এ ধরনের নির্দিষ্ট ঘটনার সংখ্যা বা পরিমাণ সরকারি সূত্রে নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত সেটিকে সামগ্রিক প্রবণতার প্রমাণ হিসেবে দেখানো ঠিক হবে না।
কানাডায় ভিজিটর, স্টুডেন্ট বা অন্য কোনো অস্থায়ী ভিসায় যাওয়ার পর কেউ রিফিউজি ক্লেইম করলেই সেটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে গ্রহণযোগ্য হয়ে যায় না। আবেদনকারীকে তার দাবির পক্ষে প্রয়োজনীয় তথ্য ও প্রমাণ দিতে হয়। এরপর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তার দাবি যাচাই করে সিদ্ধান্ত নেয়।
একইভাবে কানাডার ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ ভিসা আবেদনের সময় আবেদনকারীর ভ্রমণের উদ্দেশ্য, আর্থিক সক্ষমতা, নিজ দেশের পারিবারিক ও সামাজিক সম্পর্ক এবং নির্ধারিত সময় শেষে কানাডা ছাড়ার সম্ভাবনাসহ বিভিন্ন বিষয় বিবেচনা করে।
তাই বাংলাদেশি আবেদনকারীদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো আবেদনে সঠিক তথ্য দেওয়া এবং যে উদ্দেশ্যে ভিসা নেওয়া হচ্ছে, সেটি সম্পর্কে সত্যনিষ্ঠ থাকা। ভুয়া তথ্য, জাল কাগজপত্র বা ইমিগ্রেশন ব্যবস্থার অপব্যবহার ধরা পড়লে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নিজের আবেদন এবং ভবিষ্যৎ ইমিগ্রেশন সুযোগ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
বাংলাদেশ থেকে কানাডায় রিফিউজি ক্লেইমের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য পর্যায়ে রয়েছে, এটি সরকারি পরিসংখ্যানেই স্পষ্ট। তবে এই প্রবণতার কারণে পুরো বাংলাদেশি জনগোষ্ঠীকে ‘অবৈধ অভিবাসী’ হিসেবে চিহ্নিত করা বা বাংলাদেশি পাসপোর্ট দেখলেই কানাডার ইমিগ্রেশন অফিসার স্বয়ংক্রিয়ভাবে আবেদন প্রত্যাখ্যান করেন, এমন কোনো সরকারি নীতির প্রমাণ নেই।
মূল বিষয় হলো, কানাডার ইমিগ্রেশন ব্যবস্থায় আবেদনকারীর জাতীয়তার পাশাপাশি তার ব্যক্তিগত পরিস্থিতি, নথিপত্র, ভ্রমণের উদ্দেশ্য এবং আইনি যোগ্যতা বিবেচনা করা হয়। তাই কানাডায় যেতে আগ্রহী বাংলাদেশি নাগরিকদের বৈধ প্রক্রিয়া অনুসরণ করা এবং ইমিগ্রেশন আইনের শর্ত মেনে চলাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
কানাডায় ২০২৬ ফিফা ওয়ার্ল্ড কাপের খেলা দেখার উদ্দেশ্যে যাওয়া পঁয়তাল্লিশ জন বাংলাদেশির মধ্যে দশ জনই হঠাৎ রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন করে বসেছেন । অর্থাৎ খেলার আনন্দ উদযাপনের নামে ভিসা নিয়ে গিয়ে রাজনৈতিক আশ্রয় নেওয়ার এই হিড়াহার প্রায় বাইশ শতাংশ ।
বিদেশে যাওয়ার যে কোনো বৈধ সুযোগকে স্থায়ী হওয়ার চাবি হিসেবে ব্যবহার করার এই প্রবণতা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয় । কাজের ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা কিংবা ভিজিটার ভিসা, উদ্দেশ্য যাই হোক না কেন এয়ারপোর্টে নেমেই ভিত্তিহীন দোহাই দিয়ে রাজনৈতিক আশ্রয় নেওয়া এখন এক অভ্যাসে পরিণত হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আন্তর্জাতিক
