মিসরের ক্রমবর্ধমান সামরিক সক্ষমতা এবং সিনাই উপদ্বীপে সামরিক উপস্থিতি জোরদারের পদক্ষেপ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে ইসরায়েলের নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক মহলে। ইসরায়েলি গণমাধ্যমে প্রকাশিত সাম্প্রতিক কয়েকটি প্রতিবেদনে এ বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট মনিটরের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েলি প্ল্যাটফর্ম নিউজ–১ দেশটির নিরাপত্তা মূল্যায়নের সূত্র উল্লেখ করে দাবি করেছে যে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মিসরীয় সেনাবাহিনীর আধুনিকায়ন ও সামরিক উন্নয়ন কর্মসূচি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন তেল আবিবের নীতিনির্ধারকেরা।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইসরায়েলের কিছু নিরাপত্তা মূল্যায়নে ধারণা করা হচ্ছে, মিসরের সামরিক ক্রয়, প্রশিক্ষণ কার্যক্রম এবং সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধির পরিসর দেশটির পশ্চিম ও দক্ষিণ সীমান্তের প্রচলিত নিরাপত্তা চাহিদার তুলনায় বেশি। ফলে ইসরায়েলের নিরাপত্তা মহলে প্রশ্ন উঠেছে, এই সক্ষমতা বৃদ্ধির পেছনে কায়রোর দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত লক্ষ্য কী হতে পারে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, গাজা উপত্যকায় যুদ্ধ শুরুর পর এবং আঞ্চলিক সংঘাতের বিস্তারের প্রেক্ষাপটে সিনাই উপদ্বীপে মিসরের সামরিক তৎপরতা আরও ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করছে ইসরায়েলের নিরাপত্তা সংস্থাগুলো। বিশেষ করে অঞ্চলটিতে অবকাঠামো উন্নয়ন, লজিস্টিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং সামরিক স্থাপনা শক্তিশালী করার বিভিন্ন উদ্যোগ তেল আবিবের নজরে রয়েছে।
ইসরায়েলি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, নিজেদের সীমান্তসংলগ্ন এলাকায় যেকোনো সামরিক পরিবর্তনকে অত্যন্ত সংবেদনশীলতার সঙ্গে বিবেচনা করে দেশটি। বিশেষ করে সিনাই উপদ্বীপের ক্ষেত্রে এ সংবেদনশীলতা আরও বেশি, কারণ অঞ্চলটি ১৯৭৯ সালের মিসর-ইসরায়েল শান্তিচুক্তির আওতায় বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থার অন্তর্ভুক্ত।
তবে একই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সিনাই অঞ্চলে উগ্রপন্থি গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা এবং সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কায়রো ও তেল আবিবের মধ্যে বিস্তৃত নিরাপত্তা সমন্বয় ও সহযোগিতা বজায় রয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যের দ্রুত পরিবর্তিত নিরাপত্তা পরিস্থিতির মধ্যেই এই আলোচনা সামনে এসেছে। আঞ্চলিক উত্তেজনা, সীমান্ত নিরাপত্তা এবং সম্ভাব্য নতুন হুমকির প্রেক্ষাপটে বিভিন্ন দেশ নিজেদের প্রতিরক্ষা কৌশল পুনর্মূল্যায়ন করছে এবং সামরিক সক্ষমতা আরও জোরদারে পদক্ষেপ নিচ্ছে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বিশ্ব