View moreইউক্রেন যুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি না পেয়ে এবার সেনাদের হারানো মনোবল চাঙা করতে মধ্যযুগীয় ইতিহাস ও ধর্মীয় আবেগের দ্বারস্থ হয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। চতুর্দশ শতকের বিখ্যাত রুশ সামরিক নেতা গ্র্যান্ড প্রিন্স দিমিত্রি দনস্কয়ের সদ্য আবিষ্কৃত দেহাবশেষ বা হাড়গোড় ইউক্রেনে যুদ্ধরত রুশ সেনাদের কাছে পাঠানোর এক ব্যতিক্রমী পরিকল্পনায় আনুষ্ঠানিক সমর্থন জানিয়েছেন তিনি। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ডেইলি বিস্টের এক প্রতিবেদনে পুতিনের এই অভিনব যুদ্ধ-কৌশলের কথা তুলে ধরা হয়েছে। সম্প্রতি মস্কোর ঐতিহাসিক আর্কেঞ্জেল ক্যাথেড্রালের সংস্কারকাজ চলার সময় দিমিত্রি দনস্কয়ের এই দেহাবশেষ আবিষ্কৃত হয় বলে জানায় রুশ অর্থোডক্স চার্চ। তাদের দাবি, ১৩৮৯ সালে মারা যাওয়া এই বীরের দেহাবশেষ প্রায় সম্পূর্ণ অক্ষত রয়েছে; কেবল বাম পায়ের গোড়ালির একটি হাড় ছাড়া। এই আবিষ্কারের পরপরই গত বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) ক্যাথেড্রালটি পরিদর্শনে যান ৭৩ বছর বয়সী পুতিন। ক্রেমলিনের প্রকাশিত একটি ভিডিওতে দেখা যায়, তিনি মোমবাতি হাতে প্রার্থনাসভায় অংশ নিচ্ছেন এবং রুশ সেনাবাহিনীর বিজয় ও জাতির জন্য আশীর্বাদ কামনা করছেন। প্রার্থনা শেষে তিনি কাপড়ে ঢাকা ওই দেহাবশেষ রাখা দুটি খোলা সমাধিও ঘুরে দেখেন। রুশ ইতিহাসে দিমিত্রি দনস্কয় এক কিংবদন্তি সামরিক বীর, যিনি ১৩৮০ সালের কুলিকোভোর যুদ্ধে দুর্ধর্ষ মঙ্গোল বাহিনীকে পরাজিত করেছিলেন। রুশ অর্থোডক্স চার্চের প্রধান প্যাট্রিয়ার্ক কিরিল এই বীরের দেহাবশেষের কিছু অংশ ইউক্রেন ফ্রন্টে লড়াইরত সেনাদের কাছে পাঠানোর প্রস্তাব দিলে পুতিন তাতে সম্মতি দেন। যুদ্ধের এই কঠিন সময়ে এমন এক কিংবদন্তি বীরের দেহাবশেষ আবিষ্কারের ঘটনাকে ‘বিস্ময়কর’ ও ‘অলৌকিক’ বলে আখ্যা দিয়েছেন রুশ প্রেসিডেন্ট। বিশ্লেষকদের মতে, ইউক্রেন যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ার ফলে রাশিয়াকে বিপুল সামরিক সরঞ্জাম হারাতে হচ্ছে। একই সঙ্গে ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলায় তেল শোধনাগার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় দেশটিতে দেখা দিয়েছে জ্বালানি সংকট। দেশ ও দেশের বাইরে যখন পুতিনের ওপর চাপ বাড়ছে, ঠিক তখনই মধ্যযুগীয় এক বীরের স্মৃতি ও ধর্মীয় প্রতীককে সামনে এনে রুশ বাহিনীর মনোবল পুনরুদ্ধারের এই আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছে ক্রেমলিন।
‘মুসলিম দেশগুলোর সম্পদ লুট করতে চায় শত্রুরা’, হুঁশিয়ারি ইরানের স্পিকার গালিবাফের
কানাডায় রাজনৈতিক আশ্রয়ে বাংলাদেশ শীর্ষ দেশগুলোর একটি, দুই বছরে প্রায় ৪০ হাজার আবেদন
মধ্যপ্রাচ্যে ২৭২ দিনের দীর্ঘ মিশন শেষে দেশে ফিরছে মার্কিন রণতরি ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন
আট বছর বয়সী মেয়েকে একা ট্যাক্সিতে পাঠিয়েছিলেন মা। কিন্তু দুর্গম এলাকায় যাওয়ার পর নেটওয়ার্ক না থাকায় হঠাৎ মেয়ের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। সেই মুহূর্তের চরম আতঙ্ক ও অসহায়ত্ব গভীরভাবে দাগ কাটে মা অ্যামবেরিন নেওয়াজের মনে। আর সেই ভয়ংকর অভিজ্ঞতাই তাকে নতুন কিছু করার অনুপ্রেরণা জোগায়। নারী, শিশু ও অরক্ষিত যাত্রীদের নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে তিনি চালু করেন সম্পূর্ণ নারীদের পরিচালিত বিশেষ ট্যাক্সি সার্ভিস ‘পিংক লেডিস’। এই সার্ভিসের ট্যাক্সিগুলো উজ্জ্বল গোলাপি রঙের হওয়ায় রাস্তায় খুব সহজেই সবার নজর কাড়ে। শুধু নারী ও শিশু যাত্রীদের জন্যই এই সার্ভিসটি বিশেষভাবে তৈরি করা হয়েছে। ‘পিংক লেডিস’-এর অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো, এর চালকরা সবাই নারী এবং তাদের নির্ধারিত লক্ষ্যভুক্ত যাত্রীর বাইরে অন্য কেউ রাইড শেয়ার করতে চাইলে চালকের তা প্রত্যাখ্যান করার পূর্ণ অধিকার রয়েছে। মূলত নারীদের জন্য নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক যাতায়াত নিশ্চিত করতেই এই কঠোর নীতিমালা গ্রহণ করা হয়েছে। বর্তমানে যাত্রীদের মধ্যে নিরাপদ যাতায়াতের এই সার্ভিসের চাহিদা ক্রমশ বাড়ছে এবং এর কার্যক্রমও সম্প্রসারিত হচ্ছে। উদ্যোক্তা অ্যামবেরিন নেওয়াজ আশা করেন, তার এই উদ্যোগ শুধু যাত্রীদের নিরাপত্তাই নিশ্চিত করবে না, বরং সমাজের অন্য নারীদেরও পেশা হিসেবে ড্রাইভিংকে বেছে নিতে উৎসাহিত করবে। নারীদের স্বাধীনভাবে ও নিরাপদে চলাচলের ক্ষেত্রে এই উদ্যোগটি একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে।
৫২ বছরেই অবসরের পরিকল্পনা! মাসে ৩ হাজার পাউন্ড আয়ের স্বপ্ন কতটা বাস্তব?
হাঙ্গেরিতে মুসলমানদের ইতিহাস: রাজকীয় বাহিনী থেকে আধুনিক সংখ্যালঘু সম্প্রদায়
হেভি ফিল্টারের ছবিতে নিখোঁজ নারী, বাস্তব চেহারা মেলাতে গিয়ে বিপাকে পুলিশ
কুয়েতে ভিজিট ভিসা এবং দেশের বাইরে থাকা প্রবাসীদের ছুটির অনুমতিপত্রের মেয়াদ স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাড়ানোর বিশেষ সুবিধা আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে বন্ধ হচ্ছে। এরপর থেকে ভিসা ও ছুটির অনুমতিপত্রের ক্ষেত্রে নির্ধারিত বৈধতার সময়সীমাই কার্যকর হবে। কুয়েতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ১ সেপ্টেম্বর থেকে বিভিন্ন শ্রেণির ভিজিট ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর আর স্বয়ংক্রিয়ভাবে অতিরিক্ত সময় পাওয়া যাবে না। একইভাবে কুয়েতের বাইরে থাকা প্রবাসীদের ছুটির অনুমতিপত্রের ক্ষেত্রেও বিশেষভাবে দেওয়া অতিরিক্ত সময়ের সুবিধা শেষ হবে। চলতি বছরের শুরুতে মধ্যপ্রাচ্যের আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে কুয়েতসহ এ অঞ্চলে বিমান চলাচল ও আন্তর্জাতিক যাতায়াতে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। এর ফলে অনেক যাত্রী নির্ধারিত সময়ে কুয়েত ছাড়তে পারেননি। একই সময়ে কুয়েতের বাইরে থাকা অনেক