View moreবাংলাদেশে ফেরার আগে প্রত্যেক প্রবাসীকে অনলাইনে ব্যাগেজ ডিক্লারেশন ফর্ম পূরণ করতে হবে, তা না হলে ঢাকার বিমানবন্দরে লাগেজ আটকে যাবে—এমন দাবি বিভ্রান্তিকর। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের প্রকাশিত নির্দেশনায় শুল্কযোগ্য পণ্য বহনকারী যাত্রীর ব্যাগেজ ঘোষণা দেওয়ার কথা রয়েছে। প্রত্যেক যাত্রীর জন্য ফ্লাইটে ওঠার আগেই অনলাইনে ফর্ম পূরণ বাধ্যতামূলক, এমন নিয়ম সরকারি নির্দেশনায় পাওয়া যায়নি। খসড়ায় ২০২৪ সালের বিধিমালাকে ‘নতুন নিয়ম’ বলা হয়েছে। তবে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের তালিকায় ২০২৫ সালের ৩ জুনের ‘অপর্যটক যাত্রী ব্যাগেজ বিধিমালা, ২০২৫’ও রয়েছে। তাই ভ্রমণের প্রস্তুতিতে শুধু ২০২৪ সালের তথ্যের ওপর নির্ভর করা ঠিক হবে না। যাত্রীর সঙ্গে শুল্কযোগ্য পণ্য থাকলে তার বিবরণ ও পরিমাণ কাস্টমসকে জানাতে হবে। কোনো পণ্য ঘোষণা করতে হবে কি না বা সেটির জন্য শুল্ক দিতে হবে কি না, তা পণ্যের ধরন ও প্রযোজ্য ব্যাগেজ বিধির ওপর নির্ভর করে। শুধু ফর্ম পূরণ না করার কারণে সব যাত্রীর মোবাইল, স্বর্ণ ও লাগেজ স্বয়ংক্রিয়ভাবে আটকে যাবে—এমন দাবি সরকারি নির্দেশনার সঙ্গে মেলে না। বৈদেশিক মুদ্রার ঘোষণা ব্যাগেজ ঘোষণার আলাদা বিষয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের ২০২৫ সালের নির্দেশনা অনুযায়ী, কোনো যাত্রী ১০ হাজার মার্কিন ডলার বা সমপরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রার বেশি সঙ্গে আনলে আগমনের সময় কাস্টমসের কাছে নির্ধারিত ফর্মে ঘোষণা দিতে হবে। খসড়ায় ৫ হাজার ডলার থেকে ঘোষণা বাধ্যতামূলক বলা হলেও বাংলাদেশ ব্যাংকের ওই নির্দেশনায় সীমা ১০ হাজার ডলার। দেশে ফেরার সময় শুল্কযোগ্য পণ্য বা ঘোষণাযোগ্য পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা সঙ্গে থাকলে কাস্টমসের কাছে সঠিক তথ্য দেওয়া জরুরি। আর ভ্রমণের আগে ব্যাগেজ সুবিধা ও ঘোষণার সর্বশেষ সরকারি নিয়ম দেখে নেওয়াই বিভ্রান্তি এড়ানোর উপায়।
ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে উত্তাল পাকিস্তান, ইসলামাবাদে লকডাউনের মুখে লংমার্চ পেছাল পিটিআই
ফসল কাটার মৌসুম সামনে রেখে জরুরি ভিত্তিতে কৃষি ভিসায় শ্রমিক নেবে অস্ট্রেলিয়া
অক্টোবর থেকে জাপানে স্থায়ী বসবাসের নতুন আইন কার্যকর, বিপাকে বাংলাদেশিসহ লাখো বিদেশি কর্মী
ফিনল্যান্ডের সিসমা এলাকায় ধাতু শনাক্তকারী যন্ত্র দিয়ে অনুসন্ধান করতে গিয়ে কয়েক হাজার রৌপ্যমুদ্রার বিশাল ভাণ্ডার খুঁজে পেয়েছেন কালে লাপ্পিনেন নামে এক শৌখিন অনুসন্ধানকারী। প্রত্নতাত্ত্বিকদের মতে, এটি এখন পর্যন্ত ফিনল্যান্ডে পাওয়া শেষ লৌহযুগের সবচেয়ে বড় মুদ্রাভাণ্ডার। গত ৩ সেপ্টেম্বর সিসমা শহরের কেন্দ্রের কাছাকাছি এলাকায় মাটির নিচে এই ভাণ্ডারের সন্ধান পান লাপ্পিনেন। আবিষ্কারের পরপরই তিনি বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে জানান। পরদিন লাহতি জাদুঘরের প্রত্নতাত্ত্বিক এসকো টিক্কালার নেতৃত্বে শুরু হয় ভাণ্ডারটি উদ্ধারের কাজ। জাদুঘরের তথ্য অনুযায়ী, ভাণ্ডারটিতে রয়েছে হাজার হাজার রৌপ্যমুদ্রা, রৌপ্যের টুকরা, একটি রৌপ্য বাহুবন্ধনী এবং আরও কয়েকটি রৌপ্য সামগ্রী। মুদ্রা ও অন্যান্য বস্তু দুটি বার্চের ছাল দিয়ে তৈরি পাত্রে রাখা হয়েছিল। পাত্র দুটি মাটির প্রায় ৪৫ সেন্টিমিটার গভীরে পাথরের ফাঁকে পুঁতে রাখা ছিল এবং তাদের মধ্যে দূরত্ব ছিল প্রায় ১২ মিটার। উদ্ধার করা রৌপ্যের মোট ওজন প্রায় ৪ দশমিক ৫ কেজি। তবে এখনো মুদ্রাগুলো পরিষ্কার ও আলাদা করে গণনা করা হয়নি। ফলে ঠিক কতটি মুদ্রা রয়েছে এবং এগুলোর সুনির্দিষ্ট ওজন কত, তা পরবর্তী গবেষণার পর নিশ্চিত হবে। তবে প্রত্নতাত্ত্বিকরা নিশ্চিত করেছেন, মুদ্রার সংখ্যা কয়েক হাজার। মুদ্রাগুলোর সুনির্দিষ্ট সময়কালও এখনো নির্ধারণ করা হয়নি। প্রাথমিকভাবে এগুলো শেষ লৌহযুগের, অর্থাৎ ভাইকিং যুগের সময়কার বলে ধারণা করা হচ্ছে। পরিষ্কার ও বিস্তারিত পরীক্ষা শেষে মুদ্রাগুলোর বয়স আরও নির্ভুলভাবে নির্ধারণ করা হবে। এই আবিষ্কারের আগে ফিনল্যান্ডে ভাইকিং যুগের সবচেয়ে বড় পরিচিত মুদ্রাভাণ্ডারটি পাওয়া গিয়েছিল নুসিয়াইনেন এলাকায় ১৮৯৫ সালে। সেখানে প্রায় ১ হাজার ৭০০টি মুদ্রা পাওয়া যায় এবং পুরো ভাণ্ডারের ওজন ছিল ২ দশমিক ২ কেজির কিছু বেশি। নতুন সিসমা আবিষ্কার সেই রেকর্ডকে ছাড়িয়ে গেছে। লাহতি জাদুঘরের প্রত্নতাত্ত্বিক এসকো টিক্কালা বলেন, এত বড় আকারের আবিষ্কার তাদেরও বিস্মিত করেছে। সাধারণত ওই অঞ্চলে প্রত্নতাত্ত্বিক অনুসন্ধানে কয়েকটি বা কয়েকশ মুদ্রা পাওয়া গেলেও এবার পাওয়া গেছে কয়েক হাজার মুদ্রা। প্রত্নতাত্ত্বিকদের কাছে আবিষ্কারটির গুরুত্ব শুধু মুদ্রার সংখ্যা বা রৌপ্যের পরিমাণে সীমাবদ্ধ নয়। সিসমা প্রায় এক হাজার বছর আগে বর্তমান সময়ের তুলনায় অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক ও যোগাযোগকেন্দ্র ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। নতুন আবিষ্কারটি সেই ধারণার পক্ষে আরও প্রমাণ যোগ করছে। বর্তমানে সিসমাকে ফিনল্যান্ডের তুলনামূলক ছোট ও প্রান্তিক একটি এলাকা হিসেবে দেখা হলেও প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন থেকে বোঝা যায়, প্রায় এক হাজার বছর আগে পরিস্থিতি ভিন্ন ছিল। সে সময় অঞ্চলটির সঙ্গে বিভিন্ন দিকের বাণিজ্যিক যোগাযোগ ছিল বলে