প্রবাসীও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দেশটিতে ফিরতে পারেননি। এ পরিস্থিতিতে অনিচ্ছাকৃতভাবে ভিসা ও আবাসন আইন লঙ্ঘনের ঝুঁকি কমাতে কুয়েত সরকার সাময়িকভাবে স্বয়ংক্রিয় মেয়াদ বৃদ্ধির ব্যবস্থা চালু করেছিল। এর আওতায় নির্দিষ্ট সময়ের পর মেয়াদ শেষ হওয়া ভিজিট ভিসা এবং কুয়েতের বাইরে থাকা কিছু প্রবাসীর ছুটির অনুমতিপত্রের মেয়াদও অতিরিক্ত সময়ের জন্য বাড়ানো হয়। তবে এটি কোনো স্থায়ী ভিসা ব্যবস্থা ছিল না। বিশেষ পরিস্থিতি মোকাবিলায় নেওয়া অস্থায়ী প্রশাসনিক ব্যবস্থা হিসেবেই সুবিধাটি চালু করা হয়েছিল। ১ সেপ্টেম্বর থেকে ভিজিট ভিসার নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হলে আগের মতো স্বয়ংক্রিয়ভাবে অতিরিক্ত সময় পাওয়া যাবে না। ভিসাধারীদের ভিসায় উল্লেখ করা শেষ বৈধ তারিখ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। কুয়েতের বাইরে থাকা প্রবাসীদের ক্ষেত্রেও একই নিয়ম প্রযোজ্য হবে। তাদের ছুটির অনুমতিপত্রের নির্ধারিত মেয়াদই কার্যকর হবে। বিশেষ মেয়াদ বৃদ্ধির ওপর নির্ভর করে অতিরিক্ত সময় নিয়ে কুয়েতে ফেরার সুযোগ থাকবে না। এ কারণে কুয়েতের বাইরে থাকা প্রবাসীদের নিজেদের ছুটির অনুমতিপত্রের বর্তমান বৈধতা আগেই যাচাই করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। কুয়েতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সাহেল অ্যাপের মাধ্যমে পাওয়া আবাসন অনুমতিপত্রের অবস্থাসংক্রান্ত সনদকে ছুটির অনুমতিপত্রের মেয়াদ যাচাইয়ের সরকারি রেফারেন্স হিসেবে বিবেচনা করা হবে। তাই পুরোনো কাগজপত্র, আগের বার্তা কিংবা নিয়োগকর্তার মৌখিক তথ্যের ওপর নির্ভর না করে সাহেল অ্যাপের মাধ্যমে বর্তমান বৈধতা যাচাই করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ছুটির অনুমতিপত্রের বৈধ সময় শেষ হওয়ার পরও কোনো প্রবাসী কুয়েতে ফিরে না এলে তার আবাসন-সংক্রান্ত অবস্থায় সমস্যা তৈরি হতে পারে। একইভাবে নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হওয়ার পর ভিজিট ভিসায় কুয়েতে অবস্থান করলে তা আবাসন আইন লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। এ ধরনের ক্ষেত্রে প্রচলিত আবাসন আইনের আওতায় জরিমানা বা অন্যান্য আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। তবে ১ সেপ্টেম্বর থেকে নতুন কোনো নির্দিষ্ট জরিমানার হার চালু হচ্ছে, এমন ঘোষণা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দেয়নি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কোনো নির্দিষ্ট জরিমানার অঙ্ককে তাই সরকারি ঘোষণা হিসেবে গ্রহণ না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সম্ভাব্য জরিমানা বা আইনগত ব্যবস্থা ব্যক্তির ভিসা বা আবাসনের ধরন এবং কী ধরনের নিয়ম লঙ্ঘন হয়েছে, তার ওপর নির্ভর করবে।
পশ্চিম সাসেক্সের সাগরে ব্রিটিশ ফিলিস্তিনি কিশোরী ও তার পরিবারের মর্মান্তিক মৃত্যু
গ্রিন কার্ডে নতুন নিয়ম, ১৮ সেপ্টেম্বর থেকে ভারতীয়দের যা জানা জরুরি