ধারণা করছেন গবেষকেরা। তবে এত বিপুল সম্পদ মাটির নিচে পুঁতে রাখা হয়েছিল কেন, তা এখনো রহস্য। ভাণ্ডারটির মালিক কে ছিলেন, তারও কোনো নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া যায়নি। প্রত্নতাত্ত্বিক টিক্কালার মতে, এর একটি সম্ভাব্য ব্যাখ্যা হলো কোনো ব্যবসায়ী নিজের সম্পদের একটি অংশ নিরাপদে রাখার জন্য মাটির নিচে পুঁতে রেখেছিলেন। পরে ওই এলাকায় ফিরে এসে তা তুলে নেওয়ার পরিকল্পনা থাকতে পারে। আবার স্থানীয় কোনো ধনী ব্যক্তি সংঘাত বা শত্রুর আক্রমণের আশঙ্কায় সম্পদ লুকিয়ে রাখতে পারেন। তবে প্রকৃত ঘটনা কী ছিল, তা নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়। আরও একটি বিষয় আবিষ্কারটিকে বিশেষ করে তুলেছে। মুদ্রা ও রৌপ্য সামগ্রী দুটি আলাদা স্থানে পুঁতে রাখা হয়েছিল। দুই জায়গার মধ্যে দূরত্ব ছিল প্রায় ১২ মিটার। ফিনল্যান্ডের জাতীয় জাদুঘরের মুদ্রা সংগ্রহের দায়িত্বে থাকা ফ্রিদা এরনস্টেনের মতে, এ ধরনের দুটি পৃথক অংশে বিভক্ত মুদ্রাভাণ্ডারের নজির খুব বেশি নেই। বার্চের ছাল দিয়ে তৈরি পাত্র দুটিও প্রত্নতাত্ত্বিকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। ফিনল্যান্ডের মাটিতে এত পুরোনো জৈব উপাদান সাধারণত খুব কমই সংরক্ষিত থাকে। ফলে মুদ্রার পাশাপাশি পাত্রগুলোর সংরক্ষণও এই আবিষ্কারের গবেষণামূলক গুরুত্ব বাড়িয়েছে। আবিষ্কারটির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, এটি পেশাদার প্রত্নতাত্ত্বিক খননের মাধ্যমে নয়, একজন শৌখিন ধাতু অনুসন্ধানকারীর মাধ্যমে সামনে এসেছে। কালে লাপ্পিনেন বহু বছর ধরে ধাতু শনাক্তকারী যন্ত্র ব্যবহার করে অনুসন্ধান করছেন। তিনি জানান, প্রথমে একটি গভীর সংকেত পেয়েছিলেন। সেটি এত গভীর থেকে আসছিল যে তিনি প্রথমে সেটিকে ধাতব আকরিকের সংকেত মনে করেছিলেন। পরে প্রায় আট মিটার দূরে একই ধরনের আরেকটি সংকেত পেয়ে তিনি সেখানে খনন শুরু করেন। মাটির নিচ থেকে কয়েকটি রৌপ্যমুদ্রা পাওয়ার পর তিনি প্রথম স্থানটিতেও ফিরে যান। সেখানেও মুদ্রা পাওয়া যায়। এরপর তিনি দ্রুত কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানান এবং বিশেষজ্ঞরা এসে পুরো ভাণ্ডারটি উদ্ধার করেন। লাপ্পিনেনের মতে, ধাতু শনাক্তকারী যন্ত্র দিয়ে অনুসন্ধানের সময় অধিকাংশ সংকেতের পেছনে মূল্যবান কোনো বস্তু থাকে না। তার অভিজ্ঞতায় প্রায় ৯৯ শতাংশ ক্ষেত্রে মাটি থেকে পাওয়া সংকেত আবর্জনা বা আকরিকের কারণে হয়ে থাকে। তাই এত বড় একটি প্রত্নতাত্ত্বিক আবিষ্কার তার কাছেও ছিল অপ্রত্যাশিত। ফিনল্যান্ডে প্রত্নতাত্ত্বিক গবেষণায় শৌখিন ধাতু অনুসন্ধানকারীদের ভূমিকা সাম্প্রতিক বছরগুলোতে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। জাতীয় জাদুঘরের গবেষকদের মতে, প্রায় ২৫ বছর আগে ফিনল্যান্ডে ভাইকিং যুগের প্রায় ৭ হাজার মুদ্রার সন্ধান জানা ছিল। বর্তমানে সেই সংখ্যা বেড়ে প্রায় ১৪ হাজার হয়েছে। এর বড় অংশই শৌখিন অনুসন্ধানকারীদের আবিষ্কার। তবে প্রত্নতাত্ত্বিকরা মনে করিয়ে দিয়েছেন, এ ধরনের আবিষ্কার পাওয়া গেলে তা যথাযথভাবে কর্তৃপক্ষকে জানানো এবং প্রত্নসম্পদ সংরক্ষণের নিয়ম মেনে চলা গুরুত্বপূর্ণ। সিসমার এই আবিষ্কারে লাপ্পিনেন দ্রুত কর্তৃপক্ষকে জানানোর পর প্রত্নতাত্ত্বিকেরা বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে নিদর্শনগুলো উদ্ধার করতে পেরেছেন। এখন মুদ্রাগুলো পরিষ্কার, আলাদা ও বিশ্লেষণ করার কাজ হবে। এরপর এগুলোর সুনির্দিষ্ট সময়কাল, উৎস, ধাতুর গঠন এবং ফিনল্যান্ডে কীভাবে এগুলো পৌঁছেছিল, সে বিষয়ে আরও তথ্য পাওয়া যেতে পারে। গবেষকদের আশা, এই ভাণ্ডার প্রায় এক হাজার বছর আগে ফিনল্যান্ডের সঙ্গে ইউরোপের বিভিন্ন অঞ্চলের বাণিজ্য ও রৌপ্যের চলাচল সম্পর্কে নতুন তথ্য দিতে পারে।
ইরানের সাত দিনের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান ট্রাম্পের, নতুন হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে মার্কিন বাহিনী
যমুনা নদী থেকে একাই ৫৮৫ কেজি বর্জ্য সরালেন বিট্টু, প্রশাসনকে কটাক্ষ জনতার
আম্বানির ছেলেকে অধ্যাপকের মর্যাদা! নিউক্যাসল বিশ্ববিদ্যালয়ের সিদ্ধান্তে সমালোচনার ঝড়
নাইজেরিয়ার ক্রস রিভার অঙ্গরাজ্য নিজেদের তেলকূপ পুনরুদ্ধারের প্রচেষ্টার মধ্যেই স্থানীয় ২ হাজার তরুণকে তেল ও গ্যাস খাতের জন্য প্রশিক্ষণ দেওয়া শুরু করেছে। রাজ্য সরকারের লক্ষ্য, ভবিষ্যতে তেল-গ্যাস খাতে নতুন সুযোগ তৈরি হলে স্থানীয় তরুণরা যেন প্রয়োজনীয় কারিগরি দক্ষতা ও পেশাগত যোগ্যতা নিয়ে সরাসরি সেই বাজারে প্রবেশ করতে পারেন। বৃহস্পতিবার কালাবারে ‘স্কিল আপ ইন দ্য সিজন অব সুইটনেস’ নামে কর্মসূচিটির উদ্বোধন করা হয়। ক্রস রিভারের গভর্নর ব্যাসি এডেট ওতুর পক্ষে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাজ্য হাউস অব অ্যাসেম্বলির স্পিকার এলভার্ট আয়ামবেম। প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়া তরুণদের সিপিডি-স্বীকৃত সার্টিফিকেট ও ডিপ্লোমা কর্মসূচির আওতায় আনা হচ্ছে। রাজ্য সরকারের বক্তব্য অনুযায়ী, তেল ও গ্যাস খাত মানেই শুধু তেল উত্তোলন নয়। এই শিল্পে ইঞ্জিনিয়ারিং, লজিস্টিকস, মেরিন সার্ভিস, নিরাপত্তা, পরিবেশ ব্যবস্থাপনা, প্রোকিউরমেন্ট, রক্ষণাবেক্ষণ ও ডেটা সার্ভিসের মতো বিভিন্ন ক্ষেত্রে দক্ষ জনবলের প্রয়োজন রয়েছে। প্রশিক্ষণে এসব সম্ভাব্য কর্মক্ষেত্রের জন্য তরুণদের প্রস্তুত করার লক্ষ্য রাখা হয়েছে। কর্মসূচির আয়োজক রিসার্চ গেটওয়ে ইনস্টিটিউটের পরিচালক থ্যাঙ্কগড আরং ওন্ডা জানিয়েছেন, প্রত্যেক অংশগ্রহণকারীকে রাজ্য সরকারের অর্থায়নে ৫ লাখ নাইরা সমমূল্যের স্কলারশিপ দেওয়া হয়েছে। তবে কয়েকটি প্রতিবেদনে মোট বিনিয়োগের পরিমাণ নিয়ে সংখ্যাগত অসামঞ্জস্য রয়েছে—প্রতি জন ৫ লাখ নাইরা হিসেবে ২ হাজার অংশগ্রহণকারীর সরল হিসাব ১০০ কোটি নাইরা হলেও একটি প্রতিবেদনে মোট বিনিয়োগ ৭০ কোটির বেশি নাইরা বলা হয়েছে। তাই মোট অর্থের অঙ্কটি সরকারি বিস্তারিত হিসাব ছাড়া নিশ্চিতভাবে উল্লেখ করা হচ্ছে না। ওন্ডার ভাষ্য অনুযায়ী, এই প্রশিক্ষণের সঙ্গে ক্রস রিভারের তেলকূপ পুনরুদ্ধারের প্রচেষ্টার সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। রাজ্যটি ৭৬টি তেলকূপ ফিরে পাওয়ার প্রত্যাশায় রয়েছে এবং সেগুলো ঘিরে ভবিষ্যতে সুযোগ তৈরি হলে স্থানীয় তরুণদের যেন দক্ষতার অভাবে পিছিয়ে পড়তে না হয়, সে লক্ষ্যেই আগাম প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। প্রশিক্ষণ শুধু কালাবারেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। আয়োজকেরা জানিয়েছেন, ক্রস রিভারের ১৮টি স্থানীয় সরকার এলাকায় পর্যায়ক্রমে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। উত্তরাঞ্চলের জন্য ওগোজা এবং মধ্যাঞ্চলের জন্য ইকোমে আঞ্চলিক সেশন আয়োজনের পরিকল্পনাও রয়েছে। এরপর চূড়ান্ত পর্ব ও গ্র্যাজুয়েশন অনুষ্ঠিত হবে। গভর্নরের বিশেষ উপদেষ্টা উকপং উমোহ বলেন, কর্মসূচির উদ্দেশ্য শুধু সার্টিফিকেট দেওয়া নয়। তরুণদের এমন দক্ষতা অর্জন করতে হবে, যাতে তারা চাকরিপ্রার্থী হওয়ার পাশাপাশি উদ্যোক্তা, সেবাদাতা ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিকারী হিসেবেও তেল-গ্যাস অর্থনীতিতে অংশ নিতে পারেন। তরুণদের দক্ষতা উন্নয়নের এই উদ্যোগ ক্রস রিভার সরকারের বৃহত্তর কর্মসংস্থান নীতির সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ। রাজ্য সরকারের যুব ক্ষমতায়ন কর্মসূচিতে দক্ষতা অর্জন, উদ্যোক্তা তৈরি ও স্বনির্ভরতার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সাম্প্রতিক আরেকটি সরকারি কর্মসূচিতেও প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত তরুণদের ব্যবসা শুরু ও কর্মসংস্থান তৈরিতে উৎসাহ দেওয়া হয়েছে। ফলে ২ হাজার তরুণের এই প্রশিক্ষণকে শুধু একটি দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচি হিসেবে নয়, বরং সম্ভাব্য তেল-গ্যাস অর্থনীতিতে স্থানীয় জনশক্তির অংশগ্রহণ বাড়ানোর প্রস্তুতি হিসেবেও দেখছে রাজ্য সরকার। তবে ৭৬টি তেলকূপ পুনরুদ্ধারের প্রক্রিয়ার চূড়ান্ত ফল এবং এর মাধ্যমে ঠিক কত কর্মসংস্থান তৈরি হবে, তা এখনো নিশ্চিত নয়। সূত্র: ক্রস রিভার ওয়াচ, লিডারশিপ, নিউ টেলিগ্রাফ, ক্রস রিভার স্টেট গভর্নমেন্ট
খরচের চাপে ইউরোপ কৌশল বদলাচ্ছে ভারতের ইন্ডিগো, বন্ধ হচ্ছে লন্ডন ফ্লাইট
আইসিস ও আল-নুসরা ফ্রন্টকে সহায়তার অভিযোগে উজবেক নাগরিককে যুক্তরাষ্ট্রে প্রত্যর্পণ